DSE SMALL INVESTORS PLATFORM (DSIP) > DISCUSSION > NEWS AND INFO
শেয়ার কেলেঙ্কারি বিব্রতকর মোড় নিয়েছে_ সাদেক খান
Page 1 / 1
শেয়ার কেলেঙ্কারি বিব্রতকর মোড় নিয়েছে_ সাদেক খান
05/04/2011 5:52 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/09/2011
Topics: 31
Posts: 155
OFFLINE
শেয়ার কেলেঙ্কারি বিব্রতকর মোড় নিয়েছে
সাদেক খান


রাজনৈতিক আদর্শবাদের বিষম বিরোধ আর সংবিধান সংশোধনের ঘোর জটিলতা নিয়ে মহাজোট সরকারের বাকশালমনা নেতারা সমস্বরে উচ্চরব তুলেছেন। উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক-সাংবিধানিক সমস্যা ও বিবাদ ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রী-উপদেষ্টারা জিইয়ে রাখছেন। তাই এসব নিয়ে সরকার কেবলই তালগোল পাকাচ্ছে, বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাতে প্রধানমন্ত্রী বা তার অন্যান্য মন্ত্রী-উপদেষ্টা তেমন বিব্রত বোধ করছেন না। নাগরিক অব্যবস্খা, অপরাধবৃত্তের বিস্তার, জবরদস্তি চাঁদাবাজি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি-সার সঙ্কটের দুর্গতি, জননিরাপত্তার নিদারুণ অভাব, শ্রম-অসন্তোষ, নারী-শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি, আহত ধর্মবিশ্বাসের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন কারণে ক্রমবর্ধমান অস্খিরতা ও গণবিক্ষোভ এখনো সরকারকে বিচলিত করছে না। তা সত্ত্বেও সরকার যে উদ্বিগ্ন এবং তার নড়বড়ে আসনে স্বস্তি বোধ করছে না, সেটাও বিলক্ষণ নানা কাজে ও কথায় প্রকাশ পাচ্ছে। সরকারের এমন অব্যক্ত উদ্বেগের প্রকৃত কারণ অন্যত্র। সরকার আসলে মহা বিপদের সম্মুখীন চরম অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অব্যবস্খার কারণে।

এক দিকে নিয়োগ বদলি প্রমোশনের ফেরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দলীয় বশ্যতা আদায় ও প্রশাসনে তোষামোদ কালচারের দুরাচার প্রতিষ্ঠা, অন্য দিকে দলীয়-উপদলীয় নেতাকর্মীদের কিংবা ক্ষমতাসীন পরিবারমণ্ডলীর সদস্যদের অন্যায় আবদার রক্ষায় অপারগ হলে উচ্চপদস্খ কর্মকর্তা কর্মচারীদের শারীরিক-মানসিক লাঞ্ছনার নানা প্রকাশ্য দৃষ্টান্ত নির্বাহী ব্যবস্খার শৃঙ্খলা চুরমার করে দিয়েছে, প্রশাসনিক জনসম্পদের মনোবল গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সরকারি কাজ চলছে দায়সারাভাবে বা চলছেই না। উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গতি নেই, বৈদেশিক পুঁজি সহায়তার ছাড় পাওয়া যাচ্ছে না। বৈদেশিক ঋণচুক্তির সাথে সাথে আসছে সরকারের উঁচুতলার দুর্নীতিরোধের প্রকাশ্য তাগিদ, লজ্জাকর স্মারকলিপি।

দলীয়-উপদলীয় চাঁদাবাজি-কমিশন আদায়-কোন্দলজনিত অব্যবস্খা-অচলাবস্খা বেসরকারি উদ্যোগেরও গতি রোধ করছে। সাধারণ মানুষের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং দেশে-বিদেশে শ্রমিক-কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা মেহনতের বদৌলতে যতটুকু প্রবৃদ্ধির হার এখনো এ দেশ ধরে রেখেছে, ক্ষমতাসীনদের লুটপাট, দস্যুতা আর পুঁজি পাচারের কারণে তার অধোগতির সম্ভাবনা সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগের অনেক প্রবীণ নেতাও তাই বলে চলেছেন, এ অবস্খা চলতে দেয়া যায় না। শেয়ার কেলেঙ্কারি, ডলার সঙ্কট, ব্যাংকের তারল্য সঙ্কটের পাকচক্রে দেশের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়েছে। অর্থমন্ত্রী ও তার সুহৃদ অর্থনীতিবিদেরা এখনই ধুয়া ধরেছেন, আগামী অর্থবছরটা ভালো যাবে না। দোষারোপ করছেন আন্তর্জাতিক বাজার সঙ্কটের ওপর। অন্যান্য দেশ যে আগাম ব্যবস্খা নিয়ে বিশ্ববাজারে প্রত্যাশিত সঙ্কট মোচনের নিজ নিজ কর্মসূচি বহাল করে ইতোমধ্যেই সুফল পেতে শুরু করেছে, সে কথা তারা বলছেন না। তারা কোনো প্রতিকার কৌশল খুঁজে পেয়েছেন কি না, সে কথাও বলছেন না। পুঁজিবাজার এবং ব্যাংকিং ব্যবস্খা উভয়ের দীর্ঘস্খায়ী বিপর্যয়কর অবস্খা এক দিকে স্বদেশে সঞ্চয়ীদের মনে এবং অন্য দিকে বিদেশে উন্নয়ন সহযোগীদের মনে যে অনাস্খার উৎপত্তি ঘটিয়েছে, তাতে একটা জোড়াতালির বাজেটও আগের মতো এবার অর্থমন্ত্রী পেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সরকারি মহলেই সংশয় দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি আবারো শেয়ারবাজারে রহস্যজনক আকস্মিক ধস ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে নামিয়েছে। ১২ এপ্রিল থেকে আট কার্যদিবসের মধ্যে সাত দিনই শেয়ারবাজারে দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজির একটি বড় অংশ হারিয়েছেন। ২৫ এপ্রিল লেনদেন শুরুর পর থেকে সূচকের ক্রমাগত পতন হতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় মাত্র দেড় ঘন্টার লেনদেনে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ১৩৮ পয়েন্ট পতন হলে কয়েক শ’ বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারী রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ডিএসই ভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হয়ে দরপতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। আগুন জ্বালিয়ে রাজপথ দখলে নেয় তাদের একটা বেপরোয়া দল। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা শেয়ারবাজারে থেকে এমন বিপর্যয়ের জন্য অর্থমন্ত্রী, এসইসি চেয়ারম্যান ও ডিএসই প্রেসিডেন্টকে দায়ী করে অবিলম্বে তাদের পদত্যাগের দাবি জানান।

বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের পরও শেয়ারবাজারে পতন অব্যাহত ছিল, যা শেয়ারবাজার বন্ধ হওয়া অবধি বজায় ছিল। ফলে দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২১২ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা তিন দশমিক ৪৯ শতাংশ হারিয়ে পাঁচ হাজার ৮৬৩ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়ায়। গত ৮ মার্চের পর এটিই ছিল ডিএসই সূচকের সর্বনিম্ন অবস্খান। ওই সময় ডিএসই সাধারণ সূচক ছিল পাঁচ হাজার ৭৭৯ দশমিক ৯১ পয়েন্ট। তার আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর সাধারণ সূচকের পতন হয়েছিল ৪৭৩ পয়েন্ট। ওই সময় বিনিয়োগকারীরা রাজধানীতে, বন্দরনগরীতে এবং জেলা-উপজেলা শহরে বিক্ষোভ করেছিল। শেয়ারবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে সর্বশেষ বিক্ষোভের ঘটনা ছিল সেটি। ধৈর্য ধরে দুই মাস ১০ দিন অপেক্ষার পর ফের বিক্ষোভ করেছে বিনিয়োগকারীরা। ১৪ ফেব্রুয়ারির পর ২৫ এপ্রিল এক দিনে সূচকের সর্বোচ্চ পতন হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও একটা মধ্যবর্তী মর্মাঘাত এসেছিল ১৩ মার্চ। সপ্তাহের পুঁজিবাজার খোলার প্রথম ওই দিনেই প্রায় ৪৬০ পয়েন্ট সূচকের পতন হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে। ২৫৫টি কোম্পানির ট্রেডিং হয়েছে। এর মধ্যে দাম কমেছে ২৪৫টির। এর বেশির ভাগই নিচের সার্কিটব্রেকারে গিয়ে ঠেকেছে। এক দিন ডিএসইতে গড় দরপতন ছিল প্রায় সাত শতাংশ। তবে এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছিল ১০ শতাংশ করে। তখন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ধৈর্য ধরেছে, আর রাস্তায় নামেনি। কারণ অর্থমন্ত্রী কতগুলো পদক্ষেপ ঘোষণা করেছিলেন, শেয়ারবাজার চাঙ্গা রাখতে একটা মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির হাঙরদের চিহ্নিত করতে একটা ‘নিরপেক্ষ’ তদন্ত কমিটি নিয়োগ দিয়েছিলেন। সেই কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছে। রিপোর্টে বিরোধীদলীয় একজন নেতৃস্খানীয় ব্যক্তিসহ সরকারদলীয় কয়েকজন পদস্খ ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দাও মারার চক্রান্তকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের রিপোর্টে টেলিটকের আলোচনায়ও তাদের নাম এসেছে। তদন্ত কমিটি শেয়ার কেলেঙ্কারির এসব উঁচুতলার হুকুমের আসামিদের সম্পর্কে সাহস করে ইঙ্গিত করলেও পুঁজিবাজার অব্যবস্খার পুরো দায় চাপিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্খা এসইসি’র ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়েও কোনো কথা বলেনি। অর্থমন্ত্রীর তরফ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত তদন্ত কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছেই প্রতিবেদন পেশ করেছে। সম্ভবত সে জন্যই কিছু আগাম আইপিও বাজারে ছাড়ার বিষয়ে এসইসি’র অনিচ্ছা দূর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশ ও ভূমিকার কথা প্রতিবেদনে স্খান পায়নি। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, শেয়ার কেলেঙ্কারিতে লিপ্ত সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ করা যাবে না। তাতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অর্থমন্ত্রী তারপর বলেছেন, এসইসি তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে তাদের মন্তব্য দিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকও তাদের মন্তব্য পাঠিয়েছে এ কথা বলে যে, ওই তদন্ত রিপোর্ট বহুলাংশে অনুমাননির্ভর। ওই রিপোর্ট পেশ হওয়ার ২৩ দিন পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা এবং এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মন্তব্যসহকারে পয়লা মে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেয়ারবাজারে কারসাজি নিয়ে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তার প্রভাব পড়েছে। অর্থমন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে একেক সময় একেক বক্তব্য দেয়ায় বিভ্রান্তি আরো বাড়ছে। বিভ্রান্তি দূর করে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের অবস্খান স্পষ্ট করা উচিত। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার বিষয়ে সরকারের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া। এ নিয়ে যত বেশি দেরি হবে বাজারে তত বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কেউ কেউ মনে করেন, যাদের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে তারাই পরিকল্পিতভাবে শেয়ারবাজারে ধস নামাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্খা নেয়া না হয়, সে জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই তারা দরপতন ঘটাচ্ছে। সর্বশেষ দরপতনের প্রতিবাদে যারা রাস্তায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন, তাদের মধ্যে ক’জন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করার পর থেকেই বাজারে ফের দরপতন শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস শুরু হলেও পরে তা স্খিতিশীল হতে শুরু করে। কিন্তু তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করার পর থেকে আবার বাজারে পতন শুরু হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা শেয়ারবাজারে ধসের পুনরাবৃত্তির মধ্যে একটা প্যাটার্ন বা ধরন লক্ষ করছেন। ধীরেসুস্খে শেয়ারের দর ওঠা-নামার মধ্য দিয়ে বাজার সুস্খ হয়ে উঠছে এমন ভাব বজায় রেখে মোটা দাগে জানুয়ারি থেকে এক মাস অন্তর অন্তর হঠাৎ করে পুঁজি প্রত্যাহার করে বাজার শুঁষে নেয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগসাজশ রয়েছে বলেই এটা সম্ভব হচ্ছে।

শেয়ার কেলেঙ্কারির হোতা হিসেবে সন্দেহভাজন হোমরা-চোমরাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও মামলা দায়ের করার দাবিতে শুধু শেয়ার মার্কেটের দিশাহারা বিনিয়োগকারীরাই নন, সুশীলসমাজও এখন সোচ্চার হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সেমিনারে গোলটেবিলে বলা হয়েছে : তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করতে হবে। একই সাথে বাজারের বর্তমান পরিস্খিতির জন্য দায়ী প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যতে দেশের শেয়ারবাজারে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। তা ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্খা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) পুনর্গঠনের উদ্যোগ জরুরি ভিত্তিতে নিতে হবে। বর্তমান কমিশনের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে তাদের পক্ষে নতুন করে বাজারের নজরদারি করা সম্ভব নয়। তাই কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সব সদস্যকেই পরিবর্তন করে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে সংস্খাটির নেতৃত্বের ভার তুলে দিতে হবে। এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনিশ্চয়তা পুঁজিবাজারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এসব চাপের মুখে পড়ে পুঁজিবাজারের তদন্ত প্রতিবেদন কোনো ধরনের সম্পাদনা ছাড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে হুবহু প্রকাশ করেছে সরকার। একই সাথে তদন্ত কমিটির সুপারিশ মেনে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্খা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পুনর্গঠন, কিছু ক্ষেত্রে আরও তদন্ত, সংস্কার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে টাস্কফোর্স গঠন এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্খা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

কিন্তু একই সাথে অর্থমন্ত্রী তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, কমিটি অনেক ক্ষেত্রে ধারণা বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কারো কারো দোষ খুঁজে পেয়েছে বা সুপারিশ করেছে। এর ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা যায় না। এতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন। কারণ অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে কারো চরিত্র হনন হোক, এটাও যেমন কাম্য নয়, আবার কারসাজির সাথে যুক্তরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাক, এটাও সরকার চায় না।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। শিগগিরই ঘোষণা করা হবে এই টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি। টাস্কফোর্স শুধু সুপারিশ বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণ করবে না, পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণও করবে।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দু’টি ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মোট ১৪টি বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করা হবে। অর্থমন্ত্রী আগের মতোই আবার বলেন, বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে যে, পুঁজিবাজার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাজার এবং এখানে যেমন লাভ হয়, তেমন ক্ষতিও হয়। তাই এখানে সঠিক ওয়াকিবহাল বিচারবুদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

এসব কথায় ব্যাপকভাবে এ ধারণারই সৃষ্টি হয়েছে যে, অর্থমন্ত্রী ও শেখ হাসিনার সরকার শেয়ার কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের আড়াল করতে এখনো সচেষ্ট। আরো তদন্ত প্রয়োজন বলে সন্দেহভাজনদের অব্যাহতি দেয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন করেছে সরকার, যেমন করেছিল পিলখানা হত্যাকাণ্ডের হুকুমের আসামি হিসেবে সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে তদন্ত এবং মূল অপরাধগুলোর (সেনাকর্মকর্তা হত্যা, লাশ গুম, নারীধর্ষণ, লুটপাট, অস্ত্রভাণ্ডার অপহরণ ও রাষ্ট্রদ্রোহ) বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে।

এসব ধারণার কথা বাদ দিলেও দেখা যায়, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা বিনিয়োগকারী কিংবা ব্যবসায়ী মহলেও অনাস্খা দূর করতে পারেনি। ইত:পূর্বে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ বণিক সমিতিগুলোর ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ শেয়ারবাজার পরিস্খিতি নিয়ে সাত দফা সুপারিশ করেছিলেন। সুপারিশগুলো ছিল : ১. পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্খা এসইসি’র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সংস্খাটির কয়েকজন কর্মকর্তা সম্পর্কে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাই দুদক-এর উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা; ২. শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য সরকারের উচিত এসইসি’র চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরিয়ে দেয়া; ৩. বাজার কারসাজির সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরও শাস্তি দিতে হবে। আগের মতো এবারো যদি শাস্তি না হয়, তাহলে মানুষ ক্ষুব্ধ হবে। শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী, সুশীলসমাজ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে; ৪. বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতায় ব্যাংকগুলোতে তারল্য-সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। মূলত এ কারণে সুদের হার বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিজের ব্যর্থতার দায়ভার এখন ব্যবসায়ীদের ওপর চাপাচ্ছেন। সুদের হার কমিয়ে আনতে হবে; ৫. পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে মুনাফা করেছে, তা পুঁজিবাজারে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমি শুনেছি, ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এ টাকা বাজারে ফেরত দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক যদি অনৈতিক কাজ করে তাহলে সেসব ব্যাংকের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্খা নেয়া প্রয়োজন; ৬. এসইসিতে একটি উপদেষ্টা কমিটি আছে। কিন্তু এ কমিটিকে ঠিকমতো কার্যকর করা হয়নি। সরকারের উচিত এ কমিটিকে কার্যকর করে এসইসি’র কাজের তদারকির দায়িত্ব দেয়া। কারণ মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সব কিছু তদারকি করা সম্ভব নয়। এ কমিটির দায়িত্ব হবে প্রতি মাসে বৈঠক করে এসইসি’র কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অস্খিতিশীল পরিস্খিতি সামাল দেয়া যায় এবং ৭. এসইসি’র সংস্কার কর্মকাণ্ড তদারকির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন।

এফবিসিসিআই প্রধান অবশ্য রাজনৈতিক যোগসাজশ বা প্রশ্রয়ের প্রশ্নে তদন্ত কমিটির মতোই অস্
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview