 Administrator Forum Addict

Regist.: 01/16/2011 Topics: 77 Posts: 29
 OFFLINE | শেয়ার বাজার প্রতিবেদক : অব্যাহত তারল্য সংকটের কারনে দরপতন চলছেই শেয়ার বাজারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার সাধারন সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৭ পয়েন্ট কমেছে। আর্থিক খাত, বীমা খাত, ব্যাংকিং খাতসহ লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির দাম কমেছে। লেনদেন গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়েছে। সোমবার মোট লেনদেন হয় ৮৪৮ কোটি টাকা। এর আগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল ৭৭২ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এছাড়া গত ৬ জানুয়ারি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯৬৯ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার জোর করে অক্সিজেন দিয়ে ধরে রাখা হচ্ছে। এভাবে বাজার বেশিদিন উধ্বমুখী রাখা যাবে না। বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
এ ব্যাপারে ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, বাজারে বর্তমানে বেশ তারল্য সঙ্কট রয়েছে। মাঝে মাঝে বিভিন্ন উপায়ে বাজারে ঠেক দেওয়া হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সোমবার মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে তারা তারল্য প্রবাহ বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনভর সাধারন সূচকের উঠানামা ছিল লক্ষ করার মত। লেনদেন শুরুর ১০ মিনিট সূচক বেড়ে ৭ হাজার ৪৩৪ পয়েন্ট থেকে ৭ হাজার ৪৮৮ পয়েন্টে পৌছায়। এরপর থেকে সূচক কমতে থাকে। কমতে কমতে ৭ হাজার ৩৫৫ পয়েন্টে থামে। এরপর আরো কয়েকবার উত্থান পতনের মাধ্যমে আগের দিনের চেয়ে ৫৭ পয়েন্ট কমে ৭ হাজার ৩৭৭ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে স্থির হয়। অন্যদিকে ডিএসই- ২০ মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৮ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৭০৪ দশমিক ১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে সোমবার মোট ২৪৮ টি কোম্পানির ৬ কোটি ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৯ টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৭ টি এবং কমেছে ১৭৭ টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪ টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। মোট লেনদেন হয়েছে ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৩১৮ কোটি ০৬ লাখ টাকা কম। বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ২১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা হয়েছে।
লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো- ইউসিবিএল, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো, তিতাস গ্যাস, ডেসকো লিমিটেড, গ্রামীণ ফোন, এবি ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও সাউথইষ্ট ব্যাংক লিমিটেড। অন্যদিকে দর বৃদ্ধিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো- দেশবন্ধু, ম্যারিকো, সিটি জেনারেল ইন্সুরেন্স, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ৪র্থ আইসিবি, বার্জার পেইন্ট, রেনেটা, বাংলাদেশ অক্সিজেন কোং, রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স ও বিডি ল্যাম্পস। দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো - তালু স্পিনিং, চিটাগাং ভেজিটেবল, পূরবী জেনারেল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, সায়হাম টে·টাইল, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, কেয়া কসমেটিকস্, প্রাইম ইন্সুরেন্স, মাইডাস ফাইন্যান্স, পিপলস্ ইন্সুরেন্স।
অপরদিকে সিএসই সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ সূচক ২১.১৮ পয়েন্ট বেড়ে ২০৯৯৬.৮০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ১২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া আর্থিক লেনদেন হয়েছে ৮৩ কোটি টাকার, যা গতকালের ৩৭ কোটি টাকা কম। মোট লেনদেনের পরিমান ছিল ১২০ কোটি টাকা। |