| 04/30/2011 12:59 pm |
 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/27/2011 Topics: 13 Posts: 75
 OFFLINE | তদন্ত রিপোর্ট অনেকটাই অনুমাননির্ভর : অর্থমন্ত্রী
ঢাকা, ৩০ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম): পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক উত্থান-পতনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে সরকার। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সরকার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ১১টি বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তদন্ত পরবর্তী ধারাবাহিক কর্ম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে একটি সার্বক্ষণিক 'যৌথ ইন্সপেকশন দল' গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্স শুধু প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণই করবে না, তারা পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমের মূল্যায়নও পর্যবেক্ষণ করবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এসইসি পুনর্গঠনের পর সরকার স্বল্প এবং মধ্য মেয়াদে পুঁজিবাজার বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বেশ কিছু বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করার ঘোষণা রয়েছে সরকারের।
এছাড়া তদন্ত কমিটি সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় রিপোর্টে ২৫টি সুপারিশ করেছে। এর সঙ্গে সরকার তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংক্ষণের জন্য আরো ১১টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে। সর্বোমোট মোট ৩৬টি সুপারিশের মধ্যে অবিলম্বে ১১টি, স্বল্পমেয়াদে এসইসি পূর্নগঠনের পর এক মাসের মধ্যে আরো ১৭টি এবং মধ্য মেয়াদে এসইসি পূর্নগঠনের পরের তিন মাসের মধ্যে বাকি ৭টি সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে উল্লিখিত ৩৬টি সুপারিশের মধ্যে ১৪টি বিয়য়ে অধিকতর তদন্তের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার।
তদন্ত কমিটি সুপারিশে সরকারের বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনের অনেক ক্ষেত্রে কমিটি তাদের ধারণা বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কারো দোষ খুঁজে পেয়েছে অথবা সুপারিশ করেছে। এর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা যায় না। এতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন। কারণ, অনুমাননির্ভর কোনো তথ্যের ভিত্তিতে কারো চরিত্র হনন হোক এটা যেমন কাম্য নয়, তেমনি কোনো-না-কোনোভাবে মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যাদের কারসাজিতে তারা আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে যাক এটাও সরকার চায় না বলে সরকারিভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকারের বক্তব্যের অংশে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি দুটি ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধ শনাক্ত করেছে। এ বিষয়ে সরকার তদন্ত কমিটির পরামর্শ অনুসরণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে কমিটি অতিরিক্ত তদন্ত বা অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে, যা সরকার আমলে নিয়ে অতিরিক্ত তদন্তের পদক্ষেপ নিচ্ছে। কমিটি ২/১টি বিধিমালা সংস্কারের যে পরামর্শ প্রদান করেছে সরকার ইতিমধ্যেই তা গ্রহণ করেছে। অন্যান্য বিষয়ের সুপারিশগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ একটি চলমান প্রক্রিয়া বলে সরকারি বক্তব্যে বলা হয়েছে। পুঁজিবাজারে সমন্বয়হীনতার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসি পুরোপুরি ব্যর্থ বলে কমিটি যে অভিমত দিয়েছে সরকার তা গ্রহণ করেনি। বরং সরকার দেখেছে যে, এতে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও সবসময় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তবে সরকার পুঁজিবাজারের আস্থা নিশ্চিত করতে পুরো এসইসিকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। সেলক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।
তদন্ত কমিটি সুপারিশ অনুযায়ী এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারকে অপসারণ করে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া নির্বাহি পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভুঁইয়া ও হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশেনের মহাব্যবস্থাপক কফিলউদ্দিন আহমেদ চোধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভাগীয় মামলা গঠন এবং বিভাগীয় মামলার অতিরিক্ত দুর্নীতির মামলা গঠনের উদ্দেশ্যে দুর্নীতি দমন বিভাগে প্রেরণ করা হবে। এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহি আর ওয়াই শমসের সিইও হয়েও প্লেসমেন্ট নিয়ে অনৈতিক কাজ করেছেন বিধায় তাকে প্রধান নির্বাহির পদ থেকে বিধিমত অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া এসইসির প্রাক্তন সদস্য মনসুর আলম ও শীর্ষ নির্বাহিদের ব্যাপারে নিবিড় তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী স্টক এঙ্চেঞ্জ ডিমিউচুয়্যালাইজেশন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সুপারিশের আলোকে সরকারের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ হলো পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সাথে পারস্পরিক সমন্বয়ের অভাব ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমন্বয়হীনতা আর যেন না হয় সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ এন্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন এবং স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। এছাড়া সরকারি ও সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে মন্ত্রী জানান।
যাদের বিরুদ্ধে শেয়ারের মূল্য বিভাজনে কারসাজির মাধ্যমে এসইসির অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর ১৭(ই) ধারার বরখেলাপের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইস্টার্ন হাউজিং-এর শেয়ার সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে এসইসির বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগটি সরকার আমলে নিয়েছে।
কমিটি সুপারিশ অনুযাযী তদন্ত পরবর্তী ধারাবাহিক কর্ম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে একটি সার্বক্ষণিক 'যৌথ ইন্সপেকশন দল' গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্স শুধু প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণই করবে না, তারা পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমের মূল্যায়নও পর্যবেক্ষণ করবে। অচিরেই এই টাস্কফোর্সের টিওআর এবং কম্পোজিশন ঘোষণা করা হবে।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ এএম/ এনএম/ এআইকে/ ২০.৩০ ঘ.)
|
|
|
| 04/30/2011 1:09 pm |
 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/27/2011 Topics: 13 Posts: 75
 OFFLINE | শেয়ার কারসাজির তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ
নয়া চেয়ারম্যান ও সদস্য দিয়ে এসইসি সংস্কার হচ্ছে
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: অবশেষে শেয়ারবাজার কেলেংকারির তদন্ত রিপোর্ট কোনো প্রকার ‘কাটছাঁট’ ছাড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে সরকার। কমিটির প্রতিবেদন পুরোপুরি ‘আস্থা’য় আনতে না পারলেও ওই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি নিজের মন্তব্যগুলো লিখিত আকারে পাঠ করেন।
ইব্রাহীম খালেদ কমিটির প্রতিবেদন সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর মূল্যায়ন হলো, ‘পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটি অনেক ক্ষেত্রে ধারণা ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সুপারিশ করেছে।’
তবে কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের গৃহীত নানা সংস্কারের কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তদন্ত পরবর্তী ধারাবাহিক কাজ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে একটি সার্বক্ষণিক ‘যৌথ পরিদর্শক দল’ গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) ২/৪দিনের মধ্যেই নতুন চেয়ারম্যান যোগ দেবেন। সদস্য হিসেবে আরও ২ জন যোগ দেবেন। বর্তমানে যে দু’জন সদস্য আছেন তারা চলে যাবেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ফৌজদারি কিছু বিষয় দুদকে পাঠানো হচ্ছে।’
পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের অবস্থানের কথাও জানিয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ হলো- পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়ের অভাব ছিল। ভবিষ্যতে এ সমন্বয়হীনতা যাতে আর না হয় সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তাই সরকার পুরো প্রতিবেদনটিই কাটছাঁট ছাড়াই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রমাণ ছাড়া কারো চরিত্র হনন হোক এটা যেমন কাম্য নয়, তেমনি কারসাজি করে কেউ পার পেয়ে যাক তা-ও সরকার চায় না।’
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার শেয়ারবাজার নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত কমিটি শেয়ারবাজার ডিম্যুলাইজেশনের কথা বলেছে, এটি আমিও বলেছিলাম। সরকার আশাবাদী, খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে একটি পথনির্দেশ (রোডম্যাপ) দিতে পারবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘কমিটি ২৫টি সুপারিশ, ১১টি পর্যবেক্ষণসহ অধিকতর তদন্তের কথা বলেছে। আমরা তা করবো। পাশাপাশি একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। তারা সংস্কার কার্যক্রমেরও মূল্যায়ন করবেন।’
একইভাবে তিনি শেয়ারবাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বিনিয়োগকারীদেরও জ্ঞানভিত্তিক সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বোজারে কারসাজির ঘটনায় খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৭ এপ্রিল ওই কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির পুরো প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য মনে না করলেও সুপারিশ অনুযায়ী এসইসি পুনর্গঠনের কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছে সরকার। সংস্থায় নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন সদস্যও আসছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিকে দায়ী করা হলেও এর সঙ্গে অবশ্য একমত নন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের ওপর আস্থা নিশ্চিত করতে পুরো এসইসি পুর্নগঠন করা প্রয়োজন। এর বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়াও শুরু হয়েছে।’
এসইসির পরবর্তী চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রক্রিয়া শেষে নাম ঘোষণা করবো। দু’একদিন অপেক্ষা করুন, জানতে পারবেন।’
এছাড়া এসইসি’র দু’জন নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও তারিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং সাবেক সদস্য মনসুর আলম ও শীর্ষ নির্বাহীদের ব্যাপারে নিবিড় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী জানান, এসইসি পুনর্গঠনের পর কমিটির সুপারিশের আলোকে ১ মাসের মধ্যে স্বল্প মেয়াদে ১৭টি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া ৪ মাসের মধ্যে মধ্য মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য সাতটি বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এ টাস্কফোর্স শুধু প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নই পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণ করবে না, তাঁরা পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমেরও মূল্যায়ন করবে।’
কার্যপরিধি চূড়ান্ত করার পর শিগগিরই এ টাস্কফোর্স ঘোষণা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
৫ ব্যক্তির নাম অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে:
শনিবার প্রকাশ করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে পুঁজিবাজারের দর বাড়ার সময় গোলাম মোস্তফা নামে এক ব্যক্তি মুখ্য ভূমিকা রয়েছে বলে বলা হয়েছে। এছাড়া মো. আব্দুস সালাম, শামীমা শরীফ, সৈয়দ সিরাজ উদ্দৌলা, আবু সাদাত মো. সায়েম ও আব্দুল মোবিন মোল্লার সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
তবে বহুল আলোচিত নামগুলো সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে আসেনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মো. আব্দুস সালাম ও শামীমা শরীফ নামে দুজনের বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।’
‘সৈয়দ সিরাজ উদ্দৌলা, আবু সাদাত মো. সায়েম ও আব্দুল মোবিন মোল্লা আইন লঙ্ঘন করে শেয়ার লেনদেন করেছেন।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পুঁজিবাজারে মূল্য উল্লম্ফনের সময় যেসব ব্যক্তি মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জনাব গোলাম মোস্তফা। তার অবলম্বিত পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে (ক) অত্যধিক মূল্যে কেনার দর দিয়ে পরে তা প্রত্যাহার করা। (খ) একই দিনে কোনো একটি ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে শেয়ার কিনে অন্য একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একই কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করা।’
|
|
|
| 04/30/2011 3:13 pm |
 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/27/2011 Topics: 13 Posts: 75
 OFFLINE |
পুঁজিবাজার তদন্ত, অনেক ক্ষেত্রে ধারণা ও অনুমান নির্ভর
রবিবার, ০১ মে ২০১১; manabzamin
স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে কোন ধরনের কাটছাঁট ছাড়াই ২৮৪ পৃষ্ঠার পুঁজিবাজার নিয়ে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন, ২০১১ প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রতিবেদনটি পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় তিনি পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের নানা সংস্কারের কথা তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারের আস্থা নিশ্চিত করতে পুরো সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। আগামী দু’চার দিনের মধ্যে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ হবে। এছাড়া সদস্য হিসেবে আরও দু’জন যোগ দেবেন। বর্তমানে যে দু’জন সদস্য আছেন তাদের চলে যেতে হবে। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের প্রকাশনা নিয়ে অনেক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই পুরো প্রতিবেদনটি কোন সম্পাদনা না করেই সরকার প্রকাশ করছে। এই প্রকাশনার সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিবাজার সংস্কার ও সংহত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ দিয়েছে। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসি ব্যর্থ হয়েছে বলে কমিটি যে অভিমত দিয়েছেন সরকার তা গ্রহণ করছে না। সরকার দেখছে যে, এতে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও যথাযথ পদক্ষেপ সব সময় নেয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২৮৪ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রিপোর্টটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন ছিল। এজন্য রিপোর্টটি প্রকাশে খানিকটা বিলম্ব হলো। রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়, কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ পর্যালোচনা, রিপোর্টের সংক্ষিপ্তসার প্রস্তুত, প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটে দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নসহ অযাচিত বা অন্যায়ভাবে কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ বা পর্যবেক্ষণ নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবেদনের অনেক ক্ষেত্রে কমিটি তাদের ধারণা বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কারও দোষ খুঁজে পেয়েছে বা সুপারিশ করেছে। এর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা যায় না। এতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন। কারণ, অনুমান নির্ভর কোন তথ্যের ভিত্তিতে কারও চরিত্র হনন হোক এটাও যেমন কাম্য নয় তেমনি কোন না কোনভাবে মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যাদের কারসাজিতে তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাক এটাও সরকার চায় না। অর্থমন্ত্রী বলেন, দুইটি ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি ফৌজদারি অপরাধ শনাক্ত করেছে। এ ব্যাপারে সরকার তদন্ত কমিটির পরামর্শ অনুসরণ করে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা গং, আবু সাদাত মো. সায়েম এবং আবদুল মোবিন মোল্লা এসইসি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী অপরাধ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কমিটি অতিরিক্ত তদন্ত বা অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে। ওই সব সুপারিশ সরকার মেনে নিয়ে অতিরিক্ত তদন্তের পদক্ষেপ নিচ্ছে। কমিটি দুই বা একটি বিধিমালা বা ব্যবস্থাপনা সংস্কারের জন্য সুপারিশ করেছে। এসব বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যান্য সুপারিশগুলো সবই বিবেচনা করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। অর্থমন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি নয়টি অধ্যায় এবং তিনটি পরিশিষ্ট পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেদনে মোট ২৫টি সুপারিশ রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণের আলোকে অতিরিক্ত ১১টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে অবিলম্বে ১১টি, স্বল্প মেয়াদে (এসইসি পুনর্গঠনের পর এক মাস) ১৭টি এবং মধ্য মেয়াদে ৮টি (এসইসি পুনর্গঠনের পর চার মাস) বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির সুপারিশ বা পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ৩৬টি বিষয়ের মধ্যে ১৪টি বিষয়ে অধিকতর তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত কমিটি স্টক মার্কেট ডিমিউচুয়ালাইজেশনের সুপারিশ করেছেন। সরকার এক বছর আগে থেকেই এ বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সে লক্ষ্যে সরকার স্টক এক্সচেঞ্জকেও সচেতন করেছিল। এখন স্টক এক্সচেঞ্জই ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নতুন অর্থবছরে এই প্রক্রিয়াটি শুরু হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য তদন্ত কমিটি একটি টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছে। এ রকম একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে সরকার ঠিক করেছে। এই টাস্কফোর্স শুধু প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নই পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণ করবে না। তারা পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমেরও মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণ করবে। এর আগে পুঁজিবাজারের সামপ্রতিক উত্থান-পতনের ঘটনা সুনির্দিষ্ট কার্য পরিধির আলোকে তদন্তের জন্য গত ২৬শে জানুয়ারি কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির অনুরোধে ২২শে ফেব্রুয়ারি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। |
|
|
| 04/30/2011 3:16 pm |
 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/27/2011 Topics: 13 Posts: 75
 OFFLINE |
পুরো রিপোর্ট প্রকাশ- পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা ॥ পুঁজি বাজার
এসইসি চেয়ারম্যান অপসারণ, অন্য দুই সদস্যকেও চলে যেতে হবে, আরও খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত
dailyjanakantha
অর্থনৈতিক রিপোর্টার্ ॥ কোন রকম সম্পাদনা ছাড়াই পুঁজিবাজার সম্পর্কিত তদন্ত কমিটির পুরো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকার। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং সরকারের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পুঁজিবাজার সংস্কার ও সংহত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী শীঘ্রই এসইসি পুনর্গঠন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত দুই সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও দুর্নীতি মামলা দায়ের, সিরিয়াল ট্রেডিং ও শেয়ারের মূল্য বিভাজনে কারসাজির দায়ে অন্য তিনজনের বিরম্নদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং ১৪টি বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করা হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারকে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে। চুক্তিসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দু'-চার দিনের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে অর্থমন্ত্রী নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করেননি। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি এসইসিতে দু'জন নতুন সদস্য নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা দু'জন সদস্যকেও যথাসময়ে চলে যেতে হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।
অর্থমন্ত্রী জানান, তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও পর্যবেৰণ অনুযায়ী অনৈতিক অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া এবং হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (আইসিবির সাবেক ডিজিএম) কফিল উদ্দীন আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে শীঘ্রই অর্থ মন্ত্রণালয় বিভাগীয় মামলা গঠন এবং এর অতিরিক্ত দুর্নীতির মামলা গঠনের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হবে। এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আর ওয়াই শমসের সিইও হয়েও প্লেসমেন্ট নিয়ে অনৈতিক কাজ করায় তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এর ১৭(ই) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বিনিয়োগকারী সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা এবং এবং একই অধ্যাদেশের ১৭(ই)-এর ২ ও ৫ উপধারা লঙ্ঘনের দায়ে আবু সা'দাত মোঃ সায়েম ও আব্দুল মবিন মোল্লার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে আরও যাদের সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে আইন ও বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তদনত্ম প্রতিবেদন সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনের অনেক ৰেত্রে কমিটি তাদের ধারণা বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কারও দোষ খুঁজে পেয়েছে বা সুপারিশ করেছে। এর ভিত্তিতে তাৎৰণিকভাবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা যায় না। এতে অধিকতর তদনত্ম প্রয়োজন। কারণ অনুমাননির্ভর কোন তথ্যের ভিত্তিতে কারও চরিত্রহনন হোক এটা যেমন কাম্য নয়, তেমনি কোন না কোনভাবে যাদের কারসাজিতে শেয়ারবাজার ৰতিগ্রসত্ম হয়েছে, তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাক, এটাও সরকার চায় না।
তিনি বলেন, দু'টি ৰেত্রে তদন্ত কমিটি ফৌজদারি অপরাধ শনাক্ত করেছে। এ ব্যাপারে সরকার তাদের পরামর্শ অনুসরণ করবে। অনেক ৰেত্রে কমিটি অতিরিক্ত তদনত্মের সুপারিশ করেছে, সেসব সুপারিশ সরকার মেনে নিয়ে অতিরিক্ত তদনত্মের পদৰেপ নিচ্ছে। কমিটি দুয়েকটি বিধিমালা বা ব্যবস্থাপনা সংস্কারের সুপারিশ করেছে। এর কতিপয় বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অন্য সুপারিশগুলোর সবই বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ একটি চলমান প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, কমিটি স্টক এঙ্চেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের সুপারিশ করেছে। সরকার এক বছর আগে থেকেই এ বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এই লৰ্যে সরকার স্টক এঙ্চেঞ্জকে সচেতনও করেছিল। এখন তারাও ডিমিউচু্যয়ালাইজেশনের পৰে অবস্থান নিয়েছে। সরকার এতে খুবই আশান্বিত হয়েছে। এ বিষয়ে রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে এই প্রক্রিয়া শুরম্ন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাসত্মবায়নের জন্য কমিটি একটি টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছে। সরকার এ রকম একটি টাস্কফোর্স গঠন করবে বলে ঠিক করেছে। এই টাস্কফোর্স শুধু প্রতিবেদনের সুপারিশ বাসত্মবায়নই পর্যবেৰণ করবে না, তারা পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং পর্যবেৰণ করবে। শীঘ্রই এই টাস্কফোর্স গঠন ও কার্যবিধি ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, সরকারের নিজস্ব পর্যবেৰণ হলো_ পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট সংস্থাসমূহের পারস্পরিক সমন্বয়ের অভাব ছিল। ভবিষ্যতে এই সমন্বয়হীনতা যাতে না হয়, সেই লৰ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি ও স্টক এঙ্চেঞ্জের মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসইসির কর্মকা- সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে কমিটি যে অভিমিত দিয়েছে সরকার তা গ্রহণ করছে না। বরং সরকার দেখেছে যে, এতে অন্যান্য সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানও যথাযথ পদৰেপ সব সময় নেয়নি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সাংবাদিকরা স্পষ্ট করে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম উলেস্নখ করেন।
অভিযুক্ত না হলেও এসইসির দুই সদস্যকে সরিয়ে দেয়ার চিনত্মা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার মনে করে যে, পুঁজিবাজারে আস্থা নিশ্চিত করতে পুরো এসইসিকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। সে লৰ্য বাসত্মবায়নে ইতোমধ্যেই পদৰেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। কারণ এসইসি সমন্বিতভাবে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। পুরো কমিশনই কারসাজি প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণেই পুরো কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। আর যাদের বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে তাদের বিরম্নদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, তদনত্ম কমিটির সুপারিশে মোট ২৫টি সুপারিশ থাকলেও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরৰণের জন্য সরকার আরও অতিরিক্ত ১১টি সুপারিশ অনত্মর্ভুক্ত করেছে। এই ৩৬টি সুপারিশের মধ্যে ১১টি অবিলম্বে বাসত্মবায়ন করা হবে। এসইসি পুনর্গঠনের এক মাসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে ১৭টি সুপারিশ বাসত্মবায়নে পদৰেপ গ্রহণ করা হবে। এসইসি পুনর্গঠনের ৪ মাসের মধ্যে মধ্যমেয়াদে বাকি ৭টি সুপারিশ বাসত্মবায়ন করা হবে।
অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ ॥ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১১টি বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। এর মধ্যে রয়েছে এসইসির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ, দু'জন নির্বাহী পরিচালকের বিরম্নদ্ধে সংশিস্নষ্ট চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রম্নজু, প্রাক্তন সদস্য মনসুর আলম ও শীর্ষ নির্বাহীদের বিষয়ে নিবিড় তদনত্ম, এসইসি পুনর্গঠনে পদৰেপ গ্রহণ, স্টক এঙ্চেঞ্জ ডিমিউচু্যয়ালাইজেশনের রোডম্যাপ প্রণয়ন, পুঁজিবাজার সংশিস্নষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় সাধন, সরকারী ও সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ, বেসরকারী কোম্পানির সম্পদ পুনমর্ূল্যায়নে নীতিমালা জারি, এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারম্নল কবীর ভুইয়া এবং হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (আইসিবির সাবেক ডিজিএম) কফিল উদ্দীন আহমেদ চৌধুরীর বিরম্নদ্ধে বিভাগীয় মামলা গঠন ও এর অতিরিক্ত দুর্নীতির মামলা গঠনের লৰ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ, এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আর ওয়াই শমসের সিইও হয়েও পেস্নসমেন্ট নিয়ে অনৈতিক কাজ করায় তাকে অপসারণের উদ্যোগ, শেয়ারের মূল্য বিভাজনে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরম্নদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ, তদনত্মপরবর্তী ধারাবাহিক কর্ম অব্যাহত রাখতে ইন্সপেকশন দল গঠন এবং প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাসত্মবায়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন।
স্বল্পমেয়াদে যেসব পদৰেপ গ্রহণ করা হবে ॥ এসইসি পুনর্গঠনের এক মাস পর স্পল্পমেয়াদে ১৭টি পদৰেপ গ্রহণ করা হবে। এগুলো হলো_ অগ্রাধিকার শেয়ার ইসু্যর নীতিমালা প্রণয়ন, প্রাক-আইপিও ও আইপিও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়মাচার তৈরি, পেস্নসমেন্ট সম্পর্কে নিয়মাচার প্রণয়ন, অমনিবাস হিসাবের বিষয়ে কমিটির সুপারিশ আমলে নেয়া, স্থির মূল্য পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণে কমিটি গঠন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনা, পুঁজিবাজারে মূল্য উলস্নম্ফনে নিবিড় তদনত্ম, সিরিয়াল ট্রেডিং ও কারসাজির বিষয়ে কমিটির সুপারিশ আমলে নেয়া, শীর্ষ পেস্নয়ারদের সন্দেহজনক লেনদেনে কমিটির অভিমত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, বস্নক পেস্নসমেন্টের বিষয়টি খতিয়ে দেখা, স্টক এঙ্চেঞ্জে ভূমিকা বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, শেয়ারের অতি মূল্যায়নে শীর্ষ ৫০ কোম্পানির বিষয়ে স্ক্রুটিনিং, রাইট শেয়ার বিধিমালায় পরিবর্তন, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে শেয়ারের ফেসভ্যালু ইউনিফর্ম করা এবং বিও হিসাব খোলার সময় টিআইএন নম্বর প্রদানসহ কয়েকটি বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
মধ্যমেয়াদে ৭ ব্যবস্থা ॥ এসইসি পুনর্গঠনের চার মাস পর মধ্যমেয়াদে সরকার মোট ৭টি পদৰেপ গ্রহণ করবে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(২) ধারা সংশোধন করা হবে। এছাড়া যেসব ব্যাংক ২০০৯ ও ২০১০ সালে আইন ভঙ্গ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে তাদের বিরম্নদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সম্পদ অধিক পুনর্মূল্যায়ন বিষয়ে তদনত্ম প্রতিবেদনে যে ৮টি কোম্পানির উলেস্নখ করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে পুনর্নিরীৰার ব্যবস্থা করা হবে। এতে অনিয়ম পাওয়া গেলে শাসত্মিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদনত্ম প্রতিবেদনে উলিস্নখিত কেস স্টাডিগুলোতে অস্বাভাবিকতা ও অনিয়ম চিহ্নিত করতে পুনর্গঠিত এসইসি একটি এ্যাকশন কমিটি গঠন করবে। বিডি থাই এ্যালুমিনিয়াম ও জেম গেস্নাবালের বিষয়ে বিসত্মারিত তদনত্মের জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করা হবে। এ ছাড়া মোঃ আবদুস সালামের শেয়ার ব্যবসার বিষয়টি পুনর্গঠিত এসইসি বিসত্মারিত তদনত্ম করবে। শামীমা শরীফের শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক তদনত্ম করতে পারে। পুরো রিপোর্ট প্রকাশ- পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা ॥ পুঁজি বাজার
এসইসি চেয়ারম্যান অপসারণ, অন্য দুই সদস্যকেও চলে যেতে হবে, আরও খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত |
|
|
| 04/30/2011 3:21 pm |
 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/27/2011 Topics: 13 Posts: 75
 OFFLINE | কাটছাঁট ছাড়াই পুঁজিবাজার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক; Sangbad
কোনরকম কাটছাঁট ছাড়াই ইব্রাহীম খালেদের পুঁজিবাজার তদন্ত প্রতিবেদন হুবহু প্রকাশ করেছে সরকার। সরকারের পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন মেয়াদে কিছু সিদ্ধান্ত দিয়ে গতকাল পুরো তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। ৯টি পরিশিষ্টে পুরো প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে সরকারের পর্যালোচনা দেয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী এসইসি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এসইসিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে নয়া চেয়ারম্যানের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। এছাড়াও এসইসির দুই নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং সাবেক সদস্য মনসুর আলম ও শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী আরও অধিক তদন্ত করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী। পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক উত্থান-পতনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে ২৬ জানুয়ারি কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অনুরোধে ২২ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিটি ৭ এপ্রিল সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই সময় অর্থমন্ত্রী অভিযুক্তদের নাম বাদ দিয়ে কিছু কাটছাঁট করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা বললেও বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় সরকার কোন ধরনের কাটছাঁট ছাড়াই রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে অনেক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাই পুরো প্রতিবেদনটি কোন সম্পাদনা না করেই সরকার প্রকাশ করেছে।
তবে ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সরকারের একটি পর্যালোচনাও দেয়া হয়। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সরকার। এছাড়া প্রতিবেদনটিকে ধারণা ও অনুমান নির্ভর বলে অভিহিত করা হয়।
এদিকে ইব্রাহীম খালেদের প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ. রহমান ও ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান থেকে সরকারকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হলেও সরকারের পর্যালোচনায় এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনের অনেক ক্ষেত্রে কমিটি তাদের ধারণা বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কারও দোষ খুঁজে পেয়েছে অথবা সুপারিশ করেছে এর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যায় না। এতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন। কারণ অনুমান নির্ভর কোন তথ্যের ভিত্তিতে কারও চরিত্র হনন হোক এটি যেমন কাম্য নয়, তেমনি কোন না কোনভাবে মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যাদের কারসাজিতে, তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাক_ এটিও সরকার চায় না।
অধিকতর তদন্ত কবে হবে জানতে চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুনদের (এসইসির নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য) বসতে দিন। তাদের দেখতে দিন। অতো অধৈর্য হবেন না।
এদিকে ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনের কয়েকটি বিষয়ের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছে সরকার। পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির পেছনে পুরোপুরি এসইসি'র ব্যর্থতাকে দায়ী করা হলেও সরকার তেমনটি মনে করছে না। মন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে কমিটি যে অভিমত দিয়েছেন সরকার তা গ্রহণ করছে না বরং সরকার দেখছে এতে অন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করা চলে কি না_ সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, এসইসি ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিএসই এবং সিএসইসি কেউ তাদের দায় এড়াতে পারে না।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ হলো পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের অভাব ছিল। ভবিষ্যতে এ সমন্বয়হীনতা যেন না হয় সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি এবং ডিএসই ও সিএসই'র মধ্যে সমন্বয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
একইভাবে তিনি শেয়ারবাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বিনিয়োগকারীদেরও জ্ঞানভিত্তিক সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দেন। মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ ব্যাপারে জেনেশুনেই তাদের বিনিয়োগ করা উচিত। |
|
|
| 04/30/2011 4:56 pm |
 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/27/2011 Topics: 13 Posts: 75
 OFFLINE |
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক; Kalerkontho
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের আলোকে শেয়ারবাজার বিষয়ে বহুমুখী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নতুন প্রধান নিয়োগসহ অভিযুক্ত কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার সময় এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
গতকাল সন্ধ্যায় এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানান, এসইসির নতুন চেয়ারম্যান ও নতুন দুজন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তি না হওয়ায় গতকাল তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি অর্থমন্ত্রী। সংস্থাটি পুনর্গঠনের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি অতিরিক্ত তদন্ত বা অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে, সেসব সুপারিশ সরকার মেনে নিয়ে অতিরিক্ত তদন্তের পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে 'পুঁজিবাজার তদন্ত প্রতিবেদন ২০১১ সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি' শিরোনামে একটি দীর্ঘ নথি তুলে ধরা হয়।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ২২ দিন পর সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করা হলো। দেরি হওয়ার কথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২৮৪ পৃষ্ঠার সার্বিক পর্যালোচনার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন ছিল। অন্যায়ভাবে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসইসির পুনর্গঠনসহ দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানান। এর মধ্যে এক থেকে চার মাসে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে। পুনর্গঠনের কাজ তদারকি করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এ টাস্কফোর্স প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংস্কারকাজেরও তদারকি করবে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য একটি যৌথ ইন্সপেকশন দল গঠনের বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'প্রতিবেদনের অনেক ক্ষেত্রে কমিটি তাদের ধারণা বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কারো দোষ খুঁজে পেয়েছে অথবা সুপারিশ করেছে। এর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনয়ন করা যায় না। এতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন। কারণ অনুমাননির্ভর কোনো তথ্যের ভিত্তিতে কারো চরিত্র হনন হোক_এটাও যেমন কাম্য নয়, তেমনি কোনো না কোনোভাবে মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যাদের কারসাজিতে, তারা আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাক, এটাও সরকার চায় না।'
পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসইসির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দু-তিন দিনের মধ্যে তিনি দায়িত্ব নেবেন। একই সঙ্গে পুরনো দুই সদস্যকে সরিয়ে নতুন দুজন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পরে আরো দুজন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, 'এসইসির ব্যর্থতা বোর্ড প্রতিরোধ করতে পারেনি। এর প্রতি মানুষের বিশ্বাস নেই। তাই পুরো বোর্ড বাদ দিচ্ছি। এসইসির নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত শুরু হবে।' তবে এসইসির দায়িত্বে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের নাম বলেননি মন্ত্রী।
তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যে দেরি হয়েছে, তা স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী। অবশ্য দেরি হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ প্রতিবেদনের প্রকাশনা নিয়ে অনেক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই পুরো প্রতিবেদনটি কোনো সম্পাদনা না করেই সরকার প্রকাশ করছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, কমিটি স্টক মার্কেট ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের সুপারিশ করেছে। সরকার এতে খুবই আশান্বিত হয়েছে। আলোচনা করে এ ব্যাপারে রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের কথাও তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেছে। সরকার এ রকম একটি টাস্কফোর্স গঠন করবে। এ টাস্কফোর্স প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমেরও মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ করবে। অচিরেই এ টাস্কফোর্সের কার্যপ্রণালী ঘোষণা করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ হলো, পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়ের অভাব ছিল। ভবিষ্যতে সমন্বয়হীনতা যেন আর না হয়, সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি ও স্টক এঙ্চেঞ্জ দুটির মধ্যে সমন্বয়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে কমিটি যে মত দিয়েছে, সরকার তা গ্রহণ করছে না। বরং সরকার দেখছে যে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও যথাযথভাবে পদক্ষেপ সব সময় নেয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠান। একে নিজের মতো গতিশীলভাবে চলতে হবে।
যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ : গতকাল অর্থমন্ত্রীর পেশ করা 'পুঁজিবাজার তদন্ত প্রতিবেদন ২০১১ সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি'তে বলা হয়, এসইসি পুনর্গঠিত হওয়ার পর মো. আবদুস সালামের শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কে বিশদ তদন্ত করা হবে। এ ছাড়া শামীমা শরিফের শেয়ার ব্যবসাও সন্দেহজনক। এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি তদন্ত করবে। এ ছাড়া এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক কফিল উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয় বিভাগীয় মামলা করবে। এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আর ওয়াই শমসেরকেও সিইও পদ থেকে অপসারণেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অন্য যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থা : শেয়ারবাজার স্থিতিশীল করতে এসইসি পুনর্গঠনের পর এক মাসের মধ্যে স্বল্প মেয়াদে তদন্ত কমিটির ১৭টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, প্রাক-আইপিও ও আইপিও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়মনীতি তৈরি করা। প্লেসমেন্ট, কার্ব মার্কেটসহ ব্যক্তিপর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় ৩০ জন প্লেসমেন্টধারীর বিষয়ে সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও গবেষকদের নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে 'প্লেসমেন্ট নিয়মাচার' তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে কারসাজির বিষয়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশ আমলে নেবে সরকার। শেয়ারবাজারের শীর্ষস্থানীয় 'প্লেয়ার'দের সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে কমিটির অভিমত অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ছাড়া ২০১০ সালের ডিসেম্বর ও ২০১১ সালের জানুয়ারির মধ্যে শীর্ষ বিক্রেতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা বিষয়ে সরকার কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
চার মাসে আরো ব্যবস্থা : অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য মতে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এসইসি পুনর্গঠনের চার মাসের মধ্যে সাত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, ব্যাংক কম্পানি আইনের ২৬(২) ধারা সংশোধন। যেসব ব্যাংক ২০০৯ ও ২০১০ সালে আইন ভেঙে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অধিক সম্পদ মূল্যায়নের টেস্টকেস হিসেবে লিব্রা ইনফিউশনস, সোনালি আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ, রহিম টেঙ্টাইল, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, অরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড, ওশেন কনটেইনার্স লিমিটেড, শাইনপুকুর সিরামিকস এবং ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্সের সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করবে। পাঁচ সদস্যের চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট কমিটি এটি পুনঃ পরীক্ষা করবে।
রাইট শেয়ার বা প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর প্রক্রিয়ায় এসইসির সিদ্ধান্ত নৈতিকতাবর্জিত ও প্রশ্নবিদ্ধ বিধায় এসইসি পুনর্গঠিত হওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাইট শেয়ার রূপান্তর বা হস্তান্তরে অন্তত তিন বছরের বাধানিষেধ আরোপ করা হবে।
১৪ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত : কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ১৪টি বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করবে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, সব অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে থাকা ছায়া হিসাবগুলো এসইসি পরীক্ষা করবে। তিন মাসের মধ্যে অমনিবাস হিসাবগুলোকে ইনডিভিজ্যুয়াল বিও অ্যাকাউন্টে রূপান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাত্র দুটি ঠিকানায় ১৯ ব্যক্তিকে ১৯ কোটি টাকার শেয়ার বরাদ্দ এবং আহসান ইমামসহ অন্যদের নামে বিপুল অঙ্কের শেয়ার বরাদ্দের বিষয়টি এসইসি পুনর্গঠনের পর তদন্ত করা হবে। ডিএসই ও এসইসি কর্তৃক মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কম্পানিকে দেওয়া, রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেতৃত্বে অবস্থান, এসইসির সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, বন্ধ কম্পানিগুলোকে তালিকাবহির্ভূত না করা এবং স্টক মার্কেট দুটির ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন না করার বিষয়গুলোও তদন্ত করা হবে।
|
|
|
| 04/30/2011 4:58 pm |
 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/27/2011 Topics: 13 Posts: 75
 OFFLINE |
পুঁজিবাজার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী : আরও তদন্ত ছাড়া ক্ষমতাধরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না
অর্থনৈতিক রিপোর্টার; Amader Shomoy
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির তদন্ত রিপোর্ট গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের নাম তদন্ত কমিটি তুলে ধরলেও, ক্ষমতাধরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রতিবেদনের অনেক ক্ষেত্রে কমিটি তাদের ধারণা বা অনুমানের ওপর ভিত্তি কারে দোষ খুঁজে পেয়েছেন অথবা সুপারিশ করেছেন। এর ভিত্তিতে তাত্ক্ষণিকভাবে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনয়ন করা যায় না। এতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন। কারণ, অনুমাননির্ভর কোনো তথ্যের ভিত্তিতে কারো সম্মানহানি করা হোক, এটা কাম্য নয়।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনে দুটি ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি ফৌজদারি অপরাধ শনাক্ত করেছে। এ অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করতে পারে। শেয়ারের মূল্য বিভাজনে কারসাজির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা। এছাড়া ইস্টার্ন হাউজিংয়ের শেয়ারের সিরিয়াল ট্রেডিংয়ে আবু সাদাত মো. সায়েম এবং আবদুল মোবিন মোল্লার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক কারসাজির ঘটনা খতিয়ে দেখতে গত ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করে সরকার। পরে ২২ ফেব্রুয়ারি এই কমিটি পুনর্গঠন করে আরও একজনকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কমিটি গত ৭ এপ্রিল তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে পুঁজিবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাধর ৬০ ব্যক্তির নাম আসে। কমিটির রিপোর্ট পেয়ে গত ৭ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়ে দেন, তদন্ত রিপোর্টে যাদের নাম এসেছে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েই রিপোর্ট প্রকাশ করবে সরকার। তবে গতকাল কমিটির রিপোর্ট কোনো পরিবর্তন ছাড়াই প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী।
রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ২৮৪ পৃষ্ঠার রিপোর্টটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও যাচাইবাছাই করতে সময় লেগেছে। এ কারণে যথাসময়ে রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা যায়নি।
তিনি জানান, এই প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কমিটি একটি টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী এরই মধ্যে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এছাড়া কমিটি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি পুর্নগঠনের সুপারিশ করেছে। সুপারিশ অনুযায়ী এর মধ্যেই এসইসিতে একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানের নাম প্রকাশ করবে সরকার। এছাড়া কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটিতে দু’জন সদস্যও নিয়োগ দেয়া হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, এসইসির সাবেক সদস্য মনসুর আলমকে অব্যাহতি দেয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভুঁইয়া ও হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের জিএম কফিল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে বলা হবে। এবি ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী আরওয়াই শমসের প্লেসমেন্ট নিয়ে অনৈতিক কাজ করায় তাকে এ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
তদন্ত কমিটি এসইসিকে ব্যর্থ বললেও সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে কমিটি যে অভিমত দিয়েছেন সরকার তা গ্রহণ করছে না। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই পুরো এসইসি পুর্নগঠন করা হচ্ছে।
তদন্ত রিপোর্টের পর পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আসবে কিনা—এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, শেয়ারবাজার এখন স্থিতিশীল রয়েছে। তবে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের যথেষ্ট তথ্য ও জ্ঞান সংগ্রহ করেই পুঁজিবাজারে আসা উচিত। পুঁজিবাজারের তদন্ত রিপোর্ট গতকালই অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়েব সাইটের ঠিকানা-www.mof.gov.bd
এদিকে তদন্ত রিপোর্টের একটি অংশে বলা হয়েছে, এবারের পুঁজিবাজারে ধস ১৯৯৬ সালের মত নয়। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এবং ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত। ’৯৬-এর ধস ছিল সম্পূর্ণ সেকেন্ডারি বাজারের ঘটনা। কিন্তু এবারের মূল ঘটনা অনেকটা পর্দার অন্তরালে প্রাইমারি কর্মকাণ্ড থেকে। এর সঙ্গে এসইসির সমর্থন ও সহায়তা ছিল। ছিল বড় একটি সিন্ডিকেটের কারসাজি।
প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকা। শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক, ব্যবসায়ী ও বাইরের অনেকেরই জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নানা কারণে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। বিদ্যুত্, গ্যাস সঙ্কট, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শিল্পখাতে বিনিয়োগে একধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। শিল্পখাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। এমনকি ব্যাংকগুলোও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমারেখা মানেনি। ব্যাংকগুলো আমানতের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারলেও অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক নির্ধারিত সীমার অনেক বেশি অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া কালো টাকা সাদা করার শর্তহীন সুযোগ থাকায় অনেকেই বিপুল পরিমাণ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ পুঁজিবাজারের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে পেনশনভোগী বিপুলসংখ্যক মানুষ সঞ্চয়পত্রের পরিবর্তে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বিপুলসংখ্যক বেকার যুবক বিভিন্ন উত্স থেকে টাকা ধার করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। ছাত্র, যুবক, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ বাড়তি আয়ের জন্য শেয়ারবাজারমুখী হয়েছেন। স্রোতের মতো মানুষ এসেছে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে। বিপুলসংখ্যক মানুষ শেয়ারবাজারে যুক্ত হলেও তাদের অনেকেরই শেয়ারবাজার সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।
|
|
|
|