বাংলাদেশ শেয়ার মার্কেট এবং এর খুঁটিনাটি > সংবাদ > সংবাদপত্র/ওয়েব সাইট
দরপতনের মুখে বন্ধ শেয়ারবাজার, আজ স্বাভাবিক লেনদেন
Page 1 / 1
দরপতনের মুখে বন্ধ শেয়ারবাজার, আজ স্বাভাবিক লেনদেন
01/19/2011 6:31 am

Administrator
Forum Addict


Regist.: 01/16/2011
Topics: 77
Posts: 29
OFFLINE
বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় মাত্র ৬ কার্যদিবসের মাথায় আবারও দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আগের তিনদিনের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রেখে মঙ্গলবার লেনদেন শুরু হলেও এক পর্যায়ে অধিকাংশ শেয়ারের ক্রেতা না থাকায় বাজারে বড় দরপতনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বেলা ১টা ৪০ মিনিটে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক থাকলেও আগের সপ্তাহের মতো রাস্তায় নেমে অবরোধ বা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি। আজ (বুধবার) সকাল ১১টায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে পুনরায় স্বাভাবিক লেনদেন চালু হবে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসই সভাপতি মোঃ শাকিল রিজভী বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই লেনদেন বন্ধ করা হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশেই বাজারের কোন নাজুক পরিস্থিতিতে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। এটা কোন অস্বাভাবিক বিষয় নয়। তিনি বলেন, আতঙ্কিত বাজারে বিনিয়োগকারীরা তাদের করণীয় সম্পর্কে বুঝে উঠতে পারে না। লেনদেন বন্ধ করার ফলে তারা করণীয় নির্ধারণের সময় পাবেন।
এসইসি সূত্রে জানা গেছে, আগের তিন দিনের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ১১টায় লেনদেনের শুরম্ন থেকে শেয়ারবাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যেতে থাকে। বেলা সোয়া ১১টা থেকে ১৫ মিনিটের জন্য কিছুটা উর্ধমুখী হলেও এরপর দরপতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। বেলা ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে (ডিএসই) সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩.২৩ শতাংশ বা ২৪৭ পয়েন্ট নেমে যায়। একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক ২.২০ শতাংশ বা প্রায় ৩০০ পয়েন্ট নেমে যায়। এ সময়কালে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩৪টিরই দর ছিল আগের দিনের তুলনায় কম।
সূত্র জানায়, আগের দু'দিন এ অবস্থান থেকে বাজার আবারও উর্ধমুখী হলেও মঙ্গলবার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে শেয়ারের দর উলেস্নখযোগ্যহারে কমে গেলে স্বাভাবিক অবস্থায় বিক্রির হার কমে কেনার চাপ বৃদ্ধি পায়। মূলত এ কারণেই আগের দ'দিন এর চেয়ে বেশি দরপতনের পরও বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে গেলেও বিক্রির চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। অন্যদিকে একের পর এক শেয়ারের ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়তে থাকে। এ অবস্থায় বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি।
জানা গেছে, বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন বজায় রাখতে আগের দু'দিনের মতোই সকাল থেকে তৎপর ছিলেন এসইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা। কমিশনের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার, সদস্য মোঃ ইয়াসিন আলীসহ সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা সার্ভিল্যান্স কৰে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেৰণ করেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকে টেলিফোনের মাধ্যমে শেয়ার কেনার প্রবণতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। এছাড়া বাজার ধরে রাখতে আইসিবিসহ সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ার কেনার প্রবণতা অব্যাহত রাখতে বলা হয়। বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে আগের দু'দিন আইসিবি, জনতা, অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংক বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনলেও মঙ্গলবার তহবিল সঙ্কটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠান সে ধারা অব্যাহত রাখতে পারেনি। এছাড়া এসইসির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেসরকারী খাতের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজার ধরে রাখতে তেমন কোন ভূমিকা পালন করেনি। বরং গত কয়েক দিন ধরে বিক্রির প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একই প্রবণতা অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও বিক্রির দিকে ঝুঁকে পড়লে বাজারে বড় ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যনত্ম লেনদেন বন্ধ রেখে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে এসইসি।
এদিকে লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার পর মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা রাসত্মায় নেমে আসেন। তবে তাঁদের মধ্যে আগের মতো মারমুখী আচরণ লৰ্য করা যায়নি। ডিএসইর সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ শানত্মিপূর্ণ। কিছুসংখ্যক বিনিয়োগকারী ডিএসই ভবনের সামনে জড়ো হয়ে সেস্নাগান দেন। তবে অধিকাংশেরই এ নিয়ে তেমন আগ্রহ ছিল না। বিনিয়োগকৃত অর্থের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে নানা আলোচনায় ব্যসত্ম ছিলেন। এর আগে বেলা ১টার দিকে কিছুসংখ্যক বিনিয়োগকারী রাসত্মায় নেমে বিৰোভ করতে চাইলে পুলিশী বাধার কারণে ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিকেলের দিকে বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। এ সময় অনেক বিনিয়োগকারী প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দেশে না ফেরা পর্যনত্ম লেনদেন বন্ধ রাখারও দাবি জানান। তাঁরা বলেন, বার বার লেনদেন বন্ধ করে দেয়া শেয়ারবাজারের জন্য কোন সমাধান হতে পারে না। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের পৰ থেকে কার্যকর পদৰেপ প্রয়োজন। তা না হলে বিনিয়োগকারীদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
বাজার সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজার স্থিতিশীল করার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে। সরকারের পৰ থেকে যে কোন মূল্যে বাজারে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংককে যথাযথ পদৰেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু পদৰেপও নেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরছে না।
তাঁরা মনে করেন, শেয়ারবাজারে বর্তমানে যে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার সঠিক সমাধান দিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংকের সহযোগী কোম্পানি হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংককে অতিরিক্ত ঋণ দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হলে বিনিয়োগকারীরা বর্ধিত মার্জিন ঋণ পাবেন। এতে বাজারে চাঙ্গাভাব ফিরবে। এই মুহূর্তে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংককেই দৃশ্যমান কিছু পদৰেপ নিতে হবে।
এদিকে স্টক এঙ্চেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসে জামানতবিহীন লেনদেনের সীমা বাড়িয়েছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ (বুধবার) থেকে ব্রোকারেজ হাউসগুলো কোন রকম আগাম জামানত ছাড়াই ১৫ কোটি টাকা পর্যনত্ম শেয়ার ক্রয় করতে পারবে। এর আগে জামানতবিহীন লেনদেনের সীমা ৫ কোটি টাকা ছিল।
এসইসির মুখপাত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারম্নল কবীর ভুঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থতিতে ব্রোকারেজ হাউসের ক্রয়ৰমতা বৃদ্ধির জন্য জামানতবিহীন লেনদেনের সীমা বৃদ্ধির জন্য ডিএসইর পৰ থেকে কমিশনের কাছে প্রসত্মাব পেশ করা হয়। এর ভিত্তিতে জামানতবিহীন লেনদেনের সীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর ফলে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর শেয়ার কেনার ৰমতা বৃদ্ধি পাবে। সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বর্ধিত ক্রয়ৰমতা কার্যকর করলে বাজারে শেয়ার কেনার প্রবণতা বাড়বে। শেয়ারের দর ও সূচকে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে বেশকিছু পদৰেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ার কেনার জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) গত দু'দিনে মোট ৪শ' কোটি টাকা তহবিল যোগান দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে নগদ অর্থ সরবরাহ বাড়াতে মঙ্গলবার রেপো ও তারল্য সহায়তার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়মনীতিতেও অনেক শিথিলতা আনা হয়েছে। মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল থাকলে পুঁজিবাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান জনকণ্ঠকে বলেন, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদৰেপ গ্রহণ করেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ার বিক্রি না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আইসিবিকে তহবিল যোগান দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও নগদ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিএসই নেতারা। বৈঠকে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এসব প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে ডিএসইর পৰ থেকে আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে শেয়ারবাজারের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসিসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে।
বিশেস্নষকদের অভিমত ॥ শেয়ারবাজারে চলমান মন্দা কাটাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না নিয়ে আকস্মিকভাবে লেনদেন বন্ধ করা হলে বিনিয়োগকারীরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়বে বলে বিশেস্নষকরা মনে করছেন। অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, লেনদেন বন্ধ করা কোন স্থায়ী সমাধান নয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্কটে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। আস্থা ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদৰেপ নিতে হবে।
অধ্যাপক ওসমান ইমাম বলেন, লেনদেন বন্ধ একটি স্বল্পকালীন পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের সিদ্ধানত্ম নেয়ার সময় পায়। তবে তা স্থায়ী সমাধান নয়।
প্রাইম ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার এইচ সান্নামাত বলেন, লেনদেন বন্ধ করায় বাজার আরও অস্থির হয়ে পড়বে। বাজারের মূল সমস্যা শনাক্ত করতে সংশিস্নষ্টদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে বাজারকে স্থিতিশীল করতে হবে। তা না হলে সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নেবে। ডিএসইর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী বলেন, উন্নত রাষ্ট্রেও অস্বাভাবিক আচরণে শেয়ারবাজারে কেনাবেচা অল্প সময়ের জন্য বন্ধ করা হয়। তবে একেবারে বন্ধ করা হয় না। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে এটি নতুন। তাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে।
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview