| 01/17/2011 2:39 pm |
 Administrator Forum Addict

Regist.: 01/16/2011 Topics: 77 Posts: 29
 OFFLINE | ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি (শীর্ষ নিউজ ডটকম): ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগ বা ঋণের পরিমাণ সীমার মধ্যে আনতে ৫টি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর ডিপোজিট এন্ড ক্রেডিট রেট (সিডিআর) পর্যালোচনা করে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সোমবার ব্যাংক এশিয়া ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং রোববার স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও এক্সমি ব্যাংককে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেয়া হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে নিয়মভঙ্গগকারী অন্য ব্যাংকগুলোকেও দেয়া হবে বলে সূত্র জানায়।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি ব্যাংক যে পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করবে, আমানতের ঘাটতি সংরক্ষণ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে ১৯ শতাংশ বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংকগুলো তাদের কাছে সংরক্ষিত ওই আমানতের ৮১ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারবে। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে নগদ ৬ শতাংশ জমাসহ মোট ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সংরক্ষণ করতে হয়। সে হিসেবে তারা তাদের কাছে আমানতের ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারে। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে এ হার কার্যকর করা হয়।
ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান তাদের আমানতের সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সপ্তাহ ভিত্তিতে ৩০ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখের স্থিতি অনুযায়ী তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা বিনিয়োগসীমার চেয়ে ৩৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া তাদের আমানতের সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সপ্তাহ ভিত্তিতে ৩০ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখের স্থিতি অনুযায়ী তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১০৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, যা বিনিয়োগসীমার চেয়ে ২৮ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। ব্যাংক এশিয়া তাদের আমানতের সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সপ্তাহ ভিত্তিতে ৩০ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখের স্থিতি অনুযায়ী তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা বিনিয়োগসীমার চেয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। এক্সমি ব্যাংক তাদের আমানতের সর্বোচ্চ ৮৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সপ্তাহ ভিত্তিতে ৩০ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখের স্থিতি অনুযায়ী তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১০৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা বিনিয়োগসীমার চেয়ে ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। শাহজালাল ব্যাংক তাদের আমানতের সর্বোচ্চ ৮৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সপ্তাহ ভিত্তিতে ৩০ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখের স্থিতি অনুযায়ী তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৯৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা বিনিয়োগসীমার চেয়ে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।
সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলো এই বেশি পরিমাণ বিনিয়োগের কারণেই তারল্য সক্সকটে ভুগছে। তাদের অনেক আগে থেকে অতিরিক্ত ঋণের ব্যাপারে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু এ মৌখিক নির্দেশনা তেমন কোনো কাজে আসেনি। এ নির্দেশনা মেনে চললে ব্যাংকগুলোর এ ধরনের তারল্য সংকটে ভুগতে হতো না। ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকা না থাকার কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার এ ঘাটতি মেটানোর জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতিদিন ৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে রেপো ও তারল্য সহায়তা দিতে হচ্ছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তারল্য ও রেপোর মাধ্যমে ৭ হাজার ৮৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা দেয়। এর মধ্যে ১৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৫৯০ কোটি ৬১ লাখ টাকা তারল্য সাপোর্ট এবং ১৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ২৪৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা রেপো সুবিধা দেয়। রোববার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তারল্য ও রেপোর মাধ্যমে ৭ হাজার ২০৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, এ ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যাংকগুলোর এ ধরনের বিনিয়োগের ব্যাপারে বারবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাংক নির্দেশনা অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিমাণ কমিয়ে আনছে। তবে যেটুকু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকির কারণেই।
|
|
|