DSE SMALL INVESTORS PLATFORM (DSIP) > DISCUSSION > NEWS AND INFO
আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পুঁজিবাজার থেকে হাতিয়ে নিয়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি
Page 1 / 1
আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পুঁজিবাজার থেকে হাতিয়ে নিয়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি
03/06/2011 4:49 pm

Forum Addict


Regist.: 12/31/2010
Topics: 14
Posts: 92
OFFLINE
ইত্তেফাক, মার্চ ০৭, ২০১১
আহমেদ মিঠু

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে গত দু'বছরে নানা ধরনের প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন কয়েকটি কর্পোরেট গ্রুপের উদ্যোক্তারা। নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন তারা। রূপান্তরযোগ্য অগ্রাধিকার শেয়ার ইসু্য, ব্যাংক ঋণকে শেয়ারের রূপান্তর, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপব্যবহার এবং সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোক্তারা বাজার থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছরে রূপান্তরযোগ্য অগ্রাধিকার শেয়ার ইসু্য করে ৮টি কোম্পানি বাজার থেকে ১ হাজার ১৮২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে। একই সময়ে ব্যাংক ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর করে বাজার থেকে নেয়া হয়েছে ৬৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ৩১২ টাকা। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৩টি কোম্পানি বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে ১ হাজার ১৯৮ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া একই পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে ৩টি কোম্পানির উদ্যোক্তারা বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন কমপক্ষে ১ হাজার ৫৬১ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার ৬০ টাকা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রচলিত বিধি অনুসরণ করা হলেও কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করে বাজার থেকে বাড়তি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার একটি স্বীকৃত মাধ্যম হলেও বাংলাদেশে এর খুব বেশি প্রচলন ছিল না। কিন্তু গত দেড় বছরে হঠাৎ করেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে মূলধন বৃদ্ধির হিড়িক পড়ে যায়। স্বল্প সময়ে অনুমোদন নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকায় অধিকাংশ কোম্পানিই এখন এ পথ বেছে নিতে শুরু করে। সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় এর মধ্য দিয়ে কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিশেস্নষকরা মনে করেন।

অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে গত দেড় বছরে শেয়ারবাজার থেকে ১ হাজার ১৬২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোক্তারা। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রাইট শেয়ার ছাড়ার যোগ্যতা না থাকলেও কোনো কোনো কোম্পানি বিকল্প হিসেবে অগ্রাধিকার শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নেয়। এমনকি লোকসানের কারণে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলেও অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করেছে একাধিক কোম্পানি।

এসইসি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গত দেড় বছরে অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড সর্বোচ্চ ৪১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এরপরের অবস্থানে রয়েছে সামিট পাওয়ার লিমিটেড। কোম্পানিটি অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে তুলে নিয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এছাড়া আফতাব অটোমোবাইলস ১৮০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং ১২০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম ৭৫ কোটি টাকা, এস আলম কোল্ড রোল্ড ৫৩ কোটি ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, বিডিকম লিমিটেড ২৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং অগি্ন সিস্টেমস ২০ কোটি টাকার অগ্রাধিকার শেয়ার ইসু্য করে।

সাধারণভাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি মূলধন বাড়াতে চাইলে রাইট শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ডেকে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে হয়। এরপর রাইট শেয়ার ইসু্যর অনুমোদন চেয়ে এসইসিতে আবেদন করতে হয়। এসইসির পক্ষ থেকে কোম্পানির আর্থিক অবস্থান, উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম, মুনাফা অর্জনের রেকর্ড, লভ্যাংশ বিতরণসহ ইত্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি ওই কোম্পানি বা এর পরিচালকদের নামে কোনো ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে কিনা_ তা যাচাই-বাছাই করা হয়। এছাড়া যে উদ্দেশে মূলধন বাড়ানো হচ্ছে_ তার বাস্তবতা সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নেয়া হয়। এর আগে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে সংগৃহিত অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে এসইসি। কোম্পানির দেয়া তথ্যে কোনো ঘাটতি থাকলে প্রয়োজনে একাধিকবার তদন্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র পাওয়ার পর কোম্পানির সামগ্রিক অবস্থান সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন পেলেই কেবল রাইট শেয়ার অনুমোদন করা হয়। আর সামগ্রিক প্রক্রিয়া শেষ করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৭ মাস লেগে যায়।

জানা গেছে, রাইট শেয়ার ইসু্যর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা এবং কোম্পানির যোগ্যতায় ঘাটতি থাকার কারণেই অনেক কোম্পানি ভিন্ন পথ হিসাবে অগ্রাধিকার শেয়ার ইসু্যর প্রতি ঝুঁকে পড়ে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এবং ইজিএমে অনুমোদনের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই অগ্রাধিকার শেয়ার ছাড়ার এসইসির কাছ থেকে অনুমোদন পেয়ে যায় এসব কোম্পানি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাইট শেয়ারের ক্ষেত্রে ব্যাপক যাচাই-বাছাই করা হলেও অগ্রাধিকার শেয়ারের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। কোম্পানির এজিএমে অনুমোদনের পর ২০ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যেই এসইসির কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে অধিকাংশ কোম্পানি। নীতিমালা না থাকায় কোম্পানি যেভাবে প্রস্তাব দিয়েছে সেভাবেই অগ্রাধিকার শেয়ারের সব রকম শর্ত বহাল রেখেছে এসইসি।

অগ্রাধিকার শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে কোম্পানির পরিচালকরা কৌশলে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাইট শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক অবস্থান ও সুনাম বিবেচনা করে এসইসি প্রিমিয়াম হিসেবে সাধারণত শেয়ারের অভিহিত মূল্যের ২ থেকে ৩ গুণ অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেয়। কিন্তু অগ্রাধিকার শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সময় নির্দিষ্ট সময়ের বাজার মূল্যের গড়ের চেয়ে মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়ে শেয়ারের অভিহিত মূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ গুণ অর্থ তুলে নেয়া হচ্ছে। এতে কোম্পানির পরিচালকরা বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পেলেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কারণ কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এর দর কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে অগ্রাধিকার শেয়ারের প্রায় ৯০ শতাংশ পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি হওয়ায় এ নিয়ে অনৈতিক বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, রাইট শেয়ার ছাড়ার যোগ্যতা না থাকলেও একাধিক কোম্পানিকে অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে এসইসি। বিডিকম লিমিটেড ১ঃ১ হারে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার রাইট শেয়ার ছাড়ার জন্য এসইসিতে আবেদন করেছিল। কিন্তু কোম্পানির পরিচালকদের কাছে মাত্র ১৩.৭৬ শতাংশ শেয়ার থাকায় এসইসির কাছে রাইট শেয়ার ইসু্যর প্রস্তাবটি অযৌক্তিক মনে হওয়ায় কমিশনের ৩৩২তম সভায় আবেদনটি বাতিল করা হয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে পুনরায় আবেদন করা হলে কমিশন আবারও তা বাতিল করে দেয়। কিন্তু এর পরপরই কোম্পানির পক্ষ থেকে ২৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার অগ্রাধিকার শেয়ার ছাড়ার আবেদন করা হলে এসইসি তা অনুমোদন করে। একইভাবে পরিচালকদের হাতে মাত্র ৬.৩৯ শতাংশ শেয়ার থাকায় অগি্ন সিস্টেমসকে রাইট শেয়ার ইসু্যর অনুমোদন দেয়নি এসইসি। কিন্তু অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে ইতোমধ্যেই কোম্পানিটি ২০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে।

অগ্রাধিকার শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সাধারণভাবে অগ্রাধিকার শেয়ার ছাড়ার পর নির্ধারিত সময় শেষে তা সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করার সুযোগ থাকে। কিন্তু অন্যান্য দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এজন্য কয়েক বছর সময় নেয়া হয়। এজন্য অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি বছর নির্ধারিত হারে লভ্যাংশ দেয়া হয়। কোম্পানি মুনাফা অর্জন করলে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ দিতে হয়। কিন্তু দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো মাত্র কয়েক দিনের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করছে। সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের জন্য কোনো কোম্পানিই ৩ মাসের বেশি সময় নেয়নি। এ পর্যন্ত অগ্রাধিকার শেয়ার ইসু্যকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড ৩ মাস, আফতাব অটো ৪ মাস, বিডি থাই দেড় মাস এবং এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল ৩ মাস পর ওইসব শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করেছে।

দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই সফলভাবে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে এ পদ্ধতি চালু করার জন্য গত বছরের ৯ মার্চ বিধিমালা জারি করে এসইসি। প্রচলিত পদ্ধতির নির্ধারিত মূল্যের (ফিক্সড প্রাইস) পাশাপাশি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চালুর হলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় এটি প্রয়োগ করতে সময় লেগেছে এক বছর। ২০১০ সালের মার্চে এ পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়।

কিন্তু শুরু থেকেই সংশিস্নষ্ট বিধির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করে কয়েকটি কোম্পানি। এ পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর আইপিওর মাধ্যমে আরএকে সিরামিকস ২১৩ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট ৬৪৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং এমআই সিমেন্ট ৩৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। একই পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে সামিট গ্রুপের কোম্পানি ওশন কন্টেইনার ১৭২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং খুলনা পাওয়ার ১ হাজার ১২ কোটি ৭১ লাখ ৯০ হাজার ১৫০ টাকা সংগ্রহ করে। এর আগে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে ২০০৮ সালে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর সিরামিকস ২৮৬ কোটি ১১ লাখ ৬২ হাজার ৬০ টাকা এবং ২০০৯ সালে আফতাব গ্রুপের নাভানা সিএনজি ৩৭৬ কোটি ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯১০ টাকা তুলে নেয়। তবে এ দুটি কোম্পানির মূল্য নির্ধারণে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি।

বিশেস্নষকদের মতে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া সবগুলো কোম্পানিই মৌলভিত্তির তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়ার সুযোগ গ্রহণ করেছে। এ পদ্ধতি প্রথম মূল্য নির্ধারণ হয় ওশন কন্টেইনারের। ২০০৯ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয় ১৪৫ টাকা। ফলে লেনদেন শুরুর আগেই প্রতিটি শেয়ারের দর এর প্রকৃত আয়ের তুলনায় ৬০ গুণ বেশি নির্ধারিত হয়। খুলনা পাওয়ারের ইপিএস ছিল ২ টাকা ৭৯ পয়সা। এ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয় ১৯৪ টাকা। ফলে লেনদেনের শুরুতেই খুলনা পাওয়ারের শেয়ারের পিই দাঁড়ায় ৬৯। বর্তমানে বাজারে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের সর্বশেষ বার্ষিক হিসাবে ইপিএস ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে মবিল যমুনার পিই দাঁড়ায় ৬২।

সংশিস্নষ্ট বিধিবিধান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত মূল্য (ফিক্সড প্রাইস) পদ্ধতির ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দর মৌলভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হলে এসইসি তা কাটছাঁট করতে পারে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্টভাবে সে সুযোগ নেই। আইনের এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই সংশিস্নষ্ট কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগসাজস করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর কোনো রকম প্রশ্ন ছাড়াই তা অনুমোদন করেছে এসইসি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপব্যহার করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পদ্ধতির অংশ হিসেবে দর প্রস্তাবের (বিডিং) মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার (লক ইন) মেয়াদ খুব কম হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেশি দরে শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যায়। পরে ওই শেয়ারের দর কমে যায়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

একই গ্রুপের ৬টি কোম্পানির ঋণ পরিশোধের জন্য ২০০৯ সালের আগস্টে ৬৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ১২ টাকার শেয়ার ইসু্য করে বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি বেক্সটেক্স লিমিটেড। এজন্য কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২০৭ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার ৮৭০ টাকা থেকে ৪০৫ কোটি ৬০ লাখ ৬৫ হাজার ৩০ টাকায় উন্নীত করা হয়। ঋণের বিনিময়ে

শেয়ার পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো_ নিউ ইংল্যান্ড ইকু্যয়িটি লিমিটেড, বেক্সিমকো লিমিটেড, শাইনপুকুর সিরামিকস, বাংলাদেশ অনলাইন লিমিটেড, নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং বেক্সিমকো হোল্ডিংস লিমিটেড। এর মধ্যে নিউ ইংল্যান্ড ইকু্যয়িটি বেক্সিমকো গ্রুপের উপদেষ্টা সাহাবুল আলমের মালিকানাধীন এবং বাকিগুলো বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী কোম্পানি। ঋণের বিনিময়ে এসব কোম্পানির নামে সর্বমোট ১৯ কোটি ৮৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪১৬টি শেয়ার ইসু্য করা হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ৩২ টাকা। তবে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এসব শেয়ারের বাজারমূল্য দ্বিগুণেরও বেশি দাঁড়ায়।
Quote   
03/06/2011 8:18 pm

Administrator
Cool Senior Forum Expert


Regist.: 12/19/2010
Topics: 309
Posts: 2083
OFFLINE

Originally Posted by Arshad Syed:
ইত্তেফাক, মার্চ ০৭, ২০১১
আহমেদ মিঠু

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে গত দু'বছরে -----------------------------মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এসব শেয়ারের বাজারমূল্য দ্বিগুণেরও বেশি দাঁড়ায়।



Thanks ARSHAD BHAI for posting a informative article.
................
Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.

http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview