| 01/10/2011 2:05 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | A new thread is opened for the articles published in print and digital media.
Please post any useful article from any newspaper, online news site or blog.
Thanks!!!! |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/10/2011 2:41 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | শেয়ারবাজারে ভল্লুকের প্রবেশ ঘটবে!
Kaler Kantho
03.01.2011
(অধ্যাপক আবু আহমেদ )
আমার ছাত্র কামাল এখন একটা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট। আমাকে পেয়ে এক রকম জোর করেই তার অফিসে নিয়ে গেল। নিয়ে এক কাপ চা পান করতে দিয়ে শেয়ারবাজার সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে লাগল। সে বলল, স্যার, আপনাকে জিজ্ঞেস করার মূল উদ্দেশ্য হলো, সারা জীবনের সঞ্চয় আমার এখন শেয়ারবাজারে। লাভ কতটা হয়েছে তার চেয়ে ভয়ে থাকি পুঁজিটা কতটা খোয়ালাম এ নিয়ে। আমি কামালকে বললাম, তুমি অর্থনীতির লোক, এখন আবার বাণিজ্যের লোক। তোমার তো অবশ্যই ধারণা আছে শেয়ারবাজার মূলধনী প্রাপ্তির বাজার যেমন, তেমনি মূলধন ক্ষয়েরও বাজার। তবে এই বাজারে তোমাদের মতো লোকদেরই ভালো করার কথা।
কারণ, তোমার তাত্তি্বক জ্ঞান আছে; আবার বাজার পড়তি অবস্থা শেষে সুবিধা নেওয়ার জন্য নতুন অর্থের জোগানও আছে। তাই তোমার মতো লোকের ভয় পাওয়ার কথা নয়। কামাল বলল, ভয় এখন আর পাই না। প্রথম প্রথম পেতাম। তাত্তি্বক জ্ঞান যতই থাক না কেন, প্রায়োগিক বা অ্যাপ্লাইড জ্ঞান কম ছিল। আপনার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ-জয়ের কৌশল বইটা পড়ে প্রায়োগিক দিকটার অনেক কিছু জানতে পারলাম। আপনার বই আমাকে আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন আমি ভোগ করি কম, সঞ্চয় করি বেশি। আর সঞ্চয় অর্থ ব্যাংকে না রেখে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছি। কামাল জানতে চাইল, ডিসেম্বরের শেষদিকে পর পর তিন দিন বাজার পড়া দেখে সেই পড়া বিয়ার মার্কেটের (Bear Market) ইঙ্গিত দেয় কি না।
আমি কামালকে থামিয়ে বললাম, তিন দিনের পড়া থেকে ভল্লুক বা বিয়ারের পদচারণ বোঝা যাবে না। অতি স্বাভাবিক বাজারে তিন দিন শেয়ারবাজার পড়তে পারে। ও বলল, ডিসেম্বরের ১৯ তারিখ যে ৫৫০ পয়েন্ট পড়ে গেল, ওই পড়া বাজার ক্র্যাশের ইঙ্গিত দেয় কি না। আমি বললাম, তাও দেয় না। এক দিন বড় রকমের কারেকশন বা শুদ্ধ হতেই পারে, বিশেষ করে বাজার যখন একাধারে অনেক দিন বাড়তে থাকে। তবে আমাদের বাজারটা কোনো রকম বড় ঘটনার প্রতি জবাব দিতে গিয়ে পড়েনি, বলা চলে, নিজের ভারে নিজেই পড়েছে। কামালের ভয় হলো সামনের অবস্থা নিয়ে। সে আমার মত জানতে চাইল সামনে শেয়ারবাজার কেমন যাবে। আমি বললাম, যাবে ভালো-মন্দ মিশিয়ে। তবে ২০১০ সালের মতো আশা কোরো না। ২০১০ সাল ছিল শেয়ারবাজারে অর্থ কামাই করার স্বর্ণ বছর, তা চলে গেছে। তবে সত্য হলো, অধিকাংশ বিনিয়োগকারী অর্থ বাইরে নিতে পারেনি, তারা বেশি মূল্যে শেয়ার বেচেছে, আবার বেশি মূল্যে শেয়ার কিনেছে। ব্যাংক ও লিজিং কম্পানিগুলো শেয়ারবাজার থেকে অনেক ফায়দা লুটেছে। চাহিদার বিস্ফোরণ ঘটেছে। সে হিসেবে শেয়ারের সরবরাহ কম ছিল।
বাজার সামগ্রিকভাবে অতি মূল্যায়িত হয়েছে। ২০১১ সালে বাজার শুধু শুদ্ধ হবে। এর কারণ হলো, বাজারে নতুন শেয়ার আসতে থাকবে। অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণের বড় কাজটা ২০১০ সালে ঘটে গেছে। শুধু এই বছরই ১৫ লাখ নতুন বিনিয়োগকারী বাজারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তুমি কি মনে করো, ২০১১ সালে আরো ১৫ লাখ বিনিয়োগকারী যোগ হবে? আমি মনে করি না। বাজার ভালো দেখলে ৫-৭ লাখ যোগ দিতে পারে। আর বাজার খারাপ গেলে ৩৩ লাখের মধ্যে ২০ লাখই ইনঅ্যাকটিভ হয়ে বসে পড়বে। কামাল জানতে চাইল, বড় রকমের দরপতন যদি Bear Market সিগন্যাল না দেয়, তাহলে কী কী চিহ্ন ওই ব্যাপারে ইঙ্গিত দেবে?
আমি কামালকে বললাম, ওই জন্য তোমাকে বাজার ওয়াচ বা পর্যবেক্ষণ করে যেতে হবে। প্রথম চিহ্ন হবে বাজারে টার্নওভার বা লেনদেন কমে যাবে। দ্বিতীয় চিহ্ন হবে, অধিকাংশ বিনিয়োগকারী কেনাবেচা না করে Wait and see policy গ্রহণ করবে। তৃতীয় চিহ্ন হবে ব্রোকার হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের নিত্যউপস্থিতি অনেকটা কমে যাবে। চতুর্থ চিহ্ন হবে, সংবাদ মাধ্যম শেয়ারবাজার নিয়ে বড় নিউজ করবে না। আর শেষ চিহ্ন হবে চারদিকে একটা হতাশার আবহ তৈরি হবে। আর বাজার তখন শুধু পড়বেই। সে পড়া কত দিন যাবৎ পড়ে, তা কেউ বলতে পারবে না।
বাজার বটম বা তলানিতে গিয়েও অনেক দিন অবস্থান করতে পারে। তারপর অতি ধীরে উঠতে থাকবে। তোমরা বিয়ার মার্কেটকে ভয় না করে তখন যদি বিনিয়োগ কর তাহলে উপকৃত হবে। বিয়ার মার্কেটে মার্জিন লোন বা শেয়ার কেনার ঋণ প্রদানও অনেকটা কমে যাবে। ব্যাংক ও লিজিং কম্পানিগুলো নিজেদের পোর্টফলিওতে কেনা-বেচা কমিয়ে দেবে।
কারণ, এসব কম্পানির কর্মকর্তারা বসদের কাজে জবাবদিহি করতে পারবেন না। এসব কম্পানি চায় ছয় মাস-এক বছরের মধ্যে লাভ। অথচ বিয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করলে লাভ ঘরে আসতে সময় লাগে। সেই জন্য বলছি ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা Bottom out মার্কেটে বিনিয়োগ করলে লাভ বেশি পাবে। কামাল আমার কথা শুনল এবং ভাবতে লাগল ২০১১ সালে কি বাজারে সত্যিকার অর্থে ভল্লুক বা বিয়ার প্রবেশ করবে?
লেখক : অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/10/2011 1:56 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | আস্থা ফেরাতে বড় কোম্পানির শেয়ার বাজারে আনতে হবে
অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ
The Daily Ittefaq
11.01.2011
এজাজ হোসেন
পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এখন প্রয়োজন নীতি সমর্থন। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসিকে একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বড় বড় ব্যাংক, ইন্সু্যরেন্স, লিজিং একসঙ্গে বিনিয়োগ শুরু করলে বাজারে আবার আস্থার পরিবেশ ফিরে আসতে পারে। দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা এসব মন্তব্য করেছেন। সোমবার শেয়ারবাজারে স্মরণকালের সর্বোচ্চ দর পতনের পর সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এই ঘটনার পেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শেয়ারবাজার দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়লে সেটি হবে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, এই সমস্যার তাৎক্ষণিক কোন সমাধান নেই। অধৈর্য হওয়া চলবে না। ধৈর্য থাকতে হবে। বাজারের এই অবস্থা সব সময় থাকবে না। প্রত্যেক মিনিটে মিনিটে যদি কেউ লাভ খুঁজতে থাকে তাহলে কোন সরকারই তা দিতে পারবে না। তবে সরকারকে পরিস্থিতির উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে। এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে এসইসিকে শক্তিশালী করা, যাতে এসইসি ভালভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। দ্বিতীয়ত সরকারকে ভাল শেয়ার বাজারে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, শেয়ার বাজারের ধর্ম হলো উঠবে-নামবে। এটাই বাজার অর্থনীতির নিয়ম। সোভিয়েট ঘরানার অর্থনীতি হলে সেটা হতো ভিন্ন কথা। সেটা হলে সব কিছু কৃত্রিমভাবে বেঁধে রাখা যেত। কিন্তু বাজার অর্থনীতিতে বাজার নিজস্ব গতিতেই চলে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য এ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে পালন করতে হবে। ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধ করতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, আমাদের কোন একটা কিছু একবার দাঁড়িয়ে গেলে মানুষ হুড়মুড় করে সেদিকে যেতে থাকে। এনজিও হতে থাকল। তখন দেখা গেল হাজার হাজার এনজিও হতে লাগল। বিশ্ববিদ্যালয় হতে থাকল, শত শত বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে গেল। একইভাবে শেয়ার বাজারে একজন লাভ করল। তখন সবাই সেদিকে দৌড়াতে লাগল। কিন্তু শেয়ার বাজার খুব ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। এখানে টিকে থাকার জন্য বাজার সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকা প্রয়োজন। ভাসা ভাসা ধারণা নিয়ে সেখানে টিকে থাকা কষ্টকর। জেনেশুনে স্টক মার্কেটে যাওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, শেয়ার বাজার স্থিতিশীল করার জন্য ভাল ভাল কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসা দরকার। সরকার দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে সরকারি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে। কিন্তু সে কাজটি করা হয়নি। খুব দ্রুত সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে ছাড়া উচিত। তাতে বাজার স্থিতিশীল হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, আমার মনে হয় মানুষের আস্থায় চিড় ধরেছে। সোমবার ট্রেডিং শুরু হওয়ার প্রথম ৫০ মিনিটে বাজার যেভাবে পড়েছে, সেটি ছিল অস্বাভাবিক। রবিবার পর্যন্ত বাজার যতটুকু পড়েছিল সেটা ঠিকই ছিল। কিন্তু সোমবার ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক না বলে উপায় নেই। আসলে মানুষের আস্থায় যখন চিড় ধরে তখন সৃষ্টি হয় হতাশা। আর একটা হতাশা থেকে আরো অনেক হতাশার ঢেউ তৈরি হয়। তিনি উলেস্নখ করেন, এই পরিস্থিতির জন্য কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তবে এখন আবার বাজারকে স্থিতিশীল করার জন্য সরকারের নীতি সমর্থন দরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসিকে একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বড় বড় ব্যাংক, ইন্সু্যরেন্স, লিজিং এক সঙ্গে বিনিয়োগ শুরু করলে বাজারে আবার আস্থার পরিবেশ ফিরে আসতে পারে। বাজার যাতে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার কবলে না পড়ে সেটা দেখার দায়িত্ব সরকারেরই। যদি সরকার সেটা না দেখে এবং বাজার যদি দীর্ঘমেয়াদি মন্দার কবলে পড়ে তাহলে সেটা সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য দেশের অর্থনীতির জন্য হবে ক্ষতিকর। সেটি হবে দুর্ভাগ্যজনক।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই বাজারে অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আছে। তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ, যেমন বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়িয়ে এদের সুরক্ষা দেয়া যেতে পারে। আর বাজারে যে অনিয়মের কথা শোনা যায় সেটি ঠিক করার জন্য এসইসিকে মধ্যমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। সেগুলো প্রতিক্রিয়াশীল না হয়ে সুবিবেচনাপূর্ণ হলেই ভাল। তিনি আরো বলেন, শেয়ারবাজার তৈরি হয়েছিল কোম্পানিগুলো যাতে এখান থেকে ইকু্যইটি সংগ্রহ করতে পারে সেজন্যে। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি ক্যাসিনোর রূপ ধারণ করেছে। এই বাজারকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/10/2011 1:57 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | পুঁজিবাজারের ধস ঠেকাতে পলিসিগত পদক্ষেপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ
ইআরএফ'র আলোচনা সভায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
11.01.2011
ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সূচক ভালো বুঝেন। আর নতুন শেয়ার বাজারে এলে সূচক বাড়ে। তাই পুঁজিবাজারে সমপ্রতি যে ব্যাপক ধর পতন হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য বাজারে নতুন শেয়ারের সরবরাহ দ্রুত বাড়াতে হবে। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারের ধস ঠেকাতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) , ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই), অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশিস্নষ্টদের সমন্বয়ে পলিসিগত পদক্ষেপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া এই সমন্বিত উদ্যোগের সঙ্গে এসইসি'র সাবেক চেয়ারম্যানদের সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দিয়েছেন আলোচকরা।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইআরএফ আয়োজিত 'ক্যাপিটাল মার্কেট : ইন সার্চ অব স্ট্যাবিলিটি' শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তরা এসব কথা বলেন। ইআরএফ সভাপতি মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম, এসইসি'র সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, ডিএসই'র সভাপতি মো. শাকিল রিজভী, সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবু কাওসার।
এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে এখন একটি আতংক বিরাজ করছে। মূলত এ কারণেই শেয়ারের এত ব্যাপক দর পতন হয়েছে। তবে দ্রুত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য বাজারে নতুন শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। কারণ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সূচক বাড়া-কমা খুব ভালো বুঝেন। আর নতুন নতুন শেয়ার বাজারে আসলে সূচক বাড়বে বলে জানান তিনি।
পুঁজিবাজারে যেসব বিনিয়োগকারীর ভালো শেয়ার আছে তাদেরকে বর্তমান অবস্থায় শেয়ার লস দিয়ে বিক্রি না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যে জিনিসের দাম দ্রুত নামে, সেটা আবার দ্রুত উঠেও যায়। তাই ভালো কোম্পানীর শেয়ার ধরে রাখতে পারলে যে কোন খাতে বিনিয়োগের চেয়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ থেকে বিনিয়োগকারীরা বেশি লাভবান হবেন বলে জানান তিনি। তাই বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধরে রাখার ক্যাপাসিটি থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
আজিজুল ইসলাম আরও বলেন, মার্কেটের আরও কিছু সংশোধন হবে। আর এটার প্রয়োজনও আছে। তারপরও মার্কেট আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি।
নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কতিপয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে যে নির্দেশনা দিয়েছিল, অনেক ব্যাংক তা অমান্য করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে। ফলে অনেক শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মরিটরিংয়ের দরকার ছিল বলে জানান তিনি। কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে রিয়েল সেক্টরে। এছাড়া বাজার ঊধর্্বমুখী হওয়ার সময় পুঁজিবাজার সংশোধনে এসইসি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেগুলোকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেয়া উচিত ছিল বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে বর্তমান দর পতনে পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগের ভূমিকা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখারও পরামর্শ দেন তিনি।
এসইসিই'র সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, যত দ্রুত পুঁজিবাজারের বিস্তৃতি ঘটেছে, সেই হারে বাজারের জন্য দক্ষ জনবল বাড়েনি। তবে বাজার বিশেস্নষণের জন্য এসইসিতে বহু দক্ষ জনবলের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বিনিয়োগকারীদের হতাশ না হয়ে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান ডিএসই'র সভাপতি শাকিল রিজভী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারেকশান হওয়ার পর পুঁজিবাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। এছাড়া বাজার সংশোধন হওয়ার পরও আবার উত্থান-পতন আসতে পারে। সেই অবস্থাও বিনিয়োগকারীদের মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া যাদের অলস টাকা আছে, সাধারণত তাদেরই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/12/2011 6:11 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE |
সংবাদ বিশ্লেষণ
পুঁজিবাজার: এখন শুধু দরকার বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য আর সচেতনতা
সালাম ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
জানুয়ারি ১২, ২০১১
পুঁজি বাজারে দরপতনের রেকর্ড হলো রোববার। এরপর সোমবার সেই রেকর্ড ভেঙ্গে আরও দরপতন হলো। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তা নিয়ে হলো বিক্ষোভ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লাঠিপেটা। তাতে রক্ত ঝড়লো। তবে এর পরের দিনই মঙ্গলবার দুইদিনের মোট পতন মুছে গেলো দরের রেকর্ড উত্থানে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যারা নতুন তারা অবাক হলেন। কিন্ত যারা পুরোনো তারা হয়তো ভেতরে ভেতরে এই অংকই কষলেন ‘দরপতনের পর বিক্ষোভ হয়, আর বিক্ষোভের পর হয় উত্থান’।
তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন একটাই শিক্ষাÑ ‘পড়তি মার্কেটে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বিক্রি আর উঠতি মার্কেটে অত্যুৎসাহী হয়ে কেনাÑ দুটোই বর্জনীয়।’
চলতি সপ্তাহের প্রথম দু’দিনের অস্বাভাবিক পতনকেও হার মানিয়েছে তৃতীয় দিনের উত্থান। শুধু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জই (ডিএসই) নয়, এমন অস্থির উঠানামার বাইরে ছিল না চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই)। অবশ্য বছরের প্রথম কার্যদিবস থেকেই পুঁজিবাজারে ছিল অস্থিরতা।
মঙ্গলবারের উত্থানেও দু’টি কারণে বিনিয়োগকারীদের আনন্দে উদ্ভাসিত হওয়ার সুযোগ নেই। এক. টানা ছয় কার্যদিবসে যেটুকু কমেছে শেষ কার্যদিবসে এসে তার অর্ধেকের বেশি বেড়ে যাওয়া কিছুটা স্বস্তি দিলেও আগের জায়গায় যেতে এখনও ৮০০ পয়েন্ট বাকি। একদিনে যা বেড়েছে পরদিন বা এ সপ্তাহেও এটুকু বাড়ার সম্ভবনা কম। আর বাড়লেও তা অস্বাভাবিক বলেই ধরে নিতে হবে। দুই. এ সময়ের মধ্যে সূচক আগের জায়গায় উঠলে ঝুঁকির মাত্রা আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। শেয়ার মার্কেটের লাগাম টেনে ধরতে তখন আবার সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নানা পদক্ষেপ নেবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক বৈ ইতিবাচক হবে না।
আট হাজার ২৯০ পয়েন্টে শেষ হয়েছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২০১০ সালের সাধারণ সূচক। এরপর নতুন বছরে ২ জানুয়ারি প্রথম কার্যদিবসে এ সূচক ১৪ পয়েন্ট বাড়লেও পরের ছয় কার্যদিবসে কমেছে প্রায় এক হাজার ৮০৫ পয়েন্ট। আর অষ্টম কার্যদিবেস এসে মঙ্গলবার একদিনেই বাড়লো প্রায় এক হাজার ১৩ পয়েন্ট। এতে সাধারণ সূচকের সর্বশেষ অবস্থান দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৫১২ পয়েন্টে। আর এ সূচক ইতিহাসের সর্বোচ্চ আট হাজার ৯১৮ পয়েন্টে ছিল গত ৫ ডিসেম্বর।
সূচক পতনের ধারায় বছরের দ্বিতীয় কার্যদিবস ৩ জানুয়ারি ১২০ পয়েন্ট, ৪ জানুয়ারি ২০৪ পয়েন্ট, ৫ জানুয়ারি ৩৩ পয়েন্ট, ৬ জানুয়ারি ২১৩ পয়েন্ট, ৯ জানুয়ারি রেকর্ড পরিমাণ ৬০০ পয়েন্ট এবং ১০ জানুয়ারি আগের দিন রেকর্ড ভেঙ্গে ৬৩৬ পয়েন্ট কমে।
এদিকে, সিএসইতেও মঙ্গলবার এ যাবত সর্বোচ্চ দুই হাজার ১৮৯ পয়েন্ট বেড়ে সার্বিক সূচক দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৮৯৫ পয়েন্টে।
দু’দিনে রেকর্ডসহ টানা ছয় কার্যদিবসের পতন ক্ষুব্ধ করে তুলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরও। এর জের ধরে শেষ তিন কার্যদিবসেই ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা। এর মধ্যে শেষ দিন অর্থাৎ গত সোমবারের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।
এমনকি বিভিন্ন স্থানে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।
এ অবস্থায় সোমবার রাতে জরুরি বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর থেকে বিনিয়োগের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরদিনই ডিএসইর সাধারণ সূচকের এক হাজার ১৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি, সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক পতনগুলোর চেয়েও অস্বাভাবিক।
সূচকের এমন ঊর্ধ্বমুখিতা দেখে বিনিয়োগাকারীদের আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখিতায় অধিকাংশ শেয়ারই অতিমূল্যায়িত হয়ে ঝুঁকিমাত্রায় পৌঁছে গেছে। সূচক চলে গেছে অনেক উপরে। তাই বাজারের সংশোধন হয়ে পড়েছিল খুবই জরুরি। আর এ সূচকের এ লাগাম টেনে ধরতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন একের পর আদেশ জারি করে। তবে এ কাজটি তারা ধীরে ধীরে করতে পারতো। তাদের অদূরদর্শিতার কারণেই আজ অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে আহাজারি করছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ তাদের সংসার চালায় এখান থেকে।
রোববারের পতনের পর অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, দরপতন হলে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙচুর করে। কিন্তু বাড়লে তো রাস্তায় নেমে মিষ্টি বিতরণ করে না। তার এ বক্তব্য যে বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখকর নয়, কারোরই তা অনুধাবন করতে না পারার কথা নয়।
ব্যাপক দরপতনের পেছনে যে শুধু সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনই দায়ী, তা কিন্তু নয়। বিনিয়োগকারীরাও কিছুটা দায়ী। গুজবে আতঙ্কিত হয়ে তারা শেয়ার ছেড়ে না দিলে হয়তো এতোটা খারাপ অবস্থা হতো না। তাই সামনের দিনগুলোতে আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে বা ক্ষোভে দিশেহারা না হয়ে ধৈর্য ধরে বিনিয়োগকারীরা সচেতনতার পরিচয় না দিলে বাজার আরও ভয়ঙ্কর হয়ে পড়ার শঙ্কা থেকে যাবে।
সবকিছুর পরও ভয় নেই তাদের, যারা কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মৌলভিত্তি, বিগত বছরগুলোর আর্থিক অবস্থা ও লভ্যাংশ দেওয়ার হার, মূল্য-আয় অনুপাত (পি/ই রেশিও), শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস), ক্যাটাগরি দেখে বিনিয়োগ করেছেন। ভালো মৌলভিত্তি, ৩০-এর মধ্যে পি/ই রেশিও ও ভালো ইপিএস থাকা শেয়ার ও ইউনিটের দর শিগগরিই ভালো অবস্থানে চলে আসবে, এতে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। এছাড়া সামনেই আসছে লভ্যাংশ ঘোষণার সময়। অন্তত এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে কিছুদিন অপেক্ষা করাই হবে বিনিয়োগকারীদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
তবে বাজার খেলোয়াড়দের (গেম্বলার) সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা কিছুটা কঠিন। তাই তাদেরও ধৈর্য ধরা বা অন্য কোম্পানি বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার বা ইউনিটের সঙ্গে নেটিং করা ছাড়া কিছুই করার নেই।
বিনিয়োগকারীদের সবসময় মনে রাখতে হবে, এটা কোনও ব্যবসার জায়গা নয়। এটা বিনিয়োগের জায়গা। বিনিয়োগ করা কোম্পানি বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উন্নতিতেই তার লাভ ও আয় অন্তর্নিহিত। তাই এখানে তাড়াহুড়ো করা বা জুয়াড়িদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা ছাড়া ঝুঁকিমুক্ত থাকার কোনও উপায় নেই।
বাংলাদেশ সময় ১০০০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১২, ২০১১ |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/12/2011 1:11 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | শেয়ারবাজারে বিপর্যয় যেসব কারণে
The Daily Janakantha
13.01.2011
রাজু আহমেদ ॥ বেশ কয়েকটি চক্রের মুনাফালোভী তৎপরতা এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের ষড়যন্ত্রের সম্মিলিত চাপ দেশের পুঁজিবাজারে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করে। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ওই রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি শেয়ারবাজারে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করে। শীর্ষস্থানীয় একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস প্রায় তিন মাস ধরে এই অর্থ বিনিয়োগের জন্য কাজ করেছে। এরসঙ্গে বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত কয়েক জনের অতি মুনাফার লোভ বাজারকে অস্বাভাবিক উচ্চতায় নিয়ে যায়। ওই অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক হিসাব সমাপনী এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের আইনী সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রত্যাহারের কারণে মূল্য সংশোধনের প্রবণতা কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়ে বাজারে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার জনকণ্ঠকে বলেন, পুঁজিবাজারে বড় দরপতনের পেছনে কারও কোন কারসাজি ছিল কিনা_ তা চিহ্নিত করতে এসইসির তদন্ত কমিটি কাজ করছে। কোন রকম কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই সংশিস্নষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, বেশ কয়েক দিন বাজারে অস্বাভাবিক দরপতন হলেও সরকারের পৰ থেকে নেয়া বিভিন্ন পদৰেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। পুঁজিবাজার সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রৰায় এসইসি প্রয়োজনীয় সব রকম পদৰেপ নেবে। আমরা চাই বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট কেউই যাতে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
বাজারসংশিস্নষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক হলেও এক মাসে দেশের শেয়ারবাজারের বিপর্যয় ছিল অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অদূরদর্শিতা এবং বিতর্কিত কিছু সিদ্ধানত্মের সুযোগ নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের পকেট কেটে নিজেদের মুনাফার পালস্না ভারি করার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টাও এর সঙ্গে জড়িত ছিল। অতি মূল্যায়িত বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থানে নিয়ে আসার কথা বলে বড় ধস নামানোর প্রেৰাপট তৈরির জন্য পরিকল্পিতভাবেই প্রায় সব কোম্পানির দর টেনে তোলা হয়েছিল। তবে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের তৎপরতা এবং এসইসির তাৎৰণিক কিছু সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পুঁজিবাজারকে এ যাত্রায় খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা সম্ভব হয়েছে।
২০ হাজার কোটি টাকার রাজনৈতিক বিনিয়োগ ॥ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। গত সেপ্টেম্বরে ডিএসই সাধারণ সূচক সাড়ে ৬ হাজারের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ওই গোষ্ঠীটি কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ওই অর্থ বিনিয়োগ শুরম্ন করে। এর আগে এসব প্রতিষ্ঠানে নামে-বেনামে বিপুলসংখ্যক বিও হিসাব খোলা হয়। সেপ্টেম্বর থেকে নবেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যনত্ম। এসব হিসাব থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিদিনই তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ানো হয়। এর প্রভাবে তিন মাসের ব্যবধানে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় আড়াই হাজার পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে উঠে যায়।
তিন মাস ধরে টানা বৃদ্ধির পর ডিসেম্বরের শুরুতে পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধন শুরম্ন হয়। ওই সময় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক হিসাব সমাপনী (ইয়ার ক্লোজিং), আইনসীমার অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যাহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোরতা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা শিল্প ঋণের টাকা ফেরতের সময় বেঁধে দেয়া, ব্যাংকের নগদ জমা সংরৰণের (সিআরআর) হার বৃদ্ধি এবং মার্জিন ঋণ সঙ্কোচনের কারণে দরপতনের মাত্রা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। ওই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে রাজনৈতিক চক্রটি একযোগে শেয়ার বিক্রি শুরম্ন করে। এর ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। ডিএসই সাধারণ সূচক ৬ হাজারের নিচে নামিয়ে আনাই ছিল ওই গোষ্ঠীটির লৰ্যে। এই অবস্থায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের তৎপরতায় এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টায় পুঁজিবাজারকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশের দুই স্টক এঙ্চেঞ্জে বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের মালিকানাধীন কিছু ব্রোকারেজ হাউস এবং ওই মতাদর্শের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণাধীন মার্চেন্ট ব্যাংক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯৬ সালের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামানোর পরিকল্পনা ছিল।
জানা গেছে, নিজেদের পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের পর রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি বেশ কিছুদিন নীরব থাকার পর আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আরেকটি পরিকল্পনা সাজানোর চিনত্মা-ভাবনা করছে। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে আবারও পুঁজিবাজারকে অস্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হতে পারে।
ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) একজন প্রভাবশালী সদস্য জানান, শেয়ারবাজারকে ঘিরে রাজনৈতিক ইসু্য তৈরির জন্য বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা বেশ কিছুদিন ধরেই সচেষ্ট ছিল। রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের জন্য ডিএসইর কিছু সদস্য নিজেদের ব্যবসা ধ্বংস করতেও রাজি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এরা সবকিছুই করতে পারে। এই সরকারের মেয়াদকালে যে কোন সময় তারা আবারও শেয়ারবাজারে পরিকল্পিতভাবে ধস নামাতে পারে।
সরকার সমর্থকদের মুনাফার লোভ ॥ ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদসহ পুঁজিবাজার সংশিস্নষ্ট নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের আধিপত্য থাকলেও এদের অধিকাংশই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে ব্যসত্ম। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন অতিমুনাফার লোভে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক ফুলিয়ে-ফাপিয়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে শেয়ারবাজারের নেতৃত্বে কুৰিগত করেছেন। আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত ডিএসইর সামনের সারির অধিকাংশ নেতার বিরম্নদ্ধে ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলা রয়েছে। বর্তমান সরকার ৰমতায় আসার পরও একাধিক কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির পেছনে এদের হাত রয়েছে বলে বাজারে আলোচনা চলছে। নেতৃত্ব ধরে রাখতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়ার জন্য এসব নেতা রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বীদের অনৈতিক সুবিধা দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী শেয়ারবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করলেও সরকার সমর্থক ওই ব্যক্তিরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন। বাজারের ধারাবাহিক উর্ধগতি কাজে লাগিয়ে মুনাফার পরিমাণ বাড়াতে তৎপর ছিলেন এরা।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ৰমতায় আসার পর শেয়ারবাজার চাঙ্গা হলেও একপর্যায়ে তা অস্বাভাবিক অবস্থানের দিকে ধাবিত হয়। ওই সময় এসইসিসহ বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। বাজারের লাগাম টেনে ধরতে বিভিন্ন পদৰেপ গ্রহণেরও প্রসত্মাব করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিএসই সাধারণ সূচক ৫ হাজার অতিক্রম করার পর থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়। এর প্রেৰিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মূলধনী মুনাফার ওপর আয়কর আরোপের বিষয়টি প্রায় চূড়ানত্ম করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ডিএসইর একজন সাবেক সভাপতির তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে ওই সিদ্ধানত্ম বাতিল করা হয়। ওই সাবেক সভাপতিসহ কয়েক ব্যক্তি বার বার সরকারকে ভুল বুঝিয়ে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ৰেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী এসইসির পৰ থেকে সকল শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা করার ঘোষণা দেয়া হলেও এদের তৎপরতার কারণে শেষ পর্যনত্ম অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার এখতিয়ার কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এসব কারণে একদিকে এসইসির কর্মকা- প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।
সূত্র জানায়, বাজারকে টেনে উঠানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করলেও বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি তেমন কোন ভূমিকাই নেননি। শেয়ারবাজারে বড় দরপতন শুরম্ন হওয়ার পর ডিএসইর আলোচিত সাবেক সভাপতি বিদেশে চলে গেছেন। অবশ্য এর আগেই তিনি নিজের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে গেছেন বলে ডিএসই সদস্যরা ধারণা করছেন।
কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নবোধক তৎপরতা ॥ বাজারে অস্থিরতার পেছনে বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসেরও ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিক দরপতনের সময় ৫-৬টি বড় মার্চেন্ট ব্যাংক শেয়ার কেনা থেকে বিরত ছিল। এরমধ্যে যে ক'দিন রেকর্ড দরপতন হয়েছে_ বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলেও নিজেদের পোর্টফোলিও তো বটেই এসব হাউসে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী শেয়ার কেনাও বন্ধ রাখা হয়। অনেক গ্রাহক শেয়ার কিনতে আগ্রহী হলেও তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে নিবৃত করা হয়। গত এক মাসের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দরপতনের সময় পুঁজিবাজারের লেনদেনে শীর্ষ অবস্থানে থাকা একাধিক ব্রোকারেজ হাউস শেয়ার কেনা বন্ধ রাখায় বাজারে বিক্রির চাপ বাড়লেও এর বিপরীতে ক্রয়াদেশ ছিল একেবারেই কম। মূলত এ কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সূচকে বড় রকমের ধস নামে। আবার শেয়ারের দর ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পোর্টফোলিও এবং নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের হিসাবে বিপুলসংখ্যক শেয়ার কিনেছে।
আতঙ্কের কারণে বাজারে ধস নামলেও সর্বনিম্ন দরে শেয়ার কিনতে তৎপর হয়ে ওঠে একটি চক্র। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন মূলধন তুলে নেয়ার জন্য দ্রম্নত শেয়ার বিক্রি করতে সচেষ্ট তখন কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তার সহায়তায় বিপুলসংখ্যক শেয়ার কিনে নেয় ওই চক্রটি। এ কারণেই ব্যাপক দরপতন সত্ত্বেও ৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে ১ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। আর ১০ জানুয়ারি ৫০ মিনিটে লেনদেন হয় ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার।
এসইসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পার পেতে চায় কারা শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনের প্রেৰিতে বিভিন্ন মহল থেকে এসইসির ঘন ঘন সিদ্ধানত্ম পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্জিন ঋণসহ বাজার সংশিস্নষ্ট কিছু নির্দেশনাকে উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। অথচ বাজারে ব্যাপক দরবৃদ্ধির সময় এসইসি এসব পদৰেপ না নিলে দরপতনের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতো। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করে অসাধু চক্রগুলো নিজেদের নেতিবাচক ভূমিকা আড়াল করতে চাইছে বলে অনেকে মনে করেন।
জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে বড় দরপতনের পর বিভিন্ন মহলে এসইসি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে নানা ধরনের নেতিবাচক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে গত সোমবার থেকে মোবাইল ফোনে একটি এসএমএসের মাধ্যমে কমিশনের দু'জন সদস্য এবং চারজন নির্বাহী পরিচালককে বিএনপি-জামায়াতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করে বাজারে অস্থিরতার জন্য তাদের দায়ী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষের কাছে ওই এসএমএসটি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ওই এসএমএসে দেয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় থাকা এসইসি সদস্য মনসুর আলমের ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। গত বছরের ২৫ নবেম্বর কমিশন চেয়ারম্যানের বিদেশ সফরকালে ব্রোকারেজ হাউসের নিরাপত্তা জামানত (মেম্বারস মার্জিন) বৃদ্ধির সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। ওই সময় মনসুর আলম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। জামানত বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ওই সময় শেয়ারবাজারে এক দফা অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে ডিসেম্বর মাসে এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের অনুমোদন ছাড়াই কমিশন সদস্য মনসুর আলম চেক জমা ও নেটিং সুবিধা বিষয়ে দু'টি নির্দেশনা জারির ব্যবস্থা করেন। এ দু'টি নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতনের ধারা সূচিত হওয়ায় তখন থেকেই মনসুর আলমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার তাৎৰণিকভাবে এ বিষয়ে পদৰেপ গ্রহণ করেন। অনুমোদন ছাড়া বাজারের জন্য সংবেদনশীল দু'টি নির্দেশনা জারির কারণ জানতে চেয়ে মনসুর আলমকে আনুষ্ঠানিক নোটিস দেয়া হয়। এছাড়া তাঁকে এসইসির সার্ভিল্যান্স, মনিটরিং, প্রশাসনের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার মনসুর আলমকে এসইসির সদস্য পদ ছেড়ে দেয়ার জন্য সরকারের পৰ থেকে বলা হয়। ওইদিনই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
দু'একজন ব্যক্তির নেতিবাচক কাজের সুযোগ নিয়ে পুরো এসইসিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে কোন কোন মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে বিভিন্নভাবে সরকারকে ভুল বার্তাও দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অথচ পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির প্রেৰাপট তৈরির শুরম্নতেই এসইসির দিক বার বার বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। যে কোন সময় বাজারে ধস নামলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৰতিগ্রসত্ম হতে পারেন_ এই বিবেচনায় বেশ কয়েক দফায় মার্জিন ঋণ কমানোসহ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাতে একের পর এক পদৰেপ নেয়া হয়েছে। কমিশনের এসব সিদ্ধানত্ম তাৎৰণিকভাবে বিনিয়োগকারীদের ৰুব্ধ করলেও বড় বিপর্যয়ের সময় বিনিয়োগকারীদের রৰাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। কারণ এসইসি মার্জিন ঋণ না কমালে বড় দরপতনের সময় অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রির (ফোর্স সেল) আওতায় পড়ে যেত। আবার বাজার উর্ধমুখী করতে ঋণ বৃদ্ধিরও কোন সুযোগ থাকত না।
বাজার বিশেস্নষকরা মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরদর্শী সিদ্ধানত্ম এবং দৃঢ় নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। আর ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীসহ সংশিস্নষ্টদের এসইসির ওপর আস্থা রাখা জরম্নরী বলে বিশেস্নষকরা মনে করেন। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/14/2011 11:39 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE |
শেয়ারবাজারে বিকিকিনির নানা কৌশল
সুজয় মহাজন | তারিখ: ১৫-০১-২০১১
Prothom Alo
নতুন বছরের শুরুতেই দরপতন আর মূল্যবৃদ্ধির সর্বোচ্চ রেকর্ড দেখেছেন দেশের শেয়ারবাজারের লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনেকগুলো কখনো দাম কমার নিম্নতম স্তর ছুঁয়েছে। পরের দিনই দাম বাড়ার সর্বোচ্চ মূল্যস্তর ছুঁয়েছে অনেক কোম্পানি। (মূলত সার্কিট ব্রেকার বা মূল্যহার সীমার মাধ্যমে প্রতি শেয়ারের দাম বাড়া-কমার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্তর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়)।
এতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির ক্রেতা-বিক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ার দৃশ্যও দেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসকে ঘিরেই বাজারে এমনটি ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
গত সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতন ঘটে। মাত্র ৫০ মিনিটে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৬৩৫ পয়েন্ট সূচক কমে যায়। ওই দিন লেনদেন হওয়া ২২৩ কোম্পানির মধ্যে ৫০টিরও বেশি কোম্পানির শেয়ারের ক্রেতা ছিল না। আর মঙ্গলবার ঘটে ঠিক উল্টো ঘটনা। ২৪৮ কোম্পানির মধ্যে ১৯৫টি কোম্পানি বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে।
সোমবার ডিএসইতে দাম কমার সর্বনিম্ন স্তর স্পর্শ করেছিল সায়হাম টেক্সটাইল। কোম্পানিটির বাজারদর প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায়। কোম্পানিটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দাম ১২৮ থেকে কমে ১০১ টাকায় নেমে আসে। এতে কোম্পানির শেয়ার ক্রেতাশূন্য হয়ে যায়। কেননা, ক্রেতারা এই ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল যে, এভাবে পরের দিনগুলোয় দাম আরও কমবে।
পরের দিন মঙ্গলবার সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেনে উল্টো ঘটনা ঘটে। ওই দিন লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। অল্প কিছু শেয়ার লেনদেনের পরই ওই শেয়ারের আর কোনো বিক্রেতা ছিল না। ততক্ষণে অবশ্য কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দাম ওই দিনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ মূল্যস্তর স্পর্শ করে। কিন্তু বিক্রেতাদের মধ্যে প্রত্যাশা জন্মে যায় যে, পরের দিনগুলোয় আরও বাড়বে। তাই ওই দিনের সর্বোচ্চ সীমার দরেও কেউ বিক্রি করতে রাজি হননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, ‘আমাদের বাজার এখনো অতিমাত্রায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীনির্ভর। এ কারণে বাজারে অস্বাভাবিক দরপতন ও মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ যত বেশি শক্তিশালী হবে, এই প্রবণতা ততই কমে আসবে।’
ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষি: নিত্যপণ্যের বাজারের মতো শেয়ারবাজারেও প্রতিদিন ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষির ঘটনা ঘটে। তবে এটি হয় প্রযুক্তির সহায়তায়, যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা একে অপরকে চেনেন না।
ডিএসইতে ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষিতে ব্যবহার করা হয় ‘টেসা’ নামের একটি সফটওয়্যার। কম্পিউটারের পর্দায় যখন এই সফটওয়্যারভিত্তিক লেনদেন চলতে থাকে, তখন এর বাম পাশে থাকে ক্রেতা, আর ডান পাশে বিক্রেতা। ক্রেতা-বিক্রেতার ডান-বাম এই অবস্থানকে ঘিরে শেয়ারবাজারে প্রচলিত আছে ‘ডানে মারেন, বামে মারেন’ প্রবাদ। যাঁরা শেয়ারবাজারে নিত্যদিনের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত, তাঁরাই শুধু এর অর্থ বোঝেন। বামে মারেন মানে, কোনো দরাদরি ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়া। আর ডানে মারেন মানে, বিক্রেতা দরকষাকষি করতে চান।
স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির এই দরকষাকষিতে কখনো বিক্রেতা আবার কখনো ক্রেতা লাভবান হন। সাধারণ বাজারের মতো এখানেও ক্রেতা-বিক্রেতার বনিবনা হলেই কেনাবেচা হয়। পণ্যবাজারের মতোই শেয়ারবাজারের সরবরাহ তথা বিক্রেতা বেড়ে গেলে দাম কমতে থাকে। একইভাবে ক্রেতা বাড়লে দাম বাড়তে থাকে। স্বাভাবিক এই প্রক্রিয়ার বাইরে কখনো কখনো কৃত্রিমভাবেও দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটে শেয়ারবাজারে। তবে শেয়ারবাজারের দাম নিয়ে দেনদরবারের স্বাভাবিক ধারার সঙ্গে বিনিয়োগকারীর ‘আত্মবিশ্বাসের’ রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দিলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে।
গত সোম ও মঙ্গলবার পরপর দুই দিনে দেশের শেয়ারবাজারে এরই প্রতিফলন ঘটেছে। বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলায় সোমবার বাজারে রেকর্ড পরিমাণ দরপতন হয়েছিল। ওই দিন মাত্র ৫০ মিনিটের লেনদেনে ডিএসইতে সূচক ৬৩৫ পয়েন্ট কমে যায়। পতনের এই ভয়াবহতা ঠেকাতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) প্রথমবারের মতো লেনদেন বন্ধ করে দেয়। আর মঙ্গলবার হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পান বিনিয়োগকারীরা। ফলে এই দুই দিনে বাজারে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার ক্রেতা-বিক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যখন বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগ অংশ ভীত হয়ে শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন, তখন ক্রেতা কমতে থাকে। ভীতির মাত্রা বেড়ে গেলে একপর্যায়ে ট্রেড সার্ভারের বাঁয়ে থাকা ক্রেতা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। একই ঘটনা ঘটে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা অনেক বেড়ে গেলে। তখন সার্ভারের ডানে থাকা বিক্রেতাদের মধ্যে শেয়ার ধরে রাখা বা মজুদের প্রবণতা বেড়ে যায়। এখানেও বড় বড় বিনিয়োগকারী অনেকটা সাধারণ বাজারের মজুদদারের মতো আচরণ করেন। মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই বেশির ভাগ শেয়ার দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করার পর বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীর মধ্যে আরও দাম বাড়বে—এমন প্রবণতা তৈরি হয়।
ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভীর মতে, ‘বাজারের কয়েক দিনের ভয়াবহ দরপতনের পর মঙ্গলবার বেশির ভাগ শেয়ারের বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ার ঘটনাটি খুবই স্বাভাবিক। কারণ, এর আগেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যাতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পেয়েছেন।’
শেয়ারের দাম বাড়া-কমার ব্যবধান নিয়ন্ত্রণে তালিকাভুক্ত প্রতিটি শেয়ারের ওপরই সার্কিট ব্রেকার বা মূল্যস্তর নির্ধারণ করে দেওয়া থাকে। কোম্পানিভেদে এই সীমা ভিন্ন।
দাম বাড়া-কমার মূল্যস্তর: ডিএসইর হিসাব অনুযায়ী, যেসব শেয়ারের বাজারমূল্য ১০০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে, সেসব শেয়ারের সার্কিট ব্রেকার (মূল্যস্তর) থাকে ২০ শতাংশ বা ৩৫ টাকা। অর্থাৎ উল্লিখিত দামের মধ্যে থাকা কোনো কোম্পানির শেয়ার এক দিনে ২০ শতাংশ বা ৩৫ টাকার বেশি কমতে বা বাড়তে পারবে না। এভাবে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ২০১ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে, সেসব শেয়ারের মূল্যস্তর নির্ধারিত সাড়ে ৭৫ টাকা বা ১৭ শতাংশ; ৫০১ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যকার কোম্পানির শেয়ারের মূল্যস্তর ১২৫ টাকা বা ১৫ শতাংশ; এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যকার কোম্পানির শেয়ারের মূল্যস্তর ২০০ টাকা বা সাড়ে ১২ শতাংশ; দুই হাজার এক টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যকার কোম্পানির শেয়ারের মূল্যস্তর ৩৭৫ টাকা বা ১০ শতাংশ এবং পাঁচ হাজার টাকার ওপরে বাজারদর এমন কোম্পানির শেয়ারের মূল্যস্তর ৬০০ টাকা বা সাড়ে ৭ শতাংশ।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যখন বাজারে ধারাবাহিকভাবে দরপতন ঘটতে থাকে, তখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতিও বাড়তে থাকে। তখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বেড়ে যায়। কার আগে কে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বের হবেন, সেই প্রতিযোগিতা চলতে থাকে।
বাজারের এই বিপরীত চিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা যখন চরম ভীত হয়ে পড়েন, তখন বাজারে বিক্রেতা বেড়ে যায়। তখন বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী নিজের হাতে থাকা শেয়ার অন্যদের আগে বিক্রি করতে চান। এ সময় শেয়ার ধরে রাখার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন তাঁরা। আবার দাম যখন বাড়তে থাকে, তখন বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে যায়। এতে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীর মধ্যে শেয়ার ধরে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়। এই দুই প্রবণতার অসামঞ্জস্যতায় বাজার অস্বাভাবিক আচরণ করে।’
কেনা-বেচার বিশেষ পন্থা: শেয়ারবাজারে যারা বড় বিনিয়োগকারী, তাঁরা সাধারণ বা ছোট বিনিয়োগকারীদের চোখ ফাঁকি দিতে সময়ে সময়ে বিশেষ পন্থা অবলম্বন করেন। তেমনি দুটি পন্থা হলো ফিল অ্যান্ড কিল এবং ড্রিপ। শেয়ার কেনা-বেচা উভয় ক্ষেত্রেই এই দুটি পন্থা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বড় অঙ্কের শেয়ার কেনা-বেচার ক্ষেত্রেই এই পন্থা অবলম্বন করা হয়।
ট্রেড সার্ভারের সামনে বসে থাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে বড় বিনিয়োগকারীদের কেনা-বেচার খেলা সহজে বুঝতে না পারেন, সে জন্য এই দুটি পন্থার ব্যবহার হয়ে থাকে। ফিল অ্যান্ড কিলে একসঙ্গে অনেক শেয়ার কেনা-বেচার সুযোগ থাকে। আর ড্রিপ পন্থায় ধাপে ধাপে শেয়ার কেনা-বেচা হয়। সফটওয়্যারেই এসব পন্থা স্থাপন করে দেওয়া আছে। তবে বড় ধরনের কেনা-বেচার ক্ষেত্রেই এসব পন্থা ব্যবহারের সুযোগ মেলে। এতে করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারেন না আরেকজন বড় বিনিয়োগকারী এক আদেশে কী পরিমাণ শেয়ার কিনলেন বা বিক্রি করলেন।
একসঙ্গে অধিক পরিমাণ শেয়ারের ক্রয় বা বিক্রয় আদেশ দেখে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ওই শেয়ার নিয়ে কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন। বেশি শেয়ারের ক্রয় আদেশ দেখলে বিক্রেতা সাবধান হয়ে যান। তাঁরা তখন দরকষাকষি করতে থাকেন দাম বাড়ানোর জন্য। আর বড় বিক্রয় আদেশ দেখলে ক্রেতারা দাম কমানোর জন্য দরকষাকষি করেন। এভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে শেয়ার কেনা-বেচায় খুব বেশি দরকষাকষির সুযোগ না নিতে পারেন, সে জন্য ‘ফিল অ্যান্ড কিল’ ও ‘ড্রিপ’ পন্থা অবলম্বন করেন বড় বিনিয়োগকারীরা।
ধরা যাক, একজন বিক্রেতা একটি নির্দিষ্ট দামে (এক হাজার টাকা) কোনো কোম্পানির এক লাখ শেয়ার বিক্রি করতে চান। তখন তিনি ড্রিপ অনুসরণ করবেন। এটা করতে গিয়ে তিনি এক লাখ শেয়ারেরই বিক্রয় আদেশ দেবেন, কিন্তু ড্রিপ দেবেন এক হাজার শেয়ার। অর্থাৎ ক্রেতারা পর্দায় দেখতে পাবেন যে এক হাজার টাকা দরে এক হাজার শেয়ার বিক্রি হবে। এভাবে যতক্ষণ না এক লাখ শেয়ার বিক্রি শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্দায় ওই দর ও পরিমাণ ভাসতে থাকবে। তারপর তা অদৃশ্য হয়ে যাবে। ক্রেতারা বুঝতেই পারবেন না যে আসলে এক লাখ শেয়ার বিক্রির আদেশ দেওয়া ছিল। একইভাবে বড় ক্রেতা ড্রিপ দিয়ে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনতে পারেন।
আবার একজন ক্রেতা এক লাখ শেয়ার কিনতে চান। তখন বাজারে ওই শেয়ারের বিভিন্ন দামে বিভিন্ন পরিমাণ বিক্রির আদেশ রয়েছে। যেমন: ৯০০ টাকায় এক হাজার শেয়ার, ৯২৫ টাকায় দেড় হাজার শেয়ার ইত্যাদি। দেখা গেল, এভাবে ৯০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকায় মোট এক লাখ শেয়ার বিক্রির আদেশ রয়েছে। ফিল অ্যান্ড কিল অনুসরণ করে ক্রেতা এক হাজার ১০০ টাকা দরে ক্রয় আদেশ দিয়ে দেবেন। এতে করে ওই কোম্পানির সব শেয়ার (যেগুলো বিক্রয় আদেশ দেওয়া আছে) ক্রেতার কাছে চলে যাবে। যদি এক লাখ শেয়ারের কম পরিমাণ (যেমন ৭০ হাজার) বিক্রয় আদেশ থাকে, তাহলে ওই ৭০ হাজারই ক্রেতা পাবেন। বাকি ৩০ হাজার ক্রয় আদেশ বাতিল হবে; যাকে বলা হচ্ছে কিল। আর যা পেলেন, তা হলো তার ফিল। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/14/2011 11:59 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE |
প্রয়োজন বিনিয়োগকারীদের সর্তকতা
আহমেদ মিঠু
The Daily Ittefaq
15.01.2011
টানা এক মাস ধরে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর সরকারের পক্ষ থেকে দেশের পুঁজিবাজারকে 'লাইফ সাপোর্ট' দিয়ে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবং বাংলাদেশ ভ্যাংকের নেয়া পদক্ষেপগুলোর ফলে বাজারের গতি-প্রকৃতি কোন দিকে যায়_ আরও কিছুদিন তা পর্যবেক্ষণ করা দরকার। বাজারের স্থিতিশীলতা বা স্বাভাবিক আচরণ সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগকারীদের তৎপরতার উপর নির্ভর করছে। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই পরিণত আচরণ করতে হবে।
বড় দরপতনের সময়ে আতঙ্কিত হয়ে একযোগে শেয়ার বিক্রির জন্য ঝাপিয়ে পড়া, আবার দরবৃদ্ধি শুরু হলেই একসঙ্গে শেয়ার কেনার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া_ বিনিয়োগকারীদের এ দুটো আচরণই পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। গত এক মাসে দফায় দফায় দরপতনের পর গত মঙ্গলবার হঠাৎ করে অধিকাংশ শেয়ারের দর দিনের সর্বোচ্চ সীমা (সার্কিট ব্রেকার) স্পর্শ করা ছিল সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক আচরণ।
দরপতনের সময় যেমন হুজুগের বসে লোকসান দিয়ে শেয়ার বিক্রি করা ঠিক নয়, তেমনি ঊর্ধমুখী প্রবণতা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার কেনার জন্য ঝাপিয়ে পড়াও স্বাভাবিক আচরণ নয়। কোম্পানির মৌলভিত্তি দেখে বুঝে-শুনে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা পরিণত আচরণ না করলে বাজারে আবারও যে কোনও অঘটন ঘটতে পারে।
পুঁজিবাজারে বিশেষ করে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করতে হলে বিনিয়োগকারীদের নূন্যতম ধারণা থাকা আবশ্যক। কিন্তু আমাদের বিনিয়োগকারীরা যথাযথ ধারণা না নিয়েই পুঁজিবাজারে ব্যবসা করছেন। এর ফলে তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া হুজুগের কারণেও পুঁজিবাজারের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। বাজার ধসের সময় আতঙ্কিত হয়ে একসাথে সব বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রি এবং ঊধর্্বগতির সময় একসঙ্গে সবার শেয়ার কেনার প্রবণতা পুঁজিবাজারের জন্য ঠিক নয়।
গত কয়েকদিনে মূল্য সংশোধনের সময় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে অনাগ্রহী ছিলেন। অথচ মূল্য সংশোধনের সময় দর কমে যাওয়ায় শেয়ার কেনার উপযুক্ত সময় ছিল। বিনিয়োগকারীরা তখন আতঙ্কিত হয়ে উল্টো শেয়ার বিক্রির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অথচ ঊধর্্বগতির কারণে এখন সবাই একসঙ্গে শেয়ার কেনার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এভাবে বাজারের আরেক দফা অস্বাভাবিক ঊর্ধগতি হলে আবার সেভাবেই পতন হবে। সম্প্রতি সে ধরনের কিছু নজির দেখা গেছে।
শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের এতো আকর্ষণের অনেক কারণ থাকলেও সবচেয়ে বেশি কাজ করে কম সময়ে বেশি মুনাফা লাভের চিন্তা। কিন্তু একথা মনে না রাখলে চলবে না যে, শেয়ার ব্যবসায় পুঁজি খাটালে এমনি এমনিই মুনাফা করা যায় না। হিসাব-নিকাশ বা পরিকল্পনায় একটু এদিক-সেদিক হলেই গুণতে হতে পারে লোকসান। এমনকি পুঁজি হারিয়ে শূন্য হাতে ফিরে যাওয়ার উদাহরণও কম নেই। ফলে শেয়ার-ব্যবসা করতে হবে জেনে-বুঝে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শেয়ার কেনা। কারণ যে কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার মধ্য দিয়েই একজন বিনিয়োগকারী তার ভবিষ্যতের পথে হাঁটা শুরু করেন। ফলে যে কোম্পানির শেয়ারটি কিনছেন_ সেটি সম্পর্কে সব তথ্য জেনে-শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি বিবেচনায় না নিলে তাদেরকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। কোম্পানিটি প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে তাই শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস। অর্থাৎ ওই কোম্পানি ওই সময়ে ব্যবসা করে যে মুনাফা অর্জন করেছে প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডার তা থেকে কত টাকা পাবে তাকেই সংক্ষেপে ইপিএস বলা হয়। লোকসানী কোম্পানির ক্ষেত্রে ইপিএস'র মানে হবে শেয়ার প্রতি লোকসান।
মনে রাখতে হবে, শেয়ারবাজারে কোম্পানির শেয়ারের দর কতো হলো_ তার সঙ্গে ইপিএসের সম্পর্ক নেই। কোম্পানিটির মূল ব্যবসা থেকে যে আয় হয় তা থেকেই ইপিএস নির্ধারিত হয়। বর্তমানে ৩ মাস পর পর প্রতিটি কোম্পানি ইপিএস ঘোষণা করে। আর বার্ষিক হিসাবের ইপিএস'র ভিত্তিতে কোম্পানিটি বছর শেষে লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ফলে যে কোম্পানির ইপিএস যতো ভালো সেই কোম্পানির লভ্যাংশের হার ততো বেশি হয়। কোম্পানির সারা বছরে অর্জিত মুনাফা থেকে কর পরিশোধের পর যে অর্থ থাকে সেটাই প্রকৃত মুনাফা। প্রকৃত মুনাফাকে মোট শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে ইপিএস পাওয়া যায়। যে কোম্পানির ইপিএস যতো ভালো সে কোম্পানির শেয়ার কেনা ততো নিরাপদ। তবে বাজারে ওই শেয়ারটি আগেই অতি মূল্যায়িত হয়ে আছে কিনা_ তা দেখে নিতে হবে।
পিই অনুপাত-এর পূর্ণ রূপ হলো বাজার মূল্য ও আয়ের অনুপাত (চৎরপব ঊধৎহরহম জধঃরড়)। অর্থাৎ, কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) এবং শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্যের অনুপাত।
আগের সপ্তাহে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয়ের ধারণা দেয়া হয়েছে। কোম্পানিটি প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে তাই শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস। আর বাজার মূল্য হলো শেয়ারবাজারে ওই কোম্পানির শেয়ারের বর্তমান দর। শেয়ারটির প্রকৃত আয়ের তুলনায় কতো বেশি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে তা হিসাব করা হয় পিই অনুপাতের মাধ্যমে তা সহজেই বোঝা যায়। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নির্ণয়ে পিই অনুপাতই সবচেয়ে কার্যকর ও জনপ্রিয় মাপকাঠি। পিই অনুপাত নির্ণয় করতে হলে শেয়ারের বর্তমান বাজার দরকে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দিয়ে ভাগ করতে হবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োকারী বুঝতে পারবে শেয়ারটি কেনার পর কোম্পানির আয় থেকে কতো বছরে তার বিনিয়োগকৃত অর্থ পুরোপুরি ফেরত আসতে পারে। কোনো কোম্পানির পিই অনুপাত ১০ হলে ওই কোম্পানির শেয়ার কেনার পর লভ্যাংশ থেকে ১০ বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আসতে পারে। আবার পিই অনুপাত ১০০ হলে ওই বিনিয়োগ ফেরত আসতে সময় লাগবে ১০০ বছর। এখন এই দীর্ঘ সময়ে আসলেই কোম্পানিটি টিকে থাকবে কিনা_ বিনিয়োগকারীকে তাও ভাবতে হবে।
মনে রাখতে হবে, প্রতিদিন শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দর ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে পিই অনুপাতও হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। তাই প্রতিদিনই শেয়ার কেনার আগে ওই কোম্পানির সেদিনকার পিই অনুপাত জেনে নেয়া ভালো। পিই অনুপাত কতো হলে শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিহীন_ আন্তর্জাতিকভাবে এর কোনো স্বীকৃত মাপকাঠি নেই। নির্দিষ্ট শেয়ারবাজারের অবস্থানের ওপর এটি অনেকটা নির্ভর করে। তবে যেসব কোম্পানির পিই অনুপাত ২০-এর নিচে_ সেগুলোতে বিনিয়োগ অনেকটাই ঝুঁকিহীন। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের জন্য ২৫ পর্যন্ত পিই অনুপাতকে মোটামুটিভাবে ঝুঁকিহীন বলা যেতে পারে। অনুপাত যতো বেশি ঝুঁকিও ততো বেশি।
পাশাপাশি কোম্পানিটি গত কয়েক বছরে কী হারে লভ্যাংশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোম্পানির সম্ভাবনা কেমন_ এসব বিবেচনা করে শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিনিয়োগকারীদের মনে রাখতে হবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা অর্থ শুধু মুনাফা নয়, এখানে লোকসানের ঝুঁকিও রয়েছে। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/16/2011 12:56 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট ক্যাসিনো অর্থনীতিতে জুয়ার বাজার
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
The Daily Ittefaq
17.01.2011
কথায় বলে 'গোদের ওপর বিষফোঁড়া'! দেশের শেয়ার বাজারে এখন যে অবস্থা চলছে তাতে তাকে সেরকম অবস্থায় নিপতিত বলে বর্ণনা করাটা যথার্থই হবে। বিষয়টির ব্যাখ্যা প্রয়োজন। প্রথমে নজর দেয়া যাক 'গোদ' বিষয়টির দিকে। তারপরে দৃষ্টি দেয়া যাবে সেই গোদের ওপর 'বিষ ফোঁড়ার' ব্যাপারটি আবার কী, সেই দিকে।
আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে শেয়ার বাজারের গোটা ব্যাপারটি প্রধানত এক ধরনের ফটকা ব্যবসার ভিত্তির ওপর স্থাপিত ও পরিচালিত। প্রকৃতিগতভাবেই শেয়ার ও স্টক মার্কেটের ব্যবসা এক ধরনের জুয়া খেলার মতো ব্যাপার। এখানে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ ও সংস্থা কর্তৃক নিবন্ধিত বিভিন্ন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধনের অংশ বা শেয়ার বিক্রির জন্য বাজারে ছাড়া হয়। বিনিয়োগকারীদের হাত ঘুরে-ঘুরে এসব শেয়ারের কেনাবেচা চলে। কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের উন্নতি-অবনতির সাথে সাথে তার শেয়ারের দাম ওঠা-নামা করবে, এমনটাই তাত্তি্বকভাবে হওয়ার কথা। কোম্পানির পারফরমেন্সে উন্নতি ঘটবে অনুমিত হলে বিনিয়োগকারীরা পরে বিক্রি করে আরো বেশি দাম পাওয়ার আশায় চলতি দামে তার শেয়ার কিনে রাখে। শেয়ার বাজারে স্টকের (কিনে রাখা শেয়ারের) দাম ওঠা-নামা সম্পর্কে মনোগত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে জুয়া খেলায় ভাগ্য খুঁজে পাওয়ার মতো আশায় তারা শেয়ারের রাখি ব্যবসায় টাকা খাটায়। অনেকটাই ঘোড়দৌড়ের খেলায় ঘোড়ার পেছনে বাজি ধরার মতো ব্যাপার এটি। ভাগ্যগুণে বাজির দান লেগেও যেতে পারে, অভাবনীয় পরিমাণে স্ফীত হয়ে উঠতে পারে পকেটের টাকা। আবার ভাগ্য বিরূপ হলে পকেট শূন্য হয়ে দেউলিয়া হয়ে লাল বাতিও জ্বলে উঠতে পারে। লাভ হবে না লোকসান হবে, হলে তা কি পরিমাণে হবে_এসব নির্ভর করে শেয়ার বাজারের মর্জির ওপর। কিন্তু শেয়ার বাজারের মর্জি নির্ভর করে কার বা কিসের ওপর_ সমস্ত গোলমালটা এখানেই।
বিশুদ্ধ পুঁজিবাদী বাজারের তত্ত্ব অনুযায়ী পণ্যসামগ্রী, শ্রম প্রভৃতির বাজারের মতো পুঁজি তথা শেয়ার বাজারেও মূল্য নির্ধারিত হয়ে থাকে বাজারে বিনিয়োগযোগ্য পুঁজি বা শেয়ারের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যের ওপর। পণ্যসামগ্রী (মড়ড়ফং), সেবাসামগ্রী (ংবৎারপবং), শ্রমশক্তি (ষধনড়ঁৎ ঢ়ড়বিৎ) ইত্যাদির একটি প্রত্যক্ষ ব্যবহারিক মূল্য আছে। কিন্তু শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকৃত পুঁজির ব্যবহারিক মূল্য হলো পরোক্ষ। শেয়ার বাজারে ব্যবহারিক মূল্য শুধু পরোক্ষই নয়, তা প্রধানত নির্ভরশীল তার ফটকামূলক (ংঢ়বপঁষধঃরাব) বৈশিষ্ট্যের ওপর।
একটি অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থা হিসেবে পুঁজিবাদের উদ্ভবের সূচনা থেকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত পণ্য উৎপাদন ছিল অর্থনীতির প্রায় একচ্ছত্র খাত। সময়ের পরিক্রমায় ক্রমান্বয়ে অর্থনীতিতে পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি সেবা প্রদানমূলক কাজের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। গত শতাব্দীর মধ্যভাগের পর সেবা খাতের গুরুত্ব ও অবদান বাড়তে বাড়তে একসময় প্রধান হয়ে ওঠে। এই ঘটনা দ্রুত ঘটে বিশ্ব অর্থনীতির একচ্ছত্রভাবে বৃহৎ ও নির্ধারক শক্তিরূপে অবস্থানরত উন্নত পশ্চিমা দেশগুলোতে। সেসময় থেকেই অর্থনীতিতে একই সঙ্গে বাড়তে থাকে 'স্পেকুলেটিভ' তথা ফটকামূলক পুঁজি ও ফটকামূলক খাতের গুরুত্ব। শেয়ার বাজার, স্টক মার্কেট, মুদ্রা বাজার প্রভৃতিতে পুঁজি বিনিয়োগ অকল্পনীয় দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে এই ফটকাবাজি খাত বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান খাতে পরিণত হয়েছে।
পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় উৎপাদন-বণ্টন-ভোগ প্রভৃতির ক্ষেত্রে স্থিতিশীল ধারাবাহিক গতি বজায় রাখা যে অসম্ভব এবং অপরিকল্পিত অতি-উৎপাদন ও উৎপাদন-ঘাটতির চক্রাকারে পুনঃ পুনঃ অবির্ভাবসহ নৈরাজ্যমূলক সঙ্কট সৃষ্টি যে অনিবার্য তা কার্ল মার্কসসহ অনেক পন্ডিত ব্যক্তি তাত্তি্বকভাবে দেখিয়ে গেছেন। পুঁজিবাদের অন্তর্নিহিত নৈরাজ্য সম্পর্কিত এই তত্ত্বের বাস্তব প্রমাণ আমরা বিগত এক-দেড় শতাব্দী ধরে ক্রমাগত দেখে আসছি। অর্থনীতিতে চাঙ্গা ভাবের পরেই উদ্ভব হয় মন্দার। সেই মন্দার পরিস্থিতি উত্তোরিত হয়ে একসময় আসে রমরমা অবস্থা। কিন্তু কিছুদিন পর আবার ফিরে আসে মন্দা। মাঝে মাঝে সৃষ্টি হয় মহামন্দা। তাতে কোটি কোটি মানুষ আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যায়। সময়ের পরিক্রমায় অর্থনীতি যত পরিমাণে পণ্য খাত থেকে সেবা খাতের এবং তা থেকে ক্রমান্বয়ে ফটকাবাজি খাতের প্রাধান্যের দিকে উত্তরিত হয়েছে, সেই পরিমাণে অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্যের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ, পণ্য ও সেবা খাতের তুলনায় ফটকাবাজি খাতে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্যের উপাদান অনেক বেশি।
স্টক মার্কেট, শেয়ার মার্কেট, কারেন্সি মার্কেট প্রভৃতি ফটকাবাজির বাজারে, বিশেষত শেয়ার বাজারে, মূল্য নির্ধারিত হয় সরবরাহ ও চাহিদার উঠতি-পড়তি দ্বারা। কিন্তু এই সরবরাহ ও চাহিদা বস্তুগত ব্যবহারিক প্রয়োজন (যার বাড়া-কমা তুলনামূলকভাবে ধীর ও স্বল্প) দ্বারা মোটেও নির্ধারিত হয় না। তা মূলত নির্ধারিত হয় বাজারে বিরাজমান নির্দিষ্ট মুহূর্তের বাজার-মনস্তত্ত্বের দ্বারা। বাজার-মনস্তত্ত্বের হাল কি হবে সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ার কারণেই অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্যের উপাদান এক্ষেত্রে অনেক বেশি।
বাজার-মনস্তত্ত্বে যদি 'ভয়ের' প্রাধান্য থাকে তাহলে বিনিয়োগকারীরা চিন্তা করবে যে এখন শেয়ারের দাম কমতে থাকবে। এই অনুমান করে তারা তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করার প্রবণতায় ধাবিত হবে। এর ফলে বাজারে বিক্রিযোগ্য শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে। শেয়ারের দাম কমতে থাকবে। ভয়ের বাজার-মনস্তত্ত্বের বদলে যদি 'লোভের' মনস্তত্ত্বের প্রাধান্য হয়, তাহলে, শেয়ারের দাম এখন বাড়তে থাকবে এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে শেয়ার কেনার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে শেয়ারের চাহিদা বাড়ায় তার দামও বাড়তে থাকবে। 'ভয়' না 'লোভ', বাজার-মনস্তত্ত্বে কোন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মনে প্রাধান্য বিস্তার করে রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে শেয়ার মূল্যের ওঠা-নামা। ('ভয়' আর 'লোভের' ওঠা-নামার ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব পুঁজিবাদের স্থিতিশীলতা। মানুষের কল্যাণের বিবেচনার পরিবর্তে 'ভয়' ও 'লোভ' দ্বারা যে ব্যবস্থার ভাগ্য নির্ধারিত হয়, সেটাকে 'সভ্যতা' না বলে 'অসভ্যতা' বলাটাই কি অধিকতর যুক্তিযুক্ত নয়?)
শেয়ার বাজারকে কেন্দ্র করে কোন মনস্তত্ত্বের প্রাধান্য থাকবে, 'ভয়ের' না 'লোভের' সেটা প্রধানত অনুমান নির্ভর। একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি অথবা প্রতিষ্ঠানের পারফরমেন্সের প্রবণতা থেকে তার সম্ভাব্য উত্থান-পতন সম্পর্কে অনুমান করা যায় মাত্র। অনেক কারণে সেই অনুমান ভুল প্রমাণিত হতে পারে। পুঁজিবাদী অর্থনীতির গতিধারার অন্তর্নিহিত অনিশ্চয়তা ও নৈরাজ্যের প্রভাবে যেকোনো অনুমান ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে। গোটা শেয়ার বাজার সম্পর্কে একই যুক্তি প্রযোজ্য। তদুপরি অর্থনৈতিক বিষয়বস্তু ছাড়াও নানান প্রাকৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি ঘটনাবলী দ্বারাও 'ভয়' বা লোভের' মনস্তত্ত্ব নির্ধারিত হয়ে থাকে। এসব ঘটনায় কখন কি ঘটবে তার ভবিষ্যদ্বাণী করা দুরূহ। এ বিষয়ে অনিশ্চয়তার উপাদান আরো গভীর। এই কারণে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত বিচারে একটি 'ভাগ্যের খেলা'। এ খেলায় নেমে কারো কপাল খুলতেও পারে, কারোটা আবার ভাঙতেও পারে। কারো কপাল আবার সকাল-বিকাল কিংবা আজ-কালের মধ্যে ভাঙা-গড়ার দোলায় এ-মাথা থেকে ও-মাথায় গড়াগড়ি খেতে পারে। এটি হচ্ছে অনেকটাই বিনোদন পার্কের 'রোলার কোস্টার'-এর মতো ব্যাপার।
প্রকৃতিগত বিবেচনা থেকে শেয়ার বাজারকে তাই জুয়ার বাজার রূপে আখ্যায়িত করা যায়। শেয়ার বাজারসহ ফটকাবাজি অর্থনীতি এখন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রধান খাত হয়ে উঠেছে। সবকিছুই তাই জুয়া খেলার বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রভাবিত ও পরিচালিত হচ্ছে। আধুনিক পুঁজিবাদের এই স্বরূপ অনুধাবন করে কমরেড ফিদেল কাস্ত্রো দুই দশক আগেই গোটা ব্যবস্থাকে 'ক্যাসিনো ইকোনমি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ক্যাসিনো হলো সেই স্থান যেখানে নানা পন্থার উঁচু দরের জুয়া খেলা হয়। এই নামকরণ যে কতো যথার্থ তা সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে ও হচ্ছে।
শেয়ার বাজার বহুলাংশেই ক্যাসিনো তথা জুয়ার বাজারের মতো একটি স্থান। রাতারাতি বাজি মাত করার লোভ দেখিয়ে লাখ-লাখ মানুষকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে প্রলুব্ধ করা হয়। সহজে মুনাফা লাভের আশায় লোভে পড়ে পেনশনের টাকায়, ঘর-বাড়ি বিক্রি করে, ঋণ করে_ নানাভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তারা ছুটে আসে শেয়ার বাজারে। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা চলছে, এবং শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে 'সহজে টাকা কামাই'-এর এই প্রলোভনে মরণ ঝাঁপ দেয়াটা দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের জন্য অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু 'স্বাভাবিক' নিয়মেই যখন শেয়ার বাজারে 'অস্বাভাবিক' ধস নামে, তখন তাদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এই পরিণতি নেমে আসে সাধারণ ক্ষুদে বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে। কিন্তু শেয়ার বাজারের বড় বড় চাঁই ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপার আর্থিক সামর্থ্য থাকায় তারা শেয়ার বাজারের ধসের সময়ের সঙ্কট উৎরে উঠতে সক্ষম হয়। ফলে ধসের পর যখন শেয়ার বাজার আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে তখন পথে বসা লক্ষ-লক্ষ ক্ষুদে বিনিয়োগকারীর হারানো টাকা এসে জমা হয় এই সব বড়-বড় বিনিয়োগকারীর হাতে। শেয়ার বাজারের ইচ্ছানিরপেক্ষ একটি বৈশিষ্ট্যই হলো, তা ক্ষুদে পুঁজি সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়। আর, তারপর সেই পুঁজি তার মালিকের হাত থেকে স্থানান্তর করে বড় পুঁজির মালিকদের হাতে কেন্দ্রীভূত করে। বড় আরো বড় হয় এবং ছোট আরো ছোট হতে হতে একসময় সর্বস্বান্ত হয়।
এসবই হলো 'গোদ' বিষয়ক সমাচার। তার ওপরে 'বিষ ফোঁড়ার' আবির্ভাব ঘটে তখন, যখন উপরন্তু শেয়ার বাজারকে তার স্বাভাবিক নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে অসাধু পন্থায় প্রভাবিত করতে জোচ্চুরির আশ্রয় নেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে সে ধরনের একটি বিশাল জোচ্চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সুপরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ারের কেনাবেচার পরিমাণ ম্যানুপুলেট করে সে সব শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর প্রভাবে সমস্ত শেয়ার বাজারের মূল্যসূচক ফুলেফেঁপে উঠেছিল। হাজার হাজার মানুষের বিনিয়োগ করতে ছুটে এসেছিল শেয়ার বাজারে। অপরাধী জোচ্চোর চক্র তখন শেয়ারের বেড়ে যাওয়া দামে তাদের হাতে থাকা বিশাল পরিমাণের শেয়ার হঠাৎ করে বিক্রি করে দিয়েছিল। রাতারাতি কয়েক হাজার কোটি টাকার মুনাফা কামিয়ে নিয়ে তারা কেটে পড়েছিল। কিন্তু বাজারে শেয়ার বিক্রির পরিমাণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ধস নেমেছিল শেয়ারের দামে। পথে বসেছিল 'বাতাসে উড়া টাকা ধরতে আসা' অবুঝ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। জোচ্চুরি ধরা পড়েছিল। অনুসন্ধান করে খলনায়কদের চিহ্নিতও করা হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের বিচার ও শাস্তি হয়নি।
গত ১ মাসের মধ্যে পর পর দুই দফায় আবার শেয়ার বাজারে রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। প্রথম দফায় কয়েকদিনে দেড় হাজার পয়েন্ট এবং পরের বার প্রায় দুই হাজার পয়েন্ট দরপতন ঘটেছে। শেয়ার বাজারের ৩৩ লক্ষ সাধারণ বিনিয়োগকারীর অধিকাংশই ইতোমধ্যে বিপুল লোকসানের শিকার হয়েছে। শেয়ার বাজারের মোট লোকসান হয়েছিল প্রথম দফায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। ১০ জানুয়ারি ১ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পড়ে গিয়েছিল ৬৬০ পয়েন্ট। ভয়াবহ দরপতনের এই 'কালো সোমবারের' পরদিন ১১ জানুয়ারি ঘটেছে মূল্যসূচক উত্থানের বিস্ময়কর চমক। সূচক ১ দিনে লাফিয়ে ১ হাজার ১২ পয়েন্ট বেড়েছিল। রাজপথে বিনিয়োগকারীদের সহিংস বিক্ষোভকে আপতত স্থিমিত করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু যেসব পন্থা অবলম্বন করে তা করা হয়েছে, সেসবের ভবিষ্যৎ ফলাফল সম্পর্কে গভীর সংশয় ও উৎকণ্ঠা রয়েছে। প্রায় সব বিশেস্নষকেরই রায় হলো, শেয়ার মার্কেট স্থিতিশীল হয়েছে এমন কথা মোটেও বলা যাবে না। সঙ্কটের আরো বড় টাইম বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
এই সতর্কবাণী কেবলমাত্র 'নিরাশাবাদীদের বচন' নয়। দেশের গোটা অর্থনীতি এক ধরনের গোড়ায় গলদ নিয়ে চলছে। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের যে বিশাল বিস্তৃতি ঘটেছে, সেই তুলনায় পণ্য ও সেবাখাতে প্রবৃদ্ধি অতি নগণ্য। সুতরাং কোনো বস্তুগত ভিত্তি ব্যতিরেকেই অনেকটাই কেবলমাত্র হাওয়ার ওপরে শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে চলেছে। এই অবস্থা বাতাসের বুদ্বুদ অথবা ফুলানো বেলুনের মতো অতি ভঙ্গুর হতে বাধ্য। ইংরেজিতে একে 'বাবল ইকনমি' বলা হয়। এক মুহূর্তের খোঁচায় ফুলানো বেলুনের চুপসে যাওয়ার মতো বাজার সম্পূর্ণ ধসে পড়ে মহামন্দার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া, বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য ও সেবাখাতে বিনিয়োগের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার বদলে দ্রুত মুনাফার লোভে শেয়ার বাজারে ঢুকে পড়েছে। এর ফলে অন্যান্য ক্ষতিকর ফলাফলের পাশাপাশি শেয়ার বাজার বড় বড় বিনিয়োগকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
জুয়া হলো এমনিতেই ভাগ্যের খেলা, যে খেলা একসময় নেশার টানে পাকা জুয়াড়িকেও পথের ভিখারী বানিয়ে দেয়। তার ওপরে জুয়ার আসরে যদি জোচ্চুরি থাকে, তাহলে সাধারণ খেলোয়াড়দের সব হারিয়ে ফকির হওয়াটা প্রায় নিশ্চিত একটি ব্যাপার মাত্র।
যুধিষ্ঠিরকে পাশা খেলার বাজিতে দ্রৌপদীসহ সর্বস্ব হারাতে হয়েছিল। একেতো তা ছিল ভাগ্যনির্ভর খেলা। তার ওপর, দুর্যোধনের মন্ত্রণাদাতার ভূমিকায় ছিল তার দুষ্ট 'শকুনী মামা'। 'গোদের ওপর বিষফোঁড়া' হলে তা থেকে বাঁচার উপায় নিঃসন্দেহে খুব দুঃসাধ্য। শেয়ার বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অবস্থার ফেরে আজ সেই সর্বনাশা 'ভাগ্যের খেলার' অসহায় শিকারে পরিণত হয়েছে।
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
|
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/19/2011 3:03 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক নজিরবিহীন উত্থান পতন কেন?
আহমেদ মিঠু
The Daily Ittefaq
15.01.2011
পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক হলেও এক মাসে দেশের শেয়ারবাজারের বিপর্যয় ছিল অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অদূরদর্শিতা এবং বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে একাধিক সিন্ডিকেট বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পকেট কেটে নিজেদের মুনাফার পাল্লা ভারি করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অতি মূল্যায়িত বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থানে নিয়ে আসার কথা বলে বড় ধস নামানোর প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য কমিশনের একাধিক কর্মকর্তাকে কাজে লাগানো হয়েছে। তবে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের তৎপরতা এবং এসইসির তাৎক্ষণিক কিছু সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পুঁজিবাজারকে এ যাত্রায় খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা সম্ভব হয়েছে।
প্রতি বছরই ডিসেম্বর মাসে এসে পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধনের প্রবণতা তৈরি হয়। এর মূল কারণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বার্ষিক হিসাব সমাপনী। বার্ষিক হিসাব চূড়ান্ত করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিওর শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। জানুয়ারিতে তারা আবার বিনিয়োগ শুরু করলে বাজার ঊধর্্বমুখী হয়ে ওঠে।
কিন্তু টানা ৩ মাসে অধিকাংশ শেয়ারের দর ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেয়ার মাত্রা ছিল অন্যান বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এর সঙ্গে আইনসীমার অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যাহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোরতা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা শিল্প ঋণের টাকা ফেরতের সময় বেঁধে দেয়া, ব্যাংকের নগদ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) হার বৃদ্ধি এবং মার্জিন ঋণ সংকোচনের প্রভাবে বড় দরপতনের দিকে ধাবিত হয় শেয়ারবাজার। তবে শুধু এসব কারণে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে_ বাজার বিশ্লেষকরা তা মনে করেন না। এর পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু অদূরদশর্ী সিদ্ধান্ত এবং
বিভিন্ন মহলের তৎপরতা জড়িত ছিল বলে তারা মনে করেন।
এসইসির দিক থেকে ব্রোকারেজ হাউসের মেম্বারস মার্জিন বৃদ্ধি এবং চেক জমা ও নেটিং সুবিধা নিয়ে দুটি নির্দেশনা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দরপতনের ধারা সৃষ্টি করে। ৬ ডিসেম্বর চেক জমা এবং নেটিংয়ের অপব্যবহার সংক্রান্ত দুটি নির্দেশনা জারি করা হয়। আগে থেকেই এ দুটি নিয়ম বলবৎ থাকার পরও কী কারণে নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হলো_ তা কারো কাছেই স্পষ্ট নয়। ওই সময় পরপর দু'দিন বাজারে স্বাভাবিক সংশোধন হওয়ার পর এসইসির দিক থেকে নতুন করে হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। নানা কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমনতিইে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। এ অবস্থায় দুটি নির্দেশনা জারি করায় পুরো পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করে তোলে।
এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারকে না জানিয়ে কমিশনের সদস্য মনসুর আলম চেক ও নেটিং সুবিধা সংক্রান্ত নির্দেশনা দুটি জারির ব্যবস্থা করেন। টানা এক মাস অস্থিরতার পর পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে শুরু করলে গত মঙ্গলবার মনসুর আলমকে এসইসি থেকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এর প্রেক্ষিতে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন।
বাজারে অস্থিরতার পেছনে বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসেরও ভূমিকা ছিল। এসইসির পক্ষ থেকে চেক সংক্রান্ত নির্দেশনাটি জারির পরই এসব ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়। এসইসির নির্দেশনায় চেক জমার পর তা নগদ জমা না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার না কেনার কথা বলা হয়। কিন্তু বাজারে গুজব ছড়ানো হয় যে, শেয়ারবাজারে চেকের মাধ্যমে কোনো লেনদেন করা যাবে না। এ কারণেই বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হন। পরে দ্বিতীয় নির্দেশনায় গ্রাহকের হিসাবে থাকা শেয়ার বিক্রি না করেই নেটিং সুবিধার আওতায় শেয়ার কেনার প্রবণতা বন্ধের কথা বলা হয়। কিন্তু বাজারে গুজব ছড়ানো হয় যে, পুরনো শেয়ার বিক্রি না করে নতুন করে শেয়ার কেনা যাবে না। বাজারে পরিকল্পিতভাবে ধস নামানোর জন্যই এসব গুজব ছড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ধারাবাহিক দরপতনের সময় ৫-৬টি বড় মার্চেন্ট ব্যাংক শেয়ার কেনা থেকে বিরত ছিল। এর মধ্যে যে ক'দিন রেকর্ড দরপতন হয়েছে_ বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলেও নিজেদের পোর্টফোলিও তো বটেই এসব হাউসে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী শেয়ার কেনাও বন্ধ রাখা হয়। অনেক গ্রাহক শেয়ার কিনতে আগ্রহী হলেও তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে নিবৃত করা হয়। গত এক মাসের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারের লেনদেনে শীর্ষ অবস্থানে থাকা একাধিক ব্রোকারেজ হাউস শেয়ার কেনা বন্ধ রাখায় বাজারে বিক্রির চাপ বাড়লেও এর বিপরীতে ক্রয়াদেশ ছিল একেবারেই কম। মূলত এ কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সূচকে বড় রকমের ধস নামে। আবার শেয়ারের দর ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পোর্টফোলিও এবং নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের হিসাবে বিপুলসংখ্যক শেয়ার কিনেছে।
আতঙ্কের কারণে বাজারে ধস নামলেও সর্বনিম্ন দরে শেয়ার কিনতে তৎপর হয়ে ওঠে একটি চক্র। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন মূলধন তুলে নেয়ার জন্য দ্রুত শেয়ার বিক্রি করতে সচেষ্ট তখন কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তার সহায়তায় বিপুলসংখ্যক শেয়ার কিনে নেয় ওই চক্রটি। এ কারণেই ব্যাপক দরপতন সত্ত্বেও ৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে ১ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। আর ১০ জানুয়ারি ৫০ মিনিটে লেনদেন হয় ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার।
সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৩ মাস শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরবৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি চক্র সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক এসব জুয়াড়ি চক্রের হয়ে কাজ করে। এক্ষেত্রে ঘুরে-ফিরে ৩-৪টি ব্রোকারেজ হাউসের নাম এসেছে। গত সেপ্টেম্বরে ডিএসই সাধারণ সূচক সাড়ে ৬ হাজারের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিনই তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ানো হয়।
অন্যদিকে সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্টক এক্সচেঞ্জের কিছু সদস্য এবং ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার লোভে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক ফুলিয়ে-ফাপিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারবাজার চাঙ্গা হলেও একপর্যায়ে তা অস্বাভাবিক অবস্থানের দিকে ধাবিত হয়। ওই সময় এসইসিসহ বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। বাজারের লাগাম টেনে ধরতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিএসই সাধারণ সূচক ৫ হাজার অতিক্রম করার পর থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মুলধনী
মুনাফার ওপর আয়কর আরোপের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ডিএসই'র একজন সাবেক সভাপতির তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ওই সাবেক সভাপতিসহ কয়েকজন ব্যক্তি বারবার সরকারকে ভুল বুঝিয়ে শেয়ারবাজারকে অস্বাভাবিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী এসইসির পক্ষ থেকে সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা করার ঘোষণা দেয়া হলেও তাদের তৎপরতার কারণে শেষ পর্যন্ত অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার এখতিয়ার কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এসব কারণে একদিকে এসইসির কর্মকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বাজারকে টেনে ওঠানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করলেও বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি তেমন কোনো ভূমিকাই নেননি। শেয়ারবাজারে বড় দরপতন শুরুর হওয়ার পর ডিএসইর আলোচিত সাবেক সভাপতি বিদেশে চলে গেছেন। অবশ্য এর আগেই তিনি নিজের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে গেছেন বলে ডিএসই সদস্যরা ধারণা করছেন।
বিভিন্ন মহলের মুনাফালোভী তৎপরতায় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে ৩ মাসের ব্যবধানে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় আড়াই হাজার পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৯ হাজার পয়েন্টে উঠে যায়। ডিসেম্বরে মূল্য সংশোধনের পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যায় এসব প্রতিষ্ঠান। এর ফলে ডিসেম্বরে কয়েক দফা রেকর্ড দরপতনের পর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে বড় বিপর্যয় নেমে আসে। এ সময় ডিএসই সাধারণ সূচক ৬ হাজারের নিচে নামিয়ে আনাই ছিল লক্ষ্য। এসইসির দিক থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও ওই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি দরপতন হয়েছে। তবে অবস্থায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের তৎপরতায় এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টায় পুঁজিবাজারকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা সম্ভব হয়েছে। যদিও এ সময়ের মধ্যেই সুযোগসন্ধানীরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পকেট কেটে নিয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা।
তবে সরকারের র্সেবাচ্চ মহলের তৎপরতা এবং এসইসির তাৎক্ষণিক কিছু সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পুঁজিবাজারকে এ যাত্রায় খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা সম্ভব হয়েছে। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/19/2011 12:21 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE |
শেয়ার বাজারের ফায়দা লুটেছে একটি চক্র
এজাজ হোসেন
The Daily Ittefaq
20.01.2011
মাঝে কিছুদিন দেশের শেয়ার বাজারের উপর কার্যতঃ কারোরই কোন নিয়ন্ত্রণই ছিল না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এণ্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করার একে একে প্রায় অর্ধ শতাধিক নির্দেশনা, বিধিমালা জারি করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাজার বাড়তে বাড়তে চরম সীমায় চলে গেছে। সংশিস্নষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বাজার মূল্যসূচক যখন ৭ হাজার ছাড়ায় তখন অনেকে বলেছিলেন, মূল্যসূচক এর চেয়ে বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। প্রশ্ন হলো তা সত্ত্বেও সূচকের রাশ টেনে ধরা গেলো না কেন? অনেকে মনে করেন সেখানে একটি 'দুষ্ট চক্র' সক্রিয় ছিল। সূচক বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নেয়। তাদের দাপটে কারোরই কিছু করার ছিল না। বরং তাদের সুবিধা দেয়ার জন্যই একের পর এক নির্দেশনা বা বিধিমালা এসেছে বা তুলে নেয়া হয়েছে। তারপর যখন সেই চক্রের হাতে যথেষ্ট অর্থ যাওয়াটা নিশ্চিত হয়েছে তখন থেকে শুরু হয়েছে বাজার সংশোধন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কান্নাকাটি।
শেয়ার বাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও ধসের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককেও অনেকে দায়ী করেছে। বাজার সংশিস্নষ্টরা বলছেন, শেয়ার বাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়ে গত বছর যথেষ্ট নমনীয় ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেয়া শিল্প খাতের ঋণের একাংশ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ হয়েছে। আর এই লাগামহীন তারল্য প্রবাহের কারণে বাজারে শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়ে অধিকাংশ শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে যায়। বছরের শেষ ভাগে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির কারণে বাজারে যখন মূল্য সংশোধন শুরু হয় ঠিক তখন একসঙ্গে একাধিক কঠোর ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ার বাজারে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাত্রাতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং শেয়ার বাজারে চলে আসা শিল্প খাতের ঋণের বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এগুলো নিয়মিত করতে ব্যাংকগুলোকে বেঁধে দেয়া হয় চূড়ান্ত সময়সীমা। একই সঙ্গে বাড়ানো হয় সিআরআর ও এসএলআর (আমানতের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে তফসিলী ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা জামানত)। এতে মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা ও সংকট তৈরি হয়। তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শেয়ার বাজারে।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় আরও দেখা গেছে, গ্যাস-বিদু্যৎ সংকটে গত প্রায় দুই বছর ধরে বিনিয়োগে ছিল স্থবিরতা। এর পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ছিল ধারাবাহিক ঘটনা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে ছিল অতিরিক্ত তারল্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়াকড়ি না থাকায় এই উদ্বৃত্ত তারল্যের একটি বড় অংশ চলে যায় শেয়ারবাজারে। অন্যদিকে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ না থাকায় এবং বিদ্যমান শিল্প কারখানা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কতিপয় শিল্পোদ্যোক্তার তহবিল স্বাভাবিক কারণেই চলে আসে শেয়ারবাজারে ।
তাছাড়া ব্রোকার হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং বাজারের টানা ঊধর্্বগতিতে আশায় বুক বেঁধে বাজারে আসতে থাকে নতুন বিনিয়োগকারী। বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও ব্যাপক তারল্য প্রবাহের কারণে বাজারে শেয়ারের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু এর বিপরীতে নতুন শেয়ারের সরবরাহ তেমন না থাকায় শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাজার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
তাছাড়া তারা নিজেদের আইন নিজেরাই ভেঙ্গেছে। সমপ্রতি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন কোম্পানির আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য এসইসি আইন তৈরি করলেও তারা নিজেরাই তা মানেনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই তা পরিবর্তন করেছে। জানা গেছে, গত বছর ২৯ ডিসেম্বর বিভিন্ন কোম্পানির আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বরাদ্দের জন্য ২ কার্য দিবস সময় রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করে এসইসি। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিলাম শেষ হওয়া এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আবেদন জমা নেয়ার সময়ের মধ্যে ১৫ কার্য দিবসের ব্যবধান থাকতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উলেস্নখ করা হয়। কিন্তু এ প্রজ্ঞাপন জারির মাত্র ১৫ দিনের মাথায় গত ১৩ জানুয়ারি এসইসি একটি প্রতিষ্ঠানের আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য ৩ থেকে ৫ কার্য দিবস সময় দিয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিলাম শেষ হওয়া এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আবেদন জমা নেয়ার সময়ের ব্যবধান ১৫ কার্যদিবস থেকে বাড়িয়ে ২৫ কার্যদিবস করেছে। এতে সংশিস্নষ্ট কোম্পানি আর্থিকভাবে ( ব্যাংক সুদের মাধ্যমে) লাভবান হবে বলে জানা গেছে।
ব্যাংকারদের সূত্রে বলা হয়েছে, শিল্পখাতে ঋণের চাহিদা না থাকায় বিপুল তারল্য নিয়ে দায়গ্রস্ত ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক কারণেই বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসাবে শেয়ারবাজারকে বেছে নিয়েছিল। প্রথম দিকে এ বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক কম হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারির অভাবে এক পর্যায়ে তা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিধি অনুসারে, তফসিলী ব্যাংকগুলো তার মোট দায় ও আমানতের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পরিমাণ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। ঋণের চাহিদা না থাকা, শেয়ারবাজারে ব্যাপক মুনাফার সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বলতার সুযোগে অনেক ব্যাংক এ সীমার বেশি পরিমাণ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। অন্যদিকে ঝক্কিহীন বিনিয়োগ সুবিধার কারণে অনেক শিল্পোদ্যোক্তা শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। এসব সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতা ছিল লক্ষণীয়।
শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততার পরিমাণ নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক যে পদ্ধতি অনুসরণ করে তাও ছিল যথেষ্ট বিতর্কিত। শেয়ারের কেনা দামের ভিত্তিতে এ হিসাব না করে তার বাজার মূল্যের নিরিখে সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা হয়। এ হিসাবের কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততার পরিমাণ তার প্রকৃত বিনিয়োগের চেয়ে অনেক বেশি দেখায়। আর এই 'বেশি' বিনিয়োগ কমিয়ে আনতেই তাদের ওপর জারি করা হয় কঠোর নির্দেশনা। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/20/2011 12:58 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | গোলটেবিল বৈঠক সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে বিতর্কিত বার্তা বাজারে যাচ্ছে
শেয়ারবাজারকে নিজ গতিতে চলতে দেওয়ার পরামর্শ
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২০-০১-২০১১
Prothom-Alo
শেয়ারবাজারকে নিয়মিত ও নিজ গতিতে চলতে দেওয়া উচিত। কৃত্রিমভাবে বাজারকে বাড়ানো-কমানো সঠিক পদক্ষেপ নয়। বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে, আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রিরও কোনো কারণ নেই। বাজারের মৌলভিত্তির ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গত কয়েক দিনের বড় ধরনের উত্থান-পতনের পরও এই বাজারে এখনো অনেক বিনিয়োগযোগ্য শেয়ার রয়েছে।
গতকাল বুধবার প্রথম আলো আয়োজিত ‘শেয়ারবাজার কোন পথে’ বিষয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলা হয়েছে। এ সময় আলোচকেরা তদারকিব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সূচক ধরে রাখা নিয়ন্ত্রকদের কাজ নয়। বরং বাজার যাতে ভালোভাবে চলে এবং যারা কারসাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই হবে মূল কাজ।
আলোচকেরা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে দাম ফিরে পাওয়া যাবে। তা ছাড়া অতিমূল্যায়িত শেয়ারের দাম কমলেও বাজার ঠিকই বড় হবে। সুতরাং শেয়ারবাজারকে বাজার শক্তির ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
প্রথম আলোর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ও প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী শেখ মর্তুজা আহমেদ। আলোচনায় সূচনা বক্তব্য দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।
সমন্বয়হীনতা ও ভুল বার্তা: এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে বিতর্কিত বার্তা বাজারে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কখনো বলছে, ব্যাংকগুলো যদি তার মোট দায়ের ১০ শতাংশের বেশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে থাকে, তাহলে সেগুলো সমন্বয় করতে হবে। আবার কখনো বলছে, সমন্বয় নয়, এ ব্যাপারে ব্যাংকগুলো থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছে, আবার কখনো বিধিবদ্ধ জমার নগদ অংশ (সিআরআর) বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে একধরনের ভুল বার্তা যাচ্ছে। যদিও অঙ্কের দিক থেকে এসব কারণে বাজারে কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়। এ ছাড়া বর্তমানে এসইসি সূচক ধরে রাখার যে চেষ্টা করছে, সেটিও বাজারে খারাপ বার্তা দিচ্ছে। সূচককে এক জায়গায় ধরে রাখার চেষ্টা এসইসির দায়িত্ব না।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, বাজারে আস্থার সংকট চলছে। এ অবস্থায় ব্রোকারেজ হাউসে যদি কোনো গুজব রটে যায়, তাহলে তা বাজারকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গুজব বা বিভ্রান্তি যাতে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার আলাদা বিষয় হলেও তারল্য নিয়ন্ত্রণে এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়হীনতা বাজারে ভুল বার্তা দিচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, এসইসি, ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো দক্ষ জনশক্তির অভাবে বিনিয়োগকারীদের সঠিক তথ্য দিতে পারছে না। বিনিয়োগকারীরা চাহিদা অনুযায়ী ঋণ না পেয়ে আরও বেশি হতাশ হয়ে পড়ছেন।
শাকিল রিজভী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজার নিয়ে যেকোনো বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করতে পারিনি। কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হলো না, তা বলতে পারব না। আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এখনো আলোচনা করতে চাই। প্রয়োজনে নিচের দিকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসব। কারণ আমি মনে করি, আলোচনা করলে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব। এসইসির সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এসইসির সমন্বয় আছে কি না, সেটি আমি বলতে পারব না।’
বাড়ল কেন, কমল কেন: ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কেন বাজার নয় হাজার সূচকে উঠল, আবার কেন আজকের অবস্থা তৈরি হলো, এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা কেউ করতে চায় না। তবে বাজার যেখানে চলে গিয়েছিল, তাতে মূল্য সংশোধন ছিল অনিবার্য। বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত না করে চাহিদা বাড়ানো ঠিক হয়নি।
এসইসির এই সাবেক চেয়ারম্যান আরও বলেন, এরই মধ্যে সূচক ২০ শতাংশের মতো সংশোধন হয়েছে। ঝুঁকিও অনেকটা কমে গেছে। তারপরও বাজার স্বাভাবিক আচরণ করছে না। সংকট চলমান। এ ক্ষেত্রে তারল্য-সংকট বড় কারণ হলেও প্রধান কারণ আস্থার সংকট। তারল্য-সংকট কাটানোর পাশাপাশি সবার আগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, বিনিয়োগকারীর উপস্থিতির দিক থেকে বাজার অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রকৃত খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা, আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে যাওয়া, সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতি প্রতিবন্ধকতা—সব মিলিয়ে বাজারে আজকের অবস্থা তৈরি করেছে। কারণ বাজারে চাহিদা বেড়েই গেছে, কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ বাড়েনি।
আবু আহমেদ বলেন, ২০১০ সালে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো গেলে আজকের অবস্থা তৈরি হতো না। অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের সুযোগ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ব্রোকারেজ হাউসের শাখা খোলার অনুমতির ফলে বাজারে চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।
শাকিল রিজভী বলেন, বিশ্বমন্দার প্রেক্ষাপটে বিগত কয়েক বছরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পুঁজির একটা বড় অংশ পুঁজিবাজারে চলে এসেছিল। সে সময় প্রবাসী-আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় জায়গা-জমির দামও অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এখন প্রবাসীদের কাছ থেকে আগের মতো অর্থ আসছে না। তিনি মনে করেন, তারল্য-সংকট ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে বাজারের আজকের অবস্থা তৈরি হয়েছে।
শেখ মর্তুজা আহমেদ বলেন, বর্তমান বাজারে প্রধান সমস্যা তারল্য-সংকট ও বিনিয়োগকারীর আত্মবিশ্বাসহীনতা।
ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা: মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতার স্বার্থেই ডিমিউচ্যুলাইজেশন (মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করা) করতে হবে। এ জন্য হয়তো তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। কিন্তু এটি করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। আবু আহমেদ বলেন, ‘এখন আমাদের ধীরে ধীরে ডিমিউচ্যুলাইজেশনের দিকে এগোতে হবে। এটি করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে।’
শাকিল রিজভী বলেন, ‘আমিও চাই ডিমিউচ্যুলাইজেশন হোক। তবে কখন, কী পর্যায়ে এটি করা হবে, তা আলোচনার দাবি রাখে। এটি করতে হলে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে ধারণা নিতে শিগগিরই আমরা বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে যাব, তাদের সঙ্গে কথা বলব।’
সমন্বয়হীনতা: ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, শেয়ারবাজারে তারল্য নিয়ন্ত্রণ ও জোগানে এসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বয়হীনতা রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, বাজারের আজকের অবস্থার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতাও দায়ী। শিল্পঋণসহ অন্যান্য খাতের টাকা শেয়ারবাজারে চলে আসছে—এটি তারা আগে দেখল না কেন।
আবু আহমেদ বলেন, নিয়ন্ত্রণমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এটি নির্ভর করে চাহিদা-সরবরাহ ও বিশ্ববাজারের পণ্যমূল্যের ওপর। এ ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পুঁজিবাজার মুদ্রানীতির অংশ নয়—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেন আবু আহমেদ।
প্রয়োজন শক্তিশালী এসইসি: মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এসইসির মূল কাজ বাজারকে সুচারুভাবে পরিচালনা করা। কোথাও কোনো কারসাজি ঘটছে কি না তা দেখা। কারসাজির ঘটনা ঘটলে তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এ জন্য সংস্থাটির সার্ভিলেন্স ও তদারকিব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী এসইসির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় অনিয়মের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধরনের কোনো শাস্তির বিধান আমরা দেখতে পাচ্ছি না। অথচ সন্দেহজনক যেকোনো লেনদেন দেখার ক্ষমতা এসইসির আছে। সংস্থাটি চাইলে সেসব ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, ‘একক কোনো কোম্পানির পক্ষে বাজারে কারসাজি করা সম্ভব না। তবে কিছু কিছু কোম্পানির দাম নিয়ে কারসাজি হয়েছে। এসইসির দায়িত্ব দাম নিয়ে যারা কারসাজি করেছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা। দু-একটা ঘটনায় শাস্তির বিধান করা গেলে এ ধরনের প্রবণতা কমবে। কিন্তু আমরা দেখেছি তদন্ত প্রতিবেদন ও দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পরও শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালের কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, এসইসির উচিত জেড শ্রেণীভুক্ত কোম্পানিগুলোর লেনদেন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। কারণ বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধির ঘটনা রয়েছে।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগকে আরও উন্নত করা দরকার। এ জন্য সংস্থাটিতে পেশাদার লোকবল বাড়াতে হবে। কিন্তু বর্তমানে এটির যে বেতনকাঠামো রয়েছে তাতে পেশাদার লোক নিয়োগ করা সম্ভব হবে না। তাই এসইসির বেতনকাঠামো পরিবর্তন জরুরি। সেই সঙ্গে সংস্থাটির কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। পুঁজিবাজারবিষয়ক যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে দিতে হবে।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতি: সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, এই পদ্ধতি চালুর ফলে বেসরকারি খাতের অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী হয়েছে। এটি চালু হওয়ার ফলে শেয়ারের ন্যায্যমূল্য কিছুটা হলেও নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এই পদ্ধতির কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকতে পারে। সেটি চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতিটি উঠিয়ে দিলে বেসরকারি কোম্পানি বাজারে আনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। কিছু খারাপ কোম্পানির জন্য ভালো কোম্পানিকে শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে না।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি চালু না করলে বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো বাজারে আসত না। তবে এই পদ্ধতির কোথাও কোথাও গলদ থাকতে পারে। দেখতে হবে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসা কোম্পানিগুলোর যে নির্দেশক দাম ঠিক করা হচ্ছে, সেটি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না। এই পদ্ধতির যে সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এর অপব্যবহার যেন পুরো পদ্ধতিটিকে বন্ধ করে না দেয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
আবু আহমেদ বলেন, আগে কোম্পানিগুলো কাগজ বিক্রি করে টাকা নিত। আর এখন কোম্পানিগুলো অ্যাকাউন্টস বেচে টাকা নিতে বাজারে আসছে।
শাকিল রিজভী বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিটি এখন বিনিয়োগকারীকে ঠকানোর যন্ত্র হয়ে গেছে। এ পদ্ধতিতে একই খাতের শেয়ারের বাজারমূল্য দেখে নির্দেশক দাম ঠিক করা হয়। এতে করে যেসব কোম্পানি বাজারে আসতে চায়, তারা সংঘবদ্ধভাবে তালিকাভুক্ত ওই খাতের কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ায়। যাতে তার কোম্পানির শেয়ার বেশি দামে বিক্রি করতে পারে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনেই গলদ: শাকিল রিজভী বলেন, এখন বাজারে এমন অনেক কোম্পানি আসছে তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে গলদ রয়েছে। শেয়ারের বেশি দাম নেওয়ার জন্য অনেক কোম্পানি তার আর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। এটি করতে গিয়ে কোম্পানিগুলো আগের বছরের চেয়ে আয় বাড়িয়ে দেখাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার বিপরীতে খরচ কমাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে আয় বাড়লে খরচও বাড়বে। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মান বাড়াতে হবে। আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করা গেলে তাতে সবাই লাভবান হবে।’
পরামর্শ: আলোচনায় বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সবাই মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলেন।
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, উত্থান-পতন যাই ঘটুক, শেয়ারবাজার এখনো বিনিয়োগযোগ্য। ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করলে অবশ্যই লাভবান হওয়া যাবে। এ জন্য ধৈর্য ধরতে হবে।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এরই মধ্যে বাজার ২০ শতাংশ মূল্য সংশোধন হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার মতো অবস্থায় বাজার আর নেই। তাই আতঙ্কিত হয়ে ভালো শেয়ার বিক্রির কোনো কারণ নেই। পুঁজিবাজারকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। যদিও এখন আমরা কিছুটা ক্রান্তিকালের মধ্যে আছি।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে শিল্পায়ন চাইলে পুঁজিবাজারের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য স্টক মার্কেটে যেতেই হবে। শুধু ব্যাংক ঋণ নিয়ে কখনো দীর্ঘমেয়াদি শিল্পায়ন এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তবে পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধন হবে, এটি স্বাভাবিক নিয়ম। তারপরও ভালো কোম্পানি ভালো করবে।
আবু আহমেদ বলেন, ‘দাম কমবে শেয়ারের, কিন্তু বাজার বাড়বে—এটাতে আমি আশাবাদী। এই বাজার বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বিনিয়োগকারীরা চলে গেলে তাদের সহজে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী বাজারবিমুখ হলে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। বর্তমান বাজারেও বিনিয়োগ করে নিশ্চিন্তে বের হয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।
শাকিল রিজভী বলেন, বর্তমান বাজারে ৬০ শতাংশ শেয়ার আছে, যেগুলোর মূল্য আয়ের অনুপাত (পিই রেশিও) ২০-এর নিচে আছে। এমন অনেক কোম্পানি আছে, যাদের পিই রেশিও ১০-এর কম। এই বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবেই।
শেখ মর্তুজা আহমেদ বলেন, ‘স্টক মার্কেট কখনো ধ্বংস হবে না (স্টক মার্কেট নেভার ডাই)।’ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভালো শেয়ারে থাকুন, ভালো দাম ফিরে পাবেন।’ |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/21/2011 10:36 pm |
 Senior Member

Regist.: 01/21/2011 Topics: 0 Posts: 34
 OFFLINE | দেশের অর্থনীতি কি রিসেশনের পথে?
মঈনুল আলম
Published: 2010-12-22
[সূত্রঃ নয়া দিগন্ত, ২২/১২/১০]
এক বছর আগে নয়া দিগন্তে আমি যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলাম তারই কিছু লক্ষণ ফুটে উঠল ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করার ঘটনায়।
এ ভাঙচুর ঘটনার পাঁচ দিন পরেই ১২ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ সূচক ৩৮৪ পয়েন্টে নেমে যায়। এরপর গত রোববার আরেক দফা রেকর্ড অতিক্রম করে দরপতন হয়েছে; যা ডিএসই’র ইতিহাসে সূচকের এককালীন সর্বাধিক পতন, যাকে বস্তুত ধসই বলা যায়। এ ধস ডিএসই’র ৯৬-এর শেয়ার কেলেঙ্কারির ইতিহাসকেও হার মানিয়েছে বলা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর ডিএসই’র সূচক ২৩৩ পয়েন্ট নেমে গিয়ে কেলেঙ্কারির সৃষ্টি করেছিল।
১৩ জানুয়ারি সংখ্যা (২০১০) নয়া দিগন্তে প্রকাশিত আমার ‘অর্থনৈতিক পরিস্খিতি ভয়াবহ স্খবিরতায় পৌঁছাচ্ছে’ শীর্ষক কলামে এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলাম : ‘...বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্খান অব্যাহতভাবে বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির জোয়ার যদি সৃষ্টি করা না যায় আগামী এক/দেড়/দুই বছরে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে অভাবিত ধস নামতে পারে, যা শেয়ারহোল্ডার লাখ লাখ নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে নিদারুণভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ... মহাজোট সরকার দেশের অর্থনীতিতে এই অশনি সঙ্কেত সম্পর্কে দেশের জনগণকে কতটুকু আস্খায় নিচ্ছে এবং কী সতর্কতা অবলম্বন করছে?’
এই এক বছরে সরকার কোনো সতর্কতা অবলম্বন করেনি। তাই শেয়ারবাজারে আকস্মিকভাবে এক ঘন্টার দর পতনে যখন হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ভাঙচুর করল তখন কর্র্তপক্ষ দিশেহারা হয়ে পড়ল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এ ঘটনার জন্য সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসসিইসি) দু’টি নির্দেশ জারিকে দায়ী করল। এসসিইসি’র প্রধান কর্ণধার ঘটনাটিকে ‘নজিরবিহীন ও দু:খজনক’ বলে অভিহিত করার অধিক আর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ঘটনার দুই দিন পরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ঘটনাটি প্রসঙ্গে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বললেন, ব্যাঙ্কের কলমানি বাজারের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হচ্ছে। বিষয়টি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বললেন, শেয়ারবাজারে শেয়ারগুলোর বেনিফিশিয়ারি ওনার্সের সংখ্যা এখন ৩৩ লাখ। ... তাদের আরো শিক্ষিত করে তুলতে হবে।
আমার কলামে যাদের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বলেছি, অর্থমন্ত্রী টেকনিক্যাল ভাষায় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স সংজ্ঞার পেছনে তাদের আড়াল করেছেন। অর্থমন্ত্রীর সাথে উপস্খিত একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেন, বাজারে যে পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে, তার তুলনায় শেয়ারের সরবরাহ কম। তিনি আরো বলেন, বড় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ থলিতে (পোর্টফোলিও) বিভিন্ন ধরনের শেয়ার থাকে। তাই শেয়ারবাজারে আকস্মিক দর পতনে তাদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। বেশি ঝুঁকিতে থাকেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।
এখন অর্থমন্ত্রী ব্যাংকগুলোকে যে সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী করলেন, প্রকৃতপক্ষে গত বছর ডিসেম্বরে অর্থ মন্ত্রণালয়ই সে সমস্যার গোড়াপত্তন করেছিলেন সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়ার সীমা এক লাফে আড়াই গুণ বাড়ানোর আকস্মিক সরকারি সিদ্ধান্ত দিয়ে। (নয়া দিগন্ত, ২৫ ডিসেম্বর, ২০০৯)।
অর্থমন্ত্রী মুহিত ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা যে ব্যাখ্যাগুলো দিলেন তাতে এটি পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে, যদিও তারা তা উচ্চারণ করেননি যে দেশের অর্থনীতিতে স্পেকুলেটিভ ইকোনমি (ফটকা অর্থনীতি) অংশটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে স্ফীত হয়ে উঠে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের সম্মুখীন করছে।
২০০৯-এর মাঝামাঝি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান যখন অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করলেন তখন আমি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলাম যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি স্ট্যাগফ্লেশনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে কিন্তু গভর্নর সে কথাটি পুরাপুরি ‘চাপিশ’ করে গিয়েছেন। নয়া দিগন্তের ৩০ জুলাই সংখ্যায় ‘স্ট্যাগফ্লেশন মুদ্রানীতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর’ শীর্ষক আমার কলামে সে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলাম।
তার দেড় বছর পর আজ বাংলাদেশের মুদ্রার পরিমাণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মধ্যে যে দারুণ অনানুপাত সৃষ্টি হয়েছে এবং একাধিক প্রতিকূল লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে অর্থনীতি স্ট্যাগফ্লেশনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে মর্মে দেয়া আমার তখনকার সতর্কবাণীর যৌক্তিকতাই শুধু প্রমাণিত হয়নি তার সাথে নয়া দিগন্তই সর্বপ্রথম এই সতর্কবাণী প্রকাশ করার সংবাদপত্র হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে অবশ্যই। পাশ্চাত্য গণতন্ত্রগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর (যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভ, কানাডায় ব্যাংক অব কানাডা) দায়িত্ব পালনে প্রধান লক্ষ্য থাকে মুদ্রাপ্রবাহের সাথে সমন্বয় রেখে সরকারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলোকে লাগাম দিয়ে রাখা এবং বেসামাল হতে না দেয়া। এ কারণে এসব দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের কাজ করে বিধায় তাদের প্রায়ই সরকারের সমালোচনা ও সতর্কীকরণ করতে গিয়ে সরকারের মুখোমুখি অবস্খান নিতে হয় এবং এটিকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়া হয়।
কিন্তু মহাজোট সরকারের শাসনের প্রারম্ভকালে নিয়োজিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এই গভর্নর তার একাধিক বিবৃতি ও বক্তব্যে যেভাবে সরকারের বাজেট ও অন্যান্য কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে যাচ্ছেন তাতে ধারণা হতে পারে, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নররূপে আসলে সরকারের গৃহপালিত নিয়ন্ত্রকের ভূমিকাই পালন করে যাচ্ছেন।
মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে গভর্নর বলেছিলেন, শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানির পরিমাণ তখনই ১৬ শতাংশ কমেছে। এ বছর শেষ হতে হতে এ হন্সাসের পরিমাণ কোথায় নেমে এসেছে তার কোনো পরিসংখ্যান সরকার থেকে এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শিল্প খাতে উৎপাদনে প্রায় ধস নেমেছে। কৃষি খাতে উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে ইতোমধ্যেই দেখা দিয়েছে দেশে উৎপাদিত ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার ফায়দা কৃষকরা পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন পাইকাররা। শিল্প উৎপাদন খাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গার্মেন্ট খাত। বছরের শুরু থেকে এ খাতকে যেসব বিপর্যয় আঘাত করেছে তার ফলে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মহারা হয়ে গেছেন। গার্মেন্ট শিল্প সেক্টর এখনো দারুণ বিপর্যয়কর পরিস্খিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ খাতে নেমেছে স্খবিরতা। যার ফলে নতুন কর্মসৃষ্টি হচ্ছে অতি সামান্য। উৎপাদন অর্থনীতির মূল ভিত্তি যে বিনিয়োগ, কর্মসংস্খান ও উৎপাদনের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি তা থমকে গেছে।
এসবের ফলে বাজারে মানির বিপরীতে প্রোডাক্টসের পরিমাণ কী দারুণভাবে কমেছে বা দেশে উৎপাদিত দ্রব্যসম্ভারের ক্রমহন্সাসমান মোট পরিমাণের বিপরীতে মুদ্রা সরবরাহ কী দারুণ অঙ্কে বাড়ছে তার সর্বশেষ পরিসংখ্যান সরকার এখনো প্রকাশ করেনি। কিন্তু একাধিক লক্ষণে যে ভয়াবহ পরিস্খিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে তা হলো দেশের অর্থনীতি এখন স্ট্যাগফ্লেশন যাকে বাংলায় স্খবিরতা-স্ফীতি বলা যায় অতিক্রম করে এক অভূত:পূর্ব রিসেশনের মুখে উপনীত হচ্ছে। দেশ যদি এই রিসেশনে পতিত হয়, অর্থনীতিবিদদের চোখে এ এক এমন ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যাতে কোনো দেশ একবার পড়লে পাঁচ-সাত বছরেও তা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হয়ে উঠবে না, যেমনটি হয়েছিল ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ভয়াবহতম ডিপ্রেশনে।
এক দিকে বিনিয়োগের পথগুলো সঙ্কুচিত হতে থাকলে এবং ব্যাংক সুদের হার কমতে থাকলে এবং অপর দিকে জনগণের হাতে টাকার পরিমাণ বেড়ে গেলে, যা ঘটে : জনগণ শেয়ারবাজারের দিকে ঝুঁকে পড়ে অর্থাৎ শেয়ার/স্টক কিনতে ছোটে। বাংলাদেশে এখন এটিই ঘটছে দারুণভাবে। কয়েকটি কোম্পানি বাজারে শেয়ার ছাড়লে কোনো কোনো কোম্পানির দশ টাকা মূল্যের শেয়ার ১৬০ টাকায় বিক্রয় হওয়ার মতো অবিশ্বাস্য নজিরও দেখা গেছে! শেয়ার/স্টক, বন্ড, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় অর্থনীতির এই যে অংশ তাকে বলা হয় স্পেকুলেটিভ ইকোনমি (ফটকাভিত্তিক অর্থনীতি)। এর বিপরীতে হচ্ছে প্রডিউসেস ইকোনমি (বস্তুভিত্তিক অর্থনীতি)।
পাশ্চাত্যের অর্থনীতি বিশারদদের মতে, কোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্পেকুলেটিভ ইকোনমি অংশ এবং প্রডিউসেস ইকোনমি অংশের মধ্যে একটি সুস্খ আনুপাতিকতা থাকতে হবে। স্পেকুলেটিভ ইকোনমি অংশকে একটি কাঙ্ক্ষিত ও সুস্খ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। স্পেকুলেটিভ ইকোনমি অংশ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে প্রডিউসেস ইকোনমি অংশের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, জাতীয় অর্থনীতির ওপর তা ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে; যেমনটি ঘটেছে গত ২০০৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ভয়াবহতম রিসেশনে, যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্পেকুলেটিভ ইকোনমি অংশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে প্রডিউসেস ইকোনমি অংশের ওপর এমন ভাবে প্রাধান্য বিস্তার করছে যে, লাখ লাখ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার তাদের যৎসামান্য সঞ্চয় বিনিয়োগের জন্য বিকল্প কোনো লাভজনক পথ দেখতে না পেয়ে দ্রুত লাভের জন্য প্রলুব্ধ হয়ে শেয়ারবাজারে ব্যাপকভাবে শেয়ার কিনছে ফটকা বাজারের কর্মপন্থা এবং লাভ-লোকসানের ঝুঁকি সম্পর্কে তেমন কিছু না জেনে। এখন স্পেকুলেটিভ ইকোনমির জমজমাট অবস্খায় এসব কোটি কোটি শেয়ারের লভ্যাংশ তারা হয়তো আগামী বছর পাবে। কিন্তু ২০১০-১১ বছর থেকে এসব শেয়ারের আকর্ষণীয় লভ্যাংশ আসবে কোথা থেকে যদি প্রডিউসেস ইকোনমি অংশে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্খান অব্যাহত বেড়ে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির জোয়ার সৃষ্টি করতে না পারে? আর যদি তা করা না যায় আগামী দেড়-দুই বছরে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে অভাবিত ধস নামতে পারে, যা লাখ লাখ নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে দারুণভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেছেন, শেয়ারবাজারে আকস্মিক দর-পতনে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।
এখন শেয়ারবাজারের সূচকে ২৫০-২৮০ পতন হলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে রাস্তায় ভাঙচুর শুরু করে দিচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে রিসেশনে গ্রাস করলে তার প্রতিক্রিয়ায় শেয়ারবাজারে চরম বিপর্যয়ের ধস নামলে সারা দেশে লাখ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী কিভাবে প্রতিক্রিয়া করবে তা কল্পনা করাও কঠিন।
লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট
moyeenulalam@hotmail.com
[সূত্রঃ নয়া দিগন্ত, ২২/১২/১০] |
|
|
| 01/22/2011 4:13 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | পুজিবাজার: জানুন, বুঝুন, বিনিয়োগ করুন
মাহমুদ মেনন
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২২, ২০১১
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে অনেকেরই রাতারাতি বড়লোক হওয়ার প্রত্যাশাটি প্রকটভাবে কাজ করে। আর তাই না জেনে না বুঝে নিজের কষ্টার্জিত জমানো টাকা কিংবা সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে শেয়ারবাজারে বিনোয়োগ করেন। তাদের ভাবনা শেয়ারে বিনোয়োগ মানেই কাড়ি কাড়ি লাভ। কারো কারো স্বপ্ন যে পুরণ হয়না তা নয়; তবে অনেকেই তাদের বিনিয়োগ হারিয়ে এক পর্যায়ে নিঃস্ব হয়ে ফেরেন। আর তখন তারা বুঝতে পারেন, তাদের ভুলগুলো। এরমধ্যে অন্যতম ভুলটিই হয়, তাদের বিনোয়োগ ঠিকমতো হয় না। তাই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে কোনো বিনিয়োগকারীরই উচিত পুরো বিষয়টি বুঝে নেওয়া।
কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে আগেই জেনে থাকা প্রয়োজন। প্রথমেই জেনে নিন বাজারটির সার্বিক চিত্র।
বর্তমানে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) তথ্য মতে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ লোক নিয়মিত শেয়ার বেচাকেনা করেন। আর প্রতিটি কার্য দিবসে আড়াই লাখ বিনিয়োগকারী বাজারে সক্রিয় থাকেন। প্রতিদিনের লেনদেনের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকার ঘর ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। এ এক বিশাল হিসাবযজ্ঞ। এখান থেকে কেউ লাভ করছেন, কারও আবার বিনিয়োগ করা টাকা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
শেয়ার ব্যবসা কি সবার জন্য?
শেয়ার ব্যবসা কি সবার জন্য? বিরাজমান পরিস্থিতিতে এটি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চাইলে কেউ আটকাবে না। তবে এ ব্যবসায় বিনিয়োগ সঠিক হবে কি না, তা আপনাকেই বুঝতে হবে। বর্তমানে দেখা যায়, ন্যূনতম জ্ঞান নেই, এমন অনেক লোক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন। কেউ ভাগ্যচক্রে দাও মারেন আর অনেকেই অজ্ঞতা ও অসচেতনার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই এটা মনে রাখতে হবে যাদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে জ্ঞান আছে, যারা ব্যবসায় ঝুঁকি নিতে পারেন, কেবল এমন পেশাদার শিতি লোকেরই উচিত এখানে বিনিয়োগ করা।
বিনিয়োগকারী কারা হতে পারেন?
পুঁজিবাজারে সাধারণত দুই ধরনের বিনিয়োগকারী থাকে।
এক. ব্যক্তি বিনিয়োগকারী
দুই. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী
ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত অন্য কাজের ফাঁকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন। তাদের কেউ চাকরিজীবী, কেউ অন্য ব্যবসা বা পেশায় জড়িত। একদল রয়েছেন শিক্ষিত বেকার, কেউ বা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
কেউ কেউ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে রীতিমতো পেশা হিসেবেই নিয়ে নিয়েছেন। তাদের ধ্যান মন, জ্ঞান সবটাই পুঁজি বাজারে।
বিনিয়োগ কৌশলটি গুরুত্বপূর্ণ
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে মুনাফা লাভে বিনিয়োগ কৌশলটি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকেও লটারির মতো মনে করেন। এ ভাবনাটি মোটেই সঠিক নয়। শেয়ার ব্যবসা কোনো লটারির খেলা নয়। এখানে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে হলে কৌশলী হতে হবে। বাজারের গতিধারা বুঝতে হবে। বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক তথ্য যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। তা ঠিকভাবে না করতে পারলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।
বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ
শেয়ারে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে চাইলে বিনিয়োগ করার সময় একটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। মূলধনের টাকাকে খাত অনুযায়ী ভাগ করে নিতে হবে। বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ফলে কোনো একটি বিশেষ খাতের বিনিয়োগ যদি ক্ষতির মধ্যেও পড়ে যায় তা অন্য খাতের মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। পুরো মূলধন একটি খাতে বিনিয়োগ করে ফেললে সেই সুযোগটি আর থাকে না।
পুঁজিবাজারের খাতগুলো কি?
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের সিকিউরিটিকে ২২টি খাতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, প্রকৌশল, খাদ্য ও সমজাতীয় পণ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, করপোরেট বন্ড, ওষুধ ও রসায়ন, কাগজ ও মুদ্রণ, সেবা ও আবাসন, পাট, বস্ত্র, সিমেন্ট, চামড়াশিল্প, তথ্য-প্রযুক্তি, সিরামিক, পর্যটন, টেলিকমিউনিকেশন, ভ্রমণ ও অবকাশ, ট্রেজারি বন্ড এবং বিবিধ। শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে চাইলে হিসাব-নিকাশ করে একাধিক খাতে করতে হবে।
শেয়ার ক্যাটাগরি
জেনে নিতে হবে পুঁজিবাজারের যেসব কোম্পানির শেয়ার আছে সেগুলোকে আবার এ, বি, এন এবং জেড ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে। নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও ১০ শতাংশের ওপর লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পনিগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরিতে। এর বাইরে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোও ‘এ’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করলেও ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেয় এমন কোম্পনিগুলো পড়ে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্তগুলো হচ্ছে এক বছরের কম সময় আগে নিবন্ধিত কোম্পানির শেয়ার। আর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে নিয়মিত লভ্যাংশ দেয় না এবং এজিএমও করে না এমন কোম্পনিগুলো।
যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে সাবধানতা মেনে চলেন, তারা সাধারণত ‘বি’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরি কোম্পানিগুলোকে এড়িয়ে চলে।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে আরও এ খাতে ব্যবহৃত কিছু টার্ম এর ব্যাপারেও বিনিয়োগকারীকে বুঝতে হবে।
মৌলিক বিশ্লেষণ (ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস)
মৌলিক বিশ্লেষণ হলো- কোনো কোম্পানির আর্থিক রিপোর্ট বিবেচনা করে শেয়ারের ন্যায্য বাজারমূল্য ও ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা। এজন্য বিনিয়োগকারীকে কোম্পানির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কোম্পানির ধরন, কোম্পানিটি কোন খাতের পণ্য বা সেবা বিপণন করে, পণ্যের ধরন, বাজারে নামডাক, কোম্পানির গত কয়েক বছরের আর্থিক পরিস্থিতি এবং পণ্যের তুলনামূলক চাহিদা। সার্বিক বাজারের অবস্থান পর্যবেক্ষণের পর কোম্পানির নিজস্ব দক্ষতা এবং সুনাম সম্পর্কে জানতে হবে। এছাড়াও কোম্পানির পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের সম্পর্কেও জেনে নেওয়া ভালো। পাশাপাশি কোম্পানিটি যে পণ্য বা সেবা বিপণন করে বাজারে তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।
শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস
একটি কোম্পানি প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে তাই ওই কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস। অর্থাৎ ওই কোম্পানি ওই সময়ে ব্যবসা করে যে মুনাফা করেছে প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডার তা থেকে কত টাকা পাবে তাকেই সংক্ষেপে ইপিএস বলা হয়। লোকসানি কোম্পানির ক্ষেত্রে ইপিএস হবে ঋণাত্বক।
তবে একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন, শেয়ারবাজারে কোম্পানির শেয়ারের দর কত হলো তার সঙ্গে ইপিএসের সম্পর্ক নেই। কোম্পানিটির মূল ব্যবসা থেকে যে আয় হয় তা থেকেই ইপিএস নির্ধারিত হয়। বর্তমানে তিন মাস পরপর প্রতিটি কোম্পানি ইপিএস ঘোষণা করে। আর বার্ষিক হিসাবের ইপিএসের ভিত্তিতে কোম্পানিটি বছর শেষে লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ফলে যে কোম্পানির ইপিএস যত ভালো সেই কোম্পানির লভ্যাংশের হার তত বেশি হয়। কোম্পানির সারা বছরে অর্জিত মুনাফা থেকে কর পরিশোধের পর যে অর্থ থাকে সেটাই প্রকৃত মুনাফা। প্রকৃত মুনাফাকে মোট শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে ইপিএস পাওয়া যায়। যে কোম্পানির ইপিএস যত ভালো সে কোম্পানির শেয়ার কেনা তত নিরাপদ। তবে বাজারে ওই শেয়ারটি আগেই অতিমূল্যায়িত হয়ে আছে কি নাÑ তা দেখে নিতে হবে।
বাজার মূল্য ও আয়ের (পিই) অনুপাত (পিই রেশিও)
পিই অনুপাতের পূর্ণ রূপ হলো বাজার মূল্য ও আয়ের অনুপাত (প্রাইস আর্নিং রেশিও)। অর্থাৎ, কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) এবং শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্যের অনুপাত। ঝুঁকি নির্ণয়ে পিই অনুপাতই সবচেয়ে কার্যকর ও জনপ্রিয় মাপকাঠি। এ অনুপাত যতো বেশি হবে ওই শেয়ার ততো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তুলনামূলকভাবে যেসব কোম্পানির পিই রেশিও ২০-এর নীচে রয়েছে সেগুলোই অধিক নিরাপদ।
পিই অনুপাত নির্ণয় করতে হলে শেয়ারের বর্তমান বাজার দরকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দিয়ে ভাগ করতে হবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারী তার ক্রয়কৃত শেয়ারের ভবিষ্যৎ আয় এবং কত লভ্যাংশ আসতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন।
মনে রাখতে হবে, প্রতিদিন শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দর উঠানামার সঙ্গে সঙ্গে পিই অনুপাতও উঠানামা করে। তাই প্রতিদিনই শেয়ার কেনার আগে ওই কোম্পানির সেদিনকার পিই অনুপাত জেনে নেয়া ভালো।
ডিভিডেন্ড
কোম্পানির লভ্যাংশের পরিমাণ বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়। এ লভ্যাংশ কখনো স্টক হতে পারে, কখনো নগদও হতে পারে। কোম্পানির নিট লাভ থেকে একটি অংশ ডিভিডেন্ড হিসেবে দেওয়া হয়। শেয়ার কেনার আগে তাই আগের বছরের ডিভিডেন্ড পর্যালোচনা করে নেওয়া জরুরি।
বুক ভ্যালু
বুক ভ্যালু হচ্ছে কোনো কোম্পানির সম্পদের অবচয় এবং সব দেনা পরিশোধের পর শেয়ারপ্রতি সম্পদের পরিমাণ। শেয়ার কেনার আগে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মূল্য কত হতে পারে তার জন্য বুক ভ্যালু কত তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গ্রোথ স্টক
আয় হচ্ছে এমন সিকিউরিটিজ বা শেয়ারকে বেছে নিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে ওই কোম্পানির শেয়ার থেকে কত টাকা আয় হতে পারে। পুঁজিবাজারের ভাষায় এটাকে হাই রিটার্ন অব ইক্যুইটি (আরওই) বলে। একজন বিনিয়োগকারী যদি অন্তত ১৫ শতাংশ আরওই-র সম্ভাবনা দেখেন তাহলেই ওই কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারেন। এক্ষেত্রে কোম্পানির পেছনের ইতিহাসটি ভালো করে জেনে নিতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, কোম্পানির মৌলিক তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে শেয়ার কিনলে শেয়ার ব্যবসায় সফল হওয়ার আশা করা যায়। এজন্য কোম্পানিগুলোর বিগত বছরগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন ও সর্বশেষ খবর জানা থাকা জরুরি।
বাজার সূচক
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দৈনিক বাজার দরের ভিত্তিতে বাজার সূচক তৈরি হয়। সব শেয়ারের মূলসূচক এবং নামিদামি শেয়ারের মূল্যসূচক নামে দুটি সূচক আছে। এছাড়াও পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সাধারণ সূচক রয়েছে। এগুলো নির্দিষ্ট ‘ভিত্তি সূচকের’ ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। সাধারণত আগের দিনের সবশেষ সূচক এবং বর্তমান বাজার মূলধনের গুণিতক ফলকে বাজার শুরুর মূলধন দিয়ে ভাগ করে সূচক নির্ধারণ করা হয়। তবে যেভাবেই সূচক নির্ধারিত হোক না কেন দৈনিক বাজার সূচক দিয়ে শেয়ারমূল্য পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ বাজার সূচক বাড়লে বোঝা যায় তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দামই বেড়েছে। আবার বাজার সূচক কমলে দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে। আর এই বাজার সূচক দেখেই কোন দেশের শেয়ারবাজারে কতটা সমৃদ্ধিশালী তাও অনুধাবন করা যায়।
|
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 01/22/2011 4:15 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE |
... সিগন্যাল
সালাম ফারুক
বাংলাদেশ সময় ১৪৪৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২২, ২০১১
Banglanews24.com
পুঁজিবাজারে গত তিন সপ্তাহের সার্বিক পরিস্থিতি যে খুবই খারাপ ছিল তা আর এখন নতুন করে কাউকে বলার কিছু নেই। যারা পুঁজিবাজার বুঝেন না তারাও অন্তত এটা বুঝে গেছেন, দেশের অর্থনীতির একটি অংশে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। কিন্তু এ বিষয়টি হয়তো সরকার বুঝতে পারছে না। হয়তো বুঝে ও না বোঝার ভান ধরে আছে।
এর আগে ১৯৯৬ সালে এ পুঁজিবাজারে ঘটে যাওয়া কেলেঙ্কারির সময়ও ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। তখন তৎকালীণ অর্থমন্ত্রী (বর্তমানে প্রয়াত) শাহ্ এ এম এস কিবরিয়া বলেছিলেন ‘আমি শেয়ারবাজার বুঝি না’।
এবারও ক্ষমতায় তারা। অবশ্য এবার কেউ কিবরিয়ার মতো মন্তব্য না করলেও বিনিয়োগকারীদের কাটা ঘায়ে নূনের ছটা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। অপরদিকে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, বাজারের এ অবস্থার জন্য সরকার ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত দায়ী।
অর্থমন্ত্রী শুক্রবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘দুই দিনের মধ্যে এসব ভুল শনাক্ত করে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করা হবে এবং কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে ড. মসিউর রহমান বৃহস্পতিবার খুলনায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘শেয়ারবাজারের ধসে সরকারের মাথাব্যথার কোনও কারণ নেই। এর পুঁজি প্রকৃত বিনিয়োগে যায় না। শেয়ারবাজারকে কেন্দ্র করে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, আপনার ও আমার দায়িত্ব তাদের বাধা দেওয়া এবং বলা, তোমরা দেশের ও সমাজের শত্রু‘।
সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদার দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি দু’ধরনের বক্তব্য নিয়ে জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি আওয়ামী লীগ সরকার পুঁজিবাজার চায় না? অথবা, পুঁজিবাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী লোকজন নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। তাই সরকারের উচ্চমহল কিছু বলতে বা একশন নিতে পারে না?’
গত কয়েকদিনে অনেককেই এ ধরনের মন্তব্য করতে দেখা গেছে। এমনকি রাজপথে আন্দোলনে নামা বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান ও শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের পদত্যাগের দাবি তুলতে দেখা গেছে।
মসিউর রহমানের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ অনেক বিনিয়োগকারীকেই ‘আর মাত্র তিন বছর’ অথবা ‘যা খেলার খেলে যাও, তিন বছর পরই বুঝবা’ ইত্যাদি ধরনের মন্তব্য করতে শোনা গেছে। এ মন্তব্য যে সরকারের জন্য এক ধরনের সিগন্যাল তা হয়তো কারও বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না।
অর্থমন্ত্রী যতোই বলুন না কেন করসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তিনি কতোটা করতে পারবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে নামানোর এ মিশনের তার দলের অনেক নেতা ও ব্যবসায়ী জড়িত। তিনি কি সত্যি সত্যি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন?
গত এক বছর ধরে অর্থমন্ত্রী বলে আসছেন, পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রায়ত্ত অন্তত ২৫/২৬টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়া হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোনও ছিটেফোটা দৃষ্টান্তও দেখাতে পারলেন না তিনি।
উপরন্তু তিনি ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর প্রেসকাবে এক আলোচনা সভায় বলেছিলেন, ‘পুঁজিবাজারে ১৯৯৬ সালের মতো ধস নামার আশঙ্কা নেই।’ তখন তিনি এও বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এ প্রবণতা কোনভাবেই অতিস্ফীতির লক্ষণ নয়।’
ওইদিন তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ২৬টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার ঘোষণারও পুনরাবৃত্তি করেছিলেন।
তখন ‘পুঁজিবাজারে তেজিভাব চলছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘সরকার এ বাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পুর্ণ ওয়াকিবহাল। বাজার স্থিতিশীল রাখতে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব পদক্ষেপ যে হিতে বিপরীত হবে তা হয়তো ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেননি।
কিছুদিন আগেও তিনি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে উপহাস করেছিলেন। তিনি শেয়ারবাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘শেয়ারের দাম পাঁচ টাকা কমে গেলে রাস্তায় নেমে এসে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করেন। কিন্তু শেয়ারের দাম ৫০০ টাকা বাড়লে তো মিষ্টি খাওয়ান না। দরপতন হলে রাস্তায় নেমে ভাঙচুর শুরু করে দেন। ভাঙচুর কোনভাবেই সহ্য করা যায় না।’
পরদিন রাজপথে অনেক বিনিয়োগকারীকেই বলতে শোনা যায়, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনাকে আমাদের কুলখানির মিষ্টি খাওয়ার দাওয়াত দিলাম।’
এটা বাদ দিলাম। বৃহস্পতিবার সিলেটে অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা হয়। এখানে তো কেউ বলেনি যে, বিরোধীদলের কর্মীরা হামলা করেছে। কারণ, সে ঘটনায় জড়িতদের অনেকেই ছিলেন আওয়ামী সমর্থক।
সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩৩ লাখ বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার) অ্যাকাউন্ট। এর মধ্যে বিশেষ বিশেষ অ্যাকাউন্ট বাদ দিলে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ লাখ অ্যাকাউন্ট রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। তাদের রোজগারের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত এক কোটি মানুষ।
বিনিয়োকারীদের একটি বড় অংশ বেকারত্ব ঘোচাতে পুঁজিবাজারে যুক্ত। তারা পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে অথবা জায়গা-সম্পত্তি বিক্রি করে পুঁজি জোগাড় করে দু’পয়সা লাভের আশায় এখানে এসেছেন। নিজেদের সহায়-সম্বল হারানোর এ অভিজ্ঞতা কি তারা সহজে ভুলে যাবেন? তাদের এ দুর্দশার সঙ্গে কি তাদের সহায়তাকারীরা একাত্ম হবেন না?
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গত নির্বাচনের আগে প্রতি ঘরের একজন করে সদস্যকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ক’জনের কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছেন, একবার ভেবে দেখেছেন কি? সেই বেকার যুবকদেরই একটি অংশ এ পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
সরকারকে বুঝতে হবে, ১৯৯৬ সালে তাদের আমলেই সংঘটিত কেলেঙ্কারির কথা আজও বিনিয়োগকারীরা ভুলেননি। আর এবারের ঘটনা তো ইতিহাস হয়ে থাকবে। ফলে নিজেদের জন্য তা কতোটা ‘সুখকর’ হবে, সে কথা একবারও কি ভাবতে ইচ্ছা করে না তাদের?
সালাম ফারুক: স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
|
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
|