DSE SMALL INVESTORS PLATFORM (DSIP) > SCHOOL OF ANALYSIS
অর্থনীতি আর দেশের সম্মান দুটোই ডুবতে বসেছে - সাদেক খান
Page 1 / 1
অর্থনীতি আর দেশের সম্মান দুটোই ডুবতে বসেছে - সাদেক খান
03/04/2011 10:39 pm

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
অর্থনীতি আর দেশের সম্মান দুটোই ডুবতে বসেছে
সাদেক খান
     

হন্তদন্ত এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হঠাৎ সাক্ষাতে আমাকে সাংবাদিক জেনে উত্তেজিত কণ্ঠে প্রশ্ন করে বসলেন : অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, তারা বড় বড় কথা বলেন, আসলে তারা করছেন কী? দেশটাকে কি তারা দেউলিয়া করে ছাড়বেন?

বাস্তবিক­ দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, বিদ্যুৎবিভ্রাট, পানিসমস্যা, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজির দৌরাত্ম্য, খুন, জখম, পুলিশের অত্যাচার এসব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের কথা বাদ দিয়েও বলতে হয়, দেশের অর্থনৈতিক অবস্খা ভালো নয়। বড়লোকেরাও গুরুতর অস্বস্তিবোধ করতে শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকেরই হালনাগাদ করা সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক নেতিবাচক। বাড়ছে মূল্যস্ফীতি, বাড়ছে আমদানি-রফতানি ব্যয়, কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ। বাড়ছে বেকারত্বের বোঝা। পত্রপত্রিকার রিপোর্টে আমরা দেখতে পাচ্ছি, শেয়ার কেলেঙ্কারিতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত। তারা দায়ী করছেন অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর এবং শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্খা এসইসি’র সিদ্ধান্তহীনতা, নীতিবিভ্রাট ও বাকচাপল্যকে। প্রধানমন্ত্রী খাদ্যের দাম কমানোর প্রয়োজনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখে খাদ্য আমদানি করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন। তার দলের লোকেরাই বলছে, প্রশাসনিক অচলাবস্খা ও দুরাচারে আর চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে প্রায় সর্বত্র উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মসংস্খান কোথা থেকে হবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘মেজর ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস’ প্রতিবেদনে মূলত চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাস ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭ মাস (৩১ জানুয়ারি/১১) পর্যন্ত তথ্যাদি স্খান পেয়েছে। তুলনা করা হয়েছে পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের সাথে। তবে কিছু ক্ষেত্রে তথ্যাদি সযত্নে গোপন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের তুলনামূলক চিত্র না দিয়ে কোনো একটি মাসের সাথে পূর্ববর্তী অর্থবছরের কোনো একটি মাস কিংবা তিন মাসের তুলনামূলক চিত্র দেয়া হয়েছে। রাখঢাক সত্ত্বেও ওই রিপোর্টে দেখা গেছে, খাদ্যমূল্যনীতিসহ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ক্রমেই বাড়ছে। ডিসেম্বরে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি গিয়ে ঠেকেছে ১১ দশমিক ০১ পয়েন্ট, যা আগের মাসেও ছিল ৯ দশমিক ৮০ পয়েন্ট। আর গত বছর নভেম্বরে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ডিসেম্বরে ছিল ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নভেম্বরের ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সালের জুলাইতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আর খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আগের মাসের তুলনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বেশ কমেছে। জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৩৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের মাসে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ১৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ কমেছে ৭৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শতকরা হিসেবে এটা প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ।

এ দিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই থেকে জানুয়ারি) রেমিট্যান্স আয়ের প্রবৃদ্ধি শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। এ সময় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশে। আগের অর্থবছরের সাত মাসের তুলনায় এ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে মাত্র ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে আমদানি ব্যয় পূর্ববর্তী অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৫৭ ভাগ বেড়ে গেছে। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে আমদানিব্যয় ছিল ১১ হাজার ১৫৭ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেটা ২০১০ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৪ হাজার ৮০ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২৩৮ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে ডিসেম্বরে এসে দেখা গেছে নতুন করে এলসি খোলার পরিমাণ কমে গেছে।

অবশ্য ২০০৯-১০ অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে যে রফতানি আয় ছিল ৮ হাজার ৭১২ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেটা বেড়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৮৪ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানি ব্যয়বৃদ্ধিরও লক্ষণ সেটা।

২০০৯-এর নভেম্বরের তুলনায় ২০১০-এর নভেম্বরে রাজস্ব আয় ২০ দশমিক ৮৪ ভাগ বা এক হাজার ১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা বেড়েছে। গত আর্থিক বছরের প্রথম ৬ মাসে দেশে খাদ্য মজুদের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন। সেটা এক লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন কমে চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বরে এসে দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টনে। সুলভমূল্যে সরকারি মজুদ বাজারে ছেড়ে খাদ্যের দাম কমানোর ব্যবস্খার মতো বিশ্বাসযোগ্য কোনো হাতিয়ার আর সরকারের হাতে নেই।

অন্য দিকে শেয়ারবাজারের হাঙর, কমিশন বাণিজ্যের ধান্দাবাজ আর আঙুল ফুলে কলাগাছ চাঁদাবাজির সর্দারেরা সমানে বিদেশে টাকা পাচার করছে, পরিবারের কাউকে না কাউকে প্রবাসী খাজাঞ্চি বানিয়ে গুপ্তধন রক্ষার ব্যবস্খা করছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকগুলো বলছে, বাজারে ডলারের সঙ্কট রয়েছে। এ কারণে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্খ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার, ভোগ্যপণ্য, জ্বালানি তেল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য আউটার সেল তথা সরাসরি বিক্রি ও ওডি’র (ওভার ড্রাফট বা স্বল্প সময়ের জন্য ধার) মাধ্যমে ডলার সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এর পরও সঙ্কট কাটছে না। অভিযোগ উঠেছে সরবরাহ করা বৈদেশিক মুদ্রার যথার্থ ব্যবহার নিয়েও। কেউ কেউ বলছেন, কিছু ব্যাংকের যোগসাজশে শেয়ারবাজারের মতো ডলারবাজারেও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হচ্ছে। আবার কোনো কোনো মহল থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে, আমদানির নামে বিদেশে মুদ্রা পাচার করা হচ্ছে। পণ্য আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো হলেও পণ্য আসছে না। এমনি পরিস্খিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রকৃত অবস্খা জানতে ১০টি দেশী-বিদেশী ব্যাংকে তদন্ত শুরু করেছে।

ওই তদন্তের ওপরও লোকের তেমন ভরসা নেই। কারণ, শেয়ার কেলেঙ্কারির হাঙর আর বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের চাঙ্গড় ধনকুবেররাই তো প্রধানমন্ত্রীর দফতর, অর্থমন্ত্রীর দফতর আর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দফতর ঘিরে বসে থাকেন। অতীতে শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে শিক্ষিত বেকারদের শেয়ারবাজারে আত্মকর্মসংস্খানে উৎসাহ দিয়েছিলেন সরকারি দলের নেতারা। ২০০৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এসইসি কার্যালয় পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ বিও তথা বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট রয়েছে শিগগিরই সে সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। তখন সে সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ। কিন্তু দুই বছর পরও বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়নি। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৪টি। অর্থমন্ত্রীর সে ঘোষণা অনুযায়ী বিও অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা দ্বিগুণ হতে এখনো ৪ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট খোলা বাকি রয়েছে। অথচ এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারের নতুন বিনিয়োগকারীরা ‘ফটকাবাজি’ করে লাভবান হতে বাজারে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন। পতনমুখী বাজারে আসা নতুন বিনিয়োগকারীদের শাস্তি পেতে হবেই বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অবিবেচনাপ্রসূত বলে মন্তব্য করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কারণ এতে শেয়ারবাজারের ওপর সঞ্চয়ী স্বল্পবিত্ত-মধ্যবিত্ত সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা আরো বিশ্বাস হারাবে। শেয়ারবাজার ধ্বংসের ইন্ধন জোগালেন তিনি।
কাজের কাজে গোলমাল বাধানো শুধু নয়, অকাজে গোলমাল পাকিয়ে মানির মানহানি জাতিরাষ্ট্রের ইজ্জত নষ্ট করতেও কম যাচ্ছেন না সরকারের অর্থমন্ত্রী আর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিবিভাগের মহাব্যবস্খাপকের এক কলমের খোঁচায় অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্খাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তার আটঘাট সম্ভবত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরই বাতলে দিয়েছেন। হুকুমনামায় বলা হয়েছে : গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্খাপনা পরিচালক নিয়োগ বিষয়ে আমাদের ২৭-২-২০১১ তারিখের বিআরপিডি (আর) ৭৬০/২০১১-১১৩ নং পত্রের সূত্রে এই পরিচালক হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ১৪(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নেয়া হয়নি। সেহেতু গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্খাপনা পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বহাল থাকা ও দায়িত্ব পালন বৈধ নয়। গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের ১৪(১) ধারাটিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকে একজন ব্যবস্খাপনা পরিচালক থাকবেন যিনি কিনা বোর্ড সভায় অনুমোদিত হবেন, তবে তা অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি নিয়ে করতে হবে। এমতাবস্খায় গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ১৪(১) ধারা লঙ্ঘনের জন্য অধ্যাপক ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্খাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদার ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতারা এই হুকুমনামা মেনে নেননি। গ্রামীণ ব্যাংকের তথ্য ও গণমাধ্যম সমন্বয় মহাব্যবস্খাপক জান্নাত-ই-কাওনাইন এক বিবৃতিতে জানান, স্বপদে বহাল আছেন মুহাম্মদ ইউনূস। বিষয়টি আইনের। গ্রামীণ ব্যাংক একনিষ্ঠভাবে সব আইন পালন করে এসেছেন। ব্যবস্খাপনা পরিচালকের নিয়োগসংক্রান্ত আইনগুলোও যথাযথভাবে পালন করে আসছেন। ব্যাংকের আইন পরামর্শদাতাদের মতে, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যথারীতি তার পদে বহাল আছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দু’টি রীট মামলা করেছেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০০০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র হাতে নিয়েই ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তা ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে নিয়োগ দেয় নিয়োগকর্তা গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ড। সরকারের কোনো এখতিয়ার এখানে নেই। তবে গ্রামীণ সংখ্যালঘিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে বোর্ডে দু’জন প্রতিনিধি পাঠানোর অধিকার সরকারের রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকেরও তদারকি প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তাদের সবার সম্মতি নিয়েই নতুন মেয়াদে পুনর্নিয়োগের সময় এই নোবেল বিজয়ীকে আজীবন ওই পদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয় গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। তাতে শুধু অনাপত্তির আনুষ্ঠানিকতার জন্য পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়, যা এত দিন ফাইলচাপা পড়েছিল। সেটা ঘেঁটে বের করা হয়েছে ‘রাজনৈতিক’ নির্দেশে। আর কর্মবীর গুণী ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বনন্দিত ওই লোকসেবককে গায়ে পড়ে অপমান করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া : প্যারিস থেকে ই-মেইলে পাঠানো আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসঙ্ঘের সাবেক মানবাধিকার কমিশনার মেরি রবিনসন আহূত ফেন্সটস অব গ্রামীণের বিশ্ব বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারের নিয়োগ পাওয়া গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন, আইনসম্মত না হওয়ায় ব্যবস্খাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে চেয়ারম্যানের এ বক্তব্য তার আইনি ক্ষমতাবহির্ভূত। চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের পর গ্রামীণ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, মুহাম্মদ ইউনূস ব্যবস্খাপনা পরিচালকের পদে বহাল আছেন। ... যত দিন পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক ও মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আইনসম্মত ও নিরপেক্ষ আচরণ না করা হবে, তত দিন আমরা (এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী) প্রচারাভিযান চালিয়ে যাব। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্খা এএফপি জানায়, ইউনূসকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পদক্ষেপে মার্কিন দূতাবাস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংককে নিয়ে করা (অকারণ) তদন্ত ও প্রচারণার বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা সরকারকে জানিয়েছিল। ইউনূস প্রসঙ্গে ওবামা প্রশাসনের উদ্বেগের বিষয়টি হিলারি ক্লিনটন গত ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোনে জানিয়েছেন। এ ছাড়া গত মাসে ঢাকা সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়টি আবার তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান উপ-সহকারী সচিব জেফরি আর পায়াট।

ওয়াশিংটন সূত্রে আরো প্রকাশ : আগামী এপ্রিলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর হচ্ছে না। একই মাসে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে তার সৌজন্য সাক্ষাৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অর্থমন্ত্রী প্রকারান্তরে বলেছেন : আইন তার স্বাভাবিক নিয়মে চলেছে, সরকারের কোনো হাত নেই। এমন একটা ‘অস্বাভাবিক’ ঘটনার খোঁড়া ব্যাখ্যায় ভবি ভুলবে কি?

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট
[সূত্রঃ নয়া দিগন্ত, ০৫/০৩/১১]
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview