Page 1 / 2 1 - 2 Next »
News 12.04.2011
04/11/2011 11:23 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
লোভের ফাঁদ তৈরি করে শেয়ার কারসাজি

মনজুর আহমেদ
প্রথম আলো
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

এবার অভিনব কৌশল, নতুন উদ্ভাবনী ও লোভের ফাঁদ তৈরি করে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ঘটানো হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির সঙ্গে যোগসাজশে ডিএসই ও সিএসই সারা দেশে বাজারের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। রোড শো ও গণমাধ্যমে আহ্বান জানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ারের দৈনন্দিন কেনাবেচাকে লোভনীয় করা হয়েছে।
আইপিওর আগে প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্ট বিক্রি, প্লেসমেন্টের কার্ব বাজার, প্রেফারেন্স শেয়ার, সরাসরি তালিকাভুক্তি, রিপিট আইপিও, কোম্পানি সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন, ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর, বুক বিল্ডিং ইত্যাকার দেশের শেয়ারবাজারের জন্য নতুন ও অভিনব সব প্রস্তাব এনে প্রাথমিক বাজারকে অতি মূল্যায়িত করে এক দফা অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। আর সেকেন্ডারি বাজারে এই অতি মূল্যায়ন ধরে যোগসাজশ ও গোষ্ঠীবদ্ধ লেনদেন করে আরেক দফা মূল্য বাড়ানো হয়েছে।
আর সর্বশেষ সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিসহ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকে সংরক্ষিত অমনিবাস হিসাব থেকে ৮৩০০ (ডিএসই) সূচকের সময় বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি করে বাজারে পতন ঘটানো হয়েছে। শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে এমনকি অখ্যাত বিদেশি কোম্পানি ডেকে এনে তার প্রচারও চালানো হয়েছে। জেম গ্লোবাল নামের এই কোম্পানিও বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে উঠতি বাজারে ১৪২ শতাংশ মুনাফা করে।
শেয়ার কেলেঙ্কারির এসব কৌশলের নেপথ্যে ও সামনের সারিতে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন এসইসির সাবেক সদস্য সাহাবুব আলম, সরকারি দলের সাংসদ আ হ ম মুস্তফা কামাল ও সাবেক সাংসদ এইচ বি এম ইকবাল, বিরোধী দল বিএনপির সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং ছিয়ানব্বই সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির অন্যতম দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান এবং ইয়াকুব আলী খোন্দকার, গোলাম মোস্তফা, রকিবুর রহমানের নিকটাত্মীয় আরিফুর রহমানসহ আরও বেশ কয়েকজন।
এর বাইরে আছে বেশ কয়েকটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি। এই কোম্পানিগুলো এবং উল্লিখিত ব্যক্তিরা এক প্রকার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে যোগসাজশে ও ক্ষেত্রবিশেষে প্রভাব বিস্তার করে দেশের মধ্যবিত্ত মানুষের হাতের সঞ্চয় তুলে নিতে নানা ফন্দি করেছে।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত শেয়ারবাজার-বিষয়ক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ৭ এপ্রিল সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে ইব্রাহিম খালেদ গণমাধ্যমকে বলেন, শেয়ারবাজারে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জড়িত থাকলেও তাঁরা মূলত ব্যবসায়ী। বাজারকেন্দ্রিক বড় অঙ্ক হাতিয়ে নিতেই তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কারসাজি করেছেন।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে বলেছে, এবারের পুঁজিবাজার ধস ছিয়ানব্বই সালের ধসের মতো নয়। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এবং ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত। ছিয়ানব্বইয়ের ধস ছিল সম্পূর্ণ সেকেন্ডারি বাজারের ঘটনা। কিন্তু এবারের মূল ঘটনা অনেকটা পর্দার অন্তরালে প্রাথমিক বাজারের কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত, যা এসইসির সমর্থন-সহায়তায় ইস্যুয়ার, ইস্যু-ম্যানেজার, ভ্যালুয়ার, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট এবং প্লেসমেন্টধারীদের একটি শক্তিশালী চক্রের সিন্ডিকেশনের কুফল। বলা হয়েছে, আইপিও ইস্যুর আগে প্রিমিয়াম, বুক বিল্ডিং, প্লেসমেন্টের অপপ্রয়োগে যে বিশাল মূল্যস্ফীতির (শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি) চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, সে চাপেই সেকেন্ডারি বাজারে বা উন্মুক্ত পুঁজিবাজারে অতি মাত্রায় অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করেছিল। প্রাক-আইপিও মূল্য কেলেঙ্কারি রোধ করতে এসইসি ব্যর্থ না হলে সম্ভবত এবার বাজারে ধস হতো না।
সামগ্রিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে ইব্রাহিম খালেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এসইসি যদি বিধিবিধানের আওতায় এই কারসাজি ঠেকাতে পারত, তাহলে এভাবে শেয়ারবাজারে বিপর্যয় হতো না।
সারা দেশে বাজারের বিস্তৃতি: ডিএসই ও সিএসই সারা দেশে ব্রোকারেজ হাউস ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বাজারে আকৃষ্ট করে। তারা রোড শো করে, গণমাধ্যমে আহ্বান জানিয়ে বাজারে লোভের পরিবেশ তৈরি করেছে। তদন্ত কমিটি বলেছে, যদিও সংগত কারণেই মনে হতে পারে যে অধিকসংখ্যক বিনিয়োগকারীকে শেয়ারবাজারে সম্পৃক্ত করা অর্থনীতির জন্য ভালো একটি পদক্ষেপ। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং আর্থিক ঝুঁকি বহনের ক্ষমতা নিশ্চয়ই নজরে রাখতে হবে। উপরন্তু যেখানে স্টক মার্কেটে সংশ্লিষ্ট সবাই একবাক্যে বলে আসছে, বাজারে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা কম, সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ক্ষুদ্র, অপরিপক্ব, অ-তথ্যসমৃদ্ধ বিনিয়োগকারীকে বাজারে টেনে আনা সুচিন্তিত পদক্ষেপ নয়।
তদন্ত কমিটির কাছে প্রকাশ পেয়েছে যে গ্রাম পর্যায়ে নিম্নমাত্রায় শিক্ষিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে কর্মরত অথবা বিনিয়োগরত তাঁদের ভাই-বন্ধু-আত্মীয়র উৎসাহে বা প্ররোচনায় বিও হিসাব খুলে তাঁদের সাধ্যের অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। শেয়ারবাজারের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতিতে এ রকম স্বল্পসংখ্যক বিনিয়োগকারী লাভবানও হয়েছেন। তবে অধিকাংশই এখন উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতা রোধে বা নিয়ন্ত্রণে এসইসি লক্ষণীয় ভূমিকা পালন করেনি।
অন্য বিনিয়োগ অনাকর্ষণীয়: দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবের কারণে অনেক দিন ধরেই শিল্পবিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে। এদিকে শিল্প-ব্যবসায় বিনিয়োগকে উৎসাহ জোগাতে কয়েক বছর ধরে ব্যাংকের সুদহার কমে আসে। সরকারের কাছে বিনিয়োগ অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের ওপর করারোপ করা হয়, লভ্যাংশ কমিয়ে দেয় সরকার। তদন্ত কমিটি বলেছে, রেমিট্যান্স প্রবাহও এ সময় বাড়ে। উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক সংসারে উদ্বৃত্ত আয় বেড়ে যায়। ব্যাংকেও প্রচুর পরিমাণে অলস অর্থ পড়ে থাকে। এ পর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প বিনিয়োগ খাত খুঁজতে বাধ্য হয়। নজরে আসে শেয়ারবাজার। কিন্তু এদের কাছে ছিয়ানব্বইয়ের বাজার পতনের বিষয়টি অজ্ঞাত ও অনালোকিত থেকে যায়।
প্লেসমেন্টের কার্ব ব্যবসা: তদন্ত কমিটি বলেছে, স্টক মার্কেটের বাইরে এসইসির প্রত্যক্ষ সহায়তায়, সহযোগিতায় এবং সম্ভবত শীর্ষ নির্বাহীদের সংশ্লিষ্টতায় প্রাক-আইপিও পর্যায়ে যে মূল্য কারসাজি ঘটেছে, তা অপ্রত্যাশিত, অনৈতিক এবং সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেশনের ফল। প্রকৃতপক্ষে এসইসির ছত্রচ্ছায়ায় একটি বেআইনি কার্ব বাজার সৃষ্টি করা হয়েছিল, যেখানে ডিম্যাট (শেয়ারের যান্ত্রিকী উপস্থাপন) তো দূরের কথা, কাগুজে শেয়ারও নয়, টোকেনের মাধ্যমে শেয়ার প্লেসমেন্ট ও প্লেসমেন্ট ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়েছে। যদিও এসইসির অনুমোদন ছাড়া শেয়ার ইস্যু ও বিক্রি আইনসিদ্ধ নয়, তবু সেটাই ঘটেছে।
তদন্ত কমিটি বলেছে, এসইসির শীর্ষ কর্মকর্তা, ডিএসই/সিএসইর সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্টজনদের এই প্লেসমেন্ট শেয়ার দিয়ে শুধু সিন্ডিকেট শক্তিশালী করা হয়নি, সমাজের উচ্চস্তরকে দুর্নীতির জীবাণু দ্বারা সংক্রমিতও করানো হয়েছে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এই দুষ্টচক্র ভেদ করে পুঁজিবাজারে সুস্থতা আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ এসেছে, ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৭০ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৪২৫ কোটি টাকায়। জিএমজি এয়ারলাইনসের ৬০ কোটি টাকার শেয়ার মৌখিক প্লেসমেন্টে বিক্রি হয়েছে ৩০০ কোটি টাকায়। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার প্লেসমেন্টে বিক্রি হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। এসটিএস হোল্ডিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় ১.৪৪ টাকা। ২০০৬ থেকে ’০৮ পর্যন্ত এটা ছিল লোকসানি কোম্পানি। অথচ বুক বিল্ডিংয়ে এর নির্দেশক মূল্য হয়েছে ১২৫ টাকা। এই ১২৫ টাকার শেয়ার মাত্র ১৫ টাকা করে কোম্পানি তাদের অর্ধেকের বেশি শেয়ার প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করেছে। কিন্তু কাদের কাছে বিক্রি করেছে, তা প্রকাশ করেনি। এসইসি তদন্তও করেনি, যথার্থতাও দেখেনি।
আইপিওতে নানা কারসাজি ও অতি মূল্যায়ন: তদন্ত কমিটি মূল্যায়ন করে বলেছে, প্রাক-আইপিওতে মূল্য কারসাজি ও এর ফলে আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি না ঘটানো হলে এবারের পুঁজিবাজারে ধস ঘটত না। তারা বলেছে, প্রথম পর্বে আলোচিত ব্যক্তি/সংস্থার সম্ভাব্য ভূমিকার তুলনায় প্রাক-আইপিও সিন্ডিকেটের ভূমিকা পর্বতপ্রমাণ।
তদন্ত প্রতিবেদনের এই পর্বে সাতটি কোম্পানির প্রেফারেন্স শেয়ার ছাড়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাত্র দু-তিন মাসের জন্য অগ্রাধিকার বা প্রেফারেন্স শেয়ার ছাড়া হয়েছে। পিপলস লিজিং মাত্র এক মাসের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। অগ্রাধিকার শেয়ারগুলো সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সময় বাজারমূল্যের গড়ের চেয়ে ২৫ থেকে ৪৫ ভাগ ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রূপান্তরের আনুপাতিক হার এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে ইস্যু কোম্পানি বেশ কিছু প্রিমিয়াম (উপরি মূল্য) পায়। যেমন ১০ টাকার অগ্রাধিকার শেয়ার মেয়াদ শেষে তিনটি সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হয়েছে অর্থাৎ ১০: ৩ অনুপাত।
ব্যক্তি খাতে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রিমিয়াম মূল্যে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পাঁচটি কোম্পানি বড় অঙ্কের মুনাফা তুলে নিয়েছে। তদন্ত কমিটি বলেছে, এমজেএল ও এমআই সিমেন্ট অতি উচ্চ প্রিমিয়ামে অর্থ সংগ্রহ করেছে। সে তুলনায় আরএকে সংযতভাবে গ্রহণযোগ্য প্রিমিয়ামে পুঁজি সংগ্রহ করেছে। একই কারণে আরএকের বাজারমূল্য সেভাবে না কমায় বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
রিপিট আইপিও ছেড়ে গোল্ডেনসন ১০ কোটি টাকার পুঁজি সংগ্রহ করেছে। শেয়ারের মূল্য প্রশ্নের সম্মুখীন মনে করে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া বে-লিজিংয়ের আইপিওতে প্রিমিয়াম মূল্য ১৫০ টাকা, মেরিকোতে প্রিমিয়াম মূল্য ৮০ টাকা নেওয়ার ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলেছে তদন্ত কমিটি।
আবার লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ আদৌ আইপিওতে যেতে পারে কি না, সেটাই প্রশ্নবোধক মনে করে কমিটি। তার ওপর ২৪০ টাকা প্রিমিয়াম দাবি করে আইপিও আবেদনে। ইউনিক হোটেলের ১৮৫ টাকা প্রিমিয়াম দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।
মিউচুয়াল ফান্ডের প্লেসমেন্ট: মিউচুয়াল ফান্ডেরও প্লেসমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্লেসমেন্টের ওপর লকইনও ছিল না।
সেকেন্ডারি বাজারে কারসাজি: কমিটির প্রতিবেদনে সেকেন্ডারি বাজারে মূল্য কারসাজির তথ্য রয়েছে। কিছু লেনদেনকারী নিজেদের মধ্যে কেনাবেচা করে দর বাড়িয়েছেন। আর মূল্যবৃদ্ধির একপর্যায়ে তাঁরা বেরিয়ে গেছেন। প্রতিবেদনে কয়েকজনের এমন লেনদেনের তথ্য দিয়েছে। সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা এবং সহযোগীরা রাশেদা আক্তার মায়া (সিরাজদ্দৌলার স্ত্রী), হাবিবুর রহমান (সিরাজদ্দৌলার অ্যাকাউন্ট শনাক্তকারী)। ইয়াকুব আলী খোন্দকার এবং সহযোগীরা সারাহ খন্দকার (ইয়াকুবের কন্যা) ও ইয়াসিন খোন্দকার (ইয়াকুবের ভাই) ইত্যাদি। এঁদের দুজনের নাম এসেছে বারবার।
তদন্ত প্রতিবেদনে নানাভাবে নাম আসার বিষয়ে জানতে চাইলে সালমান এফ রহমান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাঁর বক্তব্য পাঠাবেন।
আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কমিটি তাঁর কোম্পানির যে কেস স্টাডি দিয়েছে, তাতে তাঁকে কোনোভাবেই অভিযুক্ত বা অসৎ, অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলেনি। তিনি বরং বলেছেন, মুনাফা তুলে নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে তাঁরা তো সব শেয়ারই বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু শুধু বোনাসের দুই হাজার ৩০০ শেয়ার বিক্রি করেছেন।
Quote   
04/11/2011 11:25 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডকে আইনি আড়াল দিয়েছে এসইসি

প্রথম আলো
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডকে আইনের আড়াল দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। পাশাপাশি ‘নিয়ম রক্ষার’ তদন্ত করা ছাড়া প্রায় কোনো ক্ষেত্রেই বাজার কারসাজিতে জড়িত কারও বিরুদ্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়নি সংস্থাটি।
দেশের শেয়ারবাজারের অনিয়ম তদন্তের জন্য গঠিত প্রতিবেদনে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার ভূমিকা পর্যালোচনায় এই অভিমত প্রকাশ পেয়েছে। কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন পেশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০০৯ ও ২০১০ সালে এসইসি কর্তৃক জারিকৃত বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হওয়ার কথা। কিন্তু পুঁজিবাজারের অবস্থা থেকে এটি খুব স্পষ্ট যে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়নি। ফলে ন্যায়সংগতভাবে প্রশ্ন জাগে, ২০১০ সালে জারিকৃত ৮১টি বিজ্ঞপ্তি এবং পূর্ববর্তী বছরগুলোতে অনুরূপ অসংখ্য বিজ্ঞপ্তি কাদের স্বার্থে জারি করা হয়েছিল।’
কমিটি তাদের পর্যালোচনায় আরও বলেছে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সিকিউরিটি ইস্যু নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে এসইসি শেয়ার-সংক্রান্ত এমন কার্যক্রমে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছে, যাতে ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বস্তুত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডকে আইনের আড়াল দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসইসির সার্ভিলেন্স অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট (বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগক্ষমতা) যথাযথভাবে কাজ করেনি। দক্ষতা, লোকবল এবং প্রযুক্তির অভাবই একমাত্র কারণ কি না, তা দেখার বিষয় বলে মনে করে কমিটি। কারণ, তদন্তকালে এসইসির কিছু কর্মকর্তার স্বার্থের সংঘাত, চাপের কাছে নতি স্বীকার, এমনকি দুর্নীতির প্রচুর অভিযোগ এসেছে, যা আরও গভীরভাবে অনুসন্ধানের দাবি রাখে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
নিয়ম রক্ষার তদন্ত: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিএমসি কামাল, চিটাগং ভেজিটেবল ইত্যাদি জেড শ্রেণীর শেয়ারের অব্যাহত অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় এসইসি স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয়ের মাধ্যমে তদন্ত করালেও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বা নেয়নি।
কমিটি বলছে, চিটাগং ভেজিটেবলের ক্ষেত্রে সার্কুলার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাজারের লেনদেন দেখানোর কার্যক্রম প্রমাণিত হওয়ার পরও কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একমাত্র এবি ব্যাংককে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করা ছাড়া এবং অতি সম্প্রতি ছয়টি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা ছাড়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো নিদর্শন পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ দায়িত্ব এড়াতে পারে না বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয়ের প্রতিটি তদন্ত প্রতিবেদনের বেশির ভাগ উদ্ঘাটিত হলো, জেড শ্রেণীর শেয়ারের মূল্য কেনাবেচার জন্য মার্জিন রুলের সামান্য ব্যত্যয় ঘটেছে। আর দু-এক ক্ষেত্রে শর্ট সেলিং বা সার্কুলার ট্রেডিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলেও তা নগণ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেখানে দৃশ্যত বাজারে বিরাট পরিমাণে কারসাজি হচ্ছে, সেখানে এ ধরনের তদন্ত ‘নিয়ম রক্ষা’ মাত্র।
এতে আরও বলা হয়েছে, সিএমসি কামালের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে যে কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক অতি দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও শুধু ডিএসই থেকে রুটিনমাফিক কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে কি না, জানার জন্য কয়েকটি চিঠি দেওয়া হয়। কোম্পানির উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরকারি দলের উচ্চপদস্থ সদস্য থাকায় আর কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত করে ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়নি।
কমিটি বলেছে, লক্ষণীয় যে অন্যান্য কোম্পানি, যেমন গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে সামান্য লক্ষণীয় মূল্য পরিবর্তন হলেই এসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জগুলো ব্যাখ্যা তলব করতে তৎপর হয়ে ওঠে।
সংবাদমাধ্যমে বিভিন্নভাবে বাজার কারসাজির ঘটনার বিশদ চিত্র তুলে ধরা হলেও সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে এসইসি, ডিএসই ও সিএসইর তেমন কোনো ভূমিকা তদন্ত কমিটি দেখতে পায়নি। কমিটি বলেছে, ‘শেয়ারবাজারের সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে কোথাকার অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁঁছেছে, তা অনুসন্ধান করতে এই সংস্থাগুলো বিশেষ করে, এসইসি কোনো পদক্ষেপই বলতে গেলে নেয়নি। অথচ তদন্ত কমিটি স্বল্প সময়ে এ ধরনের একাধিক ঘটনা প্রমাণসহ উদ্ঘাটন করেছে।’
মনসুর আলমের অনিয়ম: এসইসির সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্য মনসুর আলমের নানা অনিয়ম চিহ্নিত করেছে কমিটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের নামে পুঁজিবাজারে অনিয়ম-সংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে বা কার্যকলাপ সন্দেহজনক মনে হয়েছে, আপাতত সংগত কারণে সেগুলো পরিদর্শন করা যায়নি। অথচ কমিটির তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে বিভিন্ন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এসইসি এমনকি ডিএসইও বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শন করেনি। এসইসির সাবেক সদস্য মনসুর আলমের হস্তক্ষেপে এটি ঘটেছে। তাই হস্তক্ষেপের কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে কমিটি মনে করে।
প্রতিবেদন অনুসারে, একটি ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে মনসুর আলমের নাম জড়িত এবং এ ব্যাপারে সংবাদও ছাপা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে মনসুর আলমের সহযোগী আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের (ডিএসই সদস্য নং-২৩৪) ডিএমডি রেজাউর রহমান। অথচ ডিএসইর প্রধান নির্বাহী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এসইসির লিখিত আদেশে তিনি চাকরিচ্যুত হন। পরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকেও তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত মনসুর আলমের সুপারিশে ২০০৮ সালে তিনি আল-আরাফাহ ব্যাংকে যোগদান করেন। আর ২০০৮ সালের ১১ অক্টোবর তাঁকে ব্রোকারেজ হাউসের মনোনীত প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়।
তদন্ত কমিটি প্রশ্ন করেছে, এসইসির আদেশে বরখাস্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে একটি ব্রোকারেজ হাউসের মনোনীত প্রতিনিধি হতে পারেন?
কমিটি আরও বলেছে, ‘আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, মনসুর আলম এবং রেজাউর রহমানের আন্তসম্পর্কের অভিযোগ আরও বিস্তারিত তদন্তের দাবি রাখে।
Quote   
04/11/2011 11:26 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
পুঁজিবাজারে বড় দরপতন

প্রথম আলো
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

দেশের পুঁজিবাজারে গতকাল সোমবার বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেন।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুঁজিবাজারের কারসাজির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করলেও সরকার তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রতিবেদন নিয়ে দ্বিধা রয়েছে।
আবার অনেকে বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে বাজারে আবার বড় ধরনের দরপতন হতে পারে বলে আতঙ্কে রয়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী।
এসব দ্বিধাদ্বন্দ্ব গতকালের বাজারে দরপতনের প্রধান কারণ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
নাসিরুজ্জামান নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, এ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীরা কী করবেন, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
আবদুর রাজ্জাক নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এ কারণে অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। আবার অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারীর নাম তদন্ত প্রতিবেদনে থাকায় তাঁরা বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন না।
গতকাল ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৯৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ২৬২ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
লেনদেন হওয়া ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ২৭টির, কমেছে ২৩০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের।
ডিএসইতে গতকাল মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ২২৪ কোটি টাকা, যা গত রোববারের চেয়ে ৬৫ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো, তিতাস গ্যাস, আফতাব অটো, বেক্সটেক্স, বিএসআরএম স্টিল, ডেসকো, স্কয়ার ফার্মা, বে-লিজিং, অলিম্পিক ও ফু-ওয়াং সিরামিকস।
গতকাল সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চতুর্থ আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম। এ ছাড়া আইসিবি ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, প্রথম বিএসআরএস মিউচুয়াল ফান্ড, এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রামীণ-১ স্কিম-২ মিউচুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স, দেশ গার্মেন্টস, পঞ্চম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, কোহিনূর কেমিক্যাল ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
গতকাল সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারের। এ ছাড়া সামিট পাওয়ার, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সিএমসি কামাল, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়ার সার্ভিসেস, লিগাসি ফুটওয়্যার, নর্দার্ন জুট মিলস, আনলিমা ইয়ার্ন ও রংপুর ফাউন্ড্রি দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৬৫৩ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে ১৭ হাজার ৫৭২ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ১৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১২৩ কোটি টাকার।
আজ প্রতিবাদ সভা: পুঁজিবাজারে কারসাজির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ এবং কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। এ জন্য সংগঠনটি আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় ডিএসইর কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা করবে। গতকাল সংগঠনটির আহ্বায়ক মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রচারপত্রে এ কথা জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ এবং এসইসির অদক্ষ কর্মকর্তা, বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
Quote   
04/11/2011 11:28 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
চিটাগাং ভেজিটেবল অয়েলের মূল্যবৃদ্ধি
এসইসির নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তদন্ত কমিটির


প্রথম আলো
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ২১ সদস্যের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পর্ষদ সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
চেম্বারের বিদায়ী সভাপতি আওলাদ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্বাচিত সভাপতি মাহবুবুর রহমান খানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
প্রতিবেদনের ‘কেস স্টাডি’ অংশে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে এ প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে কোম্পানিটির শেয়ারমূল্য ছিল কম-বেশি ১০০ টাকা। মার্চ মাস থেকে এটি বাড়তে থাকে। অক্টোবর মাস থেকে শেয়ারের দাম বাড়ার রেখাচিত্রটি খাড়াভাবে বাড়তে দেখা যায়। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি যা বেড়ে ছয় হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে এ সময় সাধারণ ধস নামলেও ওই দিন চিটাগাং ভেজিটেবলের মূল্যবৃদ্ধি ছিল অব্যাহত। অথচ ২০০৯ সালে কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ ছিল এবং কোম্পানিটি ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ক্রমাগত বড় অঙ্কের লোকসান দিয়েছিল।
কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেনের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু কোম্পানি ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়ায় ‘জেড’ থেকে ‘এ’ শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়।
এসব তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির ঘোষণা থেকে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ সমাপ্ত অর্ধবার্ষিক হিসাবে কোম্পানি দুই কোটি ৩৬ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ঋণাত্মক (২৩ টাকা ৬০ পয়সা)। এর আগের অর্থবছরে লোকসান ছিল ২৩ লাখ টাকা এবং ইপিএস ছিল ঋণাত্মক (দুই টাকা ৩৪ পয়সা)।
প্রতিবেদন অনুসারে, লাভ-লোকসান হিসাব থেকে প্রতীয়মান হয়, এ সময় কোম্পানির কোনো লেনদেন বা বিক্রি ছিল না। দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার মজুদ নষ্ট বা স্টক ড্যামেজ দেখানো হয়েছে। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা। স্বভাবতই কোম্পানিটি ছিল ‘জেড’ শ্রেণীতে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ সালের ২ মে এসইসির এক চিঠির জবাবে কোম্পানি জানিয়েছিল, বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্যের কারণে কোম্পানির উৎপাদন ও বিপণন ছিল বন্ধ, তাই লোকসান হচ্ছে।
এরপর ২০১০ সালের ৩১ সেপ্টেম্বর এসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ার অজড়করণ (ডিম্যাট) করা হয়।
এর দুই মাস পর কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন ২০১০ সমাপ্ত বছরের জন্য ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করে। এ সময় কোম্পানির ইপিএস ২১ টাকা ৬৯ পয়সা, শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) ১৩৭ টাকা ১৪ পয়সা এবং প্রকৃত পরিচালন নগদ প্রবাহ দেখানো হয় ২৩ টাকা ৬৪ পয়সা।
পরবর্তী সময়ে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৩০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় রূপান্তর করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি পর্যালোচনা করলে কয়েকটি প্রশ্ন ওঠে। এগুলো হলো: ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ক্রমাগত লোকসানের পর ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কি যৌক্তিক? ২০১০ সালের হিসাবপত্রে কী সাজানো হয়েছিল? ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা কি বাজার উত্থানে সহায়তার জন্য? ২০১০ সালের ২ মে ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোম্পানিকে পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারিতে রূপান্তর করা হবে। কোম্পানির উদ্দেশ্য পরিবর্তন কি যথাযথভাবে করা হয়েছিল? সিদ্ধান্তটি কি বাস্তবায়িত হয়েছিল? ২০১০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ব্যাপক সুবিধাভোগী লেনদেন বা ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ ঘটেছিল কি? এসইসি এ বিষয়ে কোনো নজরদারি করেছিল কি? করা উচিত ছিল কি?
Quote   
04/11/2011 11:30 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
এক্সিম ব্যাংকের প্রতিবাদ এবং প্রতিবেদকের জবাব

প্রথম আলো
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

প্রথম আলোয় ৭ এপ্রিল প্রকাশিত ‘ব্যবসায়িক অংশীদারদের দেওয়া ঋণ শেয়ারবাজারে’ শীর্ষক প্রতিবেদনের একটি বাক্যের প্রতিবাদ করেছে বেসরকারি এক্সিম ব্যাংক।
প্রতিবাদে বলা হয়, ‘প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে এভাবে ঋণ দেওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ না করে বলা হয় যে যদিও এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি, তবু “মোটিভ” স্পষ্ট। এটা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিস্মিত করেছে।’
ব্যাংক বলেছে, প্রতিবেদক একই ধরনের সংবাদ এর আগেও দুবার (২০১০ সালের ৩০ নভেম্বর ও ৫ ডিসেম্বর) প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনটি থেকে ব্যাংকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, প্রতিবেদক একটি বিশেষ মিশন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: এর আগে দুটি (প্রতিবাদে উল্লিখিত দিনে) প্রতিবেদনে যথাক্রমে উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘৩০ কোটি টাকার শিল্পঋণ চলে গেছে শেয়ারবাজারে’ ও ‘এক্সিম ব্যাংকের ৪২ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে’। এগুলো তখন পর্যন্ত যথাক্রমে এক্সিম ব্যাংকের গুলশান ও মতিঝিল শাখার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালিত দুটি পৃথক পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী সময়ে এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও ছয়টি শাখায় (ঢাকা ও চট্টগ্রাম) পরিদর্শন চালায়। তাতে ১৯৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার ঋণ পুঁজিবাজারে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে অনিয়মের জবাব চেয়েছে। চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এ ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার ১৭/২০০৩ নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে।
অন্যদিকে খেলাপি ঋণ থাকার পরও একটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ায় ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭ কক (৩) ধারা লঙ্ঘন হয়েছে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠিতে উল্লেখ করেছে। এক্সিম ব্যাংকের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন ও সর্বশেষ দেওয়া চিঠিতে দেখা যায়, নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। হিসাব খোলার আগেই ঋণ মঞ্জুর তার বড় উদাহরণ।
ফলে প্রতিবাদপত্রে মিশন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার যে দাবি করা হয়েছে, তা অযৌক্তিক এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা। সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা অনুসরণ করেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের প্রমাণাদি প্রথম আলোর সংরক্ষণে আছে।
Quote   
04/11/2011 11:34 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
কারসাজি পর্দার অন্তরালে
শেয়ারবাজারে বিপর্যয়


The Daily Janakantha
মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০১১, ২৯ চৈত্র ১৪১৭

রাজু আহমেদ ॥
পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক বিপর্যয় ১৯৯৬ সালের ধসের সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এবং ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত বলে মনে করে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদনত্ম কমিটি। '৯৬ সালের ধসের ঘটনা শুধুমাত্র সেকেন্ডারি মার্কেটে সীমিত থাকলেও এবারের মূল ঘটনা অনেকটা পর্দার অনত্মরালে প্রাইমারি কর্মকা- থেকে উদ্ভূত। শেয়ারবাজারের এবারের বিপর্যয় এসইসির সমর্থন-সহায়তায় ইসু্যয়ার, ইসু্য-ম্যানেজার, ভ্যালুয়ার, চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং পেস্নসমেন্টহোল্ডারদের একটি শক্তিশালী চক্রের সিন্ডিকেশনের কুফল বলে তদনত্ম প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে।
শেয়ারবাজার পরিস্থিতির প্রেৰাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তদনত্ম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'আইপিও ইসু্যর আগে প্রিমিয়াম, বুকবিল্ডিং, পেস্নসমেন্টের অপপ্রয়োগে যে বিশাল মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, সে চাপই সেকেন্ডারি বাজারে বা উন্মুক্ত পুঁজিবাজারে অতিমাত্রায় অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করেছিল। প্রাক-আইপিও মূল্য কেলেঙ্কারি রোধ করতে এসইসি ব্যর্থ না হলে সম্ভবত এবার বাজারে ধস হতো না।'
কারসাজির মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধিকেই পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদনত্ম কমিটি। ২০০৯ সালের নবেম্বর থেকে শেয়ারবাজারের দু'দফা উত্থান এবং ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এসে ব্যাপক মাত্রায় পতন_ এর কোনটিই স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। কিছুসংখ্যক খেলোয়াড় পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বুদ্বুদ তৈরি ও পরবর্তীতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। শীর্ষ খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ততা ছাড়া বুদ্বুদ তৈরি বা বিস্ফোরণ সম্ভব নয় বলে তদনত্ম কমিটি মনে করে।
পুঁজিবাজারের উত্থান ও পতনের কারণ মূল্যায়ন করতে গিয়ে তদনত্ম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'অতি উত্থান হলে পতন অনিবার্য। শেয়ারবাজার পতনের মূল কারণ হলো দুই পর্বের উলস্নম্ফন। প্রাক-আইপিও কারসাজি (ম্যানিপুলেশন) এবং ফলশ্রম্নতিতে আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি না ঘটানো হলে এবারের পুঁজিবাজারে ধস ঘটত না। এৰেত্রে আলোচিত ব্যক্তি বা সংস্থার সম্ভাব্য ভূমিকার তুলনায় প্রাক-আইপিও সিন্ডিকেটের ভূমিকা পর্বতপ্রমাণ। প্রাক-আইপিও পর্যায়ে অনৈতিক এবং বেআইনী প্রক্রিয়ায় একটি অস্বচ্ছ কার্ব মার্কেটের মাধ্যমে ম্যানিপুলেশন সংঘটিত হয়।'
তদনত্ম প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারের উত্থানকে দু'টি পর্বে বিভক্ত করেছে_ ২০০৯ সালের অক্টোবর-নবেম্বর এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রম্নয়ারি। তদনত্ম প্রতিবেদনে ওই দুই সময়কালের লেনদেনের তথ্য তুলে ধরে বাজারের অস্বাভাবিক উত্থানের জন্য বেশকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসী কর্মকা-কে দায়ী করে বলা হয়েছে, তাদের আনত্মঃসংযোগ নির্ণয় করা না গেলে আইনভঙ্গকারী বলা সঙ্গত হবে না। তবে বাজার অতিরিক্ত তেজীকরণে তাদের অবদান রয়েছে।
বাজারের উত্থানপর্ব ও বিপর্যয়পর্বের লেনদেনের পরিসংখ্যান উপস্থাপন ও বিশেস্নষণ করে তদনত্ম কমিটি দেখিয়েছে, কিছুসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কারসাজির কারণে পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক উত্থান ও বিপর্যয় ঘটেছে। পুঁজিবাজার উত্থানের দু'টি পর্বে যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি শেয়ার কেনার দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে ছিলেন, তাদের অধিকাংশই নবেম্বর-ডিসেম্বরের পতনপর্বে শীর্ষ বিক্রেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বাজার উত্থানের সময় শেয়ার ক্রয়ের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে ছিল সরকারী প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) নয়টি অমনিবাস হিসাব। ২০০৯ সালের নবেম্বর থেকে ২০১০ সালের ফেব্রম্নয়ারিতে পুঁজিবাজারের উত্থানপর্বে এসব অমনিবাস হিসাব থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনা হয়। আর ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বাজারে বিপর্যয় শুরম্নর ঠিক আগে অমনিবাস হিসাবগুলো থেকে দুই মাসে ২ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে নবেম্বরে বাজার সবচেয়ে আকাশচুম্বী অবস্থানে থাকার সময় ১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বরে ৯টি অমনিবাস এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৯৭৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়। বাজারের উলস্নম্ফন ও ধস_ উভয় সময়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা আইসিবির অমনিবাস এ্যাকাউন্টের আড়ালে খেলা করেছিল এটি প্রায় নিশ্চিত বলে তদনত্ম প্রতিবেদনে মনত্মব্য করা হয়েছে।
তদনত্ম কমিটির মতে, আইসিবির অমনিবাস এ্যাকাউন্টের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে পরিচয় গোপনকারী খেলোয়াড়রা। ফলে আইসিবি তার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না। বাজার উত্থানের সময় শীর্ষ ক্রেতা এবং পতনের ঠিক আগে শীর্ষ বিক্রেতার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে তদনত্ম প্রতিবেদনে আবু সাদাত মোঃ সায়েম ইয়াকুব আলী খোন্দকার, গোলাম মোসত্মফা, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মোঃ খলিলুজ্জামান, মোঃ শহীদুলস্নাহ, আমজাদ হোসেন ফকির, আরিফুর রহমানের নাম উলেস্নখ করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরা ফাইন্যান্স, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক উত্থান ও পতন_ উভয়পর্বে শীর্ষ পর্যায়ে অবস্থান নিয়েছিল। অন্যদিকে এবি ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড এবং শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক বুদ্বুদ সৃজনকারী ক্রয়ে অংশগ্রহণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে।
কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দর বাড়ানোর জন্য সংঘবদ্ধ চক্রগুলো নিজেদের মধ্যে লেনদেন পরিচালনা করেছে। এ প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার দায়ে তদনত্ম প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারে 'জুয়াড়ি' হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েক বিনিয়োগকারীর নাম এসেছে। প্রতিবেদনে এ ধরনের লেনদেনের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে।
তদনত্ম প্রতিবেদনে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের শেয়ারের সংঘবদ্ধ লেনদেনের (সিরিয়াল ট্রেডিং) বিসত্মারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর সময়কালে দুই বিনিয়োগকারী 'সিরিয়াল ট্রেডিং'য়ের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের (ইএইচএল) শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে মুনাফা করেছে_ যা ১৯৬৯ সালের অর্ডিন্যান্সের ধারা ১৭ (বি) (২) এবং (৫)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই বছরের ২৭ জুলাই থেকে ১৯ আগস্ট পর্যনত্ম আবু সাদাত মোঃ সায়েম এবং তাঁর ভাই আবদুল মোবিন মোলস্নাহর নিজ নিজ এবং যুগ্ম বিও এ্যাকাউন্টে লেনদেনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ সময়ে ৮টি ভিন্ন বিও এ্যাকাউন্টে প্রতিদিন একাধিক ট্রেডের মাধ্যমে বাজারে এ শেয়ারে সম্পন্ন লেনদেনের প্রায় ২৫ শতাংশ এরাই সম্পন্ন করে শেয়ারে উলেস্নখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। এ সময়কালে ইএইচএলের শেয়ারমূল্য গড়ে ৭৫০ টাকা থেকে প্রায় ১৩৪১-১৩৪৫ টাকায় উন্নীত হয়। এ এ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে গড় মূল্যের মোট ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯২০টি শেয়ার ৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকায় ক্রয় করা হয় এবং ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৪০টি শেয়ার ২৫ কোটি ৮১ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে ১৬ দিনের সময়কালে প্রায় ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা মুনাফা হয়।
প্রতিবেদনে বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দরে শেয়ারের ক্রয়াদেশ দিয়ে কারসাজির সুস্পষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেনে এ ধরনের চিত্র তুলে ধরে দেখানো হয়েছে। পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে 'জুয়াড়ি' হিসেবে পরিচিত গোলাম মোসত্মফা নামে এক বিনিয়োগকারী ২০০৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর অলিম্পিকের শেয়ার কেনার মোট ১৩টি ক্রয়াদেশ দেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে প্রতিটি আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এ ধরনের ক্রয়াদেশ বাজারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে অলিম্পিকের দরবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অলিম্পিকের মূল্য ২৭ ডিসেম্বর ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০ টাকায় উন্নীত হয়।
২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি গোলাম মোসত্মফা পিএফআই সিকিউরিটিজের মাধ্যমে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ৭ লাখ ৫২ হাজার শেয়ার ক্রয় করেন। একইদিন তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের নামে ওয়াইফেং সিকিউরিটিজের মাধ্যমে ওই কোম্পানির ৮ হাজার শেয়ার ক্রয় করা হয়। কিন্তু একই সময়ে গোলাম মোসত্মফা ওই দু'টি ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে তার অন্য একটি এ্যাকাউন্টে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ৬ লাখ ১৮ হাজার ৫০০টি শেয়ার বিক্রি করেন। একই দিনে গোলাম মোসত্মফা ওয়াফেং সিকিউরিটিজের মাধ্যমে নাভানা সিএনজির ৩ লাখ ২ হাজার ৭০০টি শেয়ার ক্রয় করেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ এ্যাকাউন্টের নামে পিএফআই সিকিউরিটিজের মাধ্যমে নাভানা সিএনজির ৪ লাখ ২ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন।
গোলাম মোসত্মফা কোন কোন সময় বাজারের সবচেয়ে পছন্দনীয় দরে (মোস্ট ফেবারেবল প্রাইস) ক্রয় বা বিক্রয়াদেশ না দিয়ে মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়ক দরে আদেশ দিয়েছেন। তদনত্ম প্রতিবেদনে এর উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৭ নবেম্বর প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ২ হাজার ৫০০টি শেয়ার কেনার জন্য তিনি ৫২৫ টাকায় ক্রয়াদেশ দিয়েছেন। অথচ ওইদিন এ কোম্পানির শেয়ার সর্বনিম্ন ৫২০ টাকায় বিক্রয়াদেশ ছিল।
প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, সাধারণত বুদ্বুদ তৈরি ও বিস্ফোরণ প্রক্রিয়ায় কিছুসংখ্যক খেলোয়াড়ের পারস্পরিক সমঝোতা থাকে। এ ধরনের সমঝোতা প্রমাণ করা প্রায় অসাধ্য হলেও অনুমান করা সম্ভব। তবে সেকেন্ডারি বাজারে অধিক মাত্রায় শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে কোন আইনগত বাধা নেই।
তদনত্ম প্রতিবেদনে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, চিটাগাং ভেজিটেবল (জেড ক্যাটাগরি) ২০০৯ সালে ২৫১ শতাংশ দরবৃদ্ধি এবং ২০১০ সালের ৪১৪৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি বিসত্মারিত পরীক্ষার দাবি রাখে। একইভাবে বিচ হ্যাচারি, আফতাব অটোমোবাইল, সাফকো স্পিনিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, পদ্মা সিমেন্ট, বেঙ্টেঙ্, সিএমসি কামাল, বিডিওয়েল্ডিং, সিঙ্গার বিডিসহ 'জেড' ক্যাটাগরি, উৎপাদনবিহীন এবং অবিশ্বাস্য হিসাবায়নকৃত কোম্পানির জন্য এসইসির নিবিড় পরীক্ষা ও স্ক্রুটিনি প্রয়োজন।
Quote   
04/11/2011 11:35 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
শেয়ারবাজারে বড় দরপতন
২৯৩ পয়েন্ট কমেছে ডিএসই সাধারণ সূচক


The Daily Janakantha
মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০১১, ২৯ চৈত্র ১৪১৭

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। সোমবার দুই এক্সচেঞ্জেই প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় উলেস্নখযোগ্য হারে কমেছে সব সূচক। এরমধ্যে ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক কমেছে ২৯৩ পয়েন্ট। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে ৬০০ পয়েন্টের বেশি।
সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তদনত্ম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ে কি না_ সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এ কারণে অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। আবার অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারীর নাম তদনত্ম প্রতিবেদনে থাকায় তাঁরা বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন না। সব মিলিয়ে বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে কেউ কেউ মনে করেন, তদনত্ম প্রতিবেদন নিয়ে গুজব ছড়িয়ে কোন কোন মহল বাজার থেকে নতুন করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে। আবার সরকারকে চাপে রাখতে কারসাজির সঙ্গে জড়িতরাও শেয়ারের দর কমানোর ৰেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন বলে অনেকের ধারণা।
সোমবার ডিএসইতে নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরম্ন হয়। তবে প্রথম আধ ঘণ্টার লেনদেন শেষে বাজারে অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়ে যায়। এ সময় ডিএসই সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭ পয়েন্ট উপরে অবস্থান করছিল। কিন্তু এর পর থেকেই সূচক দ্রম্নত কমতে থাকে। পতনের এই ধারা দিনভর অব্যাহত ছিল। সারা দিনে লেনদেন হওয়া ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারের দর বেড়েছে মাত্র ২৭টির। এর বিপরীতে কমেছে ২৩০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের। এর ফলে ডিএসই সাধারণ মূল্যসূচক ২৯৩.৮২ পয়েন্ট কমে ৬২৬২.৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
তবে শেয়ারের দর কমলেও সামগ্রিক লেনদেনের চাঙ্গাভাব অব্যাহত রয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫ কার্যদিবস পর ১০ কোটি অতিক্রম করেছে। সারা দিনে মোট ১০ কোটি ৭৬ লাখ ২০ হাজার ২৩১টি শেয়ার, মিউচু্যয়াল ফান্ড ইউনিট ও কর্পোরেট বন্ড লেনদেন হয়েছে। রবিবার লেনদেন হয়েছিল ৮ কোটি ১৬ লাখ ৪৭৭টি শেয়ার, মিউচু্যয়াল ফান্ড ইউনিট ও কর্পোরেট বন্ড। অবশ্য হাতবদল হওয়া শেয়ার সংখ্যা বাড়লেও আগের দিনের চেয়ে কম দরে লেনদেন হওয়ায় আর্থিক হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে। এদিন ডিএসইতে সর্বমোট ১ হাজার ২২৪ কোটি ১৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে_ যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা কম।
ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে_ বেঙ্মিকো, তিতাস গ্যাস, আফতাব অটো, বেঙ্টেঙ্, বিএসআরএম স্টিল, ডেসকো, স্কয়ার ফার্মা, বে লিজিং, অলিম্পিক ও ফু ওয়াং সিরামিকস।
অন্যদিকে সিএসইতে সূচক ৬৫৩.৬৪ পয়েন্ট কমে ১৭৫৭২.০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ২০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ১৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের। মোট লেনদেন হয়েছে ১২৩ কোটি টাকার।
পুঁজিবাজারে দরপতনের এই ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন বাজার বিশেস্নষকরা। তাঁদের মতে, ওঠানামা শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক নিয়ম। আগের চার কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র একদিন বাজার সূচক ১ পয়েন্ট কমেছিল। এর বিপরীতে ওই সময়ে তিন দিনে সূচক বেড়েছে ১০০ পয়েন্টের বেশি। ফলে সোমবার বাজারে কিছুটা সংশোধন অনাকাঙ্ৰিত ছিল না। কিন্তু দিন শেষে দর পতনের মাত্রাটা বেশি হয়েছে। মূলত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সঙ্গে বাজারের লেনদেনকে সংশিস্নষ্ট করে নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর ফলেই স্বাভাবিক সংশোধনের প্রবণতা বড় দরপতনে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে এসইসি, ডিএসই-সিএসই এবং আইসিবিকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাসত্মি দিলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
Quote   
04/11/2011 11:36 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
শাহজালাল ব্যাংক ও বিডি ল্যাম্পের লভ্যাংশ ঘোষণা

The Daily Janakantha
মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০১১, ২৯ চৈত্র ১৪১৭

অর্থনৈতিক রিপোর্টার॥ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০১০ সালের লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ল্যাম্পস (বিডি ল্যাম্পস)। এরমধ্যে শাহজালাল ব্যাংক ৩০ শতাংশ হারে বোনাস এবং বিডি ল্যাম্পস ৩৫ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধানত্ম নিয়েছে।
শাহজালাল ব্যাংক : শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ৯ মে সকাল ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএম সামনে রেখে ২১ এপ্রিল রেকর্ডের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১০ সালে শাহজালাল ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৬ টাকা ৫ পয়সা। গত ডিসেম্বর পর্যনত্ম ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ১৯ টাকা ৭০ পয়সা।
বিডি ল্যাম্পস : কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩৫ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির বার্ষিক সাধরণ সভা (এজিএম) আগামী ১১ মে সকাল ১১টায় গুলশানের ইম্যানুয়েল বেঙ্কিউট হলে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএম সামনে রেখে ২৪ এপ্রিল রেকর্ডের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১০ সালে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৮৫ টাকা ৬৭ পয়সা। গত ডিসেম্বর পর্যনত্ম কোম্পানির সর্বমোট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ১১২ কোটি ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা
Quote   
04/11/2011 11:37 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
আরও দু'সপ্তাহ সময় বৃদ্ধির আবেদন মবিল যমুনার
সময় বাড়ানো হলে কোম্পানির পৰে তালিকাভুক্তি জটিলতা নিরসনে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের হওয়ার আশাবাদ


The Daily Janakantha
মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০১১, ২৯ চৈত্র ১৪১৭

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বোনাস শেয়ার প্রদানের শর্তে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জে তালিকাভুক্তির প্রসত্মাব নাকচ হওয়ার পর আরেক দফা সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে মবিল যমুনা লুব্রিকেন্ট (এমজেএল)। সোমবার কোম্পানির পৰ থেকে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) এ আবেদন জানানো হয়েছে। লিখিত আবেদনে দ্বিতীয় দফা সময় বাড়ানো হলে কোম্পানির পৰে তালিকাভুক্তি সংক্রানত্ম জটিলতা নিরসনে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইপিওর মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা জমা নেয়ার শেষ সময়ের হিসাবে গত ৩১ মার্চ মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির শেষ দিন। তবে ওই সময়ের মধ্যে জটিলতা না কাটায় কোম্পানির আবেদনের প্রেৰিতে তালিকাভুক্তির সময়সীমা দু'সপ্তাহ বৃদ্ধি করে এসইসি। আগামী ১৪ এপ্রিল ওই সময়সীমা শেষ হবে। তবে এই সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় আরও দু'সপ্তাহ সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে কোম্পানিটি।
সর্বশেষ মবিল যমুনা লুব্রিকেন্ট (এমজেএল) প্রাথমিক গণ-প্রসত্মাবে (আইপিও) শেয়ার বরাদ্দপ্রাপ্তদের ৩০ শতাংশ হারে বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রসত্মাব করা হয়। এ বিষয়ে বিসত্মারিত জানতে রবিবার ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের সভায় এমজেএলের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে শেষ পর্যনত্ম কোম্পানির এই প্রসত্মাব নাকচ করে দিয়েছে ডিএসই। কোম্পানির লিখিত প্রসত্মাব এবং চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ভিত্তিতে ডিএসইর মতামতসহ সামগ্রিক বিষয়টি এসইসিতে পাঠানোর সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে।
উলেস্নখ্য, মবিল যমুনা লুব্রিকেন্ট লিমিটেড (এমজেএল) পুঁজিবাজারে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি শেয়ার ছেড়েছে। এজন্য শেয়ারপ্রতি ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা প্রিমিয়ামসহ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৬০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টের সর্বশেষ বার্ষিক হিসাবে ইপিএস ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে মবিল যমুনার পিই দাঁড়ায় ৬২।
পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে গত গত ২২ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ডাকা বৈঠকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপব্যবহার করে পুঁজিবাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়ার প্রবণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বৈঠকে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের নির্ধারিত মূল্যকে কোম্পানির মৌলভিত্তির তুলনায় অস্বাভাবিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বৈঠকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংক্রানত্ম বিধি সংশোধন করে স্থায়ীভাবে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় এ দু'টি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতার শেয়ারহোল্ডারদের ৰতিপূরণ প্রদানের শর্ত আরোপের সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন তদনত্মে কমিটি গঠন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদনত্ম কমিটি গঠন করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল সোমবার গঠিত তদনত্ম কমিটির সদস্যরা হলেন_ এসইসির সহকারী পরিচালক মোঃ অহিদুল ইসলাম এবং রকিবুর রহমান। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে তদনত্ম প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে ইনসাইডার ট্রেডিং (কোম্পানির সঙ্গে সংশিস্নষ্টদের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়) হয়েছে_ একজন বিনিয়োগকারীর পক্ষ থেকে এসইসিতে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ তদনত্ম কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার সংশিস্নষ্ট আইন অনুযায়ী, ইনসাইডার ট্রেডিং একটি শাসত্মিযোগ্য অপরাধ। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি সিকিউরিটি লেনদেনের জন্য সনদপ্রাপ্ত কোন ব্রোকার স্টক ডিলার বা অনুমোদিত প্রতিনিধি হলে তার সনদ বাতিল হবে।
Quote   
04/11/2011 11:42 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
দুর্বল কোম্পানির শেয়ারেই কারসাজি হয়েছে বেশি

সমকাল
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

জাকির হোসেন
দুর্বল বা 'জেড' ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার নিয়েই গত দু'বছরে বেশি কারসাজি হয়েছে। শেয়ারবাজার নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি কারসাজির যেসব নিদর্শন বা প্রমাণ পেয়েছে তার বেশিরভাগই 'জেড' ক্যাটাগরির কিংবা নিকট মেয়াদে 'জেড' ক্যাটাগরিতে ছিল। তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোনো কোনো কোম্পানি ক্রমাগত বড় অঙ্কের লোকসান দিয়ে এমনকি কোনো ব্যবসা পরিচালনা না করেই হঠাৎ করে অস্বাভাবিক মুনাফার তথ্য প্রকাশ করে শেয়ারের দর বাড়িয়েছে। আবার কোনো কোনো কোম্পানির পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা (ইনসাইডার ট্রেডিং) করে বাজারে দাম বাড়িয়ে এক পর্যায়ে বড় অঙ্কের মুনাফা নিয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে এসেছেন, যা এসব শেয়ারের দ্রুত দরপতন ঘটায়। কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি হারিয়েছেন।
তদন্ত কমিটি মনে করে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির নজরদারির অভাবে দুর্বল অনেক কোম্পানি বাজারে তাদের শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়াতে পেরেছে। তাদের রিপোর্টে এ ধরনের কয়েকটি কেস স্টাডি উপস্থাপন করা হয়েছে। এরকম একটি কোম্পানি চিটাগাং ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এবং ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, একটানা তিন বছর এটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের এ কোম্পানি
২০০৯ সালে লোকসান দেয় ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ওই বছর কোম্পানির কোনো বিক্রি ছিল না। অথচ পরের বছর ২০১০ সালে এসে কোম্পানি মুনাফা দেখিয়েছে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ওই বছরের জন্য তারা বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ হিসেবে ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয় এবং চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি কোম্পানিটি 'এ' ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়। এসব কারণে এর শেয়ারের দর অস্বাভাবিক বাড়তে থাকে। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর যেদিন পুঁজিবাজারে সাধারণ ধস নামে, সেদিনও চিটাগাং ভেজিটেবলের শেয়ারের দর বৃদ্ধি পায়। তদন্ত কমিটি মনে করে, ২০১০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে শেয়ার ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ার মূল্যে কারসাজি হয়েছে। এছাড়া এসইসির নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টে আসা এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে চিটাগাং ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচএম হাবিবুল্লাহ সমকালকে বলেন, তাদের ফ্যাক্টরি প্রায় ১০ বছর বন্ধ ছিল। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় বড় আকারের লোকসান এড়াতে তারা রিফাইনারি বন্ধ রাখেন। বন্ধ থাকার কারণে তাদের লোকসান গুনতে হয়। হঠাৎ ২০১০ সালে এমন কী ব্যবসা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেল রিফাইনারির ব্যবসা বাদ দিয়ে কোম্পানিকে পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারিতে রূপান্তরিত করায় তাদের মুনাফা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে চিটাগাং পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি করা হয়েছে। শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, কোম্পানির নতুন লাভজনক ব্যবসার খবরে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়েছে।
খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের আরেক কোম্পানি বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের কারসাজির তথ্য দিয়েছে তদন্ত কমিটি। ২০০৭ সালে এ কোম্পানি মুনাফা দেখায় মাত্র ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরবর্তী বছরে মুনাফা দেখায় ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০০৯ সালে মুনাফা হয়েছে ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের মাথায় কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ১শ' গুণ। কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি অ্যাকাউন্টিং অস্বচ্ছতা এবং ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য কারসাজির অভিযোগ এনেছে। ২০১০ সালের শুরুতে এ কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে ছিল। বছর শেষে এর দাম ১২০ টাকায় পেঁৗছে। বাজারে ধস নামলে এর দাম ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ৫০ টাকায় নেমে আসে।
বস্ত্র খাতের কোম্পানি সিএমসি কামাল টেক্সটাইল মিলসের শেয়ার নিয়েও মূল্য কারসাজির অভিযোগ এনেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০০৯ সালের প্রথম কোয়ার্টারে সিএমসি কামাল টেক্সটাইল ৪০ লাখ টাকার বেশি লোকসান দেয়। একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ৬১ পয়সা। ওই বছর তারা লভ্যাংশ হিসেবে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে এবং 'জেড' থেকে 'এ' ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়। ২০১০ সালের অক্টোবরে এসে এর শেয়ারের দাম হয় প্রায় ১৬০০ টাকা, যা অভিহিত মূল্যের (১০০ টাকা) ১৬ গুণ। কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকা রূপান্তরের ঘোষণা, রাইট শেয়ারের ঘোষণা, অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর প্রস্তাব, জমি ও ফ্যাক্টারি ভবন পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত ইত্যাদি কারণে শেয়ারের দাম অত্যধিক বেড়ে যায়। কোম্পানির পরিচালকরা তখন প্রচুর শেয়ার বিক্রি করে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জন করেন।
সিএমসি কামাল টেক্সটাইল মিলসের চেয়ারম্যান ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল গতকাল বিডিনিউজকে বলেন, তদন্ত কমিটি তাকে মোটেও অভিযুক্ত করেনি। তার টেক্সটাইল মিলের সম্পত্তি পুনর্মূল্যায়ন ঠিকই আছে। এছাড়া তারা শুধু প্রাপ্ত বোনাস শেয়ারই বিক্রি করেছেন। তিনি, তার পরিবার ও বন্ধুদের কাছে এখনও ৭ লাখ প্রাথমিক শেয়ার রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে অবৈধ বা অনৈতিক কোনো কাজের অভিযোগ করেনি।
Quote   
04/11/2011 11:46 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
বিশেষজ্ঞদের ধারণা
তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে অস্পষ্টতায় আবারও বড় দরপতন


সমকাল
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

দেশের উভয় শেয়ারবাজারে গতকাল সোমবার আবার বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ডিএসই সাধারণ সূচক কমেছে ২৯৩ পয়েন্ট এবং সিএসই নির্বাচিত খাত সূচক কমেছে প্রায় ৪৩২ পয়েন্ট। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি দরপতনের মুহূর্তে শেয়ার কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সরকার এ বিষয়ে নিজের
অবস্থান পরিষ্কার না করায় বিনিয়োগকারীরা আস্থার সংকটে পড়ছেন। যার প্রভাব ছিল সোমবারের শেয়ারবাজারে। এছাড়া বড় কয়েক জুয়াড়ির নাম তদন্ত প্রতিবেদনে আসায় নিজেদের বাঁচাতে তারা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারেন বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক পতনের হার রোববারের তুলনায় যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি ছিল, যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ডিএসইতে ১৩ মার্চ ৪৫৯ পয়েন্ট বা প্রায় ৭ শতাংশ সূচক কমেছিল। তবে সূচক কমলেও গতকালের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় স্বাভাবিক। ডিএসইতে এদিন মোট ১ হাজার ২২৪ কোটি টাকার শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়। সিএসইতে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১২৪ কোটি টাকা। বড় ধরনের দরপতন হলেও লেনদেনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার কিনতে ক্রেতা যথেষ্ট ছিলেন। ক্রেতাশূন্য অবস্থা দেখা গেছে ৩০টি কোম্পানির ক্ষেত্রে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দিনের লেনদেনের শেষ অংশে সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন সীমায় কেনাবেচা হয়।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটি দু'বছরে শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক দরপতনের নেপথ্যের সম্ভাব্য ব্যক্তিদের তথ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে প্রতিবেদন পেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, প্রতিবেদনে কারও বিরুদ্ধে কারসাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হলে তারা নিজেদের বাঁচাতে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারেন। এছাড়া কারসাজি ও বাজারের কৃত্রিম অস্থিরতার নেপথ্য সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আস্থা হারাতে পারেন। তবে সরকার যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিলে তা এড়ানো সম্ভব বলেও তিনি গত শনিবার মত প্রকাশ করেছিলেন। শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু আহমেদ মনে করেন, বড় বিনিয়োগকারীরা একেবারে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন, ফলে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সংবাদমাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থার সংকট হতে পারে। বাজারে কিছুদিন কী ধরনের অবস্থা থাকবে_ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বাজারে স্বতঃস্ফূর্ত মূল্য সংশোধনের ঘটনা ঘটতে পারে অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট বাড়লে দরপতন দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলামও মনে করেন, তদন্ত প্রতিবেদন বাজারে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে হলে সরকারকে অবশ্যই তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে তার অবস্থান সুস্পষ্ট করতে হবে। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সে বিষয়ে সরকার কখন কতটুকু ব্যবস্থা নেবে, তার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। এছাড়া আরও তদন্ত বা বিচারিক বিষয়ে যেসব সুপারিশ রয়েছে সে বিষয়ে সরকারকে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট প্রকট হতে পারে, যা বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সরকার অবস্থান পরিষ্কার করলে পরিস্থিতি দু'একদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করেন মির্জ্জা আজিজুল। তিনি আরও বলেন, বাজারসূচক বর্তমানে ৬২৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারের বর্তমান অবস্থায় এটা খুব খারাপ নয়। বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া উচিত নয় বলেও মত দেন তিনি।
দরপতন : জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে বৃহস্পতিবার বিনিয়োগকারীরা কোনো ধারণা পাননি। পরদিন শুক্রবার সমকাল তদন্ত প্রতিবেদন থেকে অংশবিশেষ প্রকাশ করলে পাঠকরা প্রথম ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। প্রতিবেদনে শেয়ারবাজারের অনেক বড় ব্যবসায়ী এবং বাজারে জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েক ব্যক্তির নাম আসায় বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরাসহ বিনিয়োগকারীরা এর প্রভাব নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন।
সোমবার সকালে বাজারে লেনদেনে আগের কয়েক দিনের ধারাবাহিকতাই লক্ষ্য করা যায়। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে দুপুর ১২টায় শেয়ারবাজারে মিশ্র অবস্থা বিরাজ করছিল। এ সময় দর বাড়া কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১১৮টি এবং দর কমেছিল ১১৭টির। তবে ডিএসই সাধারণ সূচক হারিয়েছিল ৩০ পয়েন্ট। এর পরের ১৫ মিনিট বাজারের অবস্থা অনেকটা স্থির থাকলেও পরক্ষণেই অনেক বিনিয়োগকারী তাদের ক্রয়াদেশ প্রত্যাহার করতে শুরু করে। এ সময়ই বাজারে দরপতন শুরু হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১২০ পয়েন্ট সূচক হারালে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (আইসিবি) ও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শেয়ার কিনে দরপতন ঠেকানোর চেষ্টা করে; কিন্তু অবস্থা সামাল দেওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২৯৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট কমে ডিএসই সাধারণ সূচক ক্লোজ হয় ৬২৬২ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে। দিনের শেষে দেখা যায়, লেনদেন হওয়া ২৬১টি কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজের মধ্যে দর কমেছে ২৩০টির, বেড়েছে মাত্র ২৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪টির দর। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৩৩টির মধ্যে ১৬টিরই দর বাড়ে এবং অপরিবর্তিত থাকে ৪টির।
বিনিয়োগকারীদের অভিমত : সোমবার ঢাকার শেয়ারবাজারের বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউস ঘুরে দেখা গেছে, গত কিছুদিনের তুলনায় বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা জানান, বাজার পরিস্থিতি আগামী দিনে কেমন হবে তা নিয়ে তারা বেশ খানিকটা শঙ্কিত। বিনিয়োগকারী মনজুর আহমেদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরও সরকারের কোনো ব্যবস্থা নেই। দুর্নীতিবাজ এসইসি কর্মকর্তাদের অপসারণ করা হয়নি। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট দেখা দিচ্ছে।
Quote   
04/12/2011 12:02 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি : বাংলাদেশ ব্যাংককে ছাড় দিয়েছে তদন্ত কমিটি : অন্যথায় গভর্নরকে সরাও বলে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে যেত : ইব্রাহিম খালেদ

আমার দেশ
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

জাহেদ চৌধুরী
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির তদন্ত রিপোর্টে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেশকিছু বেসরকারি ব্যাংক জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংককে পুরোপুরি ছাড় দিয়েছে তদন্ত কমিটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আইনবহির্ভূত তত্পরতা ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক ব্যাংকের ব্যর্থতা শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক উত্থান-পতন এবং ধস ত্বরান্বিত করেছে। এ অভিযোগ শুরু থেকে থাকলেও তদন্ত প্রতিবেদনে এটা বেমালুম চেপে যাওয়া হয়েছে।
ব্যাংক আইনে বেঁধে দেয়া আমানতের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সীমা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক শেয়ারবাজারে দ্বিগুণ তিনগুণ বিনিয়োগ করে শেয়ার অতি মূল্যায়িত করতে ভূমিকা রেখেছে। বাজার স্ফীত হওয়ার পর এসব ব্যাংক মুনাফার বিপুল টাকা নিয়ে শেয়ার মার্কেট থেকে সরে পড়েছে। কেলেঙ্কারিতে জড়িত বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে রেপোর মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই টাকা ঢুকেছে শেয়ারবাজারে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো স্থায়ী ও মেয়াদি আমানতের ওপর সুদের হার কমিয়ে গ্রাহকদেরও প্রলুব্ধ করেছে বেশি লাভের আশায় শেয়ারবাজারে ঢুকতে। ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব বিও অ্যাকাউন্ট ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে নিজেরাই বড় অংকের পুঁজি খাটিয়ে লাভ তুলে নিয়েছে। পাশাপাশি বাজারকে অতিমূল্যায়িত করতে বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ দেয়। শধু তাই নয়, নামে-বেনামে এসএমই ঋণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ঋণ বরাদ্দ করে শেয়ার মার্কেটে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢোকার সুযোগ করে দেয় ব্যাংকগুলো। এর ফলে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর সময়ে ব্যাংকের বিনিয়োগ অনেক বেড়ে যায়। আর এসবই ঘটে বাংলাদেশ ব্যাংকের নাকের ডগায়। অন্যদিকে ডিসেম্বরের শুরু থেকে শেয়ারবাজারের জুয়াড়ি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মুনাফা উঠিয়ে নিতে শুরু করে। তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু নির্বিকার থেকেই ক্ষান্ত হয়নি। জুয়াড়ি ব্যাংকগুলোকে সুবিধা দিতে উত্থান-পতনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তও আসতে থাকে।
সুদের হার পরিবর্তন, এসএলআর, সিআরআর সীমা রদবদল কিংবা রেপোর টাকা ছাড়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। শেয়ারবাজার পতনের পেছনে একটি অন্যতম কারণ হিসেবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সিআরআর ও এসএলআর জমার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত তখনই সমালোচিত হয়। শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর সীমাতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করার জন্যও ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। এ বিষয়টিও বাজার থেকে ব্যাংকগুলোর টাকা তুলে নেয়া এবং বাজারে তারল্য সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। প্রায় একই সময়ে এসএইসির মাধ্যমে মার্জিন ঋণ এক অনুপাত দুই থেকে দফায় দফায় কমিয়ে এক অনুপাত পয়েন্ট ছয় শূন্যতে নিয়ে আসে। এসব পদক্ষেপই বাজার পতনকে ত্বরান্বিত করে ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করে দিতে ভূমিকা রাখে।
শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান ও পতনে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করায় বিভিন্ন সময় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। গভর্নরের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিয়েছে। তার পদত্যাগ দাবি করেছে। তদন্ত কমিটিও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বেআইনি বিনিয়োগ, সীমাবহির্ভূত বিনিয়োগ, বাজারে উত্থান-পতনে জড়িত বড় প্লেয়ারদের নামের তালিকায় বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতার কিছু নমুনা তুলে ধরলেও রহস্যজনকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ব্যাপারে ছাড় দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও কৃষি ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান আমার দেশকে দেয়া টেলিফোন সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশ ব্যাংককে ছাড় দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, তিনি সচেতনভাবেই এটা করেছেন। শেয়ারবাজারের এসব অনিয়ম ঠেকানোর মূল দায়িত্ব সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (্এসইসি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়-দায়িত্বের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এলে এসইসির’র ব্যর্থতার বিষয়টি চাপা পড়ে যেত। গর্ভনরকে সরাও বলে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারতো। এতে করে আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতো। তিনি বলেন, আমি এক সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে ছিলাম বলে শেয়ারবাজার নিয়ে তাদের ভূমিকার বিষয়টি এড়িয়ে গেছি বলে অভিযোগ করা হলেও আসলে তা নয়। পুঁজিবাজারের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই আমি এটা করেছি। কারণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব এসইসি’র। তাই এসইসি’র ব্যর্থতার দিকে জোর দিতে গিয়েই ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি।
তবে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে তিনি তার রিপোর্টের অন্যতম বড় দুর্বলতা হিসেবে স্বীকার করেন। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়গুলোও রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে আসেনি বলে ইব্রাহিম খালেদ জানান। তিনি বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে এটা হয়েছে। রিপোর্টের ক্লু ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ব্যবস্থা নিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আমার দেশকে বলেছেন, সাধারণভাবে মানি তদারকি করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও শেয়ার মার্কেট তদারকির দায়িত্ব এসইসি’র। কিন্তু সার্বিকভাবে আর্থিক বিষয় দেখভালের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। তিনি বলেন, আমি গভর্নর থাকার সময়ে প্রতি মাসে নিয়মিত আমরা এসইসির সঙ্গে বৈঠক করতাম। এর মাধ্যমে কাজের সমন্বয় হতো। এবার এই সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। আর ব্যাংকগুলো আইন লঙ্ঘন করে কিছু করছে কিনা, সেটা দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের ছিল। শেয়ারবাজার সূচকের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের বিষয়টি মনিটর করে এর পিছনে ব্যাংকের ভূমিকা সবসময় নজরদারিতে রাখার দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। তারা ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় সেটা করেনি। শেয়ারবাজারের পতন শুরু হলে হঠাত্ করে কড়াকড়ি আরোপ করায় বরং হিতে বিপরীত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এবং এসইসির সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে পরিস্থিতি এ রকম হতো না।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান গত পরশুও (রোববার) স্বীকার করেছেন বেসরকারি ১৬টি ব্যাংক বিদ্যমান ব্যাংক আইনের ২৬(২) ধারা লঙ্ঘন করে শেয়ারবাজারে তাদের আমানতের ১০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করেছিল। তবে তিনি বলেননি যখন এটা করে মার্কেটকে অতিমূল্যায়িত করা হয়েছে, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক চুপ করে ছিল কেন? তাদের বেআইনি কাজে কেন সহযোগিতা করেছিল। শেয়ারবাজার তদন্ত প্রতিবেদনে বাজার জুয়াড়িদের সঙ্গে বেসরকারি কিছু ব্যাংককে একই পাল্লায় দেখানো হয়েছে। তবে এসব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের কেবল দুর্বল তদারকিই নয়, জুয়াড়িদের পক্ষে গেছে এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়েও কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। গত অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী বিনিয়োগের সময়কার ঘটনা এটি। গভর্নর জানিয়েছেন, এখন একটি ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগ লিমিটের মধ্যে নিয়ে এসেছে। আইন, নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী সাধারণ বেসরকারি ব্যাংক তাদের মোট আমানতের ৮১ ভাগ বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা বাড়িয়ে ৮৫ শতাংশ করেছে। ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এটা ৯০ শতাংশ। কিন্তু শেয়ারবাজার উত্থানের সময় দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক আমানতের একশ’ ভাগেরও ওপরে বিনিয়োগ করেছে। আর এটা করা সম্ভব হয়েছে মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায়। একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকের আইন ভঙ্গ করে শেয়ারবাজারে বেশি বিনিয়োগ বিষয়টি নজরদারিতে রেখে ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে তারা রেপোর মাধ্যমে স্বল্প শোধে মুদ্রা বাজার থেকে প্রতিদিন সরবরাহ করে ব্যাংককে আইন ভঙ্গে সহযোগিতা করেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এবি ব্যাংকে মাত্র সাড়ে ৫ ভাগ সুদে দিনে সর্বোচ্চ ৬০০ কোটি পর্যন্ত এবং এর কাছাকাছি পরিমাণ টাকা দিনের পর দিন রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে সরবরাহ করেছে। এভাবে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িত সাউথইস্ট ব্যাংক, ন্যাশন্যাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকেও অন্যায় কাজে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ব্যাংক শেয়ারবাজারে নির্ধারিত সীমার কয়েকগুণ বিনিয়োগ করে তারল্য সঙ্কটেও পড়েছিল। তখনও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অব্যাহতভাবে তাদের সহযোগিতা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার বাজারের পতন শুরু হলে বাংলাদেশ ব্যাংক রেপোর মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে টাকা দেয়া কমিয়ে দিলে কলমানি মার্কেটে সর্বোচ্চ ১৯০ ভাগ সুদে টাকা ধার করতে বাধ্য হয় কিছু ব্যাংক।
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অর্থায়ন সম্পর্কে তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, “প্রেক্ষাপট : ক. পুঁজিবাজার এবং অর্থবাজারকে পৃথক রাখা বিশ্বস্বীকৃত রীতি। ব্যাসেলের পরবর্তী নীতিমালার ‘অ্যাবসল্যুট সেপারেশন’-এর কথা থাকছে। কারণ হলো, পুঁজিবাজার নিজস্ব পুঁজি বিনিয়োগের জন্য। আমানতকারীর জমা অর্থ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের অধিকার গ্রাহক ব্যাংককে দেয়নি। প্রয়োজনে গ্রাহক নিজের টাকা নিজেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে। কিন্তু গ্রাহকের টাকা বিনা অনুমতিতে ব্যাংক কর্তৃক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ অনৈতিক। খ. এ কারণে ভারতীয় ব্যাংকিং আইনে এবং পাকিস্তানের ব্যাংকিং আইনে কোনো ব্যাংক কর্তৃক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ব্যাংকের ইকুইটির (অর্থাত্ মালিকের নিজস্ব পুঁজি) সঙ্গে, আমানত বা ব্যাংকের দায়ের সঙ্গে নয়। অথচ বাংলাদেশের ব্যাংক কোম্পানির আইনের ২৬(২) ধারায় ব্যাংকগুলোকে দায় অর্থাত্ মোট আমানতের ১০% পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। গ. এ কারণে ব্যাংকের বড় অংশের ঋণ পুঁজিবাজারে প্রবেশ করেছে, তারল্য বাড়িয়েছে, শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে। এমনকি অর্থবাজারেও সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। ঘ. তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণমতে এ ব্যবস্থা সংশোধন করা না হলে ভবিষ্যতে পুঁজি ও অর্থ উভয় বাজারে গুরুতর সঙ্কট সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হতে পারে। সুপারিশ : ক. ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুসরণে এবং ব্যাসল নীতিমালার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(২) ধারা অবিলম্বে সংশোধন করে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে ব্যাংকের মূলধন (টিয়ার-১)-এর অংশ হিসেবে ধার্য করা হোক। আমানতের সঙ্গে সংযোগ রহিত করা হোক। খ. যেসব ব্যাংক ২০০৯ ও ২০১০ সালে আইন ভেঙে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে এবং উল্লম্ফনে সাহায্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। গ. পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অবৈধ (কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত) পদচারণা বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকিতে থাকা উচিত এবং নিবৃত্ত করা উচিত।”
তদন্ত রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে শীর্ষ প্লেয়ারদের সন্দেহজনক শীর্ষ লেনদেনকারী সংস্থার মধ্যে ছিল আইসিবি, ফ্রন্টিয়ার ফান্ড (বারমুড়া), ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এবি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রভৃতি।
এছাড়াও তদন্ত রিপোর্টে উত্থান-পতনে সক্রিয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা, বিশেষ মুহূর্তে ক্রয়-বিক্রয়, সর্বোচ্চ ক্রেতা-বিক্রেতা বিভিন্ন পর্যায়ে শাহজালাল ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, এক্সিম ব্যংক, পূবালী ব্যাংক ও সরকারি অগ্রণী ব্যাংকের নাম এলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়-দায়িত্বকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে তদন্ত রিপোর্টে।
গত পরশু অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ-এর (এবিবি) সভা শেষে ব্রিফিংকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, পুঁজিবাজার কারসাজিতে কোন কোন ব্যাংক জড়িত, সে সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন আমাদের হাতে এখনও পৌঁছেনি। পৌঁছালে আমরা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৩২টি ব্যাংকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে। গত জুন পর্যন্ত এদের বিনিয়োগ ছিল ২০ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে এটা প্রায় দ্বিগুণ দাঁড়ায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ১০ শতাংশ সীমা না মানা ১৬ ব্যাংকের মধ্যে ৭টিকে বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ার কেলেঙ্কারি ঘটনার অনেক পর নামমাত্র নোটিশ দিয়েছিল। এর মধ্যে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক তাদের মোট দায়ের ৩৫ শতাংশ, ন্যাশন্যাল ব্যাংক ২৪ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক ২৩ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ২২ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২২ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক ২১ শতাংশ এবং আইএফআইসি ব্যাংক মোট দায়ের সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে গত মধ্য জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান লংঘন করে গত বছর ঋণ আমানত অনুপাত ৯০-এর ওপরে নিয়ে গিয়েছিল এমন ব্যাংকের মধ্যে ছিল এবি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, আল আরাফাহ ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যাডার্ড ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, শাহজালাল ও ব্র্যাক ব্যাংক। আর ৮২ শতাংশের বেশি ও ৯০ শতাংশের কম ঋণ আমানত অনুপাত ছিল এমন ব্যাংকগুলো হচ্ছে ন্যাশনাল, ইউসিবিএল, এনসিসি, প্রাইম, সাউথইস্ট, ডাচ-বাংলা, মার্কেন্টাইল, ওয়ান, প্রিমিয়ার ও যমুনা ব্যাংক।
Quote   
04/12/2011 12:03 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

আমার দেশ
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
বড় ধরনের দরপতন দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেন। গতকাল একদিনেই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচকের পতন হয়েছে ২৯৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্টের। লেনদেনে অংশ নেয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। তবে সূচকের বড় ধরনের দরপতন হলেও আর্থিক লেনদেন ছিল স্বাভাবিক। আগের দিনের তুলনায় ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কমলেও লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শেয়ারবজারসংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের কারণে বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাঘব বোয়ালদের নাম বেরিয়ে এসেছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাজারে সূচকের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। কিন্তু তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও গত দুই কার্যদিবসে সূচকের পতন ঘটেনি। এ বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বেরিয়ে এলেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। বরং কারসাজির সঙ্গে জড়িত হিসাবে যাদের নাম বেরিয়ে এসেছে, তাদের বাঁচানোর জন্য সরকারের মধ্যে একধরনের প্রবণতা রয়েছে। এমনকি অভিযুক্তদের নাম মুছে দিয়ে সরকার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে গত দুদিনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। ইক্যুয়িটি হচ্ছে ব্যাংকের মোটি পরিশোধিত মূলধন এবং তার রিজার্ভের পরিমাণ। ধরা যাক, কোনো ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ যদি ২ হাজার কোটি টাকা হয় তাহলে ব্যাংক বর্তমানে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা (ব্যাসেল-২ হিসেবে এটিই ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন) এবং রিজার্ভের পরিমাণ আরও ৪০০ কোটি টাকা হলে ব্যাংক সে ক্ষেত্রে ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে। ফলে ব্যাংকের নতুন বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে না, বরং আগের বিনিয়োগ থেকে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করতে হবে। এটি যদিও সময়সাপেক্ষ বিষয়, কিন্তু তদন্ত কমিটির এ ধরনের সুপারিশ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের সবক’টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। এছাড়া বীমা, প্রকৌশল, ওষধ খাতের দু-একটি কোম্পানি ছাড়া সব কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। অন্যান্য খাতেরও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে মিশ্রভাব দেখা গেছে। এ খাতের ৩২টি ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ১২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪টির দাম। গতকাল সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দিয়েই শুরু হয় দিনের লেনদেন। লেনদেন সময় বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সূচকের দরপতন অব্যাহত থাকে। বেলা ২টার দিকে সূচকের পতন ঘটে প্রায় ৩৪৭ পয়েন্ট। পরবর্তী এক ঘণ্টার লেনদেনে বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়ায় শেষ পর্যন্ত দিনশেষে ডিএসই সূচকের ২৯৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্টের পতন ঘটে। এ পতনের ফলে ডিএসই সূচক ৬ হাজার ২৬২ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়ায়।
Quote   
04/12/2011 12:08 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
শর্ত মেনেও তালিকাভুক্তির অনুমোদন মিলছে না মবিল যমুনার

আমার দেশ
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

কাওসার আলম
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবং স্টক এক্সচেঞ্জের একের পর এক শর্ত মেনে নিয়েও তালিকাভুক্তির অনুমোদন পায়নি মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস (এমজেএল)। সর্বশেষ ৩০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির আবেদন জানালেও এটি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত না হওয়ায় গত রোববার ডিএসইর পরিচালনা পরিষদের সভায় কোম্পানির তালিকাভুক্তির আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়। ফলে কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে আইপিওর মাধ্যমে প্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে। অথচ দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে বোনাস শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব দেয়া হলে এমজেএলের তালিকাভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে। তবে এ ব্যাপারে ডিএসই প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী এবং সিএসই প্রেসিডেন্ট ফখর উদ্দিন আলী আহমদের মতামত জানতে চাইলে কয়েক দফা ফোন করেও তাদের মতামত জানা যায়নি। এমজেএল কোম্পানির তালিকাভুক্তির অনুমোদন না পাওয়ায় এআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির বিষয়টিও একই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এদিকে অনুমোদন না পাওয়ায় গতকাল এসইসিতে তালিকাভুক্তির জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে এমজেএল। এ সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্তির বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো যাবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
গত রোববার এমজেএলের তালিকাভুক্তির আবেদন নাকচ করার বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক আবদুর রশীদ লালী বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে তিন দফায় তিনটি শর্ত দেয়া হয়েছে। কিন্তু সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ১৯৬৯, ডিএসই লিস্টিং আইন এবং কোম্পানি আইন অনুযায়ী এ তিনটি শর্তের কোনোটিই আইনসম্মত বলে বিবেচিত না হওয়ায় এগুলো ‘রিজেক্ট’ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো কোম্পানির লিস্টিং-এর ক্ষেত্রে পণোদনা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে তিনি বলেন, এসইসি যদি তালিকাভুক্তির জন্য কোনো ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে তা মেনে নেয়া হবে। কিন্তু কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দমূল্য তার মৌলভিত্তির তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় এবং এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ২৩ জানুয়ারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এসইসি স্থগিত করে। একই সঙ্গে এমআই সিমেন্টের (ক্রাউন সিমেন্ট) তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়। কিন্তু এ স্থগিতাদেশের আগেই কোম্পানি দুটি আইপিওর মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় শর্তসাপেক্ষে কোম্পানি দুটিকে আইপিও লটারির মাধ্যমে শেয়ারবরাদ্দের অনুমতি দেয়া হয়। শর্তটি হচ্ছে—সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ারের দর কমে গেলে বাইব্যাক পদ্ধতিতে কোম্পানি শেয়ার কিনে নেবে। লেনদেন শুরুর এক মাসের মধ্যে শেয়ার বাইব্যাক করার শর্ত দেয়া হয়। এসইসির এ শর্ত মেনে নেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, কোম্পানিকে ৬ মাস পর্যন্ত শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে। এমজেএল এবং এমআই সিমেন্ট এ প্রস্তাব মেনে নিলেও আদতে কোম্পানি আইন অনুযায়ী শেয়ার ‘বাইব্যাকে’র কোনো সুযোগ নেই। ফলে বাইব্যাকের আবেদনের প্রেক্ষিতে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পায়নি এমজেএল। পরবর্তীতে প্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দপ্রাপ্তদের শেয়ারের মূল্য বরাদ্দ মূল্যের চেয়ে নিচে নেমে এলে কোম্পানির প্রিমিয়াম একাউন্ট থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয় এসইসিতে। এ প্রস্তাবের বিষয়ে এসইসির পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা হয় এবং কোম্পানি আইন অনুযায়ী তা বিধিসম্মত বিবেচনা করে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং কমিটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চিঠি ইস্যু করা হয়। কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি কোম্পানি আইন বহির্ভূত এবং পরবর্তীতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বিধায় আপত্তি তোলা হয়। পরবর্তীতে স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পরিষদের বৈঠকেও এজেএলের তালিকাভুক্তির আবেদনটি অনুমোদিত হয়নি। আইপিওর মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করার ৭৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় এসইসি কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সময় আরো দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক সময় অনুযায়ী গত ৩১ মার্চ এমজেএলের তালিকাভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে দুটি শর্ত দিয়েও কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির অনুমোদন পায়নি। অবশেষে সর্বশেষ ৩০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব দিয়েও তালিকাভুক্তি হতে পারলো না কোম্পানিটি। কিন্তু এর জন্য এসইসি সবচেয়ে বেশি দায়ী বলে মনে করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা জানান, কোম্পানির অতিমূল্যায়নের বিষয়টি আগে থেকেই এসইসির বিবেচনা করা উচিত ছিল। আর যদি কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য বেশিই হয়ে থাকে তাহলে আগে কেন সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হলো না।
Quote   
04/12/2011 12:09 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অস্বাভাবিক লেনদেন : তদন্ত কমিটি গঠন

আমার দেশ
তারিখ: ১২-০৪-২০১১

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। দুজন সহকারী পরিচালককে তদন্ত কাজ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এরা হলেন—মো. অহিদুল ইসলাম এবং রকিবুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে—একজন বিনিয়োগকারীর পক্ষ থেকে এসইসিতে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, ইনসাইডার ট্রেডিং একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি সিকিউরিটি লেনদেনের জন্য সনদপ্রাপ্ত কোনো ব্রোকার স্টক ডিলার বা অনুমোদিত প্রতিনিধি হলে তার সনদ বাতিল হবে। এছাড়া সুবিধাভোগী ব্যবসার (ইনসাইডার ট্রেডিং) মাধ্যমে অর্জিত শেয়ার বা স্টকের কর্তৃত্ব নির্ধারিত সময়ের জন্য হস্তান্তর না করার জন্য তাকে নির্দেশ দিতে পারবে এবং এ রূপ হস্তান্তর কার্যকর না করা বা হস্তান্তর অনুসারে অনুবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে নির্দেশ দিতে পারবে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ দিবে কমিশন।
Quote   
Page 1 / 2 1 - 2 Next »
Login with Facebook to post
Preview