Page 2 / 3 1 - 2 - 3 « previous | Next »
NEWS 6.04.2011
04/05/2011 3:54 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
The Daily Sangbad
শেয়ারবাজারে লেনদেন বাড়লেও সূচক কমেছে
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

সপ্তাহের শুরু থেকে টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার দেশের পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ডিএসই এবং সিএসই উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ সূচক ছিল নিম্নমুখী। সূচক নিম্ন্নমুখী থাকলেও লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবনতার মধ্যদিয়ে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু হয়। তবে পাঁচ মিনিটের মাথায় সূচক নিম্ন্নমুখী হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সূচক আবার ৩০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের পর সূচক আবার নিম্নগামী হতে শুরু করে। এরপর একাধিক বার ওঠানামা করতে থাকে সূচক। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮০.০৬ পয়েন্ট কমে ৬,৪৫৫.৮১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে গতকাল হাত বদল হয় ২৬১টি কোম্পানির শেয়ার।
এর মধ্যে দাম বেড়েছিল ৯৪টি কোম্পানির, কমেছিল ১৫৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল মোট এক হাজার ১৪৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৮৮ কোটি বেশি। ডিএসইতে গতকাল লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো_ আফতাব অটোমোবাইল, কনফিডেন্স সিমেন্ট, বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, গোল্ডেন সন, তিতাস গ্যাস ও বিডি ফিন্যান্স। ডিএসইতে গতকাল সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল সেন্ট্রাল ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দাম। এছাড়া প্রগতি ইনস্যুরেন্স, এমবি ফার্মা, জুট স্পিনার্স, ফার্মা এইড, রহিম টেক্সটাইল, বঙ্গজ, জেমিনি সি ফুড, সোনারবাংলা ইনস্যুরেন্স ও ঢাকা ইনস্যুরেন্স দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ এর তালিকায় ছিল। অপরদিকে গতকাল সবচেয়ে বেশি কমেছিল ইউনিয়ন ক্যাপিটালের শেয়ারের দাম। এছাড়া রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স, ট্রাস্ট ব্যাংক, লিগাসি ফুটওয়ার, সমতা লেদার, সমরিতা হাসপাতাল, মুন্নু জুটেক্স, যমুনা অয়েল, ইসলামিক ফিন্যান্স ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ এর তালিকায় ছিল। অন্যদিকে গতকাল সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৫৮.১৪ পয়েন্ট কমে ১৮০৪২.৬৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। গতকাল সিএসইতে ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হাত বদল হয়। হাতবদল হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছিল ৬২টি কোম্পানির, কমেছিল ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল সাতটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল মোট ১১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৯ কোটি টাকা বেশি। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কমলেও লেনদেন কিছুটা বেড়েছিল। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের সঙ্গে কমেছিল তালিকাভুক্ত দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। তবে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়ে যায়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দিনভর একই চিত্র দেখা গেছে।
Quote   
04/05/2011 3:55 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Amar Desh
তারল্য সঙ্কট নিয়ে উদ্বিগ্ন এফবিসিসিআই : বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক
অর্থনৈতিক রিপোর্টার

বর্তমান সময়ের তারল্য সঙ্কট, ডলার সঙ্কট এবং সুদের হারের ওপর থেকে সীমা তুলে দেয়াসহ সামগ্রিক অর্থনীতির বিভিন্ন সঙ্কট নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) গতকাল এক বৈঠক করেছে। বৈঠকশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা বলেন, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেসব বিষয় বহুল আলোচিত সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুদের হারের সীমা তুলে দেয়ায় বিনিয়োগের ওপর এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বিভিন্ন প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, এফবিসিসিআইর সভাপতি একে আজাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এফবিসিসিআইর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সুদের হারের সীমা পুনরায় আরোপ করা হবে কিনা—সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে নজরুল হুদা বলেন, সুদের ওপর সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হবে না। তবে এ ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলা হবে। সামগ্রিকভাবে তারল্য সঙ্কট নেই দাবি করে তিনি বলেন, গতকালও ব্যাংকগুলোতে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। তাছাড়া যদি তারল্য সঙ্কট থাকতো তবে কলমানি রেট বেড়ে যেত। তবে কিছু কিছু ব্যাংকে তারল্য সঙ্কট রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এসময় এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট একে আজাদ বলেন, ঋণের সুদের হারের উপর সীমা তুলে দেওয়ায় ব্যাংকগুলো ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আরোপ করছে যা দেশের নতুন বিনিয়োগ আশংকাজনক হারে কমিয়ে দিবে। বিশেষ করে উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যও বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া সর্বোপরি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়লে সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। একে আজাদ আরও বলেন, কোনো কোনো ব্যাংকে চেক দিয়েও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকগুলো তাদের মুনাফা বৃদ্ধি করার উদ্দেশে সুদের হার বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঋণের সুদের হারের ওপর সীমা তুলে দেয়ায় ব্যাংকগুলো লাগামহীনভাবে সুদের হার বৃদ্ধি করছে এবং একধরনের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য সঙ্কট চরমে পৌঁছে যাওয়ার প্রেক্ষিতে আমানতের ওপর সুদ ১৩ শতাংশে উঠে যায়। সেই সঙ্গে ঋণের সুদের হারও ১৮ শতাংশে চলে যায়। যার প্রভাব পড়ে বিনিয়োগ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে কলমানি রেট ১৯০ শতাংশ পর্যন্ত ওঠে। পাশাপাশি ডলারের সঙ্কটও চরম আকার ধারণ করে। ফলে টাকার বিপরীতে ডলারের দর তরতর করে বেড়ে যায়। ডলার না থাকায় অনেক ব্যাংকই ঋণপত্র (এলসি) পর্যন্ত খুলতে পারেনি। ব্যাংকগুলোতে ডলারের মূল্য ৭৪ থেকে ৭৫ টাকায় উঠে যায়। এদিকে ঋণপত্র খুলতে না পারায় আমদানিকারকরা পড়ে চরম বিপাকে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সার্বিক দিক বিবেচনা করে চলতি মূলধন ঋণের সুদের হার ১৫ শতাংশের নিচে রাখার ব্যাপারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নীতিগত পরামর্শ দেয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশের তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে ২৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকার তারল্য রয়েছে এবং কলমানি রেট এখন ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। তাছাড়া তারল্য সঙ্কট দূর করতে ব্যাংকগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী রেপোর মাধ্যমে তারল্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ডলার সঙ্কটের বিষয়টি সঠিক নয় দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রফতানি আয় হয়েছে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণ সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলার। অথচ একই সময়ে আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০ হাজার ৭৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
Quote   
04/05/2011 3:55 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Amar Desh
টানা ৪ দিন বৃদ্ধির পর ডিএসইর সূচক পতন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার

উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়ে টানা ৪ দিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষ হওয়ার পর গতকাল সূচকের সংশোধন হয়েছে। গতকাল দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ৮০ পয়েন্ট কমে দিনশেষে ৬ হাজার ৪৫৫ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৬১টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ১৫৯টির, বেড়েছে ৯৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮টি কোম্পানির শেয়ারের দর।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, শেয়ারবাজারে সূচকের ওঠানামা থাকবে। টানা দরবৃদ্ধি বা দরপতন কোনোটিই স্থিতিশীল বাজারের জন্য কাঙ্ক্ষিত নয়। টানা ৪ দিনের দরবৃদ্ধির পর গতকাল সূচকের স্বাভাবিক পতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেয়ার প্রবণতার কারণে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে।
এদিকে গতকাল সূচকের পতন হলেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। আগের দিনের তুলনায় ৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বেড়ে দিনশেষে লেনদেনের পরিমাণ হয়েছে ১ হাজার ১৪৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ নিয়ে টানা দুই কার্যদিবসে ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলো। লেনদেন বৃদ্ধিকে বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এইমস ফার্স্ট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, সূচকের ওঠানামা শেয়ারবাজারের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা। সূচক বৃদ্ধি বা কমার চেয়ে বাজারে লেনদেনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। লেনদেন বাড়ার অর্থই হচ্ছে, সাধারণ মানুষের শেয়ারবাজারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সম্প্রতি বাজারে ভয়াবহ ধসের অন্যতম কারণ হচ্ছে তারল্য প্রবাহ কমে যাওয়া। এখন ধীরে ধীরে তারল্য সঙ্কট কাটিয়ে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। তিনি আরও বলেন, লেনদেন বাড়লে শেয়ারের চাহিদাও বেড়ে যায়। স্থিতিশীল বাজারের জন্য শেয়ারের চাহিদা এবং লেনদেনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গতকাল লেনদেনের শুরুতে সূচকের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়েই শুরু হয় দিনের লেনদেন। দিনের লেনদেনে সূচকের কিছু ওঠানামা থাকলেও শেষদিকে এসে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে লাভ তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। ফলে অধিকাংশ কোম্পানির দরপতনের দিনশেষে ডিএসই সাধারণ সূচকের পতন ঘটে ৮০ পয়েন্টের। গতকাল ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাত, প্রকৌশল খাত, জ্বালানি ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। অপরদিকে দাম বেড়েছে বীমা খাতের অধিকাংশ কোম্পানির।
Quote   
04/05/2011 3:55 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Amar Desh
দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে এসইসি’র মামলা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার

জরিমানা আদায় না হওয়ায় ওটিসির দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কোম্পানি দুটি হলো সজীব নিটওয়্যার ও ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল এ মামলা করা হয়েছে বলে এসইসি সূত্র জানিয়েছে।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে সজীব নিটওয়্যারকে এক কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনালকে এক কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার তারিখ থেকে পরিশোধ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন আরও ১০ হাজার টাকা গুনতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রতিদিনের ১০ হাজার টাকাসহ জরিমানা পরিশোধ না করায় কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করল এসইসি।
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক। কোনো কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি থাকলে প্রথমে কারণ দর্শাও নোটিশ ও পরে জরিমানা করে এসইসি। জরিমানা পরিশোধের জন্য সাধারণত এসইসি ৩ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকে। তবে প্রথম ধাপে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেয় এসইসি। পরে কোম্পানির আবেদন সাপেক্ষে সময় বাড়ানো হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করা হয়।
Quote   
04/05/2011 3:57 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
পুঁজিবাজারে দর সংশোধন, কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা : দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) টানা চার কার্যদিবসে বেশিরভাগ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার পর অবশেষে মঙ্গলবার সংশোধন হয়েছে। এদিন উভয় পুঁজিবাজারে বেশিরভাগ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমেছে। তবে লেনদেনের মোট পরিমাণ বেড়েছে।

মঙ্গলবার ডিএসই‘তে মোট ২৬১টি কোম্পানির লেনদেন হয়। এরমধ্যে দাম  বেড়েছে ৯৪ টির, কমেছে ১৫৯ টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮টি কোম্পানির দাম। পাশাপাশি সাধারণ সূচক ৮০ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৪শ’ ৫৫ পয়েন্টে স্থির হয়। সার্বিক সূচক ৬৩ পয়েন্ট কমে নেমে আসে ৫ হাজার ৩শ’ ৫৪ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫শ’ ৯৭টি শেয়ার  মোট  ১ হাজার ১শ’ ৪৮ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকায়  লেনদেন হয়।  আগের কার্যদিবসে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে ছিল আফতাব অটোমোবাইলস। এরপর পর্যায়ক্রমে ছিল কনফিডেন্স সিমেন্ট, বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, বে-লিজিং, পিএলএফএসএল, গোল্ডেন সন, তিতাস গ্যাস ও বিডি ফিন্যান্স।

দাম বাড়ার শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো- প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, এমবি ফার্মা, জুট স্পিনিং, ফার্মা এইডস, রহিম টেক্সটাইল, বঙ্গজ, জেমিনি সি ফুড, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও ঢাকা ইন্স্যুরেন্স।

দাম কমার শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো- ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট ব্যাংক, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, সমতা লেদার, সমরিতা হসপিটাল, মুন্নু জুটেক্স, যমুনা অয়েল, ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

অন্যদিকে,  মঙ্গলবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মোট  ২০৩টি কোম্পানির লেনদেন হয়। এরমধ্যে বেড়েছে ৬২টির, কমেছে ১৩৪ টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৭টি কোম্পানির দাম।

সিএসইতে সাধারণ সূচক ৩৮ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ৬শ’ ৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সার্বিক সূচক ৫৮ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ৪২ পয়েন্টে নেমে আসে। এদিন সিএসইতে মোট লেনদেন হয় ১শ’ ১০ কোটি ২ লাখ ৭৬ হাজার  টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০১১
Quote   
04/05/2011 3:57 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
বন্ড ইস্যু করছে নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: পুঁজিবাজারে বন্ড নিয়ে আসছে নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশন। রূপান্তরযোগ্য বন্ড ইস্যু করে ১৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য গত ৩০ মার্চ এসইসিতে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়।

একইসঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) বন্ডটির ট্রাস্টির দায়িত্ব পালনের অনুমোদনের জন্যও আবেদন করা হয় বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।

শুধু নর্দার্ন পাওয়ারের বন্ড অনুমোদনের জন্য বুধবার কমিশনের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।

এসইসিতে দেওয়া আবেদন অনুযায়ী, নর্দার্ন পাওয়ারের প্রস্তাবিত ১৭৫ কোটি টাকার বন্ডের পুরোটাই প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। বার্ষিক সুদের হার রাখা হয়েছে ১৮ শতাংশ।

ছয় মাসের অবকাশকালসহ (গ্রেস পিরিয়ড) বন্ডের মেয়াদ ধরা হয়েছে সাড়ে চার বছর। অবকাশকাল শেষে প্রতি তিন মাস পর পর বন্ডধারীদের নির্ধারিত হারে সুদ দেওয়া হবে। প্রতি এক বছর পর মূল বিনিয়োগের ২৫ শতাংশ করে পরিশোধ করা হবে।

মূল বিনিয়োগের অর্ধেক নগদ অর্থে এবং বাকি অর্ধেক কোম্পানির শেয়ার প্রদানের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে বন্ডের বিনিয়োগকারীরা অভিহিত মূল্যে (১০ টাকা) নর্দার্ন পাওয়ারের শেয়ার পাবেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ৫, ২০১১
Quote   
04/05/2011 3:58 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
বাজেট: পুঁজিবাজারে নতুন কর আরোপ না করতে সুপারিশ করবে ডিএসই
জেবুন নেসা আলো, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


ঢাকা: চলতি অর্থ বছরের প্রাক বাজেট প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাজেটে পুঁজিবাজারের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ না করার সুপারিশ করা হচ্ছে।  ডিএসই‘র সূত্র এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, গত বছরের মত এবারেও প্রস্তাবে আগামী বাজেটে ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর ৪২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যক্তি আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ না করে স্বতন্ত্র কোম্পানির ডিভিডেন্ডের ওপর ১০ শতাংশ কর্তিত ট্যাক্সকেই চূড়ান্ত গন্য করার প্রস্তাব রাখা হবে।

গত বছর প্রাক-বাজেটে এনবিআরের কাছে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ আরও এক বছর অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছিল ডিএসই ও সিএসই নেতারা। তবে চূড়ান্ত প্রস্তাবনায় এ প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। এ বছরেও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে ডিএসইর নীতিগত সমর্থন থাকলেও এ ব্যাপারে কোনো মতামত থাকবে না।

তবে প্রাক বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ না করার সুপারিশ রাখা হবে। কারণ ২০১০-১১ অর্থবছরে পুঁজিবাজারের ওপর ৪ ধাপে কর আরোপ করা হয়েছিল। তাই এ বছর কর আরোপের চেয়ে কর্তনের ওপর প্রাধান্য দেয়া হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ডিএসইর বোর্ড মিটিংয়ে প্রাক বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করবে ডিএসই।

বাজেট প্রস্তাব নিয়ে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বাংলানিউজকে বলেন, গত বছরে পুঁজিবাজারের ওপর সবচেয়ে বেশি কর আরোপ করা হয়েছে। তাই আগামী বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ না করার সুপারিশ থাকবে।

তিনি বলেন, কোম্পানির ডিভিডেন্ডের ওপর ১০ শতাংশ কর্তিত ট্যাক্সকে চুড়ান্ত করার প্রস্তাব রাখা হবে। কারণ কোম্পানি দুই ধাপে কর প্রদান করছে। প্রথম ধাপে নিট মুনাফার ওপর ৪২.৫ শতাংশ হারে কর প্রদান করছে। দ্বিতীয় ধাপে বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ডের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদান করছে। ডিভিডেন্ড যখন বিনিয়োগকারীদের এ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে তখন আবারো ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হচ্ছে।

এক্ষেত্রে যেহেতু কোম্পানি ডিভিডেন্ডের ওপর একবার কর প্রদান করছে। সেহেতু দ্বিতীয়বার আবারও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কর গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে কোম্পানির দেওয়া ১০ শতাংশ করকেই চূড়ান্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ডে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এতে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও কমে যাবে।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজার থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে উৎসে আয় কর ০.০২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এতে ব্রোকারেজ হাউজ মালিকদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। উৎসে আয়কর কমিয়ে বিও ফি বাড়ানোর প্রস্তাব আসে বিভিন্ন মহল থেকে।

এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)  বিও এ্যাকাউন্টের সঙ্গে টিন নম্বর বাধ্যতামূলকের পরিবর্তে ১০০ টাকা সার চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব করে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় দেখানো হয় ২৫ লাখ বিনিয়োগকারীর বিপরীতে ২৫ কোটি টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার উৎসে আয়কর কমিয়ে বিও ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে আসে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একদিকে উৎসে আয়কর ০.১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়। আগে যেখানে এক লাখ টাকার লেনদেনের বিপরীতে কর দিতে হতো ২৫ টাকা সেখানে বাজেটে প্রস্তাব করা হয় ১০০ টাকা। পরে তা কমিয়ে আনা হয় ৫০ টাকায়।

অন্যদিকে বিও অ্যাকাউন্ট মেইনটেইন্যান্স ফি ৩০০ টাকা থেকে বর্ধিত করে ৫০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। পূর্বের বিও অ্যাকাউন্ট চার্জ ৩০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা বৃদ্ধি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে। এ নতুন আইনের ফলে সরকার এ খাত থেকে ৪ গুন বেশি রাজস্ব আয় করে। এছাড়া ওই বছরে প্রিমিয়াম ও প্লেসমেন্ট শেয়ারের ওপরেও কর আরোপ করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৩ ঘন্টা, ৪ এপ্রিল ২০১১
Quote   
04/05/2011 3:58 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
বোনাস শেয়ার দেওয়ার শর্তে তালিকাভুক্ত হচ্ছে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্ট
জেবুন নেসা আলো, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


ঢাকা: বোনাস শেয়ার দেওয়ার শর্তে তালিকাভুক্ত হচ্ছে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্ট। বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বাইব্যাকের বিকল্প হিসেবে বোনাস শেয়ার দেওয়ার ব্যাপারে দুই কোম্পানি ও স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে উভয় পক্ষেরই সমর্থন রয়েছে।

তবে বোনাস ঘোষণায় অর্থবছর পরিবর্তন নিয়ে জটিলতায় পড়েছে এমআই সিমেন্ট। আইনের মধ্যে থেকে এ জটিলতা কাটিয়ে উঠলে দু সপ্তাহের মধ্যেই এ কোম্পানি দুটি তালিকাভুক্ত হতে পারবে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, বোনাস শেয়ার ঘোষণা করতে হলে বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) পাশ হতে হবে। মবিল যমুনার আর্থিক বছর জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব করা হয়। সেক্ষেত্রে গত ডিসেম্বরে তাদের বছর শেষ হয়েছে। এখনো বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এরইমধ্যে তাদের আর্থিক প্রতিবেদনও তৈরি হয়েছে।  কোম্পানি বোনাস শেয়ার দিতে চাইলে যে কোনো সময় বোর্ড মিটিং করে ঘোষণা দিতে পারবে এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় তা অনুমোদনেরও সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু অর্থ বছর নিয়ে জটিলতায় পড়েছে এমআই সিমেন্ট। এ কোম্পানির অর্থবছর হিসাব করা হয় জুন থেকে জুন পর্যন্ত। সে হিসাবে কোম্পানির ২০১০ অর্থবছরের ৯ মাস চলছে। ফলে কোম্পানিকে বোনাস শেয়ার দিতে হলে অর্থবছর পরিবর্তন করতে হবে। তবে এ কোম্পানির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন বোনাস ঘোষণার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, মবিল যমুনার এখনো এজিএম হয়নি। ফলে এ কোম্পানির ক্ষেত্রে বোনাস ঘোষণার সুযোগ রয়েছে। তবে এমআই সিমেন্টের অর্থবছর এখনো শেষ হয়নি। আইনগত ভাবে এ জটিলতা কাটিয়ে উঠলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এ কোম্পানি দুটি তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

তিনি বলেন, প্রিমিয়াম এ্যাকাউন্ট থেকে ক্ষতিপূরণ দিলে তা আইনে গ্রহণযোগ্য হবে না। বোনাস দিলে শেয়ারের দর কিছুটা কমে আসবে। এতে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।

এ ব্যাপারে সিএসইর প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ বলেন, বোনাস শেয়ারের শর্তে আসলে তালিকাভুক্তিতে স্টক এক্সচেঞ্জের আপত্তি থাকবে না। মবিল যমুনার ইজিএম করে বোনাস ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থবছর পরিবর্তন করে বোনাস ঘোষণা দিতে পারে এমআই সিমেন্ট।  

এদিকে এমআই সিমেন্টের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বোনাস শেয়ার দেয়ার ব্যাপারে এখনো চুড়ান্ত কোনো আলোচনা হয়নি। তবে আগে আমরা আর্থিক পর্যালোচনা অনুযায়ী এমআই সিমেন্ট অতিমূল্যায়িত হয়নি তা প্রমাণ করতে চাই। প্রসপেক্টাসে এমআই সিমেন্টের যে লাভ দেখানো হয়েছে তার চেয়েও বেশি লাভে রয়েছে কোম্পানিটি। আমরা কোম্পানির এ আর্থিক অবস্থান আবারো প্রযেকশনের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই।

তালিকাভুক্তিতে বিলম্ব হওয়ায় কোম্পানিদুটিতে ৭ লাখ বিনিয়োগকারীর ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা আটকে আছে। মবিল যমুনার ৪ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ৪ লাখ বিনিয়োগকারী লটারি পেয়েছেন। এ কোম্পানির মার্কেট লট ১০০টিতে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৬০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে।

এমআই সিমেন্টে ৩ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ৩ লাখ বিনিয়োগকারী লটারি পেয়েছেন। এ কোম্পানির মার্কেট লট ১০০টিতে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৩৪ কোটি টাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

শর্ত নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে গত ২৪ মার্চ মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তি নাকচ করে দেয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। ওই দিনই কোম্পানিদুটিকে তালিকাভুক্তির জন্য দুই সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। মবিল যমুনার ক্ষেত্রে ৩১ মার্চ থেকে এবং এমআই সিমেন্টের ৬ এপ্রিল থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৩ ঘন্টা, ০৪ এপ্রিল, ২০১১
Quote   
04/05/2011 4:00 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
এবার বন্ডের আড়ালে প্লেসমেন্ট ব্যবসা করবেন সালমান

ঢাকা, ৫ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম): রূপান্তরযোগ্য বন্ড গঠনের আড়ালে আবারও প্লেসমেন্ট ব্যবসার ফন্দি এটেছে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেড। তড়িঘড়ি করে বন্ডটির অনুমতি দিতে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বুধবার বিশেষ জরুরি সভার আহ্বান করেছে। কমিশনের রেকর্ড ভেঙে বন্ডের প্লেসমেন্ট ব্যবসার সুযোগ করে দিতে বুধবার কমিশনের সভায় নর্দান পাওয়ার সলিউশনের প্রস্তাবটি পাস করা হবে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাজার পতনের পর বিভিন্ন কোম্পানির প্লেসমেন্ট ব্যবসা বন্ধ থাকলেও এবার রূপান্তরিত বন্ডের মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে এসইসি আবারও নর্দান পাওয়ার কোম্পানিকে প্লেসমেন্ট ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছে। অনেকটা গোপনে জরুরি সভা ডেকে এ বন্ডের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, সালমান এফ রহমানের চাপে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার বিষয়টির অনুমতি দিতে তড়িঘড়ি করে বিশেষ সভার আহ্বান করেছে। আর এ কাজে নর্দান পাওয়ার সলিউশনের পক্ষে কাজ করছেন এ প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শেয়ার অধিগ্রহণকারী বেক্সটেক্স কোম্পানির মালিক সালমান এফ রহমান। আর এর সঙ্গে যুক্ত আছেন নিউ ইংল্যান্ড ইক্যুইটির মালিক লুৎফর রহমান বাদল। ১৮ শতাংশ সুদে রূপান্তরিত এ বন্ডের অভিহিত মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে একপ্রকার প্লেসমেন্ট ব্যবসা করার আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেড রূপান্তরযোগ্য বন্ড ইস্যু করে ১৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য গত ৩০ মার্চ এসইসিতে একটি আবেদনপত্র জমা দেয়া হয়। একইসঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) বন্ডটির ট্রাস্টির দায়িত্ব পালনের অনুমোদনের জন্যও আবেদন জানায়। ওই আবেদন পাওয়ার পরপরই তড়িঘড়ি করে বন্ডটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করে এসইসি। আবেদন পাওয়ার পর মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাস্টির দায়িত্ব পালনের জন্য আইসিবিকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। একই দিন বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদনের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করে কমিশনের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু ওইদিন কমিশনের একজন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় কোরাম পূর্ণ হয়নি। তাই বৈঠকের তারিখ পূনর্নিধারণ করা হয়। শুধু নর্দান পাওয়ারের বন্ড অনুমোদনের জন্য বুধবার কমিশনের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এসইসিতে দেয়া আবেদন অনুযায়ী, নর্দান পাওয়ারের প্রস্তাবিত ১৭৫ কোটি টাকার বন্ডের পুরোটাই প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। এর বার্ষিক সুদের হার রাখা হয়েছে ১৮ শতাংশ। ৬ মাসের অবকাশকালসহ (গ্রেস পিরিয়ড) বন্ডের মেয়াদ ধরা হয়েছে সাড়ে ৪ বছর। অবকাশকাল শেষে প্রতি তিন মাস পরপর বন্ডধারীদের নির্ধারিত হারে সুদ প্রদান করা হবে। প্রতি এক বছর পর মূল বিনিয়োগের ২৫ শতাংশ হারে পরিশোধ করা হবে। মূল বিনিয়োগের অর্ধেক নগদ অর্থে এবং বাকি অর্ধেক কোম্পানির শেয়ার প্রদানের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে বন্ডের বিনিয়োগকারীরা অভিহিত মূল্যে (১০ টাকা) নর্দান পাওয়ারের শেয়ার পাবেন।
এদিকে, নর্দান পাওয়ারের প্রস্তাবিত বন্ডের সুদের হার এবং শেয়ারে রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে ১৩-১৪ শতাংশ হার সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও কী কারণে কোম্পানিটি ১৮ শতাংশ সুদে বন্ড ইস্যু করছে তা অনেকের কাছেই বোধগম্য নয়। ব্যাংকে আমানত রেখে যে হারে সুদ পাওয়া যায় তারচেয়ে কমপক্ষে ৬ শতাংশ বেশি সুদ দেয়ার পরও অভিহিত মূল্যে শেয়ারের রূপান্তরের সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসইসির বিধি অনুযায়ী কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা পূর্ণ হলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক। গত ডিসেম্বরে কোম্পানিকে ৯০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন দেয়ার সময় এসইসি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার শর্ত বেঁধে দিয়েছিল। ফলে নর্দান পাওয়ারকে এক বছর পরই পুঁজিবাজারে আসতে হবে। কোম্পানির আইপিওতে অভিহিত মূল্যের অতিরিক্ত (প্রিমিয়াম) অর্থ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্তির পর শেয়ারবাজারে কোম্পানির শেয়ার অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরে লেনদেন হওয়াই স্বাভাবিক। ওই সময় কোম্পানির ইস্যুকৃত বন্ডকে অভিহিত মূল্যে শেয়ারে রূপান্তর করা হলে বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের পাশাপাশি বন্ডে বিনিয়োগকারীরাও পুঁজিবাজার থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নেয়ার সুযোগ পাবেন। তালিকাভুক্তির আগেই কোম্পানির উদ্যোক্তা ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের জন্য বিপুল মুনাফার সুযোগ তৈরি করে রাখার জন্যই রূপান্তরযোগ্য বন্ড ইস্যু করা হচ্ছে বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন।
জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১২ অক্টোবর নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে এ কোম্পানির উদ্যোক্তা ছিলেন রাজশাহী থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক। প্রাথমিকভাবে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৫০ লাখ টাকা। এরমধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের নামে ৪০ লাখ এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের নামে ১০ লাখ টাকার শেয়ার ছিল। পরে বেঙ্মিকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বেঙ্টেঙ্ লিমিটেডের কাছে ৫০ লাখ টাকার শেয়ার ইস্যু করে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৯০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৯১ কোটি টাকা উন্নীত করার জন্য এসইসিতে আবেদন করা হয়। ২৭ ডিসেম্বর এসইসির পক্ষ থেকে এরমধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের নামে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার শেয়ার ইস্যু করে ৪৫ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং বেঙ্টেঙ্ লিমিটেডের নামে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার শেয়ার ইস্যু করে ৪৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু এসইসি শুধুমাত্র বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি দিলেও কোম্পানির পরিচালকরা শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি (আরজেএসসি) থেকে প্রাপ্ত রিটার্ন অব এলটম্যান্টে দেখা যায়, এসইসির পক্ষ থেকে দুই শেয়ারহোল্ডারের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি দিলেও কোম্পানির শেয়াহোল্ডার সংখ্যা বেড়ে আটে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছেন- ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক (৪৯.৮৭%), বেক্সটেক্স লিমিটেড (৪৯.৯৭%), তহুরা হক (০.১১%), মোসলেহউদ্দীন (০.০১%), মমিনুল ইসলাম (০.০১%), নিউ ইংল্যান্ড ইক্যুয়িটি লিমিটেড (০.০১%), শোর ক্যাপিটাল হোল্ডিংস লিমিটেড (০.০১%) এবং ক্রিসেন্ট লিমিটেড (০.০১%)।
Quote   
04/05/2011 4:01 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
পুঁজিবাজার কারসাজি: ৩শ' জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

আলতাফ মাসুদ, ৫ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম): পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক উত্থান-পতন ও কারসাজির ঘটনায় আলোচিত কয়েকজন শীর্ষ কারসাজিকারক রেহাই পেলেও অন্তত ৩শ' ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান ও কয়েকজন নির্বাহি পরিচালকের বিরুদ্ধে বুক বিল্ডিং, ফিক্স প্রাইস, প্রেফারেন্স শেয়ার, মূলধন বৃদ্ধি, প্রাইভেট প্লেসমেন্টসহ বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের অপসারণের সুপারিশ থাকছে তদন্ত প্রতিবেদনে। পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও এসইসি পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সব ধরণের কারসাজির সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সম্পৃক্ততা পাওয়ায় দ্রুত স্টক এক্সচেঞ্জ ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন করার সুপারিশ থাকছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি তাদের কাজের শুরুতেই পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়নের কারণ অনুসন্ধান করেছে। এ জন্য প্রাইমারি মার্কেটের প্রত্যেকটি ইস্যু বিস্তারিত অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত দু'বছরে ফিক্স প্রাইস, বুক বিল্ডিং ও সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসা বেশ কিছু কোম্পানি অতি মূল্যায়িত হয়েই বাজারে প্রবেশ করেছে। এ কারণেই সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ারের দর অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন, রাইট শেয়ার, সম্পদ পুনর্মূল্যায়নসহ বেশ কিছু মূল্য সংবেদনশীল পদক্ষেপ নেয়া হয় এসইসির সহযোগিতায়। ফলস্বরূপ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ শেয়ার অতি মূল্যায়িত হয়ে পড়ে। তদন্ত রিপোর্টে প্রাইমারি মার্কেটে শেয়ার অতি মূল্যায়িত হওয়ার জন্য সরকারি বিশেষ নির্দেশনার পাশাপাশি এসইসির অনুমোদনকে দায়ী করা হয়েছে। প্রাইমারি মার্কেটের অনিয়মের জন্য ১৮ জনকে শনাক্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত এসইসির কর্মকর্তাদের ছাড়া কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোন সুপারিশ করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। তদন্ত কমিটি সবচেয়ে বেশি অনিয়ম দেখতে পেয়েছে প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে। প্লেসমেন্ট অনিয়মে জড়িত থাকার দায়ে প্রায় ১শ' জনকে শনাক্ত করেছে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান ছাড়াও এনইউএম অলিউল্লাহ (ড্রাগন সিকিউরিটিজ), মো. শাহজাহান (জাহান সিকিউরিটিজ), জামালউদ্দিন আহমেদ, মো. আজিজুল হক (বিএনবি এন্টারপ্রাইজ লি, এএস শহুদুল হক বুলবুল (বুলবুল সিকিউরিটিজ), আনোয়ার হোসেন (আনোয়ার সিকিউরিটিজ), মোশতাক আহমেদ সাদেকী (আইপিএস লিমিটেড), এম. কামাল উদ্দিন (মার্চেন্ট সিকিউরিটিজ), আল মারুফ খান এফসিএ (সিএমএসএল সিকিউরিটিজ), সাইফুল ইসলাম চৌধুরী (সিউকিরিটিজ ব্রোকিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড) ও লিয়াকত আলীসহ ডিএসই'র লিস্টিং কমিটির অধিকাংশ সদস্যের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সরকারি প্রভাবশালী প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তার প্লেসমেন্ট ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে তদন্ত কমিটির কাছে। এসব কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে বলা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া আইপিও পূর্ববর্তী প্লেসমেন্ট বাণিজ্যে সালমান এফ রহমানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে বলে জানা গেছে। তবে এসইসির অনুমোদন নিয়ে তা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোন সুপারিশ থাকছে না বলে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার বাণিজ্যে সহযোগিতার দায়ে এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার ও নির্বাহি পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামানকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে মিউচ্যুয়াল ফাণ্ডের অনিয়মের জন্য আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ থাকছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বিধি তৈরির মাধ্যমে কারসাজিকারকদের সহযোগিতার দায়ে নির্বাহি পরিচালক ফরহাদ আহমেদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ থাকছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটের কারসাজির তদন্ত করতে গিয়ে অনেক চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। নতুন নতুন পদ্ধতিতে শেয়ারের দর বাড়িয়ে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে মুনাফার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ক্ষেত্রে বহু লোকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও উল্লেখযোগ্যদের সম্পর্কেই সর্বাধিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। এবারের মূল্য কারসাজির সঙ্গে '৯৬ সালের জড়িত চক্রটির পাশাপাশি নতুন কয়েকটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেকেন্ডারি মার্কেটে ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, মোসাদ্দেক আলী ফালু, লুৎফর রহমান বাদল, তার স্ত্রী সোমা বাদল, এয়াকুব আলী খন্দকারসহ অন্তত ৩০ জনের শেয়ার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে শেয়ার কারসাজির সাথে ২ শতাধিক লোক জড়িত রয়েছে বলে তদন্ত কমিটি বিভিন্ন সূত্রে প্রমাণ পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে উক্ত ৩০ জন বড় কারসাজিকারক বলে তদন্তে চিহ্নিত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের উদ্যোক্তা, পরিচালকও রয়েছেন। এছাড়া শেয়ার কারসাজির সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি ও বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। এ ছাড়া রুবেল নামে এক তরুণ বিনিয়োগকারীর গত এক বছরে শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে ২৫০ কোটি টাকা মুনাফার তথ্য প্রতিবেদনে থাকছে। তবে অবাক করা তথ্য হচ্ছে, পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমালোচিত ব্যক্তি এবং '৯৬ সালের পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির নায়ক সালমান এফ রহমানের সেকেন্ডারি মার্কেটে সরাসরি কোন যোগসাজশ খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। প্রাইমারি মার্কেট অর্থাৎ আইপিও'র ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে কমিটি। কারণ, প্রতিটি কাজই এসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন করা হয়েছে। অপরদিকে এসইসির কর্মকর্তাদের সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এসইসির নির্বাহি পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়ার স্ত্রীর বিও হিসাবে গত বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকার লেনদেনের হিসাব পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন করা কয়েকজন রাঘববোয়ালদের একাউন্টে তল্লাশি চালিয়েছে। এদের বিও হিসাবেও অনেক গরমিল পাওয়া গেছে। এদের লিস্ট তৈরি করা হয়েছে, যা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে। এছাড়া পুঁজিবাজারে সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যের বড় ধরনের বিনিয়োগ সংশ্লিষ্টতা তদন্ত কমিটি পেয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আহম মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারের অনিয়মে যুক্ত থাকায় প্রতিবেদনে তার নাম থাকছে বলে জানা গেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালকের বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে প্রতিবেদনে।
পুঁজিবাজারের কারসাজিতে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজি দূর করতে তদন্ত কমিটি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি ও দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন সম্পন্ন করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ জানাবে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে এসইসির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন নির্বাহি পরিচালককে অপসারণ করে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন করার সুপারিশ থাকছে প্রতিবেদনে। কমিশনের দক্ষতা ও ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চেয়ারম্যান ছাড়া চার সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি নতুন বিভাগ সংযোজন ও কারসাজি প্রতিরোধে গোয়েন্দা বিভাগ গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে এসইসির বিধি বিধান সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারের বিপর্যয় রোধের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে একের পর এক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে এর কারণ উদঘাটন ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর গত ২৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসইসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং এর কার্যপরিধি ঘোষণা করা হয়। কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী এবং আইসিএবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল বারী এফসিএ। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে কার্যপরিধি অপরিবর্তিত রাখা হলেও এর মাধ্যমে কমিটির কার্যক্রম এসইসির পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের আওতায় ন্যস্ত হয়।
Quote   
04/05/2011 4:01 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
পুঁজিবাজার কারসাজি: সালমানদের বাঁচিয়ে দেয়ার ফন্দিফিকির

ঢাকা, ৪ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম): পুঁজিবাজারের সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত ব্যক্তি সালমান এফ রহমান, লোটাস কামাল, রকিবুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাজারের উত্থান-পতন এবং বিভিন্ন ধরনের কারসাজির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও তা থেকে রেহাই দেয়ার চেষ্টা চলছে। পুঁজিবাজারে ফিক্সড প্রাইস, বুক বিল্ডিং, রাইট শেয়ার, ডিরেক্ট লিস্টিং. সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, প্রেফারেন্স শেয়ারসহ সকল ক্ষেত্রেই অনিয়ম হয়েছে এবং এর সাথে উক্ত প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এ চক্রটি। অথচ এতোসব অনিয়মের সাথে সালমান রহমানদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও তদন্ত কমিটি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কোন সুপারিশ করছে না বলে জানা গেছে। সালমানদের অপরাধ শুধুমাত্র এসইসির কাঁধে চাপিয়ে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনুমোদন নিয়ে সালমান এফ রহমান বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করেছেন বলে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ থাকছে। এসইসিতে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড আইনসিদ্ধ করে নিয়েছেন তিনি। যেমন- বেক্সটেক্সের ৬৩৫ কোটি টাকার ঋণ তিনি ইক্যুয়িটিতে রূপান্তর করেছেন। এ বিষয়ে কোন আইন না থাকলেও তা অনুমোদন করতে বাধ্য হয়েছে এসইসি। এসইসির এ অনুমোদনের ফলে বেক্সটেক্সে ৬৩৫ কোটি টাকা ঋণ শেয়ারে রূপান্তর করে নিউ ইংল্যান্ড ইক্যুয়িটিসহ বেঙ্মিকো গ্রুপের অন্যান্য সহযোগী কোম্পানিকে তা দেয়া হয়। সে সময় এসব শেয়ারের বাজার মূল্য ৭০ টাকার বেশি থাকলেও এসইসির অনুমোদন নিয়ে মাত্র ৩২ টাকায় উক্ত কোম্পানিগুলোকে বেক্সটেক্সে শেয়ার দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ঋণ করে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়ার রাস্তাটি সালমানই প্রথম বাংলাদেশে দেখিয়েছেন। অপরদিকে আইন না থাকার পরও বেক্সিমকো ফার্মার প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে। এটাও এসইসির অনুমোদন নিয়েই করা হয়েছে। তাই এর দায়ভারও এসইসির ওপরই বর্তাচ্ছে। পরবর্তীতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি এসইসির অনুমোদন নিয়ে প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে বাজার থেকে বিপুল পরিমাণের টাকা সংগ্রহ করে। এছাড়া বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে জিএমজি এয়ারলাইন্স, ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্টসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের অযৌক্তিক নির্দেশক মূল্য এবং মূলধন বৃদ্ধির মাধ্যমে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির অনিয়মও হয়েছে এসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে। এছাড়া বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সটেক্স, বেক্সিমকো সিনথেটিক ও সোনালী আঁশ কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে এসইসির অনুমোদনের মাধ্যমে। তাই এসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দরবৃদ্ধি করা হলেও সালমানকে তদন্ত কমিটি ধরতে রাজি নয়। সালমানের এসব অনৈতিক কাজে সহযোগিতার দায়ভার এসইসিকেই নিতে হচ্ছে। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ড সালমান এফ রহমান এসইসির যোগসাজশে করলেও তদন্ত রিপোর্টে সালমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোন সুপারিশ থাকছে না। যা বিভ্রান্তিকর। কারণ, উলি্লখিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে উভয় পক্ষ লাভবান হলেও সাজা পেতে যাচ্ছে শুধু এসইসির কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি এমন যে, চুরি-ডাকাতির জন্য চোর-ডাকাতের কোন দোষ নেই। দোষ শুধু পাহারাদারের।
অপরদিকে শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের অনুমোদনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার অতি মূল্যায়িত করা হয়েছে। এর নেপথ্যে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আহম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল। এছাড়া অতি মূল্যায়িত বাজারে সাধারণ মানুষকে পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত হতে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছেন রকিবুর রহমান। স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত হলেও নতুন কোম্পানির শেয়ার আনার বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে আটকে দেয়া হয়। গত বছরের প্রথম দিকে এ চক্রটির পরিকল্পনায় হঠাৎ করেই এসইসির আইপিও'র জন্য ৪০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। ফলস্বরূপ ছোট কোম্পানির জন্য আইপিও ছাড়া বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণেই বাজারে শেয়ারের প্রচ- সঙ্কটের কারণে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার অতি মূল্যায়িত হয়ে যায়। শেয়ারের দরবৃদ্ধির সুযোগে সালমান এফ রহমানের সহযোগিতায় এ চক্রটি হাজার হাজার কোটি টাকার প্লেসমেন্ট বাণিজ্য করেছেন। এছাড়া অতি মূল্যায়িত বাজারে বাণিজ্যমন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল) ও ওশেন কন্টেইনার্স সরাসরি তালিকাভুক্তির বিশেষ সুযোগ নিয়ে পুঁজিবাজার থেকে হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করেছেন। এক্ষেত্রে সরকারি বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কোম্পানি দু'টিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ প্রদানের জন্য। এ দু'টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে প্রায় সাড়ে ৭শ' কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এসব বিষয় তদন্ত কমিটি পরীক্ষা করে দেখেছেন। তাদের তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডে অনৈতিক বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
জানা গেছে, সালমানদের এসব তৎপরতা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট আইনের লঙ্ঘন না হলেও নৈতিকতার বিচারে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। তবে অনৈতিক হলেও এসব কর্মকাণ্ডে বেআইনি নয় বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোন সুপারিশ থাকছে না তদন্ত রিপোর্টে। জানা গেছে, সালমানের এসব অনৈতিক কাজে সহযোগিতা দেয়ায় এসইসির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন নির্বাহি পরিচালককে অপসারণ করার সুপারিশ করবে তদন্ত কমিটি। পুঁজিবাজারের দরবেশ খ্যাত সালমান বারবার অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ায় তদন্ত কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত কমিটি ক্ষমতাশালীদের প্রভাব কাটিয়ে নিরপেক্ষ একটি তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি কারসাজির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে পুঁজিবাজার সম্পর্কিত বিধি বিধান পরিবর্তন ও এসইসির কর্মকর্তাদের অপসারণেই বেশি আগ্রহী। তদন্ত কমিটির ধারণা, এসইসির বিধি-বিধান পরিবর্তন এবং যোগ্য ও সৎ ব্যক্তি দায়িত্বে থাকলে ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারে অনিয়মের প্রবণতা কমে আসবে। এছাড়া তদন্ত কমিটির ধারণা, পুঁজিবাজারে আলোচিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের মতো একটি বিশাল ক্ষেত্রের বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি সময় পেয়েছে মাত্র দু'মাস। এ স্বল্প সময়ের মধ্যে সব বিষয় তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বল্প সময়ের কারণেই নাকি তদন্তে সালমানের বিরুদ্ধে সেকেন্ডারি মার্কেটে সরাসরি কোন যোগসাজশ তদন্ত কমিটি খুঁজে পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এরা সরাসরি সেকেন্ডারি মার্কেটে জড়িত না থাকলেও অন্য নামে সেকেন্ডারি মার্কেটে ব্যবসা করছে। এ ধরনের কয়েকটি সন্দেহজনক লেনদেন তদন্ত কমিটি শনাক্ত করলেও সময়ের অভাবে এসব বিও একাউন্টের নেপথ্যদের শনাক্ত করতে পারেনি। তবে সালমানের বিরুদ্ধে প্রাইমারি মার্কেটে যোগসাজশ পাওয়া গেলেও এসইসির কাঁধে দোষ চাপিয়ে তাদের বাঁচিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, ১৯৯৬ সালের মতো এবারো সালমানরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থাকবেন। যদিও ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজার কারসাজির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দু'টি এবং রকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরেও সেসব মামলার সুরাহা হয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সাক্ষীর অভাবে এসব মামলার শুনানি করা সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে এবার পুঁজিবাজারের উত্থান-পতনে এবং বিভিন্ন ধরনের কারসাজির সাথে সালমান রহমানদের বিরুদ্ধে তথ্য থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের স্বার্থে কমিটি প্রাইমারি মার্কেটের প্রত্যেকটি ইস্যু বিস্তারিত অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করেছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সমস্যা চিহ্নিত করা হলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো অনিয়ম সম্পর্কে মত দেয়া হয়নি। কারণ, এসইসি অনুমোদন নিয়েই ফিঙ্ড প্রাইস, বুক-বিল্ডিং, রাইট শেয়ার, ডিরেক্ট লিস্টিং. প্রেফারেন্স শেয়ার সকল ক্ষেত্রেই অনিয়ম হয়েছে। প্রাইভেট প্লেসমেন্টে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এসব অনিয়মে জড়িতদের সবার নামই তদন্ত কমিটি পেয়েছে। তবে এসইসির অনুমোদন নিয়ে এসব অনিয়ম হওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের কোন সুপারিশ তদন্ত রিপোর্টে থাকছে না বলে জানা গেছে। এসইসি এসব অনিয়ম বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় চেয়ারম্যানসহ উপরের সারির বেশ কিছু কর্মকর্তাকে ছাটাই করার প্রস্তাব থাকছে রিপোর্টে। চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য কয়েক জনের নামও প্রস্তাব করবে কমিটি।
একই সঙ্গে বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করে আইন, বিধি-বিধান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে সামপ্রতিক বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনৈতিক প্রবণতা বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি রোধে পুঁজিবাজারের সামগ্রিক সংস্কারের সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তা থেকে পুঁজিবাজারে একের পর এক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে এর কারণ উদঘাটন ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। গত ২৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসইসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং এর কার্যপরিধি ঘোষণা করা হয়। কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী এবং আইসিএবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল বারী এফসিএ। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে কার্যপরিধি অপরিবর্তিত রাখা হলেও এর মাধ্যমে কমিটির কার্যক্রম এসইসির পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের আওতায় ন্যস্ত হয়।
Quote   
04/05/2011 4:01 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ভুল ব্যাখ্যা

ঢাকা, ৫ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম): ইন্স্যুরেন্স আইনের ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে অভিহিত মূল্যে উদ্যোক্তাদের নামে সাড়ে ৭ লাখ শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানি ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা অংশ ৪০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ প্রস্তাব করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। বাজার মূল্যের ২৪ গুণ কমে উদ্যোক্তাদের এ বিপুল পরিমাণের শেয়ার বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জ (ডিএসই)।
গত ২৭ মার্চ ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা অংশ বর্তমানের ৪০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ঢাকা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সেক্রেটারি জানিয়েছেন, বীমা আইন-২০১০ অনুযায়ী কোম্পানির উদ্যোক্তা অংশ বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০ অনুযায়ী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি টাকার পরিবর্তে ৪০ কোটি টাকা এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন ৯ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। একই সাথে নতুন আইনে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা অংশ পূর্বের ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার বিধান রাখা হয়েছে বলে কোম্পানি সেক্রেটারি সেলিম আহমেদ জানান। তিনি জানান, রাইট শেয়ারের মাধ্যমে উদ্যোক্তা অংশ বৃদ্ধি সম্ভব নয়। সেজন্য আমরা সিকিউরিটিজ এন্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবং দুই স্টক এঙ্চেঞ্জকে প্রস্তাব দিয়েছি আইন অনুযায়ী মূলধন বৃদ্ধি করে তা থেকে উদ্যোক্তাদের অভিহিত মূল্যে সাড়ে ৭ লাখ শেয়ার বরাদ্দের জন্য। কিন্তু ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ডিএসই।
তাদের মতে ইন্স্যুরেন্স আইন-২০১০ এ উদ্যোক্তা অংশ ৬০ শতাংশ থাকার যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে তা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযোজ্য নয়। যেসব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি সেসব কোম্পানির জন্য নতুন আইনের এ বিধিটি কার্যকর হবে।
অপরদিকে কোনো কোম্পানি যদি উদ্যোক্তা অংশ বাড়াতে চায় সেজন্য সিকিউরিটিজ আইন রয়েছে। বিধি অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা অংশ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পূর্ব ঘোষণার মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে বর্তমান বাজার দরে শেয়ার ক্রয় করতে হয়। তাই ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তাদের অভিহিত মূল্যে শেয়ার বরাদ্দের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে ডিএসই জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার ডিএসইতে ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫৩৬ টাকায়। এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি টাকা। এদিকে গত ২৮ মার্চ এ কোম্পানির তৃতীয় পর্বের আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি থাকায় নোটিশ দিয়েছে এসইসি।
Quote   
04/05/2011 4:02 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
তালিকাভুক্তির ব্যাপারে এমজেএলকে কোনো শর্ত দেয়নি ডিএসই

ঢাকা, ৫ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম): মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের (এমজেএল) তালিকাভুক্তির কোনো শর্ত দেয়নি ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জ (ডিএসই)। এছাড়া কোম্পানিটির তালিকভুক্তির ব্যাপারে ডিএসই কোনো সুপারিশও করেনি। আজ মঙ্গলবার শীর্ষ নিউজ ডটকমকে একথা জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু।
আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, এ ব্যাপারে ডিএসইর প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির ব্যাপারে এসইসিকে ডিএসইর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানানো হয়েছে। তবে তাতে কোনো শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এমজেএল তাদের প্রস্তাবে যে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জানিয়েছে তা কোম্পানি আইনের পরিপন্থি হওয়ায় ডিএসই অনুমোদন দেয়নি।
উল্লেখ্য, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গত ২০ জানুয়ারি এ পদ্ধতিটি অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে স্থগিত করে এসইসি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জানুয়ারি মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু ততোদিনে কোম্পানি দুটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিওর মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করে ফেলে। এজন্য আইনি জটিলতা এড়াতে শর্তসাপেক্ষে কোম্পানি দুটিকে আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হয়। শর্তটি হচ্ছে, তালিকাভুক্তির এক মাসের মধ্যেই বরাদ্দ মূল্যের চাইতে দর কমে গেলে কোম্পানি শেয়ার বাইব্যাক করবে। এ শর্ত মেনে কোম্পানি দুটি আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বাইব্যাক বিষয়ে কোনো আইন না থাকার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে এসইসির পক্ষ থেকে নতুন শর্ত দেয়া হয়। এসইসির শর্তানুযায়ী, শেয়ার লেনদেন শুরুর পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব চায় এসইসি। এসইসির এ শর্ত মানতে সম্মতি প্রকাশ করে এমজেএল। যার পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি এমজেএলকে তালিকাভুক্তির জন্য ডিএসইতে পাঠায়। ২৪ জানুয়ারি ডিএসই বোর্ডসভা এমজেএল-এর ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব কোম্পানি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করায় তার অনুমোদন দেয়নি।
কোম্পানি আইনের ৫৭-২এর (সি) ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া সত্ত্বেও এসইসি মবিল যমুনাকে তালিকাভুক্তির জন্য ডিএসইতে পাঠানোর ব্যাপারে আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, এক্ষেত্রে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার মতো একটি কাজ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোনো ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই এসইসি এমজেএলকে তালিকাভুক্তির জন্য ডিএসইতে পাঠিয়ে দিয়েছে। এটি করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অবিবেচকের পরিচয় দিয়েছে। উপরন্তু ডিএসই ধ্বংস করে দেয়ারও একটি পাঁয়তারা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর অর্থসংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ সভায় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টসের ৪ কোটি শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া ওই সভায় মবিল যমুনা বাজারে আসার পদ্ধতি হিসেবে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সুপারিশ করা হয়। আইপিওর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ খুলনায় একটি লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম ইউনিট, তেল শোধনাগার ও এমজেএল-এর নিজস্ব ভবন তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়।
Quote   
04/05/2011 4:02 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
ব্যাংকিং খাতে ২৪ হাজার কোটি টাকার তারল্য রয়েছে

ঢাকা, ৫ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম): ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত ২৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকার তারল্য রয়েছে যা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমবর্ধমান। অন্যদিকে কলমানি সুদের হার রয়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রদিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে তারল্য সঙ্কট মেটাতে রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে চাহিদানুযায়ী তারল্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি কৃষি, বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পের মেয়াদি ও চলতি মূলধন ঋণ, গৃহায়ণ খাত ও বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চলতি মার্চ মাস হতে চলতি মূলধন ঋণ, গৃহায়ণ খাত ও বাণিজ্য অর্থায়ন খাতে ঋণের সুদ হারের সর্বোচ্চ সীমা প্রত্যাহার করা হয়। তবে অন্যান্য খাত কৃষি ও মেয়াদি শিল্প ঋণ খাতে সুদ হারের সর্বোচ্চ সীমা ১৩ শতাংশ, রপ্তানি ঋণের সুদ হার সর্বোচ্চ সীমা ৭ শতাংশ এবং নিত্যপণ্যের (চাল, গম, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, খেজুর ও চিনি) আমদানি অর্থায়নে সুদ হারের সর্বোচ্চ সীমা ১২ শতাংশ বহাল রাখা হয়।
অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ১০ হাজার ৭শ ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পর্যালোচনা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৮ হাজার ৫শ ৯৯ মিলিয়ন ডলার, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের চেয়ে ৩২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অপরদিকে একই সময়ে আমদানি ব্যায়ের পরিমাণ প্রায় ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে মূলধনী যন্ত্রপাতি খাতে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ প্রায় ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করার ফলে ব্যাংকগুলো কর্তৃক শিল্পে চলতি মূলধন ঋণের সুদহার ১৬ শতাংশ বা ততোধিক আরোপ করার অভিযোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ সুদহার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার জন্যে আসন্ন ব্যাংকার্স সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরো বলেন, আর্থিক খাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ১৯৯০ সালের জানুয়ারি মাস হতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্যে কার্যকরভাবে একটি নমনীয় সুদনীতি প্রবর্তন করা হয়। এ নীতিমালার মুখ্য উদ্দেশ ছিল সুদনীতিকে সম্পূর্ণরূপে বাজারভিত্তিক করা অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে আমানত ও ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা। তার প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদ হারের সর্বোচ্চ সীমা প্রত্যাহার করে।
Quote   
04/06/2011 10:08 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
পুঁজিবাজার কারসাজি: কাল অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত রিপোর্ট

ঢাকা, ৬ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম): পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক উত্থান-পতন ও কারসাজির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন বলে জানা গেছে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, দু'মাস ধরে তদন্ত কমিটি পুঁজিবাজারের বিপর্যয় এবং বিভিন্ন কারসাজির সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও এসইসি পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সব ধরনের কারসাজির সাথে ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সম্পৃক্ততা পাওয়ায় দ্রুত স্টক এঙ্চেঞ্জ ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন করার সুপারিশ থাকছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে একের পর এক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে এর কারণ উদঘাটন ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর গত ২৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসইসির পক্ষ থেকে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং এর কার্যপরিধি ঘোষণা করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য দু'সদস্য হলেন- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী এবং আইসিএবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল বারী এফসিএ। গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে কার্যপরিধি অপরিবর্তিত রাখা হলেও এর মাধ্যমে কমিটির কার্যক্রম এসইসির পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের আওতায় ন্যস্ত হয়।
Quote   
Page 2 / 3 1 - 2 - 3 « previous | Next »
Login with Facebook to post
Preview