লেনদেনের ৫ মিনিটের মধ্যে শেয়ারবাজারে ধস
৪৭২ পয়েন্ট কমেছে সূচক
বিক্ষোভ ভাঙচুর আগুন . আটক ৬১
৩ সাংবাদিকসহ আহত ২০
চট্টগ্রাম সিলেট খুলনা বগুড়ায় সংঘর্ষ
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
The Daily Sangbad
15.02.2011
গতকাল সোমবার লেনদেন শুরু হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই শেয়ারবাজারে দরপতন শুরু হয়। এ নিয়ে দরপতনের ধারা ষষ্ঠ দিনে গড়াল। সপ্তাহের ২য় দিন সোমবার দুই বাজারে ব্যাপক দরপতনের ঘটনায় বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইত্তেফাক মোড় পর্যন্ত রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে b]যায়। দরপতনে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। তাদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও আগুনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো মতিঝিল এলাকা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মধুমিতা সিনেমা হলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে বিনিয়োগকারীরা ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় ৩ সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। পুলিশ ৬১ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।
এদিকে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে।
সোমবার লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিটেই সূচক ৪২৩ পয়েন্ট কমে যায়। এদিন দেশের উভয় শেয়ারবাজারেই ব্যাপক দরপতন হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ৪৭২ পয়েন্ট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক কমেছে ৮৪৭ পয়েন্ট। অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৩টির, কমেছে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের শীর্ষমহলের বেসামাল বক্তব্য এবং শেয়ারবাজারের বর্তমান সময়ে সরকারি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার যে, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা গতকালের দরপতনেও ভূমিকা রেখেছে। তবে গতকাল তা ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলেও দুই বাজারের পতন রক্ষা করা যায়নি।
তাদের মতে, টানা দরপতনের ফলে বাজার সংশোধন হলেও এখনো কিছু কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত রয়ে গেছে। তারা বলেন, এখন সরকার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরয়ে আনা। এটি করতে পারলেই বাজার স্থিতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটের কারণেই দরপতন হচ্ছে। তারা আবারও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালী ভূমিকা পালনের কথা বললেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১১টায় শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর ৫ মিনিট পর সাধারণ মূল্যসূচক ৪২৩ কমে গেলে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। অব্যাহত দরপতনে দুপুর ১২টায় উত্তেজিত বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে দিলকুশা বিসিআইসির সামনে এবং অগ্রণী ব্যাংকের সামনে ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে। বেলা সোয়া ১২টার দিকে মধুমিতা সিনেমা হলে অগি্নসংযোগ করা হয়। আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল জোনের কমিশনার আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, বিক্ষোভকারীদের ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। শেষে জলকামান এবং গ্রেফতার অভিযান চালাতে হয়েছে।
পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩ সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের হামলায় বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভির ক্যামেরাম্যান মাসুদ গুরুতর আহত হয়েছেন। তার ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। চ্যানেল আই'র ক্যামেরাম্যান আবদুর রউফ হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান আবুল কালাম আজাদও আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, এ সময় দৈনিক বাংলা মোড়, দিলকুশা শাপলা চত্বর ও ইত্তেফাক মোড় উত্তেজিত বিনিয়োগকারীরা দখল করে নিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ ৬১ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া বিক্ষোভকারীরা হলেন_ খোরশেদ আলম, মাসুম, আলী হোসেন, রেজওয়ান, নোমান, রুবেল, নাসের, মোজাম্মেল, সাইদুর, সুমন, গৌরান্দ, শাহজাদা ও সাঈদ। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।
সবশেষে বিকেল ৩টায় অগি্নসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মধুমিতা ভবন ঘিরে ফেলে পুলিশ। তালাবদ্ধ ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে ভবনের ভেতরে আটকেপড়াদের। তবে আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের ডিএসএইর কর্মচারী দাবি করেছেন।
এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি মনিরুল ইসলাম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে কঠোর হাতে দমন করার নির্দেশ রয়েছে আইনৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। তিনি বলেন, ধ্বংসাত্মক কাজের পেছনে ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ২৪৯টি কোম্পানির ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬৪টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। ডিএসই'তে এদিন মোট লেনদেনের পরিমাণ ৬৬৩ কোটি ৬ লাখ ৯৪ হাজার ১২৬ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫২ কোটি ৬১ লাখ টাকা কম। ডিএসই সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৭৪ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট কমে ৬০৫২ দশমিক ৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডিএসই-২০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩২৬.১৬ পয়েন্ট কমে ৩৭৩৮.২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই'র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা।
লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো_ ইউসিবিএল, ন্যাশনাল ব্যাংক লি., তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো লি., পিপলস্ লিজিং এন্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লি., সাউথইস্ট ব্যাংক লি., গ্রামীণফোন, প্রাইম ব্যাংক লি., স্কয়ার ফার্মা ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। অন্যদিকে দর বৃদ্ধিতে প্রধান ৩টি কোমপানি হলো_ স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস্, জনতা ইন্স্যুরেন্স ও ব্র্যাক ২য় বন্ড। দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোমপানি হলো_ ইস্টার্ন ব্যাংক লি., ঢাকা ব্যাংক লি., ফাইন ফুডস্ লি., গোল্ডেন সন, ম্যাকসন স্পিনিং, মালেক স্পিনিং, মেট্রো স্পিনিং, নাভানা সিএনজি, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।
প্রসঙ্গত, সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ডিএসই'র প্রধান সূচক ৪৭৪ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৫২ পয়েন্টে নেমে আসে, যা গত বছরের ২৫ মে'র চেয়ে নিচে। গত বছরের ২৫ মে ডিএসই'র প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ৯৮৮ পয়েন্ট।
আমাদের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানান,
শেয়ারবাজারের ব্যাপক দরপতনের ঘটনায় চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীরা বিক্ষুব্ধ। গতকাল দুপুর ১২টায় রাস্তায় নেমে আসে শত শত বিনিয়োগকারী। তারা নগরীর শেখ মুজিব রোডে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ভবনের সামনে এবং অদূরে আগ্রাবাদ মোড়ে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভের মুখে কবির সিকিউরিটি, লংকা বাংলা, আইডিএলসি এবং চিটাগাং কেবিটেলসহ ৮টি কোম্পানির লেনদেন বন্ধ করে দেয়। পরে অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউজ সাময়িকভাবে ট্রেড বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ঘটনাস্থলেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আমাদের সিলেট প্রতিনিধি জানান, পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে সিলেটে বিনিয়োগকারীরা তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পদত্যাগ দাবি করে। সোমবার নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে দুপুর ১২টায় বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। নগরীর চৌহাট্টার আরএন টাওয়ারে অবস্থিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কার্যালয় ও পাশের মানরু শপিং সেন্টারের সামনে বিনিয়োগকারীরা রাস্তা অবরোধ করে টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পদত্যাগ দাবি করে। বিক্ষোভ চলাকালে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশের এক চিত্রগ্রাহক বিক্ষোভকারীদের রোষানলে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা তার ভিডিও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত ওই স্থানে অবরোধ ও বিক্ষোভের পর বিনিয়োগকারীরা মিছিল করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশ করে। পরে তারা মিছিল নিয়ে নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্টে গিয়ে সেখানে আবারও সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। বিকেল ৩টায় বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে অবরোধ তুলে নেন। অবরোধ চলাকালে পুরো নগরীতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আতঙ্কে অনেক ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
সিলেট কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার নারায়ণ দত্ত জানান, পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। তবে এ সময় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আমাদের বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় বিনিয়োগকারীরা আবারও সড়ক অবরোধ ও ব্রোকারেজ হাউজের সামনের কাচ ভাঙচুর করেছে। গতকাল সোমবার সকালে সূচক ও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ও ধস অব্যাহত থাকলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ধরনের ধস নামলে পুলিশের ভয় উপেক্ষা করে বিনিয়োগকারীরা শহরের বড়গোলায় রাস্তায় নেমে আসেন। পরে রাস্তায় শুয়ে আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় সড়কের দু'দিকে যানবাহন আটকে যানজট সৃষ্টি হয়। সদর থানা পুলিশ তাদের বাধা দিলে দু'পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। ঘটনার একপর্যায়ে বগুড়া গোলার আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের বাউন্ডারি থাই গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়।
আইসিবি এসটিসিএল'র বগুড়া শাখার ব্যবস্থাপক অমল চন্দ্র মন্ডল জানান, বাইরে থেকে লোকজন এসে হঠাৎ করেই হাউজের একটি বাউন্ডারি থাই গ্লাস ভেঙে দ্রুত পালিয়ে গেছে। বগুড়ার বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
খুলনা ব্যুরো জানায়, শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার খুলনা মহানগরীতে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন, ঝাড়ু মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তারা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় লেনদেন শুরু হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে ব্যাপক দরপতন শুরু হয়। তখন নগরীর শিববাড়ি মোড়ের আইসিবি, ব্যাংক এশিয়া ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ঝাড়ু ও জুতা মিছিলসহ নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে গিয়ে সমাবেশ করে। এছাড়া খুলনা থানার মোড়ের আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক ও জয়তুন সিকিউরিটিজ ব্রোকারেজ হাউজ থেকে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বেলা দেড়টার দিকে বিনিয়োগকারীরা নগরীর ডাকবাংলো মোড়ে কাগজে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
খুলনা শেয়ারবাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ফোরামের সদস্য সচিব মীর বরকত আলী বলেন, সামপ্রতিক সময়ে প্রতিদিনই শেয়ারের দরপতন ঘটছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে না। এতে বিনিয়োগকারীরা ফুঁসে উঠেছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় বিনিয়োগকারীরা আবারও সড়ক অবরোধ ও ব্রোকারেজ হাউজের বাউন্ডারি গ্লাস ভাঙচুর করেছে। গতকাল সোমবার সকালে সূচক ও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ও ধস অব্যাহত থাকলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ধরনের ধস নামলে বিনিয়োগকারীরা শহরের বড়গোলায় রাস্তায় নেমে আসে। পরে রাস্তায় শুয়ে আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় সড়কের দু'দিকে যানবাহন আটকে যানজট সৃষ্টি হয়। সদর থানা পুলিশ তাদের বাধা দিলে দু'পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে বগুড়া গোলার আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের বাউন্ডারি থাই গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়।
আইসিবি এসটিসিএল'র বগুড়া শাখার ব্যবস্থাপক অমল চন্দ্র মন্ডল জানান, বাইরে থেকে লোকজন এসে হঠাৎ করেই হাউজের একটি বাউন্ডারি থাই গ্লাস ভেঙে দ্রুত পালিয়ে গেছে।
বগুড়ার বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, শেয়ার মার্কেটের দরপতনে কুমিল্লায় কয়েকশ' শেয়ারহোল্ডার বিক্ষোভসহ ঝাড়ু মিছিল করে শহরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে কাগজের কার্টনে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিনিয়োগকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। গতকাল দুপুর সোয়া ১টায় কান্দিপাড় এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জনচলাচল স্বাভাবিক হয়।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার হাউজগুলো খোলার পর সূচক ৫ হাজার ৬শ' ৫১, সাধারণ ৬ হাজার ৮শ' ২২ থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে ৪ হাজার ৪৪ পয়েন্ট পড়ে গেলে কুমিল্লা জিলা স্কুল, মনোহরপুর গোল্ডেন টাওয়ার ও কান্দিপাড়ের ব্রোকার হাউজ থেকে কয়েকশ' শেয়ার ক্রেতা বের হয়ে বিক্ষোভ করে ঝাড়ু মিছিলসহ কান্দিরপাড় চত্বরে জড়ো হয়। একই সময় শহরের সবক'টি ব্রোকার হাউজ থেকে কয়েক হাজার শেয়ার ক্রেতা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কান্দিরপাড় চত্বরে অবস্থান নেয়। বিক্ষুব্ধ শেয়ার ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা পূবালী চত্বর এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে কাগজের কার্টনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক আহমেদ আগুন নিভাতে গেলে বিনিয়োগকারীরা তাকে বাধা দেয়। পরে পুলিশের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বিনিয়োগকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শেয়ারবাজারের অব্যাহত দরপতনের কারণে গতকাল সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে। শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর একে একে বিভিন্ন কোম্পানির দরপতনের কারণে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা অব্যাহত দরপতনের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিয়ার রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি লোটাস কামালকে দায়ী করে তাদের পদত্যাগ দাবি করেন।
দুপুর ১২টার দিকে শহরের টানবাজার এলাকা থেকে প্রথমে বিনিয়োগ-কারীদের একটি দল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিলে শহরের বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ থেকে অন্য বিনিয়োগকারীরা অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানেই একটি প্রতিবাদ সভা করে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা।
প্রতিবাদ সভায় বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিভিন্ন টকশোতে বিভিন্ন ধরনের কথা বলে শেয়ারবাজারে ধস নামিয়েছে। বক্তারা এ তিনজনের পদত্যাগ দাবি করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ইসমাইল দেওয়ান, মাসুদ হোসেন, খোকন খান, আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।
লেনদেনের ৫ মিনিটের মধ্যে শেয়ারবাজারে ধস
ষ পয়েন্ট কমেছে ৪৭২ ষ বিক্ষোভ ভাঙচুর আগুন ষ আটক ৬১ ষ ৩ সাংবাদিকসহ আহত ২০ ষ চট্টগ্রাম সিলেট খুলনা বগুড়ায় সংঘর্ষ
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
গত