Page 1 / 1
News 10.04.2011
04/10/2011 12:29 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
ক্ষমতাবানদের নাম প্রকাশে রহস্যময়তা
* অর্থমন্ত্রীর কিসের ভয় ** মানুষের মুখে মুখে দরবেশ, ফালু, বাদল, রাকিব, আজিজ খান

The Bangladesh Pratidin
পীর হাবিবুর রহমান

শেয়ারবাজার বিপর্যয়ের কারসাজিতে জড়িত যে সব ক্ষমতাবানের নাম তদন্তে এসেছে তা জনসমক্ষে প্রকাশ নিয়ে সরকারের ওপর মহলে গভীর রহস্যময়তা সৃষ্টি হয়েছে। অবাক বিস্ময়ে হতবাক মানুষ বলছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শেয়ার কেলেঙ্কারির তদন্তে আসা ভিলেন বা ক্ষমতাবানদের নাম প্রকাশে কিসের ভয় পাচ্ছেন! '৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, সুমহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ভূমিকা রাখা এককালের প্রতাপশালী সরকারি আমলা, সৎ, সাহসী, নির্লোভ নিরহংকারী এক সৃজনশীল নীতিবান মানুষের প্রতিকৃতি মুহিত। যে মুহিত দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সেনাশাসক এরশাদের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে মুহূর্ত বিলম্ব করেননি আজ তিনি যখন বলেন, শেয়ার কারসাজির সঙ্গে সম্পৃক্তদের নাম প্রকাশ করা যাবে না, কারণ ওরা ক্ষমতাবান। অর্থমন্ত্রীকে ভীষণ ভালোবাসলেও এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুঃখিনী বাংলার মানুষের পরম আশ্রয় ভাবে তখন তিনি কিসের ভয় পাচ্ছেন! সবার প্রশ্ন যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের রেহাই নেই। কিভাবে গরিবের রক্ত চুষে ওরা টাকা বানায়! সেখানে আজ অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে এই ক্ষমতাবানদের হাত কি সরকারের হাতের চেয়ে বড়? জনগণের শক্তির চেয়ে কি ওদের লুটের অর্থের গরম অসহনীয়, মধ্যবিত্ত লাখ লাখ পরিবারের মানুষকে রিক্ত-নিঃস্ব করে তাদের ঘরে ঘরে হতাশা-অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে আর্থিক টানাপোড়েনের মুখে ফেলে দিয়ে যারা দুহাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটেছে তাদের নাম দেশের জনগণ জানবে না কেন। আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত তারা ঠাণ্ডা মাথার খুনি। যথার্থই বলেছেন কাদের। মানুষের হৃদয়ের ভাষা উপলব্ধি করলে এমন কথা অন্তর থেকেই আসে। এটা ওবায়দুল কাদেরের কথা নয়, এটা এদেশের কোটি কোটি মানুষেরই কথা। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ যাকে এক সময় দুর্নীতির বরপুত্র বলা হতো। তিনিও পরবর্তী দু-এক শাসনামলের দুর্নীতির চিত্র দেখে নিজেকে শিশু ছাড়া কিছু ভাবেননি। এমনকি শেয়ার কেলেঙ্কারির ভিলেনদের নাম প্রকাশ না করায় তিনি বলেছেন, এতে আমি দুঃখিত-হতবাক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন নাম প্রকাশ করতে। সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, লুকোচুরির ফল ভালো নয়। তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন এদের নাম প্রকাশ করা উচিত, করতে হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতির একজন কৃতী সন্তান। জীবন সায়াহ্নে এসে আজ দেশবাসীর আকুতি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্রন্দন আর্তনাদের তপ্ত দীর্ঘশ্বাস যদি স্পর্শ করে তবে নিশ্চয় তিনি ওরা যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন তাদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচিত করে দেবেন বিবেকের তাড়নায়। এটা যখন সবার প্রত্যাশা তখন অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য দেশবাসীকে হতাশ, ব্যথিত এবং ক্ষুব্ধ করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সেই সৎ, নির্লোভ মানুষ যিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে তার নেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পাওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত দিয়ে বিস্মিত করেছিলেন। এই অর্থমন্ত্রী সেই মানুষ যাকে বিগত ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে একজন সৃজনশীল তারকা ব্যবসায়ী নেতা আর্থিক অনুদান দিতে চাইলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা ফিরিয়ে দেন। বলেছিলেন, নির্বাচনী খরচ মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যা দিয়েছেন তাই যথেষ্ট। আমি কারও কাছ থেকে কোনো অর্থ নেব না। কাউকে নিতেও দেব না। বিএনপি আমলে সাবেক অর্থমন্ত্রী সিলেটে অনেক লুটেরা গডফাদার তৈরি করলেও মুহিত এক বিরল দৃষ্টান্ত, যিনি কোনো বিতর্কিত দাপুটে লুটেরার জন্ম দেননি। সবার প্রশ্ন নৈতিক দিক থেকে এতটাই যদি উন্নত ও স্বচ্ছ হয় অর্থমন্ত্রীর চরিত্র তাহলে কেন তিনি বলবেন ওরা ক্ষমতাবান! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলেন, তার সরকার শাসক নয়, সেবক। তার দিনবদলের স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে জনগণ তার ইমেজকে আকাশ চূড়ায় নিয়ে নৌকার পক্ষে বিপুল গণরায় দিয়েছে। এ যেন গণরায় নয়, ছিল গণজোয়ার। প্রধানমন্ত্রীর পুত্র, বোন তো ক্ষমতার সীমানা থেকে হাজার মাইল দূরে আছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই। সব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলেও প্রশ্ন থেকে যায়, দু'বছরে সরকারের জনপ্রিয়তা কতটা কমেছে। কমার জন্য কে কতটা দায়ী। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির হৃদয়হীন লুটেরাদের চিহ্নিত করতেই তো প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী তদন্ত কমিটি করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রেহাই নেই জড়িতদের। তাই যদি হয় তাহলে ওই সব খলনায়ককে চিহ্নিত করে গরিবের টাকা উদ্ধার ও শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে তো সরকারের ইমেজ ঘুরে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী-অর্থমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। অনেকের প্রশ্ন, অর্থমন্ত্রী কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি মনে করেন না তদন্তের আগেই এ ভিলেনদের নাম তার কাছে আসেনি। তদন্ত দল প্রধান ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, তদন্তে ৬০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দেশের মানুষের মুখে মুখে আজ দরবেশ সালমান এফ রহমান, মোসাদ্দেক আলী ফালু, লুৎফর রহমান বাদল, বাণিজ্যমন্ত্রীর কথায় বাজারের দ্রব্যমূল্যই লাফায় না, শেয়ার কেলেঙ্কারিতে তার ভাই সামিট গ্রুপের আজিজ খানের নামও জোরেশোরে আলোচিত হয়। তাই নয়, আ হ ম মোস্তফা কামাল লোটাসকে যখন মানুষ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ময়দানে দেখেছেন তখন তার দিকে শেয়ার কেলেঙ্কারির খলনায়ক হিসেবেই এদেশের দর্শকদের আঙ্গুল উঠেছে। এছাড়া আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া, কফিল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, রোকসানা আখতার, ফারজানা আখতার, মনসুর বিল্লাহ_ এ চারজনের ব্যাংক একাউন্টে পাওয়া গেছে ৪০০ কোটি টাকার লেনদেনের হেরফের। তারা নিজেরাই বলতে পারেননি এ টাকার উৎস কোথায়। হাসান ইমাম রুবেলসহ আরও কিছু তরুণের নাম এসেছে। দু-চারজন সাংবাদিকের নামও বাদ যায়নি। ওয়ান-ইলেভেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি ছিলেন রকিবুর রহমান। সে সময় সবাইকে নিয়ে ফেনীর বাড়িতে বনভোজন করেছিলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী কি করে এই রকিবুর রহমানের নাম প্রকাশ করবেন না? যিনি নিজের ক্ষমতা ও দাপটে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনকে ঠুঁটো জগন্নাৎ বানিয়ে রেখেছিলেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। রকিবুর রহমানের ক্ষমতার উৎস কি। অর্থমন্ত্রী যেখানে স্বচ্ছ, সরকার যেখানে স্বচ্ছ সেখানে এ ক্ষমতাবানদের নাম প্রকাশ করে দিতে কেন কার্পণ্য। অবাক বিস্মিত মানুষের প্রশ্ন, ওরা কেনইবা ক্ষমতাবান? এ লুটেরাদের বাদ দিয়ে যদি এসইসি বা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ ঢেলে সাজানো হয়, কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া হয়, তাহলেই কি উপযুক্ত পদক্ষেপ হবে? মানুষের ক্ষোভ-দুঃখ-বেদনা প্রশমিত হবে? প্রধানমন্ত্রী বরাবর মানুষের ভাষা শুনতে চান। গরিবের পক্ষে কথা বলেন। তার জনগণ তাকে ভালোবেসে ডাকে জননেত্রী। তিনি সেই দেশ ও দলের নেত্রী যে দেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, তিনি শোষক নন, শোষিতের পক্ষে। তিনি বলেছিলেন, আমার কৃষক, আমার শ্রমিক দুর্নীতি করে না, চুরি করে না, দুর্নীতি ও চুরি করে শিক্ষিতরা। রকিবুর রহমানরা সিন্ডিকেট করে এসইসিকে নিষ্ক্রিয় করে আইনের ফাঁক গলে লুটে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের অর্থ। চাকরি না পাওয়া তরুণের পুঁজি। অবসরপ্রাপ্ত মানুষের পেনশনের টাকা, গৃহিণীদের সঞ্চয়পত্র ডিপোজিট ভাঙানো টাকা হারিয়ে মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে বোবা-কান্না। তাই তো সরকারের দিকে, প্রধানমন্ত্রীর দিকে, অর্থমন্ত্রীর দিকে মানুষের দৃষ্টি। মানুষ ন্যায়বিচার চায়। মানুষ তার ন্যায্য পাওনা ফেরত চায়। লুটেরাদের বিচার চায়। অর্থমন্ত্রী জানেন ভারতে রেল দুর্ঘটনার জন্য লাল বাহাদুর শাস্ত্রি পদত্যাগ করেছিলেন রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে। পরে প্রধানমন্ত্রী হন। জগমোহন রামও পদত্যাগ করেন। পাশের দেশ বাদ দিন। খালেদা জিয়ার '৯১ সালের সরকারে সার সংকট দেখা দিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি ত্রুটির কারণে। কিন্তু শিল্পমন্ত্রী জহিরুদ্দিন খান দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করে নজির সৃষ্টি করেছিলেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মুহিত পদত্যাগ করুন এমনটি মানুষ চায় না। চায়, তিনি সাহসী হন। বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার অন্তরাত্মা যা বলে তাই করুন। সাহসের সঙ্গে ক্ষমতাবানদের নাম প্রকাশ করুন।
Quote   
04/10/2011 12:31 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
পিলে চমকানো তথ্য আছে
ইব্রাহিম খালেদ


The Bangladesh Pratidin
মানিক মুনতাসির

শেয়ারবাজার কারসাজির ঘটনায় দোষীরা চিহ্নিত হওয়ার পরও যদি পার পেয়ে যায় তাহলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে। সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাও উঠে যাবে। সংক্ষিপ্ত সময় তদন্ত করে যেসব তথ্য উঠে এসেছে তাতেই পিলে চমকে যাওয়ার মতো অবস্থা। সময় নিয়ে তদন্ত করলে আরও ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ।

গতকাল বিকালে এই প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, প্লেসমেন্ট নিয়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে তিনি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। দুটি ঠিকানায় ১৯ কোটি কতটা সূক্ষ্ম তা দেখে কমিটির অন্য সদস্যরাও হতবাক হয়ে যান। বড় বড় বিনিয়োগকারীর আড়ালে যারা শোষকের ভূমিকা পালন করেছেন তাদের শাস্তি না দিলে এমন ঘটনা আবারও ঘটবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। যেসব রাঘব-বোয়ালের নাম এসেছে তাদের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সে সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে এবং তার তদন্ত কতটা সফলতা পাবে এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইব্রাহীম খালেদ। আনোয়ারুল কবীর ভূইয়া, মন্ত্রী ফারুক খানের ভাই আজিজ খান, সালমান এফ রহমান, রকিবুর রহমান ও লুৎফর রহমান বাদলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এক বছর সময় নিয়ে তদন্ত করলে আরও অনেক রাঘ-বোয়ালের নাম বেরিয়ে আসবে। ভুয়া বিও একাউন্ট, একই ব্যক্তির নামে-বেনামে বিভিন্ন বিও একাউন্ট নিয়ে যে প্রতারণা করা হয়েছে এর প্রকৃত চিত্র তুলে আনা সম্ভব হয়নি। কারণ সময় ছিল অত্যন্ত কম। শুধু বড় বড় আর আলোচিত ও সন্দেহজনক জায়গাগুলোতে হাত দেওয়া হয়েছে। বাজারকে স্থিতিশীল করতে হলে এবং তাদের হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে গড়িমসি করা আর প্রতারণা করা একই কথা বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করে আরও অধিক তদন্ত করারও আহ্বান জানান কমিটি প্রধান। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে কারসাজির বিষয়ে এসইসিকে মূল দায়ী হিসেবে শনাক্ত করার কারণ কি জানতে চাইলে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, শেয়ারবাজারের (আইপিও, প্রাইভেট প্লেসমেন্ট) অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করতে গিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে একটাও আইনগত অভিযোগ দাঁড় করানো যায়নি, কারণ এর প্রতিটি ক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদন ছিল। এসব কথা প্রতিবেদনেও উল্লেখ করে এসইসির চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে বলা হয়েছে। প্রাইভেট প্লেসমেন্ট নিয়ে অনিয়ম মহামারী আকার ধারণ করেছিল।

সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সামরিক অফিসার, বেসরকারি কোম্পানি, ব্যাংক, বীমা কর্মকর্তাসহ এমন কোনো পেশাজীবী পাইনি, যারা প্লেসমেন্ট পাননি।



অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে হয়তো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আংশিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা ঠিক হবে না। প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তারা দোষী এবং প্রতারণাকারী অতএব তারা যে দলেরই হোক যত ক্ষমতাবানই হোক তাদের নামসহ এটি প্রকাশ করা উচিত। এটি জনগণের সম্পদ। কারণ মানুষে খেয়ে না খেয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে আর তারা প্রতারণা করে টাকা লুটে নেবে এটা তো মহাদুর্নীতি।
Quote   
04/10/2011 12:32 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
লুকোচুরির ফল ভালো নয়
আকবর আলি খান


The Bangladesh Pratidin

শেয়ার বাজারে কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের নিয়ে লুকোচুরি করলে এর ফল ভালো হবে না। বরং বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের অর্থনীতি, নিঃস্ব বিনিয়োগকারী ও জনগণের স্বার্থে এর রিপোর্ট প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। দোষীদের নাম বাদ দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করার ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন তিনি।

গতকাল মোবাইলে ফোনে তার সঙ্গে এই প্রতিবেদক আলাপকালে বলেন, যাদের ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তারা যে দলেরই হোক না কেন এদের ব্যাপারে সরকারের নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। '৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যারা সে সময় শত শত কোটি টাকা লুটে নিয়ে পার পেয়ে যায়, তাদের ব্যাপারে এবারও অভিযোগ উঠেছে তথ্য-প্রমাণও হাতে আছে সে ক্ষেত্রে নয়-ছয় করলে জনগণও এর জবাব দেবে। এছাড়া পুঁজিবাজার দেশের বেকার যুবকদের নিরাপদ কর্মসংস্থানের জায়গা, এটা নষ্ট করলে সামষ্টিক অর্থনীতিও চাপের মুখে পড়বে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দেখার সুযোগ হয়তো তার হবে না। কিন্তু পত্রপত্রিকার খবর পড়ে যেটুকু জেনেছেন তাতে ডিএসই, সিএসই, এসইসি ও আইসিবিসহ যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নাম এসেছে তাদের দ্রুত সরিয়ে দেওয়া উচিত। এমনকি উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া দরকার। যেন পরবর্তীতে এমন কাজ করার সাহস কেউ না করে।

সরকার যে অধিক তদন্তের কথা বলছে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে যাদের নাম এসেছে আগে তাদের নাম প্রকাশ করা উচিত। পরে প্রয়োজনে আবার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সরকারি চাকরিজীবীসহ যারা আইন ও নিয়মকানুন লক্সঘন করে বিনিয়োগের নামে জুয়া খেলেছেন আগে তাদের বিচার হওয়া উচিত।
Quote   
04/10/2011 12:35 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
দোষীরা শাস্তি না পেলে আবার কারসাজি হবে

প্রথম আলো
বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ১০-০৪-২০১১

১৯৯৬-এর শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনায় কারও শাস্তি হয়নি। এবারও শাস্তি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাস্তি হয় না বলেই বারবার বাজার কারসাজির ঘটনা ঘটছে। তাঁরা মনে করেন, প্রচলিত আইনেই শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে এবারের তদন্ত কমিটিও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। কমিটি মত দিয়েছে, ঘটনা ঘটলে তদন্ত কমিটি গঠন না করে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য একটি স্থায়ী কমিটি বা টাস্কফোর্স থাকা উচিত।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, এভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে তেমন লাভ হবে না। বরং সার্বক্ষণিক তদন্তের ব্যবস্থা থাকলে কারসাজি ঘটলেই ধরা সম্ভব হতো। ঘটনা চিহ্নিত করার সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দিলে কারসাজির ঘটনা অনেক কমে যাবে।
শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিদ্যমান আইনেই শাস্তি দেওয়া যায় বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, অন্যায়ের ধরন অনুযায়ী এসইসির কর্মকর্তাদের সংস্থাটির নিজের আইনেই শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এটা হলো স্থায়ী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে। আর কেউ যদি চুক্তিতে নিযুক্ত থাকেন, সরকার সেই চুক্তি বাতিল করাসহ আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
মির্জ্জা আজিজুল আরও বলেন, অন্যদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও আইন-কানুন রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা করা যায় ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সীমাহীন অঙ্কের। জেল হওয়ারও বিধান রয়েছে। তবে তার আগে স্পষ্ট করতে হবে, কে কোন আইনের কোন ধারা লঙ্ঘন করেছে। নইলে আদালতে প্রমাণ করা যাবে না।
উদাহরণ দিয়ে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ফৌজদারি মামলার সঙ্গে তুলনা করা যায়। যেমন, এ ক্ষেত্রে প্রথমে অভিযোগ গঠন করে তারপর তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে কিছু প্রমাণ না পাওয়া গেলে ওখানেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন। আর পাওয়া গেলে মামলা ওঠে আদালতে। শুনানি হয়, তারপর রায়। এ ক্ষেত্রেও সে রকম হবে।
সূত্র জানায়, কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পরিদর্শন ও তদন্ত করার জন্য একটি আলাদা বিভাগ তৈরির সুপারিশ করেছে। এই বিভাগে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। তবে সবার আগে এসইসির পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব এবং সেটাই উচিত। এ জন্য আইনজীবী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞসহ বড় আকারের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করতে হবে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সেই কমিটি এমন সব তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করবে, যাতে আদালতে তা গ্রহণযোগ্য হয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ খান মনে করেন, তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে না। খেয়াল রাখতে হবে, অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড এক জিনিস নয়। বরং যে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে এসেছে, সেগুলো থেকে কয়েকটিকে বাছাই করে গভীর তদন্তে যাওয়া দরকার। তিনি বলেন, ‘যথাযথ তদন্ত না করার ভুলটা হলে ’৯৬-এর পরিণতি হবে এবং অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’
এদিকে তদন্ত কমিটি সবচেয়ে বেশি প্লেসমেন্ট পেয়েছে এমন ৩০ ব্যক্তির একটি তালিকা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করে দিয়েছে। কমিটি সরকারকে এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করার সুপারিশ করেছে। কমিটি বলেছে, এই ৩০ জন শীর্ষ প্লেসমেন্টধারীর অর্থসংস্থান ও আন্তসংযোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে এসইসি। পাশাপাশি কমিটি প্লেসমেন্টে শেয়ার দেওয়ার পদ্ধতি বন্ধ বা সীমিত করার সুপারিশ করে বলেছে, বর্তমানে প্রাথমিক শেয়ারের আবেদনের বিপরীতে বহু গুণ অর্থ জমা পড়ছে। এ অবস্থায় প্লেসমেন্ট নিষ্প্রয়োজন। কমিটি মনে করে, প্লেসমেন্ট এখন ঘুষের আধুনিক সংস্করণে পরিণত হয়েছে।
প্লেসমেন্টের নামে ঘুষ দেওয়ার অনেকগুলো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে বলে সূত্র জানায়। এদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যাই বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও রয়েছেন। কমিটি সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি একাধিকবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছে এবং বৈঠকে দেওয়া তথ্য বৈঠকের পরপরই বড় বড় ‘মার্কেট প্লেয়ারের’ কাছে পাচার করা হয়েছে।
কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছে, সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বেড়েছে। অফিসের কাজকর্ম ফেলে কম্পিউটারে বসে শেয়ার কেনাবেচায় ব্যস্ত থাকার দৃশ্য প্রতিটি অফিসেই দেখা যাচ্ছে। এতে অফিসের কাজকর্মে ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসিতেও এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। ব্যাংকগুলোতেও এই প্রবণতা প্রবল।
কমিটি আরও বলেছে, মিউচুয়াল ফান্ড ও আইপিওসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে প্লেসমেন্ট দেওয়া ঘুষ প্রদানের নতুন সংস্করণে পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী কর্মকর্তাসহ অন্যদের আনুকূল্য লাভের প্রত্যাশায় এটি ব্যবহূত হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বেনামি প্লেসমেন্ট নিয়ে থাকেন। বেনামি চিহ্নিত করাও কঠিন। সরকারি ও প্রভাবশালী মহল সুবিধা নেওয়ার ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার বিনষ্টকরণে এসইসির ভূমিকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হয়েও মার্কেট প্লেয়ারদের পরামর্শে পরিচালিত হওয়া এবং যোগসাজশে অনৈতিক কর্মে বৈধতা প্রদান, বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, শৈথিল্য প্রদর্শন প্রভৃতি কারণে এসইসির ভাবমূর্তি অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কমিশনের বৈধ নির্দেশ না মানারও সাহস জন্মেছে। কমিটি এ বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে বলেছে, গত ২১ মার্চ এসইসির অনুমতি নিয়ে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে তদন্ত কমিটি কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য কর্মকর্তা পাঠালেও কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মূর্তজা আহমেদ কার্যালয়ে ঢুকতে দেননি। পরদিন এসইসি আবারও ফোন করে লোক পাঠালে শেখ মূর্তজা আবার বাধা দেন। এ রকম আরও কিছু ঘটনা কমিটি প্রত্যক্ষ করেছে। এ ধরনের ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এসইসির বড় রকম পুনর্গঠন প্রয়োজন।
সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি তিন শীর্ষ কর্তকর্তাকে অপসারণ করে এসইসির পুনর্গঠনের সুপারিশ করলেও সরকারের একটি অংশ ধীরে চলার নীতি অনুসরণ করতে চায়। মূলত প্লেসমেন্ট-বাণিজ্যের সুবিধাভোগীরাই এসইসির বর্তমান নেতৃত্বকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন যাতে প্রকাশ না পায় এবং যাতে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, সে জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আবু আহমেদ স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে এসইসির প্রায়ই বৈঠক করাকে সমালোচনা করে বলেন, সারা বিশ্বেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখার জন্য এসইসির মতো সংস্থাগুলো কাজ করে। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টো। এসইসি বরং স্বার্থ দেখে বড়দের।
Quote   
04/10/2011 12:36 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি

প্রথম আলো
অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ১০-০৪-২০১১


লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৬ জুন বেলা ১১টায় ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৭ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ৯.০২ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ৪২২,৯০,৪০,০০০ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৩.৯২ টাকা।  
Quote   
04/10/2011 12:41 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
বিডি ফাইন্যান্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

প্রথম আলো
অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ১০-০৪-২০১১

বিডি ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ২২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২১ জুন সকাল ১০টায় ঢাকার কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৮ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ৫.৫৯ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ২১.১৭ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৬.৮২ টাকা।  
Quote   
04/10/2011 12:46 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
দরপ্রস্তাবে বরাদ্দ শেয়ারে ১৮০ দিনের লক-ইন আরোপের সুপারিশ
বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সম্পর্কে তদন্ত কমিটির সুপারিশ


The Daily janakantha
রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০১১, ২৭ চৈত্র ১৪১৭

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির দুর্বলতা দূর করতে বেশকিছু সুপারিশ দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের সময় যেসব প্রতিষ্ঠান মূল্য প্রস্তাব করবে সেসব প্রতিষ্ঠানকে গড় মূল্যে ১০ শতাংশ শেয়ার ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রসত্মাবকারীদের বরাদ্দ দেয়া শেয়ার বিক্রির ৰেত্রে ১৮০ দিনের নিষেধাজ্ঞা (লক-ইন) আরোপেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতির মূল্যায়ন করতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার বিকৃতির একটি প্রধান প্রক্রিয়া হিসেবে বের হয়ে এসেছে বুকবিল্ডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের উচ্চমূল্য নির্ধারণ। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে খুলনা পাওয়ারের (কেপিসিএল) ১০ টাকা শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধার্য হয় ১৬২ টাকা। প্রথম দিন বিক্রিমূল্য ছিল ১৯৪.২৫ টাকা। বর্তমানে (২৯ মার্চ) এই শেয়ারের বাজারমূল্য মাত্র ৯৬.৯০ টাকা, অর্থাৎ প্রথম বিক্রিমূল্য থেকে ৯৭.৩৫ টাকা হ্রাস পেয়েছে। বুক-বিল্ডিং মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে ওশন কন্টেইনারের (ওসিএল) ১০ টাকার শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ছিল ১২১.৪০ টাকা, প্রথম বিক্রিমূল্য ১৪৫ টাকা এবং বর্তমানে (২৯ মার্চ) বাজারমূল্য ১০৯.১০ টাকা অর্থাৎ প্রথম বাজারমূল্যের চেয়ে ৩৬.৯০ টাকা কম। প্রমাণ হয় যে, কোম্পানি দুটির মূল্য নির্ধারণ ভুল ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্য নির্ধারণে কারসাজি না করলে যে মূল্যক্ষয় হয় না, তার প্রমাণ আরএকে সিরামিকস কোম্পানি। একই বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে আরএকে সিরামিকসের ১০ টাকার শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধার্য হয় ৪০ টাকা, প্রথম বিক্রিমূল্য ছিল ৪৮ টাকা এবং বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭০ টাকা অর্থাৎ প্রথম বিক্রিমূল্যের চেয়ে ৬০.৭০ টাকা বেশি। ঘ. উপরের তিনটি উদাহরণ থেকে প্রমাণ হয়, ইসু্যয়ার কোম্পানি এবং ইসু্য ম্যানেজার সৎ ও পেশাদার হলে মূল্য বিকৃতি ঘটে না। এই তিনটি উদাহরণ সামনে রেখে তদনত্ম কমিটি মনে করে, ইসু্যয়ার ও ইসু্য ম্যানেজার এই পদ্ধতিতে মূল্য কারসাজি (ম্যানিপুলেট) করতে পারে। এ কারণে পদ্ধতির দুর্বলতা দূর করা প্রয়োজন।
প্রতিদেবনে বলা হয়েছে, মূল্য বিকৃতি রোধকল্পে বিধান করতে হবে, যেসব কোম্পানি প্রাইস বিড করবে, তারা সবাই মিলে ওয়েটেড গড় মূল্যে মোট ইসু্যযোগ্য শেয়ারের অনত্মত ১০% হারাহারিভাবে ক্রয় করতে বাধ্য থাকবে। কারণ আর্থিক দায় বা স্টেক না থাকলে মূল্য নির্ধারণে দায়িত্ববোধ থাকে না। বিডারদের এইভাবে ক্রয়কৃত শেয়ারে অনত্মত ১৮০ দিনের লক-ইন থাকবে।
তদনত্ম কমিটি প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে স্থিরমূল্য (ফিঙ্ড প্রাইস) পদ্ধতিকেও আরও বাসত্মবসম্মত করার সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, স্থির মূল্য পদ্ধতিতে শেয়ারমূল্য নির্ধারণে জটিলতা কম হলেও অধিকতর বাসত্মবসম্মত এবং অবজেকটিভ করার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যত তিন বছরের প্রক্ষেপিত (প্রজেক্টেড) আয় বিবেচনার সুযোগ আইনে রাখা হয়েছে_ যা প্রশ্নসাপেক্ষ। পূর্ববর্তী বছরের সমজাতীয় স্টকের বাজারমূল্য বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সমজাতীয় স্টকের সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
সুপারিশে বলা হয়েছে, তিন বছরের প্রজেক্টেড মূল্য নির্ণয়ের ভিত্তি, পদ্ধতি এবং ভ্যালুয়েশন লিপিবদ্ধ করতে হবে। এসইসির নিকট গ্রহণযোগ্য বিবেচিত না হলে প্রত্যাখ্যান করা হবে। সমজাতীয় স্টকের সংজ্ঞা নির্ণয় করতে হবে। তদনত্ম কমিটির মতে, বিবেচনাকালীন সময়ে যেসব কোম্পানির এনএভি আবেদনকারী কোম্পানির এনএভির তিনগুণের মধ্যে থাকবে এবং পিই রেশিও ১৫-এর বেশি হবে না, সেসব কোম্পানি সমজাতীয় কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তবে শর্ত থাকে যে, সমজাতীয় কোম্পানির ব্যবসাক্ষেত্র একই রকমের থাকবে। একই ধরনের ব্যবসা কিনা, সে বিষয়ে চূড়ানত্ম সিদ্ধানত্ম প্রদান করবে এসইসি। সম্পদ মূল্যায়ন সতর্কভাবে পরীক্ষা করবে এসইসি।
Quote   
04/10/2011 12:48 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
তদন্ত রিপোর্টে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য

সমকাল
রোববার | ১০ এপ্রিল ২০১১ | ২৭ চৈত্র ১৪১৭ | ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩২

জাকির হোসেন/আনোয়ার ইব্রাহীম
অল্প কয়েকটি নমুনা পরীক্ষা করেই শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বাজার নিয়ন্ত্রক এসইসি ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বিধি লঙ্ঘন করে নিজ বা বেনামে শেয়ার ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছেন। এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়ার স্বাক্ষরে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ বা আত্মীয়স্বজনের নামে শেয়ার ব্যবসা নিষিদ্ধের আদেশ জারি হয়েছিল, সেই কর্মকর্তারই স্ত্রীর নামে প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্ট বাণিজ্য, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কারসাজিসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে প্লেসমেন্ট মাধ্যমে গত দুই বছরে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন ৩৪টি কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট (প্রি-আইপিও) মোট ৩ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকার পুঁজি উত্তোলন করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্লেসমেন্টের সুবিধা নিয়েছেন প্রভাবশালী অল্প কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণফোন, ইউনিক হোটেল, জিএমজি এয়ারলাইন্সসহ ১০টি প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি টাকারও বেশি প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৪৮৬ কোটি টাকার প্লেসমেন্টের মধ্যে ৫৮ কোটি টাকাই পেয়েছে চট্টগ্রামের এ কে খান কোম্পানি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ব্যক্তি পর্যায়ের ৩০ জন সর্বোচ্চ প্লেসমেন্ট শেয়ারপ্রাপ্তদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী নূর আলী, যার পরিমাণ ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর পর রয়েছেন রিচার্ড ডি রোজারিও (১৫ কোটি ৬২ লাখ), কো ইউ চুয়ান (১৩ কোটি ৭২ লাখ), আর ওয়াই শমসের (১১ কোটি ৯৯ লাখ), তাসমিয়া আমবেরীন (১১ কোটি ২৫ লাখ), হেলাল উদ্দিন আহমেদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোম্পানি ট্রিপল এ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড
(৮ কোটি ২৬ লাখ), সৈয়দ জালাল আহমেদ (৩ কোটি ৩৫ লাখ), কফিলউদ্দিন ভূঁইয়া (৩ কোটি), সোমা আলম রহমান (২ কোটি ৮৯ লাখ), মনসুর বিল্লাহ (৩ কোটি), আবদুল মজিদ মণ্ডল (২ কোটি ৭৫ লাখ), বিলকিস বানু (২ কোটি ৭৫ লাখ), সৈয়দ গোলাম ওয়াদুদ (২ কোটি ৭৫ লাখ), কেবিএম মঈনুদ্দিন চিশতি (২ কোটি ৬০ লাখ), খালেদ হোসেন খান (২ কোটি ৫৯ লাখ), আফসারউজ্জামান (২ কোটি ১৭ লাখ), খন্দকার জামিল উদ্দিন (২ কোটি ১০ লাখ), মোহসিন আহমেদ (২ কোটি ১ লাখ), আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (১ কোটি ৮৭ লাখ), মোঃ আবদুস সালাম (১ কোটি ৮৫ লাখ), মোঃ রফিকুল ইসলাম (১ কোটি ৭৬ লাখ), জিনাত বেগম (১ কোটি ৭৫ লাখ), ফারজানা আখতার (১ কোটি ৭৫ লাখ), শামীমা শরীফ (১ কোটি ৫৬ লাখ), শমীর দত্ত (১ কোটি ৫০ লাখ), মোঃ রেজাউল করিম (১ কোটি ৪৭ লাখ), শাহনাজ বেগম রোজী (১ কোটি ৪০ লাখ), আনোয়ার হোসেন (১ কোটি ৩০ লাখ), আহমেদ রশীদ (১ কোটি ২৩ লাখ) এবং রফিকুল আনোয়ার (১ কোটি ২২ লাখ টাকা)।
তদন্ত কমিটি বলেছে, প্লেসমেন্টের কারণেই পুঁজিবাজারের বাইরে শেয়ার লেনদেনের নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে গত দুই বছরে শেয়ারবাজারে সংঘটিত অনৈতিক লেনদেনের (যার সঙ্গে কারসাজির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে) খণ্ডচিত্র তুলে আনা হয়েছে। রিপোর্টে এসইসির নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে নিজের স্বাক্ষর করা এসইসির আইনের লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, এ কর্মকর্তা তার স্ত্রী রোকসানা আকতারের নামে আল-আরাফাহ্ ব্যাংক, বিএলআই, লংকা-বাংলা ও ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউস থেকে মোট চারটি পৃথক বিও হিসাব থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেছেন।
আইসিবির সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক (হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক) নিজ নামে, স্ত্রী ও শ্যালকের নামে কোটি কোটি টাকার শেয়ার ও প্লেসমেন্টে শেয়ার কিনে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
লংকা-বাংলা ফিন্যান্সের অমনিবাস অ্যাকাউন্টের একজন গ্রাহক মোঃ আবদুস সালামের শেয়ার কেনাবেচা এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনেছেন বলে ধারণা করে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে লংকা-বাংলার গ্রাহক শামিমা শরীফের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা উত্তোলন করে শেয়ার ব্যবসা করার বিষয়ে মানি লন্ডারিং আইনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এবি ব্যাংকের মালিকানাধীন এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর ওয়াই শমসেরের বিরুদ্ধে নিজ নামেই প্রায় ১২ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির অভিহিত মূল্য (ফেসভ্যালু) পরিবর্তনের মাধ্যমে চিহ্নিত কয়েকজন বড় শেয়ার ব্যবসায়ীর কোটি টাকা মুনাফা করার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।  
Quote   
04/10/2011 12:58 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
এরাই শেয়ার কেলেঙ্কারির নায়ক

কালের কণ্ঠ
ফারুক মেহেদী

পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারি তদন্তে বাজারের উত্থান-পতনে ঘুরেফিরে গুটিকয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম বেরিয়ে এসেছে। জোরালোভাবে এসেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান আইসিবির নাম। প্রতিষ্ঠানটি একাই সাতটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টে শত শত কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করে। তদন্তে দৈবচয়নের মাধ্যমে তিনটি মার্চেন্ট ব্যাংকের কয়েকজন শীর্ষ হিসাবধারীর অ্যাকাউন্ট (অমনিবাস) পরীক্ষা করে লেনদেনের অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব হিসাবে মোসাদ্দেক আলী ফালু, ডা. এইচ বি এম ইকবাল, মুনিরউদ্দিন আহমদ, ইয়াকুব আলী খন্দকার, লুৎফর রহমান বাদলসহ অনেক খ্যাত-অখ্যাত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে এদের বলা হয়েছে 'খেলোয়াড়'।
তদন্ত প্রতিবেদনে ৩০ জন শীর্ষ 'খেলোয়াড়ের' নাম উল্লেখ করে বলা হয়, এঁরা সেকেন্ডারি পুঁজিবাজার ও প্রাক আইপিওর আকাশচুম্বী মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। প্রতিবেদন মতে, সব উত্থান-পতনের সময়ই শীর্ষ ১৫-১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে, যারা বাজারের বড় অংশ লেনদেন করেছে। ২০০৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে যখন সূচক ২৮০০ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৪৫০০ হয়েছিল, তখন তাঁরা শীর্ষ খেলোয়াড় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানসহ কয়েকজনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তাঁদের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অক্টোবর ২০০৯ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১০ : প্রতিবেদনে এ সময়টিকে প্রথম 'পুশ পিরিয়ড' চিহ্নিত করে বলা হয়, ২০০৯ সালের অক্টোবরে গোলাম মোস্তফা নামের এক ক্রেতার অ্যাকাউন্টে টার্নওভার পাওয়া যায় ১৩১ কোটি টাকার। নভেম্বরে তাঁর টার্নওভার দাঁড়ায় ১৪০ কোটি টাকা। ২০১০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ক্রেতার টার্নওভার ১৬৮ কোটি টাকা। একইভাবে অক্টোবরে আইসিবি অমনিবাসের (আইসিএমএল) টার্নওভার ১২৮ কোটি, নভেম্বরে ৯৫ কোটি, ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে টার্নওভার ছিল ২৮৭ কোটি টাকা। শাহজালাল ব্যাংকের ২০০৯ সালের অক্টোবরে ১০৩ কোটি, পরের মাসে ১৩২ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৩৬ কোটি টাকার টার্নওভার ধরা পড়ে। আইসিবির (এসওবি) অ্যাকাউন্টে ২০০৯ সালের অক্টোবরে ৯৬ কোটি, নভেম্বরে ১২৩ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ৩৬৮ কোটি টাকার টার্নওভার হয়। পূবালী ব্যাংকের ২০০৯ সালের অক্টোবরে ৭৮ কোটি, নভেম্বরে ৫৪ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ৭৪ কোটি টাকার টার্নওভার ছিল। রেজাউল করিম নামের ক্রেতার অ্যাকাউন্টে ২০০৯ সালের অক্টোবরে ৬৫ কোটি, নভেম্বরে ৭৪ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৬৩ কোটি টাকার টার্নওভার পাওয়া গেছে। সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম নামের একজনের অ্যাকাউন্টে ২০০৯ সালের অক্টোবরে ৬১ কোটি, নভেম্বরে ৭২ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ১৪৫ কোটি টাকার টার্নওভার ছিল। ইয়াকুব আলী খন্দকারের অ্যাকাউন্টে ২০০৯ সালের অক্টোবরে ৫২ কোটি, নভেম্বরে ৫২ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৭৭ কোটি টাকার টার্নওভার হয়। উত্তরা ফাইন্যান্সের অ্যাকাউন্টে ২০০৯ সালের অক্টোবরে ৩৬ কোটি, নভেম্বরে ৭২ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ কোটি টাকার টার্নওভার হয়। আইসিবির (আরএজেআইসিএমএল) অ্যাকাউন্টে ২০০৯ সালের অক্টোবরে ৩৬ কোটি, নভেম্বরে ৩০ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৯৬ কোটি টাকার টার্নওভার ছিল। আইসিবির (কেএইচএলআইসিএমএল) অ্যাকাউন্টে ২০০৯ সালের অক্টোবরে ৩৫ কোটি, নভেম্বরে ৩৩ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৯২ কোটি টাকার টার্নওভার হয়। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ২০০৯ সালের অক্টোবরে ৬৩ কোটি, নভেম্বরে ৬০ কোটি এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৮০ কোটি টাকার টার্নওভার হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরো যাঁদের নাম তুলে ধরা হয়েছে তাঁরা হলেন_সুবর্ণা মোস্তফা, ফজলুর রহমান, আইসিবি অমনিবাস (জেবিএম), আমজাদ হোসেন ফকির, মো. শহীদুল্লাহ, আরিফুর রহমান প্রমুখ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে প্রায় একই সংস্থা ও ব্যক্তিই শীর্ষ ক্রেতা ছিলেন। আইসিবি সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হওয়ার পরও বড় মাপে ট্রিগার ক্রয় করে। ২০০৯ সালের অক্টোবরে আইসিবি সাতটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্রয় করেছে ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার। নভেম্বরে ছয়টি অমনিবাস অ্যাকাউন্টে আইসিবি ক্রয় করেছে ৩৪০ কোটি টাকার শেয়ার।
নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০১০ : প্রতিবেদনে এ সময়টিকে দ্বিতীয় 'পুশ পিরিয়ড' চিহ্নিত করে বলা হয়, আইসিবি ২০১০ সালের নভেম্বরে ৯টি অমনিবাস অ্যাকাউন্টে ১৩৭১ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বরে ৯টি অ্যাকাউন্টে ৯৭৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে। পতনের দুই মাসে আইসিবির মোট বিক্রি দাঁড়ায় ২৩৪৮ কোটি টাকা। তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টিকে তুলনা করে বলা হয়, দুটি উত্থান পর্বে আইসিবি অমনিবাস অ্যাকাউন্টে মোট ক্রয় করা হয় ২২০০ কোটি টাকা। কাজেই বাজারের ঊর্ধ্বমুখী ও ধস_উভয় সময়েই সিন্ডিকেট সদস্যরা আইসিবির অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে খেলা করেছিলেন, এটা প্রায় নিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্থান-পতন উভয় সময়েই উত্তরা ফাইন্যান্স, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ইনস্যুরেন্স, পূবালী ব্যাংক প্রভৃতি সংস্থার পাশাপাশি আরিফুর রহমান, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, আমজাদ হোসেন ফকির প্রমুখ উভয় সময়েরই শীর্ষ সক্রিয় ব্যক্তি। আইসিবি অমনিবাস (এজিবি) ২০১০ সালের নভেম্বরে বিক্রি করেছে ৪৯৪ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩১৪ কোটি টাকার শেয়ার। আইসিবি অমানিবাস (এবিএমইউএফ) নভেম্বরে ২১৬ কোটি ও ডিসেম্বরে ১৫৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে। ব্র্যাক ব্যাংক নভেম্বরে ২০৪ কোটি ও ডিসেম্বরে ১৫৯ কোটি, আইসিবি (আইসিএমএল) নভেম্বরে ১৯৫ কোটি ও ডিসেম্বরে ১৪২ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক নভেম্বরে ১৮৫ কোটি ও ডিসেম্বরে ১৭১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে। সাইথইস্ট ব্যাংক নভেম্বরে ১০৪ কোটি ও ডিসেম্বরে ১৫৫ কোটি, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স নভেম্বরে ১২২ কোটি ও ডিসেম্বরে ৮২ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক নভেম্বরে ৮৪ কোটি ও ডিসেম্বরে ৮২ কোটি, পূবালী ব্যাংক নভেম্বরে ৭৬ কোটি ও ডিসেম্বরে ৫৭ কোটি, উত্তরা ফাইন্যান্স নভেম্বরে ১০০ কোটি ও ডিসেম্বরে ১৩৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
'বুদ্বুদ্ ক্রেতা' : প্রতিবেদন মতে, শীর্ষ ৩০টি অ্যাকাউন্টেই শেয়ার ক্রয় হয়েছে ৭৪০ কোটি টাকারও বেশি। এ অঙ্ক এক হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করে থাকতে পারে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়। আবার ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেও প্রায় তাঁরাই শেয়ার ক্রয়ে শীর্ষে ছিলেন। এ সময়ে আইসিবি আটটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টে ১১৪৩ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে। ব্যক্তিদের মধ্যে আবারও আসে গোলাম মোস্তফা, আরিফুর রহমান, সৈয়দ সিরাজুদৌল্লা, ইয়াকুব আলী খন্দকার প্রমুখের নাম। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক, উত্তরা ফাইন্যান্স, শাহজালাল ব্যাংক, ফারইস্ট ইসলামী ইনস্যুরেন্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক প্রভৃতি। ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন_আবু সাদত মো. সায়েম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মো. খলিলুজ্জামান, মো. শহীদুল্লাহ, আরিফুর রহমান প্রমুখ। ওই সময় এবি ব্যাংক, উত্তরা ফাইন্যান্স, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং পূবালী ব্যাংকও প্রতিবেদনের ভাষায় 'বুদ্বুদ্' সৃজনকারী ক্রয়ে অংশ নেয়।
শেয়ারবাজারের দুটি 'পুশ' পিরিয়ডেই একই সম্ভাব্য সিন্ডিকেট কাজ করেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, পুঁজিবাজার ধসের সময় মাত্র দুই মাসে কম-বেশি ৮৩০০ পয়েন্ট লেনদেন হয়েছে। এ সময়কে 'আনইজি ক্লেইম' হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। একে ঝড়ের পূর্ব সময় হিসেবেও দেখা যায়। এ সময়েও লক্ষণীয়ভাবে দেখা যায়, যাঁরা উত্থানের সময় শীর্ষ ক্রেতা ছিলেন, এবার পতনের সময়ও তাঁরাই শীর্ষ বিক্রেতা।
তদন্ত প্রতিবেদনের পুঁজিবাজারে ব্যক্তি ও সংস্থার লক্ষণীয় ভূমিকা শীর্ষক অধ্যায়ে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের উত্থান-পতনের ঘটনাটি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। বাজারে বুদ্বুদ্ তৈরি করা ও বিস্ফোরণ উভয় প্রক্রিয়াতেই ব্যক্তি এবং সংস্থাগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বুদ্বুদ্ ও বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য স্বাভাবিকভাবেই কিছুসংখ্যক 'খেলোয়াড়' পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি নেঙ্াস তৈরি করেছিলেন। নেঙ্াস প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য হলেও কিছু টপ খেলোয়াড়ের সম্পৃক্ততা তাঁদের লেনদেন কার্যক্রম দেখলেও বোঝা যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে এবারের ঘটনাটিকে ১৯৯৬ সালের ঘটনার চেয়ে ভিন্ন বলে অভিহিত করা হয়েছে।
সম্ভাব্য কারসাজি : তদন্ত প্রতিবেদনে কারসাজির জন্য সম্ভাব্য একটি তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে তালিকাভুক্তদের 'গ্রাহকের তথ্য জানা' বা কেওয়াইসি পরীক্ষা করার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে এসইসির মাধ্যমে তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তালিকাভুক্ত এবি ব্যাংক গত ১২ ডিসেম্বর ও ৬ জানুয়ারি এই দুই দিনে শেয়ার বিক্রি করেছে ৪৪৩ কোটি টাকা। এ কে এম আরিফুর রহমান গত ৬ ডিসেম্বর এবং ৪, ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি এই পাঁচ দিনে শেয়ার বিক্রি করেছেন ৩৫০ কোটি টাকার। আমিন রেজওয়ানি গত ৪, ৯ ও ১৮ জানুয়ারি তিন দিনে শেয়ার বিক্রি করেছেন ৯৪ কোটি টাকার। খলিলুজ্জামান গত ৪ ডিসেম্বর ও ২০ জানুয়ারি ১০৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। নৃপেন চৌধুরী ৯ ডিসেম্বর ও ১২ জানুয়ারি ১৬৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। সারা খন্দকার, ইয়াকুব আলী খন্দকার, ড্রিম হোল্ডিং ও ড্রিমল্যান্ড হোল্ডিং ১২ ডিসেম্বর ও ৬ জানুয়ারি ১৫৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এটাকে তদন্ত প্রতিবেদনে সিন্ডিকেট হিসেবে সন্দেহ করা হয়েছে। সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, রাশেদা আখতার মায়া ১২ ডিসেম্বর ও ৬ জানুয়ারি এই দুই দিনে ২৯০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন।
প্রতিবেদনে আরো যেসব শীর্ষ শেয়ার বিক্রেতার ব্যাংক তথ্য যাচাইয়ের জন্য বলা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এলিজা রহমান। তিনি ৯ ডিসেম্বর, ৪ ও ১০ জানুয়ারি ৩৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির তথ্য রয়েছে। রিচার্ড ডি রোজারিও ১২ ডিসেম্বর ও ৬ জানুয়ারি ৭৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। সৈয়দ আবু জাফর ১৯ ডিসেম্বর ও ১৮ জানুয়ারি ৪৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে চিটাগাং ভেজিটেবলের শেয়ারের দর ২০০৯ সালে ২৫১ শতাংশ এবং ২০১০ সালে ৪১৪৮ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে তা পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে বিচ হ্যাচারি, আফতাব অটোমোবাইল, সাফকো স্পিনিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, পদ্মা সিমেন্ট, বেঙ্টেঙ্, সিএমসি কামাল, বিডি ওয়েল্ডিং, সিঙ্গার বিডিসহ জেড ক্যাটাগরির, উৎপাদনবিহীন এবং অবিশ্বাস্য হিসাবায়নকৃত কম্পানির তথ্যও এসইসি কর্তৃক নিবিড় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বাজার ধসের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। ২০১০ সালের জানুয়ারির হিসাবে ব্রোকারেজ হাউসগুলো হলো_এমটিবি সিকিউরিটি, ব্র্যাক ইপিএল, আইডিএলসি, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, এলায়েন্স সিকিউরিটিজ, এরিজ সিকিউরিটিজ, ফরিদা রকিব সিকিউরিটিজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, আল মুন্তাহা ট্রেডিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ।
কেস স্টাডি : প্রতিবেদনের কেস স্টাডি অংশে বলা হয়েছে, আ হ ম মোস্তফা কামালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিএমসি কামাল টেঙ্টাইল ২০০৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৪০ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছিল এবং কম্পানির ইপিএসও ছিল ঋণাত্মক। ২০০৯ সালে কম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়ার সুপারিশ করে। ২০১০ সালের প্রথম থেকেই কম্পানির শেয়ারের বাজার মূল্য অভিহিত মূল্যকে অতিক্রম করে সে বছরের অক্টোবরে ১৬০০ টাকায় পেঁৗছে যায়। ২০০৯ সালের লোকসানে পরিচালিত একটি কম্পানির শেয়ার এক বছরের মাথায় কিভাবে অভিহিত মূল্যের ১৬ গুণ বেশি দামে বাজারে বিক্রি হয়, সেটি বিস্মিত করেছে তদন্ত কমিটিকে। আ হ ম মোস্তফা কামাল ও তাঁর পরিবারের সদস্য যাঁরা কম্পানির পরিচালকও, তাঁরা অতিমূল্যায়িত শেয়ার বেচাকেনা করে প্রচুর মুনাফা করেছেন বলেও তদন্ত কমিটি প্রমাণ পায়।
সুপারিশ : প্রতিবেদনের সুপারিশ অংশে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ইমতিয়াজ হোসেন, খোরশেদ আলম, সালমান এফ রহমান, এনায়েতুর রহিম, রকিবুর রহমান, শাকিল রিজভি প্রমুখ। বর্তমান তদন্তে তাঁদের মধ্যে সালমান এফ রহমান ও রকিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক মতামত এসেছে এবং কিছু তথ্যও পরিবেশিত হয়েছে। এসইসিকে প্রভাবিত করতে দুজনই সক্রিয় ছিলেন মর্মে অনেকেরই ধারণা। এসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের নিয়োগ এবং সদস্য মনসুর আলমের পুনর্নিয়োগে সালমান রহমান ও রকিবুর রহমানের জোরালো তদবির ও সমর্থন ছিল বলে অনেকের বিশ্বাস।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের অস্বচ্ছ কেসটির তদবিরে সালমান এফ রহমান নিজেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ধরনা দিয়েছেন। জিএমজি ও ইউনিক হোটেল প্রভৃতি কেসেও তিনি সম্পৃক্ত এবং কেসগুলো অস্বচ্ছ। এসইসি পরিচালনায় দুজনেরই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ছিল বলে জনসাধারণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। পুঁজিবাজার লেনদেন ও পরিচালনায় এই দুজনের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে তদন্ত কমিটি মনে করে।
Quote   
04/10/2011 1:00 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
ভুতুড়ে কেনাবেচায় জড়িত কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

কালের কণ্ঠ
বিশেষ প্রতিনিধি

শেয়ারবাজার বিপর্যয় তদন্তে গঠিত কমিটি ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারির সময় দৈবচয়নের ভিত্তিতে তিনটি মার্চেন্ট ব্যাংক-এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল, প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টের কয়েকজন শীর্ষ হিসাবধারীর হিসাব (অমনিবাসের আড়ালে) পরীক্ষা করে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। এ রকম ৯টি হিসাবে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিটি আলাদাভাবে মতামত দিয়েছে। কমিটি বলেছে, অমনিবাস হিসাবের অন্তরালে লুকানো এসব হিসাবে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো প্রতিফলন নেই। অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়ের নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে এখানে। হিসাবধারীরা পুঁজিবাজার তথা দেশের সুপরিচিত ব্যক্তি হয়েও বিও অ্যাকাউন্টের বদলে অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে বেশ বড় অঙ্কের শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। অমনিবাসের অন্তরালে থাকা হিসাব যেহেতু স্টক এঙ্চেঞ্জ-বহির্ভূত, সেহেতু এসইসির সরাসরি দায়িত্ব এসব অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার হিসাব বন্ধ করা অথবা পরীক্ষা করা। তবে এসইসি এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এসব হিসাবধারীর বিশাল অঙ্কের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিটি সন্দেহ পোষণ করে বলেছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রাজস্ব বোর্ডে সঠিকভাবে কর প্রদান নাও করে থাকতে পারে। কাগজপত্রে উলি্লখিত টিআইএন নম্বর ধরে তাদের কর প্রদানের তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্যও কমিটি পরামর্শ দিয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উলি্লখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো :
* আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু (সাউথইস্ট ক্যাপিটাল)
মোট জমা : ১০ কোটি ১৪ লাখ টাকা
মোট উত্তোলন : নেই
মোট শেয়ার ক্রয় : ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার ১১৭ টাকা
মোট বিক্রয় : ছয় কোটি আট লাখ ২৯ হাজার ২৬৯ টাকা
মন্তব্য : বিক্রয় অপেক্ষা ক্রয় ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮৪৮ টাকা বেশি। অথচ হিসাব থেকে টাকা তোলা হয়নি। উপরন্তু ১০ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা হয়েছে। উল্লেখ্য, শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে, তা অনুসন্ধান করার দায়িত্ব ডিএসই/এসইসির।
* ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড (সাউথইস্ট ক্যাপিটাল)
মোট জমা : ৪৪ কোটি টাকা মোট উত্তোলন : ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয় : ১৬৭ কোটি ২৯ লাখ
২০ হাজার ৮০৮ টাকা
মোট বিক্রয়: ১৬৯ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার
৬৯৫ টাকা
মন্তব্য: ক্রয়ের চেয়ে বিক্রয় এক কোটি ৯১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮৭ টাকা বেশি। উত্তোলন হয়েছে জমার অতিরিক্ত সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছেন নূর আলী ও সালমান এফ রহমান।
* ডা. এইচবিএম ইকবাল (প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা
মোট উত্তোলন: ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ৬১ হাজার ৮৪৫ টাকা
মোট বিক্রয়: ২৯১ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার ৮৬৪ টাকা

মন্তব্য: ক্রয় থেকে বিক্রয় ছয় কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ১৯ টাকা বেশি। উত্তোলন থেকে জমা পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেশি।

* মুনিরউদ্দিন আহমেদ (সাউথইস্ট ক্যাপিটাল ও এবি ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: নেই
মোট উত্তোলন: নেই
মোট শেয়ার ক্রয়: ১১৮ কোটি ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৫ টাকা
মোট বিক্রয়: ১১৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৮ টাকা
মন্তব্য: বিরাট অঙ্কের ক্রয়-বিক্রয়ের কোনোটাই অ্যাকাউন্টে প্রতিফলিত হয়নি, যা আইনসিদ্ধ নয়। বিশদ তদন্ত প্রয়োজন।

* রোকসানা আমজাদ ও মো. আমজাদ হোসেন (এবি ইনভেস্টমেন্ট ও প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: নেই
মোট উত্তোলন: তিন কোটি ১৩ লাখ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৩ টাকা
মোট বিক্রয়: ২৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার ২৭৬ টাকা
মন্তব্য: জমার ঘর শূন্য থাকলেও ক্রয় থেকে বিক্রয় এক কোটি আট লাখ ৭০ হাজার ৩৭৩ টাকা বেশি।

* গোলাম মোস্তফা (প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: ১৪ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা
মোট উত্তোলন: ৭০ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ১৪২ কোটি ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৭২১ টাকা
মোট বিক্রয়: ২৭৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪১ হাজার ২৪৪ টাকা
মন্তব্য: ক্রয়ের চেয়ে বিক্রয় ১৩৭ কোটি এক লাখ ৮৭ হাজার ৫২৩ টাকা বেশি। একই সময়ে জমার চেয়ে উত্তোলন বেশি মাত্র ৫৬ কোটি ২৮ লাখ ১০ টাকা। অ্যাকাউন্ট ক্রয়-বিক্রয় প্রতিফলিত করে না।

* আহসান ইমাম ও মাহজাবিন মোস্তফা ইমাম (সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল ও এবি ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: সাত কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা
মোট উত্তোলন: ৩৮ কোটি ৫৯ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ৯৮ কোটি ৩৮ লাখ সাত হাজার ৯৩৯ টাকা
মোট বিক্রয়: ১৪১ কোটি সাত লাখ ৩৭ হাজার ৬১২ টাকা
মন্তব্য : ক্রয় থেকে বিক্রয় ৪২ কোটি ৬৯ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৩ টাকা বেশি। জমাতিরিক্ত উত্তোলন হলো ৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮ টাকা।

* ইয়াকুব আলী খন্দকার ও সারা খন্দকার (প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: এক কোটি ৬০ লাখ টাকা
মোট উত্তোলন: ২৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ৮৪৮ কোটি ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ছয় টাকা
মোট বিক্রয়: ৮৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৬৫ টাকা
মন্তব্য : ক্রয় থেকে বিক্রয় ৩১ কোটি পাঁচ লাখ ১২ হাজার ৪৫৯ টাকা বেশি। জমা থেকে উত্তোলন বেশি ৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮ টাকা। অ্যাকাউন্টে তার প্রতিফলন নেই।

* নিউ ইংল্যান্ড ইক্যুয়িটি, লুৎফর রহমান বাদল ও সোমা আলম রহমান (সাউথইস্ট ক্যাপিটাল ও এবি ইনভেস্টমেন্ট)

মোট জমা: ৯০ কোটি ২৫ লাখ টাকা
মোট উত্তোলন: ৮৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ২৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫২৩ টাকা
মোট বিক্রয়: ২৭৫ কোটি ৭১ লাখ ১৫ হাজার ৮৯৩ টাকা

মন্তব্য : বিক্রয়ের চেয়ে ক্রয় দুই কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ৭১০ টাকা বেশি। উত্তোলনের চেয়ে জমা তিন কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বেশি। অ্যাকাউন্টে ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো প্রতিফলন নেই।
Quote   
04/10/2011 1:30 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
জড়িতদের ছাড় দিলে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে :এরশাদ

শেয়ার বাজার কেলেংকারি


ইত্তেফাক রিপোর্ট

জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত কোন 'প্রভাবশালী' ব্যক্তিকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। তাহলে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে কিছু 'প্রভাবশালী' ব্যক্তি রয়েছেন বলে অর্থমন্ত্রী তাদের নাম প্রকাশ করবেন না বলে যে বক্তব্য রেখেছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা জনগণের অর্থ লুট করেছেন, যারা শেয়ার কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থেকে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সর্বনাশ করে তাদের পথের ভিক্ষুকে পরিণত করেছেন- কেন তাদের নাম সরকারিভাবে প্রকাশ করা হবে না তা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির হোতাদের নাম প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সরকারের বিরুদ্ধেই জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে।

বিবৃতিতে এরশাদ আরো বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের ব্যাংক একাউন্ট ক্লোজ এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াফতের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে মূলধন হারানো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
Quote   
04/10/2011 1:32 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
শেয়ার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন এরশাদ

The Daily janakantha
রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০১১, ২৭ চৈত্র ১৪১৭
স্টাফ রিপোর্টার
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বলেছেন, সরকারের পৰ থেকে দোষীদের ব্যাপারে শাস্তির উদ্যোগ নিতে হবে। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত কোন প্রভাবশালীকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। তাহলে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এরশাদ তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে শাসত্মির বিধান করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শেয়ারবাজারে মূলধন হারানো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এরশাদের প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায় স্বাৰরিত এক বিবৃতিতে জাপা চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়টি স্বীকার করলেও তাদের নাম প্রকাশ করবেন না বলে যে বক্তব্য রেখেছেন_ তা অত্যনত্ম দুঃখজনক। অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যে আমি হতবাক।
তিনি বলেন, যারা জনগণের অর্থ লুট করেছেন, যারা শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থেকে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সর্বনাশ করে তাদের পথের ভিক্ষুকে পরিণত করেছেন; কেন তাদের নাম সরকারীভাবে প্রকাশ করা হবে না? তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। বাসত্মবতা হলো শেয়ার কেলেঙ্কারির হোতাদের নাম প্রকাশ এবং তাদের বিরম্নদ্ধে শাসত্মিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সরকারের বিরম্নদ্ধেই জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে।
২০১০ সালের শেষ দিকে শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন শুরম্ন হয়। যার ধারাবাহিকতা চলে কয়েক মাস। টানা দরপতনের কারণে লাখ লাখ ৰুদ্র বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে ৰতিগ্রসত্ম হন। এ প্রেৰাপটে বিনিয়োগকারীরা রাসত্মায় আন্দোলনে নামে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পৰ থেকে নেয়া হয় নানা উদ্যোগ। এক পর্যায়ে দর পতনের বিষয়টি রাজনৈতিক মোড় নেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কেলেঙ্কারির জন্য একে অপরকে দোষারোপ করে। গঠন করা হয় তদনত্ম কমিটি। তদনত্ম শেষে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর কাছে তদনত্ম কমিটির চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাতে তদনত্ম প্রতিবেদন তুলে দেন।
প্রতিবেদনে শেয়ার বাজার কারসাজিতে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ৰতির কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারী কর্মকর্তাদের নামে শেয়ার ব্যবসা বন্ধের প্রসত্মাব করা হয়। শেয়ার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ-বিএনপির শীর্ষ নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। ব্যবসা থেকে আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হওয়ার বিষয়টি তদনত্ম প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী কিছু ব্যক্তির নাম বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা সাংবাদিকদের জানান।
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview