| 03/15/2011 5:41 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | Sheershanews.com
অতিরিক্ত মূলধন কিংবা সিকিউরিটির প্রিমিয়াম হিসাবের মাধ্যমে বাইব্যাকের প্রস্তাব
আলতাফ মাসুদ, ১৫ মার্চ (শীর্ষ নিউজ ডটকম): কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধন (ফ্রি রিজার্ভ) কিংবা সিকিউরিটির প্রিমিয়াম হিসাব ব্যবহারের মাধ্যমে শেয়ার বাইব্যাকের বিধান রাখার সুপারিশ করা হচ্ছে। এছাড়া বাইব্যাক সম্পন্ন করার পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে কোম্পানি ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজ বাতিল এবং ধ্বংসের বিধান রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার স্টেক হোল্ডারদের সাথে এসইসি আয়োজিত পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
বাইব্যাকের প্রস্তাবিত আইনে বাইব্যাক সম্পন্ন করার পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করার বিধান রাখা হচ্ছে। তবে এসইসির প্রস্তাবিত আইনে বাইব্যাক আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান বাতিল করে আর্থিক দণ্ড দেয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বাইব্যাক অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া এ আইনে কোম্পানির বাইব্যাক সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী ২৪ মাসের মধ্যে বোনাস শেয়ার ব্যতীত এইরূপ সিকিউরিটিজ ইস্যু করতে পারবে না বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনায় বাইব্যাক বিষয়ে যে সুপারিশ এসেছে শিগগিরই তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে এসইসি। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে কোম্পানি আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাইব্যাক প্রথা চালু করার জন্য একটি বিল সংসদে উপস্থাপন করবে।
এসইসির প্রস্তাবিত আইনে কোম্পানি ফ্রি রিজার্ভ অথবা সিকিউরিটির প্রিমিয়াম হিসাব ব্যবহার ছাড়াও কোনো শেয়ার অথবা বিশেষ সিকিউরিটিজ হতে অর্জিত মুনাফা ব্যবহারের মাধ্যমেও ব্যাইব্যাক করা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো শেয়ার অথবা বিশেষ সিকিউরিটিজ হতে অর্জিত মুনাফা দ্বারা একই ধরনের শেয়ার অথবা একই ধরনের বিশেষ সিকিউরিটিজ বাইব্যাক করা যাবে না। তবে বাইব্যাক করতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাধারণ সভায় দুই তৃতীয়াংশের ভোটে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। উক্ত সাধারণ সভার বিজ্ঞপ্তিতে বাইব্যাক সংক্রান্ত পরিপূর্ণ বাস্তব তথ্যাদি, প্রয়োজনীয়তা, কোন শ্রেণীর সিকিউরিটিজ বাইব্যাক করা হবে, এরজন্য নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ এবং বাইব্যাকের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও বাই ব্যাকের জন্য ফাণ্ডের উৎস সম্পর্কে তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের তারিখ হতে ১২ মাসের মধ্যে নির্ধারিত বাইব্যাক সম্পন্ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান সিকিউরিটি ধারকদের নিকট হতে আনুপাতিক হারে অথবা নিয়মিত বাজার হতে অথবা স্টক এঙ্চেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির অডলট শেয়ার হতে বাইব্যাক সম্পন্ন হতে পারে বলে প্রস্তাব রাখা হবে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে বাইব্যাকের পরিমাণ কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধন এবং ফ্রি রিজার্ভের সর্বোচ্চ দশ শতাংশ বাইব্যাক করা যাবে। তবে কোম্পানির দায়ের পরিমাণ ইহার মোট মূলধন এবং ফ্রি রিজার্ভের দ্বিগুণের বেশি হলে বাইব্যাক করা যাবে না। কোম্পানির নিজস্ব অথবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মাধ্যমে অথবা মূল কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার বাইব্যাক করা যাবে না। এছাড়াও কোম্পানির কোন ব্যাংকের দেনা ও সুদ, ডিবেঞ্চার বা অগ্রাধিকার ভুক্ত শেয়ারের ওপর অর্জিত সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাইব্যাকের সুবিধা গ্রহণ করতে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এছাড়া কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করতে ব্যর্থ হলেও শেয়ার বাইব্যাক করতে পারবে না।
বাইব্যাক সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী এক বছর কোম্পানিটি দেউলিয়া হবে না মর্মে ঘোষণা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। রেজিস্টার অব জয়েন স্টক কোম্পানি (আরজেএসসি) ও এসইসিকে এ ঘোষণা দিবেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কমপক্ষে দুই তৃতীয়াংশ পরিচালক।
প্রসঙ্গত, মূলধন কমানোর জন্য কোনো কোম্পানি ইতিপূর্বে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে যে শেয়ার বিক্রি করেছিল, তা পুনরায় কিনে নেয়ার প্রক্রিয়া বাইব্যাক হিসেবে পরিচিত। বাইব্যাক আইনের উদ্দেশ্য হলো, প্রয়োজনের তুলনায় কোনো কোম্পানির মূলধন বেশি হয়ে গেলে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার কিনে নিয়ে কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেয়া। এতে কোম্পানির সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার ফলে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বৃদ্ধি পায় এবং বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা পান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড এসোসিয়েশনের সভাপতি সালমান এফ রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কোনো কোম্পানি যদি মূলধন কমাতে চায়, তাকে সে সুবিধা দেয়ার জন্য এই আইন করা প্রয়োজন। তবে কোনো কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধন না থাকলে সে কোম্পানিকে বাইব্যাকের সুযোগ দেয়া উচিৎ নয় বলেও মত দেন তিনি। বাইব্যাকের পর কোম্পানির বোনাস ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বিনিয়োগকারীরা নগদ লভ্যাংশ চায় না। এজন্য আমরা বাইব্যাকের পর কোম্পানি যাতে বোনাস ইস্যু করতে পারে সেজন্য প্রস্তাব রেখেছি।
|
|
|