বাংলাদেশ শেয়ার মার্কেট এবং এর খুঁটিনাটি > সংবাদ > সংবাদপত্র/ওয়েব সাইট
পুঁজিবাজার ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপ্রাণ চেষ্টা
Page 1 / 1
পুঁজিবাজার ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপ্রাণ চেষ্টা
01/17/2011 3:10 pm

Administrator
Forum Addict


Regist.: 01/16/2011
Topics: 77
Posts: 29
OFFLINE
পুঁজিবাজার স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নগদ অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি, নিয়মনীতিতে শিথিলতা আনা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বেসরকারী ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বিক্রি করা থেকে বিরত রাখা এবং আইসিবিকে নগদ ২শ' কোটি টাকা দেয়া। পাশাপাশি রেপো ও নগদ অর্থ (তারল্য) সহায়তার মাধ্যমেও প্রায় ৭ হাজার ৮শ' কোটি টাকা প্রদান করা হয়। পুঁজিবাজারে যাতে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয় এ লৰ্যেই এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ নয় বলেও সংশিস্নষ্টরা মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান জনকণ্ঠকে বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (এসইসি)। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ হলো মনিটরি পলিসি প্রণয়ন এবং মানি মার্কেট স্থিতিশীল রাখা। কিন্তু কিছু লোক বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাকে না জেনেই মনত্মব্য করছেন। এটি ঠিক নয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের দেখভাল না করলেও এর বিরম্নদ্ধে কোন সময়ই ছিল না, এখনও নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। বরং বাজার স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। যাতে পুঁজিবাজার আবার ঘুরে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারের বড় ধরনের দরপতন থেকে তুলে আনাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব ধরনের সহায়তা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মনীতিতে শিথিলতা আনাসহ নগদ অর্থের সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে। গত রবিবারের চেয়ে সোমবার প্রায় ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি দেয়া হয়েছে। রবিবার রেপো ও নগদ অর্থ সহায়তার মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু সোমবার প্রদান করা হয়েছে ৭ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে রেপোতে দেয়া হয়েছে ৩ হাজার ২৪৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া তারল্য বা লিকিউডিটি সহায়তা দেয়া হয় ৪ হাজার ৫৯০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে সোমবার ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ২শ' কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। যাতে করে এ প্রতিষ্ঠানটি বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করে স্বাভাবিক রাখতে পারে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে শেয়ারে বিনিয়োগ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান বাজারে শেয়ার না বিক্রির জন্যেও বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে। যদিও এসব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ নয়।
জানা গেছে, একাধিক ব্যাংক তারল্য সঙ্কট দেখিয়ে পুঁজিবাজার অস্থির করছে। এ ছাড়া মানি মার্কেটেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। কিন্তু এটি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এস কে সুর চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, বাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি সমাধান করাসহ স্থিতিশীল অবস্থা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পৰ থেকে বিভিন্নভাবে পদৰেপ নেয়া হচ্ছে। যাতে কোনভাবেই বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক বাজারে তারল্য সঙ্কট দেখিয়ে অতিমুনাফা অর্জন করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এটি চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে সংশিস্নষ্ট ব্যাংকের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। তবে কোন ব্যাংকে যদি তারল্য সংকট দেখা দেয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি সমাধানে বিবেচনা করবে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো ও তারল্য সহায়তার মাধ্যমে ৭ হাজার ৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রাথমিক এজেন্ট (প্রাইমারি ডিলার) ব্যাংকগুলোর চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তারল্য সহায়তা দেয়া হয়। আর বাকিদের প্রায় ৭ শতাংশ সহায়তা দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মানি মার্কেট নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে তারল্য সংকট সমাধানের লৰ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কলমানির সুদের হার ১৯০ শতাংশ থেকে মাত্র ১৫ শতাংশে নিয়ে এসেছে। কলমানির সুদের হার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ধার করতে পারছে আনত্মঃব্যাংক বাজার থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাপক অভিযানের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। এতে একাধিক ব্যাংকের বাজার অস্থির করার কারসাজিও বন্ধ হয়েছে।
বর্তমান পুঁজিবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আলী জনকণ্ঠকে বলেন, পুঁজিবাজার স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক যুগোপযোগী উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ নয়। কারণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নের লৰ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।
তারল্য সঙ্কট নিয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক অতিমুনাফা অর্জনের লৰ্যে আইনী সীমা অতিক্রম করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সম্প্রতি বাজারে দরপতন ঘটায় সংশিস্নষ্ট ব্যাংকগুলো লোকশান দিয়ে শেয়ার বিক্রি করতে পারছে না। এ ছাড়া তারা ডিপোজিটের তুলনায় অধিক হারে ঋণ বিতরণ করেছে। ফলে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআরআর বা এসএলআর বৃদ্ধি দায়ী নয়। সিআরআর বা এসএলআর বৃদ্ধি করা এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিংয়েরই একটি অংশ। কিন্তু বাজারে তারল্য সঙ্কটের পেছনে সিআরআর বা এসএলআর বৃদ্ধিকে দায়ী করা ঠিক নয়।
পুঁজিবাজারে ভুক্তভোগীরা জানান, পুঁজিবাজারে যখন উর্ধগতি শুরম্ন হয়, ঠিক তখনই একটি চক্র নাম সর্বস্ব কোম্পানির মূল্য সেনসেটিভ (স্পর্শকারত) তথ্য প্রদান করে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রলুব্ধ হয়ে ওই নাম সর্বস্ব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু নাম সর্বস্ব কোম্পানি যখন মূল্যসেনসিটিভ তথ্য প্রদান করে গুজব ছড়িয়ে তাদের শেয়ার ক্রয় করতে সাধারণ ক্রেতাদের বাধ্য করে তখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিনিয়োগকারীদের উদ্যোগে কোন নির্দেশনা প্রদান করে না। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নাম সর্বস্ব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ফেলে যান। আর সর্বস্ব হারান। এটি রোধ করতে হবে। তা না হলে বাজার স্বাভাবিক রাখা যাবে না বলেও সংশিস্নষ্টরা মনত্মব্য করেন।
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview