Page 3 / 3 1 - 2 - 3 « previous
07.04.2011
04/06/2011 5:46 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
প্রিমিয়ার ব্যাংকের এজিএম ৩১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা
বাণিজ্য ডেস্ক

প্রিমিয়ার ব্যাংক গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩১ শতাংশ লভ্যাংশ বা বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ১২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবালের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান বি এইচ হারুন এমপি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ হাবিব, নওরিন ইকবাল, মঈন ইকবাল, মো. ইমরান ইকবাল, শাহ্ মো. নাহিয়ান হারুন, মো. লুৎফুর রহমান, কাজী আবদুল মজিদ, কম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আহসান হাবিব প্রমুখ।
Quote   
04/06/2011 5:47 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
The Daily Sangbad
সূচকের ওঠানামা হলেও বেড়েছে শতাধিক শেয়ারের দাম
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল দিনভর সূচকের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। দিনভর চলতে থাকে ওঠানামা। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে সূচক ও লেনদেন কিছুটা কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে। এ এক্সচেঞ্জটিতে সূচক কমলেও বেড়েছে শেয়ারের দাম।
গতকাল ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ১.৭৬ পয়েন্ট কমে ৬,৪৫৪.০৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। গতকাল মোট ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। লেনদেন হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছিল ১৭৪টির, কমেছিল ৭৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৮১৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৩২৯ কোটি টাকা কম।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো_ বিএসআরএম স্টিল, আফতাব অটো, কনফিডেন্স সিমেন্ট, বেক্সিমকো, কেয়া কসমেটিকস, পিএলএফএসএল, বেক্সটেক্স, গোল্ডেন সন, ইএইচএল ও ফু ওয়াং সিরামিকস।
ডিএসইতে গতকাল সূচক কমার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের আট মিনিটের দিকে সূচক ৪৩ পয়েন্ট কমে যায়। তবে ১৫ মিনিটের দিকে সূচক কিছুটা বাড়ে। এরপর আবার সূচক কমে যায়। এভাবে দিনভর সূচক ওঠানামা চলতে থাকে। তবে সূচক কমলেও এক্সচেঞ্জটিতে শেয়ারের দাম বেড়েছে।
এদিকে দেশের আর একটি শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়। সিএসইতে আজ দিনের লেনদেন শেষে সূচক কিছুটা বেড়ে যায়। আগের দিনের চেয়ে চার পয়েন্ট বেড়ে ১১,৬৬০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে গতকাল মোট ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। লেনদেন হওয়া ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছিল ১১০টির, কমেছিল ৮২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইতে গতকাল মোট ৮২ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ২৮ কোটি টাকা কম।
Quote   
04/06/2011 5:47 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
The Daily Sangbad
মার্চে ডিএসই থেকে ৩৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয়
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

চলতি বছর মার্চ মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে ৩৬ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিনের লেনদেন এবং পরিচালকদের স্পন্সর শেয়ার ও অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের ওপর এ রাজস্ব দেয়।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে ডিএসই দৈনিক লেনদেনের ওপর সরকারকে ২১ কোটি ৭১ লাখ ২৫ হাজার ৩৪ টাকা দেয়। আর পরিচালকদের স্পন্সর শেয়ার ও অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের ওপর ১৫ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩০ টাকা দেয়।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ডিএসই সরকারকে ১১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা রাজস্ব দেয়। আর জানুয়ারিতে দেয় ১৮ কোটি ৬৯ লাখ ৬৯ হাজার ২৫০ টাকা। যা ২০০৯ সালে ডিসেম্বর মাসের চেয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা কম।
এদিকে ফেব্রুয়ারির চেয়ে মার্চে বাজার ভালো থাকায় ডিএসইর লেনদেনের ওপর সরকার দ্বিগুণ রাজস্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়, ধীরে ধীরে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসায় লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে। এ কারণে রাজস্বের পরিমাণও বেড়েছে।
এ ব্যাপারে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, যেহেতু লেনদেনের ওপর সরকারকে রাজস্ব দেয়া হয়। সুতরাং লেনদেন বাড়া-কমার ওপর রাজস্ব আয় কতটা হবে তা নির্ভর করে। লেনদেন ভালো হলে বেশি রাজস্ব আয় হবে। আর লেনদেন কম হলে রাজস্ব আয় কমে যাবে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের লেনদেনের ওপর ডিএসই থেকে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব দেয়া হয়। এর পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ৫০ টাকা। অর্থাৎ এক লাখ টাকা লেনদেন হলে সেখান থেকে ৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়।
ডিএসই সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১০ সালে শেয়ারবাজার থেকে সরকার ৩১৫ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল, যা ছিল ২০০৯-এর চেয়ে প্রায় চারগুণেরও বেশি। ২০০৯ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৩ কোটি টাকা।
তবে শেয়ারবাজার স্বাভাবিক হলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
Quote   
04/06/2011 5:48 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
The Daily Sangbad
নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশন
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সিদ্ধান্ত হয়নি


গতকাল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের ৫০ ভাগ রূপান্তরযোগ্য বন্ড ছাড়ার অনুমোদনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশনের নিয়মিত সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র না থাকায় বাজারে আসার ব্যাপারে অনুমোদন দেয়নি সংস্থাটি।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশন তাদের মূলধন আরও ১৭৫ কোটি টাকা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৫০ শতাংশ রূপান্তরযোগ্য বন্ড ছাড়ার ব্যাপারে এসইসিতে আবেদন করে। কোম্পানিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল কমিশনের নিয়মিত সভায় এজেন্ডা হিসেবে বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়। বিস্তারিত আলোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র না থাকায় বিষয়টি অনুমোদন দেয়নি এসইসি।
জানা যায়, বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি টাকা। নিয়ম অনুসারে ৫০ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয়। কিন্তু নর্দার্ন পাওয়ার প্রাথমিক শেয়ারের গণপ্রস্তাবে (আইপিও) না গিয়ে বন্ড ছেড়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তাদের মূলধন আরও ১৭৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বন্ডের ৫০ ভাগ বছরভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ চার বছরে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হবে। সব বন্ডই সম্পূর্ণ হস্তান্তরযোগ্য হবে।
এসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এসইসিতে জমা দেয়া নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের কাগজপত্রের কমতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। ওইসব কাগজ পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে এসইসির আইনে বাধ্যবাধকতা থাকায় কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং এর জন্য একপর্যায়ে গণপ্রস্তাবেও যেতে হবে নর্দার্নকে। কিন্তু ততদিনে বন্ডের একটা অংশ সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হয়ে যাবে। কোম্পানিটি রাজশাহী জেলার কাটাখালীতে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করবে।
এছাড়া এ বন্ডের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ শতাংশ এবং কোন কারণে সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ১৯ শতাংশ হারে তা পরিশোধ করতে হবে কোম্পানিকে।
Quote   
04/06/2011 5:48 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
The Daily Sangbad
বরকতউল্লাহ ইলেক্ট্রো ডায়নামিকসের আইপিও লটারি অনুষ্ঠিত
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দের জন্য বরকতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস লিমিটেডের লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বরকতউল্লাহর আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯৬ কোটি টাকা মূল্যের এক কোটি ৬০ লাখ শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়। এর বিপরীতে ছয় লাখ ৬৭৮টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাদ পড়ে নয় হাজার ৪৫৮টি আবেদন। বাকি পাঁচ লাখ ৯১ হাজার ২২০টি বৈধ আবেদনের মধ্যে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১২ কোটি টাকা মূল্যের ২০ লাখ শেয়ার। এর বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ২৪ হাজার ৮৩৯টি।
বরকতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস পুঁজিবাজারে দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে মোট ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
আবেদনকারীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮০ হাজার লট, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ হাজার লট ও মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ১০ হাজার লট নির্বাচন করা হয়।
লটারি পর্বটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অফ রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি)।
লটারি অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির সিএফও এবং কোম্পানি সচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রাব্বানী চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও ইস্যু ম্যানেজারের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী উপস্থিত ছিলেন।
Quote   
04/06/2011 8:04 pm

Senior Member


Regist.: 02/21/2011
Topics: 1
Posts: 36
OFFLINE
The Daily Janakantha

বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০১১, ২৪ চৈত্র ১৪১৭
এসইসির দুর্বলতা দায়ী, ২৫ ব্যক্তি অনৈতিক লেনদেনে জড়িত

পুঁজিবাজাও বিপর্যয়ের প্রতিবেদন আজ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দুর্বলতা পুঁজিবাজারে অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে। স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও দুর্বল নেতৃত্বের কারণে বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেনি এসইসি। উল্টো কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক কর্মকর্তার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সুযোগসন্ধানী এ চক্রের সঙ্গে এসইসির কোন কোন কর্মকর্তার সরাসরি যোগসাজশ থাকতে পারে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এসইসির ভাবমূর্তি পুনরম্নদ্ধার করা জরম্নরী বলে মনে করছে পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সরকার গঠিত তদনত্ম কমিটি। পাশাপাশি তদনত্ম প্রতিবেদনে এসইসির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ শেয়ারবাজারে অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত কয়েক জনের বিরম্নদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদনত্ম করে শাসত্মিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরম্নত্বপূর্ণ পদগুলোতে ব্যাপক রদবদলের মাধ্যমে কমিশনের ভাবমূর্তি পুনরম্নদ্ধার করা জরম্নরী বলেও মনে করছে তদনত্ম কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তদনত্ম প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
তদনত্ম কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ জনকণ্ঠকে বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেৰ অবস্থান থেকে পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের কারণ ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তদনত্মের মাধ্যমে অনেক অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তদনত্ম প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন হসত্মানত্মরের জন্য অর্থমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সময় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তদনত্ম কমিটি শেয়ারবাজারে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকা- ও এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করেছে। কোন কোন ৰেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান ব্যবহার করে অনৈতিক পন্থায় অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে কী ধরনের পদৰেপ নেয়া হবে সেটা সম্পূর্ণভাবে সরকারের বিষয়। যদিও সব ৰেত্রে আইনী পদৰেপ গ্রহণ করার মতো তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়নি। তবে এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সরকার যাতে নিজস্ব সংস্থার মাধ্যমে আরও তদনত্ম করে আইনী পদৰেপ নিতে পারে_ সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হয়েছে।
৩শ' পৃৃষ্ঠার প্রতিবেদনে যা থাকছে ॥ সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনা অনুসন্ধানে গঠিত তদনত্ম কমিটি প্রায় ৩শ' পৃষ্ঠার প্রতিবেদন চূড়ানত্ম করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২শ' পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি কেস স্টাডি, বিধিবিধান, লেনদেনের তথ্য, পত্রিকার কাটিংসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত পরিশিষ্ট হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের শুরম্নতে শেয়ারবাজারের মৌলিক ধারণা, অর্থনীতিতে এর ভূমিকাসহ সংশিস্নষ্ট তাত্তি্বক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সংৰিপ্ত ইতিহাস, বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ১৯৯৬ সালের কেলেঙ্কারির প্রেৰাপট ও পরবর্তী পদৰেপ সম্পর্কে কমিটির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান সরকার ৰমতায় আসার পর আর্থ-সামাজিক প্রেৰাপটে শেয়ারবাজারের উত্থান এবং পরবর্তীতে অস্বাভাবিক বিপর্যয়ের প্রেৰাপটও বর্ণনা করা হয় তদনত্ম প্রতিবেদনে।
সূত্র জানায়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন উত্থানকেই পুঁজিবাজারের বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছে তদনত্ম কমিটি। আর উত্থানের পেছনে বিশেষ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অনৈতিক তৎপরতাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। দু'মাস ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নানামুখী অনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অসংখ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে তদনত্ম কমিটি। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল) এবং স্টক এঙ্চেঞ্জের পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশেস্নষণ করে এসব প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বাজারসংশিস্নষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করে আইন, বিধিবিধান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনৈতিক প্রবণতা বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি রোধে পুঁজিবাজারের সামগ্রিক সংস্কারের সুপারিশসহ চূড়ানত্ম প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
তদনত্ম কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, "সময় সীমিত হলেও আমরা কখনোই দায়সারাভাবে কাজ শেষ করতে চাইনি। এমন একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে চেয়েছি যাতে সরকার চাইলে পুঁজিবাজারে কারসাজির কারণ ও এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সহজেই শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি সরকার ইচ্ছা করলে তদনত্ম প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুঁজিবাজারের আমূল সংস্কার সাধন করতে পারবে_ যা কারসাজি বন্ধের ৰেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখতে সৰম।"
জড়িত ২৫ জন ॥ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর অনৈতিক লেনদেন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ২০ থেকে ২৫ ব্যক্তির সংশিস্নষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যাংকিং খাতের একাধিক শীর্ষ উদ্যোক্তারও সরাসরি বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুঁজিবাজারের আলোচিত কয়েক ব্যক্তির বিষয়েও গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে কমিটি। এছাড়া বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস সম্পর্কেও অনৈতিক কর্মকা-ের প্রমাণ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ৰেত্রে আর্থিক লেনদেনে প্রচলিত আইনভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় সরাসরি মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ৰেত্রেই আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে তদনত্ম কমিটির পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়েছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে সরকারী সংস্থার মাধ্যমে তদনত্ম করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে তদনত্মসংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে হরিলুটের সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর এ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষনেতা, ডিএসইর একাধিক পরিচালক, কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস, শীর্ষস্থানীয় মার্চেন্ট ব্যাংক এবং আইসিবিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোন কোন ব্যক্তির সঙ্গে এসইসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বার্থসংশিস্নষ্ট সম্পর্কের বিষয়েও জানতে পেরেছে তদনত্ম কমিটি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার দুর্নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হলেও নিজের বা আত্মীয়স্বজনের নামে শেয়ার লেনদেনের হদিস পায়নি তদনত্ম কমিটি। তবে ডিএসইর এক পরিচালক ও এক উপমহাব্যবস্থাপকের বিপুল পরিমাণ পেস্নসমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে এসইসির শীর্ষ পর্যায়ের কোন কোন কর্মকর্তার সংশিস্নষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদনত্মের সুপারিশ করছে তদনত্ম কমিটি।
বাজারসংশিস্নষ্ট বেশকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বেআইনী কর্মকা-ের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। তবে অধিকাংশ ৰেত্রেই আইন ও বিধিবিধানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুযোগসন্ধানীরা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছে। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি থেকে শুরম্ন করে বিভিন্ন পর্যায়ে শেয়ারের দর বাড়িয়ে লাভবান হয়েছে সুযোগসন্ধানীরা। এসব তৎপরতা পুঁজিবাজারসংশিস্নষ্ট আইনের লঙ্ঘন না হলেও নৈতিকতার বিচারে অগ্রহণযোগ্য বলে তদনত্ম কমিটি মনে করছে। এৰেত্রে প্রচলিত বিধিবিধানের প্রয়োগ এবং বিধি সংশোধন করে অনৈতিক কর্মকা- প্রতিরোধে কার্যকর পদৰেপ গ্রহণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শৈথিল্য অবাধ কারসাজিতে উৎসাহ যুগিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
দায়ী এসইসির শৈথিল্য ॥ পুঁজিবাজারে সংঘটিত সব ধরনের অনৈতিক তৎপরতার জন্য সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) শৈথিল্য ও দুূর্বলতাকে দায়ী করেছে তদনত্ম কমিটি। বাজারসংশিস্নষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা, অনৈতিক চাপ এবং শীর্ষপদে বহাল থাকতে ৰমতাবানদের আনুকূল্য পাওয়ার প্রত্যাশায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন প্রসত্মাব অনুমোদন করেছে এসইসি। কমিশনের এ ধরনের নির্লিপ্ততা ও আপোসকামিতা পুঁজিবাজারে অনৈতিক কর্মকা-কে উৎসাহিত করেছে। কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের কোন কোন কর্মকর্তা সরাসরি অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত বলেও তথ্য পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। দুর্নীতির বিষয়ে নিশ্চিত হলেও অধিকাংশের ৰেত্রে শেয়ারবাজারে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে কমিশনের কর্মকর্তাদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদনত্ম করে শাসত্মিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে নেয়া এসইসির অনেক সিদ্ধানত্মই শেয়ারবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সেকেন্ডারি মার্কেটের উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণে এসইসি কিছু দৃশ্যমান পদৰেপ নিলেও প্রাইমারি শেয়ার ছেড়ে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এবং শেয়ারের দর বাড়াতে নানা ধরনের কারসাজি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন ভূমিকাই নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ৫০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক হলেও এ ধরনের কোম্পানিকে শেয়ারবাজারের বাইরে প্রাইভেট পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোনরকম নীতিমালা না থাকলেও একের পর এক কোম্পানিকে অগ্রাধিকার শেয়ারের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাজারে শেয়ারের দর বাড়াতে অযৌক্তিকভাবে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কোন পদৰেপ নেয়া হয়নি। এছাড়া এসইসি মার্জিন ঋণের সিদ্ধানত্ম বার বার পরিবর্তন করেছে। পেস্নসমেন্ট শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে লকইন সময় মানা হয়নি। রাইট শেয়ার ছেড়ে কোম্পানি অবাধে টাকা তুলেছে।
তদনত্ম কমিটি মনে করে নেতৃত্বের দুূর্বলতার কারণেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি এসইসি। স্বশাসিত এ প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি তো বটেই, স্টক এঙ্চেঞ্জ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাও নানাভাবে 'উপদেষ্টামূলক' ভূমিকা ও চাপ সৃষ্টি করেছে। এৰেত্রে কমিশনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৰতা, নেতৃত্বগুণ, ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ইমেজ সঙ্কট দূর করতে হলে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরিয়ে দৰ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কমিশন পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছে তদনত্ম কমিটি।
Quote   
04/06/2011 8:05 pm

Senior Member


Regist.: 02/21/2011
Topics: 1
Posts: 36
OFFLINE
The Daily Janakantha

বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০১১, ২৪ চৈত্র ১৪১৭
এসইসির দুর্বলতা দায়ী, ২৫ ব্যক্তি অনৈতিক লেনদেনে জড়িত

পুঁজিবাজাও বিপর্যয়ের প্রতিবেদন আজ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দুর্বলতা পুঁজিবাজারে অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে। স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও দুর্বল নেতৃত্বের কারণে বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেনি এসইসি। উল্টো কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক কর্মকর্তার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সুযোগসন্ধানী এ চক্রের সঙ্গে এসইসির কোন কোন কর্মকর্তার সরাসরি যোগসাজশ থাকতে পারে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এসইসির ভাবমূর্তি পুনরম্নদ্ধার করা জরম্নরী বলে মনে করছে পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সরকার গঠিত তদনত্ম কমিটি। পাশাপাশি তদনত্ম প্রতিবেদনে এসইসির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ শেয়ারবাজারে অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত কয়েক জনের বিরম্নদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদনত্ম করে শাসত্মিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরম্নত্বপূর্ণ পদগুলোতে ব্যাপক রদবদলের মাধ্যমে কমিশনের ভাবমূর্তি পুনরম্নদ্ধার করা জরম্নরী বলেও মনে করছে তদনত্ম কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তদনত্ম প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
তদনত্ম কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ জনকণ্ঠকে বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেৰ অবস্থান থেকে পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের কারণ ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তদনত্মের মাধ্যমে অনেক অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তদনত্ম প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন হসত্মানত্মরের জন্য অর্থমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সময় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তদনত্ম কমিটি শেয়ারবাজারে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকা- ও এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করেছে। কোন কোন ৰেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান ব্যবহার করে অনৈতিক পন্থায় অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে কী ধরনের পদৰেপ নেয়া হবে সেটা সম্পূর্ণভাবে সরকারের বিষয়। যদিও সব ৰেত্রে আইনী পদৰেপ গ্রহণ করার মতো তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়নি। তবে এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সরকার যাতে নিজস্ব সংস্থার মাধ্যমে আরও তদনত্ম করে আইনী পদৰেপ নিতে পারে_ সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হয়েছে।
৩শ' পৃৃষ্ঠার প্রতিবেদনে যা থাকছে ॥ সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনা অনুসন্ধানে গঠিত তদনত্ম কমিটি প্রায় ৩শ' পৃষ্ঠার প্রতিবেদন চূড়ানত্ম করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২শ' পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি কেস স্টাডি, বিধিবিধান, লেনদেনের তথ্য, পত্রিকার কাটিংসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত পরিশিষ্ট হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের শুরম্নতে শেয়ারবাজারের মৌলিক ধারণা, অর্থনীতিতে এর ভূমিকাসহ সংশিস্নষ্ট তাত্তি্বক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সংৰিপ্ত ইতিহাস, বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ১৯৯৬ সালের কেলেঙ্কারির প্রেৰাপট ও পরবর্তী পদৰেপ সম্পর্কে কমিটির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান সরকার ৰমতায় আসার পর আর্থ-সামাজিক প্রেৰাপটে শেয়ারবাজারের উত্থান এবং পরবর্তীতে অস্বাভাবিক বিপর্যয়ের প্রেৰাপটও বর্ণনা করা হয় তদনত্ম প্রতিবেদনে।
সূত্র জানায়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন উত্থানকেই পুঁজিবাজারের বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছে তদনত্ম কমিটি। আর উত্থানের পেছনে বিশেষ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অনৈতিক তৎপরতাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। দু'মাস ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নানামুখী অনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অসংখ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে তদনত্ম কমিটি। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল) এবং স্টক এঙ্চেঞ্জের পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশেস্নষণ করে এসব প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বাজারসংশিস্নষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করে আইন, বিধিবিধান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনৈতিক প্রবণতা বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি রোধে পুঁজিবাজারের সামগ্রিক সংস্কারের সুপারিশসহ চূড়ানত্ম প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
তদনত্ম কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, "সময় সীমিত হলেও আমরা কখনোই দায়সারাভাবে কাজ শেষ করতে চাইনি। এমন একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে চেয়েছি যাতে সরকার চাইলে পুঁজিবাজারে কারসাজির কারণ ও এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সহজেই শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি সরকার ইচ্ছা করলে তদনত্ম প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুঁজিবাজারের আমূল সংস্কার সাধন করতে পারবে_ যা কারসাজি বন্ধের ৰেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখতে সৰম।"
জড়িত ২৫ জন ॥ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর অনৈতিক লেনদেন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ২০ থেকে ২৫ ব্যক্তির সংশিস্নষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যাংকিং খাতের একাধিক শীর্ষ উদ্যোক্তারও সরাসরি বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুঁজিবাজারের আলোচিত কয়েক ব্যক্তির বিষয়েও গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে কমিটি। এছাড়া বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস সম্পর্কেও অনৈতিক কর্মকা-ের প্রমাণ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ৰেত্রে আর্থিক লেনদেনে প্রচলিত আইনভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় সরাসরি মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ৰেত্রেই আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে তদনত্ম কমিটির পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়েছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে সরকারী সংস্থার মাধ্যমে তদনত্ম করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে তদনত্মসংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে হরিলুটের সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর এ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষনেতা, ডিএসইর একাধিক পরিচালক, কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস, শীর্ষস্থানীয় মার্চেন্ট ব্যাংক এবং আইসিবিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোন কোন ব্যক্তির সঙ্গে এসইসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বার্থসংশিস্নষ্ট সম্পর্কের বিষয়েও জানতে পেরেছে তদনত্ম কমিটি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার দুর্নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হলেও নিজের বা আত্মীয়স্বজনের নামে শেয়ার লেনদেনের হদিস পায়নি তদনত্ম কমিটি। তবে ডিএসইর এক পরিচালক ও এক উপমহাব্যবস্থাপকের বিপুল পরিমাণ পেস্নসমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে এসইসির শীর্ষ পর্যায়ের কোন কোন কর্মকর্তার সংশিস্নষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদনত্মের সুপারিশ করছে তদনত্ম কমিটি।
বাজারসংশিস্নষ্ট বেশকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বেআইনী কর্মকা-ের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। তবে অধিকাংশ ৰেত্রেই আইন ও বিধিবিধানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুযোগসন্ধানীরা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছে। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি থেকে শুরম্ন করে বিভিন্ন পর্যায়ে শেয়ারের দর বাড়িয়ে লাভবান হয়েছে সুযোগসন্ধানীরা। এসব তৎপরতা পুঁজিবাজারসংশিস্নষ্ট আইনের লঙ্ঘন না হলেও নৈতিকতার বিচারে অগ্রহণযোগ্য বলে তদনত্ম কমিটি মনে করছে। এৰেত্রে প্রচলিত বিধিবিধানের প্রয়োগ এবং বিধি সংশোধন করে অনৈতিক কর্মকা- প্রতিরোধে কার্যকর পদৰেপ গ্রহণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শৈথিল্য অবাধ কারসাজিতে উৎসাহ যুগিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
দায়ী এসইসির শৈথিল্য ॥ পুঁজিবাজারে সংঘটিত সব ধরনের অনৈতিক তৎপরতার জন্য সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) শৈথিল্য ও দুূর্বলতাকে দায়ী করেছে তদনত্ম কমিটি। বাজারসংশিস্নষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা, অনৈতিক চাপ এবং শীর্ষপদে বহাল থাকতে ৰমতাবানদের আনুকূল্য পাওয়ার প্রত্যাশায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন প্রসত্মাব অনুমোদন করেছে এসইসি। কমিশনের এ ধরনের নির্লিপ্ততা ও আপোসকামিতা পুঁজিবাজারে অনৈতিক কর্মকা-কে উৎসাহিত করেছে। কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের কোন কোন কর্মকর্তা সরাসরি অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত বলেও তথ্য পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। দুর্নীতির বিষয়ে নিশ্চিত হলেও অধিকাংশের ৰেত্রে শেয়ারবাজারে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে কমিশনের কর্মকর্তাদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদনত্ম করে শাসত্মিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে নেয়া এসইসির অনেক সিদ্ধানত্মই শেয়ারবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সেকেন্ডারি মার্কেটের উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণে এসইসি কিছু দৃশ্যমান পদৰেপ নিলেও প্রাইমারি শেয়ার ছেড়ে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এবং শেয়ারের দর বাড়াতে নানা ধরনের কারসাজি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন ভূমিকাই নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ৫০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক হলেও এ ধরনের কোম্পানিকে শেয়ারবাজারের বাইরে প্রাইভেট পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোনরকম নীতিমালা না থাকলেও একের পর এক কোম্পানিকে অগ্রাধিকার শেয়ারের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাজারে শেয়ারের দর বাড়াতে অযৌক্তিকভাবে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কোন পদৰেপ নেয়া হয়নি। এছাড়া এসইসি মার্জিন ঋণের সিদ্ধানত্ম বার বার পরিবর্তন করেছে। পেস্নসমেন্ট শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে লকইন সময় মানা হয়নি। রাইট শেয়ার ছেড়ে কোম্পানি অবাধে টাকা তুলেছে।
তদনত্ম কমিটি মনে করে নেতৃত্বের দুূর্বলতার কারণেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি এসইসি। স্বশাসিত এ প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি তো বটেই, স্টক এঙ্চেঞ্জ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাও নানাভাবে 'উপদেষ্টামূলক' ভূমিকা ও চাপ সৃষ্টি করেছে। এৰেত্রে কমিশনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৰতা, নেতৃত্বগুণ, ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ইমেজ সঙ্কট দূর করতে হলে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরিয়ে দৰ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কমিশন পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছে তদনত্ম কমিটি।
Quote   
04/06/2011 11:37 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
thx ratan bhai.....
Quote   
Page 3 / 3 1 - 2 - 3 « previous
Login with Facebook to post
Preview