| 01/22/2011 4:19 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE |
অতিথি কলাম
শেয়ারবাজারের সংকট ও উত্তরণ
জিয়াউর রহমান, সাংবাদিক
22 Jan 2011 02:54:15 PM Saturday BdST
Banglanews24.com
গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পাগলা ষাঁড়ের মত ছুটছিল শেয়ারবাজার। লাগামহীন এই উর্ধগতি বড় ধরনের মূল্য সংশোধন অনিবার্য করে তুলছিল। প্রবল ঝুঁকির বিষয়টি নানাভাবে বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলেও ধরা হয়েছে। কিন্তু খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও কেউ নিচে তাকিয়ে দেখেনি। যখন তাকিয়েছে তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে। বাজারে দর পতন ধসে রূপ নিয়েছে। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে সূচক কমেছে ৪০ শতাংশ। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ। ধস ঠেকাতে সূচক পতনের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়েও রক্ষা মিলছে না। তীব্র দর পতনে বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর পাঁচ মিনিটের মাথায় লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে। বাজারের এমন অবস্থায় সর্বস্ব হারানোর ভয়ে দিশেহারা ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী।
২০১০ সালে বাজারে যে অস্বাভাবিক উর্ধগতি ছিল তার মধ্যেই নিহিত ছিল বিপর্যয়ের বীজ। বিনিয়োগকারী ও তারল্য প্রবাহের বিপরীতে শেয়ার সরবরাহ না বাড়ার কারণেই বাজার এমন তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সে বছর প্রায় ১৩ লাখ বিনিয়োগকারী বাজারে এসেছেন। অনেকটা আমন্ত্রণ জানিয়েই তাদেরকে বাজারে আনা হয়েছে।
শিল্প খাতে বিনিয়োগ স্থবিরতায় ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তাদের হাতে ছিল বিপুল উদ্বৃত্ত অর্থ। বিকল্প বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে এরা শেয়ারবাজারকে বেছে নিয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বল নজরদারীর সুযোগ নিয়ে শিল্প ঋণের টাকা শেয়ারবাজারে খাটিয়েছেন। অন্যদিকে বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার হ্রাস এবং এর আয়কে করযোগ্য করার মত ভুল সিদ্ধান্তও মানুষকে শেয়ারবাজারমুখী করেছে।
শেয়ার সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত না করেই দেশব্যাপী ব্রোকার হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের নতুন নতুন শাখা খুলে শেয়ারের বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি কোন খাত থেকেই শেয়ার আনতে পারেনি এসইসি ও ডিএসই। একাধিকবার ঘোষণা দেয়ার পরও ২৬ সরকারি কোম্পানি বাজারে আসেনি। সময়মত ওই কোম্পানীগুলো বাজারে এলে শেয়ারের সংকট এত তীব্র হতো না, দামও বাড়ত না অস্বাভাবিক হারে। তাতে বড় ধরনের মূল্য সংশোধনেরও প্রয়োজন হতো না।
অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও শেয়ারের অতিমূল্যায়নে ভ’মিকা রেখেছে। যেসব শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় রূপান্তর হয়েছে তাদের দাম পাঁচ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি একই রকম দর পতন ডেকে এনেছে।
বেশির ভাগ শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক নিয়মেই এক সময় এদের মূল্য সংশোধন শুরু হয়। বার্ষিক হিসাবকে সামনে রেখে নভেম্বর থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার বিক্রি করতে থাকে। বাজারের এই যখন অবস্থা তখন অপরিনামদর্শীর মত কিছু নির্দেশনা জারী করে পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলে বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ারবাজারে চলে যাওয়া যারা শিল্প ঋণের টাকা সঠিক খাতে ওই অর্থ ফিরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দেয়া হয়। হঠাৎ করেই বাড়ানো হয় সিআরআর ও এসএলআর। হঠাৎ করে তারল্যে টান পড়ায় বাজার বড় ধরনের হোঁচট খায়। এতে বিনিয়োগকারীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করলে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। এই বিপরীতমুখী টানাপোড়েনই বাজারকে ধসের কিনারায় দাঁড় করায়। এর সঙ্গে সুযোগ সন্ধানী কোন কোন মহলের কারসাজির ভূমিকাও থাকতে পারে।
সংকট উত্তরনে করনীয়
অস্বাভাবিক দর পতনের সর্বনাশা ধারা থেকে বাজারকে বের করে আনার প্রধান উপায় তারল্য ও আস্থার সংকট সংকট দূর করা। আর এর জন্য প্রয়োজন এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রণালয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ। অতীতের ভুল-ত্রুটি ভুলে গিয়ে, পারস্পরকে দোষ না দিয়ে এক টেবিলে বসে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শেয়ারবাজারের সংকট তীব্র হলে এক সময় তা সমাজ এবং অর্থনীতিতেও অস্থিরতা ছড়িয়ে দেবে।
নমনীয় হতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে : শেয়ারবাজারে যে তারল্য সংকট চলছে একমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকই তা দূর করতে পারে। শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। ব্যাংকভিত্তিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজগুলো সাবসিডিয়ারিতে পরিণত হবার তারল্য সংকটে ভুগছে। এ কারণে তারা নিজেরা যেমন শেয়ার কিনতে পারছে না, তেসনই গ্রাহকদেরকেও শেয়ার কেনার জন্য বর্ধিত ঋণ দেয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে, কোন ব্যাংক তার সাবসডিয়ারিকে পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারে না। এ কারণে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজগুলো মূল ব্যাংকের কাছ থেকে চাহিদা মাফিক তহবিল পাচ্ছে না। সাময়িকভাবে এই সীমা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা যায়। মৌখিক অনুমতিতে ব্যাংকগুলো ভরসা পাবে না, লিখিতভাবে তা অনুমোদন করতে হবে।
ব্যাংকগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে : কোন কোন ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ না করে এখন মুদ্রা বাজারে টাকা খাটাচ্ছে। অথচ গত কয়েক বছর এরা শেয়ারবাজার থেকে বিপুল মুনাফা করেছে। এই অবস্থান নৈতিকভাবে কতটুকু সমর্থনযোগ্য তা তাদের ভেবে দেখা উচিত। অভিযোগ আছে, বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের অবস্থান থেকে সরানোর লক্ষ্যেও কোন কোন ব্যাংক নানাভাবে দর পতনে ইন্ধন যুগিয়েছে। এই আচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বিনিয়োগকারীদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের কোন চেষ্টা করে থাকলে নি:সন্দেহে তারা মারাত্মক অপরাধ করেছেন। বিনিয়োগকারী এবং বাজারে পর্যাপ্ত সমর্থন যুগিয়ে এই পাপের প্রায়শ্চিত্ব করা উচিত।
ট্রিগার সেল থেকে বিরত থাকতে হবে : তীব্র দর পতনে অনেক বিনিয়োগকারীর ইক্যুটি অনেক কমে যাওয়ায় এদের অনেকেই ট্রিগার সেলের (মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজের ঋণ সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়াই তার শেয়ার বিক্রি) ঝুঁকিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রিগার সেল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরত থাকা প্রয়োজন। কারণ ট্রিগার সেল বাজারে বিক্রির চাপ বাড়াবে, যাতে আরও দর পতন হবে। আবার দর পতন হলে নতুন করে অনেক বিনিয়োগকারী ট্রিগার সেলের মুখে পড়বেন। চক্রাকারে এটি চলতে থাকলে বাজার কোনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভাবতে হবে, বাজারের এই অবস্থায় সাময়িক। বাজার আবার স্বাভাবিক হবে। গ্রাহকদেরকে ততটুকু সময় দেয়া গেলে এরা বিশাল লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন।
ট্রিগার সেলে না গেলে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজগুলোর কিছুটা আর্থিক তির ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সম্ভাব্য এই ক্ষতির ঝুঁকি মেনে নেয়া উচিত। এসব সাধারণ বিনিয়োগকারীকে ঋণ দিয়ে গত বছরগুলোতে সুদ ও কমিশন বাবদ তারা শত শত কোটি টাকা আয় করেছেন। এই আয়ের একটা অংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বাবদ ব্যয় তারা করতেই পারে। তাছাড়া এখন একটু সমর্থন না পাবার কারণে বিনিয়োগকারীরা যদি নি:স্ব হয়ে পড়েন তাহলে আগামী দিনে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করার সুযোগও পাবেন না।
মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বিনিয়োগ বাড়াতে হবে : বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোও দায়িত্বশীল আচরণ করেনি। মিউচুয়াল ফান্ডের কাজ উর্ধমুখী বাজারে শেয়ার বিক্রি এবং নিম্নগামী সময়ে শেয়ার কিনে ভারসাম্য বজায় রাখা। কিন্তু ফান্ডগুলো করছে না। ফান্ডগুলোর সক্রিয়তা বাড়াতে সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেশ কিছু প্রণোদনাও দিয়েছে। কিন্তু তার পরও এরা বাজারে বিনিয়োগ না করে তহবিলের বড় অংশ ব্যাংকে এফডিআর করে রেখেছে বলে জানা যায়। এদের দায়িত্বশীলতা না বাড়লে আগামী দিনে নতুন মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দেয়া ঠিক হবে কি-না তাও ভেবে দেখতে হবে।
শেয়ার কিনতে পারে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো : সাধারণ বীমা ও জীবন বীমাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক ব্যাংকের কাছে বিপুল উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এর একটা অংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নির্দেশ দিতে পারে সরকার। এর জন্য কোন ভর্তুকী দিতে হবে না। বরং বাজার স্বাভাবিক হলে ওই শেয়ার থেকে তারা ভাল মুনাফা পাবে।
দায়িত্বহীন বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে : টানা দর পতনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা যখন নড়বড়ে তখন কয়েকজন নীতিনির্ধারকের অবিবেচনা প্রসূত বক্তব্য অবস্থাকে আরও নাজুক করেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের একটি বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত ও ুব্ধ করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, শেয়ারবাজার অর্থনীতিতে কোন অবদান রাখে না। এই বাজারে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রতি তার কোন সহানুভ’তি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর আগের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও দুয়েকটি বেফাঁস মন্তব্য করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। এই ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
তবে শুক্রবার অর্থমন্ত্রী বাজারের এই সংকটের জন্য এসইসি ও তার কিছু ভুল আছে বলে যে মন্তব্য করেছেন তাকে সবাই সাধুবাদ জানিয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীরা কিছু আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।
ভাল লভ্যাংশ দিতে পারে কোম্পানিগুলো : বাজারের এই পরিস্থিতিতে তালিকাভ’ক্ত কোম্পানিগুলোরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। যেসব কোম্পানির হিসাব বছর শেষ তারা একটু আগে আগে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে। ভাল লভ্যাংশের ঘোষণা আসতে থাকলে তাও বিনিয়োগকারীদেরকে কিছুটা উজ্জীবিত করবে।
প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ : বাজার পরিস্থিতি অনেক বেশি নাজুক হয়ে পড়ায় একক কোন উদোগের মাধ্যমে একে স্বাভাবিক করা দুরুহ হয়ে পড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাই এক সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
জিয়াউর রহমান, সাংবাদিক |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/22/2011 4:21 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে এখন কেবলই সাধারণ.....
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
22 January,2011
ঢাকা: শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ নিয়ে খেলা শেষ। এখন অফুরন্ত সময়। সাধারণরা তাদের অনুভুতি জানাবেন। সব সঞ্চয়, সময় ও পরিশ্রম দিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সাধারণদের একজন হয়ে একটু শেয়ার করি? তারপর আপনারটাও শুনবো।
অসাধারণ বিনিয়োগকারী তারাই, যাদের লস হয় না। সাধারণদের হয়। অসাধারণরা থাকেন নিরাপদে, নীরবে ও তফাতে। অসাধারণদের কথায় পরে আসি।
আমি ক্ষুদ্র না সাধারণ বিনিয়োগকারী--কোন ক্যাটাগরিতে পড়ি জানি না। তবে বিনিয়োগ হারিয়ে এখন আমি খুব ুদ্র, অতি সাধারণ।
মনে হচ্ছিল মার্কেট চড়া। এখন থেকে ৮/৯ মাস আগের কথা বলছি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক তখন সাড়ে পাঁচ হাজারের কোঠায়। চড়া মার্কেটে ইনভেস্ট করা ঠিক না, তাই ইচ্ছা দমালাম। তবে মার্কেটের গতিপ্রকৃতি লক্ষ রাখলাম। আর দেখলাম আশপাশে সবাই বেশ ব্যস্ত বিনিয়োগ আর লাভ গণনায়।
সাত-পাঁচ ভাবলাম। হয়তো দেশ উন্নতির দিকে। বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর গ্রোথ ও প্রফিট ভালো.. তাই বুঝি মার্কেটও গতি পেয়েছে...। আসলে লোভ উঁকি দিল। সিদ্ধান্ত বিবেচনার মাত্রা ছাড়ালো।
নভেম্বরের শেষের দিকে সূচক যখন সাড়ে ৮ হাজারে, আর বসে থাকতে পারলাম না। ট্রেন যেন আর মিস না হয়, ভেবেই উঠে পড়লাম লাখ পাঁচেক নিয়ে, যার সিক্সটি পার্সেন্ট সেলারির এগেইনস্টে লোন। আসলে ট্রেনটা ছিলো শেষ ট্রেন।
বিশ্লেষকরা বলেন, দাম পড়ে গেলেও লসে শেয়ার বিক্রি করবেন না। প্যানিকড হবেন না। হলামও না। লস টুয়েন্টি পার্সেন্ট থেকে ফিটটি পার্সেন্টে নামলো। আমার এখন প্যানিকড হওয়ার ক্ষমতাও নেই। ধস উপভোগ করছি।
অসাধারণদের প্রসঙ্গে আসি, যারা মার্কেট রেগুলেট, মেনিপুলেট করেন। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি বা সরকারের কোনো পদক্ষেপে কিছু হয় না। দাম বাড়া বা কমার অস্বাভাবিকতাকে উনারা সামাল দিতে পারেন না। যদি না তারাই মার্কেট ওঠানো বা নামানোর সঙ্গে জড়িত থাকেন তো রেগুলেটর কে? যদি অস্বাভাবিকতা রোধ না করা যায় তবে রেগুলেটর কেন? কাদের জন্য রেগুলেটর বা সরকার? অসাধারণদের জন্য কিনা আমি জানি না।
বাজার থেকে গত এক মাসে ৮৫ হাজার কোটি টাকা নাই হয়ে যাওয়ার পেছনে যারা প্ররিশ্রম করেছেন, তাদের কথা কারো না ভাবলেও চলবে। বরং ভাবা যাক সাধারণদের কথা যারা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন চেষ্টা চলছে তাদের আবারও কিভাবে আকৃষ্ট করা যায়। কিভাবে ক্ষতবিক্ষত শেয়ার বাজারকে আলগা প্রলেপ দিয়ে সাধারণদের জন্য টোপ বানানো যায়। আকাশপাতাল সিদ্ধান্ত এখন আসবে আমাদের স্বার্থ রক্ষায় !
বড়শির মাছ একবার ছুটে গেলে পরের মাছটি টোপ গিলতে একটু সময় নেয়। সময়টি তেমনই। নতুন বিনিয়োগ নিয়ে সাধারণরা এখন মাথা ঘামাচ্ছেন না। পুরান নিয়ে ব্যস্ত। অথচ সময়টি নতুন বিনিয়োগের।
আমি নিজেকেই দুষি। মাথাকে প্রাধান্য না দিয়ে মনকে দিয়েছি। ভুল সময়ে বিনিয়োগ করেছি।
যখন হিসেব কষলেই বোঝা যায় কোনো একটি কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত কিনা, তার পরও কেনো আমি চড়া মূল্যে শেয়ার কিনলাম। আমি তো একা নই, আমার মত তথাকথিত অসংখ্য সাধারণ বিনিয়োগকারী।
কিছু পাথর-অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি, যেমন করেছিলাম ’৯৬ এ। পুরো সর্বস্বান্ত এখনো হইনি, কিছু পুঁজি এখনো অবশিষ্ট আছে। তবে সূচক ধসের যে গতি, তাতে আর যা-ই পাই, ভরসা পাই না।
বর্তমান বাজার এখন যে অবস্থায়, সার্বিক বিবেচনায় আমার মতো বিনিয়োগকারীর তো এখনই ইনভেস্ট করার সময়। কিন্তু পারছি না কেন? কারণ আমাদের মূলধন আগেই শেষ। সূযোগ ও সময় চলে যাচ্ছে, তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই।
দাম বাড়ার সুযোগ যেসব অসাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিয়েছেন, সে ভাইয়েরাই এখন আবার পড়ন্ত মার্কেট থেকে অবমূল্যায়িত শেয়ার কেনার সূযোগ নেবেন বা নিচ্ছেন।
আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শুধু দাম-বেড়ে-যাওয়া মার্কেটে পূঁজি খাটাই অনেক বুদ্ধি পরামর্শ করে। চাই যে, আমরা কেনার পর মার্কেট কেবলই বাড়বে, চাই শুধুই লাভ আর লাভ।
বাজার একসময় পড়বে আমরাও জানি। কিন্তু তা যেন হয় আমাদের লাভ তুলে আনার পর... ভাবনারা এমনই সাজে। আমরা কোনো কোনো সময়ে লাভ করি সত্য, কিন্তু শেষবার পারি না। শেষবার আমাদের সব যায় ..আগের সবসহ।
জীবনের সব সঞ্চয় এক করে, কেউ কেউ আবার লোন নিয়ে আগুন-লাগা শেয়ার বাজারে ঝাঁপ দেই প্রতিবার... যেন এক অজানা আনন্দে উপায়হীন আত্মহনন। আমাদের শিক্ষা হবে না।
মোজাম্মেল হোসেন,
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/22/2011 4:24 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | অতিথি কলাম
পুঁজিবাজার: কেনো এমন হলো, দায় কার?
রাজু আহমেদ, সাংবাদিক
Banglanews24.com
22 Jan,2011
পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক হলেও গত দেড় মাস ধরে দেশের শেয়ারবাজারের সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ শুধু অস্বাভাবিকই নয়, যে কোনো বিচারেই তা নজিরবিহীন ও অনভিপ্রেত। একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে বাজারে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর মধ্যে এখন শেষ আশাটুকুও বিলীন হতে বসেছে। এখনই সরকারের দিক থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই বিনিয়োগকারীদের পথে বসার জোগাড় হবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শুধু পুঁজিবাজারের এই বিপর্যয়ই বর্তমান সরকারের সব অর্জনকে ম্লান করে দিতে যথেষ্ট।
কথা উঠেছে যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর পার হলেও শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালের কেলেঙ্কারির বিষয়টি ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে। বাজারে আবারো সেই ’৯৬-এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন বার বার সামনে চলে আসছে। অনেকে বলছেন, বাজারের শক্তি-সামর্থ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি-বিধান কার্যকর থাকায় শেয়ারবাজার আর ওই মাত্রার কেলেঙ্কারির সুযোগ নেই। আবার আরেক দল বলছেন, বাজারকে ফুলিয়ে-ফাপিয়ে শেয়ারের দর বাড়িয়ে যে মুনাফা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা ‘৯৬-এর চেয়েও অনেক বেশি।
প্রকৃতপক্ষেই ’৯৬-এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিনা- তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদন্ত হয়তো বা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত পুঁজিবাজারে যা কিছু ঘটলো- তা মোটেই শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা নয়। ফলে কী কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
১৯৯৬ সালের বড় ধসের পর শেয়ারবাজার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ব্যাপক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। ওই সময়ে পুঁজি হারানো হাজার হাজার মানুষের মধ্যে শেয়ারবাজার ছিল বড় আতঙ্কের নাম।
’৯৬-এ পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা তো বটেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের চিন্তা আসেনি। ফলে হাতেগোণা কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে শেয়ারবাজারের লেনদেন। ২০০৪ সালের পর থেকে বাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে থাকে। মূলত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার অবাধ সুযোগ দেওয়ার কারণেই সেই সময় বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসে পুঁজিবাজার আরো চাঙ্গা হতে শুরু করে। মূলত ওই সরকারের নানামুখী অভিযানের কারণে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকোচিত হয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকে লাভজনক মনে করতে শুরু করেন। তাছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কালো টাকার প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর শেয়ারবাজারে লেনদেন ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। বিপুল পরিমান নতুন বিনিয়োগ যুক্ত হওয়ায় বেড়ে যায় অধিকাংশ শেয়ারের দর।
প্রথমেই দেখতে হবে কী কারণে গত দু’ বছরে দেশের পুঁজিবাজার এতোটা চাঙ্গা হয়ে উঠলো। জাতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সরকার পুঁজিবাজারকে কোন অবস্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা শোনা যায়নি। কিন্তু সরকারের আর্থিক নীতি যেভাবে সাজানো হয়েছে তাতে পুঁজিবাজারের উত্থান ছিল অবধারিত। জমে উঠা পুঁজি স্থানান্তর করে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি না করেই পুঁজিবাজারকে নানাভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফাকে করমুক্ত রাখা হয়েছে। কালো টাকার শর্তহীন বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে। এসব কিছুই সাধারণ মানুষকে লাভজনক বিনিয়োগের একমাত্র ক্ষেত্রে হিসেবে পুঁজিবাজারের দিকে তাকানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তারাও ঝুঁকেছেন পুঁজিবাজারের দিকে। একই কারণে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে।
এভাবে গত দেড় বছরে সব দিক থেকে স্রোতের মতো টাকা ঢুকলেও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন শেয়ারের যোগান বাড়াতে না পারার কারণেই পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। অধিকাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দর কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এরপরও নানা ধরনের গুজব ও প্রলোভনের কারণে শেয়ার ধরে রাখেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েও বাজারের রাশ টানতে ব্যর্থ হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারে জমে উঠা পুঁজি উৎপাদনমুখী খাতে স্থানান্তর করে শেয়ারের যোগান বাড়ানো ছিল সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু চাহিদা ও যোগানের অসামঞ্জস্যতা কমাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে না পারায় এক সময় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে পুঁজিবাজার।
২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারের ঊর্ধ্বগতি যখন অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠছিল, তখন থেকেই নানাভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে এসইসি। বেশ কয়েক দফা মার্জিন ঋণ কমিয়ে, আর্থিক সমন্বয় সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করে, অনেক কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত ও লেনদেন স্থগিত করে বাজারের রাশ টেনে ধরার চেষ্টা করেছে এসইসি। কিন্তু নানামুখী চাপ এবং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আপত্তির কারণে অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এক্ষেত্রে সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্টক এক্সচেঞ্জের কিছু সদস্য এবং ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার লোভে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক ফুলিয়ে-ফাপিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন মহলের মুনাফালোভী তৎপরতায় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধানে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় আড়াই হাজার পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে উঠে যায়। ডিসেম্বরে মূল্য সংশোধনের পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যায় এসব প্রতিষ্ঠান। এর ফলে ডিসেম্বরে কয়েক দফা রেকর্ড দরপতনের পর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে বড় বিপর্যয় নেমে আসে।
শেয়ারবাজার যখন অস্বাভাবিক অবস্থানের দিকে ধাবিত হয় তখন এসইসিসহ বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। বাজারের লাগাম টেনে ধরতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিএসই সাধারণ সূচক ৫ হাজার অতিক্রম করার পর থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মুলধনী মুনাফার উপর আয়কর আরোপের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ডিএসই’র একজন সাবেক সভাপতির তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ওই সাবেক সভাপতিসহ কয়েক জন ব্যক্তি বার বার সরকারকে ভুল বুঝিয়ে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী এসইসির পক্ষ থেকে সকল শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা করার ঘোষণা দেয়া হলেও এদের তৎপরতার কারণে শেষ পর্যন্ত অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার এখতিয়ার কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এসব কারণে একদিকে এসইসির কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বাজারকে টেনে উঠানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করলেও বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তিরা তেমন কোনও ভূমিকাই নেননি।
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের পুঁজিবাজারে চরম মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে গত এক বছরে বেশ কয়েক বার লেনদেন কমলেও তা ছিল একেবারেই সাময়িক। দু’-চারদিনের জন্য মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়নি। কিন্তু ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে লেনদেনে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
অধিকাংশ শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনও কোনও মহল বিপুল পরিমান টাকা সরিয়ে নিয়েছেন বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।
তবে এ ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টির পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সাধারণভাবে প্রতি বছরই ডিসেম্বর মাসে এসে পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধনের প্রবণতা তৈরি হয়। এর মূল কারণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বার্ষিক হিসাব সমাপণী। বার্ষিক হিসাব চূড়ান্ত করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব পোর্টফলিওর শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। জানুয়ারিতে তারা আবার বিনিয়োগ শুরু করলে বাজার ঊর্ধমুখী হয়ে উঠে।
কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু নির্দেশনার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তার মোট দায়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় গত দু’ বছরে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকেছে। ২০০৯ সালে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করায় ব্যাংকগুলো ২০১০ সালে এসে এখানে বিনিয়োগের হার অনেক বাড়িয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে গত ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের পরিমান আইনি সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হয়েছে। এ কারণে এবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রির প্রবণতা অন্যান্য বছরের তুলনায় ছিল বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআর ০.৫ শতাংশ হার বাড়িয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়েছে।
অন্যান্য বছর হিসাব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সরিয়ে নেয়া টাকার বড় অংশ পুঁজিবাজারে ফিরলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি নির্দেশনার কারণে শেয়ারবাজার থেকে তুলে নেয়া টাকা এখানে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাস্টার সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে তাদের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে একক গ্রাহক ঋণসীমা মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়। একক গ্রাহক সীমা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তার মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দু’-তিন বছরে শেয়ারবাজার উর্ধ্বমুখী করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা ছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। এ সময় এসব প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজার থেকে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করেছে। গত বছরে ব্যাংকগুলো মুনাফার সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। তার পেছনেও রয়েছে শেয়ারবাজার। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নতুন নির্দেশনা ও পদক্ষেপের কারণে ওই টাকা আর বাজারে আনতে পারছে না। তারা যে টাকা লাভ করেছে সাবসিডিয়ারী হওয়ায় তার সিংহভাগ রেখে আসতে হয়েছে মূল কোম্পানিতে। শেয়ারবাজারের সেই টাকা বাজারে ফেরাতে পারলে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।
শোনা যাচ্ছে, মন্দা পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে পুঁজিবাজারে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। বাজারে পরিকল্পিত ধস নামিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষুব্ধ করে তোলার জন্য নানামুখী তৎপরতা চলছে। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ওই রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি শেয়ারবাজারে ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করে। গত সেপ্টেম্বরে ডিএসই সাধারণ সূচক সাড়ে ৬ হাজারের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ওই গোষ্ঠীটি কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ওই অর্থ বিনিয়োগ শুরু করে। এর আগে এসব প্রতিষ্ঠানে নামে-বেনামে বিপুলসংখ্যক বিও হিসাব খোলা হয়। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। এসব হিসাব থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিদিনই তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ানো হয়। এর প্রভাবে তিন মাসের ব্যবধানে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় আড়াই হাজার পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে উঠে যায়। পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে রাজনৈতিক চক্রটি একযোগে শেয়ার বিক্রি শুরু করে। এর ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
বাজারে অস্থিরতার পেছনে বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসেরও ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিক দরপতনের সময় ৫-৬টি বড় মার্চেন্ট ব্যাংক শেয়ার কেনা থেকে বিরত ছিল। এরমধ্যে যে ক’দিন রেকর্ড দরপতন হয়েছেÑ বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলেও নিজেদের পোর্টফোলিও তো বটেই এসব হাউসে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী শেয়ার কেনাও বন্ধ রাখা হয়। অনেক গ্রাহক শেয়ার কিনতে আগ্রহী হলেও তাদেরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে নিবৃত করা হয়। গত এক মাসের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দরপতনের সময় পুঁজিবাজারের লেনদেনে শীর্ষ অবস্থানে থাকা একাধিক ব্রোকারেজ হাউস শেয়ার কেনা বন্ধ রাখায় বাজারে বিক্রির চাপ বাড়লেও এর বিপরীতে ক্রয়াদেশ ছিল একেবারেই কম। মূলত এ কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সূচকে বড় রকমের ধস নামে। আবার শেয়ারের দর ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পোর্টফোলিও এবং নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের হিসাবে বিপুলসংখ্যক শেয়ার কিনেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বাজার দরের চেয়েও কম মূল্যে শেয়ার বিক্রির দায়ে ৬টি ব্রোকারেজ হাউসের কার্যক্রম একমাসের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে এসইসি।
সব মিলিয়ে একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পক্ষ থেকে গত এক মাসে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও ইতিবাচক কোন ফল না আসায় বিনিয়োগকারীদের বাজারের উপর আস্থা হারাতে বসেছেন। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলে এখনও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ সময় ১৪৩৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২২, ২০১১ |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/22/2011 4:24 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | অতিথি কলাম
পুঁজিবাজার: কেনো এমন হলো, দায় কার?
রাজু আহমেদ, সাংবাদিক
Banglanews24.com
22 Jan,2011
পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক হলেও গত দেড় মাস ধরে দেশের শেয়ারবাজারের সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ শুধু অস্বাভাবিকই নয়, যে কোনো বিচারেই তা নজিরবিহীন ও অনভিপ্রেত। একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে বাজারে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর মধ্যে এখন শেষ আশাটুকুও বিলীন হতে বসেছে। এখনই সরকারের দিক থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই বিনিয়োগকারীদের পথে বসার জোগাড় হবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শুধু পুঁজিবাজারের এই বিপর্যয়ই বর্তমান সরকারের সব অর্জনকে ম্লান করে দিতে যথেষ্ট।
কথা উঠেছে যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর পার হলেও শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালের কেলেঙ্কারির বিষয়টি ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে। বাজারে আবারো সেই ’৯৬-এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন বার বার সামনে চলে আসছে। অনেকে বলছেন, বাজারের শক্তি-সামর্থ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি-বিধান কার্যকর থাকায় শেয়ারবাজার আর ওই মাত্রার কেলেঙ্কারির সুযোগ নেই। আবার আরেক দল বলছেন, বাজারকে ফুলিয়ে-ফাপিয়ে শেয়ারের দর বাড়িয়ে যে মুনাফা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা ‘৯৬-এর চেয়েও অনেক বেশি।
প্রকৃতপক্ষেই ’৯৬-এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিনা- তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদন্ত হয়তো বা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত পুঁজিবাজারে যা কিছু ঘটলো- তা মোটেই শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা নয়। ফলে কী কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
১৯৯৬ সালের বড় ধসের পর শেয়ারবাজার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ব্যাপক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। ওই সময়ে পুঁজি হারানো হাজার হাজার মানুষের মধ্যে শেয়ারবাজার ছিল বড় আতঙ্কের নাম।
’৯৬-এ পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা তো বটেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের চিন্তা আসেনি। ফলে হাতেগোণা কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে শেয়ারবাজারের লেনদেন। ২০০৪ সালের পর থেকে বাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে থাকে। মূলত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার অবাধ সুযোগ দেওয়ার কারণেই সেই সময় বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসে পুঁজিবাজার আরো চাঙ্গা হতে শুরু করে। মূলত ওই সরকারের নানামুখী অভিযানের কারণে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকোচিত হয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকে লাভজনক মনে করতে শুরু করেন। তাছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কালো টাকার প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর শেয়ারবাজারে লেনদেন ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। বিপুল পরিমান নতুন বিনিয়োগ যুক্ত হওয়ায় বেড়ে যায় অধিকাংশ শেয়ারের দর।
প্রথমেই দেখতে হবে কী কারণে গত দু’ বছরে দেশের পুঁজিবাজার এতোটা চাঙ্গা হয়ে উঠলো। জাতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সরকার পুঁজিবাজারকে কোন অবস্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা শোনা যায়নি। কিন্তু সরকারের আর্থিক নীতি যেভাবে সাজানো হয়েছে তাতে পুঁজিবাজারের উত্থান ছিল অবধারিত। জমে উঠা পুঁজি স্থানান্তর করে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি না করেই পুঁজিবাজারকে নানাভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফাকে করমুক্ত রাখা হয়েছে। কালো টাকার শর্তহীন বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে। এসব কিছুই সাধারণ মানুষকে লাভজনক বিনিয়োগের একমাত্র ক্ষেত্রে হিসেবে পুঁজিবাজারের দিকে তাকানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তারাও ঝুঁকেছেন পুঁজিবাজারের দিকে। একই কারণে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে।
এভাবে গত দেড় বছরে সব দিক থেকে স্রোতের মতো টাকা ঢুকলেও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন শেয়ারের যোগান বাড়াতে না পারার কারণেই পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। অধিকাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দর কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এরপরও নানা ধরনের গুজব ও প্রলোভনের কারণে শেয়ার ধরে রাখেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েও বাজারের রাশ টানতে ব্যর্থ হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারে জমে উঠা পুঁজি উৎপাদনমুখী খাতে স্থানান্তর করে শেয়ারের যোগান বাড়ানো ছিল সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু চাহিদা ও যোগানের অসামঞ্জস্যতা কমাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে না পারায় এক সময় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে পুঁজিবাজার।
২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারের ঊর্ধ্বগতি যখন অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠছিল, তখন থেকেই নানাভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে এসইসি। বেশ কয়েক দফা মার্জিন ঋণ কমিয়ে, আর্থিক সমন্বয় সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করে, অনেক কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত ও লেনদেন স্থগিত করে বাজারের রাশ টেনে ধরার চেষ্টা করেছে এসইসি। কিন্তু নানামুখী চাপ এবং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আপত্তির কারণে অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এক্ষেত্রে সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্টক এক্সচেঞ্জের কিছু সদস্য এবং ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার লোভে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক ফুলিয়ে-ফাপিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন মহলের মুনাফালোভী তৎপরতায় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধানে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় আড়াই হাজার পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে উঠে যায়। ডিসেম্বরে মূল্য সংশোধনের পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যায় এসব প্রতিষ্ঠান। এর ফলে ডিসেম্বরে কয়েক দফা রেকর্ড দরপতনের পর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে বড় বিপর্যয় নেমে আসে।
শেয়ারবাজার যখন অস্বাভাবিক অবস্থানের দিকে ধাবিত হয় তখন এসইসিসহ বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। বাজারের লাগাম টেনে ধরতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিএসই সাধারণ সূচক ৫ হাজার অতিক্রম করার পর থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মুলধনী মুনাফার উপর আয়কর আরোপের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ডিএসই’র একজন সাবেক সভাপতির তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ওই সাবেক সভাপতিসহ কয়েক জন ব্যক্তি বার বার সরকারকে ভুল বুঝিয়ে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী এসইসির পক্ষ থেকে সকল শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা করার ঘোষণা দেয়া হলেও এদের তৎপরতার কারণে শেষ পর্যন্ত অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার এখতিয়ার কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এসব কারণে একদিকে এসইসির কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বাজারকে টেনে উঠানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করলেও বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তিরা তেমন কোনও ভূমিকাই নেননি।
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের পুঁজিবাজারে চরম মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে গত এক বছরে বেশ কয়েক বার লেনদেন কমলেও তা ছিল একেবারেই সাময়িক। দু’-চারদিনের জন্য মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়নি। কিন্তু ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে লেনদেনে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
অধিকাংশ শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনও কোনও মহল বিপুল পরিমান টাকা সরিয়ে নিয়েছেন বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।
তবে এ ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টির পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সাধারণভাবে প্রতি বছরই ডিসেম্বর মাসে এসে পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধনের প্রবণতা তৈরি হয়। এর মূল কারণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বার্ষিক হিসাব সমাপণী। বার্ষিক হিসাব চূড়ান্ত করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব পোর্টফলিওর শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। জানুয়ারিতে তারা আবার বিনিয়োগ শুরু করলে বাজার ঊর্ধমুখী হয়ে উঠে।
কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু নির্দেশনার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তার মোট দায়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় গত দু’ বছরে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকেছে। ২০০৯ সালে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করায় ব্যাংকগুলো ২০১০ সালে এসে এখানে বিনিয়োগের হার অনেক বাড়িয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে গত ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের পরিমান আইনি সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হয়েছে। এ কারণে এবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রির প্রবণতা অন্যান্য বছরের তুলনায় ছিল বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআর ০.৫ শতাংশ হার বাড়িয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়েছে।
অন্যান্য বছর হিসাব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সরিয়ে নেয়া টাকার বড় অংশ পুঁজিবাজারে ফিরলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি নির্দেশনার কারণে শেয়ারবাজার থেকে তুলে নেয়া টাকা এখানে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাস্টার সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে তাদের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে একক গ্রাহক ঋণসীমা মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়। একক গ্রাহক সীমা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তার মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দু’-তিন বছরে শেয়ারবাজার উর্ধ্বমুখী করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা ছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। এ সময় এসব প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজার থেকে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করেছে। গত বছরে ব্যাংকগুলো মুনাফার সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। তার পেছনেও রয়েছে শেয়ারবাজার। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নতুন নির্দেশনা ও পদক্ষেপের কারণে ওই টাকা আর বাজারে আনতে পারছে না। তারা যে টাকা লাভ করেছে সাবসিডিয়ারী হওয়ায় তার সিংহভাগ রেখে আসতে হয়েছে মূল কোম্পানিতে। শেয়ারবাজারের সেই টাকা বাজারে ফেরাতে পারলে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।
শোনা যাচ্ছে, মন্দা পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে পুঁজিবাজারে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। বাজারে পরিকল্পিত ধস নামিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষুব্ধ করে তোলার জন্য নানামুখী তৎপরতা চলছে। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ওই রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি শেয়ারবাজারে ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করে। গত সেপ্টেম্বরে ডিএসই সাধারণ সূচক সাড়ে ৬ হাজারের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ওই গোষ্ঠীটি কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ওই অর্থ বিনিয়োগ শুরু করে। এর আগে এসব প্রতিষ্ঠানে নামে-বেনামে বিপুলসংখ্যক বিও হিসাব খোলা হয়। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। এসব হিসাব থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিদিনই তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ানো হয়। এর প্রভাবে তিন মাসের ব্যবধানে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় আড়াই হাজার পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে উঠে যায়। পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে রাজনৈতিক চক্রটি একযোগে শেয়ার বিক্রি শুরু করে। এর ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
বাজারে অস্থিরতার পেছনে বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসেরও ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিক দরপতনের সময় ৫-৬টি বড় মার্চেন্ট ব্যাংক শেয়ার কেনা থেকে বিরত ছিল। এরমধ্যে যে ক’দিন রেকর্ড দরপতন হয়েছেÑ বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলেও নিজেদের পোর্টফোলিও তো বটেই এসব হাউসে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী শেয়ার কেনাও বন্ধ রাখা হয়। অনেক গ্রাহক শেয়ার কিনতে আগ্রহী হলেও তাদেরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে নিবৃত করা হয়। গত এক মাসের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দরপতনের সময় পুঁজিবাজারের লেনদেনে শীর্ষ অবস্থানে থাকা একাধিক ব্রোকারেজ হাউস শেয়ার কেনা বন্ধ রাখায় বাজারে বিক্রির চাপ বাড়লেও এর বিপরীতে ক্রয়াদেশ ছিল একেবারেই কম। মূলত এ কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সূচকে বড় রকমের ধস নামে। আবার শেয়ারের দর ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পোর্টফোলিও এবং নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের হিসাবে বিপুলসংখ্যক শেয়ার কিনেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বাজার দরের চেয়েও কম মূল্যে শেয়ার বিক্রির দায়ে ৬টি ব্রোকারেজ হাউসের কার্যক্রম একমাসের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে এসইসি।
সব মিলিয়ে একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পক্ষ থেকে গত এক মাসে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও ইতিবাচক কোন ফল না আসায় বিনিয়োগকারীদের বাজারের উপর আস্থা হারাতে বসেছেন। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলে এখনও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ সময় ১৪৩৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২২, ২০১১ |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/22/2011 9:26 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | অতিথি কলাম
শেয়ারবাজার কেন অতিমূল্যায়িত হলো?
জেবুন নেসা আলো, সাংবাদিক
Bdnews24.com
22 Jan, 2011
২০০৯ সাল থেকে দেশের পুঁজিবাজার দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে মাথায় রেখে সরকার মুনাফার টাকা শিল্পায়নের পরিবর্তে শেয়ারমার্কেটে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করে। এ লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো শেয়ার মার্কেটে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়। এরপর থেকে একের পর এক ইস্যু বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাজার অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ে। এ ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে- কালো টাকা সাদা করার সুযোগ, পুঁজিবাজারে মুনাফার টাকা করমুক্ত রাখা, সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমিয়ে দেওয়া, ফেসভ্যালু পরিবর্তন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি, ব্যাংকের সীমার বাইরে বিনিয়োগ, বিও এ্যাকাউন্ট বৃদ্ধি, চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যহীনতা।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ
২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজেটে প্রশ্নহীন ভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়। এ সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ২০১০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে যারা কালো টাকা বিনিয়োগ করবেন তাদের টাকার উৎস সরকার জানতে চাইবে না। এ সুযোগে বছরের প্রথম থেকেই শেয়ার বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। বছরের শেষ দিকে এসে কালো টাকা বৈধ করার হিড়িক পড়ে যায়। ফলে লেনদেনও হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করে। এভাবে ধীরে ধীরে শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। এতে শেয়ারের দরও অতিমূল্যায়িত হতে থাকে।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে সমালোচনার সবচেয়ে বড় জায়গাটি হচ্ছে করের হার। সাধারণ এবং সৎ করদাতা যারা নিয়মিত কর দেন তাদের কর নির্ধারণ করা হয় শতকরা ২৫ ভাগ। আর যাদের কাছে কালো টাকা আছে, ১০ ভাগ কর দিয়ে তাদের কালো টাকাকে সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়।
প্রথমদিকে শেয়ার বাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের প্রবণতা কম থাকলেও শেষ দিকে এসে বিপুল অংকের কালো টাকা বিনিয়োগ হয় শেয়ার বাজারে। যার প্রভাব লেনদেনের ওপর পড়তে দেখা যায়। পরে বিভিন্ন সমালোচনার মুখে ২০১০-১১ অর্থবছরে এ সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
পুঁজিবাজারে মুনাফার টাকা করমুক্ত রাখা
পুঁজিবাজারে মুনাফার টাকা করমুক্ত রাখা হয়েছে। এতে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ২০১০-১১ বাজেটে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ কর রাখা হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মুনাফার ওপর কর রাখার আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন মহলের চাপে তা করা হয়নি। ফলে অনেক বড় পুঁজির বিনিয়োগকারী কোটি কোটি টাকা অন্যান্য ব্যবসার খাত থেকে তুলে এনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে টাকার প্রবাহকে বাড়িয়ে দেয়।
সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে দেওয়া
২০১০ সালে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে দেয় সরকার। এতে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্র ভেঙ্গে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে শুরু করে। সাধারণত সরকারি চাকরিজীবিদের অধিকাংশই পেনশন ও অবসর ভাতার টাকা ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখতেন। কিন্তু হঠাৎ সরকারি ব্যাংকের সুদের হার কমিয়ে দেয়। ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ কমে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারমুখী হয়ে পড়ে। এটি মার্কেটে তারল্য প্রবাহে ব্যাপক ভুমিকা রাখে।
ফেসভ্যালু পরিবর্তন
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্তে এ বছরে সকল শেয়ারের মূল্য ১০ টাকা করার উদ্যোগ নেয় এসইসি। কিন্তু গত বছর ৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন না করার নির্দেশ দেয়া হয়। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরবর্তী ৪ মাসেও ওই নির্দেশনা কার্যকরের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হচ্ছে না বলে ধরে নেয়া হয়ে ছিলো। পরে গত ১ মার্চ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সব কোম্পানির শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং বিদ্যমান শেয়ারের ফেসভ্যালু অপরিবর্তিত থাকবে। এসইসির এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে ওইসময় যেসব কোম্পানি তাদের শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা নির্ধারণ করার ঘোষণা দিয়েছিলো তাদের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। পরে ফেসভ্যালু পরিবর্তনের জন্য এসইসির আবারও সুপারিশের প্রেক্ষিতে গত অর্থমন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ফেসভ্যালু পরিবর্তন বাধ্যতামূলক নয়। কোম্পানিগুলোর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে এ সিদ্ধান্ত। অর্থমন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের পর সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এসইসির এ সিদ্ধান্তের পর কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফেসভ্যালু পরিবর্তনের জোয়ার শুরু হয়। এতে বাজারও ব্যাপক প্রভাবিত হয়ে পড়ে। কোম্পানিগুলো নিজেদের সুবিধা মত সময়ে ফেসভ্যালু পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে শেয়ারের দর ব্যাপক বাড়িয়ে দেয়। যদিও ফেসভ্যালু পরিবর্তনে কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল কোনো পরিবর্তন আসছে না। কিন্তু মনস্তাত্বিক কারণে বিনিয়োগকারীরা ফেসভ্যালু পরিবর্তনের ঘোষণাকে ইস্যু করে ওই কোম্পানির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। ফলে এ ইস্যু শেয়ারবাজারের অধিকাংশ শেয়ারকে অতিমূল্যায়িত করে ফেলে।
বুকবিল্ডিং সিস্টেম
এসইসি গত বছর বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করে। আইপিওর ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যাধুনিক মূল্য নির্ধারক পদ্ধতি। বড় পুঁজির কোম্পানিগুলো বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তি হতে পারবে। এ পদ্ধতিতে কোম্পানির অবশ্যই ৩০ কোটি টাকা মূল্যমানের সম্পদ থাকতে হবে। ইস্যুয়ার/শেয়ার ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান যথাযথ ডিসকোজার, প্রেজেনটেশন, ডকুমেন্ট, সেমিনার, রোড শোর মাধ্যমে নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ারের নির্দেশিত মূল্য আহ্বান করবে। প্রথমবারের মতো বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আরএকে সিরামিকস তালিকাভুক্ত হওয়ার অনুমোদন পায়। কিন্তু এ পদ্ধতির মূল্য নির্ধারণে ত্রুটি থাকায় কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগেই অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া সব কোম্পানির শেয়ারই লেনদেন শুরুর আগেই অতিমূল্যায়িত হয়ে গেছে। অতিমূল্যায়নের অভিযোগে এসইসি বর্তমানে কোনো শেয়ারের বাজার মূল্য ও আয়ের অনুপাত ৪০-এর বেশি হলে মার্জিন ঋণ দেয়া বন্ধ রেখেছে। অথচ বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসা সব কোম্পানি পিই অনুপাত ৪০-এর ওপরে থেকেই লেনদেন শুরু করে। এ পদ্ধতিতে প্রথম মূল্য নির্ধারিত হয় ওশান কন্টেইনারের। ২০০৯ সালে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয় ১৪৫ টাকা। ফলে লেনদেন শুরুর আগেই প্রতিটি শেয়ারের দর এর প্রকৃত আয়ের তুলনায় ৬০ গুণ বেশি নির্ধারিত হয়। আরএকে সিরামিকের ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি প্রয়োগ করে কোম্পানিটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪৮ টাকা। শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর আগেই কোম্পানির পিই অনুপাত দাঁড়ায় ৪৪। খুলনা পাওয়ারের ইপিএস ছিল ২ টাকা ৭৯ পয়সা। এ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয় ১৯৪ টাকা। ফলে লেনদেনের শুরুতেই খুলনা পাওয়ারের শেয়ারের পিই দাঁড়ায় ৬৯। বর্তমানে বাজারে আসার প্রক্রিয়াধীন মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টসের সর্বশেষ বার্ষিক হিসাবে ইপিএস ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। এতে মবিল যমুনার পিই দাঁড়াচ্ছে ৬২। সর্বশেষ অনুমোদন পাওয়া ইউনিক হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের ইপিএস ৪ টাকা ৮০ পয়সা। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরা হয়েছে ১৮৫ টাকা। ফলে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের আগেই ইউনিকের পিই দাঁড়াচ্ছে ৩৮.৫০। মূলত অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নেয়ার উদ্দেশ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসতে এসব প্রতিষ্ঠান বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
ব্যাংকের সীমার বাইরে বিনিয়োগ
গত দুই বছরে বাজার সবচেয়ে বেশি সম্প্রসারিত হয়েছে। বাজারে তারল্য প্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রেখেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। গত বছরে ব্যাংকগুলো মুনাফার সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। এ মুনাফা বৃদ্ধির প্রধান কারণ শেয়ারবাজার। ব্যাংকগুলোর প্রধান ব্যবসা হলো ঋণ। এর বাইরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করে দেয়া আছে। কিন্তু এ বছর ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের খেলায় মেতে ওঠে। শেয়ারবাজারের সূচক ৮ হাজার পয়েন্টে উঠানোর মূল ভুমিকার ছিল ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ। এর ফলে এ খাত থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করতে পেরেছে। ব্যাংকগুলোর অর্জিত মুনাফার সিংহ ভাগ এসেছে শেয়ার বাজার থেকে।
বিও এ্যাকাউন্ট বৃদ্ধি
২০১০ সালে বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্টতা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ফলে উল্লেখযোগ্য হারে বিও একাউন্টের সংখ্যাও বেড়েছে। এক বছরের ব্যাবধানে বিও এ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে। এ বছর বিও এ্যাকউন্ট প্রায় ৩২ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীর স্রোত কমাতে ২০১০-’১১ অর্থবছরের বাজেটে বিও ফি বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৯-এর ১ জানুয়ারি দেশে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৮৪ হাজার। গত ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত যার পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ২০ হাজার ৩৯৮টি। আর এখন তা ৩২ লাখ ছুঁই ছুঁই করছে। এ বছরের ১১ মাসে ওপেন হয়েছে ২০ লাখ বিও। বিও এ্যাকাউন্ট বাড়ায় বিও ফি থেকে সরকারের উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ আয়ও হচ্ছে। এ বছরে শেয়ারবাজার সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় ব্রোকারেজ হাউজ খোলার ঘোষণা দেয় ডিএসই। ইতমধ্যে ২৮টি জেলায় ব্রোকারেজ হাউজের ব্রাঞ্চ খোলা হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্টতা বাড়ার সাথে সাথে টাকার প্রবাহও বেড়েছে।
চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যহীনতা
বাজারে চারদিক থেকে যে হারে টাকার প্রবাহ বেড়েছে সে হারে শেয়ার সরবরাহ বাড়েনি। চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যহীতার কারণে শেয়ারের দর অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়েছে। গত এক বছরে মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠান বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে গত ৩০ অক্টোবর নন ডিমেট ২৫ টি কোম্পানি তালিকাচ্যুত করা হয়। এতে কোম্পানির সংখ্যা আরও কমে যায়। বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে সরকার দফায় দফায় সরকারি কোম্পানির শেয়ার বাজারে আনার ঘোষণা দিলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাজারের ২৫ শতাংশেরও বেশি শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়েছে। ২০০৯ সালের শেষ দিন বাজারের আর্থিক লেনদেন ছিল ৯২০ কোটি ৭৩ লাখ ৬ হাজার টাকা। ওই দিন বাজার মূলধন ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার ৩২২ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজার ৫৩৫ পয়েন্ট এবং ডিএসআই ইনডেক্স ছিল ৩ হাজার ৭৪৭ পয়েন্ট। ২০১০ সালের শেষ দিন এসে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৮৩ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এদিন বাজার মূলধন হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ কোটি ৫৮ লাখ ৪ হাজার টাকা। ডিএসইর সাধারণ সূচক হয়েছে ৮ হাজার ২৯০ পয়েন্ট এবং ডিএসআই ইনডেক্স হয়েছে ৬ হাজার ৮৭৭ পয়েন্ট। ২০০৯ সালের সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ২০ অক্টোবর ১ হাজার ২৪৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ওই দিন বাজার মূলধন ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ৬২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ৩ হাজার ৩২৬ পয়েন্ট এবং ডিএসআই সূচক ছিল ২ হাজার ৭৮৭ পয়েন্ট। ২০১০ সালে এসে সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ৫ ডিসেম্বর। এদিন আর্থিক লেনদেন হয় ৩ হাজার ২৪৯ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং বাাজার মূলধন হয় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭১ কোটি ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এদিন ডিএসইর সাধারণ সূচক হয় ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্ট এবং ডিএসআই পয়েন্ট হয় ৭ হাজার ৩৮৩ পয়েন্ট।
অন্যদিকে বাজারে টাকার প্রবাহ কমে যাওয়ায় গত ২০ জানুয়ারি শেষ কার্য দিবসে সাধারণ সূচক ৬ হাজার ৩২৬ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সময় ১৬২১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২২, ২০১১ |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/23/2011 12:34 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | কেন এমন হলো, দায় কার?
পুঁজিবাজারে বিপর্যয়
রাজু আহমেদ ॥
The Daily Janakantha
24.01.2011
পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক হলেও গত দেড় মাস ধরে দেশের শেয়ারবাজারের সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ শুধু অস্বাভাবিকই নয়, যে কোন বিচারেই তা নজিরবিহীন ও অনভিপ্রেত। একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে বাজারে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর মধ্যে এখন শেষ আশাটুকুও বিলীন হতে বসেছে। এখনই সরকারের দিক থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ বিনিয়োগকারীদের পথে বসার যোগাড় হবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শুধু পুঁজিবাজারের এ বিপর্যয়ই বর্তমান সরকারের সব অর্জনকে মস্নস্নান করে দিতে যথেষ্ট।
কথা উঠেছে যে, আওয়ামী লীগ ৰমতায় এলেই পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর পার হলেও শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালের কেলেঙ্কারির বিষয়টি ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে। বাজারে আবারও সেই '৯৬-এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন বার বার সামনে চলে আসছে। অনেকে বলছেন, বাজারের শক্তি-সামর্থ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান কার্যকর থাকায় শেয়ারবাজারে আর ওই মাত্রার কেলেঙ্কারির সুযোগ নেই। আবার আরেক দল বলছে, বাজারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে শেয়ারের দর বাড়িয়ে যে মুনাফা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে, তা '৯৬-এর চেয়েও অনেক বেশি।
প্রকৃতপক্ষেই '৯৬-এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিনা_ তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদন্ত হয়ত-বা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত পুঁজিবাজারে কিছু ঘটল_ তা মোটেই শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা নয়। ফলে কী কারণে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো তা খতিয়ে দেখা জরুরী।
১৯৯৬ সালের বড় ধসের পর শেয়ারবাজার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ব্যাপক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। ওই সময়ে পুঁজি হারানো হাজার হাজার মানুষের মধ্যে শেয়ারবাজার ছিল বড় আতঙ্কের নাম। '৯৬-এ পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা তো বটেই, সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের চিন্তা আসেনি। ফলে হাতেগোনা কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে শেয়ারবাজারের লেনদেন। ২০০৪ সালের পর থেকে বাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে থাকে। মূলত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার অবাধ সুযোগ দেয়ার কারণেই সেই সময় বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসে পুঁজিবাজার আরও চাঙ্গা হতে শুরম্ন করে। মূলত ওই সরকারের নানামুখী অভিযানের কারণে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকে লাভজনক মনে করতে শুরম্ন করেন। তাছাড়া দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে অভিযান চালালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কালো টাকার প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর বর্তমান মহাজোট সরকার ৰমতা গ্রহণের পর শেয়ারবাজারে লেনদেন ব্যাপকহারে বাড়তে থাকে। বিপুল পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ যুক্ত হওয়ায় বেড়ে যায় অধিকাংশ শেয়ারের দর।
প্রথমেই দেখতে হবে কী কারণে গত দু'বছরে দেশের পুঁজিবাজার এতটা চাঙ্গা হয়ে উঠল। জাতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক প্রেৰাপটে সরকার পুঁজিবাজারকে কোন্ অবস্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তার কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা শোনা যায়নি। কিন্তু সরকারের আর্থিক নীতি যেভাবে সাজানো হয়েছে তাতে পুঁজিবাজারের উত্থান ছিল অবধারিত। জমে ওঠা পুঁজি স্থানানত্মর করে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি না করেই পুঁজিবাজারকে নানাভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফাকে করমুক্ত রাখা হয়েছে। কালো টাকার শর্তহীন বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে। এসব কিছুই সাধারণ মানুষকে লাভজনক বিনিয়োগের একমাত্র ৰেত্র হিসেবে পুঁজিবাজারের দিকে তাকানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। গ্যাস-বিদু্যত সঙ্কটের কারণে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় শিল্পোদ্যোক্তারাও ঝুঁকেছেন পুঁজিবাজারের দিকে। একই কারণে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে।
এভাবে গত দেড় বছরে সব দিক থেকে স্রোতের মতো টাকা ঢুকলেও এর সঙ্গে পালস্না দিয়ে নতুন শেয়ারের যোগান বাড়াতে না পারার কারণেই পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক উর্ধমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। অধিকাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দর কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পেঁৗছে যায়। এরপরও নানা ধরনের গুজব ও প্রলোভনের কারণে শেয়ার ধরে রাখেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। একের পর এক পদৰেপ নিয়েও বাজারের রাশ টানতে ব্যর্থ হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারে জমে ওঠা পুঁজি উৎপাদনমুখী খাতে স্থানানত্মর করে শেয়ারের যোগান বাড়ানো ছিল সবচেয়ে জরম্নরী। কিন্তু চাহিদা ও যোগানের অসামঞ্জস্যতা কমাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে না পারায় এক সময় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে পুঁজিবাজার।
২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারের উর্ধগতি যখন অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠছিল, তখন থেকেই নানাভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে এসইসি। বেশ কয়েক দফা মার্জিন ঋণ কমিয়ে, আর্থিক সমন্বয় সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করে, অনেক কোম্পানিকে তালিকাচু্যত ও লেনদেন স্থগিত করে বাজারের রাশ টেনে ধরার চেষ্টা করেছে এসইসি। কিন্তু নানামুখী চাপ এবং স্টক এঙ্চেঞ্জের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আপত্তির কারণে অনেক সিদ্ধানত্মই বাসত্মবায়ন করতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এৰেত্রে সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্টক এঙ্চেঞ্জের কিছু সদস্য এবং ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার লোভে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক ফুলিয়েফাঁপিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন মহলের মুনাফালোভী তৎপরতায় সেপ্টেম্বর থেকে নবেম্বরের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধানে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় আড়াই হাজার পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে উঠে যায়। ডিসেম্বরে মূল্য সংশোধনের পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যায় এসব প্রতিষ্ঠান। এর ফলে ডিসেম্বরে কয়েক দফা রেকর্ড দরপতনের পর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে বড় বিপর্যয় নেমে আসে।
শেয়ারবাজার যখন অস্বাভাবিক অবস্থানের দিকে ধাবিত হয় তখন এসইসিসহ বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। বাজারের লাগাম টেনে ধরতে বিভিন্ন পদৰেপ গ্রহণেরও প্রসত্মাব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিএসই সাধারণ সূচক ৫ হাজার অতিক্রম করার পর থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়। এর প্রেৰিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মূলধনী মুনাফার ওপর আয়কর আরোপের বিষয়টি প্রায় চূড়ানত্ম করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ডিএসইর একজন সাবেক সভাপতির তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে ওই সিদ্ধানত্ম বাতিল করা হয়। ওই সাবেক সভাপতিসহ কয়েক ব্যক্তি বার বার সরকারকে ভুল বুঝিয়ে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ৰেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী এসইসির পৰ থেকে সকল শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা করার ঘোষণা দেয়া হলেও এদের তৎপরতার কারণে শেষ পর্যনত্ম অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার এখতিয়ার কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এসব কারণে একদিকে এসইসির কর্মকা- প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বাজারকে টেনে উঠানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করলেও বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তিরা তেমন কোন ভূমিকাই নেননি।
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের পুঁজিবাজারে চরম মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে গত এক বছরে বেশ কয়েক বার লেনদেন কমলেও তা ছিল একেবারেই সাময়িক। দু'চারদিনের জন্য মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যনত্ম তা স্থায়ী হয়নি। কিন্তু ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে লেনদেনে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোন কোন মহল বিপুল পরিমাণ টাকা সরিয়ে নিয়েছেন বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।
তবে এ ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বাজারসংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে তারল্য সঙ্কট সৃষ্টির পেছনে বেশকিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সাধারণভাবে প্রতিবছরই ডিসেম্বর মাসে এসে পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধনের প্রবণতা তৈরি হয়। এর মূল কারণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বার্ষিক হিসেব সমাপনী। বার্ষিক হিসেব চূড়ানত্ম করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব পোর্টফলিওর শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। জানুয়ারিতে তারা আবার বিনিয়োগ শুরম্ন করলে বাজার উর্ধমুখী হয়ে ওঠে।
কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এৰেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশকিছু নির্দেশনার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তার মোট দায়ের ১০ শতাংশ পর্যনত্ম শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় গত দু'বছরে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকেছে। ২০০৯ সালে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করায় ব্যাংকগুলো ২০১০ সালে এসে এখানে বিনিয়োগের হার অনেক বাড়িয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে গত ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের পরিমাণ আইনী সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হয়েছে। এ কারণে এবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রির প্রবণতা অন্যান্য বছরের তুলনায় ছিল বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআর ০.৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ বাসত্মবায়নের জন্য ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়েছে।
অন্য বছর হিসেব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সরিয়ে নেয়া টাকার বড় অংশ পুঁজিবাজারে ফিরলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি নির্দেশনার কারণে শেয়ারবাজার থেকে তুলে নেয়া টাকা এখানে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ১ নবেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাস্টার সাকর্ুলারে ব্যাংকগুলোকে তাদের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসকে ঋণ প্রদানের ৰেত্রে একক গ্রাহক ঋণসীমা মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়। একক গ্রাহক সীমা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তার মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারে না।
সব মিলিয়ে একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পৰ থেকে গত এক মাসে একের পর এক পদৰেপ নেয়া সত্ত্বেও ইতিবাচক কোন ফল না আসায় বিনিয়োগকারীদের বাজারের ওপর আস্থা হারাতে বসেছেন। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলে এখনও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/23/2011 12:36 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | মূল্য কারসাজির নেপথ্যে প্লেসমেন্ট বাণিজ্য
প্লেসমেন্ট বন্ধ ও দরপ্রস্তাবে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের লক ইনের সময় বাড়ানো জরুরী
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥
The Daily Janakantha
24.01.2011
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য কারসাজির নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করছে অনৈতিক পেস্নসমেন্ট বাণিজ্য। কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের জন্য পেস্নসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে ম্যানেজ করেছে ইসু্য ব্যবস্থাপকরা। এ শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা বাড়াতে বুকবিল্ডিং প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত মূল্য নির্দেশ করছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। ফলে পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দের সুযোগ বন্ধ করা গেলে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের অতি মূল্যায়ন রোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশিস্নষ্টরা মনে করেন।
পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করতে গিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিকে দায়ী করা হচ্ছে। কারণ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া সব কোম্পানিই লেনদেন শুরম্নর আগে থেকেই অতি মূল্যায়িত হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই শেয়ারের অতি মূল্যায়ন রোধ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ বন্ধে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কার্যকারিতা স্থগিত করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। তবে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি একেবারে বাতিল না করে পেস্নসমেন্ট বন্ধ ও দরপ্রসত্মাবের মাধ্যমে বরাদ্দ শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার (লক ইন) মেয়াদ বাড়িয়ে এ পদ্ধতিতে কারসাজির প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
পুঁজিবাজার বিশেস্নষক অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি বন্ধ করে দেয়া ঠিক হয়নি। পেস্নসমেন্ট বিক্রির সুযোগের কারণে কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে শেয়ারের দর বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। তাই পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির সুযোগ বন্ধ করে দিলেই হতো। তাতে শেয়ারের অতিমূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ বন্ধ হতো।
তিনি বলেন, এ পদ্ধতির মাধ্যমে আরও ৪৮টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরম্ন করেছিল। এসব কোম্পানি কমপক্ষে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজারে নিয়ে আসবে। এতে বাজারে ভাল শেয়ারের সঙ্কট কমবে। শেয়ার সঙ্কটের কারণে শেয়ারবাজার অতিমূল্যায়িত হয়েছিল। সেখান থেকে সংশোধন হতে গিয়েই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুকবিল্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজারে আসা প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার শুরম্নতেই অতি মূল্যায়িত হয়েছে। এ পদ্ধতি প্রথম মূল্য নির্ধারণ হয় ওশন কন্টেনারের। ২০০৯ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয় ১৪৫ টাকা। ফলে লেনদেন শুরম্নর আগেই প্রতিটি শেয়ারের দর এর প্রকৃত আয়ের তুলনায় ৬০ গুণ বেশি নির্ধারিত হয়। আরএকে সিরামিকের ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। বুকবিল্ডিং পদ্ধতি প্রয়োগ করে কোম্পানিটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪৮ টাকা। শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরম্নর আগেই কোম্পানিটির পিই অনুপাত দাঁড়ায় ৪৪। খুলনা পাওয়ারের ইপিএস ছিল ২ টাকা ৭৯ পয়সা। এ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয় ১৯৪ টাকা। ফলে লেনদেনের শুরম্নতেই খুলনা পাওয়ারের শেয়ারের পিই দাঁড়ায় ৬৯। বর্তমানে বাজারে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের সর্বশেষ বার্ষিক হিসেবে ইপিএস ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে মবিল যমুনার পিই দাঁড়াচ্ছে ৬২। সর্বশেষ অনুমোদন পাওয়া ইউনিক হোটেলস এ্যান্ড রিসোর্টসের ইপিএস ৪ টাকা ৮০ পয়সা। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরা হয়েছে ১৮৫ টাকা। ফলে চূড়ানত্ম মূল্য নির্ধারণের আগেই ইউনিকের পিই দাঁড়িয়েছে ৩৮.৫০।
সংশিস্নষ্ট বিধিবিধান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত মূল্য (ফিঙ্ড প্রাইস) পদ্ধতির ৰেত্রে কোন কোম্পানির শেয়ারের দর মৌল ভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হলে এসইসি তা কাটছাঁট করতে পারে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্টভাবে সেই সুযোগ নেই। আইনের এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সংশিস্নষ্ট কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানায়, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ৰেত্রেই কোম্পানিগুলো কারসাজির সুযোগ নিচ্ছে। বিধি অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দরপ্রসত্মাব প্রক্রিয়ার আগে কোম্পানির শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। এ সুযোগে সংশিস্নষ্ট কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান নিজেদের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অতিরিক্ত নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা করেছে। এ সমঝোতার ৰেত্রে মূল ভূমিকা রাখছে পেস্নসমেন্ট বাণিজ্য। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরম্নর আগে অধিকাংশ কোম্পানিই পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শেয়ার বরাদ্দ করেছে। এৰেত্রে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেই উলেস্নখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে নিজেদের স্বার্থেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলো কোম্পানির মৌল ভিত্তির চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য নির্দেশ করে। পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দরপ্রসত্মাবের ভিত্তিতে নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ কম বা বেশি দরে চূড়ানত্ম মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এৰেত্রেও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে পূর্ব নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলো। এজন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আইপিওর বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আরও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পুঁঁজিবাজার সংশিস্নষ্টরা। বিশেষ করে পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দের পর কোন কোম্পানিকে বুকবিল্ডিংয়ে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের সুযোগ না দেয়া হলে বুকবিল্ডিংয়ে কারসাজি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা মনে করেন।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অংশ হিসেবে দরপ্রসত্মাবের (বিডিং) মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার (লক ইন) মেয়াদ খুব কম হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেশি দরে শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই শেয়ারের দর কমে যায়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রসত্ম হন। একইভাবে পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অনেক মুনাফা করেছে। মূলত পেস্নসমেন্টে পাওয়া শেয়ার থেকে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা থেকেই বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপপ্রয়োগ শুরম্ন হয়।
জানা গেছে, প্রাইভেট পেস্নসমেন্টের নামে দীর্ঘদিন ধরেই শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অনৈতিক বাণিজ্য চলছে। কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিতরণ করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ শেয়ার বরাদ্দ নিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই আগাম বিক্রির জমজমাট ব্যবসা চালিয়েছে। স্টক এঙ্চেঞ্জের নীতিনির্ধারক থেকে শুরম্ন করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পর্যনত্ম বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক গুরম্নত্বপূর্ণ ব্যক্তিই পেস্নসমেন্টের শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (ক্যাপিটাল ইসু্য) বিধিমালা, ২০০১-এর বিধি-৩ অনুযায়ী কোন কোম্পানি বাংলাদেশে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে ওই কোম্পানিকে অবশ্যই সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়। কোম্পানির আবেদন যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিক মনে করলে কমিশন ৬০ দিনের মধ্যে লিখিত অনুমতি দিয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় মূলধন সংগ্রহ প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট নামে পরিচিত। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হয়েও গত তিন বছরে মাসে প্রাইভেট পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে বিভিন্ন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এর মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও পুরনো শেয়ারহোল্ডাররা বর্ধিত মূলধনের যোগান দিলেও বেশিরভাগ ৰেত্রেই নতুন শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করায় প্রাথমিক গণপ্রসত্মাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও উলেস্নখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির প্রাইভেট পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের এ প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/24/2011 12:32 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | কেন এমন হলো, দায় কার?
পুঁজিবাজারে বিপর্যয়
রাজু আহমেদ ॥
The Daily Janakantha
25.01.2011
পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক হলেও গত দেড় মাস ধরে দেশের শেয়ারবাজারের সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ শুধু অস্বাভাবিকই নয়, যে কোন বিচারেই তা নজিরবিহীন ও অনভিপ্রেত। একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে বাজারে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর মধ্যে এখন শেষ আশাটুকুও বিলীন হতে বসেছে। এখনই সরকারের দিক থেকে কার্যকর পদৰেপ না নিলে এ বিনিয়োগকারীদের পথে বসার যোগাড় হবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শুধু পুঁজিবাজারের এ বিপর্যয়ই বর্তমান সরকারের সব অর্জনকে ম্লান করে দিতে যথেষ্ট।
কথা উঠেছে যে, আওয়ামী লীগ ৰমতায় এলেই পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর পার হলেও শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালের কেলেঙ্কারির বিষয়টি ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে। বাজারে আবারও সেই '৯৬-এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন বার বার সামনে চলে আসছে। অনেকে বলছেন, বাজারের শক্তি-সামর্থ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান কার্যকর থাকায় শেয়ারবাজারে আর ওই মাত্রার কেলেঙ্কারির সুযোগ নেই। আবার আরেক দল বলছে, বাজারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে শেয়ারের দর বাড়িয়ে যে মুনাফা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে, তা '৯৬-এর চেয়েও অনেক বেশি।
প্রকৃতপৰেই '৯৬-এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিনা_ তা যথাযথ কতর্ৃপৰের তদনত্ম হয়ত-বা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যনত্ম পুঁজিবাজারে কিছু ঘটল_ তা মোটেই শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা নয়। ফলে কী কারণে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো তা খতিয়ে দেখা জরম্নরী।
১৯৯৬ সালের বড় ধসের পর শেয়ারবাজার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ব্যাপক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। ওই সময়ে পুঁজি হারানো হাজার হাজার মানুষের মধ্যে শেয়ারবাজার ছিল বড় আতঙ্কের নাম। '৯৬-এ পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা তো বটেই, সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের চিনত্মা আসেনি। ফলে হাতেগোনা কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে শেয়ারবাজারের লেনদেন। ২০০৪ সালের পর থেকে বাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে থাকে। মূলত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার অবাধ সুযোগ দেয়ার কারণেই সেই সময় বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসে পুঁজিবাজার আরও চাঙ্গা হতে শুরম্ন করে। মূলত ওই সরকারের নানামুখী অভিযানের কারণে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকে লাভজনক মনে করতে শুরম্ন করেন। তাছাড়া দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে অভিযান চালালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কালো টাকার প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর বর্তমান মহাজোট সরকার ৰমতা গ্রহণের পর শেয়ারবাজারে লেনদেন ব্যাপকহারে বাড়তে থাকে। বিপুল পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ যুক্ত হওয়ায় বেড়ে যায় অধিকাংশ শেয়ারের দর।
প্রথমেই দেখতে হবে কী কারণে গত দু'বছরে দেশের পুঁজিবাজার এতটা চাঙ্গা হয়ে উঠল। জাতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক প্রেৰাপটে সরকার পুঁজিবাজারকে কোন্ অবস্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তার কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা শোনা যায়নি। কিন্তু সরকারের আর্থিক নীতি যেভাবে সাজানো হয়েছে তাতে পুঁজিবাজারের উত্থান ছিল অবধারিত। জমে ওঠা পুঁজি স্থানানত্মর করে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি না করেই পুঁজিবাজারকে নানাভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফাকে করমুক্ত রাখা হয়েছে। কালো টাকার শর্তহীন বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে। এসব কিছুই সাধারণ মানুষকে লাভজনক বিনিয়োগের একমাত্র ৰেত্র হিসেবে পুঁজিবাজারের দিকে তাকানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। গ্যাস-বিদু্যত সঙ্কটের কারণে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় শিল্পোদ্যোক্তারাও ঝুঁকেছেন পুঁজিবাজারের দিকে। একই কারণে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে।
এভাবে গত দেড় বছরে সব দিক থেকে স্রোতের মতো টাকা ঢুকলেও এর সঙ্গে পালস্না দিয়ে নতুন শেয়ারের যোগান বাড়াতে না পারার কারণেই পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক উর্ধমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। অধিকাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দর কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পেঁৗছে যায়। এরপরও নানা ধরনের গুজব ও প্রলোভনের কারণে শেয়ার ধরে রাখেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। একের পর এক পদৰেপ নিয়েও বাজারের রাশ টানতে ব্যর্থ হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারে জমে ওঠা পুঁজি উৎপাদনমুখী খাতে স্থানানত্মর করে শেয়ারের যোগান বাড়ানো ছিল সবচেয়ে জরম্নরী। কিন্তু চাহিদা ও যোগানের অসামঞ্জস্যতা কমাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে না পারায় এক সময় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে পুঁজিবাজার।
২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারের উর্ধগতি যখন অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠছিল, তখন থেকেই নানাভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে এসইসি। বেশ কয়েক দফা মার্জিন ঋণ কমিয়ে, আর্থিক সমন্বয় সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করে, অনেক কোম্পানিকে তালিকাচু্যত ও লেনদেন স্থগিত করে বাজারের রাশ টেনে ধরার চেষ্টা করেছে এসইসি। কিন্তু নানামুখী চাপ এবং স্টক এঙ্চেঞ্জের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আপত্তির কারণে অনেক সিদ্ধানত্মই বাসত্মবায়ন করতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এৰেত্রে সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্টক এঙ্চেঞ্জের কিছু সদস্য এবং ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার লোভে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক ফুলিয়েফাঁপিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন মহলের মুনাফালোভী তৎপরতায় সেপ্টেম্বর থেকে নবেম্বরের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধানে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় আড়াই হাজার পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে উঠে যায়। ডিসেম্বরে মূল্য সংশোধনের পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যায় এসব প্রতিষ্ঠান। এর ফলে ডিসেম্বরে কয়েক দফা রেকর্ড দরপতনের পর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে বড় বিপর্যয় নেমে আসে।
শেয়ারবাজার যখন অস্বাভাবিক অবস্থানের দিকে ধাবিত হয় তখন এসইসিসহ বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। বাজারের লাগাম টেনে ধরতে বিভিন্ন পদৰেপ গ্রহণেরও প্রসত্মাব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিএসই সাধারণ সূচক ৫ হাজার অতিক্রম করার পর থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়। এর প্রেৰিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মূলধনী মুনাফার ওপর আয়কর আরোপের বিষয়টি প্রায় চূড়ানত্ম করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ডিএসইর একজন সাবেক সভাপতির তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে ওই সিদ্ধানত্ম বাতিল করা হয়। ওই সাবেক সভাপতিসহ কয়েক ব্যক্তি বার বার সরকারকে ভুল বুঝিয়ে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ৰেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী এসইসির পৰ থেকে সকল শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা করার ঘোষণা দেয়া হলেও এদের তৎপরতার কারণে শেষ পর্যনত্ম অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার এখতিয়ার কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এসব কারণে একদিকে এসইসির কর্মকা- প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বাজারকে টেনে উঠানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করলেও বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তিরা তেমন কোন ভূমিকাই নেননি।
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের পুঁজিবাজারে চরম মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে গত এক বছরে বেশ কয়েক বার লেনদেন কমলেও তা ছিল একেবারেই সাময়িক। দু'চারদিনের জন্য মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যনত্ম তা স্থায়ী হয়নি। কিন্তু ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে লেনদেনে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোন কোন মহল বিপুল পরিমাণ টাকা সরিয়ে নিয়েছেন বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।
তবে এ ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বাজারসংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে তারল্য সঙ্কট সৃষ্টির পেছনে বেশকিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সাধারণভাবে প্রতিবছরই ডিসেম্বর মাসে এসে পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধনের প্রবণতা তৈরি হয়। এর মূল কারণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বার্ষিক হিসেব সমাপনী। বার্ষিক হিসেব চূড়ানত্ম করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব পোর্টফলিওর শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। জানুয়ারিতে তারা আবার বিনিয়োগ শুরম্ন করলে বাজার উর্ধমুখী হয়ে ওঠে।
কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এৰেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশকিছু নির্দেশনার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তার মোট দায়ের ১০ শতাংশ পর্যনত্ম শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় গত দু'বছরে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকেছে। ২০০৯ সালে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করায় ব্যাংকগুলো ২০১০ সালে এসে এখানে বিনিয়োগের হার অনেক বাড়িয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে গত ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের পরিমাণ আইনী সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হয়েছে। এ কারণে এবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রির প্রবণতা অন্যান্য বছরের তুলনায় ছিল বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআর ০.৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ বাসত্মবায়নের জন্য ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়েছে।
অন্য বছর হিসেব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সরিয়ে নেয়া টাকার বড় অংশ পুঁজিবাজারে ফিরলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি নির্দেশনার কারণে শেয়ারবাজার থেকে তুলে নেয়া টাকা এখানে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ১ নবেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাস্টার সাকর্ুলারে ব্যাংকগুলোকে তাদের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসকে ঋণ প্রদানের ৰেত্রে একক গ্রাহক ঋণসীমা মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়। একক গ্রাহক সীমা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তার মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারে না।
সব মিলিয়ে একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পৰ থেকে গত এক মাসে একের পর এক পদৰেপ নেয়া সত্ত্বেও ইতিবাচক কোন ফল না আসায় বিনিয়োগকারীদের বাজারের ওপর আস্থা হারাতে বসেছেন। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলে এখনও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/24/2011 12:35 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | মূল্য কারসাজির নেপথ্যে প্লেসমেন্ট বাণিজ্য
প্লেসমেন্ট বন্ধ ও দরপ্রস্তাবে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের লক ইনের সময় বাড়ানো জরুরী
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥
The Daily Janakantha
25.01.2011
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য কারসাজির নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করছে অনৈতিক প্লেসমেন্ট বাণিজ্য। কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের জন্য প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে ম্যানেজ করেছে ইস্যু ব্যবস্থাপকরা। এ শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা বাড়াতে বুকবিল্ডিং প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত মূল্য নির্দেশ করছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। ফলে প্লেসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দের সুযোগ বন্ধ করা গেলে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের অতি মূল্যায়ন রোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করতে গিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিকে দায়ী করা হচ্ছে। কারণ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া সব কোম্পানিই লেনদেন শুরুর আগে থেকেই অতি মূল্যায়িত হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই শেয়ারের অতি মূল্যায়ন রোধ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ বন্ধে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কার্যকারিতা স্থগিত করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। তবে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি একেবারে বাতিল না করে পেস্নসমেন্ট বন্ধ ও দরপ্রসত্মাবের মাধ্যমে বরাদ্দ শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার (লক ইন) মেয়াদ বাড়িয়ে এ পদ্ধতিতে কারসাজির প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি বন্ধ করে দেয়া ঠিক হয়নি। পেস্নসমেন্ট বিক্রির সুযোগের কারণে কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে শেয়ারের দর বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। তাই পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির সুযোগ বন্ধ করে দিলেই হতো। তাতে শেয়ারের অতিমূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ বন্ধ হতো।
তিনি বলেন, এ পদ্ধতির মাধ্যমে আরও ৪৮টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এসব কোম্পানি কমপক্ষে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজারে নিয়ে আসবে। এতে বাজারে ভাল শেয়ারের সঙ্কট কমবে। শেয়ার সঙ্কটের কারণে শেয়ারবাজার অতিমূল্যায়িত হয়েছিল। সেখান থেকে সংশোধন হতে গিয়েই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুকবিল্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজারে আসা প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার শুরম্নতেই অতি মূল্যায়িত হয়েছে। এ পদ্ধতি প্রথম মূল্য নির্ধারণ হয় ওশন কন্টেনারের। ২০০৯ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয় ১৪৫ টাকা। ফলে লেনদেন শুরম্নর আগেই প্রতিটি শেয়ারের দর এর প্রকৃত আয়ের তুলনায় ৬০ গুণ বেশি নির্ধারিত হয়। আরএকে সিরামিকের ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। বুকবিল্ডিং পদ্ধতি প্রয়োগ করে কোম্পানিটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪৮ টাকা। শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরম্নর আগেই কোম্পানিটির পিই অনুপাত দাঁড়ায় ৪৪। খুলনা পাওয়ারের ইপিএস ছিল ২ টাকা ৭৯ পয়সা। এ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয় ১৯৪ টাকা। ফলে লেনদেনের শুরম্নতেই খুলনা পাওয়ারের শেয়ারের পিই দাঁড়ায় ৬৯। বর্তমানে বাজারে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের সর্বশেষ বার্ষিক হিসেবে ইপিএস ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে মবিল যমুনার পিই দাঁড়াচ্ছে ৬২। সর্বশেষ অনুমোদন পাওয়া ইউনিক হোটেলস এ্যান্ড রিসোর্টসের ইপিএস ৪ টাকা ৮০ পয়সা। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরা হয়েছে ১৮৫ টাকা। ফলে চূড়ানত্ম মূল্য নির্ধারণের আগেই ইউনিকের পিই দাঁড়িয়েছে ৩৮.৫০।
সংশিস্নষ্ট বিধিবিধান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত মূল্য (ফিঙ্ড প্রাইস) পদ্ধতির ৰেত্রে কোন কোম্পানির শেয়ারের দর মৌল ভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হলে এসইসি তা কাটছাঁট করতে পারে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্টভাবে সেই সুযোগ নেই। আইনের এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সংশিস্নষ্ট কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানায়, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ৰেত্রেই কোম্পানিগুলো কারসাজির সুযোগ নিচ্ছে। বিধি অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দরপ্রসত্মাব প্রক্রিয়ার আগে কোম্পানির শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। এ সুযোগে সংশিস্নষ্ট কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান নিজেদের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অতিরিক্ত নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা করেছে। এ সমঝোতার ৰেত্রে মূল ভূমিকা রাখছে পেস্নসমেন্ট বাণিজ্য। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরম্নর আগে অধিকাংশ কোম্পানিই পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শেয়ার বরাদ্দ করেছে। এৰেত্রে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেই উলেস্নখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে নিজেদের স্বার্থেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলো কোম্পানির মৌল ভিত্তির চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য নির্দেশ করে। পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দরপ্রসত্মাবের ভিত্তিতে নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ কম বা বেশি দরে চূড়ানত্ম মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এৰেত্রেও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে পূর্ব নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলো। এজন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আইপিওর বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আরও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পুঁঁজিবাজার সংশিস্নষ্টরা। বিশেষ করে পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দের পর কোন কোম্পানিকে বুকবিল্ডিংয়ে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের সুযোগ না দেয়া হলে বুকবিল্ডিংয়ে কারসাজি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা মনে করেন।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অংশ হিসেবে দরপ্রসত্মাবের (বিডিং) মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার (লক ইন) মেয়াদ খুব কম হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেশি দরে শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই শেয়ারের দর কমে যায়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রসত্ম হন। একইভাবে পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অনেক মুনাফা করেছে। মূলত পেস্নসমেন্টে পাওয়া শেয়ার থেকে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা থেকেই বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপপ্রয়োগ শুরম্ন হয়।
জানা গেছে, প্রাইভেট পেস্নসমেন্টের নামে দীর্ঘদিন ধরেই শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অনৈতিক বাণিজ্য চলছে। কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিতরণ করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ শেয়ার বরাদ্দ নিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই আগাম বিক্রির জমজমাট ব্যবসা চালিয়েছে। স্টক এঙ্চেঞ্জের নীতিনির্ধারক থেকে শুরম্ন করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পর্যনত্ম বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক গুরম্নত্বপূর্ণ ব্যক্তিই পেস্নসমেন্টের শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (ক্যাপিটাল ইসু্য) বিধিমালা, ২০০১-এর বিধি-৩ অনুযায়ী কোন কোম্পানি বাংলাদেশে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে ওই কোম্পানিকে অবশ্যই সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়। কোম্পানির আবেদন যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিক মনে করলে কমিশন ৬০ দিনের মধ্যে লিখিত অনুমতি দিয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় মূলধন সংগ্রহ প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট নামে পরিচিত। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হয়েও গত তিন বছরে মাসে প্রাইভেট পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে বিভিন্ন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এর মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও পুরনো শেয়ারহোল্ডাররা বর্ধিত মূলধনের যোগান দিলেও বেশিরভাগ ৰেত্রেই নতুন শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করায় প্রাথমিক গণপ্রসত্মাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও উলেস্নখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির প্রাইভেট পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের এ প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/25/2011 12:13 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | The stock market situation: What to do about it?
Ahsan Mansur
Financial Express
26.01.2011
Bangladesh's stock market performance, measured in terms of the stock price index, has been one of the best globally for a number of years. Its upward surge defied global and regional market developments. When almost all markets across the globe collapsed during the global economic crisis, DGEN was perhaps one of the very few which defied the global trend and maintained its upward progression fueled by local developments/conditions.
When it started its upward trend in 2007, the market was certainly undervalued, and there were fundamental economic reasons for it to go up. At that time the average Price/Earning (P/E) ratio was in single digit and the market capitalization was less than 10 per cent of gross domestic product (GDP). The sustained upward surge, however, went beyond what could be justified by economic fundamentals by early 2010.
Since mid-2010, as the index crossed the 5000 mark, the market has clearly been driven by speculative forces. During the last two-month period leading up to the peak, the index increased by more than 2000 points before crossing the 8900 level on December 5. To put it in proper perspective, the index level was at about 1500 until this recent surge started in 2007. Daily market turnover increased 30 fold about Tk. 1.0 billion to Tk. 33 billion over the three-year period. Clearly, economic fundamentals cannot support this level of valuation gain and turnover, and the market is bound to correct itself once it runs out of steam.
The recent drop in the stock market index needs to be evaluated in this context. Even after a more than 2500 point decline, the index is still well above its mid-2010 levels. The corrections and volatility in the price index that we have experienced in recent days is nothing uncommon, and fully in line with what has been observed in many other important, and much larger stock markets across the globe. For the market to start consolidating, it needs to shed itself of speculative elements, and that can only happen once market valuations come back to their fundamental levels.
Global experience indicates that once stock markets get into a bubble phase, there is very little that regulators or policy makers can do to stabilize it. This has been seen in major markets in the US (NASDAQ in particular) and Japan, and in emerging markets like China and the Gulf Co-operation Council (GCC) countries in recent years. A broad and deep market in the US did not prevent the NASDAQ index from crossing the 5,000 level and crashing back to the 1,600 level in a matter of weeks. The experience of Japan is even more pathetic, with the Nikkei crossing the 33,000 level in 1991, and following the crash, is currently flirting with the level of 10,000 after almost 20 years. More recently we have seen the Shanghai stock index crossing the 7,000 level, crashing down to well below 3000 after the correction. We saw an even worse development in Bangladesh in 1996 when the index dropped from 3,600 to below 800.
The authorities should not panic due to the overdue correction observed in Bangladesh market in recent weeks. Their main concern should continue to be ensuring macroeconomic stability and sustaining real economic activity and employment generation. The stock market collapse would not necessarily hurt Bangladesh's growth and employment prospects if the process is well managed. The recent tumble in the index should be seen as the inevitable outcome of irrational exuberance on the part of market participants. What worries me is not the correction, but the panic created by both in the streets and at the level of policy makers. What the retail investors are doing in the street is certainly not going to change the course of the market. It only shows how illiterate the Bangladeshi retail investors are as a class. Time and again, informed analysts and policy makers have warned against the state of market overvaluation. We can have sympathy for them, but there is very little the government can do to save those investors who are driven by greed and speculation, and ignore professional advice. Certainly the market is not for these types of investors, and the sooner they realize their mistakes and get out of the market, the better it will be for the market itself and for themselves. When we see people in every office have the stock market tickers on, and people leaving their productive jobs and becoming day-traders, we know there is something fundamentally wrong with what was happening. The stock markets should be the domain for long-term investors and market oriented professionals. Retail investors should invest in the market through instruments like mutual funds which are managed by professionals.
As regards policy makers, their objective should be to help ensure a softer landing, and let the market find its fundamental valuation level. It is bothersome to observe the administrative interventions undertaken a few weeks back when the index fell to 7200 level to engineer artificially a massive 16% rebound in the index in one day. As reported in the press, Bangladesh Bank directly intervened through Investment Corporation of Bangladesh (ICB). The Securities and Exchange Commission (SEC) and other authorities might have also pressured state owned commercial banks (Shonali, Rupali, etc.) and other financial institutions to get into the market and provide an artificial support. Such a policy never works when the market is misaligned, as we observed last week. Public money may have only bailed out some smart/lucky investors but weakened the financial institutions further.
To put it into perspective, countries like Saudi Arabia, Kuwait, the UAE, and China, with enormous amounts of financial resources could have bought the entire stock market several times if they wanted to do so. But those authorities did not try it because such interventions create morale hazards, and if continued would tantamount to nationalizing a large segment of the economy. Certainly, Bangladesh, with its meager resources and with the size of its stock market at 45-50% of its GDP, cannot afford to get into such misadventure.
What should the authorities do now? This is not the time to panic and bring about short sighted regulatory changes. The experience of the last few weeks clearly indicates that whatever sensible move the SEC and Bangladesh Bank may consider would act against them and trigger a negative development for which the regulators will be blamed. This is a perfect example where you intend to do good things, you will be blamed, and if you don't do anything, you will still be blamed (for inaction). The policy makers and regulators would, however, need to prepare themselves for two initiatives: 1) assess the impact of a major stock market correction on the domestic economy and determine what kind of policy response the government may have to undertake to mitigate the dampening effect on the real economy through various transmission channels; and 2) the SEC and other policymakers should prepare a comprehensive set of reform measures which can be initiated once the market settles down at the proper level. Nothing major should be done now, when the market is in a correction mode.
The market will find its floor when stock prices would become attractive for the institutional investors, who are probably waiting in the side lines with lots of cash and other liquid assets for future investment at attractive prices. The critical issue is should we call the prices attractive at the average price/earning (P/E) ratio of 23? This reported P/E ratio of 23 should also be taken with a grain of salt since much of the record profit gains recorded by the financial institutions would certainly disappear in 2011 and the adjusted or prospective P/E ratio will be much higher than the reported level. It is normally believed that an average P/E ratio of 12-15 would be attractive for long-term investors. Thus it would be irrational to expect institutional investors to jump into the market and provide a floor for the index at the current level.
Policymakers should therefore not push or force the financial institutions to buy at these high prices. Commercial banks and their subsidiaries have certainly made hefty profit gains in this episode and these institutions should therefore be expected to provide some floor to the market and also protect valuation of their own shares. It would be much more prudent however if Bangladesh Bank first determines how much adversely these banks and other financial institutions have been impacted through their un-cashed portion of stock holdings, the losses incurred by their borrowers through margin and other form of borrowings, and indirect exposures of their clients to the stock market. In some instances, the capital base of the banks may have been significantly eroded and it would be the first order of priority for the Government and Bangladesh Bank to recapitalize these financial institutions by preventing all financial institutions from distributing their profits. The record profits earned by financial institutions should first be used for loan loss provisions and to boost their capital base. Healthy financial institutions are must for a healthy real economy and only healthy financial institutions will provide the floor for the stock market when the valuations would become attractive.
It would be a serious mistake to force or pressure the financial institutions to enter the stock market prematurely. Bad assets (in terms of valuation) to be accumulated by these institutions in this process would only weaken their balance sheet and may lead to collapse of weak financial institutions, thereby transmitting the impact of the stock market collapse to the real economy on a bigger scale. As a matter of fact, Bangladesh Bank may have to be ready to inject liquidity to the financial system in the event some banks are hit seriously by their direct and indirect exposures to the stock market. The emergence of liquidity crisis in the financial system in recent weeks may be an early manifestation of that problem. (Dr. Ahsan Mansur is Executive Director, Policy Research Institute. He can be reached at e-mail: ahsanmansur@gmail.com) |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/26/2011 7:36 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | কেস স্টাডি শেয়ারবাজার : অনিশ্চয়তায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা : আমরা দেশের শত্রু বা চোর নই : টাকার উত্সও অনন্ত নয়
জাহেদ চৌধুরী/কাওসার আলম
Amardeshonline.com
26.01.2011
শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক ধস কেলেঙ্কারিতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আর্থিক ক্ষতি তারা কিভাবে পুষিয়ে নেবেন, শেয়ারবাজার থেকে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের টাকা কিভাবে লুটে নিয়েছে—এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। শেয়ারবাজারে ধস ও আস্থাহীনতা সৃষ্টির জন্য সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসএইসি) ভুল সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করেছেন। এর আগে ‘লাভ হলে মিষ্টি খাওয়ান না, লস হলে রাস্তায় নেমে আসেন’ বলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের উপহাস করে মন্তব্য করেছেন। লাভের আশায় ব্যবসায় নামলে লসের মানসিকতাও থাকতে হবে বলে নসিহত করেছেন। তার এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে চলছে বিতর্ক। সমালোচনা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের দুই মন্তব্য নিয়েও। গত শুক্র ও শনিবার খুলনা এবং ঢাকায় দু’টি অনুষ্ঠানে শেয়ারবাজার ধসে দেশের অর্থনীতির কোনো ক্ষতি হবে না। বিনিয়োগ করে লস হলে রাস্তায় নেমে যারা ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা দেশের শত্রু। অর্থের অনন্ত উত্স বা চুরির টাকা হলেও অতিমূল্যায়িত শেয়ারবাজারে কেউ বিনিয়োগ করে না বলে তিনি যেসব মন্তব্য করেছেন তা কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না।
এ প্রেক্ষাপটে আমরা গতকাল সরেজমিনে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে গিয়ে বেশ কিছু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলেছি। জানার চেষ্টা করেছি তাদের বিনিয়োগের উত্স, শেয়ারবাজারে আসার প্রেক্ষাপট, সামাজিক অবস্থা, শেয়ারবাজার নিয়ে মূল্যায়ন। এছাড়া ১৫টি ব্যাংকের শেয়ারবাজার থেকে আয় শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড হিসেবে না দেয়ার সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের অভিমত জানার চেষ্টা করা হয়েছে। সর্বোপরি শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য সম্পর্কে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেছে সরেজমিন অনুসন্ধানে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে তাদের বিনিয়োগের কাহিনী তুলে ধরে বলেছেন, আমরা দেশের শত্রু বা চোর নই। আমাদের টাকার উত্সও অনন্ত নয়। আমাদের জন্য যদি সরকারের কোনো উপদেষ্টার মন না কাঁদে, শেয়ারবাজারের ধসে দেশের অর্থনীতির যদি কোনো ক্ষতি না হয়, তবে এ নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে আমাদের অর্থের উত্সকে চুরির টাকা বলা, আমাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা, উপরন্তু পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা করে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে গ্রেফতার নির্যাতন করার পরও সরকারের উপদেষ্টার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রতিহত করার হুমকি একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে বড়ই বেমানান। তারা বলেছেন, সর্বশেষ ১৫টি ব্যাংকের শেয়ারবাজার থেকে আয় করা লাভের টাকা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত ক্ষুদে বিনিয়োগকারীদের অর্থ সরকারি উদ্যোগে কেড়ে নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ব্যাংকের হাতে তুলে দেয়ার শামিল। দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার ধরে রেখে রসের টাকা কিছুটা পুষিয়ে নেয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত এটার পক্ষে বড় অন্তরায়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খুব ভালো মৌল উত্স, পিই রেশিও দেখে সচেতনভাবে বিনিয়োগ করার পরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত দেড় মাসে প্রায় আড়াইহাজার পয়েন্ট সূচক পতন ও শেয়ারবাজার (ডিএসই) থেকে সাড়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকা মূলধন লস এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) মূলধন ৮০ হাজার কোটি টাকা কমে যাওয়ার পর সর্বনিম্ন ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। শতকরা ৩৫ ভাগের নিচে ক্ষতি হয়েছে এমন কোনো ক্ষুদে বিনিয়োগকারী পাওয়া যায়নি। তবে যারা গত দু’মাসে শেয়ারবাজারে ব্যবসায় নেমেছেন তাদের এই টাকা গেছে মূল থেকে। অক্টোবরের আগে যারা নেমেছেন তাদের অধিকাংশের গেছে লাভের টাকা থেকে। গত ৫ ডিসেম্বর শেয়ারবাজারের সর্বোচ্চ সূচকের দিনের সঙ্গে তুলনা করে গত ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় দরপতনের তুলনা করে এ হিসাবে করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও কৃষি ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, শেয়ারবাজার থেকে সিন্ডিকেট প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি। গতকাল ইব্রাহিম খালেদকেই সরকার শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
শেয়ারবাজারে টাকা সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে অনেকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করছেন সরকারের একজন উপদেষ্টার দিকে। অন্যদিকে অপর এক মন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল) ও ওশান কোম্পানি লিমিটেডের (ওসিএল) বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে প্রাইমারি শেয়ারের অতিমূল্যায়ন করে প্রায় ১৬শ’ কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তুলে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে কেপিসিএল-এর ১০ টাকার শেয়ার প্রিমিয়ামসহ ১৯৪ টাকা ধরে প্রাইমারি শেয়ার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দেয়া হয়েছে। যেখানে কেপিসিএল-এর শেয়ার বর্তমানে বাজারে মাত্র ৯৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোম্পানিগুলো যাতে বাইব্যাক পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে শেয়ারগুলো বিক্রিত মূল্যে কিনে নেয় সে দাবিও উঠেছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। এছাড়া মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্ট এ দুটি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। সাময়িকভাবে এই দুই কোম্পানির শেয়ার মার্কেটে আসা বন্ধ রয়েছে। এটা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুদে বিনিয়োগকারীদের বিপুল অংকের টাকা দ্রুত তারা যাতে তুলে নিতে পারে এবং প্রাইমারি শেয়ারের লটারি হয় সে দাবিও উঠেছে।
সরকার এ মধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের কতটুকু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে গেছে এবং কতটুকু বড় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে গেছে, তা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছেই।
কেসস্টাডি : আশফাক হোসেন। বয়স ৪৫। বেসরকারি চাকরি করেন। স্ত্রীও চাকরি করেন। দু’ছেলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে। রাজধানীর বাড্ডা থানা এলাকায় থাকেন। হঠাত্ করেই বাসা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। স্কুলে সন্তানদের ফিও বেড়েছে। অফিসের বেতনও আটকা পড়েছে। বিকল্প আয়ের সন্ধানে নিজেকে যুক্ত করেন শেয়ার ব্যবসায়। ১১ নভেম্বর বিও একাউন্ট খোলেন। প্রথমে স্ত্রীর চাকরির জমানো এক লাখ টাকা। তারপর আস্তে আস্তে ৩ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ, প্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে লাভ দেয়ার কথা বলে ধার। এই মিলে ৮ লাখ টাকা। গত ৫ ডিসেম্বরে এক মাসেরও কম সময়ে লাভের খাতায় উঠেছিল ৩৫ হাজারের কিছু বেশি। অবস্থা কাটিয়ে উঠতে ৮ ডিসেম্বর প্রথম বড় ধরনের পতনের পর বন্ধুর কাছ থেকে ২০ শতাংশ বার্ষিক সুদে আরও ৩ লাখ টাকা ডিড করে নেন তিনি। নিজে থেকে যোগ করেন ২৫ হাজার। এই মিলে সোয়া ১২ লাখ টাকার বিনিয়োগ। ২০ জানুয়ারিতে তার পোর্ট ফোলিওতে ৩৫ হাজার টাকার লাভ নিঃশেষ হয়ে তার সঙ্গে লস যোগ হয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪৬০ টাকা ১৭ পয়সা। পূবালী ব্যাংকের একটি ব্রোকারেজ হাউসে তার বিও একাউন্টের মাধ্যমে ট্রেড করেন। তার মন্তব্য, অর্থ উপদেষ্টা আমাদের চোর বলেছেন, টাকার উত্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দেশপ্রেম নিয়ে কথা বলেছেন, কষ্ট পেয়েছি। চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বললেন, অর্থ উপদেষ্টা আমাদের বোকা বা পাগল বললে হয়তো এতো কষ্ট পেতাম না। কারণ, বোকা না হলে তাদের মদতপুষ্ট সিন্ডিকেটের ফাঁদে পা দিয়ে হয়তো এভাবে বিনিয়োগে আসতাম না। এখনও আমরা বুক বেঁধে আছি একদিন হয়তো মূলটুকু ওঠে আসবে সে আশায়। কিন্তু ১৫ ব্যাংকের শেয়ারবাজারের লাভ আমরা পাব না। মঙ্গলবারের পত্রিকায় এ খবর দেখার পর হতাশা একধাপ বেড়েছে। কবে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে মূলটুকু নিয়ে বের হয়ে আসতে পারব? ব্যাংকের ঋণ, বন্ধুর ঋণ কীভাবে শোধ করব। ভাইয়ের টাকা কীভাবে ফেরত দেব। চাকরির যদি কিছু হয়, তবে ছেলেদের পড়ার কি হবে? এসব ভেবে কতদিন এভাবে মাথা ঠিক রাখতে পারব। সুস্থ থাকতে পারাই এখন জরুরি। আর অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে হয়তো অর্থমন্ত্রী বা অর্থ উপদেষ্টা আমাদের পাগল বললে তা নিয়ে আপত্তি করার মতো পরিস্থিতি থাকবে না।
আয়েশা সিদ্দিকা : পূবালী ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউসে বসে গতকাল কথা হয় পঞ্চাশোর্ধ্ব গৃহিণী আয়েশা সিদ্দিকার সঙ্গে। তার সঙ্গে ছিল মতিঝিল আইডিয়ালে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া ছেলে। স্বামী নোয়াব আলী তাঁত বোর্ডে চাকরি করতেন। মারা গেছেন ২০০৮ সালের অক্টোবরে। সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ কিভাবে চালাবেন এ নিয়ে যখন দিশেহারা তখন ভাইয়ের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার নিয়ে শুরু করেন শেয়ার ব্যবসা। ২০০৯ সালের মে মাসে শেয়ারবাজারে আসেন। নিজের গহনা বিক্রি করে ১ লাখ টাকা যোগ করেন। পর্যায়ক্রমে স্বামীর সঞ্চয় ও পেনশনের টাকা সবকিছুই নিয়ে এসেছেন শেয়ারবাজারে। এক পর্যায়ে তার বিনিয়োগ এসে পৌঁছায় ১৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকায়। ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউজ থেকে মার্জিন ঋণ পর্যায়ক্রমে গিয়ে দাঁড়ায় ১৫ লাখ ২৮ হাজার টাকায়। লাভসহ একপর্যায়ে মূলধন দাঁড়ায় ৩৬ লাখ টাকায়। লাভ থেকে ৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা তুলে আনেন এক দফায়। শেয়ারবাজারের টাকা দিয়ে সংসার ও ছেলেদের পড়ালেখার খরচ মোটামুটি চালিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর থেকেই হঠাত্ করেই মাথার ওপর আকাশ ভেঙ্গে পড়তে থাকে। ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ২০ জানুয়ারি গিয়ে পৌঁছায় ১২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। পোর্টফোলিও দেখিয়ে বললেন, এখন লাভ তো গেছেই, ব্যাংকের ঋণ শোধ করে মূল নিয়েই টানাটানি পড়বে। তাই খোঁজখবর নিতে এসেছেন। এক ছেলে বগুড়ায় ডাক্তারি পড়ে অন্য ছেলে আহসানউল্লাহ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। কথা বলতে গিয়ে আবেগআপ্লুত হয়ে বললেন, এতিম ছেলেদের রিজিক ভেবে এতোদিন বেশ ভালোই কাটছিল। সামনের দিন নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। অর্থমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আমাদের কষ্ট বুঝতে না চাইলে আমরা কার কাছে যাব।
রবীন্দ্র চন্দ্র রায় : বয়স ৫৯। ২ বছর আগে অবসরে গেছেন। গত জুলাইয়ে শেয়ারবাজারে ঢুকেছেন। পর্যায়ক্রমে ৭ লাখ টাকা মূলধন দাঁড়িয়েছিল। লাভ মিলে সেটা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছিল। সম্প্রতি লস হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। মূলের ওপর হাত পড়েছে। চিন্তায় আছেন কবে মূলধনও যায়। বললেন, ভালো মৌলভিত্তি দেখে মূলত ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারের আয় ডিভিডেন্ড হিসেবে দেয়া যাবে না বলার পর কিভাবে ক্ষতি পোষাবো তা ভেবে পাচ্ছি না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। লাভ হবে ব্যাংকের মতো প্রাতিষ্ঠানিক বড় বিনিয়োগকারীদের। মন্ত্রী উপদেষ্টার কথায় কিছু যায় আসে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ৫৭ বছর চাকরি করে পেনশনের টাকা দিয়ে কোনভাবে সময় পার করছিলাম। সরকারের লোকদের উপহাস দেখলে কষ্ট পাই। কিন্তু কষ্টের কথা কার কাছে বলব। শোনার তো কেউ নেই।
মজিবুর চৌধুরী : একসময় পরিবহন সেক্টরে কাজ করতেন। কিন্তু ২ বছর আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোদস্তুর শেয়ার ব্যবসায়ী হয়েছেন। লেনদেন করেন মিডওয়ে সিকিউরিটিজ হাউসে। তিনি ধাপে ধাপে শেয়ার ব্যবসায় ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ডিপিএস ভাঙিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, বোনের কাছ থেকে ধার করে ৫০ হাজার টাকা এবং নিজস্ব সঞ্চয় থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। এ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে তিনি লাখ খানেক টাকার মতো লাভও করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে তার মুনাফার অংশ তো বটেই পুঁজির একটি বড় অংশই তিনি হারিয়েছেন। বিপর্যয়ের কারণে তার মূলধন নেমে এসেছে অর্ধেকে। তিনি বলেন, এখন অবস্থা খুবই খারাপ। পুঁজির একটি বড় অংশই আমি হারিয়ে ফেলেছি। এখন আমার পুঁজি অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিনিয়োগের ৩ লাখ টাকার মধ্যে দেড় লাখ টাকা নেই।
রফিকুল ইসলাম : এনকর সিকিউরিটিজ হাউসে লেনদেন করেন। পেশায় এখনও ছাত্র। বাড়ি থেকে মাসে মাসে খরচের টাকা না এনে বাবার কাছ থেকে বলে-কয়ে ২ লাখ টাকা নিয়ে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। শেয়ারবাজার থেকে যে মুনাফা হবে তা দিয়ে নিজের খরচ মেটানোর লক্ষ্যে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তবে শুধু বাবার কাছ থেকেই নয়, বোনের কাছ থেকে ১ লাখ এবং বন্ধুবান্ধব থেকে আরও ১ লাখ টাকা ধার করে ধাপে ধাপে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। গত ১০ মাসে শেয়ার ব্যবসা থেকে ১ লাখ টাকার মতো তার লাভ হয়েছিল। কিন্তু এখন তার পুঁজি ৪ লাখ টাকা থেকে কমে এসে দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখ টাকায়। অর্থাত্ পুঁজির দেড় লাখ টাকাই তিনি হারিয়েছেন। তিনি আরও জানান, তার বাবা পেশায় একজন কৃষক। তিনি জায়গা বন্ধক রেখে এবং অন্যান্য উত্স থেকে তাকে ২ লাখ টাকা জোগান পেয়েছিল। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তাদের কষ্টের টাকা শেয়ারবজারে বিনিয়োগ করেছেন। শেয়ারবজারে বিনিয়োগের জন্য আমাদের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন বিনিয়োগ করে আমরা আমাদের পুঁজি হারাচ্ছি।
তিনি বলেন, যারা বড় বিনিয়োগকারী, তারা কোথা থেকে টাকা এনেছেন, তাদের টাকার উত্স কী—তা বলতে পারব না। কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তাদের কষ্টে উপার্জিত টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। অর্থ উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, এখন তারই উচিত কারা চুরির টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে—তা খুঁজে বের করা। এতে যদি সরকার ব্যর্থ হয়, তাহলে এ সরকারের ব্যর্থতা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
শাহ আলম সোহাগ : মডার্ন সিকিউরিটিজ হাউসে লেনদেন করা শাহ আলম সোহাগ জানান, এক বছর আগে তিনি শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এর আগে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি যে টাকা নিয়ে এসেছেন তার প্রায় পুরো টাকাই তিনি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তার মধ্যে ১ লাখ টাকা তিনি ধার করেছেন। তবে শেয়ারবাজারে বিপর্যয়ের কারণে তার লাভের পুরোটাই তিনি হারিয়েছেন। এখন তার মূলধনের এক-তৃতীয়াংশ তিনি হারিয়েছেন। অর্থ উপদেষ্টা জানেন না সাধারণ মানুষ কত কষ্ট করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য টাকা নিয়ে আসছেন। বিভিন্ন উত্স থেকে তারা টাকা নিয়ে আসছেন; কিন্তু কেউ চুরির টাকা নিয়ে আসেননি। এ ধরনের দায়িত্বহীন কথাবার্তার জন্য অন্য দেশ হলে অর্থ উপদেষ্টার পদত্যাগ করতে হতো। কিন্তু তা হচ্ছে না। এ সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।
মিজানুর রহমান সবুজ : মিডওয়ে সিকিউরিটিজ হাউসে লেনদেন করেন মিজানুর রহমান সবুজ। ডিগ্রি পাস করে কোনো চাকরি না পেয়ে শেয়ার ব্যবসা করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে জানান তিনি। শেয়ারবাজারে তিনি ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। পরিবার থেকেই তাকে এ টাকা জোগান দেয়া হয়েছে। সাড়ে তিন বছর শেয়ার ব্যবসা থেকে যে পরিমাণ মুনাফা করেছেন, তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণ পুঁজি হারিয়েছেন। তিনি জানান, দেশে কর্মসংস্থান নেই, চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেকার যুবকরা শেয়ার ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে বসানো |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/26/2011 7:38 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | এই মুহূর্তের বাজার...কিছু অভিজ্ঞতার বিচারে....
এস এম সালাউদ্দীন
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বাংলাদেশ সময়: ২৪০১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০১১
ঢাকা: শেয়ারবাজার এই মুহূর্তে কেমন? স্থিতিশীলতার দিকে এগুচ্ছে? বাজার শুদ্ধিকরণে নেওয়া ফিল্টারগুলো কাজ করছে কিনা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর করণীয়--প্রসঙ্গগুলোতে পাওয়া অভিজ্ঞতার শেয়ার হবে এখন, যা বিনিয়োগকারীর উপলব্ধি আর বাজার বিশ্লেষকের অভিজ্ঞতার সমন্বয় মাত্র।
মঙ্গলবার সকালে মিরপুরে একটি ব্রোকার হাউসে দেখা গেলো অস্থির বিনিয়োগকারীদের টাকা জমা দেওয়ার দীর্ঘ লাইন। নতুন বিনিয়োগে ঝাঁপ দেওয়ার ধুন্ধুমার প্রস্তুতি। তবে লেনদেন শুরুর পর একটি শেয়ার কিনতে পেরেছেন (হয়তো পেরেছেন) এমন কারো দেখা মিললো না। কারণ, শুরুতেই প্রায় সব শেয়ারের বেচাকেনা সার্কিট ব্রেকারে গেলো আটকে।
ব্যস্ততা একটু কমে গেলে ঐ ব্রোকার হাউসের কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা হলো। মাহমুদ কবির বললেন : ‘বাজার দেখতে এলাম। তবে আগের মতো হুটহাট বিনিয়োগ আর না। লস কাটিয়ে উঠলে বের হয়ে যাবো। আর যদি কমে কেনার সুযোগ থাকে তো ব্যালান্স করবো।’
বয়স্ক একজন বিনিয়োগকারী সিদ্দিকুর রহমান জানালেন, ‘বাজার এখন রোগা। ধরে দাঁড় করানো যাবে, তবে বেশীক্ষণ টিকবে না। আমি একজন ুদ্র বিনিয়োগকারী এবং বড়ই হতাশ।’
আরেক বিনিয়োগকারী মাহবুব সোহেলের ভাষ্য ভিন্ন : ‘বিও অ্যাকাউন্ট করে রেখেছিলাম । আগে কোনো বিনিয়োগ করিনি। এখন করবো, টাকা জমা দিলাম। মনে হয়, এই বাজারে বিনিয়োগ করলে লস যদিও হয় কম হবে। ’
এই মুহুর্তের বাজার নিয়ে কথা হলো দুজন বাজার-বিশ্লেষকের সঙ্গে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ : ‘বাজার মেরামতে সম্প্রতি নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কাজ করছে কিনা বুঝতে হলে আরো দু’তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। বিনিয়োগ করা না করা যদিও একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার, অন্যের পরামর্শের ওপর অন্ধ নির্ভরতার স্থান এখানে নেই।
মঙ্গলবার মাত্র ২০০ কোটি টাকার লেনদেনের ওপর মার্কেটের ভবিষ্যৎ বলা যায় না। যদিও এখানে সার্কিট ব্রেকার একটি বিষয় ...আগামী ২/৩ দিন পর লেনদেন আর ব্রেকারে ঠেকবে না যদি বাজার স্টেবল হয়।
তিনি আরও বললেন, ‘বাজার আগের পর্যায়ে রাতারাতি যাবে না। বিগত বছরগুলোর মতো ক্যাপিটাল গেইন ২০১১তে হবে না। তবে ভালো কোম্পানির শেয়ার যদি এখন বিনিয়োগকারীরা পোর্টফলিওতে রাখেন এই সহনীয় মার্কেট থেকে, লসের আশঙ্কাও থাকবে কম।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ওসমান ইমাম: ‘টুডেজ ট্রেড ইজ নট এনাফ টু গেইন কনফিডেন্স লেভেল; ইট নিডস টু অর থ্রি মোর ডেইজ। কনফিডেন্স বিল্ড-আপের জন্য বেশি ভলিউমে ট্রেড প্রয়োজন। তখন বাজারকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখতে হবে না।’
লসে শেয়ার সেল করবেন না, যদি না খুব প্রয়োজন পড়ে, বিনিয়োগকারীর প্রতি ব্রোকার হাউজগুলোর এ আহবানও আজ লক্ষ্য করেছি।
এছাড়া লেনদেন শুরুর প্রথম ৪ মিনিটে ১৩৭টি কোম্পানি আপার সার্কিট লেভেল টাচ করলো, এটাকে নরমাল ট্রেড বলা যায় না।
ুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজন মতো ফান্ডামেন্টাল দেখে পোর্টফলিও ব্যালান্স করতে পারেন, অথবা ওয়েট করতে পারেন। নরমাল কারেকশনের মধ্য দিয়ে মার্কের্টে স্থিতি আসতে পারে।
অস্থিরতা কাটিয়ে মার্কেট দ্রুত শান্ত-স্থির হবে-- বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে সবার প্রত্যাশার এমন প্রতিফলন ঘটবে--- যদি না অদূর অতীতের মতো কোনো অশুভ শক্তির পদভারে মার্কেট মুখরিত হয়।
|
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/26/2011 1:02 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | From bull-run to crash, then on 'recovery' course
commentary
Moazzem Hossain
Financial Express
27.01.2011
The developments in the stock market in the last two days' of trading, following the resumption of transactions last Tuesday, would suggest that prices are slowly bouncing back.
However, the status quo ante -- the level before the crash of stock prices late last week -- is yet to return.
If the buying side with institutional investors being the key players there at this stage, remains relatively strong in the coming days under a normal market situation -- and not under any other reason at anyone else's directive or prodding -- further recovery of prices can, perhaps, be expected.
On their part, the sellers, mostly retail investors at this phase to be exact, in the market are still on a waiting game, in the hope that the market would move further upward and they would then be in a better position to recoup their earlier losses or even to make some gains. This will otherwise be considered a kind of 'wisdom' on their part, given the circumstances of market developments in the Bangladesh context where 'records' were seen to be set in a unique way in the recent times.
There is undeniably some 'artifice' in the market where 'tradability' of stocks is now limited by circuit breaker being in force at a limit lower than that earlier on price movements of individual scrips. The turnover of trade, in terms of both aggregate volume and value, during the last two days would bear this out. During the earlier bull-run, daily turnover was robust, prompting many pundits to raise questions about its magic.
The Index Circuit Breaker, an unusual practice with other comparable stock exchanges, was earlier enforced by the country's capital market regulator, Securities Exchange Commission (SEC), to help avoid a crash. That did not finally work and the market crashed last week, much to the chagrin of the retail investors. Far from the much-desired soft landing of the market, there was a plunge of stock prices in a matter of just two days, defying the Index Circuit Breaker.
Now after resumption of trading in the stock exchanges, the Index Circuit Breaker is gone but the issue-specific one is in operation at a lowered level than before. That has so far served the goal of avoiding any bumpy ride.
There is, thus, now a modest rise in stock prices. And the fall in such prices, if the same happens again -- the possibility of which can in no way ruled out involving a sizeable number of issues -- will also be a soft one.
It is difficult to predict how the market will behave in the coming days, considering the fact that it was too 'overheated' before, amid all kinds of allegations about manipulations and malpractices by aggrieved investors against some 'powerful quarters' who had played, what can be likened to, Hamelin's pied piper flute.
In the post-debacle stock market situation, some quarters did reportedly make utmost efforts at various levels to involve the country's banking system in a bail-out programme, in the name of providing 'liquidity', in a liberal way to the capital market. That pressure did not largely work, thanks to the 'wisdom' of those who are involved in monetary management.
Given the inflationary situation at home and abroad and the state of affairs in the country's banking sector, such a bail-out operation, had it been opted for, would have created greater problems for the overall economy and its real sectors. Banks' deal with depositors' money and are not meant for making investments, beyond the permissible limit, in stock market.
So far so good. There has, of course, been a liquidity problem in the capital market for some time in the recent days. And that problem is not the creation of banks, notwithstanding the fact that normally the financial institutions do go for profit-taking out of their investments outside core banking areas -- of course, to the extent of their permissible limit -- around December at the time of their annual closure of accounts.
The major question that needs now a serious consideration by all concerned is how the stock prices in general, irrespective of fundamentals, did continue to set records during the bull-run and where the 'money' had gone following the record fall of the Index.
Some very responsible persons in the government are on record to have said most of the 'money', made during the bull-run, are in the capital market and this can be traced through beneficiary owner (BO) accounts with the central depository, a computerised network, for keeping records of share holdings of investors, institutional or retailers, including those who are perceived, on real or imaginary grounds, to have played 'Hamelin's pied piper flute'.
This view has, however, been partly contested by the incumbent president of the Dhaka Stock Exchange (DSE) who told the media last Tuesday that all 'money', earlier invested in and taken away from capital market, 'cannot be traced' in the Central Depository Bangladesh Limited (CDBL).
That raises the question whether any foul game was played in the market. This 'foul-game', as the allegations go, centered around the so-called book-building method, direct listing, approval of premium on issues, pre-placement of shares etc. And there are also allegations -- no body knows for certain whether they are real or not -- that there was an 'informal market' in operation for transactions of shares under direct listing and book building methods for floatation of public issues, even before the formal approval of prices by the regulator. Some powerful business houses and individuals were, allegedly, involved in such irregularities.
Those transactions are not reflected in the central depository. To trace out such transactions, bank accounts of the alleged 'players' or their proxies, not the central depository, will be relevant to gauge the extent of manipulation in the market, if there was any. But those 'inflated' prices fixed through bidding in the case of book building and also with direct listings, lured the investors to buy the same even at higher prices with the hope of making market gains.
Furthermore, there are allegations about 'doctored' accounts of some of the companies who had preferred direct listings or book-building for public floatation to inflate their share prices. A number of such companies who had earlier been making nominal profits or incurring losses, did reportedly show hefty profits in their financial statements at the time of public floatation of their issues through such methods.
Not that book-building or direct listing or the practice of issuing shares at a premium is fault here. Rather, the abuse of the same and the scope for it, that are issues of consequence here.
Now that a probe committee has been formed, headed by Mr. Ibrahim Khaled, a man of integrity and probity, and composed of Mr. Abdul Bari, former president of Institute of Chartered Accountants, Bangladesh (ICAB), and Prof. Toufic Ahmed Chowdhury, Director General, Bangladesh Institute of Bank Management (BIBM) as members, all concerned would expect that it would look into all-related developments in the capital market in past few years.
But the basic question remains whether the probe committee will have the remit to investigate into all the afore-noted allegations. If its terms of reference cover this, that will be welcome. And its findings will then help unearth the secrets of the 'bubble' or dispel misgivings. |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/27/2011 7:51 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | পুঁজিবাজার পতন : কিছু প্রশ্ন
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
Kaler Kantho
27.01.2011
আমি পুঁজিবাজারের ক্রেতা, বিক্রেতা বা ব্রোকার কোনোটাই নই। বলা যায় সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি একজন দর্শক মাত্র। সেই সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতা-দালালদের কথাবার্তা কানে আসে। মেলাতে চেষ্টা করি। এই হলো আমার লেখার উপাদান। প্রশ্ন হতে পারে, শোনা কথা লিখছি কেন? জবাবে মনে পড়ছে বাংলা প্রবাদ 'যা রটে, তার কিছু তো বটে।' আর দর্শক হিসেবে যা মনে হয়েছে, তা প্রকাশ করা নৈতিক দায়িত্ব। সত্যতা না থাকলে হারিয়ে যাবে। সত্য হলে সচেতনতা বাড়বে।
২০১০ সালে দুইবার বড় রকমের জোয়ার এসেছিল শেয়ারবাজারে। শেষটা ছিল সেপ্টেম্বরে। এর আগে থেকেই সাংবাদিকরা সাবধানধ্বনি উচ্চারণ করেছিলেন। মনে পড়ে, একজন অভিজ্ঞ অর্থনৈতিক সাংবাদিক একদিন দুপুরে আমার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা উৎকণ্ঠা নিয়ে আলাপ করছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পুঁজিবাজার উল্লম্ফনটি ভয়ংকর অস্বাভাবিক। পতন হলে আরেকটি ছিয়ানব্বই হবে। আমি অনুরোধ করেছিলাম পতনের দুঃস্বপ্নটি না দেখিয়ে সাংবাদিকদের উচিত শোধরানোর উপায় বাতলানো এবং আস্থা বিনষ্ট না করা। সাংবাদিক কথা রেখেছিলেন। আমিও কথা রেখেছিলাম। উৎকণ্ঠাটি বারবার টক-শোসহ বিভিন্ন আলোচনায় প্রকাশ করেছি। কিন্তু কুম্ভকর্ণের নিদ্রাভঙ্গ হয়নি, যদিও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে লাখ লাখ মানুষের।
মার্কেটিং তত্ত্বেও 'বাজার' বলতে যা বোঝায়, পুঁজিবাজার তেমন নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। এটি একটি ফটকা কারবার। 'বাজার' ব্যাখ্যা করা যায়। ফটকা কারবার ব্যাখ্যা করা যায় না। কেন ১০০ টাকার শেয়ার ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও কম্পানিটি অচল। এর ব্যাখ্যা কি বাজার অর্থনীতিতে মিলবে? সে জন্যই এটা বাজার নয়। জুয়া খেলা। তবে সংগঠিত বিদেশি পুঁজিবাজার সম্পর্কে এ কথা প্রযোজ্য নয়। সেখানেও জোয়ার-ভাটা আছে, যা মোটামুটি ব্যাখ্যাযোগ্য।
ঢাকা শেয়ারবাজারে সেপ্টেম্বর উল্লম্ফনের পর টক-শোতে বলেছিলাম (যা পরেও বলেছি) যে একটা দুষ্টু ছেলে বিরাট আমগাছটার কচি আগডালে উঠে গেলে,হয় সে ডাল ভেঙে ধপাস করে মাটিতে পড়ে হাত-পা ভেঙে ফেলবে, নচেৎ ধীরে ধীরে সাবধানে নেমে আসবে। নামতে তাকে হবেই। টক-শোতে অনুরোধ করেছিলাম, অন্ততপক্ষে সাবধানতার সঙ্গে ধীরে ধীরে নামতে সবাই যেন সহযোগিতা করেন। নামার কোনো বিকল্প নেই। কেউ বুঝে, কেউ না বুঝে মন্তব্য করেছিলেন, 'বুলিশ মার্কেটে' এমনটা হয়েই থাকে, চিন্তার কিছু নেই। ধারণাটা যে কতটা 'ফুলিশ' ছিল, অনেক দণ্ড দিয়ে তা বুঝতে হলো। একটি সম্ভাবনাময় শেয়ারবাজার গড়ে উঠেছিল। শত শত শিক্ষিত বেকার স্বনিয়োজিত হয়েছিলেন। কর্মসংস্থানের একটি নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছিল। জুয়াড়ি সিন্ডিকেটের চক্রান্তে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতায় (সহায়তায়?) লাখ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলো। কর্মচ্যুত হলো অনেক যুবক। ভাবতে অবাক লাগে, এত সবের পর একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী (যিনি সজ্জন ব্যক্তিও বটে) সাংবাদিকদের কাছে বললেন, শেয়ারবাজার পতনে সরকারের কিছু আসে যায় না! 'ওয়েট অ্যান্ড সি'_এ ধরনের মন্তব্য করাই কি তার পক্ষে শোভন হতো না?
ঘুরেফিরে যে কথাটি বারবার কানে আসছে, তা হলো সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে গত চার মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা, নাকি আনহোলি অ্যালায়েন্সের একটি সিন্ডিকেট মেরে দিয়েছে। সিন্ডিকেটের মূল সদস্যসংখ্যা নাকি দেড় থেকে দুই ডজনের বেশি নয়। তবে বিও অ্যাকাউন্ট গণনা করলে, সহযোগী ও বেনামিসহ সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে। মূল খেলোয়াড়রা নাকি বেশির ভাগ বিএনপি ঘরানার, যদিও পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তিরা। সংসদে দেখা-সাক্ষাৎ না হলেও পুঁজিবাজারে হরিহর আত্মা। বুঝহ সেজন, যেজন জানো হে সন্ধান।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন আছে। বিধিবিধান আছে। আছে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, সিকিউরিটি অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন। শোনা যায়, নিয়ন্ত্রক নাকি নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে! তাও নাকি সিন্ডিকেটের হাতে! সবাই তো সরকারকে দোষারোপ করছে। সরকার কোনো ব্যক্তি নয়। সরকার চলে বিভিন্ন বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ সংস্থা দায় এড়াবে কিভাবে? সরকার কি অ্যাকাউন্টিবিলিটি নিশ্চিত করবে? কমিশন কি পুনর্গঠিত হবে?
বাতাসে অনেক কথা ভেসে বেড়াচ্ছে। কিছু কিছু কথা তুলে ধরছি, কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করছি। দেখা যাক, সরকার ক্রিয়াশীল না ভাবলেশহীন! নাকি প্রতিক্রিয়াশীল!
একটি মুখরোচক রটনা হলো এই যে সিন্ডিকেটের বেশির ভাগ সদস্য বিএনপিপন্থী। আওয়ামীদের নেতৃত্বে তারা কাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। পুঁজি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতায়। উদ্দেশ্য দুটি। হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া গেল। একই সঙ্গে মহাজোট সরকারকে একহাত দেখিয়ে দেওয়া হলো। এক ঢিলে দুই পাখি শিকার! রটনাটি কিন্তু পরীক্ষাযোগ্য। তদন্ত করে নামে-বেনামে কারা অধিক উপার্জন করেছে, তার তালিকা বের করা সম্ভব। তাদের রাজনৈতিক রংও নির্ণয় করা সহজ। সিন্ডিকেটের আওয়ামী সদস্যদের চিহ্নিত করাও কঠিন নয়। সরকারের কোনো কোনো ক্ষমতাশালীর মাধ্যমে তারা বাধাহীনভাবে লুটতরাজ ঘটিয়ে চলেছিল, তাও উচ্চপর্যায় থেকে শনাক্ত করা যায়। কারণ কিছু কিছু সিদ্ধান্ত ওপর থেকে হয়ে থাকে। ওই সব সিদ্ধান্তের তদবিরে কারা ছিলেন, সেটি যাচাই করলেই আলামত পাওয়া যাবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন কঠিন সদিচ্ছা এবং আত্মসংশোধনের অঙ্গীকার।
দু-একটি বাজারের রটনা তুলে ধরা যাক। কোনো ইঙ্গিত মেলে কি না দেখার জন্য। প্রথমেই আসা যাক সিকিউরিটি অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের একজন বহুল আলোচিত মেম্বারের বিষয় নিয়ে। শোনা যায়, তাঁকে নাকি এখন 'নিষ্ক্রিয়' করা হয়েছে। আবার এও শোনা যায়, তিনি নাকি পদত্যাগ করেছেন। এই সদস্যের বিষয়ে সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে, মেসেজ পেঁৗছে যেত এবং অনেক অঘটন হয়তো ঘটত না। এই সদস্যকে 'মেম্বার' হিসেবে প্রথম টার্ম শেষ করার পর দ্বিতীয় টার্মের জন্য পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কয়েক মাস আগে। তখন শুনেছিলাম, ওই সদস্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চুক্তিপত্র সই না করেই তিন বছর চাকরি করেছেন, যা চাকরিবিধি অনুযায়ী একটি অনিয়ম। পুনর্নিয়োগের আগেই ওই সদস্য সম্পর্কে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সতর্কবাণী পেঁৗছানো হয়েছিল মর্মে আমি নিশ্চিত হয়েছি। তা সত্ত্বেও (এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অসম্মতি সত্ত্বেও) সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাঁর পুনর্নিয়োগ মঞ্জুর হয়ে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, কোন কোন ক্ষমতাশালী সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তি ওই সদস্যের পুনর্নিয়োগে অবদান রেখেছিলেন, তা আপনার ও সরকারের স্বার্থে তদন্ত করে দেখুন। কালো বিড়াল চিহ্নিত করার জন্য এটি একটি ইঙ্গিত।
বাতাসে আরো একটি কথা ভাসছে। রটনাটি আদৌ সত্য হলে তথ্যটি ভয়ংকর। শোনা যায়, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা নাকি উচ্চপর্যায়ে সিকিউরিটি অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের কোনো এক নির্বাহীর বিষয়ে সর্বৈব মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে ঘোলা জলে মৎস্য শিকার করতে চেয়েছিল। পর্যালোচনায় ধরা খেয়ে যাওয়ায় সংস্থাটি বোকা বনে গেছে। সত্যি এমন কিছু ঘটে থাকলে, বিষয়টি ওখানেই থেমে যাওয়া উচিত। কার স্বার্থে, কিসের বিনিময়ে এবং কোন কর্মকর্তা মিথ্যা রিপোর্ট প্রদানের সাহস পেল, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। তা না হলে, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য সরবরাহ অক্ষুণ্ন থাকবে, যা রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের জন্য ক্ষতিকর।
আরো একটি কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েক মাস যাবৎ। আগে ঘুষের কথা শোনা যেত। কিন্তু তা নয়। এখন শোনা যাচ্ছে, সিন্ডিকেট নাকি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের ছোট, মাঝারি, বড় চাকুরেদের শেয়ার (হালাল ঘুষ?) খাইয়েছে। সিন্ডিকেটই দাম ওঠা-নামা করায়। সে প্রক্রিয়ায় এসব 'গরিবদের' দুই পয়সা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা। আইপিওতে লাভ ভালো। সেগুলো ভাগযোগ করে দেওয়া এসব সহায়কদের মাঝে। ইন্টেলিজেন্সের ইনফরমাররাও বাদ যাবেন কেন? অবৈধ কিছু তো নয়। শেয়ার ব্যবসা তো একেবারেই হালাল। অনায়াস লাভে ইনফর্মারের ইনফরমেশন পাল্টে গেলে অঘটন ঘটে যেতে পারে। সংবেদনশীল পদে নিয়োজিতদের (ছোট-বড় সবাই) শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা উচিত কি না, তা নির্ধারণ করার ভার রাষ্ট্রের। তবে আমার পেশা জীবনের একটি তথ্য পেশ করতে পারি। পাকিস্তান আমলে করাচিতে তৎকালীন বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক হাবিব ব্যাংকের চাকরিতে যোগদান করেছিলাম প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে। অনেক ফরম, নিয়মাবলি ও অঙ্গীকারনামায় দস্তখত করতে হয়েছিল চাকরিতে যোগদানকালে। তার মধ্যে একটি অঙ্গীকারনামায় ছিল শেয়ারবাজার সম্পর্কে। অঙ্গীকার করতে হয়েছিল, 'ব্যাংকে চাকরিরত অবস্থায় আমি পুঁজিবাজারে বা অন্য কোনোভাবে কোনো কম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করব না, করতে সাহায্য করব না, এমনকি তেজি-মন্দা বিবেচনায় নামে-বেনামে বা কোনোভাবে অর্থ বিনিয়োগ করব না।' ব্যাংকারদের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে তখনো কোনো আইনি বাধা ছিল না। কিন্তু নৈতিকতাবিরোধী বিবেচিত বিধায় অঙ্গীকারনামা নেওয়া হতো। সেই থেকে আমি কোনো দিন শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করিনি দীর্ঘ ব্যাংকার জীবনে। শেয়ার নামীয় জুয়া খেলার ব্যাপারে সরকার কি সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করবে? বিধিনিষেধ অর্পণ করবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের দু-চারজন কর্মকর্তা পুঁজিবাজারে খেলা খেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজে ও সুনামে কেমন কালিমা লেপন করেছিলেন, সরকার ইচ্ছা করলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারে।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দুটি শব্দ অনেকবার উচ্চারণ করেছেন। প্রকাশ্যে এবং নিভৃতে। শব্দ দুটি ছিল 'আত্মসমালোচনা' ও 'আত্মসংশোধন'। সে উদ্দেশ্যেই এ লেখাটি। বলা হতে পারে, এতই যদি শুভাকাঙ্ক্ষী, তাহলে প্রকাশ্যে না লিখে গোপনে বললেই হতো। হলে ভালো হতো। হয়নি। গোপনে এবং নিম্নকণ্ঠে অনেক বলেছি। কেউ কর্ণপাত করেনি। তাই 'ঘা দিয়ে জাগাতে' চাচ্ছি। মাত্র বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় আংশিক কার্যকর হয়েছে। দুরাচার, যুদ্ধাপরাধী তথা মানবতাবিরোধীদের বিচার শুরুই হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের অনেক অর্জন নষ্ট হয়ে গেছে। উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে এ সরকার। অনেক কাজ বাকি। তাই মুক্তিযুদ্ধের মহাজোটকে আফিম খাইয়ে ঘুমপাড়ানি গান যারা শোনায় তাদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ঘা দিয়ে জাগিয়ে তোলা সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব।
২৩ জানুয়ারি ২০১১
লেখক : সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বর্তমানে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/27/2011 10:03 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | এখন ডিভিডেন্ড দেখে শেয়ার কেনার সময় এসেছে
আবু আহমেদ
Kaler Kantho
17 Jan, 2011
শেয়ারবাজারে ২০০৯ ও ২০১০-এর মতো কিনলেই লাভের সেই অবস্থা সম্ভবত আর কখনোই ফিরে আসবে না। তবে শেয়ারবাজার থাকবে এবং বড় হবে। শেয়ারবাজার ঘিরে আলোচনা-গবেষণা এবং সমালোচনা চলতেই থাকবে। অন্য বিষয়টি হলো, শেয়ারবাজারের বিষয়টি আমাদের নীতিনির্ধারকদের কথায় সবসময়ই একটা বিষয় হিসেবে থাকবে। এত দিন এ বাজারকে এড়িয়ে রাজস্ব ও আর্থিক নীতি অবলম্বন করা সম্ভব হলেও সামনে তা আর হবে না। শেয়ারবাজার সামনের দিনগুলোতে শিল্প ও ব্যবসার পুঁজি সংগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। ব্যাংকের অর্থে শিল্প স্থাপন করার সেই পুরনো পদ্ধতি আর কাজ করবে না। ব্যাংকিং খাত ব্যবহৃত হবে শিল্প ও ব্যবসার স্বল্পমেয়াদি পুঁজি জোগানোর ক্ষেত্রে। গত দুইবছর বাজারে শেয়ারের স্বল্পতাহেতু কোনো রকম হিসাব না- মিলিয়ে শেয়ারের মূল্য শুধু বেড়েছেই। সামনে তেমন ঘটবে না। তবে সেই দুই বছরেও মাত্র সামান্য কয়েকজন উদ্যোক্তা সুযোগটা বুঝতে পেরে তাঁদের ব্যবসার নামে অতিসস্তায় অধিক পুঁজি সংগ্রহ করেছেন। সামনের দিনগুলোতে সেই সুযোগ আর আসবে না। ২০০৯ ও ২০১০-এ অন্যতম বড় ব্যবসা ছিল কম্পানি গঠন করে শেয়ার- বেচা অথবা পুরনো কম্পানি থেকে বোনাস- শেয়ার দেওয়া। সামনের বছরগুলোতে বোনাস শেয়ার পাওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অনেক বিরক্তি আসবে। ব্যবসা নেই, অথচ বোনাস_ শেয়ার দিয়ে কিছু কম্পানি পুঁজির ভিত বাড়িয়ে ভবিষ্যতে ক্যাশ মুনাফা দেওয়ার ক্ষমতাটা নষ্ট করেছে। কিন্তু বোনাসের জন্য পাগল বিনিয়োগকারীরা ব্যবসা বাদে বোনাস শেয়ার দেওয়ার ক্ষতির দিকটা বুঝতেই পারেননি। ব্যাংকিং কম্পানিগুলো বিগত কয়েক বছর অনেক লাভ করেছে। তারা বোনাস শেয়ার দিতে অনেকটা বাধ্য হয়েছে এবং দিয়ে তাদের উদ্যোক্তা পরিচালকদের অনেক লাভও হয়েছে। তবে সামনে ব্যাংকিং কম্পানিগুলো শেয়ারপ্রতি বর্ধিত আয় কিভাবে ধরে রাখে তা দেখার বিষয়। তাদের জন্য পরীক্ষার সময় এখনো আসেনি। তবে সামনে অবশ্যই আসবে। সবকিছু নির্ভর করছে অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির ওপর। অর্থনীতি যদি উঁচু প্রবৃদ্ধিতে যায়, তা হলে ব্যাংকিং কম্পানিসহ অন্য অনেক কম্পানি ভালো লাভ করবে। অন্যথায়, সর্বত্র একটা মন্দাভাব আসতে পারে। ২০০৯ ও ২০১০-এ শেয়ার কিনলেই লাভ হতো। ফলে, অনেকে শেয়ারের ফান্ডামেন্টালস (Fundamentals) দেখা ছেড়ে দিয়েছিল। তারা ছুটেছিল ক্যাপিটাল গেইনস বা মূলধনী আয়প্রাপ্তির পেছনে। বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী বুক-ক্লোজার বা শেয়ারের রেকর্ড, ডের আগে শেয়ার বিক্রি করে দিত। ২০০৯ ও ২০১০-এর ঊর্ধ্বগতির সময় বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী শেয়ার ব্যবসায়ীতে রূপান্তরিত হলো। শুনতে খারাপ লাগত, শেয়ারবাজারের লোকরা নিজেদের শেয়ার ব্যবসায়ী বলছে। কিন্তু সেদিন শেষ হয়েছে বলেই মনে হয়। শেষ হওয়ার দুটি কারণ হলো, সামনে কম মূল্যে অনেক শেয়ার বাজারে আসছে। আর ২০০৯-২০১০-এ শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি করার সব ফর্মুলা ব্যবহারকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এমন সুযোগবাদী লোকদের ঝুলিতে আর তেমন নতুন ফর্মুলা আছে বলে মনে হয় না। দুটি ফর্মুলা তারা ব্যবহার করেছে। একটা হলো ১০০ টাকার অভিহিত মূল্যের শেয়ারকে ১০ টাকায় করে বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্তি্বকভাবে দুর্বল করে ১০ টাকার অভিহিত মূল্যের শেয়ারের পেছনে দৌড়ানো। দুই. কথিত অ্যাসেট রিভ্যালুয়েশনের নামে আর এক ধোঁকা দেওয়া। এই দুটি কারসাজির ফর্মুলার সঙ্গে গুজবকে অতি সক্ষমভাবে তারা শেয়ার মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে। ২০০৯-২০১০_এই দুইবছর শেয়ার কেনার জন্য ঋণ বেচারও দুটি স্বর্ণময় বছর। সামনে কথিত মার্জিন লোনের অত চাহিদা থাকবে না। ব্যাংকিং ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ঋণের ডালা পেতে বসে থাকবে কিন্তু ঋণের ক্রেতা পাবে না। বাজার থেকে বুলরা (bulls)) যখন বিদায় নেয়, তখন ভল্লুকদের পদচারণ ঘটে। ২০১১-তে ভল্লুকের পদচারণ অবশ্যই ঘটবে বলে মনে হয়। সেই ঘটার পূর্বাভাস সবাই পেয়েছে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের শেয়ার মূল্যের গতি-প্রকৃতি থেকে। শেয়ারবাজারে আরো মূল্য সংশোধন হবে, তবে সেটা হবে ২০১১-তে আরো অধিক শেয়ার সরবরাহ থেকে। শেয়ারবাজার নিজ ভারেই পড়ে যেতে পারে। একটা যৌক্তিক পর্যায়ে এসে এ বাজার স্থিতিশীল হবে। আর তখন শেয়ারের মৌলভিত বা ঋঁহফধসবহঃধষং শেয়ার চয়নের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে কম্পানির ব্যবসায়িক সফলতা বিবেচনায় আসবে না, এমন হতেই পারে না। সামনের দিনগুলোতে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কম্পানির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সফলতা-ব্যর্থতাকে অবশ্যই হিসাবে নিতে হবে।
শেয়ার থেকে আয় আসে দুইভাবে। এক. কথিত মূলধনপ্রাপ্তি এবং দুই. ডিভিডেন্ড (dividend)। এই দুটি মিলে বিনিয়োগকারীকে হিসাব করতে হবে, এ বাজারে টাকা খাটিয়ে সে কী পাচ্ছে। এই দুটি মিলিয়ে সে যদি দেখে অর্থের বিকল্প ব্যবহারের আয় থেকে এখানে আয় বেশি তাহলে সে এ বাজারে বিনিয়োগ করবে। সামনের দিনগুলোতে মূলধনপ্রাপ্তি হ্রাস পেলে অন্য উপাদান ডিভিডেন্ডকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। আর, সে- অবস্থায় ১০ টাকার শেয়ারকে এক হাজার টাকায় কিনে ৫০ শতাংশ ডিভিডেন্ড পেলে সেটা পোষায় কি না তা বিনিয়োগকারীকে হিসাব করে দেখতে হবে। এক হাজার টাকা বিনিয়োগ করে পাঁচ টাকা (বা ৫০%) পেলে শতকরা প্রাপ্য কত হলো একবার হিসাব করে দেখুন।
এই শেয়ার কেবল ৫০ টাকায় কিনলেই বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ মুনাফা পেতে পারে। একটা সময় ছিল, যখন আমাদের শেয়ারবাজার থেকে মুনাফা বা ডিভিডেন্ড পাওয়া যেত প্রায় সুদের হারের সমান। আর এখন পাওয়া যায় সুদের হারের মাত্র এক-দশমাংশ। এর অর্থ হলো, আমরা ১০ গুণ বেশি মূল্যে শেয়ার কিনছি। Dividend Yield কখনো সুদের হারের সমান হবে না, তবে সাধারণ নিয়ম বলে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশের সমান হওয়া উচিত। অন্য কথায় আমরা যে শেয়ার এক হাজার টাকায় কিনছি সেটি কিনতে হবে বড়জোর ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। ডিভিডেন্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাজার বহুদিন ওপরে থাকতে পারে না। আর থাকতে যে পারে না সেই ইঙ্গিত বাজার ইদানীং দিয়ে যাচ্ছে।
লেখক : অর্থনীতিবিদ |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
|