 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | The Daily Samakal
শেয়ারবাজারে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তি অনিশ্চিত
আনোয়ার ইব্রাহীম
অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) শর্ত অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে ইস্যু মূল্যের (আইপিওতে শেয়ারের বিক্রয় মূল্য) তুলনায় সংশ্লিষ্ট শেয়ারের বাজারমূল্য কমে গেলে কোম্পানি দুটির পরিচালকদের ইস্যু মূল্যেই শেয়ার কিনতে হবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এসইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে উভয় কোম্পানির চেয়ারম্যান এ শর্তে মৌখিক সম্মতি দেন। কিন্তু কোম্পানি দুটির প্রধান এ ব্যাপারে লিখিতভাবে সম্মতি না দেওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না করার জন্য উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু কোম্পানি দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মার্চ মাসেই তালিকাভুক্ত হতে পারে। আইপিও লটারি অনুষ্ঠিত হওয়ার এক মাস পরও কোম্পানি দুটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের ৯১৩ কোটি টাকারও বেশি আটকে আছে।
তবে মবিল যমুনা লিমিটেডের (এমজেএল) চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী সমকালকে জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টসের (এমজিএল) তালিকাভুক্তির বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ছয় মাস অনেক সময়। আমরা এত সময় শেয়ারমূল্য ধরে রাখার দায়িত্ব নিতে পারব না। আর পরিচালকদের এত টাকা নেই যে, এত শেয়ার কিনে নেবেন। তাহলে বর্তমান সংকট কীভাবে উত্তরণ করা হবে_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জগুলো দেখছে কী করা যায়।
অন্য কোম্পানি এমআই সিমেন্টের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তার কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে গতকাল কোনো মন্তব্য না করে জানান, আজ তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক বা নেতিবাচক খবর দিতে পারবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসইসি কোম্পানি দুটিকে দেওয়া শর্তের ব্যাপারে অনড় রয়েছে। এসইসির একটি সূত্র জানায়, সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এসইসিকেই দায়িত্ব দিয়েছে। এসইসি মনে করছে, ওই শর্ত ছাড়া বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে না। শর্তে পূরণে রাজি না হলে মবিল যমুনার আইপিও কার্যক্রম বাতিল হবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত নয়। এসইসির এক কর্মকর্তা জানান, মবিল যমুনা শর্ত পূরণে রাজি না হলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার অনুমতি নাও পেতে পারে। সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আইপিও আবেদনকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য কোম্পানিটিকে নির্দেশ দিতে পারে এসইসি।
এদিকে কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে অতিমূল্যায়িত শেয়ার বাজারে আনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা। শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট হাসান মাহমুদ বলেন, ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ৬০০ কোটি টাকায় বিক্রির সুযোগ দেওয়াটা ঠিক হবে কি-না তা ভেবে দেখতে হবে। আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অযৌক্তিক মূল্যের কারণ দেখিয়ে আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করার পর একই দরে কোম্পানি দুটিকে তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া হলে পরে এটাকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে অনেক কোম্পানি। শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান মনে করেন, ভুল হয়ে গেলে তা সংশোধন করার নামে আবার ভুল করা ঠিক হবে না। সমকালকে তিনি বলেন, সন্দেহ নেই মবিল যমুনার শেয়ারমূল্য অনেক বেশি ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে অনুমোদন দিয়ে ভুল করেছে এসইসি। তাই বলে বিনিয়োগকারীদের শাস্তি দেওয়ার যুক্তি নেই বলে মনে করেন তিনি।
মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্ট কোম্পানির আইপিও জটিলতা নিরসনে এসইসি যে প্রস্তাব করেছে যেখানেও কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। কোম্পানির পরিচালকরা শেয়ারবাজার থেকে সরাসরি শেয়ার কিনবেন, নাকি বাজারের বাইরে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে কিনবেন_ সে বিষয়টির এখনও সুরাহা হয়নি। এক্ষেত্রে পরিচালকদের কে কী পরিমাণ শেয়ার কিনবেন তা নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টস (এমজেএল) কোম্পানির মালিকানায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা অয়েল। আর যমুনা অয়েলের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি কয়েক কর্মকর্তা কোম্পানির পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এসব সদস্য শেয়ার কিনতে পারবেন না। এসইসির শর্ত অনুযায়ী কেবল ইসি সিকিউরিটিজের পক্ষে ছয়জন পরিচালক ওই শেয়ার কিনবেন বলে লিখিত সম্মতি প্রদান করেছেন। কিন্তু কোনো কারণে শেয়ারদর কমে গেলে, বেশিরভাগ শেয়ারহোল্ডার শেয়ার বিক্রি করতে চাইলে ওই পরিচালকরা সব শেয়ার কিনতে পারবেন কি-না, তারও সুরাহা হয়নি। তাছাড়া ইস্যু মূল্যের তুলনায় বাজারদর কমে গেলে এবং প্রাইমারি শেয়ার ক্রেতা সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ার বিক্রি করলে সেক্ষেত্রে কে লোকসানের টাকা ফেরত পাবেন_ এ প্রশ্নের জবাব এখনও মেলেনি। এসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রাইমারি শেয়ার গ্রহণকারীকেই লোকসানের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু বেশি মূল্যে শেয়ার বিক্রি করার পর ওই শেয়ারের দাম যদি ছয় মাসের মধ্যে কমে যায়, তবে নতুন শেয়ার গ্রহণকারীর কী হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরা বলেন, এভাবে সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে উল্টো এসইসি আরও কিছু সমস্যা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলেন, তালিকাভুক্তির শুরুতে অতিমূল্যায়িত কোনো কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া কোনোক্রমেই যুক্তিযুক্ত হবে না। এক্ষেত্রে উভয় কোম্পানির আগের আইপিও প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে শুরু করা যেতে পারে বলে তারা মত দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অযৌক্তিকভাবে ইস্যু মূল্য নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়া স্থগিত করার প্রেক্ষাপটে মবিল যমুনা অয়েল ও এমআই সিমেন্ট কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করে এসইসি। এর আগে ৩১ জানুয়ারি মবিল যমুনা ও ৯ ফেব্রুয়ারি এমআই সিমেন্ট কোম্পানির আইপিও লটারি হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, লটারিতে অকৃতকার্য আবেদনকারীদের অর্থ ইতিমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। মবিল যমুনা কোম্পানি ৪০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৬০৯ কোটি টাকারও বেশি এবং এমআই সিমেন্ট ৩০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৩০৪ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহের জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর অনুমোদন পায়।
বুধবার | ৯ মার্চ ২০১১ | ২৫ ফাল্গুন ১৪১৭ | ৩ রবিউস সানি ১৪৩২ |