| 04/04/2011 5:23 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | Somokal
রাঘববোয়ালরা চিহ্নিত
আনোয়ার ইব্রাহীম
শেয়ারবাজারে কারসাজির ঘটনায় অনেক রাঘববোয়ালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অন্তত পাঁচশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হচ্ছে। 'তদন্ত প্রতিবেদনে কারও নাম থাকছে না' এমন দাবিও নাকচ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। আগামী ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ছিয়ানব্বইয়ের মতো এবারও কারসাজির নেপথ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বর্তমান ও সাবেক অনেক নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে প্রশাসক নিয়োগ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের (ডি-মিউচুয়ালাইজড) সুপারিশ করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনেক কর্মকর্তার শেয়ার ব্যবসা করার এবং সংস্থার অনুমোদন নিয়ে অনেক কোম্পানি ও বাজার সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনিয়ম সংঘটনের প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। এ কারণে স্বল্পতম সময়ে চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে নির্বাহী পরিচালক পদ পর্যন্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে অপসারণ করে এসইসি সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের প্রস্তাব করবে তদন্ত কমিটি। এসব সুপারিশের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সমর্থন রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত কমিটির সূত্র থেকে আরও জানা গেছে, সাম্প্রতিক শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) অনেক সংশ্লিষ্টতা এবং এর কর্মকর্তাদের শেয়ার ব্যবসার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এবারের প্রায় প্রতিটি মূল্য কারসাজির সঙ্গে ডিএসই, মার্চেন্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড, বাণিজ্যিক ব্যাংক, চিহ্নিত সব বাজার কারসাজিকারকের বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আইসিবি, তিনটি ব্যাংক, অন্তত তিনটি মার্চেন্ট ব্যাংক, দুটি মিউচুয়াল ফান্ড ম্যানেজারের নাম সবচেয়ে বেশি এসেছে।
কারসাজি : গত দুই বছরে দেশের শেয়ারবাজারে যে বিস্তৃতি ও বিচিত্র পন্থায় শেয়ারবাজারে কারসাজি
করা
হয়েছে, তার প্রমাণ দেখে খোদ তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিস্মিত হয়েছেন। আলোচিত কয়েকজনের পাশাপাশি নতুন অনেক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ব্যাপক সম্পৃক্ততা এবং কারসাজির সব পন্থা চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এবি ব্যাংক, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানি,
মিউচুয়াল ফান্ড ম্যানেজারদের মধ্যে রেস ও এলআর গ্গ্নোবালসহ ডিএসইর বর্তমান সভাপতি শাকিল রিজভী, সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমানসহ ডিএসই লিস্টিং কমিটির ২৮ সদস্যের প্রায় সবাই, আ হ ম মোস্তফা কামাল, মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ সরকারি দল ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজনের নাম আসতে পারে। এছাড়া বাজারের বড় শেয়ার ব্যবসায়ীর মধ্যে ইয়াকুব আলীসহ অনেকের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারবাজারে অনৈতিকতার তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদনে থাকবে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকও ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করার প্রমাণ মিলেছে। তবে তদন্ত কাজের মেয়াদ মাত্র দুই মাস হওয়ায় কমিটি কেবল বড় কারসাজির ঘটনাগুলোই আমলে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সব ধরনের অনিয়ম ও কারসাজির তদন্ত করা হলে অভিযুক্তদের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়বে বলা ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, সিডিবিএল থেকে পাওয়া তথ্য থেকে শেয়ারবাজারের আলোচিত কয়েকজন ব্যক্তির প্রত্যেকের নিজস্ব বিও হিসাবে কেবল ২০১০ সালে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি শেয়ার লেনদেন প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এসব ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হিসাব যোগ করা হলে তা ছয়-সাত হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওইসব লেনদেন থেকে প্রত্যেকেই কয়েকশ কোটি টাকা করে মুনাফা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরমধ্যে রুবেল নামের ত্রিশ বছর বয়সী অজ্ঞাত যুবকের বিও হিসাবে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে গত বছর প্রায় ২৫০ কোটি টাকা মুনাফার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, রুবেল নামের আড়ালে কোনো রাঘববোয়াল ব্যবসা করেছেন। ডিএসইর সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমানের ভাতিজা আরিফুর রহমানের নামেও বিপুল অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
কারসাজির ক্ষেত্রে প্রাইমারি মার্কেটকে ব্যবহার, ইনসাইডার ট্রেডিং, সিন্ডিকেট, সিরিয়াল ট্রেডিং (নিজেদের মধ্যে কেনাবেচা) এবং সরকারি কিছু সিদ্ধান্তকে তদন্তে দায়ী করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, ২০০৯ থেকে ২০১০ সালে কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রত্যেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালক, ডিএসইর নেতা, কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক, বাজারের চিহ্নিত 'গ্যাম্বলারে'র সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অন্তত ২০টি কেস স্টাডির মাধ্যমে তদন্ত কমিটি এবারের কারসাজির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে বলে জানা গেছে। যা ছিয়ানব্বইকেও হার মানিয়েছে।
শেয়ার কারসাজির তথ্য-প্রমাণ ব্যবহার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে জানা গেছে। সূত্র বলেছে, গত দুই বছরে শেয়ারবাজারে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা মুনাফা করেছেন এমন অন্তত ৫০ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে, যারা অর্জিত মুনাফার ওপর কর দেননি। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকি আইনে মামলা করা সম্ভব। প্রাইমারি শেয়ারবাজার বিশেষত প্রাইভেট প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি বড় ধরনের অনিয়ম পেয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইস্যুয়ার কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার ও নির্দেশক মূল্য নির্ধারণকারী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক যোগসাজশে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের প্রমাণ মিলেছে। এক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদন থাকায় আইনি অভিযোগ দাঁড় করানো যায়নি বলে জানা গেছে। ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটিকে সহায়তাকারী সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রাইভেট প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে শুরু করে সচিবালয়ের অনেক কর্মকর্তা শত শত কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনেছেন।
এসইসি, আইসিবি ও ডিএসইর সম্পৃক্ততা : গত দুই বছরে দেশের শেয়ারবাজারে যত ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য তদন্ত কমিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিকেই দায়ী করেছে বলে জানা গেছে। তদন্ত কাজে সহায়তাকারী সূত্রগুলো বলেছে, সব ধরনের কারসাজির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, সবকিছু জানার পর এসইসি নীরব ভূমিকা পালন করে। এমনকি সরাসরি তালিকাভুক্তি, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ার অতিমূল্যায়িত হওয়া, অবাধ প্লেসমেন্ট বাণিজ্য, প্রেফারেন্স শেয়ার, অভিহিত মূল্য পরিবর্তন (শেয়ার স্পিল্গট), রাইট শেয়ার অনুমোদনের মতো সবক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্টরা অনৈতিক কাজ করেছে। এ কারণে প্রাইমারি শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হওয়ার পরও তদন্ত কমিটি কোনো আইনি অভিযোগ দাঁড় করাতে পারেনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি সরাসরি মূল্য কারসাজিতে বাজার সিন্ডিকেটদের হয়ে কাজ করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অস্বাভাবিক হারে দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইসিবি কর্তৃক বড় ধরনের শেয়ার কেনার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া পরিকল্পিতভাবে শেয়ারের দর কমানোর ক্ষেত্রেও আইসিবি কর্তৃক 'ট্রিগার সেলের' অভিযোগ আনতে যাচ্ছে তদন্ত কমিটি। এবারের শেয়ারবাজার কারসাজির ক্ষেত্রে আইসিবির সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংকিং কোম্পানির অমনিবাস (অনেক বিনিয়োগকারীর যৌথ বিও অ্যাকাউন্ট) অ্যাকাউন্টের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া গেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৪৭ জন সরকারি কর্মকর্তার শেয়ার ব্যবসার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কয়েকজন সাংবাদিকও এ প্রতিষ্ঠান থেকে বড় ধরনের শেয়ার ব্যবসায় জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটি বাজার কারসাজির তদন্ত করতে গিয়ে এসইসির কয়েকজন নির্বাহী পরিচালকের সম্পৃক্ততাও খুঁজে পেয়েছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভঁূইয়া (বর্তমানে ওএসডি) তার স্ত্রীর নামে অন্তত ১৭ কোটি টাকা শেয়ার কেনাবেচা ও প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়া আইসিবির সাবেক এক কর্মকর্তা এসইসি চেয়ারম্যানের পক্ষে শেয়ার কেনাবেচা করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আইসিবির অধিকাংশ কর্মকর্তা শেয়ার ব্যবসায় জড়িত বলেও প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
সুপারিশ : তদন্ত কমিটি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি ও দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ডি-মিউচুয়ালাইজেশন সম্পন্ন করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ জানাবে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে এসইসির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন নির্বাহী পরিচালককে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদলে সংস্থাটির পুরো সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দক্ষতা ও ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চেয়ারম্যান ছাড়া চার সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি নতুন বিভাগ সংযোজন ও কারসাজি প্রতিরোধে গোয়েন্দা বিভাগ গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসা সব কারসাজির ক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নেতাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এর ডি-মিউচুয়ালাইজেশন সম্পন্ন করার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি বলেছে, মাত্র দুই মাসে শেয়ারবাজারের ব্যাপক ও বিস্তৃত কারসাজির পুরো চিত্র তুলে আনা অসম্ভব। এ কারণে কারসাজির ক্ষেত্রে প্রাথমিক ব্যক্তিদের নাম শনাক্ত করা গেলেও ওই সব বেনামি ব্যক্তির আড়ালের প্রকৃত হোতাকে বের করে আনতে অধিকতর তদন্ত সম্পন্ন করারও সুপারিশ করতে যাচ্ছে তদন্ত কমিটি। এক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের কারসাজি বিষয়ে সরকারি কয়েকটি গোয়েন্দা বাহিনী সরকারকে বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদন দিয়েছে বলে তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে। তদন্ত কমিটি ধারণা করেছে, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর অনেকে শেয়ারবাজারে অনৈতিক ব্যবসায় জড়িত থাকায় প্রকৃত সত্য আড়াল করে নিজেদের লোককে বাঁচাতে ওই বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মত : শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক কারসাজি বিষয়ে বলেন, ছিয়ানব্বইয়ের কারসাজি ও শেয়ার জালিয়াতির বিচার না হওয়ায় নতুন করে কারসাজির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ডিএসইর সাবেক সিইও সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলে স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ নেবেই। তাই কারসাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কারসাজির ঘটনা যেন আর না ঘটে সে ধরনের প্রস্তুতিও থাকতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ার কেনাবেচার অধিকার সবারই আছে। কোনো ব্যক্তির আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শেয়ার ব্যবসা করা বা বড় মুনাফা দোষের কিছু নয়। তবে দেখতে হবে, সংশ্লিষ্টরা পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে মূল্য কারসাজি করে মুনাফা করেছে কি-না। বাজার কারসাজির ক্ষেত্রে এসইসির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বড় একটি বাজারে এসইসি সব কিছু নজরদারি করতে পারে কি-না, আবার যতটুকু পারার কথা তাও তারা ব্যবহার করেছে কি-না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ছিয়ানব্বই সালের শেয়ারবাজার কারসাজির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, এবারের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি-না এ বিষয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকার সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা বলে। আশা করি, তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেবে। |
|
|
| 04/04/2011 5:26 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | হরতালে স্বাভাবিক লেনদেন, বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির দর
সমকাল প্রতিবেদক
হরতালের দিনেও গতকাল সোমবার দেশের উভয় শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিও ছিল গত কয়েকদিনের তুলনায় স্বাভাবিক। এদিকে রোববারের পর সার্বিকভাবে শেয়ারদর ও লেনদেন বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। তবে জেড ক্যাটাগরির ২২টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টিরই দর কমেছে। রোববারের মতো ব্যাংকিং খাতের শেয়ার দরবৃদ্ধি ধারাও বজায় ছিল। খাতভিত্তিক লেনদেনের ক্ষেত্রে লিজিং খাত আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে।
গতকাল ডিএসইতে ২৫৭টি কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজের মধ্যে ১৫৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮টির দর। ডিএসই সাধারণ সূচক আগের দিনের থেকে ৮৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ক্লোজ হয় ৬৫৩৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ। দেশের অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে ২০০টি কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজের মধ্যে ১১৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১১টির দর। সিএসই নির্বাচিত খাত সূচক আগের দিনের থেকে ১১৯ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বেড়ে ক্লোজ হয় ১১৬৯৪ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ১০১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ।
গতকাল সকালে দরবৃদ্ধি দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম আধা ঘণ্টায় ডিএসই সাধারণ সূচক আগের দিনের থেকে বেড়ে যায় প্রায় ৮০ পয়েন্ট। লেনদেনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানি দরবৃদ্ধির ধারায় থাকায় লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সূচকটি বেড়ে যায় প্রায় ১১১ পয়েন্ট।
খাতভিত্তিক লেনদেনের দিক থেকে বেশ কিছুদিন পর লিজিং খাত আবারও শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। এ খাতে গতকাল ১৯৭ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। লেনদেনে এর পরের অবস্থানে ছিল ব্যাংকিং খাত (১৫৪ কোটি), প্রকৌশল (১৫১.৭৩ কোটি), বস্ত্র (১০৮ কোটি), বীমা (৮৬ কোটি), জ্বালানি (৮৫ কোটি)।
খাতভিত্তিক দর ওঠানামার ক্ষেত্রে লিজিং খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দরবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল এ খাতের লেনদেন হওয়া ২০টি কোম্পানির মধ্যে ১৯টির দর বেড়েছে, সার্বিক দরবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর পরের অবস্থানে ছিল_ বস্ত্র (১.৩২ শতাংশ), মিউচুয়াল ফান্ড (১.১০ শতাংশ), সিরামিক্স (০.৯৩ শতাংশ), বন্ড (০.৯৬ শতাংশ), পর্যটন (০.৬২ শতাংশ), জ্বালানি (০.৫৫ শতাংশ), বীমা (০.৪৩ শতাংশ)। তবে সর্বাধিক দরবৃদ্ধি পেয়েছে কাগজ খাতের একমাত্র কোম্পানি হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার কোম্পানির, দরবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
এদিকে গতকাল খাতভিত্তিক লেনদেনের দিক থেকে ওষুধ ও রসায়ন, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, সিমেন্ট, চামড়া, সেবা খাতের দরবৃদ্ধির প্রবণতা ছিল বেশি। সর্বাধিক দর কমেছে পাট খাতের, দর কমার হার ২.৯৬ শতাংশ। এছাড়া প্রকৌশল খাতে সার্বিকভাবে ০.৮৯ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ০.৭৯ শতাংশ, খাদ্য খাতে ১.৭৪ শতাংশ দর কমেছে। বিবিধ খাতেরও দর কমার ছিল ১.৮০ শতাংশ।
এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ টানা জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির পর এ সপ্তাহে এসব কোম্পানির শেয়ার দর কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল এই গ্রুপের ২২টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দর কমেছে, বেড়েছে ৭টির দর। এরপর এই গ্রুপের অলটেক্স কোম্পানির গতকালও শেয়ার দরবৃদ্ধি পেয়েছে ৮.৫৮ শতাংশ।
এদিকে ডিএসই জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক কারণ খতিয়ে দেখতে শিগগিরই কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। |
|
|
| 04/04/2011 5:29 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | Amar Desh
ডিএসইতে লেনদেন এক হাজার ৬০ কোটি টাকা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দেশের পুঁজিবাজারে গতকালের লেনদেন শেষ হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ৮৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে গতকাল ভাটা পড়তে দেখা যায়।
গতকাল ডিএসইর লেনদেন শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টার মাথায় সাধারণ সূচক প্রায় ৭০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এর পরই সূচক বৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে যায়। দিনশেষে ৮৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে সূচক ৬৫৩৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।
গতকাল ডিএসইতে ৭ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার ৬০৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য এক হাজার ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৮৪১ টাকা। রোববার মোট লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২৭ কোটি ১০ লাখ ৬২৭ টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ২৫৭টি কোম্পানির মধ্যে ১৫৫টির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, অপরিবর্তিত ছিল ৮টির শেয়ারের দাম। এদিকে বেশ কয়েকদিন ধরে জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেলেও গতকাল এ অবস্থা থেকে কিছুটা বেড়িয়ে এসেছে পুঁজিবাজার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১টি জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির মধ্যে ৭টির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে ১৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। ডিএসইতে গতকাল লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আফতাব অটোমোবাইল, বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, বিএসআরএম স্টিল, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, যমুনা অয়েল, এনবিএল, গোল্ডেন সন ও কনফিডেন্স সিমেন্ট।
ডিএসইতে গতকাল সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আরএকে সিরামিকের শেয়ারের দাম। এছাড়া দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে হাক্কানী পাল্প, এসিআই, আইপিডিসি, এসিআই ফরমুলেশন, মালেক স্পিনিং, ফিডেলিটি অ্যাসেট অ্যান্ড সিকিউরিটিজ, প্রিমিয়ার লিজিং, নাভানা সিএনজি ও বিআইএফসি।
দাম হ্রাসে শীর্ষ ১০ তালিকায় শীর্ষে ছিল পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। এছাড়া তালিকায় রয়েছে সমতা লেদার, সাভার রিফ্রেক্টরিজ, উসমানিয়া গ্লাস, শ্যামপুর সুগার, ন্যাশনাল টিউবস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ফার্মা এইড, বঙ্গজ ও জুট স্পিনার্স। ডিএসইর পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল সার্বিক মূল্যসূচক ১৭৪.৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৮১০০.৮১ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
সিএসইতে গতকাল লেনদেন হওয়া ২০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৬টির, কমেছে ৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ১০১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
|
|
|
| 04/04/2011 11:12 pm |
 Cool Senior Member

Regist.: 01/24/2011 Topics: 7 Posts: 70
 OFFLINE | পুঁজিবাজার কারসাজি: ৩শ' জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ
আলতাফ মাসুদ, ৫ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম):
পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক উত্থান-পতন ও কারসাজির ঘটনায় আলোচিত কয়েকজন শীর্ষ কারসাজিকারক রেহাই পেলেও অন্তত ৩শ' ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান ও কয়েকজন নির্বাহি পরিচালকের বিরুদ্ধে বুক বিল্ডিং, ফিক্স প্রাইস, প্রেফারেন্স শেয়ার, মূলধন বৃদ্ধি, প্রাইভেট প্লেসমেন্টসহ বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের অপসারণের সুপারিশ থাকছে তদন্ত প্রতিবেদনে। পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও এসইসি পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সব ধরণের কারসাজির সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সম্পৃক্ততা পাওয়ায় দ্রুত স্টক এক্সচেঞ্জ ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন করার সুপারিশ থাকছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি তাদের কাজের শুরুতেই পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়নের কারণ অনুসন্ধান করেছে। এ জন্য প্রাইমারি মার্কেটের প্রত্যেকটি ইস্যু বিস্তারিত অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত দু'বছরে ফিক্স প্রাইস, বুক বিল্ডিং ও সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসা বেশ কিছু কোম্পানি অতি মূল্যায়িত হয়েই বাজারে প্রবেশ করেছে। এ কারণেই সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ারের দর অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন, রাইট শেয়ার, সম্পদ পূনর্মূল্যায়নসহ বেশ কিছু মূল্য সংবেদনশীল পদক্ষেপ নেয়া হয় এসইসির সহযোগিতায়। ফলস্বরূপ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ শেয়ার অতি মূল্যায়িত হয়ে পড়ে। তদন্ত রিপোর্টে প্রাইমারি মার্কেটে শেয়ার অতি মূল্যায়িত হওয়ার জন্য সরকারি বিশেষ নির্দেশনার পাশাপাশি এসইসির অনুমোদনকে দায়ী করা হয়েছে। প্রাইমারি মার্কেটের অনিয়মের জন্য ১৮ জনকে শনাক্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত এসইসির কর্মকর্তাদের ছাড়া কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোন সুপারিশ করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। তদন্ত কমিটি সবচেয়ে বেশি অনিয়ম দেখতে পেয়েছে প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে। প্লেসমেন্ট অনিয়মে জড়িত থাকার দায়ে প্রায় ১শ' জনকে শনাক্ত করেছে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান ছাড়াও এনইউএম অলিউল্লাহ (ড্রাগন সিকিউরিটিজ), মো. শাহজাহান (জাহান সিকিউরিটিজ), জামালউদ্দিন আহমেদ, মো. আজিজুল হক (বিএনবি এন্টারপ্রাইজ লি  , এএস শহুদুল হক বুলবুল (বুলবুল সিকিউরিটিজ), আনোয়ার হোসেন (আনোয়ার সিকিউরিটিজ), মোশতাক আহমেদ সাদেকী (আইপিএস লিমিটেড), এম. কামাল উদ্দিন (মার্চেন্ট সিকিউরিটিজ), আল মারুফ খান এফসিএ (সিএমএসএল সিকিউরিটিজ), সাইফুল ইসলাম চৌধুরী (সিউিরিটিজ ব্রোকিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড) ও লিয়াকত আলীসহ ডিএসইর লিস্টিং কমিটির অধিকাংশ সদস্যের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সরকারি প্রভাবশালী প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তার প্লেসমেন্ট ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে তদন্ত কমিটির কাছে। এসব কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে বলা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া আইপিও পূর্ববর্তী প্লেসমেন্ট বাণিজ্যে সালমান এফ রহমানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে বলে জানা গেছে। তবে এসইসির অনুমোদন নিয়ে তা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোন সুপারিশ থাকছে না বলে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার বাণিজ্যে সহযোগিতার দায়ে এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার ও নির্বাহি পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামানকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে মিউচ্যুয়াল ফাণ্ডের অনিয়মের জন্য আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ থাকছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বিধি তৈরির মাধ্যমে কারসাজিকারকদের সহযোগিতার দায়ে নির্বাহি পরিচালক ফরহাদ আহমেদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ থাকছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটের কারসাজির তদন্ত করতে গিয়ে অনেক চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। নতুন নতুন পদ্ধতিতে শেয়ারের দর বাড়িয়ে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে মুনাফার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ক্ষেত্রে বহু লোকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও উল্লেখযোগ্যদের সম্পর্কেই সর্বাধিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। এবারের মূল্য কারসাজির সঙ্গে ৯৬ সালের জড়িত চক্রটির পাশাপাশি নতুন কয়েকটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেকেন্ডারি মার্কেটে ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, মোসাদ্দেক আলী ফালু, লুৎফর রহমান বাদল, তার স্ত্রী সোমা বাদল, এয়াকুব আলী খন্দকারসহ অন্তত ৩০ জনের শেয়ার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে শেয়ার কারসাজির সাথে ২ শতাধিক লোক জড়িত রয়েছে বলে তদন্ত কমিটি বিভিন্ন সূত্রে প্রমাণ পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে উক্ত ৩০ জন বড় কারসাজিকারক বলে তদন্তে চিহ্নিত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের উদ্যোক্তা, পরিচালকও রয়েছেন। এছাড়া শেয়ার কারসাজির সঙ্গে স্টক এঙ্চেঞ্জের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি ও বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। এ ছাড়া রুবেল নামে এক তরুণ বিনিয়োগকারীর গত এক বছরে শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে ২৫০ কোটি টাকা মুনাফার তথ্য প্রতিবেদনে থাকছে। তবে অবাক করা তথ্য হচ্ছে, পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমালোচিত ব্যক্তি এবং ৯৬ সালের পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারীর নায়ক সালমান এফ রহমানের সেকেন্ডারি মার্কেটে সরাসরি কোন যোগসাজস খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। প্রাইমারি মার্কেট অর্থাৎ আইপিও'র ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে কমিটি। কারণ প্রতিটি কাজই এসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন করা হয়েছে। অপরদিকে এসইসির কর্মকর্তাদের সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এসইসির নির্বাহি পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূইয়ার স্ত্রীর বিও হিসাবে গত বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকার লেনদেনের হিসাব পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন করা কয়েকজন রাঘববোয়ালদের একাউন্টে তল্লাশি চালিয়েছে। এদের বিও হিসাবেও অনেক গরমিল পাওয়া গেছে। এদের লিস্ট তৈরি করা হয়েছে, যা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে। এছাড়া পুঁজিবাজারে সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যের বড় ধরণের বিনিয়োগ সংশ্লিষ্টতা তদন্ত কমিটি পেয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটর সভপতি আহম মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারের অনিয়মে যুক্ত থাকায় প্রতিবেদনে তার নাম থাকছে বলে জানা গেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালকের বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে প্রতিবেদনে।
পুঁজিবাজারের কারসাজিতে সম্পৃক্তার বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজি দূর করতে তদন্ত কমিটি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি ও দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ডি-মিউচুয়ালাইজেশন সম্পন্ন করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ জানাবে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে এসইসির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন নির্বাহী পরিচালককে অপসারণ করে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন করার সুপারিশ থাকছে প্রতিবেদনে। কমিশনের দক্ষতা ও ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চেয়ারম্যান ছাড়া চার সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি নতুন বিভাগ সংযোজন ও কারসাজি প্রতিরোধে গোয়েন্দা বিভাগ গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে এসইসির বিধি বিধান সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারের বিপর্যয় রোধের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে একের পর এক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে এর কারণ উদঘাটন ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর গত ২৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসইসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং এর কার্যপরিধি ঘোষণা করা হয়। কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী এবং আইসিএবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল বারী এফসিএ। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে কার্যপরিধি অপরিবর্তিত রাখা হলেও এর মাধ্যমে কমিটির কার্যক্রম এসইসির পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের আওতায় ন্যস্ত হয়।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ এএম/ জেডআর/ ০৭.৫২ঘ.) |
|
|
|