| 02/24/2011 5:31 pm |
 Forum Addict

Regist.: 12/31/2010 Topics: 14 Posts: 92
 OFFLINE | আমাদের সময়, ২৫.০২.২০১১
শেয়ার কেনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কোনো বাধা নেই
গোলাম মওলাঃ সরকারি নিদের্শনা বাস্তôবায়ন করতে শেয়ার কিনতে আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। পুঁজিবাজারের স্বার্থে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন রাস্ট্রায়ত্ত ২টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী। বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে শেয়ার বাজারে সোনালী ও জনতা ব্যাংক প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে। একই পরিমান বিনিয়োগের সক্ষমতা রয়েছে অগ্রণী ব্যাংকেরও।
সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হুমায়ুন কবির বলেন, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই ধরণের মত দেন জনতা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী এস এম আমিনুর রহমান।
পুঁজিবাজারে বর্তমানে সক্রিয় বিনিয়োগকারী ১২ লাখ
আবু আলীঃ পুঁজিবাজারে বর্তমানে ৩৪ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কিন্তু মাত্র ১২ লাখ বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার রয়েছে। অতিরিক্ত এসব বিও অ্যাকাউন্ট খুলে অনেকেই শুধু আইপিওতে আবেদন করে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বছরের ১০ জানুয়ারির সিডিবিএলের তথ্য মতে, ১২ লাখ বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার আছে এবং এগুলো থেকে নিয়মিত লেনদেন হয়। এছাড়া ৯ লাখ বিও অ্যাকাউন্টে কখনো কখনো শেয়ার থাকলেও জানুয়ারির আগেই বিক্রি করে দিয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ লাখ বিও অ্যাকাউন্টে কখনোই কোন শেয়ার ছিলনা। এসব বিও অ্যাকাউন্ট সাধারনত আইপিওর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। লটারিতে কোন শেয়ার বরাদ্দ পায়নি বলে এসব অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার নেই বলে জানা যায়।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে আইপিও আবেদন করার জন্য অতিরিক্ত বিও একাউন্ট খোলার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে জুন ২০০৯ পর্যন্তô বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪ লাখ। এক বছরেরও কম সময়ে (জুন-২০১০) অ্যাকাউন্টের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ২৫ লাখে পৌঁছায়। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩৪ লাখ ছাড়িয়েছে। আর এর বেশীরভাগ অ্যাকাউন্টের বীপরিতে সেকেন্ডারি লেনদেন হয়না। শুধু আইপিও করা জন্য এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
আরো জানা গেছে, প্রতিটি বিওর জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব ব্যাবহারের নিয়ম রয়েছে। কিন্ত্র এসব অ্যাকাউন্টের ১৮ লাখ বিওধারী এ নিয়ম মানেনি। একই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট একাধিক বিওতে উলেস্নখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ লাখ বিও ঢাকায়। এবং বাকী ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ঢাকার বাইরে অবস্থান
করছে। বিশ্বজিৎ দত্ত
ব্রোকারেজ হাউসের নতুন শাখা খোলা বন্ধ
আবু আলীঃ শেয়ারবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে ব্রোকারেজ হাউসের নতুন শাখা খোলার অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্তô নিয়েছে এসইসি। গতকাল কমিশনের পক্ষ থেকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে লিখিতভাবে এই সিদ্ধান্তেôর কথা জানানো হয়েছে। লিখিত নির্দেশনায় কোনও কারণ উলেস্নখ করা না হলেও বার বার তাগিদ দেয়ার পরও দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বিত সফটওয়্যার চালু না করার কারণে নতুন শাখা খোলার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত বছরের ৪ অক্টোবর বিভাগীয় শহরের বাইরে শাখা খোলার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। এখন সব রকম নতুন শাখা খোলার প্রক্রিয়া বন্ধ করা হলো।
জানা গেছে, গত দু বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রোকারেজ হাউসের নতুন নতুন শাখা চালু হওয়ায় বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে যুক্ত হয়েছেন। পুঁজিবাজার সম্পর্কে পূর্ব ধারণা না থাকায় এসব বিনিয়োগকারী কোম্পানির মৌলভিত্তি বা বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা না করেই শেয়ার কেনা-বেচায় অংশ নেন। অনেক শেয়ারের অতি মূল্যায়িনের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা ছিল। অতি মূল্যায়িত শেয়ার কিনে গত আড়াই মাসে এসব বিনিয়োগকারী বিপুল পরিমান লোকসানের শিকার হয়েছেন। বিশ্বজিৎ দত্ত
|
|
|
| 02/24/2011 5:36 pm |
 Forum Addict

Regist.: 12/31/2010 Topics: 14 Posts: 92
 OFFLINE | আরও একটি খারাপ সপ্তাহ কাটাল শেয়ারবাজার
প্রথম আলো, নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৫-০২-২০১১
শেয়ারবাজারের দরপতন ঠেকাতে নেওয়া সরকারের তৃতীয় প্রচেষ্টাও কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) চারটি সরকারি ব্যাংককে শেয়ার কেনার নির্দেশ দেওয়ার পর দুই দিন বাজার বেড়েছিল। কিন্তু এর পরের দিন থেকে বাজার আবার দরপতনের ধারায় ফেরে, যা গতকাল বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আরও একটি খারাপ সপ্তাহ কাটাল দেশের শেয়ারবাজার।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবার সাধারণ মূল্যসূচক ২১৭ পয়েন্ট বা প্রায় তিন দশমিক ৬১ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ৮০০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে সূচক কমল ৫৯০ পয়েন্টের মতো। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল মূল্যসূচক ৬৩৪ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৩৩০ পয়েন্টে নেমে আসে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার একাধিকবার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিলেও তার কোনোটিই তেমনভাবে দৃশ্যমান হয়নি। সর্বশেষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে দিয়ে বাজারে সমর্থন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইসিবিসহ কোনো ব্যাংকই বড় ধরনের কোনো সমর্থন দেয়নি।
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে দরপতন শুরু হয়। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসে যা ধসে রূপ নেয়। এ পর্যায়ে ১০ জানুয়ারি বড় ধরনের ধস দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু বিধিবিধান শিথিল করবে বলে জানায়। এতে পরের দিন বাজার আবার বাড়তে শুরু করে। কিন্তু কার্যত কোনো বিধিবিধান শিথিল না হওয়ায় বাজারে আবারও দরপতন শুরু হয়। এরপর ২৩ জানুয়ারি বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থমন্ত্রী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মুনাফার টাকা আবার বিনিয়োগের আহ্বান জানান। কিন্তু এ দফায়ও অর্থমন্ত্রীর আহ্বানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাড়া না দেওয়ায় বাজারের ধস আরও ত্বরান্বিত হয়। এতে প্রতিদিনই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। শেষ পর্যন্ত গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে শেয়ার কেনার নির্দেশ দেন। এতে বাজার দুই দিন বাড়লেও তৃতীয় দিন থেকে আবার কমতে শুরু করে। এ সময় আইসিবি ও জনতা ব্যাংক স্বল্প পরিমাণ শেয়ার কিনলেও বাজারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
যোগাযোগ করা হলে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জেনিথ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান প্রথম আলোকে বলেন, বাজারের সাম্প্রতিক গতি-প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা বাজারের ওপর কোনো আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই কোনো কারণে বাজার একটু বাড়লেই তাঁরা শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইছেন। আরও লোকসানের আশঙ্কায় তাঁরা এটা করছেন।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, পতনের সময় তারাই বাজার থেকে তুলনামূলক নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পেরেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের এখন উচিত বিনিয়োগে ফিরে এসে বাজারকে সমর্থন জোগানো। কিন্তু লেনদেনের পরিমাণ দেখে মনে হয় না যে তারা সেটা করছে।
বাজার-পরিস্থিতি: সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে গতকাল মোট ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ২৩১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। মোট লেনদেন হয়েছে ৫৫৯ কোটি টাকার, যা গত বুধবারের চেয়ে ১৪ কোটি টাকা কম।
সিএসইতে গতকাল ১৯২টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়। যার মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১৩টির, কমেছে ১৭৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল দুটির। |
|
|
| 02/24/2011 5:40 pm |
 Forum Addict

Regist.: 12/31/2010 Topics: 14 Posts: 92
 OFFLINE |
পুঁজিবাজার নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠিত হচ্ছে
প্রথম আলো, ফখরুল ইসলাম | তারিখ: ২৫-০২-২০১১
পুঁজিবাজার বিষয়ে পরামর্শ ও সুপারিশ করতে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বিদ্যমান কমিটির আদলেই তা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
পাশাপাশি এই কমিটির সুপারিশমালা যথাযথভাবে পরিপালিত হওয়ার বিষয়ে গঠন করা হচ্ছে আরেকটি কমিটি। ‘বাস্তবায়ন কমিটি’ নামের এই কমিটির নেতৃত্বে থাকছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও ব্যাংক খাতের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে এ কমিটি ভূমিকা রাখবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
১৯৬৯ সালের এসইসি অধ্যাদেশের ২৭ সেকশন অনুযায়ী ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর এসইসি চেয়ারম্যানকে প্রধান করে ২৭ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। তিন মাস পর পর এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। গত এক বছরেও কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে। এই সভা অনুষ্ঠিত না হওয়ার পেছনে অপ্রয়োজনীয় সদস্য ও কমিটির বড় আকারকে দায়ী করেন এসইসির একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা। এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকারও তা স্বীকার করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উপদেষ্টা কমিটি নতুন করে গঠন করা হচ্ছে। এবার কমিটির আকার তুলনামূলক ছোট হতে পারে।
বর্তমান কমিটিতে এসইসির তিনজন সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস বাংলাদেশ (আইসিএবি), ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস বাংলাদেশ (আইসিএমএবি), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান; এফবিসিসিআই, এমসিসিআই এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট চেম্বারের সভাপতি; বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত, ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, শেখ আবদুল হাফিজ, অধ্যাপক আবু আহমেদ, বিমা ব্যক্তিত্ব নাসির এ চৌধুরী প্রমুখ।
এসইসি সূত্র জানায়, মাথাভারী কমিটি হওয়ার কারণেই কোনো সভা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তা ছাড়া কমিটিতে এমন সব সদস্যও আছেন, যাঁদের কর্মকাণ্ড পুঁজিবাজারের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হচ্ছে। এবার মার্চেন্ট ব্যাংকও থাকবে উপদেষ্টা কমিটিতে।
জানা গেছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, সিডিবিএল, আইসিবি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই কমিটির সদস্য হবেন।
সূত্র জানায়, বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কাজও চলছে। এখনো (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত চূড়ান্ত কমিটি গঠিত হয়নি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নয়াদিল্লি থেকে দেশে ফিরে রবি-সোমবারের দিকে তা চূড়ান্ত করতে পারেন।
যোগাযোগ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সাবেক দুই অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও এম সাইফুর রহমানের সময় পুঁজিবাজার-বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশমালা গুরুত্ব দিয়ে মানা হতো। বর্তমানে এ ধরনের কোনো কমিটি আছে কি নেই, তা-ই বোঝা যায় না। স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চেয়ে তুলনামূলক নিরপেক্ষ লোকদের নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন আবু আহমেদ। |
|
|
| 02/25/2011 11:59 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারি পদক্ষেপ অপ্রতুল
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (শীর্ষ নিউজ ডটকম)
সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারের ধস ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপগুলোকে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বিল্ডিং টিকিয়ে রাখার চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা। তবে তারা এখনও বিশ্বাস করেন সরকার চাইলেই বাজারের পরিবর্তন আনতে পারেন। ব্যাপক ক্ষতি হতে রক্ষা করতে পারেন লাখো বিনিয়োগকারীকে।
উল্লেখ্য, ১০ জানুয়ারি বড় ধরনের ধস দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু বিধি শিথিল করে। সরকার বাজারে নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য ধস ঠেকাতে দফায়-দফায় আলোচনা করে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), মার্চেন্ট ব্যাংক ও বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মুনাফার টাকা আবার বাজারে বিনিয়োগের আহ্বান জানায়। এছাড়া তারল্য প্রবাহ বাড়াতে দু'ধাপে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা, আইসিবিকে ৬০০ কোটি টাকা এবং চারটি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংককে বাজারে বিনিয়োগের অনুমোদন দেয়। এর প্রভাবে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও আবার পতনের ধারায় ফিরে আসে।
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী, অনেকের মতে তা মোট বিনিয়োগকারীর ১০ ভাগের কাছাকছি। তাদের অনেকেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছেন চার-পাঁচ বছর ধরে। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চাইলে অনেকেই সরকারের সাম্প্রতিক সময়ে করা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এরিস সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী রেজাউল করিম তুষার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বাজারে বিনিয়োগ রয়েছে পনের লাখ টাকার উপরে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের উত্থান-পতন থাকতেই পারে। তবে তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ার সময় শেয়ার কেনা এবং দর কমলে বিক্রির প্রবণতা হতে বিনিয়োগকারীদের বেরিয়ে আসতে হবে। নইলে অবশ্যই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী কাজী শুভ্র বলেন, বাজারে এক লাখ টাকা বিনিয়োগের পর এখন ৭০ হাজার টাকা রয়েছে। ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিতে রয়েছি। সামপ্রতিক সময়ে সরকারের পদক্ষেপগুলোকে উল্লেখ্য করে বলেন, সরকার আসলে বিনিয়োগকারীদেরকে উপলব্ধি করতে পারছে না। তাদের ক্ষতিটাকেও সরকার খাটো করে দেখছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিরপুর বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী মো: জুয়েল বলেন, দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিতে রয়েছি। বাজারে কারসাজি না হলে কখনই তিনি এত ক্ষতির সম্মুখীন হতেন না বলে মন্তব্য করেন। বাজারকে স্থিতিশীলতার দিকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সরকার গহণ করবে এসব শিক্ষার্থীদের এখন এটাই চাওয়া।
এদিকে গত সপ্তাহের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুরুতে ২ লাখ ৭১ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বাজারমূলধন নিয়ে সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়। সপ্তাহান্তে যা ছয় হাজার আটশ ৫৬ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার একশ ৭৩ কোটি টাকায় নেমে দাঁড়িয়েছে। কমার হার ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অপরদিকে দৈনিক গড় লেনদেনও ৩.০৪ শতাংশ হারে কমেছে ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ২৬১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বৃদ্ধি পয়েছে মাত্র ৫৭টির, কমেছে ২০২টির এবং অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে ২টির দাম।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/এইচএমএম/এআইকে/১৭.৩৪ঘ.)
|
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 02/26/2011 7:47 am |
 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/27/2011 Topics: 13 Posts: 75
 OFFLINE | শেয়ার বিক্রি না করার আহবান ইনভেস্টর ফোরামের
ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি : শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ কারীদের এই মুহুর্তে শেয়ার বিক্রি না করে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ জেনারেল ইনভেস্টর ফোরামের আহ্বায়ক ইয়াকুব আলী খন্দকার। তিনি বলেন আস্থা না হারিয়ে বাজার পর্যবেক্ষণ করে শেয়ার বিক্রয় করুন। নচেত আরো ক্ষতির মুখে পরতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন অর্থমন্ত্রী বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলোকে নগদ অর্থ দিয়ে শেয়ার ক্রয়ের পরামর্শ দিলেও বাজারে তার ফলাফল তেমন দেখছি না। শেয়ার বাজারে সুচক ৬ হাজারের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বর্তমানে ২৮ শত থেকে ৩ হাজারের বেশি হবেনা। আজ শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ রিপোটার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জেনারেল ইনভেস্টর ফোরাম আয়োজিত শেয়ার বাজারের বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন বাজারে এখনও সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। কারণ বাজারে এই মুহুর্তে শেয়ার বিক্রেতা নেই বললেই চলে তারপরও কিভাবে শত শত শেয়ার ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। সবাই আজ সংঘটিত কিন্তু বিনিয়োগকারীরা সংঘঠিত না হবার ফলে আজ বাজারের এ অবস্থা। তাই সংগঠনের সদস্যদেরকে সদস্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সংগঠনকে আরো সুসংঘঠিত করার পরামর্শ দেন। তিনি এ সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। পরামর্শে বিনিয়োগ কারীরা বলেন আমাদের চোখের জল শুকিয়ে গেছে কাঁদতে গেলেও আর চোখে পানি আসেনা। তারা সভাপতির কথায় একমত হয়ে হাত উচু করে শেয়ার বিক্রয় না করার প্রতিশ্রুতি দেন। আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন নাঈম ও বিপ্রজিত গুন সহ ফোরামের সদস্যবৃন্দ।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/এএফইউ/এসসি/ ১৮.৪৫ঘ)
|
|
|
| 02/26/2011 12:38 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE |
ডিএসই
শুরু উত্থানে, শেষ পতনে
প্রথম আলো
আব্দুল্লাহিল ওয়ারিশ | তারিখ: ২৬-০২-২০১১
পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পরও গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ১২৫ পয়েন্ট কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম, আর্থিক লেনদেন ও বাজার মূলধন। গেল সপ্তাহের চার কর্মদিবসের মধ্যে প্রথম দিন বাজার চাঙা থাকলেও শেষ তিন দিন দরপতনের ঘটনা ঘটে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও তার কোনোটিই তেমন কাজে আসছে না। আর এ জন্য অনেকে বিনিয়োগকারীর অযৌক্তিক আস্থাহীনতাকে দায়ী করছেন তাঁরা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পর বাজার কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তিন দিনের দরপতন অনেকটা অস্বাভাবিক ব্যাপার। এর জন্য তিনি বিনিয়োগকারীদের অযৌক্তিক আস্থাহীনতাকে দায়ী করছেন।
সাবেক এই উপদেষ্টার মতে, ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের মূল্য-আয়ের অনুপাত বা পিই বেশ ভালো। এ অবস্থায় ওইসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার কথা নয়। তবে বাজারে দেখা যাচ্ছে দাম বাড়লে একসঙ্গে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ছে। আবার দাম কমলে একসঙ্গে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমছে। সুতরাং এটা বিনিয়োগকারীদের অপরিপক্বতার লক্ষণ। তিনি জানান, বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রথমেই প্রয়োজন বিনিয়োগকারীদের আস্থা। একই সঙ্গে দরকার বড় বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসা।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪৬৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার দরপতনের ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে ডিএসইর সাধারণ সূচকে ১২৫ পয়েন্টের পতন হয়। সপ্তাহের শুরুতে রোববার সূচক ছিল ৫৯২৬ পয়েন্ট যা সপ্তাহ শেষে বৃহস্পতিবার ২.১২ শতাংশ কমে ৫৮০০ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
এ ছাড়া গেল সপ্তাহে ডিএসইতে ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ২০২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল দুটির।
এ ছাড়া আর্থিক লেনদেন গড়ে প্রতিদিন ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৬৬৮ কোটি টাকা করে হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬৮৯ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের পরিমাণ দুই হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা।
এ ছাড়া গেল সপ্তাহে ডিএসইর বাজারমূলধন ২.৫৪ শতাংশ কমে দুই লাখ ৬৪ হাজার ১৭৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল দুই লাখ ৭১ হাজার ৪৯ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে লেনদেনে শীর্ষে থাকা দশটি প্রতিষ্ঠান হলো—এনবিএল, বেক্সিমকো, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, বেক্সটেক্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ওয়ান ব্যাংক, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, প্রাইম ফিন্যান্স ও তিতাস গ্যাস।
সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে দাম বাড়ায় শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—প্রাইম ফিন্যান্স, আইডিএলসি ফিন্যান্স, এশিয়া ইনস্যুরেন্স, ফিনিক্স ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এসিআই, ফার্স্ট লিজ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, গ্লাক্সো স্মিথকেলাইন, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, বেক্সটেক্স ও বিডি ফিন্যান্স।
সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—বিডি ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রডস, সিএমসি কামাল, এনবিএল, ইউসিবিএল, তাল্লু স্পিনিং, রহিমা ফুড, আনলিমা ইয়ার্ন, বার্জার পেইন্ট, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও ইমাম বাটন। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
| 02/27/2011 7:06 am |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | পুঁজিবাজারে ঋণের পরিমাণ ৭৬৩০ কোটি টাকা
আলতাফ মাসুদ, ২৬ ফেব্রুয়ারি (শীর্ষ নিউজ ডটকম)
মাত্র চার মাসের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিশেষ করে ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ সময়ের মধ্যে নিজস্ব পোর্টফোলিওতো বটেই তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে গ্রাহকদের দেয়া ঋণের পরিমাণও কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। গত বছর অতি মূল্যায়িত বাজারে ঋণ বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলেও বর্তমানে শেয়ারের দর নাগালের মধ্যে আসার পরও বিনিয়োগ না বাড়ানোয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুঁজিবাজারে ঋণ বাবদ বিনিয়োগের পরিমাণ কমে আসার পেছনে কয়েকটি বিষয় চি্ি#৮২০৬;হ্নত করা হয়েছে। এরমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পৃথকীকরণ, একক গ্রাহকদের ঋণ প্রদানে সীমাবদ্ধতা, শেয়ারের দরহ্রাস পাওয়ায় ফোর্স সেলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং সর্বোপরি পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা।
জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অধিকাংশ মার্চেন্ট ব্যাংক পৃথক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূলধন কমে গেছে। যার কারণে পুঁজিবাজারে ঋণ বাবদ এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পরিমাণ কমেছে বলে জানিয়েছে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পুঁজিবাজারে বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তাদের গ্রাহককে দেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ছিল। কিন্তু মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে এ ঋণের পরিমাণ অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পুঁজিবাজারে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর গ্রাহককে দেয়া ঋণের পরিমাণ হচ্ছে সর্বমোট ৭৬৩০ কোটি টাকা। এরমধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে ঋণ বাবদ বিনিয়োগ ৪৩৬৪ কোটি টাকা এবং ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিনিয়োগ রয়েছে ৩২৬৬ কোটি টাকা। গত চার মাস আগে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকের গ্রাহককে ঋণ বাবদ বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। অপরদিকে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। গত ২১ সেপ্টেম্বর মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনের তৎকালীন সভাপতি আরিফ খান শীর্ষ নিউজ ডটকমকে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে সে সময়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ঋণের সঠিক পরিমাণ জানা না গেলেও ধারণা করা হয় এ পরিমাণ কোনোভাবেই ৬ হাজার কোটি টাকার কম ছিল না। তবে পুঁজিবাজারে সর্বমোট মার্জিন ঋণের সঠিক তথ্য কোনো সংস্থার কাছেই ছিল না। যদিও সমপ্রতি সিকিউরিটিজ এন্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ঋণের তথ্য সংগ্রহে তৎপর হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজারে ঋণ বাবদ বিনিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ হাস্যকরভাবে কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী পুঁজিবাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বেশি থাকলেও অজানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যমতে পুঁজিবাজারে ঋণ বাবদ বিনিয়োগের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ মাত্র ৪৬২ কোটি টাকা। পুঁজিবাজারের অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে সরকারের অর্থমন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায় থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সে ডাকে সাড়া দেয়নি। অপরদিকে সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী পুঁজিবাজার থেকে মুনাফার একটি অংশ পুনঃ বিনিয়োগের বিষয়টিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো নির্দেশনা না আসায় বাজার থেকে তুলে নেয়া অর্থ ফেরত আসার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। যার প্রভাবে পুঁজিবাজারে তারল্য সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করছে।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকের ঋণ বাবদ বিনিয়োগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এবি ব্যাংক। পুঁজিবাজারে এ প্রতিষ্ঠানটির ঋণ বাবদ বিনিয়োগ রয়েছে ৬৭১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এরপরই রয়েছে প্রাইম ব্যাংক ৫৯৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, লংকা বাংলা ফাইন্যান্স ৪৪২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংক ৪৯৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, আইসিবি ১৯১ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক ৩৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা, আইআইডিএফসি ৫৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ২৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক ৯৯ কোটি ৬ লাখ টাকা, প্রাইম ফাইন্যান্স ৩১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা, বাংলাদেশ মিউচ্যুয়াল সিকিউরিটিজ ৫০ কোটি ১৭ লাখ টাকা, জনতা ক্যাপিটাল ১৪৭ কোটি ৫ লাখ টাকা, বে লিজিং ৯৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ইসি সিকিউরিটিজ ৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংক ২১১ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ২৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, পিএলএফএসএল ১৩৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, এঙ্মি ব্যাংক ৪২ কোটি ১২ লাখ টাকা, আইডিএলসি ১০৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, পুঁজিবাজারে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বমোট কত টাকা ঋণ রয়েছে সে বিষয়ে ডিএসইর কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে বর্তমানে যে ঋণের পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে সেটি মোটামুটি স্পষ্ট। পুঁজিবাজারে ঋণের এ প্রবাহ কমে আসার জন্য তিনি ব্যাংকগুলোকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো গত ২ বছর পুঁজিবাজারে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে এবং সেই বিনিয়োগ থেকে প্রচুর মানাফা করেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বিনিয়োগের একটি বড় অংশ তুলে নেয়ায় বাজারে তারল্য সঙ্কটের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর এ আচরণ ঠিক হয়নি। শাকিল বলেন, ব্যাংকগুলোর আমানতকারীর অর্থের যেমন সুরক্ষা করতে হবে তেমনি পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে। অথচ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি চিন্তা না করেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের প্রাধান্য দিয়ে হঠাৎ করেই পুঁজি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এভাবে দ্রুত একবারে পুঁজি প্রত্যাহার না করে পর্যায়ক্রমে সহনীয় মাত্রায় প্রত্যাহার করলে আজ পুঁজিবাজারের এ অবস্থা তৈরি হতো না।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ এএম/ এনএম/এসসি/২০.৪২ঘ.)
|
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|
|