| 04/08/2011 3:42 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | Somokal
শীর্ষ শেয়ার ব্যবসায়ীরা জড়িত
এসইসি চেয়ারম্যানকে অপসারণের সুপারিশ
অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ইব্রাহিম খালেদ সমকাল
জাকির হোসেন/ আনোয়ার ইব্রাহীম
শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক দরপতন ও অস্থিতিশীলতার পেছনে ব্যাপক কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। সরকারের উদ্যোগে গঠিত কমিটি ওই কারসাজির সঙ্গে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, সদস্য মনসুর আলম, নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও এটিএম তারিকুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। তদন্ত কমিটি এ জন্য তাদেরকে এসইসি থেকে অপসারণ করার সুপারিশ করেছে। কমিটি বলেছে, শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসইসি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ব্যাপক কারসাজির সঙ্গে শীর্ষ শেয়ার ব্যবসায়ীরা জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে কয়েকজন শীর্ষ শেয়ার ব্যবসায়ীর নাম এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন_ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদল, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এইচবিএম ইকবাল, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু, বড় বিনিয়োগকারী ইয়াকুব আলী খন্দকার প্রমুখ। প্রতিবেদনে ব্যক্তির পাশাপাশি কারসাজিতে জড়িত হিসেবে অনেক প্রতিষ্ঠানের নামও এসেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের রাজধানীর হেয়ার রোডের বাসায় তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করে। পরে তদন্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহিম খালেদ সাংবাদিকদের বলেন, ডিএসই, সিএসই, সরকার ও বিরোধী দলের যারা শেয়ার ব্যবসায় জড়িত তাদের মাধ্যমে কারসাজির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, বিএনপি দাবি করেছে, শেয়ারবাজার থেকে ৮৪ হাজার কোটি টাকা পাচার
হয়েছে। এ কথা সঠিক নয়। ধারণা করছি, চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ কারসাজির পেছনে রাজনৈতিক কোনো ভূমিকা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, শেয়ারবাজারে কারসাজির ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের দলের কেউ দোষী হলেও রেহাই পাবেন না। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তদন্ত প্রতিবেদন এবং জড়িতদের নাম প্রকাশ করা হবে না। তবে অর্থনীতিবিদ ও শীর্ষ ব্যবসায়ীরা মনে করেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শেয়ার ইস্যুতে সরাসরি তালিকাভুক্তি, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপপ্রয়োগ, শেয়ারের উচ্চমূল্য নির্ধারণ, অভিহিত মূল্যে বিশেষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্লেসমেন্ট প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক কারসাজি হয়েছে। সেকেন্ডারি বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেন ও ব্লক ট্রেডিংসহ নানা অনিয়ম হয়েছে। প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি কারসাজিতে বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্টক ব্রোকার, ডিলার, ইস্যু ম্যানেজার, অডিটরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এসব অনৈতিকতাকে বৈধতা দান ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য এসইসিকে দোষারোপ করেছে কমিটি। তদন্ত কমিটি মনে করে, এসইসি সঠিক দায়িত্ব পালন করলে শেয়ারবাজারে এমন ধস নামত না।
প্রতিবেদনে একটি অনিয়মের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, দু'জন বিনিয়োগকারী অনেক হিসাব খুলে নিজেদের মোট লেনদেনের ২৫ শতাংশ নিজেদের মধ্যে করে শেয়ারদর বাড়িয়েছেন। মাত্র ৬ দিনের মাথায় তাদের শেয়ারের দর দ্বিগুণ হয়েছে।
তদন্ত কমিটি এসইসির অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ করে এসইসি পুনর্গঠন করার সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ডিমিউচুয়ালাইজেশন, সরকারি কর্মকর্তাদের শেয়ারবাজারে ব্যবসা ও অমনিবাস হিসাব প্রথা বন্ধ এবং বিও হিসাব খোলার সময় টিআইএন নম্বর প্রদানের বিধান করাসহ ২৫টি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সব শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা করারও সুপারিশ করা হয়েছে। গত দু'বছর আইন লঙ্ঘন করে যেসব ব্যাংক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে, তদন্ত কমিটি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের নীতি-পরিকল্পনাকে ব্যবহার করে বাজারের স্বার্থান্বেষী মহল অনেক কারসাজি করেছে। বাজার খেলোয়াড়রা এসইসির ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হলে এসইসি অকার্যকর হয়ে থাকবে এবং শেয়ারবাজারে আবার বিপর্যয় ঘটবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শেয়ারবাজারের অস্বাভাবাবিক দরপতনের ঘটনা তদন্তে গত ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন_ ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল বারী এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। পরে কমিটির প্রধানের অনুরোধে ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে কমিটির সদস্য করা হয়। কমিটি গত ৩০ জানুয়ারি তদন্ত শুরু করে।
স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন : স্টক এক্সচেঞ্জের নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাঠামো তৈরির সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে কমিটি বলেছে, যদিও ডিএসই পরিচালনা পর্ষদে বহিরাগত ১২ জন পরিচালক রয়েছেন, তবে স্বার্থের প্রশ্নে ব্রোকারদের থেকে মনোনীত ১২ জনের ইচ্ছা-অনিচ্ছাই স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনায় রীতি দেখা গেছে। কমিটি প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেছে, শিগগিরই দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে প্রশাসনিক বিভাগ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ পৃথক করার সুপারিশ করেছে। এক্ষেত্রে ডিএসই ডিমিউচুয়ালাইজেশন কমিটির সুপারিশ মোতাবেক কাজ না করলে সরকারকেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এ কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
প্রাইভেট প্লেসমেন্ট :তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'প্লেসমেন্ট এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে।' প্রভাবশালীদের আইপিও মূল্যের তুলনায় কম মূল্যে প্লেসমেন্ট বরাদ্দ দিয়ে অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ড করার ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে এসইসির প্রাইভেট প্লেসমেন্ট সম্পর্কে কোনো বিধিমালা না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেন : কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, 'সরকারি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অফিসের কাজকর্মে ক্ষতি হচ্ছে। কর্মকর্তারা অনেক সময় ঘুষ হিসেবে প্লেসমেন্ট শেয়ার দাবি করার ঘটনা দেশের ঘুষ প্রদানের নতুন সংস্করণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা নিজ নামে না নিয়ে বেনামেও শেয়ার কেনাবেচা ও প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছেন। এ বিষয়ে কমিটি সুপারিশে বলেছে, এসইসি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ার লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
কর্মকর্তাদের দুর্নীতি : তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়ার দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে। এতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার স্ত্রী রোকসানা আখতারের নামে চারটি বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের (প্রাথমিক ধারণা মতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা) লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আইসিবির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে হাউস বিল্ডিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক) কফিল উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা আকতার এবং শ্যালক মনসুর বিল্লাহর নামে শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্ট শেয়ার গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। লেনদেনের ক্ষেত্রে এবি ব্যাংকের মালিকানাধীন এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর ওয়াই শমসের নিজ নামে প্রায় ১২ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনেছেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি প্রথম দু'জনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় মামলা করা ছাড়া দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য বিভাগীয় মামলা গঠনে দুর্নীতি দমন বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করে। এছাড়া শমসেরকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা উচিত বলে মনে করে কমিটি।
সন্দেহজনক লেনদেন : ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটি শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক সম্ভাব্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেসব ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে, প্রতিবেদনের পঞ্চম অধ্যায়ে সে সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। এক্ষেত্রে যাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে তারা হলেন_ গোলাম মোস্তফা, আবু সাদাত মোঃ সায়েম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা, মোঃ খলিলুজ্জামান, মোঃ শহিদুল্লাহ, আরিফুর রহমান, সোমা আলম রহমান প্রমুখ। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল_ আইসিবি, ফ্রন্টিয়ার ফান্ড (বারমুডা), ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এবি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রভৃতি।
অমনিবাস অ্যাকাউন্ট : তদন্ত কমিটি বলেছে, সময়ের স্বল্পতার জন্য কমিটি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অমনিবাস অ্যাকাউন্টের কয়েক লাখ হিসাব পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে এসব অ্যাকাউন্টের আড়ালেই শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বেশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মোসাদ্দেক আলী ফালু, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ডা. এইচবিএম ইকবাল, মুনিরুদ্দিন আহমদ, রোকসানা আমজাদ, গোলাম মোস্তফা, আহসান ইমাম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, নিউ ইংল্যান্ড ইকুয়িটি, মোঃ লুৎফর রহমান (বাদল), সোমা আলম রহমান প্রমুখ নিজেরা অনেক লেনদেন করেছেন, যা স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে হয়নি। এক্ষেত্রে এসব অ্যাকাউন্ট বিষয়ে পুনরায় তদন্ত সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
সরকারকে সতর্কতা : তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের নীতি-পরিকল্পনাকে ব্যবহার করে বাজারে স্বার্থান্বেষী মহল অনেক কারসাজি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে যেকোনো নীতি-পরিকল্পনা গ্রহণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের বাজার কারসাজির ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন না করার জন্যও সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটি বলেছে, ১৯৯৬ সালের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ইমতিয়াজ হোসেন, খোরশেদ আলম, সালমান এফ রহমান, এনায়েতুর রহিম, রকিবুর রহমান, শাকিল রিজভী প্রমুখ। বর্তমান তদন্তে এদের মধ্যে সালমান এফ রহমান এবং রকিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক মতামত এসেছে এবং কিছু তথ্যও পরিবেশিত হয়েছে। এসইসিকে প্রভাবিত করতে দু'জনই সক্রিয় ছিলেন বলে অনেকের ধারণা। এসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং মেম্বার মনসুর আলমের পুনর্নিয়োগে সালমান ও রকিবের জোরালো তদবির ও সমর্থন ছিল বলে অনেকের বিশ্বাস। বিডি থাই এলুমিনিয়ামের অস্বচ্ছ কেসটির তদবিরে সালমান এফ রহমান নিজেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ধর্না দিয়েছেন। জিএমজি, ইউনিক হোটেল প্রভৃতি কেসে সালমান নিজেই সম্পৃক্ত রয়েছেন। কেসগুলো অস্বচ্ছ। এসইসি পরিচালনায় দু'জনেরই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ছিল। এ কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। |
|
|
| 04/08/2011 3:43 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | দোষী আমাদের দলের হলেও রেহাই নেই
সমকাল প্রতিবেদক
শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তার আগে এ বিষয়ে আরও তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি যে দলেরই হোন না কেন, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। আমাদের দলের কেউ হলেও রেহাই নেই। গতকাল সন্ধ্যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নামে তদন্তে অভিযোগ এসেছে। তাদের সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে নাম প্রকাশ করা যাবে না। তাদের নাম বাদ দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে সরকার। তবে এ বিষয়ে
আরও খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, যাদের নাম এসেছে তারা কি খুবই ক্ষমতাধর? নাম প্রকাশ করতে সমস্যা কোথায়? জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার কারসাজির জন্য কোনো ব্যক্তি দায়ী হলে তিনি যত ক্ষমতাধরই হোন না কেন, শাস্তি পেতেই হবে। এমনকি আমাদের দলের লোক হলেও রেহাই পাবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তাদের নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না। কারণ, যথোপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া এখন নাম প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাম প্রকাশ করা হবে কি-না প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। অর্থমন্ত্রী জানান, তদন্ত কমিটি বলেছে. সময়ের স্বল্পতার কারণে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ সম্পর্কে আরও খোঁজ-খবর নিতে হবে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
১৯৯৬ সালে সংঘটিত শেয়ার কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ওই প্রতিবেদনটি পড়েছি। যারা অভিযুক্ত হয়েছেন তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করার জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিল না। যে কারণে তাদের বিচার করা সম্ভব হয়নি। এবার তেমন হবে না। কারণ, এখন সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিডিবিএলে বিনিয়োগকারীর যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত আছে। কাজেই অভিযোগ প্রমাণ করতে কোনো সমস্যা হবে না।
তাহলে কি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর সরকারের আস্থা নেই_ এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কারও সম্পর্কে নিশ্চিত না জেনে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তাছাড়া আমি এখনও প্রতিবেদন পড়িনি। প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির নাম এসেছে, তারা সত্যিই কারসাজির জন্য দায়ী হয়ে থাকলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে কী রয়েছে_ জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এসইসির অদক্ষতার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির সংস্কারের সুপারিশ করেছে কমিটি। তবে বাজারে কারসাজির পেছনে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। সেখানে জনবলের সংকট রয়েছে। অদক্ষতাও আছে। তদন্ত কমিটি এসইসিকে আমূল সংস্কারের প্রস্তাব করেছে। এটা করতে হবে। এসইসির কর্মকর্তারা কারসাজির সঙ্গে জড়িত আছে_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মনগড়া কথা বলা ঠিক নয়। এটা সাংবাদিকদের বানানো ঘটনা। আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই।
অর্থমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি অনেক সুপারিশ করেছে। কমিটির কিছু সুপারিশ জেনেছি। প্রতিবেদন ভালো করে পড়ে প্রথম সিদ্ধান্ত হবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা। তদন্ত কমিটি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে এসইসির পুনর্গঠনে। জনবল এবং ব্যবস্থাপনা উভয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে। এসইসির চেয়ারম্যানের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি-না_ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও সময় হয়নি। তদন্ত কমিটি বলেছে, বুক বিল্ডিংয়ের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে কারসাজি হয়েছে। অনেক কোম্পানির আইপিওর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বুক বিল্ডিং নীতি অনুসরণ করা হয়নি। কোম্পানির সম্পদের মূল্যায়ন নিয়েও দুর্নীতি হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের অমনিবাস অ্যাকাউন্টে লেনদেনে কারসাজি হয়েছে। এসব বিষয়ে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তবে কোম্পানির বাই-ব্যাক বিষয়ে কোনো সুপারিশ করেনি কমিটি। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এসইসির সমন্বয়ে যৌথ সেল গঠনের কথা বলেছে তদন্ত কমিটি।
সকালে হেয়ার রোডে অর্থমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেদনটি জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনের আগে শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী। এরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক ফ্রান্স সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থসচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন। অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের কঠোর সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। |
|
|
| 04/08/2011 3:44 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | যারা অভিযুক্ত
সমকাল প্রতিবেদক
শেয়ারবাজারে কারসাজির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জড়িত হিসাবে চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে কারসাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা না হলেও পরোক্ষভাবে কারও কারও জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশমালায় বিভিন্ন অনিয়মের প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। সুপারিশমালায় এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মধ্যে অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা প্রদান, দায়িত্বে অবহেলা এবং অনৈতিক শেয়ার ব্যবসার অভিযোগ আনা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে তারা হলেন_ এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, সদস্য মনসুর আলম (বর্তমানে চাকরিতে নেই), নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া (ওএসডি), নির্বাহী পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান। আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী রোকসানা আখতারের নামে চারটি বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার শেয়ার ব্যবসা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসইসির কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ ও বাজারকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ দু'জনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত ও সরকারের উচ্চ পর্যায়কে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আইসিবির সাবেক
উপমহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক) কফিল উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্ত্রী ফারজানা আকতার ও শ্যালক মনসুর বিল্লাহর নামে শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর ওয়াই শমসেরের বিরুদ্ধে নিজ নামে প্রায় ১২ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। শেয়ারবাজারের বিশেষ সময়ে শেয়ার লেনদেন করে বাজারে মূল্য কারসাজিতে জড়িত থাকতে পারেন, এমন অভিযোগ আনা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে তারা হলেন- বিনিয়োগকারী গোলাম মোস্তফা, আবু সাদাত মোঃ সায়েম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মোঃ খলিলুজ্জামান, মোঃ শহীদুল্লাহ, রকিবুর রহমানের ভাগ্নে আরিফুর রহমান, লুৎফর রহমান বাদলের স্ত্রী সোমা আলম রহমান প্রমুখ। একই অভিযোগ আনা হয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেগুলো হলো_ ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ফ্রন্টিয়ার ফান্ড (বারমুডা), ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এবি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রভৃতি।
অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে যেসব বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান অনৈতিক শেয়ার ব্যবসায় জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে তারা হলেন_ বিএনপির সাবেক সাংসদ আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ডা. এইচবিএম ইকবাল, মুনিরুদ্দিন আহমদ, রোকসানা আমজাদ, গোলাম মোস্তফা, আহসান ইমাম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, নিউ ইংল্যান্ড ইক্যুয়িটি লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফর রহমান বাদল, সোমা আলম রহমান প্রমুখ। ব্লক প্লেসমেন্ট গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে_ আহসান ইমাম, সোমা আলম রহমান, শামিমা শরীফ, লুৎফর রহমান বাদল, মনসুর বিল্লাহ প্রমুখের বিরুদ্ধে। সরকারি বহু কর্মকর্তার নামে-বেনামে প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের নামে যেসব কোম্পানির বাজার মূল্য বাড়ানো হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে প্রধান আটটি হলো_ বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, লিবরা ইনুফিউশন, সোনালি আঁশ, রহিম টেক্সটাইল, অরিয়ন ইনফিউশন, ওশান কন্টেইনার, শাইনপুকুর সিরামিক্স, ইস্টার্ন ইন্সুরেন্স।
রাইট শেয়ার ও প্রেফারেন্স শেয়ারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম আদায়ের বিষয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে যেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে_ সেগুলো হলো_ কনফিডেন্স সিমেন্ট, বে লিজিং, ইস্টার্ন ইন্সুরেন্স, দ্য সিটি ব্যাংক, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, এশিয়া ইন্সুরেন্স। এছাড়া প্রেফারেন্স শেয়ার নিয়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, পিপলস লিজিং, সামিট পাওয়ারের মোট এক হাজার ২০০ কোটি টাকা উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত কমিটি। |
|
|
| 04/08/2011 3:45 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | সরকারি কর্মচারীদের শেয়ার ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে
সমকাল প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে কারসাজি তদন্তে গঠিত কমিটি সরকারি কর্মকর্তা বা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে শেয়ার লেনদেন বন্ধের সুপারিশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে এসব ব্যক্তির অংশগ্রহণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অফিসের কাজকর্মে ক্ষতি হচ্ছে। কর্মকর্তারা অনেক সময়ে ঘুষ হিসেবে প্লেসমেন্ট শেয়ার নিচ্ছেন। এসব ঘটনা দেশের ঘুষ প্রদানে নতুন সংস্করণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। অনেক কর্মকর্তা নিজ নামে না নিয়ে বেনামেও শেয়ার কেনাবেচা ও প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এসইসি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ার লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তবে শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করার সুযোগ রাখা যেতে পারে। নিজ নাম ছাড়া, স্ত্রী, ছেলেমেয়ে,
বাবা-মা, নিকটাত্মীয় বা বেনামে শেয়ার লেনদেন বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ব্রোকার ডিলার কোম্পানির কর্মকর্তাদেরও এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাখার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি। কেউ দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার কিনলে, কোন বিও হিসাবে কত টাকার শেয়ার কেনাবেচা করা হলো, সে বিষয়ে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে লিখিতভাবে জানানোর রীতি চালু করার পক্ষে সুপারিশ করা হয়েছে। |
|
|
| 04/08/2011 3:45 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | ৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে
ইব্রাহিম খালেদ
সমকাল প্রতিবেদক
শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) গাফিলতির কারণেই শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। আর এ অস্থিতিশীলতার সময় পুঁজিবাজার থেকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এছাড়াও এসইসির দায়িত্বহীনতার কারণে ইস্যুয়ার কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, ব্রোকার ডিলার, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও ভ্যালুয়ার কোম্পানি বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে
পড়েছে। এসইসি আরও সক্রিয় থাকলে এমনটি হতো না বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজারে কারসাজি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। গতকাল অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন। এ সময় তিনি আরও জানান, বাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সরকারি ও বিরোধী দলের যারা শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের মাধ্যমেই পুঁজিবাজারে কারসাজির ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, 'বিষয়টি অনৈতিক হলেও আইনের মধ্যেই এগুলো ঘটেছে।'
ইব্রাহিম খালেদ বলেন, কারসাজির মাধ্যমে কিছু টাকা বিদেশে পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। জেম গ্গ্নোবাল নামে একটি কোম্পানি বিডি থাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে এই টাকা বিদেশে পাঠায়। তবে টাকার অঙ্ক পাওয়া যায়নি।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতির ব্যাপারে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি খারাপ নয়। তবে বাংলাদেশে এর অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্লেসমেন্টের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা একটি ভয়াবহ ব্যাপার। এর মাধ্যমে সমাজের একটি বড় অংশকে অসৎ করে ফেলা হয়েছে। এটা একটি দুর্নীতি। এসইসি, আইসিবিসহ বিভিন্ন সরকারি মহল এর সঙ্গে জড়িত। ওপর মহলকে খুশি করার জন্য ঘুষ হিসেবে এটা দেওয়া হয়, যা বেআইনি। দুটি হিসাবে ১৯ কোটি টাকা প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, তদন্তের সময় কিছু ইনসাইডার ট্রেডিংয়েরও সন্ধান পাওয়া গেছে।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এসইসি সম্পূর্ণরূপে পুনর্গঠন করতে হবে। সেখানে লোকবল বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে যোগ্য ও নিরপেক্ষ লোক নিয়োগ দিতে হবে, যাদের সঙ্গে বাজারে প্রভাব বিস্তারকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে না। তিনি আরও বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার করতে হবে। বর্তমানে এই পদ্ধতির অপব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে ডিএসই ও সিএসইর ডিমিউচুয়ালাইজেশনেরও সুপারিশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সরকারও এটা চায়। সুতরাং ডিমিউচুয়ালাইজেশন করার এখনই উপযুক্ত সময়। এটা হলে ব্রোকার ডিলাররা ব্যবস্থাপনার কাজে অংশ নেবেন না। |
|
|
| 04/08/2011 3:46 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | সুপারিশ
সমকাল প্রতিবেদক
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষীদের শাস্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো হলো_
এসইসির প্রধান জিয়াউল হক খন্দকার, নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও এটিএম তারিকুজ্জামানকে অপসারণ করা। সাবেক সদস্য মনসুর আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান এবং সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমানের অনৈতিক কার্যকলাপ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকা। সরকারকে শেয়ারবাজার বিষয়ে নীতি পরিকল্পনা গ্রহণে অধিক সতর্ক থাকা।
সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের শেয়ার ট্রেডিং বন্ধ করা। তবে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা যাবে।
এসইসির অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অব্যাহতি দিয়ে এসইসির চেয়ারম্যানের পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি গঠন এবং তার অধীনে সংস্থার সম্পূর্ণ পুনর্গঠন।
স্টক এক্সচেঞ্জের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন করা।
স্টক এক্সচেঞ্জ ও কমিশনের কাজে সমন্বয় সাধন করা।
শেয়ারবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিনিয়োগ আমানত বা দায়ের ওপর সীমা নির্ধারণ না করে কেবল পরিশোধিত মূলধনের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করা।
সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন বিষয়ে নীতিমালা
প্রণয়ন করা।
প্রাইভেট প্লেসমেন্ট বাণিজ্য বন্ধ করা।
অমনিবাস অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থা বন্ধ করে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর জন্য পৃথক বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ারব্যবসা নিষিদ্ধ করা।
আইপিও প্রক্রিয়ায় কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ আইন সংশোধন করা।
সব কোম্পানির অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করা।
সিরিয়াল ট্রেডিং, বল্ক ট্রেড করার জন্য যাদের নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে আরও তদন্ত নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। |
|
|
| 04/08/2011 3:46 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা করার সুপারিশ
বিশেষ প্রতিনিধি
চলতি বছরের মধ্যেই পুঁজিবাজারে সব শেয়ারের ফেসভ্যালু বা অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হতে পারে। শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক দরপতন ও অনিয়ম তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটি ওই সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ টাকা ফেসভ্যালু নয় এমন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ফেসভ্যালু ২০১১ সালের মধ্যে ১০ টাকায় রূপান্তরিত করার উৎসাহমূলক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এর পক্ষে কমিটির যুক্তি হলো, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ টাকার শেয়ার ক্রয় সহজ। এছাড়া ১০০ টাকা ফেসভ্যালুর অনেক শেয়ার ইতিমধ্যে ১০ টাকায় রূপান্তরিত হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কমিটি যেসব বৈঠক করেছে তাতে সব শেয়ারের ফেসভ্যালু একই রকম করার অভিমত এসেছে। ১০ টাকা হবে নাকি ১০০ টাকা হবে তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে এটি দেশজ সমস্যা। ১০০ টাকার শেয়ার ৫০০ টাকা হলে যেমন চোখে পড়ে, ১০ টাকার শেয়ার ৫০ টাকা হলে তেমন চোখে পড়ে না। সাধারণ ক্রেতারা ৫০০ টাকার তুলনায় ৫০ টাকার শেয়ার শ্রেয় মনে করে, যাতে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। কমিটির তদন্তে দেখা গেছে, শেয়ারের ফেসভ্যালু পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজার থেকে অনেকে ফায়দা লুটেছে। ফেসভ্যালু ভাঙার ফলে বাজার বিচ্যুতি ঘটেছে ৮১ শতাংশ। |
|
|
| 04/08/2011 3:47 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | 'দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক'
সমকাল প্রতিবেদক
শেয়ারবাজার কারসাজির ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিহ্নিত হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, এসইসিতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির জন্য সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। যাতে এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না হয়।
ড. মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি হলে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের কাজ করতে সাহস পাবে না। সুনির্দিষ্টভাবে যদি কাউকে শনাক্ত করা যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।
অধ্যাপক আবু আহমেদ : অধ্যাপক আবু আহমেদ এ প্রসঙ্গে গতকাল সমকালকে বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আসলে খুব বেশি কিছু করা যাবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ তারাও মামলায় যাবে। তখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, অবশ্যই এসইসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এবং সংস্কারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ইস্যু ম্যানেজারদের কালো তালিকাভুক্ত
করা উচিত। সর্বোপরি আমরা দেখতে চাই সরকারের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং এ বিষয়ে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়_ যাতে ১৯৯৬ সালের পুনরাবৃত্তি এবারও না ঘটে।
এ. কে. আজাদ : ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, শেয়ারবাজার কারসাজির জন্য যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে আমরা ব্যবসায়ীরাও সমর্থন দেব। এতে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে যেন ঢালাওভাবে দোষারোপ করা না হয়।
মীর নাসির হোসেন : এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন সমকালের সঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, শেয়ারবাজার কারসাজির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। '৯৬ সালে তদন্ত হলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সে কারণে এসব ঘটনা আবারও ঘটল। মীর নাসির বলেন, আমাদের অর্থনীতির জন্য পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই খাত শিল্পে ইকুইটি সরবরাহ করে। লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর ভাগ্য পুঁজিবাজারের সঙ্গে জড়িত।
আবদুল আউয়াল মিন্টু : এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আইনের শাসনের স্বার্থে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি হওয়া উচিত। তবে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ না করায় এ বিষয়ে স্বচ্ছতা এবং শাস্তির বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এর আগেও '৯৬ সালে এরকম তদন্ত প্রতিবেদন আমরা দেখেছি। দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি হতে দেখিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদ খান : ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কাউকে যদি শনাক্ত করে হয়ে থাকে, তাহলে এখন উচিত হবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের আলোকে চার্জশিট দাখিল করা। এসইসিসহ রেগুলেটরি বডির মধ্যে ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তন আনা জরুরি। যেন স্টেকহোল্ডার এবং ব্রোকাররা সরাসরি বাজারে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে। |
|
|
| 04/08/2011 3:47 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | The Daily Sangbad
পুঁজিবাজার সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন
সালমান রহমান ও রকিবুর থেকে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
ষ আনোয়ারুল কবির-কফিলের নামে দুর্নীতি মামলা করুন ষ এসইসি চেয়ারম্যান, ইডি ও সদস্যদের অপসারণের সুপারিশ
রুকনুজ্জামান অঞ্জন
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা হিসেবে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও ডিএসই'র সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমানের ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকার সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। এটি না করলে পুঁজিবাজারে আবারও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে তদন্ত কমিটি। বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলো জানায়, শেয়ার বাজারে ব্যাপক কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)-র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (আইসিবি)-র সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক কফিল উদ্দিন চৌধুরীর (বর্তমানে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোশেনের মহাব্যবস্থাপক) বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি দুর্নীতির মামলা করারও সুপারিশ জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার জন্য এসইসি-কে দায়ী করে এর চেয়ারম্যান, ইডি ও সদস্যদের অপসারণ করে পুনর্গঠন এবং ডিএসই ও সিএসই'র পরিচালকদের পুঁজিবাজারে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় দুটি স্টক এক্সচেঞ্জকে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের সুপারিশ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেজভাজনদের মধ্যে পুঁজিবাজার লেনদেন ও পরিচালনায় বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং ডিএসই'র সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির মতে, পুঁজিবাজারের প্রভাব রাখতে সক্ষম এ দু'ব্যক্তি সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারলে এসইসি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এর ফলে আবারও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে শেয়ারবাজারে। জানা গেছে, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির তদন্তকালে এ দুজনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক মতামত পাওয়া গেছে। এসইসিকে প্রভাবিত করতে দুজনই সক্রিয় ছিলেন বলে অনেকের ধারণা। এসইসি'র বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং সদস্য মনসুর আলমের পুনঃনিয়োগে সালমান এফ রহমান ও রকিবুর রহমানের জোরালো তদবির ছিল। বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের অস্বচ্ছ কেসটির তদবিরে সালমান এফ রহমান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে ধরনা দিয়েছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটির মতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি পরিচালনায় এ দুজনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ছিল। এ কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদনে এসইসির চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। জানা গেছে, পুঁজিবাজার কারসাজির পেছনে মূল হোতা ছিলেন এসইসির সদস্য মনসুর আলম। এছাড়া শীর্ষ দায়ী কর্মকর্তাদের সক্রিয় সহায়তা দিয়েছে দুজন নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া ও তারিকুজ্জামান। এদের ছত্রছায়ায় এসইসি'র অনেক কর্মকর্তা নৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও বিভিন্ন অনিয়মে সহায়তা করেছে। এ কারণে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া ও তারিকুজ্জামানকে এসইসি থেকে অপসারণ এবং এদের সহ মনসুর আলমের ব্যাপারে আরও নিবিড় তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটি এসইসি'র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভঁূইয়ার স্ত্রী রোখসানা আখতারের নামে ৪টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অংকের শেয়ার লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়া আইসিবি'র তখনকার উপ-মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোশেনের মহাব্যবস্থাপক) কফিল উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা আখতার এবং শ্যালক মনসুর বিল্লাহের নামে শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্টের প্রমাণ পেয়েছে। লেনদেনের মুনাফার অর্থ আবার কফিল উদ্দিন চৌধুরীর নামে এফডিআর করা হয়েছে। আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও কফিল উদ্দিন চৌধুরী দুজনই অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বলে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া এ দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিয়ে সরকার যাতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে সে জন্য বিভাগীয় মামলার অতিরিক্ত দুর্নীতি মামলা করা উচিত বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি।
|
|
|
| 04/08/2011 3:48 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | The Daily Sangbad
নামসহ রিপোর্ট প্রকাশ করে সরকারের স্বচ্ছতা স্পষ্ট করা উচিত
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
পুঁজিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যাদের দায়ী করা হয়েছে তাদের নামসহ পুরো রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করে সরকারের স্বচ্ছতা স্পষ্ট করা উচিত বলে মনে করেন রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে যে তথ্যই উঠে আসুক না কেন সরকারের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত। এ ঘটনায় যারা দায়ী বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সরকারের স্বচ্ছতার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে তারা অভিমত দেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারের অস্থিরতার পেছনে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি। যেসব ব্যক্তির নাম এসেছে, তারা সত্যিই অস্থিরতার জন্য দায়ী হয়ে থাকলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এসব নাম এখনই প্রকাশ করা হবে না বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্য সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যই সরকার তদন্ত কমিটি করেছেন। এখন তদন্তের পর যদি দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হয় তবে তা নিয়ে আরও বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান 'সংবাদ'কে বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারি বিষয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে তাতে যাদের দায়ী করা হয়েছে তাদের নাম অবশ্যই সরকারের প্রকাশ করা উচিত। সরকার যদি এ প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত হন তবে দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আর যদি সরকার প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন তবে তাও লিখিত আকারে সরকারের বক্তব্য প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশ করা উচিত। মোট কথা সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও টিআইবির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ 'সংবাদ'কে বলেন, সরকারের উচিত অবিলম্বে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং যারা এ জন্য দায়ী তাদের নাম প্রকাশ করে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা। তিনি বলেন, আগে রাজনৈতিক দলগুলো গরিবের জন্য রাজনীতি করলেও এখন রাজনৈতিক দলগুলো উচ্চবিত্ত পয়সা ওয়ালাদের স্বার্থরক্ষা করে রাজনীতি করছে। শেয়ারবাজারের অস্থিরতা থেকে তারই প্রমাণ মিলেছে।
আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের শেয়ারবাজার কারসাজির ঘটনা সম্পর্কে বলেন, শেয়ারবাজার থেকে যারা লাখ লাখ ক্ষুদে বিনিয়োগকারীর টাকা তুলে নিয়েছে, তারা ঠা-া মাথার খুনি। এদের ক্ষমা করা যাবে না। যাদের অদক্ষতায় এটা ঘটেছে, দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তাদের সরে যেতে হবে। আর যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কারসাজির সঙ্গে জড়িত তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ অভিযোগ করে বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজির নেপথ্যে বর্তমান সরকারের লোকজন জড়িত। এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরকার সমর্থকরা জড়িত থাকায় তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সবাই জনগণকে এখন মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। তিনি অবিলম্বে দায়ীদের নামসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি খন্দকার আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এক বিবৃতিতে শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান। এটি মহাজোট সরকারের জন্য এসিড টেস্ট। তারা বলেন, কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে যারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা না নিলে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাবে। তারা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। |
|
|
| 04/08/2011 3:49 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | The Daily Sangbad
মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামীকাল
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির ব্যাপারে নেয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে আগামীকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) পৃথক বোর্ড মিটিং বসবে। বোর্ডের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই দুই স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্তির বিষয়ে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
গত বৃহস্পতিবার মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির ব্যাপারে ডিএসই লিস্টিং কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে এ কোম্পানির ৩০ শতাংশ বোনাস দেয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ব্যাপারে ডিএসই সূত্রে জানা যায়, কোম্পানির প্রস্তাব নিয়ে লিস্টিং কমিটি আলোচনা করেছে। আলোচনা অনুযায়ী আগামীকাল রোববার ডিএসই'র বোর্ড মিটিংয়ে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, মবিল যমুনা কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের অনেক টাকা আটকে আছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে খুব দ্রুত এ কোম্পানির তালিকাভুক্তির জটিলতা নিরসন করা হবে। যাতে বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দূর হয়। |
|
|
| 04/08/2011 3:51 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | The Daily Janakantha
শেয়ারবাজারে বিপর্যয়ের খলনায়করা
তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ
রাজু আহমেদ ॥ সরকারের নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং লাখ লাখ বিনিয়োগকারীকে বিভ্রানত্ম করে গত দেড় বছরে পুঁজিবাজার থেকে কয়েক দফায় অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। আইন ও বিধিবিধানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এ বাজারকে লুটপাটের অবাধ ৰেত্রে পরিণত করেন তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোক্তারা। স্টক এঙ্চেঞ্জের প্রভাবশালী সদস্য, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং নিরীৰা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে নানা কৌশলে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ হাতিয়েছেন এঁরা। আর এ লুটপাটের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যানসহ কয়েক শীর্ষ কর্মকর্তা। মুনাফালোভীদের এ অপতৎপরতাই পুঁজিবাজারকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বাধীন তদনত্ম কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
বাজারসংশিস্নষ্ট বেশকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বেআইনী কর্মকা-ের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। তবে অধিকাংশ ৰেত্রেই আইন ও বিধিবিধানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুযোগসন্ধানীরা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছে। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি থেকে শুরম্ন করে বিভিন্ন পর্যায়ে শেয়ারের দর বাড়িয়ে লাভবান হয়েছে সুযোগসন্ধানীরা। এসব তৎপরতা পুঁজিবাজারসংশিস্নষ্ট আইনের লঙ্ঘন না হলেও নৈতিকতার বিচারে অগ্রহণযোগ্য বলে তদনত্ম কমিটি অভিমত ব্যক্ত করেছে। এৰেত্রে প্রচলিত বিধিবিধানের প্রয়োগ এবং বিধি সংশোধন করে অনৈতিক কর্মকা- প্রতিরোধে কার্যকর পদৰেপ গ্রহণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শৈথিল্য অবাধ কারসাজিতে উৎসাহ যুগিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
তদনত্ম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি থেকে শুরম্ন করে প্রতিটি পর্যায়ে তথ্য কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন কোন কোন কোম্পানির পরিচালকরা। হিসেব কারসাজির মাধ্যমে প্রাথমিক গণপ্রসত্মাবে (আইপিও) শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করে নতুন কোম্পানির পরিচালকরা তুলে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। অন্যদিকে তথ্য কারসাজির মাধ্যমে দর বাড়িয়ে নিজেদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করেছে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকরা। দু'পর্যায়েই বিভ্রানত্ম হয়ে লোকসানের শিকার হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির পরিচালকরা নিজেদের শেয়ার বিক্রির জন্য মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে দর বাড়াতে তৎপর ছিলেন। এসইসি ও স্টক এঙ্চেঞ্জের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে যে কোন কোম্পানির পরিচালকের জন্য শেয়ার বিক্রির সুযোগ থাকলে তথ্য কারসাজির এ প্রবণতা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। শেয়ারের দর বাড়াতে বোনাস ঘোষণা, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, অভিহিত মূল্য পরিবর্তন, রাইট শেয়ার ইসু্যসহ নানা পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। নিয়মিত বিরতিতে একটির পর একটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ঘোষণা করে শেয়ারের দর বাড়ানো হয়েছে। এ সুযোগে দফায় দফায় বিক্রি করা হয়েছে পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ার।
সালমান এফ রহমান ও রকিবুর রহমানের বিতর্কিত ভূমিকা
তদনত্ম কমিটির প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারসংক্রানত্ম নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধানত্ম গ্রহণে প্রভাব বিসত্মারের জন্য বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিসিএল) সভাপতি ও বেঙ্মিকো গ্রম্নপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারসংক্রানত্ম নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া থেকে এ দু'জনকে দূরে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশিস্নষ্টতার পরিচয় দিয়ে তাঁরা সরকারের ভাবমূর্তি ৰুণ্ন করেছে বলেও তদনত্ম কমিটি মনে করে।
বিভিন্ন কোম্পানির পেস্নসমেন্ট, বুকবিল্ডিংয়ে অতিমূল্যায়িত শেয়ারের অনুমোদনসহ বিভিন্ন ৰেত্রে এসইসিকে প্রভাবিত করতে এ দু'জনই সক্রিয় ছিলেন বলে অনেকের ধারণা। এসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং সদস্য মনসুর আলমের পুনর্নিয়োগে সালমান এফ রহমান ও রকিবুর রহমান জোরাল তদ্বির চালিয়েছেন।
এছাড়া বিডি থাই এ্যালুমিনিয়ামের ১৫ কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট নামসর্বস্ব বিদেশী প্রতিষ্ঠান জেম গেস্নাবাল ইল্ডকে বাংলাদেশে বৈধতা দিতে সালমান রহমান চেষ্টা চালিয়েছেন। পাশাপাশি উলিস্নখিত অর্থ বিদেশে নিয়ে যেতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের কাছে তদ্বির করেছেন।
জিএমজি এয়ারলাইন্স ও ইউনিক হোটেলের পেস্নসমেন্ট এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত মূল্যে আইপিও অনুমোদনের বিষয়ে সালমান এফ রহমান সম্পৃক্ত ছিলেন। তদনত্ম প্রতিবেদনে এসব ঘটনাকে অস্বচ্ছ হিসেবে উলেস্নখ করা হয়েছে। এছাড়া রকিবুর রহমানের ভাগ্নে আরিফুর রহমান সেকেন্ডারি মার্কেটে কারসাজির সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তদনত্ম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারের নীতি-পরিকল্পনাকে ব্যবহার করে বাজারে স্বার্থান্বেষী মহল অনেক কারসাজি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে যে কোন নীতি-পরিকল্পনা গ্রহণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এসইসি চেয়ারম্যান ও দুই নির্বাহী পরিচালককে অপসারণের পরামর্শ
তদনত্মের মাধ্যমে এসইসির পদত্যাগী সদস্য মনসুর আলমের বিরম্নদ্ধে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদনত্ম কমিটির মতে, পুঁজিবাজারে অনৈতিকতাকে বৈধতা প্রদান প্রক্রিয়ায় মূল ঘটকের ভূমিকায় ছিলেন মনসুর আলম। তবে চেয়ারম্যানের আনুকূল্য ও সম্মতি ছাড়া কমিশনের অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ানত্ম হওয়া অসম্ভব। ফলে কমিশনের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার এবং সদস্য মনসুর আলম উভয়কেই দায়ী করা হয়েছে। তাঁদের সক্রিয় সহায়তা প্রদান করে অন্যায় করেছেন দু'নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারম্নল কবির ভূঁইয়া এবং এটিএম তারিকুজ্জামান। এ চার প্রধান নির্বাহীর ছত্রচ্ছায়ায় এসইসির অনেক কর্মকর্তা সুবিধা গ্রহণ ও অনৈতিক কাজে সহায়তা করেছেন বলে কমিটি মনে করে। এ কারণে তদনত্ম কমিটি এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার, নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারম্নল কবির ভূঁইয়া এবং এটিএম তারিকুজ্জামানকে অপসারণের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি পদত্যাগী সদস্য মনসুর আলমের বিষয়ে নিবিড় তদনত্ম হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে। এতে তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত বড় রাঘববোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে বলে কমিটি মনে করে।
পেস্নসমেন্টের সুবিধাভোগী ॥ শেয়ারবাজারে অবাধ লুটপাটের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে অনৈতিক পেস্নসমেন্ট বাণিজ্য। স্টক এঙ্চেঞ্জের নীতিনির্ধারক থেকে শুরম্ন করে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পেস্নসমেন্টের শেয়ার 'উপঢৌকন' দিয়ে যথেচ্ছ লুটপাটের ৰেত্র তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানি ও মিউচু্যয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তির ৰেত্রে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য পেস্নসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ রাখা পুঁজিবাজারের অলিখিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। বাজারে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে ওই গোষ্ঠীটি সরকার ও সরকারের বাইরের গুরম্নত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও এ শেয়ার উপহার হিসেবে দিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এ তালিকা থেকে বাদ যাননি। পুঁজিবাজারসংশিস্নষ্ট এবং এর বাইরে সরকারের বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ সংস্থার উর্ধতন কর্মকর্তারা অনৈতিকভাবে পেস্নসমেন্ট শেয়ার নিয়েছে বলে তদনত্মে বেরিয়ে এসেছে। এমনকি প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত একজনের পেস্নসমেন্ট নেয়ার সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। প্রতিবেদনে পেস্নসমেন্টের সুবিধাভোগী প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তুলে ধরা হয়েছে।
শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ॥ সরকারী কর্মকর্তাসহ পুঁজিবাজারসংশিস্নষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবৈধ বাণিজ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তদনত্ম প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজনের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারম্নল কবির ভূঁইয়ার স্ত্রী রোকসানা আখতারের নামে চারটি পৃথক হিসেবে প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী প্রায় ১০০ কোটি টাকা লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আইসিবির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে হাউস বিল্ডিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক) কফিল উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা আকতার এবং শ্যালক মনসুর বিলস্নাহর নামে শেয়ার লেনদেন ও পেস্নসমেন্ট বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। এখান থেকে ৩ কোটি টাকা সরিয়ে কফিলউদ্দীনের নামে এফডিআর খোলারও প্রমাণ পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। এবি ব্যাংকের মালিকানাধীন এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরওয়াই শমসেরের নিজ নামে প্রায় ১২ কোটি টাকার পেস্নসমেন্ট শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রাইম ব্যাংকের মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি শেখ মোর্তজা আহমেদের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম কাজে বাধা ও অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্টক এঙ্চেঞ্জের গুরম্নত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে ডিএসইর পরিচালক শরীফ আতাউর রহমানের স্ত্রী শামীমা শরীফের নামে বিপুল পরিমাণ পেস্নসমেন্ট শেয়ার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে তদনত্ম কমিটি।
সংঘবদ্ধ ও সন্দেহজনক লেনদেন ॥ পুঁজিবাজারে প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার ৰেত্রে নানা কারসাজির আশ্রয় নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাটের পাশাপাশি সেকেন্ডারি মার্কেটেও নানাভাবে শেয়ারের দর বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে সবেচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার ছিল সংঘবদ্ধ লেনদেন (সাকর্ুলার ট্রেডিং)। কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দর বাড়ানোর জন্য সংঘবদ্ধ চক্রগুলো নিজেদের মধ্যে লেনদেন পরিচালনা করেছে। এৰেত্রে পুঁজিবাজারে 'গেম্বলার' হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েক বিনিয়োগকারীর নাম এসেছে। এৰেত্রে সংশিস্নষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রত্যৰ সহযোগিতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদনত্ম প্রতিবেদনে এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনে জড়িত বেশ কয়েক জনের নাম এসেছে। প্রতিবেদনে এ ধরনের লেনদেনের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। দু'বিনিয়োগকারী বিভিন্ন ব্র্রোকারেজ হাউসে অনেক বিও হিসেব খুলে মোট লেনদেনের ২৫ শতাংশ নিজেদের মধ্যেই করেছে। এতে একটি কোম্পানির শেয়ারের দর মাত্র ৬ দিনের মাথায় দ্বিগুণ হয়েছে।
তদনত্ম প্রতিবেদনে সেকেন্ডারি মার্কেটে সংঘবদ্ধ ও সন্দেহজনক লেনদেনকারী হিসেবে ইয়াকুব আলী খন্দকার, গোলাম মোসত্মফা, আবু সাদাত মোঃ সায়েম, সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা, আনোয়ার হোসেন খান, আব্দুল মবিন মোলস্না, মোঃ খলিলুজ্জামান, মোঃ শহিদুলস্নাহ, আরিফুর রহমান, সোমা আলম রহমানের নাম এসেছে। এছাড়া লেনদেনে অনিয়মকারী হিসেবে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে।
অমনিবাসে অনিয়ম
তদনত্ম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চেন্ট ব্যাংকার নিজেরা অমনিবাস হিসেব (ইনভেস্টর এ্যাকাউন্ট) খুলছে এবং প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার হিসেবের জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকারের নিজস্ব নামে একটি বিও হিসেব রাখছে। ফলে বিনিয়োগকারী থাকছে বিও হিসেবের অনত্মরালে, লোকচৰুর আড়ালে। দুর্নীতি, অনিয়মের আখড়া হয়ে উঠেছে মার্চেন্ট ব্যাংকের অমনিবাস হিসেবগুলো। তবে সময়স্বল্পতার কারণে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অমনিবাস হিসেবের লাখ লাখ হিসেব পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে তদনত্ম কমিটি জানিয়েছে।
তা সত্ত্বেও অমনিবাস হিসেবের আড়ালে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অস্বচ্ছ লেনদেনের তথ্য পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। এর মধ্যে তদনত্ম প্রতিবেদনে বিএনপির সাবেক সাংসদ ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব মোসাদ্দেক আলী ফালু, ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্ট, মনিরউদ্দিন আহমদ, রোকসানা আমজাদ, গোলাম মোসত্মফা, আহসান ইমাম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, মোসাদ্দেক আলী ফালুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত লুৎফর রহমান বাদল, তার স্ত্রী সোমা আলম রহমান, বাদলের মালিকানাধীন নিউ ইংল্যান্ড ইকু্যয়িটির নাম উলেস্নখ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসেবগুলো সম্পর্কে অধিকতর তদনত্মের সুপারিশ করেছে তদনত্ম কমিটি।
কেস স্টাডি ॥ তদন্ত প্রতিবেদনে পেস্নসমেন্ট, সরাসরি তালিকাভুক্তি, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি, রাইট শেয়ার ইসু্য, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, অভিহিত মূল্য পরিবর্তন, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন ইত্যাদি ৰেত্রের কারসাজির প্রমাণ হিসেবে মোট ১৭টি কেস স্টাডি সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারম্নক খানের ভাই মোঃ আজিজ খানের সামিট গ্রম্নপের ওশন কন্টেনার ও খুলনা পাওয়ার (কেপিসিএল), সালমান এফ রহমানের জিএমজি এয়ারলাইন্স, অর্থ মন্ত্রণালয়সংক্রানত্ম সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আহম মোসত্মফা কামালের (লোটাস কামাল) সিএমসি কামাল টেঙ্টাইল মিলস। |
|
|
| 04/08/2011 3:52 pm |
 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | The Daily Janakantha
মুহিতের সঙ্গে একমত নন খালেদ, নাম প্রকাশ দাবি বিশেষজ্ঞদের
শেয়ারবাজার বিপর্যয়ের তদন্ত প্রতিবেদন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অভিযুক্তদের নাম গোপন করে পুঁজিবাজারে কারসাজির বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ঘোষণার সঙ্গে একমত নন তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। পাশাপাশি পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও বিশেস্নষকরাও নাম প্রকাশ করে দোষীদের দ্রম্নত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রতিবেদনে যেমন হোক না কেন_ সেটা প্রকাশ না করা হলে সরকারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি দারম্নণভাবে ৰুণ্ন হবে। স্বচ্ছতার স্বার্থেই সমগ্র তদনত্ম প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত বলে তাঁরা মনে করেন।
গত বৃহস্পতিবার তদনত্ম প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সরকার জনসমক্ষে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করবে, তবে আপাতত অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করা হবে না। তবে এই সিদ্ধানত্মে সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন খোদ তদনত্ম কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। একটি বেসরকারী টেলিভিশনকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাতকারে তিনি জানান, তাঁদের পক্ষে যতটুকু তদনত্ম সম্ভব হয়েছে, তাতে কোন ফাঁক নেই। নাম গোপন রাখার এ সিদ্ধানত্ম সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন কমিটি প্রধান। সরকার আরও তদনত্ম করে নিশ্চিত হয়েই নাম প্রকাশ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইব্রাহিম খালেদ বলেন 'অভিযুক্ত হিসেবে তাদের নাম যদি আসে তাতে তো কোন দোষ আমি দেখি না। আমার মনে হয়, নামসহ তদনত্ম রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে সরকারের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। না হয় জনগণের মনে হতে পারে সরকার কিছু লুকানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, 'আমরা তো লুকানোর চেষ্টা করিনি। সরকারেরও লুকানোর চেষ্টা না করাটাই ভাল। সব কিছু প্রকাশ পেলে সরকারের কোন ক্ষতিই হয়ত হবে না। বরং উপকার হবে। লুকালেই সরকারের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারম্নক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, তদনত্ম প্রতিবেদনটা ভাল হয়েছে শুনেছি। তবে সেটা প্রকাশ করা দরকার।
ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, তদনত্ম কমিটি এযাবতকালের সবচেয়ে ভাল তদনত্ম করেছে। এটা শুধু তদনত্ম প্রতিবেদনই নয়_ একটা ভাল দলিল। যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তা দিয়ে আগামী দিনে শেয়ারবাজারকে এগিয়ে নিতে অনেক কাজে লাগবে।
তিনি বলেন, কমিটিকে কেউ প্রভাবিত করতে পারেনি বলে মনে হয়েছে। তদনত্ম প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী কারিগরি দিকগুলোর জন্য আরেকটি কমিটি করতে চেয়েছেন। সেটা ভাল হবে। তবে যত দ্রম্নত সম্ভব প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। নইলে এ নিয়ে নানা গুজবের ডালপালা তৈরি হবে। তবে অনেক সময় তদনত্ম প্রতিবেদনের কারও প্রতিষ্ঠানের নাম লিখলেই ব্যক্তির নামেও বদনাম রটে। এ জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা দরকার। ১৯৯৬ সালে যাদের নাম এসেছে তাদের মামলার বিচার হয়নি। ফলে তারা দোষী না নির্দোষ সেটা প্রমাণ হয়নি। কিন্তু বদনাম হয়েছে। এ দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে।
চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, তদনত্ম প্রতিবেদন ভাল হয়েছে বলে শুনেছি। প্রাথমিক তদনত্মে যাদের নাম এসেছে তাদের ক্যাটাগরিভিত্তিক নাম প্রকাশ করা দরকার। নইলে গুজব ছড়ায়। অনেক সম্মানিত লোকের নাম নিয়ে পত্রিকায় লেখা হতে পারে।
তিনি বলেন, তদনত্ম প্রতিবেদনে কী ত্রম্নটি আছে_ জানি না। সেটা জানতে পারলে সংশোধন করতে পারি। অর্থমন্ত্রী আরও যাচাইবাছাই করে নাম প্রকাশ করতে চেয়েছেন। মামলার ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য এটার দরকার আছে। নইলে ১৯৯৬ সালের মতো কাউকে শাসত্মি দেয়া যাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অথর্নীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, তদনত্ম প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু সেটা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। তদনত্ম প্রতিবেদনের দুটো দিক উলেস্নখ করা হয়েছে। একটি জড়িতদের বিরম্নদ্ধে শাস্তির বিধান, অন্যটা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি পুনর্গঠন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেটা কার্যকর করতে হবে। এসইসির শীর্ষ পদে সৎ, নির্লোভ ও দক্ষ লোকদের বসাতে হবে। তিনি বলেন, এটা একটা কেলেঙ্কারি। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ওসমান ইমাম বলেন, স্বচ্ছতার স্বার্থে সমগ্র তদনত্ম প্রতিবেদন ও জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে হবে। অর্থমন্ত্রীর একটা কথায় বেশ খটকা লেগেছে। কারও কারও নাম বাদ দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা বলেছেন তিনি। পুনরায় কমিটি করে আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে হবে। তারপর চার্জশীট দাখিল করার কথা বলেছেন। তাহলে কমিটিতে ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে নেয়া হলো কেন? মনে হচ্ছে নামগুলো এত শক্তিশালী যাদের কাছে সরকারই হার মেনে যাবে। নাম প্রকাশ না করা হলে শেয়ারবাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের যে আস্থা তৈরি হয়েছিল তা আবার নষ্ট হবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি দারম্নণভাবে ক্ষতিগ্রসত্ম হবে।
ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, অর্থমন্ত্রী তদনত্ম প্রতিবেদনের কারিগরি দিকগুলো যাচাইবাছাইয়ের পর নাম প্রকাশ করতে চেয়েছেন। সেটা ভাল হবে। এতে কেউ আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারবে না। |
|
|
|