Page 2 / 2 1 - 2 « previous
NEWS 26.04.2011
04/25/2011 4:47 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
পুঁজিবাজারে অস্থিরতা
এসইসি,ডিএসই ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করলেন বিনিয়োগকারীরা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট


ঢাকা: ২০১০ সালের ডিসেম্বরে পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধস নামার পর সরকারের হস্তক্ষেপে তার প্রভাব ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে আশা করেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের পর নতুন করে আশার বুক  বেঁধেছিলেন তারা।

তারা ভেবেছিলেন ১৯৯৬ সালের পুঁজিবাজার ধসের অভিযুক্তরা পার পেলেও ২০১০ সালের ক্ষেত্রে তেমনটি হবে না। কিন্তু তাদের সে আশা ফিকে হতে বসেছে। তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে নানামুখি বিতর্কের পাশাপাশি বাজারে ক্রমাগত দরপতন হচ্ছে। সোমবারের দরপতনের পর আবারও হতাশ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

বিনিয়োগকারীরা বাজারে আবারও অস্থিতিশীলতার জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ(ডিএসই) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছেন।

এ ব্যাপারে ফিনিক্স সিকিউরিটিজ হাউজের বিনিয়োগকারী ঢাকার মাতুয়ালের ফজলুর রহমান (৩৫) বলেন, তিনি ২০০৪ সালে সৌদি আরব থেকে দেশে এসে ১১  লাখ টাকা নিয়ে শেয়ারব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার  মুনাফা দিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েসহ ৫ সদস্যের সংসার তাঁর ভালোই চলছিল। কিন্ত গত ডিসেম্বরে বাজার ধসের পর তিনি পরে যান অথৈ জলে।

তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসের জন্য তার ঘর ভাড়া দিতে হয় ১১ হাজার টাকা। ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ পাঁচ হাজার টাকা ও সংসারের খরচ ৮/১০ হাজার টাকা। আনুমানিক তাঁর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারের যে অবস্থা তাতে এখন তাঁর পরিবারের সদস্যদের দিন কাটছে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে। তার ১১ লাখ টাকার পুঁজি বর্তমানে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। তাই তিনি কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্টের নামে মার্কেট অস্থির হয়ে পড়েছে। আমরা তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ চাই না। মার্কেট স্বাভাবিক হোক সেটাই চাই। এব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমান মার্কেটের অস্থিরতার মূল কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং ডিএসইর মমন্বয়হীনতা।

সিআইএফ সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী মফিজুর রহমান রিপন বলেন,  ‘দুই বছর আগে ২০০৯ সালে ১৬ লাখ টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করি। গত নভেম্বরে ওই টাকা আমার ৫১ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। এরপর বাজারে ধস নামলে পুঁজিতেও ধস নামে। বর্তমানে আমার পোর্টফোলিওতে মাত্র ৩ লাখ টাকা রয়েছে। এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদী হলে একসময় পুঁজিবাজারকে জাতীয় যাদুঘরে দেখতে যেতে হবে। সেই সঙ্গে বাড়বে বেকারের সংখ্যা।’

সরকারই পারে এ বাজারে হস্তক্ষেপ করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে। তিনি বলেন, এ বাজার থেকে প্রায় দশ লাখ বিনিয়োগকারী মুনাফা নিয়ে সংসার চালান। যদি বাজারে এ অবস্থা থাকে তবে এ পরিবারগুলোর কী অবস্থা হবে!

অ্যারেনা সিকিউরিটিজের আবুল কাশেম, ইবিএল সিকি. হুমায়ুন ফরিদসহ আরো অনেকের একই অবস্থা।

প্রসঙ্গত, খন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করার পর বাজার আবার স্থিতিশীলতার দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু ইব্রাহিম খালেদ যখন অর্থমন্ত্রীকে তার তদন্ত রিপোর্ট জমা দিলেন। তখনই দেখা দিল বিপত্তি।

অর্থমন্ত্রীর তদন্ত রিপোর্ট কাটছাঁট করে প্রকাশ করার কথা, কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে তদন্ত রিপোর্টের অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করা, পাঁচ হাজার কোটি টাকা ফান্ড গঠনের অনুমোদনসহ নানা ইস্যুতে সম্প্রতি অস্থির হতে থাকে পুঁজিবাজার।
  
বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৫, ২০১১
Quote   
04/25/2011 4:47 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
দুই কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানি সোমবার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

কোম্পানি দু’টি হচ্ছে- তাক্কাফুল ইন্স্যুরেন্স ও মারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড।

সোমবার সকালে ঢাকা স্টক একচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

মারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ (ক্যাশ) লভ্যাংশ ঘোষণা করে। পাশাপাশি বার্ষিক সাধারণ সভা ও রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ ২৮ জুন ও রেকর্ড ডেট ৮ মে।

তাক্কাফুল ইন্স্যুরেন্স তাদের শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

পাশাপাশি বার্ষিক সাধারণ সভা ও রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ ২ জুলাই ও রেকর্ড ডেট ১০ মে।

বাংলাদেশ সময়: ১১৪৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৫, ২০১১
     
Quote   
04/25/2011 4:48 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Prothom Alo
সংবাদ বিশ্লেষণ
সরকার সিদ্ধান্তহীন, শেয়ারবাজারও অস্থিতিশীল

পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল ৭ এপ্রিল। এরপর চলে গেছে আরও ১৯ দিন। এর মধ্যে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। বাজার ধসের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের চরিত্র হননে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) যেসব কর্মকর্তা সরকার-গঠিত তদন্ত কমিটিকে সহায়তা দিয়েছেন, তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছেন সংস্থাটির সদস্যরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। সবশেষে অভিযুক্ত একটি কোম্পানি মামলা করেছে তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে। আর বাজারের অব্যাহত পতন ও বিক্ষোভ তো আছেই।
তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের অবস্থান এখনো সুনির্দিষ্ট নয়। তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশে সরকারের এই অহেতুক বিলম্ব বরং দেশের পুঁজিবাজারকে আরও ক্ষতি করছে। বাজারের কোনো পক্ষই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে। অব্যাহত দরপতনের ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।
তদন্ত কমিটি সবার আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছিল। সবাই মানেন যে বর্তমান এসইসি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় চরম ব্যর্থ হয়েছে এবং বড়দের স্বার্থেই ব্যবহূত হয়েছে। কিন্তু এসইসি পুনর্গঠনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রী বাজার বোঝেন, এমন যোগ্য কাউকে খুঁজে পাননি বলে জানিয়েছেন। যদিও এসইসির ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাজার সম্বন্ধে পুঁথিগত শিক্ষা কখনো ছিল না, এমন ব্যক্তিরাই এসইসির সফল চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আর বেশি বাজার বোঝেন, এমন চেয়ারম্যানের সময়ই পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে।
এসইসির চেয়ারম্যান যে পর্যালোচনা বা মতামত দিয়েছেন, তা ব্যক্তিগত বলেও প্রতীয়মান হয়। বৈঠক করে এই পর্যালোচনা তৈরি হয়নি। সুতরাং এটিকে এসইসির মতামত মোটেই বলা যাবে না। পর্যালোচনায় তদন্ত প্রতিবেদনকে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তদন্ত কমিটিকে অযোগ্যও বলা হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও একই সুরে কথা বলছেন। পুঁজিবাজার নিয়ে ১৯৯৬ সালে গঠিত তদন্ত কমিটিকে এ কথা বলার সাহস সে সময় কেউ দেখাতে পারেননি। শক্ত হাতে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। যদিও প্রভাবশালী অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এখনো শাস্তি পাননি। কিন্তু এবার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভালোই সুযোগ পেয়েছেন বলা যায়। কয়েকটি ক্ষেত্রে ’৯৬ সালের বাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অবশ্য এবারও অভিযুক্ত হয়েছেন এবং শাসক দলের সঙ্গেই তাঁদের সম্পর্ক বেশি। এঁদের সঙ্গে আবার প্রধান বিরোধী দলের কারও কারও সম্পর্ক রয়েছে।
কেবল তদন্ত কমিটিই নয়, বিপাকে আছেন কমিটিকে যাঁরা সহযোগিতা দিয়েছেন, তাঁরাও। ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে আটজন কর্মকর্তা বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটিকে সহায়তা করেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন ডিএসইর প্রভাবশালী কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান পরিচালক। এ রকম ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর পর্ষদ সভায়। ওই দিন এ নিয়ে আলোচনা হলে অপর সদস্যদের ভূমিকার কারণে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবারের আগেও এ নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছিল বলে জানা গেছে। এ সময় ডিএসইর একজন সাবেক সভাপতি বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আনেন। এরপর আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনজন সদস্য আবারও ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর চড়াও হন। তদন্ত প্রতিবেদনে ডিএসইর পর্ষদের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সদস্য এবং তাঁদের নিকটাত্মীয়ের নামও রয়েছে। মূলত, এঁরাই শাস্তি দিতে বেশি তৎপর। এখানে বলা প্রয়োজন, তদন্ত কমিটিকে সবচেয়ে কম সহায়তা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। অথচ তাদেরই সাচিবিক দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল।
তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। সুতরাং তদন্ত কমিটির সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সেই দায়িত্ব এখন পর্যন্ত নেয়নি সরকার। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। উদ্দেশ্য, তদন্ত প্রতিবেদনকে পাশ কাটানো। সরকার যতই দেরি করবে, শেয়ারবাজার স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হতে ততই দেরি হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং এসইসি পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়ন শুরু না করলে আস্থার সংকট কাটবে না। সবকিছুই এখন নির্ভর করছে সরকারের ওপর।
Quote   
04/25/2011 4:49 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Prothom Alo
শেয়ারবাজারে বড় দরপতনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৬-০৪-২০১১

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কমছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচকে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
আর এতে পুঁজি হারিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এ সময় তাঁরা অভিযোগ করেন, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক ধসের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও সরকার তা প্রকাশ করছে না। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা আদৌ নেওয়া হবে কি না, তা-ও পরিষ্কার নয়। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা তাঁদের করণীয় সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
মূলত এ কারণেই বাজার আবার পতনের মুখে পড়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশসহ শেয়ারবাজারের সংস্কার নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়েই গতকাল দিনের লেনদেন শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৩৮ পয়েন্টের ওপরে কমে যায়। এ সময় বাজারে বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।
এরই একপর্যায়ে কিছু বিনিয়োগকারী রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসই কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাঁরা বাজার-ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান ও ডিএসইর সভাপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেন।
স্লোগান দেওয়ার এক ফাঁকে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা রাস্তার ওপর আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে ইত্তেফাক মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় দুপুর একটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রাস্তার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মূল্যসূচকের পতনের গতি রোধ করা যায়নি। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২১২ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ৮৬৪ পয়েন্টে নেমে আসে, যা গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৬১৬ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে নেমে আসে ১৬ হাজার ৪৩৪ পয়েন্টে। সিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ১৯৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। এর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ছয়টির, কমেছে ১৯০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল একটির। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল মোট ৮৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল হাতবদল হওয়া ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১১টির, কমেছে ২৩৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল তিনটির। এ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ৬১৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৮ কোটি টাকা কম।
যোগাযোগ করা হলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও জেনিথ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান শেয়ারবাজারের পতনের জন্য কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সবাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে। কেউ বলছেন, প্রতিবেদনে কী আছে জানি না, কেউ বলছেন জানি। কেউ প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন, কেউ বা মামলা করছেন। আবার সরকারের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা এক ধরনের সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন।
আরিফ খানের মতে, প্রতিবেদনে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরা বাজারে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও একইভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আর এ ঘটনা বাজারের লেনদেন ও মূল্যসূচকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আরিফ খান আরও বলেন, ব্যাংকের ঋণের সুদহার বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো প্রতিশ্রুত ঋণ দিতে পারছে না। এতে বোঝা যায় তারল্য সংকট রয়েছে। এ ছাড়া অর্থবছরের শেষ দুই মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের কাজ জোরেশোরে শুরু হয়। তাই এ সময় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়লে তারল্য সংকট প্রকট হতে পারে। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বড় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়তা প্রয়োজন। প্রয়োজন বাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়ানো।
পাশাপাশি সরকারের উচিত তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুততার সঙ্গে প্রকাশ করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে প্রয়োজন কারসাজি প্রতিরোধে বাজারে কী ধরনের সংস্কার আনা হবে, সে ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া।
আরিফ খান বলেন, হয়তো অনেক বলবেন, এসব সংস্কার করতে গেলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এগুলো করা দরকার।
Quote   
04/25/2011 6:36 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Prothom Alo
শেয়ারবাজার
একটি ‘নিষ্ঠুর’ রসিকতা
এ কে এম জাকারিয়া | তারিখ: ২৬-০৪-২০১১

পুঁজিবাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। কালও (সোমবার) দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তবে পুঁজিবাজারের পতন হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এসইসি। এসইসি মানে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। শেয়ারবাজার ধসের পর যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেই কমিটি তাদের রিপোর্টে ‘সব দুর্নীতি ও অনিয়মের বৈধতা’ দেওয়ার জন্য দায়ী করেছিল এসইসিকে। এখন সেই এসইসি চড়াও হয়েছে তদন্ত কমিশনের ওপর। এমন যে হবে, তা অনেকটা জানাই ছিল। সরকার যখন কাটছাঁট করে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করার কথা বলল আর সেটাও যখন ঝুলিয়ে রাখতে শুরু করল, তখনই আমরা টের পেয়েছিলাম—যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের শক্তি সঞ্চয় করতে দিতে চায় সরকার। আদালতও নির্দেশ দিয়েছেন যৌক্তিক সময়ের মধ্যে রিপোর্টটি প্রকাশ করতে। কিন্তু সেই ‘যৌক্তিক’ সময় সরকারের এখনো হয়নি। ১৭ এপ্রিল প্রথম আলোয় ছাপা হওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একজোট হচ্ছেন। এখন দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সত্যিই সংগঠিত হয়েছেন এবং হচ্ছেন।
তদন্ত কমিশনের প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ তখন আশঙ্কা করেছিলেন, তদন্ত কমিশন ও এর সদস্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সদস্যদের সামাজিকভাবে হেয় করতে নানা চেষ্টা চলছে (প্রথম আলো, ১৭ এপ্রিল)। বাস্তবেও তা-ই ঘটতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ক্ষতিপূরণ দাবি করে তদন্ত কমিটির প্রধানসহ চারজনকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে, তদন্ত কমিটিকে যাঁরা নানা তথ্য দিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করছেন, তাঁদেরও নাকি নানাভাবে হয়রানি করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে আমরা ‘মার্কেট প্লেয়ারদের’ কথা শুনেছি, যাঁরা কারসাজি করে বাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এই মার্কেট প্লেয়াররা যে সব ধরনের খেলাতেই ভালো হবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। আর এই খেলার মূল শক্তি তো টাকা, যা তাঁরা বাজার থেকে এরই মধ্যে হাতিয়ে নিয়েছেন। আসলে ‘টাকায় করে কাম, মিছা মর্দের নাম’। টাকা কাজ করা শুরু করে দিয়েছে!
তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে এসইসির জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে এর চেয়ারম্যান ও দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই তিনি দায়ী নন। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাঁদের সরিয়ে দিয়ে তদন্ত করাই রীতি। সরকার তা করেনি। অভিযুক্ত এসইসির কাছেই তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে মতামত চেয়েছে সরকার। অভিযুক্ত হলে সবাই যা বলেন, এসইসির চেয়ারম্যানও তা-ই বলেছেন। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতমূলক’ বলেছেন। আত্মপক্ষ সমর্থন খারাপ কিছু নয়। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে আরও একটি বিশেষণ ব্যবহার করেছেন তিনি। বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি ‘নিষ্ঠুর’। এর একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি, ‘প্রতিবেদনে এসইসিতে কর্মরত কেবল একজনের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্তসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ প্রতিবেদনে পুরো প্রতিষ্ঠানকে ঢালাওভাবে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হলো। গণমাধ্যমে কোনো প্রমাণ ছাড়া দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করার ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা বিবেচনা করার বিষয়টি খুবই নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পড়ে।’
এসইসি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করে, আর সেই বাজারে বিনিয়োগ করে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী হারালেন ২০ হাজার কোটি টাকা। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণেও ধরা পড়েছে, ‘মার্কেট প্লেয়ারদের’ অনৈতিক সাহায্য-সহযোগিতা করেছে এসইসি। এই প্রতিষ্ঠানে নিশ্চয় অনেক সৎ ও যোগ্য কর্মচারী আছেন। কিন্তু ‘মার্কেট প্লেয়ারদের’ স্বার্থ রক্ষায় যাঁরা এসইসিকে ব্যবহার করেছেন, তাঁদের কাছে নিশ্চয়ই এই সৎ ও যোগ্য কর্মচারীরা অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। ২০ হাজার কোটি টাকা লোপাটে এসইসিকে যখন ব্যবহার করা হয়েছে, তখন এর দায় তো প্রতিষ্ঠানটিকেই নিতে হবে, বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বলছে, ‘সংস্থাটির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের আনুকূল্য ও সম্মতি ছাড়া কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়।’ এসইসিকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘মনোবল ভাঙার’ দায়টি আসলে কার? এসইসির কর্তাব্যক্তিদের, নাকি তদন্ত কমিটির?
এবার ‘নিষ্ঠুরতা’ প্রসঙ্গ। একটি প্রতিষ্ঠান যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, সেখানে কাজ করেন এমন সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যের। সত্যিই তাঁরা এক নিষ্ঠুর পরিস্থিতির শিকার। ধরে নিলাম, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এসইসির কিছু সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ‘মনোবল’ ভেঙে দিয়ে কিছুটা ‘নিষ্ঠুরতার’ পরিচয় দিয়েছে! যেসব সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এই পরিস্থিতির শিকার, তাঁদের প্রতি রইল আমাদের সমবেদনা। কিন্তু ‘সব ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মে’ বৈধতা দিয়ে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর ওপর এসইসি যে নিষ্ঠুরতা করল, তার কী হবে? এই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের তো শুধু ‘মনোবল’ ভাঙেনি, তাঁদের অনেকে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত ও সর্বস্বান্ত। এসইসির চেয়ারম্যান কি বলবেন, নিষ্ঠুরতাটা কাদের প্রতি বেশি হলো, আর এটি করল কারা? ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আপনি কি একটু বেশি নিষ্ঠুর রসিকতা করে ফেললেন না?
এসইসির চেয়ারম্যানের একটি কথা অবশ্য আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নিতে চাই। তিনি বলেছেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কারও বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া খুব সহজ হবে না।’ খুব সত্য কথা। তা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। যদি তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কাজ হতো, তবে তো এসইসির চেয়ারম্যানেরই চাকরি থাকার কথা নয়। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার, আছে শেয়ারবাজার থেকে তুলে নেওয়া ২০ হাজার কোটি টাকা। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কে নেবে? ‘মার্কেট প্লেয়ার’ ভাইয়েরা, আপনাদের ভয় নেই, আপনাদের বিজয় সুনিশ্চিত!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com
Quote   
Page 2 / 2 1 - 2 « previous
Login with Facebook to post
Preview