Page 2 / 2 1 - 2 « previous
NEWS 22.03.2011
03/21/2011 9:12 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
প্লেসমেন্ট বাণিজ্য: ব্যাপক ক্ষতির মুখে বড় বিনিয়োগকারীরা

আলতাফ মাসুদ, ২১ মার্চ (শীর্ষ নিউজ ডটকম): প্রাইভেট প্লেসমেন্টের নামে পুঁজিবাজারে অনৈতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েকটি কোম্পানি হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন প্লেসমেন্টধারীরা। পুঁজিবাজারের বিপর্যয় অথবা কারসাজির কারণে সব সময় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির শিকার হলেও এবার বড় বিনিয়োগকারীরাও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রস্তাব অনুযায়ী বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধন হলে কমপক্ষে হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা বিভিন্ন কোম্পানির প্লেসমেন্টধারী বড় বিনিয়োগকারী। এদিকে, বেআইনিভাবে স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে উচ্চমূল্যে প্লেসমেন্ট বিক্রি করলেও পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেসব শেয়ার ফেরত নেয়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে, মূলধন বৃদ্ধির অনুমোদনের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নিজেই অবৈধ প্লেসমেন্ট ব্যবসার সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে কিছু কোম্পানিকে বেআইনিভাবে লাভবান করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, এসব প্লেসমেন্টধারীর অধিকাংশই পুঁজিবাজারের বড় বিনিয়োগকারী, স্টক ব্রোকার ও সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী কর্মকর্তা। ২০১০ সালে শেয়ারের অতি মূল্যায়নের ফলে পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণের অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করে। পুঁজি সংগ্রহের প্রাথমিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এসব কোম্পানি এসইসির নিকট থেকে মূলধন বৃদ্ধির অনুমোদন নেয়। কমিশন থেকে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য শেয়ার বরাদ্দের অনুমোদন দেয়া হলেও অনেক কোম্পানি অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে গণহারে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করছে। এক্ষেত্রে শেয়ারের মালিকানা হস্তান্তরের নির্ধারিত ফরমে (১১৭) আগাম স্বাক্ষর দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক। মূলধন বৃদ্ধির অনুমোদন পাওয়া এসব কোম্পানি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকার, ডিলার, বড় বিনিয়োগকারীসহ সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বর্ধিত মূলধন উচ্চমূল্যে বিক্রি করে। এতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করে হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার।
ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) হিসাব মতে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ১৪টি কোম্পানি রোড শো করেছে। জানা গেছে, এসব কোম্পানির প্রায় প্রতিটি বিক্রি করছে শত শত কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার। ডিএসইর তালিকার বাইরে অন্তত ১০টি কোম্পানি রয়েছে যারা প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণের অর্থ পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করেছে। এরমধ্যে একমাত্র ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেডকে এসইসি আইপিও'র অনুমোদন দিয়েছিল। যদিও পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে সে আইপিও অনুমোদন বাতিল হয়ে যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বড় ধরনের প্লেসমেন্ট বিক্রি করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেড, লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ, জিএমজি এয়ারলাইন্স, এসটিএস হোল্ডিংস (এপোলো হাসপাতাল), আনন্দ শিপইয়ার্ড অন্যতম। এসব প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করেছে বলে জানা যায়। বিতর্কিত বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আশ্রয় নিয়ে এসব কোম্পানি উচ্চমূল্যে এ প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করেছে। এছাড়াও নাভানা রিয়েল এস্টেট, এলায়েন্স হোল্ডিংস, কেওয়াসিআর কয়েল, সামিট শিপিং, গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ, ফারইস্ট নিটিং এন্ড ডাইং, পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ বিপুল পরিমাণের প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করেছে। এসব কোম্পানি বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ছাড়াও ফিঙ্ড প্রাইস পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তবে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক ধসের কারণে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল করা হলে এসব কোম্পানির প্লেসমেন্টধারীরা বিপাকে পড়েন। দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করা অর্থ আটকে যাওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে তৈরি হয়েছে নতুন সঙ্কট। পূর্বের বুক বিল্ডিং পদ্ধতি বাতিল করে নতুনভাবে সংশোধণের যে প্রস্তাব এসেছে তাতে এসব প্লেসমেন্টধারীরা বিপুল পরিমাণের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এসইসির প্রস্তাবানুযায়ী, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দর নির্ধারনের ক্ষেত্রে পিই রেশিও সর্বোচ্চ ১৫ অথবা শেয়ারের সম্পদ মূল্যের ৫ গুণ পর্যন্ত বলা হয়েছে। তবে এসইসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পিই রেশিও অথবা সম্পদ মূল্যের মধ্যে যেটি কম হবে সেটিই শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরতে হবে। নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসইসির এ প্রস্তাব গৃহীত হলে শেয়ারের দর যৌক্তিক পর্যায়ে থাকবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, এ পদ্ধতি কার্যকর করা হলে তালিকাভুক্তির সময়েই শেয়ারের অতি মূল্যায়নের বিষয়টি আর থাকবে না। যেমনটি পূর্বে কয়েকটি কোম্পানির তালিকাভুক্তির সময়ে অতিমূল্যায় হয়েছিল।
জানা যায়, উল্লেখিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ প্লেসমেন্ট বরাদ্দ দিয়েছে ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড। কোম্পানিটি তার পরিশোধিত মূলধন থেকে ৭৫ কোটি টাকার শেয়ার প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করেছে ৫শ ২৫ কোটি টাকায়। ঘোষণা অনুযায়ী প্লেসমেন্ট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার বিক্রি করেছে ৭৫ টাকায়। তবে, কয়েক হাত ঘুরে এ শেয়ার আরো বেশি দরে বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালে এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হচ্ছে ৩ দশমিক ৪১ টাকা। সম্পদ পুনঃমূল্যায়নের পর এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৩৭ টাকা। এসইসির প্রস্তাব অনুযায়ী বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধন হলে এ কোম্পানির নির্দেশক মূল্য হবে ৫১ দশমিক ১৫ টাকা। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে শেয়ারের দর ২০ শতাংশ কম-বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে শেয়ারের দর সর্বোচ্চ ৬১ দশমিক ৩৮ টাকা হতে পারে। এ হিসাবে প্লেসমেন্টধারীর শেয়ার প্রতি লোকসান হবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৬২ টাকা।
প্লেসমেন্ট বিক্রির ক্ষেত্রে এরপরের অবস্থান হচ্ছে ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেডের। কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধন থেকে মাত্র ৩০ কোটি টাকার শেয়ার প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করেছে ৪শ ৮০ কোটি টাকায়। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার প্লেসমেন্টে বিক্রি করেছে ১শ ৬০ টাকায়। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরা হয়েছে ১শ ৮৫ টাকা। ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালের ছয় মাসের প্রতিবেদনে এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় সর্বোচ্চ ৬ টাকা দেখানো হয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী বছরগুলোর সাথে ২০১০ সালের এ পরিসংখ্যান মেলানো দুস্কর। ২০০৯ সালে এ কোম্পানির ইপিএস ২ দশমিক ০৬ টাকা, ২০০৮ সালে দশমিক ৫৪ টাকা এবং ২০০৭ সালে ইপিএস ছিল দশমিক ২২ টাকা। যদি ২০১০ সালের ইপিএস ধরা হয়, তাহলে এসইসির বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধনীর প্রস্তাব অনুযায়ী এ কোম্পানির নির্দেশক মূল্য সর্বোচ্চ ৯০ টাকা হতে পারে। সেক্ষেত্রে এ কোম্পানির প্লেসমেন্টধারীরা বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ অর্থ লোকসানের সম্মুখীন হবেন।
একইভাবে লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ, জিএমজি এয়ারলাইন্স, এসটিএস হোল্ডিংস (এপোলো হাসপাতাল), নাভানা রিয়েল এস্টেট, এলায়েন্স হোল্ডিংস, কেওয়াসিআর কয়েল, সামিট শিপিং, গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ, ফারইস্ট নিটিং এন্ড ডাইং, পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনে শত শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছেন পুঁজিবাজারের বড় বিনিয়োগকারীরা।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, প্লেসমেন্ট এমনিতেই একটি অনৈতিক বাণিজ্য। এসইসির কারণেই পুঁজিবাজারে রমরমা প্লেসমেন্ট বাণিজ্য হয়েছে। মার্কেটের শেয়ারের অতি মূল্যায়নের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনে যদি কেউ লোকসানে পড়েন তাহলে কি বলার আছে। কারণ এ বাণিজ্য তো স্টক এঙ্চেঞ্জের বাইরে হয়েছে। তিনি বলেন মূলত প্লেসমেন্টের শেয়ারের ক্রেতা ছিলেন কিছু বড় বিনিয়োগকারী এবং স্টক ব্রোকাররা। যদি বুক বিল্ডিং আইন সংশোধন হয় তাহলে তাদের আর্থিক ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
Quote   
03/21/2011 9:12 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
পুঁজিবাজারে লেনদেন ও সূচক বাড়ছে

ঢাকা, ২১ মার্চ (শীর্ষ নিউজ ডটকম): দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন ও সূচক বাড়ছে। আজ সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫'শ ৯২ কোটি টাকা। এ লেনদেন গতকাল রোববারের চেয়ে ৬৮ কোটি টাকা বেশি। ব্যাপক দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন ছিল এক হাজার কোটি টাকার নিচে। তবে মার্চের শুরু থেকে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসতে শুরু করে। গত ৯ মার্চ থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত আট কার্যদিবসের প্রতিদিনই ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার উপরে। এর মধ্যে গতকাল রোববার ও আজ সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫'শ কোটি টাকার উপরে। সামপ্রতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ডিএসই'র লেনদেন আগের ধারায় ফিরে আসছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
উল্লেখ্য, গত বছর ডিএসই'র সাধারণ সূচক সাত হাজারের উপরে থাকা অবস্থায় প্রায় প্রতিদিনই লেনদেন ছিল এক হাজার কোটি টাকার উপর।
সোমবার দিনভর ডিএসই সাধারণ সূচক ঊর্ধ্বমূখী থাকলেও সাধারণ সূচক বাড়ার হার কখনো বেড়েছে আবার কখনো কমেছে। দিনশেষে ডিএসই সাধারণ সূচক ৫৮ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ৬৫২৮ দশমিক ২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
লেনদেন হয়েছে ২৫৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। এগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২০টির, কমেছে ১৩২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭টি কোম্পানির শেয়ার। সাম্প্রতিক বীমা খাতের অব্যাহত দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেলেও আজ এ খাতের ৪৪টি কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে পাঁচটি কোম্পানি ছাড়া বাকি সবকটির দাম কমেছে। তবে ব্যাংকিং খাতে প্রিমিয়ার ব্যাংক ছাড়া বাকি সবকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। অন্যান্য খাতের শেয়ারের লেনদেনে ছিল মিশ্রভাব।
Quote   
03/21/2011 9:14 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Amar Desh
ব্যাংকে টাকার হাহাকার
সৈয়দ মিজানুর রহমান

দেশের ব্যাংকিং খাতে চলছে দুরবস্থা। ভয়াবহ তারল্য সঙ্কটে দুর্বল হয়ে পড়েছে ব্যাংকিং কার্যক্রম। টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এরই মধ্যে বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক তারল্য সঙ্কটে পড়ে তাদের মেয়াদি ঋণ বিতরণ কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। আমদানিতে ঋণপত্র বা এলসি খুললে ব্যাংকগুলোর অধিক মুনাফা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এলসি খুলতে পারছে না ব্যাংকগুলো। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলসির হার প্রায় ৪০ ভাগ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কোনো একটি ব্যাংকের জরুরি টাকার দরকার হলে, কলমানি ও মানি মার্কেট থেকে (আন্তঃব্যাংক লেনদেন) টাকার জোগাড় করার একটি রেওয়াজ আছে। কলমানির ডাক বেশি হলে বেড়ে যায় সুদহার। তবে গত কয়েক মাস ধরে কলমানি ডাকে সাড়াই পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকারদের ভাষায়, এর অর্থই হলো সব ব্যাংকের অবস্থাই দুর্বল। ফলে টাকা দিয়ে কেউ সহযোগিতা করছে না।
ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতের এ সঙ্কট হঠাত্ করেই তৈরি হয়নি। গত ২/৩ বছরে দেশের শিল্পখাতে ভয়াবহ ধস, রেমিট্যান্স প্রবাহে শ্লথগতি, ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার হার বেড়ে যাওয়া এবং শেয়ারবাজারে ধসের কারণেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুরবস্থায় পড়েছে।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম আমার দেশকে জানিয়েছেন, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। বাজেটে কাঙ্ক্ষিত হারে বিদেশি সহায়তা না পাওয়ায় সরকারকে বাধ্য হয়ে বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য বর্ধিত হারে অভ্যন্তরীণ ঋণ নিতে হয়েছে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। ফলে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ধরা হচ্ছে। চলতি বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৫ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা, যা মূল বাজেটের চেয়ে ১২ শতাংশ বা এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা বেশি। তিনি মনে করেন, ব্যাংক থেকে সরকারের এই ঋণ নেয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে বেসরকারি খাত আগামীতে ঋণপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও আরও বাড়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রায় সবক’টিই মেয়াদীয় ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এলসি খোলার হার কমে গেছে প্রায় ৪০ ভাগ। এ বিষয়ে বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মশিহুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে টাকার চাহিদা বেড়ে কমে গেছে যোগান। ফলে নতুন বিনিয়োগে অর্থের যোগান দেয়া যাচ্ছে না।’ তিনি জানান, এলসি খুলতে আগে পুরো অর্থের যোগানই ব্যাংক দিয়ে থাকত। এখন গ্রাহকদের তরফ থেকে ৫০ ভাগ যোগানের অফারও নিতে পারছে না ব্যাংকগুলো। ফলে ডিপিএলসি (১৮০ দিন পর এলসির টাকা পরিশোধ) হার বেড়ে গেছে। তিনি তার নিজের ব্যাংকের হিসাব দিয়ে বলেন, এলসি খাত থেকে মোট আয়ের প্রায় ১০/১২ শতাংশ আসে। চলতি অর্থবছরে এ হার বড়জোর ৩/৪ ভাগ হতে পারে। তিনি মনে করেন বেশিরভাগ ব্যাংকের ক্ষেত্রেই এ অবস্থা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের নতুন বিনিয়োগ হ্রাস বা বন্ধ হলেও আদায়ের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি আগের বিতরণকৃত ঋণের সমন্বয় করতে আদায়ের পাশাপাশি উচ্চ হার আমানত সংগ্রহ করছে ব্যাংকগুলো। এতে এফডিআর ও সেভিংসের সুদের হার বাড়ানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত তারল্যের পাশাপাশি রয়েছে ডলারের সঙ্কটও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুসারে, ব্যাংকগুলোকে তার আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদে জমা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ব্যাংকিং পরিভাষায় এটিকে এসএলআর বলে। গেল বছর ব্যাংকগুলোকে আমানতের ন্যূনতম ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ অর্থ এসএলআর হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে আমানতের সাড়ে দশ থেকে ১১ শতাংশ অর্থ এসএলআর রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসেবে প্রচলিত ধারার ব্যাংকে ঋণ-আমানত অনুপাত ৮১ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোতে ৮৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন-অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর পক্ষ থেকে কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়েছে। সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন-নতুন বছরের শুরুতেই ব্যাংকিং খাতের তারল্যের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল তার অন্যতম কারণ এটি। তবে ঋণ-আমানত ১শ’ শতাংশ অতিক্রম করলে তা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্যাংকিং খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এমনিতেই বিদ্যুত্ ও গ্যাস সঙ্কটে উদ্যোক্তারা এখন দিশেহারা। অনেকেই কারখানা চালু করতে না পেরে বসে আছেন এবং ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর ওপর বাড়তি সুদ তাদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, কিছুদিন আগেও ১১ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যেত। সম্প্রতি তা বেড়ে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত সার্ভিস নেয়া ব্যাংকগুলোর নৈমিত্তিক ঘটনা। অধিকাংশ ব্যাংকই ন্যূনতম ৩ থেকে ৪ শতাংশ অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে। ফলে সুদ হার বেড়ে যাচ্ছে; যা উত্পাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, যখন রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, দেশে বেশি বেশি রফতানি আদেশ আসছে, তখন ব্যাংক ঋণের এ অতিরিক্ত চাপ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে রফতানিতে যে হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তা ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ১৭টি ব্যাংক রয়েছে যেগুলোতে কম-বেশি তারল্য সঙ্কট রয়েছে। এ সঙ্কটের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭৭ কোটি টাকা পর্যন্ত দেখা গেছে। এছাড়া একাধিক ব্যাংক রয়েছে যেগুলোতে নামেমাত্র তারল্য বাড়তি রয়েছে।
ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও তারল্য সঙ্কট রয়েছে। নতুন একটি লাইসেন্স পাওয়াসহ মোট ৩০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই তারল্য সঙ্কট রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শিডিউলে মোট ৪৭টি ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকেই তারল্য বা নগদ অর্থের বেশ সঙ্কট রয়েছে। নগদ অর্থের সঙ্কট থাকার কারণে ব্যাংকগুলো নতুন করে তাদের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে না। বিনিয়োগ কম হলে কর্মসংস্থান, অভ্যন্তরীণ উত্পাদন কম হবে। সেই সঙ্গে আমদানির পরিমাণ বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে দেশের আর্থিক খাতেও এর একটি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি’র চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এ বিষয়ে বলেন, দেশে শিল্প উত্পাদন কমে গেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য এবং বিনিয়োগ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংক ডিসেম্বরে সিআরআর এবং এসএলআর যতটুকু বাড়িয়েছে সেটুকুই আবার কমিয়ে আনলে তারল্য সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতেও সিআরআর নেয়া হতো ৪ শতাংশ। এসএলআর ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ। কিন্তু এটি ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে বর্তমানে সিআরআর করা হয়েছে ৬ শতাংশ ও এসএলআর করা হয়েছে ১৯ শতাংশ। এভাবে আমানতের বিপরীতে সিআরআর ও এসএলআর বৃদ্ধিতে বাজার থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে যে টাকা উঠিয়ে নেয় তার মাত্র ৭-৮ শতাংশ রেপোর মাধ্যমে বাজারে ছাড়ে। এতে তারল্য সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো অর্থের অভাবে বিনিয়োগ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
অপরদিকে শেয়ারবাজার চাঙ্গার সময় নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ব্যাংক থেকে স্বল্প সময়ের জন্য ঋণ করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। শেয়ারের দরপতনের ফলে সে টাকাও আটকে গেছে। ব্যাংকগুলো কলমানিতে ধার দেয়া এসব ঋণকে মেয়াদি ঋণে রূপান্তর করছে। এখন ব্যাংকগুলো অনেকটা জীবন রক্ষায় অধিক সুদে হলেও আমানত সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। কলমানির সুদ হার নির্ধারিত থাকায় ব্যাংকগুলো এখন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অধিক সুদে প্লেসমেন্টে ১৩ বা সাড়ে ১৩ শতাংশে আমানত নিয়ে কোনোরকমে বাংলাদেশ ব্যাংকের নগদ জমা ঠিক রাখছে।
ঋণ দেয়ার চেয়েও ব্যাংকারদের এখন প্রধান কাজ আমানত সংগ্রহ। দীর্ঘমেয়াদি নগদ টাকার সঙ্কট মেটাতে বিভিন্ন আমানত সংগ্রহে হন্যে হয়ে ঘুরছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি আমানত রাখতে, বেশি করে উদ্বুদ্ধ করতে ৬ বছরে দ্বিগুণ মুনাফার লোভও দেখাচ্ছে কোনো কোনো ব্যাংক। অপরদিকে সাময়িকভাবে নগদ টাকার সঙ্কট মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপো ও বিশেষ তারল্য সহযোগিতা নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক কলমানির সুদের হার নির্ধারণ করে দেয়ায় অগ্রিম জমা হার (এডি রেশিও) ঠিক রাখতে আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলো হন্যে হয়ে ঘুরছে।
Quote   
03/21/2011 9:15 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Amar Desh
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্যে পুঁজিবাজারে দরপতন হয় : মির্জ্জা আজিজুল
অর্থনৈতিক রিপোর্টার

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে ব্যবসায় সফলতার প্রথম শর্ত হলো সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা। আর চার্টার্ড অ্যাকাউনটেম্লটরা বিনিয়োগকারীদের সময়মত তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারেন। গতকাল ঢাকার সিএ ভবনে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনটেম্লট অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যান্ড চার্টার্ড অ্যাকাউনটেম্লটস শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক দরপতনের জন্য তিনি বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মন্তব্যকে দায়ী করেন। আইসিএবির সাবেক সভাপতি এ কে চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেরদৌস আহমেদ খান। প্রবন্ধে তিনি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন আইসিএবি সভাপতি পারভিন মাহমুদ। সহসভাপতি আবদুস সালাম, শাহাদাত হোসাইনসহ সংগঠনের সদস্যরা সেমিনারে অংশ নেন।
Quote   
03/21/2011 9:16 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Amar Desh
তালিকাভুক্তি জটিলতা নিরসনে মবিল যমুনার প্রস্তাব : ছয় মাসের মধ্যে বরাদ্দমূল্যের নিচে নেমে এলে ক্ষতিপূরণ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার

সেকেন্ডারি মার্কেটে তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে বরাদ্দমূল্যের নিচে শেয়ার লেনদেন হলে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেবে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট। তালিকাভুক্তিতে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে আইপিওতে বরাদ্দ পাওয়া কোম্পানির শেয়ারের দর অফার প্রাইসের চেয়ে কম মূল্যে লেনদেন হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যে আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন, তা কোম্পানির পরিচালকরা পরিশোধ করবেন। অর্থাত্ শেয়ারের অফার প্রাইস এবং বিক্রি মূল্যে যে পার্থক্য হবে, সে টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ বিনিয়োগকারীকে দেয়া হবে। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানিটির অফার প্রাইস ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারিত হয়।
সূত্র জানায়, লেনদেন শুরুর পর ছয় মাসের মধ্যে আইপিওতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হলে মবিল-যমুনার পরিচালকরা তার ক্ষতিপূরণ দেবে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক শেয়ারধারীদের মধ্যে যারা লোকসান দেবেন স্টক এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে সেই তালিকা সংগ্রহ করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের কাছে লোকসানের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণের অর্থ পাঠিয়ে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির লভ্যাংশ বিতরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। সূত্র জানায়, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠায় গত ২০ জানুয়ারি এ পদ্ধতিটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্থগিত করে এসইসি। ২৩ জানুয়ারি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট এবং এমআই সিমেন্টের আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ততদিনে কোম্পানি দুটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিওর মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করে ফেলে। এজন্য আইনি জটিলতা এড়াতে শর্তসাপেক্ষে কোম্পানি দুটিকে আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়। শর্তটি হলো—তালিকাভুক্তির এক মাসের মধ্যে অফার প্রাইসের নিচে দাম কমে গেলে কোম্পানি শেয়ার বাই ব্যাক করবে। এ শর্ত মেনে আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেয় কোম্পানি দুটি। কিন্তু ‘বাই ব্যাক’ আইন না থাকার দরুন পরে শেয়ার হোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে এসইসির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু এ বিষয়ে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট কোনো প্রস্তাব না দিয়ে তালিকাভুক্তির জন্য আরও দু’মাস সময় বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব করা হয় এসইসিতে। কিন্তু এসইসি তাদের এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। একইসঙ্গে এসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষতিপূরণ বিষয়ে কোনো প্রস্তাবনা দেয়া না হলে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের আইপিও প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়া হবে। অবশেষে তালিকাভুক্তির জটিলতা নিরসনে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিটি।
উল্লেখ্য, মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট লিমিটেড (এমজেএল) পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি শেয়ার বরাদ্দ করেছে। ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা প্রিমিয়ামসহ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৬০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের সর্বশেষ বার্ষিক হিসাবে ইপিএস ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে মবিল যমুনার পিই দাঁড়াচ্ছে ৬২।
Quote   
03/21/2011 9:16 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
Amar Desh
বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনে এসইসিতে বৈঠক
অর্থনৈতিক রিপোর্টার

শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধনে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রস্তাব নিয়ে গতকাল এসইসি কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে এসইসির প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবের উপর মতামত দেয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় নিয়েছে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠান। তাদের মতামতের ভিত্তিতে এ পদ্ধতিটির প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
বৈঠক শেষে এসইসির মুখপাত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব পাবলিক লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) নেতারা বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনের বিষয়ে এসইসির প্রস্তাবগুলো নিয়ে গেছেন। নিজ নিজ ফোরামে আলোচনার পর তারা কমিশনের কাছে মতামত পেশ করবে। এর উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনে আরও আলাপ-আলোচনার পর সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে। বিএপিএলসির চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান বলেন, এসইসির প্রস্তাবের আগামী ২৮ মার্চ আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নিজস্ব ফোরামে আলোচনার পর প্রতিটি সংগঠন ওইদিনের বৈঠকে তাদের মতামত পেশ করবে। ওইদিনই বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধনী চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মূলত প্রাথমিক শেয়ারের একটি গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঠিক করার বিষয়টিই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে বাজারে আসার পর শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে কমে গেলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে তাও ভাবতে হবে।
ডিএসইর সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বর্তমানে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কার্যকারিতা স্থগিত রয়েছে। এটিকে পুনরায় কার্যকর করাই হচ্ছে এ পদ্ধতিটির সংশোধনের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কয়েকটি ধারার অপব্যবহার করে কেউ কেউ বাজার থেকে বাড়তি সুবিধা আদায় করেছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো কীভাবে সংশোধন করা যায়—সে বিষয়েই আলোচনা হচ্ছে।
Quote   
03/21/2011 9:19 pm

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
The Daily Ittefaq
বুকবিল্ডিং জটিলতায় আটকে আছে ৬৪ কোটি শেয়ার
আহমেদ মিঠু

দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। বিশ্বের

বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই সফলভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে এই পদ্ধতি চালু করার জন্য গত বছরের ৯ মার্চ বিধিমালা জারি করে এসইসি। প্রচলিত পদ্ধতির নির্ধারিত মূল্যের (ফিক্সড প্রাইস) পাশাপাশি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চালুর হলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় এটি প্রয়োগ করতে সময় লেগেছে এক বছর। ২০১০ সালের মার্চে এই পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়।

বিশেস্নষকদের মতে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া সবগুলো কোম্পানিই লেনদেন শুরুর আগে থেকেই অতি মূল্যায়িত হয়েছে। অতি মূল্যায়িত হিসেবে এসইসি বর্তমানে কোনও শেয়ারের বাজার মূল্য ও আয়ের অনুপাত ৪০-এর বেশি হলে মার্জিন ঋণ দেয়া নিষিদ্ধ করে রেখেছে। অথচ বুকবিল্ডিং পদ্ধেিত বাজারে আসা সবগুলো কোম্পানিই পিই অনুপাত ৪০-এর উপরে থেকে লেনদেন শুরু করে। সংশিস্নষ্ট বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত মূল্য (ফিক্সড প্রাইস) পদ্ধতির ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দর মৌলভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হলে এসইসি তা কাঁটছাট করতে পারে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্টভাবে সেই সুযোগ নেই। আইনের এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে সংশিস্নষ্ট কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগশাজস করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে গত ২২ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের অতি মূল্যায়নের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে বলা হয়, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার আগেই শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে। এর ফলে বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ স্থানান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। এই পদ্ধতি মূল্য নির্ধারণের পর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ জমা হওয়ায় শেয়ারবাজারে বর্তমান অর্থ সংকট বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার প্রস্তাব করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই প্রস্তাবে সম্মতি প্রকাশ করে বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা না ফেরা পর্যন্ত বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন। এর ভিত্তিতে এসইসি বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।

আর এই পদ্ধতি স্থগিত করায় ইতোমধ্যে রোড শো' সম্পন্ন করে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা ১৯টি কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়য়া বন্ধ হয়ে আছে। এসব কোম্পানি শেয়ারবাজারে মোট ৬৪ কোটি শেয়ার ছাড়ার ঘোষনা দিয়েছিল

এসইসি'র কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দের জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ করেছে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট (এমজেএল)। কোম্পানিটি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর পুঁজিবাজারে ৪ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৬০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। তবে শেয়ারের দর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ ইসু্যতে আটকে আছে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া। একই অবস্থা এম আই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের। ক্রাইন ব্র্যান্ডের সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমআই সিমেন্ট ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে সর্বমোট ৩৩৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করছে।

এদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের পর পুঁিজবাজারে শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেয়েছে ইউনিক হোটেলস এ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড (ওয়েস্টিন হোটেল)। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৫ টাকা। সেই হিসেবে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে কমপক্ষে ৫৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সঙ্গে এই কোম্পানির আইপিও স্থগিত করেছে এসইসি।

বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের পর শেয়ারবাজারে আসার জন্য বর্তমানে তিনটি কোম্পানির আবেদন এসইসি'র বিবেচনাধীন রয়েছে। এরমধ্যে এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেড (এ্যাপোলো হাসপাতাল) ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২৮৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এছাড়া কেয়া কটন মিলস লিমিটেড ৫ কোটি এবং নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছাড়বে।

বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য র্নিধারণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে রোড শো' সম্পন্ন করেছে ৮টি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। রোড শো' অনুষ্ঠানের পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নির্দেশনার ভিত্তিতে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করলেও এসব কোম্পানি এসইসিতে আবেদন জমা দেয়নি। বিমান পরিবহন খাতের দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে আসছে জিএমজি এয়ারলাইন্স। কোম্পানিটি মোট ৬ কোটি শেয়ার ছাড়বে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে জনতা ক্যাপিটাল এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। গোল্ডেন হারভেস্ট নামে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের একটি কোম্পানিও রোড শো' করেছে। গোল্ডেন হারভেস্ট ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে ব্যানকো ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাব মেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছাড়বে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। পুঁজিবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ফার ইস্ট নিটিং এ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড।

জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রথম কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে আসছে আনন্দ শিপইয়ার্ড এ্যান্ড সিস্নপওয়েজ লিমিটেড। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর কোম্পানিটি মোট ৩ কোটি শেয়ার ছাড়বে। আনন্দ শিপইয়ার্ডের ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। গত ১৭ জানুয়ারি এই কোম্পানির রোড শো' অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য রোড শো' করেছে অরিয়ন ফার্মা লিমিটেড এবং পিএইচপি ফ্লোট গস্নাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এরমধ্যে অরিয়ন ফার্মা ৪ কোটি শেয়ার ছাড়বে। এজন্য আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে ইসু্য ব্যবস্থাপক নিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে পিএইচপি ফ্লোট গস্নাস ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করবে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে এ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। পুঁজিবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সামিট শিপিং লিমিটেড। সামিট শিপিংয়ের ইসু্য ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে ব্যানকো ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

এদিকে প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির বিদ্যমান নিয়মের বড় ধরনের সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন হলে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ও প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) বিবেচনায় নিয়ে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে লেনদেন শুরুর আগে কোন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ও আয়ের (পি/ই) অনুপাত ১৫ এর বেশি হতে পারবে না। একইসঙ্গে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য কোম্পানির শেয়ার প্রতি এনএভির পাঁচ গুণের নিচে থাকতে হবে।

এসইসির প্রস্তাবে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের সর্বোচ্চ সীমার পাশাপাশি নূ্যনতম মূল্য নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান সংশিস্নষ্ট কোম্পানির এনএভির কম নির্দেশক মূল্য প্রস্তাব করতে পারবে না। আর মূল্য নির্ধারণে কোম্পানির তিন বছরের আয়ের গড়ের ভিত্তিতে পিই নির্ধারিত হবে। নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে রোড শো' আয়োজনের কমপক্ষে ৫ দিন আগে কোম্পানির বিবরণীর (প্রসপেক্টাস) খসড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছে পাঠাতে হবে। তবে এতে কোনভাবেই নির্দেশক মূল্যের কোন প্রস্তাব করা যাবে না। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার জন্য আইসিএবি, আইসিএমএবি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এতে কোম্পানির সঙ্গে সংশিস্নষ্ট কোন ব্যক্তি থাকতে পারবেন না।
Quote   
03/21/2011 9:30 pm

Senior Member


Regist.: 02/21/2011
Topics: 1
Posts: 36
OFFLINE
VERY VERY GOOD WORK, THANKS

WE NEED THIS TYPE OF WORK EVERY DAY MORNING, THANKS AGAIN.

RATAN
Quote   
Page 2 / 2 1 - 2 « previous
Login with Facebook to post
Preview