 Moderator Forum Addict

Regist.: 01/09/2011 Topics: 31 Posts: 155
 OFFLINE | ওদের শাস্তি দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আবেদ খান
মাসাধিককাল আগে এক সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছিল গণভবনে। কথা প্রসঙ্গে তাঁকে বলেছিলাম শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কথা। তিনি বলেছিলেন, 'ব্যাপারটি খুঁটিয়ে দেখার জন্য একটা তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি।' বলেছিলাম, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এই কমিটির প্রধান দায়িত্ব যাঁকে দিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত সাহসী, নির্মোহ ও সত্যানুসারী ব্যক্তি। তাঁর দেওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন তো? তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিয়েছিলেন, 'অবশ্যই, সে জন্যই তো তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি।' বলেছিলাম, ব্যবস্থা নিলে সরকারের ইমেজ বাড়বে।
এই কথোপকথনের মাসাধিককাল পরে তদন্ত সম্পন্ন হলো এবং তদন্ত রিপোর্ট জমাও দেওয়া হলো। সে সময় বিস্মিত হয়ে শুনলাম, সরকারের প্রবীণ সদস্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী বললেন, রিপোর্ট প্রকাশিত হবে তবে নামগুলো বাদ দিয়ে। আমাদের দেশের মানুষ যথেষ্ট সচেতন। 'কা' বললেই 'কাক' বুঝে ফেলে। অতএব, মাননীয় অর্থমন্ত্রীর এই ইতস্তত ভাব থেকে তাদের বুঝতে এতটুকু দেরি হলো না যে এর পেছনে এমন কোনো শক্তিধর মহল আছে, যার কাছে স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও অসহায় এবং সন্ত্রস্ত।
ইতিমধ্যে বিরোধী দল, এমনকি সরকারি দল ও মহাজোটের অংশীদারদের পক্ষ থেকেও নামধামসমেত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের দাবি উঠতে থাকল। তদন্ত কমিটি গঠনের সময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এই কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছিল। তারাও এখন সমস্বরে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের দাবি তুলছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় বলেছেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী ও দুর্নীতিবাজ লোক যে দলেরই হোক, তার কোনো ক্ষমা নেই। এমনকি কেউ যদি তাঁর দলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত থাকে, তাহলেও নয়। তাঁর এই ঋজু অবস্থানকে সবাই বিশ্বাস করেন। কারণ দায়িত্ব গ্রহণের পর অসমসাহসিকতার সঙ্গে তিনি বিডিআর বিদ্রোহজনিত ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করেছেন। আইনের স্বাভাবিক নিয়মে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে তাঁর সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে এবং অনেককে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে; আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রকে উৎখাতের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে, যা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন, শেয়ারবাজারের বিপর্যয় ছিয়ানব্বই সালে তাঁর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকারকে কী বিব্রতকর অবস্থায়ই না ফেলেছিল! তাই তিনি এবারকার শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির জন্য তদন্ত কমিটি করেছেন এমন এক ব্যক্তির নেতৃত্বে, যাঁর সততা ও সাহসিকতার অসংখ্য নজির রয়েছে। তিনি কোনো সরকারের আমলেই তাঁর অফিসকক্ষ থেকে জাতির জনকের ছবি সরাননি_কোনো অবস্থাতেই কারো রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নিজের নৈতিক অবস্থানকে নতজানু করেননি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রণয়নের ভেতর দিয়েও তিনি তাঁর সেই নৈতিকতা ও সততারই প্রমাণ দিয়েছেন।
এই সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার অধিকার দিয়েছে বলেই প্রচারমাধ্যম সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছে পুরো তথ্য। কালের কণ্ঠ প্রকাশ করছে পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন। এখন প্রয়োজন এ ব্যাপারে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের। যারা এই বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী আছে না আছে সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো, তাদের ভূমিকা জনগণের বিপক্ষে, গণতান্ত্রিক সরকারের বিপক্ষে, দেশ ও জাতির উন্নয়নের বিপক্ষে। সংকীর্ণ স্বার্থ যদি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য অকল্যাণ আনে তাহলে তো সেখানে শক্তভাবেই দাঁড়াতে হবে। আমরা জানি, মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হলেও শেয়ার বিপর্যয়ের কারণে বিপর্যস্ত ৩০ লাখ পরিবার তাঁর পক্ষে দাঁড়াবে; তাঁর পক্ষে দাঁড়াবে দেশের সৎ-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। কারণ তিনি ক্ষমতায় এসেছেন এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থনের ওপর ভর করেই।
তিনি দৃঢ় পদক্ষেপ নিলে গোটা দেশই দাঁড়াবে তাঁর পাশে। |