রাঘববোয়ালরা চিহ্নিত
শেয়ারবাজারে কারসাজির ঘটনায় অনেক রাঘববোয়ালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অন্তত পাঁচশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হচ্ছে। 'তদন্ত প্রতিবেদনে কারও নাম থাকছে না' এমন দাবিও নাকচ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আগামী ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ছিয়ানব্বইয়ের মতো এবারও কারসাজির নেপথ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বর্তমান ও সাবেক অনেক নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে প্রশাসক নিয়োগ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের (ডি-মিউচুয়ালাইজড) সুপারিশ করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনেক কর্মকর্তার শেয়ার ব্যবসা করার এবং সংস্থার অনুমোদন নিয়ে অনেক কোম্পানি ও বাজার সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনিয়ম সংঘটনের প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। এ কারণে স্বল্পতম সময়ে চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে নির্বাহী পরিচালক পদ পর্যন্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে অপসারণ করে এসইসি সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের প্রস্তাব করবে তদন্ত কমিটি। এসব সুপারিশের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সমর্থন রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত কমিটির সূত্র থেকে আরও জানা গেছে, সাম্প্রতিক শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) অনেক সংশ্লিষ্টতা এবং এর কর্মকর্তাদের শেয়ার ব্যবসার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এবারের প্রায় প্রতিটি মূল্য কারসাজির সঙ্গে ডিএসই, মার্চেন্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড, বাণিজ্যিক ব্যাংক, চিহ্নিত সব বাজার কারসাজিকারকের বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আইসিবি, তিনটি ব্যাংক, অন্তত তিনটি মার্চেন্ট ব্যাংক, দুটি মিউচুয়াল ফান্ড ম্যানেজারের নাম সবচেয়ে বেশি এসেছে।
কারসাজি : গত দুই বছরে দেশের শেয়ারবাজারে যে বিস্তৃতি ও বিচিত্র পন্থায় শেয়ারবাজারে কারসাজি করা হয়েছে, তার প্রমাণ দেখে খোদ তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিস্মিত হয়েছেন। আলোচিত কয়েকজনের পাশাপাশি নতুন অনেক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ব্যাপক সম্পৃক্ততা এবং কারসাজির সব পন্থা চিহ্নিত করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে এবি ব্যাংক, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ম্যানেজারদের মধ্যে রেস ও এলআর গ্গ্নোবালসহ ডিএসইর বর্তমান সভাপতি শাকিল রিজভী, সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমানসহ ডিএসই লিস্টিং কমিটির ২৮ সদস্যের প্রায় সবাই, আ হ ম মোস্তফা কামাল, মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ সরকারি দল ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজনের নাম আসতে পারে। এছাড়া বাজারের বড় শেয়ার ব্যবসায়ীর মধ্যে ইয়াকুব আলীসহ অনেকের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারবাজারে অনৈতিকতার তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদনে থাকবে বলে জানা গেছে।। এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকও ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করার প্রমাণ মিলেছে। তবে তদন্ত কাজের মেয়াদ মাত্র দুই মাস হওয়ায় কমিটি কেবল বড় কারসাজির ঘটনাগুলোই আমলে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সব ধরনের অনিয়ম ও কারসাজির তদন্ত করা হলে অভিযুক্তদের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়বে বলা ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, সিডিবিএল থেকে পাওয়া তথ্য থেকে শেয়ারবাজারের আলোচিত কয়েকজন ব্যক্তির প্রত্যেকের নিজস্ব বিও হিসাবে কেবল ২০১০ সালে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি শেয়ার লেনদেন প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এসব ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হিসাব যোগ করা হলে তা ছয়-সাত হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওইসব লেনদেন থেকে প্রত্যেকেই কয়েকশ কোটি টাকা করে মুনাফা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরমধ্যে রুবেল নামের ত্রিশ বছর বয়সী অজ্ঞাত যুবকের বিও হিসাবে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে গত বছর প্রায় ২৫০ কোটি টাকা মুনাফার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, রুবেল নামের আড়ালে কোনো রাঘববোয়াল ব্যবসা করেছেন। ডিএসইর সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমানের ভাতিজা আরিফুর রহমানের নামেও বিপুল অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
কারসাজির ক্ষেত্রে প্রাইমারি মার্কেটকে ব্যবহার, ইনসাইডার ট্রেডিং, সিন্ডিকেট, সিরিয়াল ট্রেডিং (নিজেদের মধ্যে কেনাবেচা) এবং সরকারি কিছু সিদ্ধান্তকে তদন্তে দায়ী করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, ২০০৯ থেকে ২০১০ সালে কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রত্যেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালক, ডিএসইর নেতা, কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক, বাজারের চিহ্নিত 'গ্যাম্বলারে'র সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অন্তত ২০টি কেস স্টাডির মাধ্যমে তদন্ত কমিটি এবারের কারসাজির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে বলে জানা গেছে। যা ছিয়ানব্বইকেও হার মানিয়েছে।
শেয়ার কারসাজির তথ্য-প্রমাণ ব্যবহার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে জানা গেছে। সূত্র বলেছে, গত দুই বছরে শেয়ারবাজারে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা মুনাফা করেছেন এমন অন্তত ৫০ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে, যারা অর্জিত মুনাফার ওপর কর দেননি। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকি আইনে মামলা করা সম্ভব। প্রাইমারি শেয়ারবাজার বিশেষত প্রাইভেট প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি বড় ধরনের অনিয়ম পেয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইস্যুয়ার কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার ও নির্দেশক মূল্য নির্ধারণকারী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক যোগসাজশে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের প্রমাণ মিলেছে। এক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদন থাকায় আইনি অভিযোগ দাঁড় করানো যায়নি বলে জানা গেছে। ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটিকে সহায়তাকারী সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রাইভেট প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে শুরু করে সচিবালয়ের অনেক কর্মকর্তা শত শত কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনেছেন।
এসইসি, আইসিবি ও ডিএসইর সম্পৃক্ততা : গত দুই বছরে দেশের শেয়ারবাজারে যত ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য তদন্ত কমিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিকেই দায়ী করেছে বলে জানা গেছে। তদন্ত কাজে সহায়তাকারী সূত্রগুলো বলেছে, সব ধরনের কারসাজির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, সবকিছু জানার পর এসইসি নীরব ভূমিকা পালন করে। এমনকি সরাসরি তালিকাভুক্তি, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ার অতিমূল্যায়িত হওয়া, অবাধ প্লেসমেন্ট বাণিজ্য, প্রেফারেন্স শেয়ার, অভিহিত মূল্য পরিবর্তন (শেয়ার স্পিল্গট), রাইট শেয়ার অনুমোদনের মতো সবক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্টরা অনৈতিক কাজ করেছে। এ কারণে প্রাইমারি শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হওয়ার পরও তদন্ত কমিটি কোনো আইনি অভিযোগ দাঁড় করাতে পারেনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি সরাসরি মূল্য কারসাজিতে বাজার সিন্ডিকেটদের হয়ে কাজ করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অস্বাভাবিক হারে দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইসিবি কর্তৃক বড় ধরনের শেয়ার কেনার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া পরিকল্পিতভাবে শেয়ারের দর কমানোর ক্ষেত্রেও আইসিবি কর্তৃক 'ট্রিগার সেলের' অভিযোগ আনতে যাচ্ছে তদন্ত কমিটি। এবারের শেয়ারবাজার কারসাজির ক্ষেত্রে আইসিবির সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংকিং কোম্পানির অমনিবাস (অনেক বিনিয়োগকারীর যৌথ বিও অ্যাকাউন্ট) অ্যাকাউন্টের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া গেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৪৭ জন সরকারি কর্মকর্তার শেয়ার ব্যবসার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কয়েকজন সাংবাদিকও এ প্রতিষ্ঠান থেকে বড় ধরনের শেয়ার ব্যবসায় জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটি বাজার কারসাজির তদন্ত করতে গিয়ে এসইসির কয়েকজন নির্বাহী পরিচালকের সম্পৃক্ততাও খুঁজে পেয়েছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভঁূইয়া (বর্তমানে ওএসডি) তার স্ত্রীর নামে অন্তত ১৭ কোটি টাকা শেয়ার কেনাবেচা ও প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়া আইসিবির সাবেক এক কর্মকর্তা এসইসি চেয়ারম্যানের পক্ষে শেয়ার কেনাবেচা করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আইসিবির অধিকাংশ কর্মকর্তা শেয়ার ব্যবসায় জড়িত বলেও প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
সুপারিশ : তদন্ত কমিটি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি ও দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ডি-মিউচুয়ালাইজেশন সম্পন্ন করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ জানাবে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে এসইসির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন নির্বাহী পরিচালককে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদলে সংস্থাটির পুরো সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দক্ষতা ও ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চেয়ারম্যান ছাড়া চার সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি নতুন বিভাগ সংযোজন ও কারসাজি প্রতিরোধে গোয়েন্দা বিভাগ গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসা সব কারসাজির ক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নেতাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এর ডি-মিউচুয়ালাইজেশন সম্পন্ন করার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি বলেছে, মাত্র দুই মাসে শেয়ারবাজারের ব্যাপক ও বিস্তৃত কারসাজির পুরো চিত্র তুলে আনা অসম্ভব। এ কারণে কারসাজির ক্ষেত্রে প্রাথমিক ব্যক্তিদের নাম শনাক্ত করা গেলেও ওই সব বেনামি ব্যক্তির আড়ালের প্রকৃত হোতাকে বের করে আনতে অধিকতর তদন্ত সম্পন্ন করারও সুপারিশ করতে যাচ্ছে তদন্ত কমিটি। এক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের কারসাজি বিষয়ে সরকারি কয়েকটি গোয়েন্দা বাহিনী সরকারকে বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদন দিয়েছে বলে তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে। তদন্ত কমিটি ধারণা করেছে, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর অনেকে শেয়ারবাজারে অনৈতিক ব্যবসায় জড়িত থাকায় প্রকৃত সত্য আড়াল করে নিজেদের লোককে বাঁচাতে ওই বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মত : : শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক কারসাজি বিষয়ে বলেন, ছিয়ানব্বইয়ের কারসাজি ও শেয়ার জালিয়াতির বিচার না হওয়ায় নতুন করে কারসাজির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ডিএসইর সাবেক সিইও সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলে স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ নেবেই। তাই কারসাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কারসাজির ঘটনা যেন আর না ঘটে সে ধরনের প্রস্তুতিও থাকতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ার কেনাবেচার অধিকার সবারই আছে। কোনো ব্যক্তির আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শেয়ার ব্যবসা করা বা বড় মুনাফা দোষের কিছু নয়। তবে দেখতে হবে, সংশ্লিষ্টরা পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে মূল্য কারসাজি করে মুনাফা করেছে কি-না। বাজার কারসাজির ক্ষেত্রে এসইসির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বড় একটি বাজারে এসইসি সব কিছু নজরদারি করতে পারে কি-না, আবার যতটুকু পারার কথা তাও তারা ব্যবহার করেছে কি-না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ছিয়ানব্বই সালের শেয়ারবাজার কারসাজির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, এবারের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি-না এ বিষয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকার সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা বলে। আশা করি, তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেবে।
Highlighted Text:
১.
আগামী ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২.
এক্ষেত্রে এবি ব্যাংক, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ম্যানেজারদের মধ্যে রেস ও এলআর গ্গ্নোবালসহ ডিএসইর বর্তমান সভাপতি শাকিল রিজভী, সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমানসহ ডিএসই লিস্টিং কমিটির ২৮ সদস্যের প্রায় সবাই, আ হ ম মোস্তফা কামাল, মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ সরকারি দল ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজনের নাম আসতে পারে। এছাড়া বাজারের বড় শেয়ার ব্যবসায়ীর মধ্যে ইয়াকুব আলীসহ অনেকের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারবাজারে অনৈতিকতার তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদনে থাকবে বলে জানা গেছে।
৩.
এরমধ্যে রুবেল নামের ত্রিশ বছর বয়সী অজ্ঞাত যুবকের বিও হিসাবে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে গত বছর প্রায় ২৫০ কোটি টাকা মুনাফার প্রমাণ পাওয়া গেছে
৪.
কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রত্যেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালক, ডিএসইর নেতা, কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক, বাজারের চিহ্নিত 'গ্যাম্বলারে'র সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
৫.
ডিএসইর সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমানের ভাতিজা আরিফুর রহমানের নামেও বিপুল অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
৬.
নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভঁূইয়া (বর্তমানে ওএসডি) তার স্ত্রীর নামে অন্তত ১৭ কোটি টাকা শেয়ার কেনাবেচা ও প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়া আইসিবির সাবেক এক কর্মকর্তা এসইসি চেয়ারম্যানের পক্ষে শেয়ার কেনাবেচা করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আইসিবির অধিকাংশ কর্মকর্তা শেয়ার ব্যবসায় জড়িত বলেও প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
আনোয়ার ইব্রাহীম, সমকাল