বাংলাদেশ শেয়ার মার্কেট এবং এর খুঁটিনাটি > সংবাদ > সংবাদপত্র/ওয়েব সাইট
অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে
Page 1 / 1
অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে
01/19/2011 6:30 am

Administrator
Forum Addict


Regist.: 01/16/2011
Topics: 77
Posts: 29
OFFLINE
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় রূপান্তরের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। অভিহিত মূল্য পরিবর্তন নিয়ে পুঁজিবাজারে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে সব কোম্পানিকে একই সময়ের মধ্যে অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়া হবে। শীঘ্রই এই সময়সীমা ঘোষণা করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ডিএসই নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসইসির এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবহিত করা হয়।
এ বিষয়ে এসইসির মুখপাত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, অভিহিত মূল্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোন কোন শেয়ারের দরও প্রভাবিত হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সকল কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য একই সময়ের মধ্যে ১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শীঘ্রই কমিশনের পক্ষ থেকে এই সময়সীমা ঘোষণা করা হবে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের ইস্যুটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির শেয়ারের দরে সামঞ্জস্য আনার জন্য অভিহিত মূল ১০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কিন্তু ওই বছরের ৫ নবেম্বর পুঁজিবাজার উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সুপারিশ নাকচ হয়ে যায়। তবে বৈঠকে ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির অভিহিত মূল একইহারে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, 'যেহেতু বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা, সেহেতু ভবিষ্যত শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা শ্রেয়তর হবে।'
তবে ২০০৯ সালের ১০ নবেম্বর এসইসির পরামর্শক কমিটির সভায় সকল শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সকল কোম্পানির ৰেত্রে ২৫০টি শেয়ার নিয়ে একটি লট নির্ধারণেরও সুপারিশ করা হয়। তবে পরামর্শক কমিটির এই সুপারিশ গ্রহণ না করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ নেয় এসইসি। এর প্রেৰিতে গত বছরের ১ মার্চ কমিশনের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন না করার পরামর্শ দেয়া হয়। এতে ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির একই অভিহিত মূল্য নির্ধারণের বিষয়টিও উলেস্নখ করা হয়।
কিন্তু এর আগেই তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় রূপানত্মরের জন্য ইজিএমের মাধ্যমে সিদ্ধানত্ম নিয়ে রেখেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি ব্যাংকের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের প্রসত্মাব অনুমোদন করে। রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এ্যান্ড ফামর্স অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করে এসব ব্যাংকের সংঘবিধি পরিবর্তনের আবেদনও অনুমোদন করে। ফলে এ বিষয়ে আইনী জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে সকল কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ অথবা বিষয়টি কোম্পানির ওপর ছেড়ে দেয়ার জন্য ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রসত্মাব পাঠায় এসইসি। এর ভিত্তিতে গত বছরের ৯ মে শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণের বিষয়টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়ে সরকারী আদেশ (জিও) জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। পরদিন এসইসির পৰ থেকে এ সংক্রানত্ম প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি কোম্পানির ওপর ছেড়ে দেয়ার পর থেকেই বাজারে এ বিষয়টিকে ঘিরে শেয়ারবাজারে নানা ধরনের প্রবণতা চলছে। অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের ফলে কোম্পানির মৌলভিত্তিতে কোন প্রভাব না পড়লেও অভিহিত একের পর এক কোম্পানি এই সুযোগ গ্রহণ করছে। এর ফলে বাজারে শেয়ার দরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। শেয়ারবাজারের অতি মূল্যায়নের পেছনে এই ইসু্যটিও গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিশেস্নষকরা মনে করেন।
জানা গেছে, অভিহিত মূল্য পরিবর্তন নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা দূর করতে চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জের (সিএসই) পক্ষ থেকে এসইসিতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতেই কমিশন সকল শেয়ারের অভিহিত মূল্য একসঙ্গে ১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview