 Moderator Forum Expert

Regist.: 02/08/2011 Topics: 60 Posts: 781
 OFFLINE | The Daily Janakantha
প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে
বাংলাদেশ ফান্ড অনুমোদন সত্ত্বেও শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানামুখী আলোচনায় পুঁজিবাজারের প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে যেসব বড় বিনিয়োগকারীর নাম এসেছে তাদের প্রায় সবাই এখন নিষ্ক্রিয়। সরকারের পৰ থেকে চলতি সপ্তাহেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার সম্ভাবনা থাকায় এসব বিনিয়োগকারী আপাতত লেনদেন না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছেন। এর প্রভাবে সামগ্রিক লেনদেনে শস্নথগতি ও শেয়ারের দর কমে যাচ্ছে বলে বাজার সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন।
বাজার সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসত্মবতা যাই হোক না কেন_ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার পর প্রথম কয়েক দিন অভিযুক্তদের কেউ কেউ খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। তবে গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর তাঁদের প্রায় সবাই এখন আতঙ্কের মধ্যে আছেন। বিশেষ করে মঙ্গলবার দু'একটি দৈনিকে কারসাজির দায়ে অভিযুক্তদের বিরম্নদ্ধে মামলা হচ্ছে_ এ ধরনের খবরে বড় বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে দূরে ছিলেন। ফলে ৫ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড অনুমোদনের প্রভাবে দিনের শুরুতে বাজারের উত্থান হলেও শেষ পর্যনত্ম পতনের মধ্যে দিয়েই লেনদেন শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, সেকেন্ডারি মার্কেটে কারসাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই পুঁজিবাজারে 'গেম্বলার' হিসেবে পরিচিত। বাজারে শেয়ারের দর ওঠা-নামার ৰেত্রে এদের ভূমিকা রয়েছে। এসব বিনিয়োগকারী নিজেরা যেমন বড় অঙ্কের শেয়ার কেনাবেচা করে বাজারে প্রভাব ফেলতে সক্ষম, তেমনি এদের অনুসরণ করে শেয়ার ক্রয় বা বিক্রি করেন_ এমন বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও প্রচুর। আবার বাজারে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গুজব ছড়ানোর জন্য প্রায় প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউসেই এদের লোকজন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসার পর এরা সতকর্তার সঙ্গে লেনদেন করায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এর প্রভাব পড়েছে। সর্বশেষ প্রভাবশালী এসব বিনিয়োগকারীর বিরম্নদ্ধে মামলা হচ্ছে_ এ ধরনের খবরে তারা হাত গুটিয়ে ফেলায় বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, তদনত্ম প্রতিবেদন প্রকাশের পর দু'একদিন দরবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোন কোন বড় বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। মূলত এ কারণেই কয়েক দিন লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু যেসব বিনিয়োগকারী ওই সময় শেয়ার বিক্রি করেছেন, তাঁরা নতুন করে কেনার সিদ্ধানত্ম না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেৰণ করছেন। সরকারের দিক থেকে তদনত্ম প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী ধরনের পদৰেপ নেয়া হয়_ তা দেখার জন্য প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীরা অপেৰা করছে। প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তাঁরা পুনরায় সক্রিয় হলে বাজারের লেনদেনে গতি ফিরে আসবে।
বাজার পরিস্থিতি ॥ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জে (ডিএসই) মোট ২৫৩টি কোম্পানির শেয়ার, মিউচু্যয়াল ফান্ড ইউনিট ও বন্ড লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে দর বেড়েছে ৩০টির, কমেছে ২১৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টির। এর প্রভাবে ডিএসই সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৮.২৩ পয়েন্ট কমে ৬২৪৯.৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডিএসই-২০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৬.২৩ পয়েন্ট কমে ৩৮৯৫.৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। দিন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন ২ লাখ ৮২ হাজার ৮ কোটি ৬৯ লাখ ৬২ হাজার ৪৮১ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সারা দিনে মোট ৭ কোটি ৯৯ লাখ ৬২ হাজার ৩৮০টি শেয়ার, মিউচু্যয়াল ফান্ড ইউনিট ও বন্ড লেনদেন হয়েছে_ যার আর্থিক মূল্য ছিল ৭৯১ কোটি ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার ৪০৪ টাকা। লেনদেনের এই পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে ৭৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বেশি।
ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো_ বেঙ্মিকো লিমিটেড, বেঙ্টেঙ্, তিতাস গ্যাস, ডেসকো, মালেক স্পিনিং, আফতাব অটোমোবাইলস, বিএসআরএম স্টিল, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, এইমস ফার্স্ট মিউচু্যয়াল ফান্ড এবং অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
দরবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে থাকা ১০টি কোমপানি হলো_ জনতা ইন্সু্যরেন্স, মুন্নু জুটেঙ্, ন্যাশনাল টি কোম্পানি, আইসিবি এমপস্নয়িজ মিউচ্যুয়াল ফান্ড, জেমিনি সি ফুড, ৮ম আইসিবি, সমরিতা হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক, ফেডারেল ইন্সু্যরেন্স ও ৪র্থ আইসিবি।
অন্যদিকে দর হ্রাসের দিক থেকে শীর্ষ ১০টি কোমপানি হলো_ ফিডেলিটি এ্যাসেট, সমতা লেদার, আনলিমা ইয়ার্ন, ৬ষ্ঠ আইসিবি, সোনারগাঁও টেঙ্টাইল, সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, এমবি ফার্মা, ইস্টার্ন ইন্সু্যরেন্স, রেইনউইক যজ্ঞেশ্বর ও পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। |