Page 1 / 1
Group Name : DSE SMALL INVESTORS PLATFORM (DSIP) (Taj U Ahmed)
01/18/2011 8:05 am

Administrator
Forum Addict


Regist.: 01/16/2011
Topics: 77
Posts: 29
OFFLINE
বাজার পূর্বাভাস (১৮-০১-২০১১)

গত কয়েকদিনের বাজার পুর্বাভাস হুবহু মিলে যাওয়ায় আজ একটু বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই। আমি সহজ ভাষায় লেখার চেষ্টা করি যাতে সকল পাঠক বুঝতে পারেন। বোম্বাস্টিক টেকনিক্যাল এনালাইসিস দিয়ে নিজের পান্ডিত্য জাহির করতে চাই না। বাজার এখন ২০০ ওয়েটেড মুভিং এভারেজ এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।যার অর্থ হল শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী মন্দাবস্থা শুরু হতে যাচ্ছে। ইলিয়ট ওয়েভ নামে একটা থিওরি আছে। এ থিওরির মূল কথা হল পড়তি বাজারে ১০০ পয়েন্ট উঠলে ২০০ পয়েন্ট নামবে। বাজার ইলিয়ট ওয়েভের চুড়ায় উঠেছিল গত বছরের ৩ ডিসেম্বর। শেয়ারবাজার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে থাকে- এটা বরাবরের মতই সত্য হতে চলেছে। ইলিয়ট ওয়েভের যেখান থেকে উত্থান হয়েছিল সেখানে যদি যায় তাহলে সাধারন মূল্যসূচক ৫৬০০ পয়েন্টে পৌঁছাবে -এটা অবধারিত। তবে কতদিনে ওখানে পৌঁছাবে তা একটি প্রশ্ন সাপেক্ষ বিষয়। পতন যে হারে হবার কথা তার চেয়ে দ্রুত হচ্ছে- এটা ভাবনার বিষয় বৈকি। এখন আমরা দেখি কেন পতন দ্রুত হচ্ছেঃ


১। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেশী শেয়ার বিক্রি করে কম শেয়ার কিনছেন। ( আজকের কালের কন্ঠ দেখুন, এই ফোরামেও খবরটি পোস্ট করা হয়েছে। এই লিংক থেকে খবরটি দেখে নিতে পারেনঃ http://apps.facebook.com/facebook_forums/stock_related_news_from_newspaper__electronic__print_and_digital_media-1688-10.html )। দূর্বল চিত্তের শেয়ারহোল্ডাররা(Weak Holders) আতংকগ্রস্ত হয়ে শেয়ার লোকসানে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে বাজারের পতন আরো দ্রুত হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এই সুযোগ কে দারুনভাবে কাজে লাগাচ্ছে।

২। বাজারে স্মার্ট মানি ( সোজা কথায় গ্যাম্বলারদের টাকা) ফ্লো নেই। পড়তি বাজারে গ্যাম্বলাররা বিনিয়োগ করেননা।তারা উঠতি বাজারে গুজব ছড়িয়ে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে থাকেন। পড়তি বাজারে গুজব ছড়াতে গেলে মার খাওয়ার ভয় আছে।

৩। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীগন গত ২ থেকে ১০ জানুয়ারী পর্যন্ত টানা দরপতনের ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেননি।

৪। মার্চেন্ট ব্যাংকার রা এখনো ১:২ হারে ঋন দিচ্ছেন না।

৫। এখনো তারল্যের ঘাটতি আছে।

৬ । সরকার তথা বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবিকে ২০০ কোটি টাকা ডিমান্ড লোন দিয়েছে। ইতিমধ্যে তারা অধিকাংশ টাকার শেয়ার কিনে ফেলেছেন। বাজার ধরে রাখার জন্য হয়তো আরো ২০০-৩০০ কোটি টাকা ডিমান্ড লোন দেয়া হতে পারে। তাতে ও বাজার পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতির লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। ৩ লক্ষ কোটি টাকার বাজারে ৫০০ কোটি টাকা বোঝার উপর শাকের আঁটি মাত্র।
৭। পৌরসভা নির্বাচনের কারনে সরকার চাইছে না বাজার পড়ুক। তাই অনেকটা লাইফ সাপোর্ট দিয়ে এ বাজারকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। অন্য কোন মার্কেট মেকার না থাকায় সরকার তার একক প্রচেষ্টায় বেশিদিন বাজার ধরে রাখতে পারবেন বলে খুব একটা আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না।
৮। বিয়ার মার্কেটের সকল লক্ষন দেখা যেতে শুরু করেছে। টার্নওভার দিন দিন কমে যাচ্ছে, বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও পারছে না, দিনের শুরুতেই নিম্নমূখী প্রবনতা ইত্যাদি।( এ বিষয়ে শীঘ্রই একটি পূর্নাংগ আর্টিকেল লিখব আশা করি)
৯। বাজার সংশোধনের জন্য দাতা সংস্থার চাপ আছে। সম্প্রতি আইএমএফ এর প্রতিনিধি দল ডিএসই পরিদর্শন করে গেছেন।
১০।বেসরকারী ব্যাংক গুলোর বিনিয়োগসীমা বেঁধে দেওয়ায় তারা বাজারে অংশগ্রহন না করে দর্শকের ভূমিকা নিয়েছেন।

সরকার তার ভাবমূর্তি রক্ষায় আগামী বিশ্বকাপ ক্রিকেট পর্যন্ত হয়তো বাজারকে এভাবে কৃত্রিমভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করবে। তারপর? তারপর বাজার তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকবে।

আগামীকাল বাজার মন্দা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তবে এসইসি আগামীকাল বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জরুরী বৈঠক করবেন বলে খবর পাওয়া গেল। দেখা যাক লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাজারকে সুস্থ্য করে তোলা যায় কিনা?
Quote   
01/18/2011 11:59 am

Administrator
Forum Addict


Regist.: 01/16/2011
Topics: 77
Posts: 29
OFFLINE
বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসি'র কতিপয় সিদ্ধান্ত, বাজারের উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব ও আগামীকালের(১৯-০১-২০১১) বাজার পূর্বাভাসঃ

আজকের (১৮-০১-২০১১) বাজারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)কর্তৃক নিম্ন লিখিত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছেঃ

বাংলাদেশ ব্যাংক:
১। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) কে আরো ২শ কোটি টাকা ডিমান্ড লোন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এ লোন দেয়া হয়। এর আগে গতকালও ২০০ কোটি টাকা লোন দেয়া হয়। সবমিলিয়ে শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা করতে আইসিবিকে ৪শ কোটি টাকা লোন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
২। ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার ঘাটতি পূরণ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ১৫টি ডিলার ব্যাংককে ৪ হাজার ৫০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা তারল্য সহায়তা এবং ১৬টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ২৬১ কোটি ৩২ লাখ টাকা রিপো সুবিধা প্রদান করেছে। তবে আজ রিপোর চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৪২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
৩। গত সপ্তাহে ট্রেজারি বন্ডের ২০০ কোটি টাকার নিলাম স্থগিত করার ফলে বাজারে ওই ২০০ কোটি টাকা রয়ে গেছে।


সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি):
৪। পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) ১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
৫। স্টক ডিলারদের জন্য মেম্বারস মার্জিনের ফি লিমিট ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র স্টক ডিলারদের শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

উপরোক্ত সিদ্ধান্তসমূহ বাজারে কিরূপ প্রভাব ফেলবে তা একটু আলোচনা করা যাক।। আইসিবি কে ২০০ কোটি টাকা ঋন দেওয়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গত ১০ তারিখের ব্যাপক ধ্বসের পর আইসিবি কে যে ২০০ কোটি টাকার ঋন দেওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয় সেই টাকায় তারা শেয়ার ক্রয় করে গত ১৭ তারিখে। তাই আগামীকালই আইসিবি উক্ত টাকার শেয়ার কিনতে পারবে বলে মনে হয় না। ব্যাংকগুলোকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা এবং তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি রেপো সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো ঐ টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবে তেমন আশা করা যায় না। বেশিরভাগ ব্যাংক তাদের আমানতের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করে বসে আছে, ফলে তারল্য সংকট কাটছে না। এদিকে বিভিন্ন ব্যাংকের মার্চেন্ট শাখাকে পৃথক সাবসিডিয়ারী কোম্পানী হিসেবে রুপান্তরের সিদ্ধান্তের কারনে ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে সহজে টাকা আসতে পারছে না। গত সপ্তাহে ট্রেজারী বিলের নিলাম স্থগিত করায় ওই টাকা বাজারে থেকে যাওয়ার কথা, কিন্তু তা কোথায় গেলো? শেয়ার বাজারে তো ঐ টাকা আসেনি। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো যে পরিমান শেয়ার কিনছে তার চেয়ে দ্বিগুন শেয়ার বিক্রি করছে। তাই ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া এসব সিদ্ধান্ত বাজারে তেমন প্রভাব ফেলবে বলে তেমন আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি বার বার বলা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) ১০ টাকা করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু কতদিনে তা কার্যকর করা হবে সে বিষয়ে সুষ্পস্ট কিছু বলা হয়নি। এর আগে দেখা গিয়েছে কোন কোম্পানীর শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের পর ঐ শেয়ারের দাম ১০-২০% বৃদ্ধি পেয়েছে যা বাস্তবতার নিরিখে একেবারেই যুক্তিহীন। আবার পড়তি বাজারে অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের পর তার দাম বাড়েনি, বরং সার্বিক বাজারের সাথে এগুলোর দামও পড়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে না এলে এই সিদ্ধান্ত তেমন কাজে আসবে না। স্টক ডিলারদের জন্য মেম্বারস মার্জিনের ফি লিমিট ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকায় নির্ধারণ করায় এখন তারা ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে মার্জিন সুবিধা পাবেন। এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। কিন্তু তারা যদি শেয়ার না কেনেন তাহলে এই সুবিধা কতটুকু কাজে আসবে তা বলা যাচ্ছে না।

এখন যেটা করা প্রয়োজন তা হল মার্চেন্টগুলোকে শেয়ার কিনতে বাধ্য করা। মিউচুয়াল ফান্ড গুলো কেন হাত গুটিয়ে বসে আছে তার একটা ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে। শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের ঘোষনায় ১০০ টাকা মূল্যের শেয়ারের দাম কালকে বাড়বে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের এই আগ্রহের সুযোগ নিয়ে কালকে বা পরশু মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তাদের শেয়ার অফলোড করে দেবে না - এই নিশ্চয়তা কে দেবে?

বিভিন্ন ফোরাম,ব্লগ, পেজ এ ইতিমধ্যে গুজব রটনাকারীদের চটকদার গুজব শুরু হয়ে গেছে। আগামীকাল গত ১১ তারিখের মত ১০০০ পয়েন্ট সূচক বাড়বে বলেও অতি উৎসাহীরা গুজব ছড়াচ্ছে। আগামীকাল বাজার বাড়বে এটা সত্য, তবে তা ১০০-২০০ পয়েন্টের বেশী বাড়বে তা আশা করা যায় না।

এর আগেও বলেছি, এখনো বলছি, বাজার তার স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে। তাই সময় এসেছে ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করার। আগামীকাল যদি বাজার চাঙ্গা থাকে গ্যাম্বলাররা এর সুযোগ নিয়ে দুর্বল শেয়ারের দামও বাড়াবে। তাই ফাঁদে পা না দিয়ে দুর্বল ভিত্তির শেয়ার এই সুযোগে বিক্রি করে মৌলভিত্তির শেয়ার কিনুন। আরেকটি কথা না বললেই নয়, মৌলভিত্তির যে সব শেয়ারের গত ডিসেম্বরে আর্থিক বর্ষ শেষ হয়েছে সে সব শেয়ারে বিনিয়োগ এ মুহুর্তে আপনার পুঁজি বাঁচানোর একটা রক্ষাকবচ হতে পারে।
Quote   
01/19/2011 11:18 am

Administrator
Forum Addict


Regist.: 01/16/2011
Topics: 77
Posts: 29
OFFLINE
বাজার পূর্বাভাস(২০-০১-২০১১)
==================

আজকের বাজার (১৯-০১-২০১১) আমার পূর্বাভাস অনুযায়ী কাজ করেনি। শেয়ারবাজার একটি স্পর্শকাতর জায়গা, যেখানে কোন দেশের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ( ফার্স্ট লেডী) অন্তঃস্বত্ত্বা হবার খবর এলে বাজার চাঙ্গা হয়, আবার প্রেসিডেন্টের কুকুরের পাতলা পায়খানার খবরে বাজার পড়ে যায়। একেতো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীগন ক্রমাগত বাজার পতনে দিশেহারা এবং চরম আতংকগ্রস্ত তার উপর বাজার ২ঘন্টা পর শুরু বেলা ১টায় শুরু হবার খবরে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আতংকের মাত্রা বাড়তে থাকে, জানা গেলো এসইসি, ডিএসই,বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রী মিটিং করছেন। মিটিং করার পর কোন সংবাদ সম্মেলন হল না, ঘোষনা এলো, ইন্ডেক্সের উপর সার্কিট ব্রেকার, ২২৫ পয়েন্ট উঠলে বা নামলে বাজার অটো বন্ধ হয়ে যাবে। ডিএসই'র বাইরে পুলিশ, জলকামান। মিটিং এ এসইসি'র চেয়ারম্যান বলেন যে তারা নাকি তাদের সকল ক্ষমতা ব্যবহার করে ফেলেছেন। ব্যাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্নর বলেন যে। তাদের পক্ষ থেকে যতটুকু তারল্য সহায়তা দেয়া দরকার, তা দেয়া হয়েছে । এর মানে দাঁড়ায়, এসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এর যদি আর কিছু করার না থাকে তাহলে ৩৩ লক্ষ বিনিয়োগকারীদের ভাগ্য তারা কিছু লুটেরা এবং হায়েনাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে যা হবার তাই হল। ২ ঘন্টার জন্য লেনদেন এর সুযোগ দেয়া হল। ১ ঘন্টা ২৬ মিনিটেই সূচক সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা অতিক্রম করায় লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেলো। আগামীকালের জন্য সার্কিট ব্রেকার নির্ধারন করা হয় ২৩৭ পয়েন্ট। আমার মনে হয় আগামীকাল ১৫ মিনিটের মধ্যেই সূচক তার নিম্নতম সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করবে।


এখন রাত ৯টা। সরকার এর পক্ষ থেকে সংকট উত্তরনে এখনো কোন পদক্ষেপ এর ঘোষনা আসেনি। আসার সম্ভাবনাও ক্ষীন। সকল রসুনের কোয়া যে এক জায়গায়। কাল কি হবে তা এখন বলা না গেলেও অনুমান করা যায়। আল্লাহ না করুন, কালকে না আবার আমার কোন ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়। জনগনই নাকি সকল ক্ষমতার মালিক, তারা সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না। আর এই জনতাই যখন তাদের ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের আর্তি জানাতে চান, তখন কেউ শুনতে চায় না, বরং তাদেরকে ভেড়ার পাল বলে গালি দেওয়া হয়। মহোদয়গন, দয়া করে বলবেন কি এই ভেড়ার পাল কে পূঁজিবাজারে কে এনেছে?(ডিএসই এর ওয়েবসাইটে দেখুন, তাদের ভিশন ২০১৩)। গত দুই বাজেটে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের উপর কর রেয়াত কে দিয়েছে? এই মানুষগুলোকে শেয়ার বাজারে কেন এনেছেন আপনারা? তাদের মুখের খাবার কেড়ে নেয়ার জন্য? আর কত টাকা চাই আপনাদের? আমাদের আর কত ধৈর্য ধরতে বলবেন? ইন্ডেক্স আর কত নামালে আপনাদের পেট ভরবে?


মহোদয়দের নাকি আর কিছু করার নাই। ৫০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো কি করছে? প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার তারল্য ও রেপো সুবিধা দেওয়ার পর ব্যাংকগুলো কি করছে? আপনাদের কি ক্ষমতা নেই তাদের কে বলার, যে এই টাকা দিলাম-এটা শেয়ার বাজারে খাটাও। ব্যাংক গুলো যে সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলো, আর আজ তাদের কে বিনিয়োগ করার জন্য বার বার বলা সত্ত্বেও তারা হাত গুটিয়ে বসে আছে। মহোদয়গন, আপনাদের কি ক্ষমতা নেই বলার, যে এত টাকা বিনিয়োগ না করলে আগের বিধিবহির্ভূত বিনিয়োগকৃত টাকা সীজ করা হবে? গভর্নর সাহেবের কাছে জানতে ইচ্ছা হয়, ৪০০ কোটি টাকা ডিমান্ড লোন দেওয়ার পর আপনার হাত খালি হয়ে গেলো? ফরেক্স এর অতিরিক্ত রিজার্ভ কি দিন দিন ডিম পাড়বে? সোনাও নাকি কিনলেন। কার টাকায় ঘি খাচ্ছেন মহোদয়? সংকোচনশীল মুদ্রানীতি করবেন, ভালো কথা, কিন্তু পাবলিকের চাল ডাল কেনার পয়সাও রাখবেন না? ৩৩ লক্ষ বিনিয়োগকারী যদি একযোগে আপনাদের সুরক্ষিত ভল্টে হামলা চালায়- তখন? কার দোষ দেবেন? আগেতো বলেছেন, ভেড়ার পাল। এবার বলবেন -ডাকাত। মনে রাখবেন যুগে যুগে এই ভেড়ার পালরাই, এই ডাকাতরাই আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে।
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview