 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/09/2011 Topics: 31 Posts: 155
 OFFLINE | ৩০ জন সবচেয়ে বেশি প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছেন
প্রথম আলো
সোমবার, ১১ এপ্রিল ২০১১, ২৮ চৈত্র ১৪১৭, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩২
ব্যক্তি পর্যায়ে যে ৩০ জন সবচেয়ে বেশি প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছেন, তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে পুঁজিবাজারের কারসাজি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে। এসব ব্যক্তি পৃথকভাবে মোট ১২৬ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার নিয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার নিয়েছেন ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর আলী। তিনি নিজ নামে মোট সাড়ে ১৬ কোটি টাকার শেয়ার নিয়েছেন। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড ডি রোজারিও। তাঁর নামে ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এবি ব্যাংকের হিসাবধারী কো ইউ চুয়ান, এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর ওয়াই সমসের ও ইস্টার্ন ব্যাংকের পরিচালক শওকত আলী চৌধুরীর স্ত্রী তাসমিয়া আমবেরিন ১০ কোটি টাকার বেশি প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছেন। আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান বাদলের স্ত্রী সোমা আলম রহমান নিয়েছেন দুই কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার। অন্যরা সর্বনিম্ন এক কোটি ২২ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ তিন কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার বরাদ্দ পাওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের লোক যেমন আছেন, তেমনি আছেন স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ও পরিচালক, মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, আইসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজন ও ব্যাংক পরিচালকদের স্ত্রীরা।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ ও ২০১০ সালে মোট ৩৪টি কোম্পানি (২৬টি তালিকাভুক্ত ও আটটি তালিকাবহির্ভূত) প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ করে। এ সময় কোম্পানিগুলো পৃথকভাবে মোট তিন হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা বাজার থেকে উত্তোলন করেছে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো কোম্পানি তাদের পরিশোধিত মূলধনের সিংহভাগ (৯০ শতাংশ) বা বিরাট অংশ (৫০ থেকে ৬০ শতাংশ) প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিতরণ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে অত্যধিক পর্যায়ে পরিশোধিত মূলধন উত্তোলিত হলে এমনিতেই লেনদেনযোগ্য (ফ্রি ফ্লোটিং) শেয়ারের পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে অন্য কোনো কারসাজির আশ্রয় না নিয়েও চাহিদা-জোগানের পার্থক্যের কারণে শেয়ারের মূল্যে ঊর্ধ্বগতি হওয়াটা স্বাভাবিক।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বড় ধরনের প্লেসমেন্ট বিক্রি করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেড, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, ওরিয়ন ফার্মা, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, জিএমজি এয়ারলাইন্স, এসটিএস হোল্ডিংস (অ্যাপোলো হাসপাতাল), মালেক স্পিনিং মিলস, ব্র্যাক ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানগুলো ১০০ কোটি টাকার ওপরে প্লেসমেন্ট বিক্রি করেছে। এসব প্লেসমেন্টের সুবিধা ভোগকারী অল্প কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। উদাহরণস্বরূপ গ্রামীণফোনের ৪৮৬ কোটি টাকার প্রায় ১২ শতাংশ (৫৮ কোটি টাকা) সুবিধা একাই পেয়েছে এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানি। মোহাম্মদ নূর আলী, কো ইউ চুয়ান ও আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নিউ ইংল্যান্ড ইকুইটি লিমিটেড জিএমজি এয়ারলাইন্সের ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার প্লেসমেন্ট-সুবিধা পেয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ইতিমধ্যে আটটি কোম্পানি প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রচুর টাকা (এক হাজার ৩৬৭ কোটি) পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করেছে, কিন্তু তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে অনেক ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর টাকা আটকে যাওয়ায় পুঁজিবাজারের বিদ্যমান তারল্যসংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লেসমেন্টের কারণেই পুঁজিবাজারের বাইরে শেয়ার লেনদেনের নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ সুযোগে বেশ কিছু দুর্বল কোম্পানি সাজানো আর্থিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অপরিপক্ব বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তুলে নিয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে যে এসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্টক এক্সচেঞ্জের অনেক সদস্য ও পরিচালক তালিকাভুক্তি দেওয়ার শর্তে অনেক প্লেসমেন্ট আদায় করেছেন। প্লেসমেন্ট বিষয়টি অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বাজারে শেয়ারের দাম নির্বিঘ্নে বাড়ানোর জন্য ইস্যু ব্যবস্থাপক বা ইস্যুয়ার কোম্পানি বা তাদের প্রতিনিধিরা অনেক ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাকেও প্লেসমেন্ট প্রদান করেছে। সে জন্য এদের ব্যাপারে পুর্ণাঙ্গ পুলিশি/গোয়েন্দা তদন্ত করা সম্ভব হলে, অনেক অজানা কাহিনি জানা যাবে, আড়ালে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারের এ ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), রাইট শেয়ার ছেড়ে বা প্রাইভেট প্লেসমেন্টে শেয়ার ইস্যু করার মাধ্যমে বাজার থেকে কোম্পানির মূলধন উত্তোলন করতে পারে। কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসার আগে ইস্যু ব্যবস্থাপক বা পরিচালকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে পছন্দসই লোকদের কাছে কিছু শেয়ার বিক্রি করে থাকে—এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রাইভেট প্লেসমেন্ট বা প্রি-আইপিও প্লেসমেন্ট। আইপিওতে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মূলধন উত্তোলন পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই এক বছরের বেশি সময় প্রয়োজন। ইতিমধ্যে কোম্পানি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে তহবিল জোগাড় করে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। কিন্তু প্রাইভেট প্লেসমেন্টে কোম্পানির হিসাব প্রকাশ করা হয় না বলে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট-পদ্ধতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই উন্নত বিশ্বে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট সাধারণত মার্চেন্ট ব্যাংক বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজারে কীভাবে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করা হবে, কত মূল্যে বিক্রি হবে, কার কাছে বিক্রি হবে, কত শেয়ার বিক্রি হবে—এসবের জন্য এসইসির কোনো নীতিমালা নেই। ফলে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়াটির যথোপযুক্ত ব্যবহার না হয়ে কিছুসংখ্যক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরণ করার মাধ্যমে শেয়ারমূল্য উল্লম্ফনের একটি অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে। |