বাজার পূর্বাভাস (১৮-০১-২০১১)
গত কয়েকদিনের বাজার পুর্বাভাস হুবহু মিলে যাওয়ায় আজ একটু বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই। আমি সহজ ভাষায় লেখার চেষ্টা করি যাতে সকল পাঠক বুঝতে পারেন। বোম্বাস্টিক টেকনিক্যাল এনালাইসিস দিয়ে নিজের পান্ডিত্য জাহির করতে চাই না। বাজার এখন ২০০ ওয়েটেড মুভিং এভারেজ এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।যার অর্থ হল শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী মন্দাবস্থা শুরু হতে যাচ্ছে। ইলিয়ট ওয়েভ নামে একটা থিওরি আছে। এ থিওরির মূল কথা হল পড়তি বাজারে ১০০ পয়েন্ট উঠলে ২০০ পয়েন্ট নামবে। বাজার ইলিয়ট ওয়েভের চুড়ায় উঠেছিল গত বছরের ৩ ডিসেম্বর। শেয়ারবাজার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে থাকে- এটা বরাবরের মতই সত্য হতে চলেছে। ইলিয়ট ওয়েভের যেখান থেকে উত্থান হয়েছিল সেখানে যদি যায় তাহলে সাধারন মূল্যসূচক ৫৬০০ পয়েন্টে পৌঁছাবে -এটা অবধারিত। তবে কতদিনে ওখানে পৌঁছাবে তা একটি প্রশ্ন সাপেক্ষ বিষয়। পতন যে হারে হবার কথা তার চেয়ে দ্রুত হচ্ছে- এটা ভাবনার বিষয় বৈকি। এখন আমরা দেখি কেন পতন দ্রুত হচ্ছেঃ
১। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেশী শেয়ার বিক্রি করে কম শেয়ার কিনছেন। ( আজকের কালের কন্ঠ দেখুন, এই ফোরামেও খবরটি পোস্ট করা হয়েছে। এই লিংক থেকে খবরটি দেখে নিতে পারেনঃ
http://apps.facebook.com/facebook_forums/stock_related_news_from_newspaper__electronic__print_and_digital_media-1688-10.html )। দূর্বল চিত্তের শেয়ারহোল্ডাররা(Weak Holders) আতংকগ্রস্ত হয়ে শেয়ার লোকসানে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে বাজারের পতন আরো দ্রুত হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এই সুযোগ কে দারুনভাবে কাজে লাগাচ্ছে।
২। বাজারে স্মার্ট মানি ( সোজা কথায় গ্যাম্বলারদের টাকা) ফ্লো নেই। পড়তি বাজারে গ্যাম্বলাররা বিনিয়োগ করেননা।তারা উঠতি বাজারে গুজব ছড়িয়ে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে থাকেন। পড়তি বাজারে গুজব ছড়াতে গেলে মার খাওয়ার ভয় আছে।
৩। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীগন গত ২ থেকে ১০ জানুয়ারী পর্যন্ত টানা দরপতনের ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেননি।
৪। মার্চেন্ট ব্যাংকার রা এখনো ১:২ হারে ঋন দিচ্ছেন না।
৫। এখনো তারল্যের ঘাটতি আছে।
৬ । সরকার তথা বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবিকে ২০০ কোটি টাকা ডিমান্ড লোন দিয়েছে। ইতিমধ্যে তারা অধিকাংশ টাকার শেয়ার কিনে ফেলেছেন। বাজার ধরে রাখার জন্য হয়তো আরো ২০০-৩০০ কোটি টাকা ডিমান্ড লোন দেয়া হতে পারে। তাতে ও বাজার পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতির লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। ৩ লক্ষ কোটি টাকার বাজারে ৫০০ কোটি টাকা বোঝার উপর শাকের আঁটি মাত্র।
৭। পৌরসভা নির্বাচনের কারনে সরকার চাইছে না বাজার পড়ুক। তাই অনেকটা লাইফ সাপোর্ট দিয়ে এ বাজারকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। অন্য কোন মার্কেট মেকার না থাকায় সরকার তার একক প্রচেষ্টায় বেশিদিন বাজার ধরে রাখতে পারবেন বলে খুব একটা আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না।
৮। বিয়ার মার্কেটের সকল লক্ষন দেখা যেতে শুরু করেছে। টার্নওভার দিন দিন কমে যাচ্ছে, বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও পারছে না, দিনের শুরুতেই নিম্নমূখী প্রবনতা ইত্যাদি।( এ বিষয়ে শীঘ্রই একটি পূর্নাংগ আর্টিকেল লিখব আশা করি)
৯। বাজার সংশোধনের জন্য দাতা সংস্থার চাপ আছে। সম্প্রতি আইএমএফ এর প্রতিনিধি দল ডিএসই পরিদর্শন করে গেছেন।
১০।বেসরকারী ব্যাংক গুলোর বিনিয়োগসীমা বেঁধে দেওয়ায় তারা বাজারে অংশগ্রহন না করে দর্শকের ভূমিকা নিয়েছেন।
সরকার তার ভাবমূর্তি রক্ষায় আগামী বিশ্বকাপ ক্রিকেট পর্যন্ত হয়তো বাজারকে এভাবে কৃত্রিমভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করবে। তারপর? তারপর বাজার তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকবে।
আগামীকাল বাজার মন্দা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তবে এসইসি আগামীকাল বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জরুরী বৈঠক করবেন বলে খবর পাওয়া গেল। দেখা যাক লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাজারকে সুস্থ্য করে তোলা যায় কিনা?