DSE SMALL INVESTORS PLATFORM (DSIP) > DISCUSSION > NEWS AND INFO
 শেয়ারবাজার তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত
Page 1 / 2 1 - 2 Next »
 শেয়ারবাজার তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত
04/07/2011 5:21 pm

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE

শেয়ারবাজার তদন্ত প্রতিবেদন
প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত

prothom-alo



শেয়ারবাজারে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কারসাজি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নিজেদের পকেটে নিয়ে নিয়েছেন একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। আর এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
মূলত, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন, সরাসরি তালিকাভুক্তি, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি, প্লেসমেন্ট-বাণিজ্য, বোনাস শেয়ার ইস্যুসহ নানাভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এবং ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।
শেয়ারবাজারে অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে। কমিটি প্রতিবেদনে এসব কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামও উল্লেখ করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত প্রাথমিক বাজারের সঙ্গে জড়িত ছিল। আর সেকেন্ডারি বাজারের সক্রিয় হিসেবে রয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালুর নাম।
তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজকে বলেছেন, সালমান এফ রহমানের নাম ছিয়ানব্বইয়ের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির তদন্ত প্রতিবেদনেও বড় আকারে ছিল। এবার তাঁর নাম ওঠেনি কিন্তু তাঁর পরিচালিত কোম্পানির নাম এসেছে। প্লেসমেন্ট, আইপিও প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মোসাদ্দেক আলী ফালু ও তাঁর সহযোগীদের নাম এসেছে। কিন্তু তাঁরা পেছনে ছিলেন, সামনে ছিলেন না। তাঁরা তো এখন আসবেন না। কারণ বিরোধী দল এখন এসইসির কাছ থেকে কোনো রকমের সহায়তা পাবে না।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ সময় বলেন, ‘জড়িত ব্যক্তিদের কেউ সরকারি দল করেন, কেউ বিরোধী দল করেন। আবার অনেকে কোনো দলই করেন না। তবে এটাকে পলিটিক্স বলব, নাকি মানিটিক্স বলব, সেটা একটি বিষয়। এখানে রাজনীতি থাকে না। তবে যেটা হতে পারে তা হলো, যখন যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন, সেই দলীয় ব্যক্তিরা সামনে থাকেন। আর সরকার বদল হলে অন্যরা সামনে চলে আসেন। এখানে রাজনীতি নয়, আসল উদ্দেশ্য অর্থ।’
গতকাল রাতে টেলিফোনে সালমান এফ রহমান লন্ডন থেকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইনের মধ্যে থেকেই সবকিছু করা হয়েছে। আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করিনি।’ দেশে ফিরে তদন্ত রিপোর্ট দেখে তার পরই কথা বলবেন বলেও তিনি জানান। বিদেশে থাকায় মোসাদ্দেক আলীকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গতকাল অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে কমিটি শেয়ারবাজারে অনৈতিক কাজ ও কারসাজি হয়েছে—এমন অনেক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে। এসব কাজে কোম্পানি, সম্পদ মূল্যায়নকারী সংস্থা, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ডিলার-ব্রোকারসহ ইস্যু ব্যবস্থাপকদের দায়ী করা হয়েছে। তবে কমিটি মনে করে, সার্বিকভাবে সবচেয়ে বেশি দায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
কমিটি বলেছে, সব ধরনের দুর্নীতি অস্বাভাবিকভাবে অনুমোদন দিয়ে বৈধতা দেওয়ায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এর জন্য এসইসি দায়ী। এ অবস্থায় তদন্ত কমিটি এসইসি পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছে।
এ ছাড়া কমিটি প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে বাণিজ্য করার কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, প্লেসমেন্ট এখন ঘুষের আধুনিক সংস্করণে পরিণত হয়েছে। কমিটি এসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রীর নামে শেয়ার ব্যবসার প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অফিসের কাজকর্ম ফেলে কম্পিউটারে বসে শেয়ার ট্রেডিং একটি নৈমিত্তিক দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অফিসের কাজকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তদন্ত কমিটি সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিজ বা পরিবারের সদস্যদের নামে শেয়ার ব্যবসা কঠোর হস্তে বন্ধ করার সুপারিশ করেছে।
এ ছাড়া কমিটি প্রয়োজনে স্টক এক্সচেঞ্জে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে হলেও ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করা, মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার পৃথক রাখতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, মার্চেন্ট ব্যাংকে খোলা অমনিবাস অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার সুপারিশ করেছে।
সূত্র জানায়, প্রতিবেদনটি প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার। প্রতিবেদনে শেয়ারের মূল্য বাড়ানোর কারসাজিসহ নানা উপায়ে অর্থ তুলে নেওয়ার অনেকগুলো ঘটনার উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকগুলো উদাহরণ রয়েছে প্লেসমেন্ট শেয়ার নেওয়ার। পাশাপাশি কোম্পানিগুলো পারস্পরিক যোগসাজশে শেয়ারের দাম বাড়িয়েছে বলেও তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে। আবার প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সক্রিয় সদস্য হলেও শেয়ারবাজারে এক হয়ে ব্যবসা করেন—এ ধরনের ঘটনার কথাও প্রতিবেদনে রয়েছে। ১৯৯৬-এর শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এ রকম কয়েকজন এবারও কারসাজির সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সংকট সৃষ্টির জন্য কে দায়ী: সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি বলেছে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও ইস্যু) এবং প্রাক-আইপিও কার্যক্রমে সরাসরি তালিকাভুক্তি (ডাইরেক্ট লিস্টিং), কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, উচ্চ নির্দেশিত (ইনডিকেটিভ) মূল্য নির্ধারণ, বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় কারসাজি বা ম্যানিপুলেশন, প্লেসমেন্টে অস্বচ্ছতা—এসব অনৈতিক কাজে ইস্যুয়ার কোম্পানি, ইস্যু ব্যবস্থাপক, সম্পদ মূল্যায়নকারী সংস্থা, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অডিট ফার্ম, ডিলার ও ব্রোকারসহ অনেকেই জড়িত। আবার সার্কুলার ট্রেডিং, ব্লক ট্রেডিং, অস্বাভাবিক লেনদেন—এসব নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য লেনদেনকারী, ডিলার ও ব্রোকারসহ অনেকে দায়ী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাইট শেয়ার, প্রেফারেন্স শেয়ার, অনগদ লাভের বিপরীতে বোনাস শেয়ার ইস্যুকরণ প্রভৃতি কাজের জন্য ইস্যুয়ার কোম্পানির দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক হিসেবে এসব অপকর্ম, অস্বচ্ছতা, অনৈতিকতা পরীক্ষা করার দায়িত্ব এসইসির। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অন্যায়গুলো সংঘটিত হওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং সব ধরনের দুর্নীতি অস্বাভাবিকভাবে অনুমোদন দিয়ে বৈধতা দেওয়া তথা সংকট সৃষ্টির জন্য এসইসিই দায়ী।
এসইসির সার্বিক পুনর্গঠন: কমিটি মনে করে, অনৈতিকতা ও পেশাগত ব্যর্থতার দায়ে এসইসির ভাবমূর্তি অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত। দায়িত্ব পালনে সংস্থাটি অক্ষম হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া এখনকার বড় পুঁজিবাজার পরিচালনার মতো জনবল, দক্ষতা বা নৈতিকতা কোনোটাই তাদের নেই। এ অবস্থায় সার্বিক পুনর্গঠন প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইন বিশেষজ্ঞ, সৎ, দক্ষ ও অতীতে সফল হয়েছেন এমন পেশাজীবীদের নিয়ে সংস্থাটির পুনর্গঠন প্রয়োজন। দরকার জনবল বৃদ্ধির। তবে মেধাবী ও যোগ্য জনবল আকর্ষণ করতে হবে। আর এ জন্য বাজারভিত্তিক বেতনকাঠামো নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা আলাদা করা: তদন্ত কমিটি ডিমিউচুয়ালাইজেশনের সুপারিশ করে বলেছে, এর অর্থ হলো স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জকে পুঁজিবাজারের প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক বলা হয়। ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় চলে এলে স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালনে অচলতার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের দ্রুত ডিমিউচুয়ালাইজেশন হওয়া প্রয়োজন।
কমিটি বলেছে, ভারতে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ গঠন করে সরকার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জকে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের চাপ প্রয়োগ করেছিল। পাকিস্তানেও এই প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশে যত দ্রুত করা যায়, ততই মঙ্গল। প্রয়োজনে স্টক এক্সচেঞ্জে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে হলেও কাজটি করা উচিত।
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অর্থায়ন: সূত্রমতে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার ও অর্থবাজারকে পৃথক রাখা বিশ্বস্বীকৃত রীতি। ব্যাসেল নীতিমালা এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছে। কারণ পুঁজিবাজারে নিজস্ব পুঁজি থাকবে, অন্যের টাকা নয়। আমানত ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ নয়, বরং গ্রাহকের নিজস্ব টাকা। ব্যাংক ট্রাস্টির ভূমিকায় গ্রাহকের আমানত জমা রাখে। আমানতকারীর অনুমতি ছাড়া এই অর্থ ব্যাংক পুঁজিবাজারে খাটাতে পারে না। এ কারণে ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং আইনে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগযোগ্য তহবিলকে ব্যাংকের ইক্যুইটির (মালিকের পুঁজি) অনুপাত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাংক কোম্পানি আইনের আমানতের ১০ শতাংশ বিনিয়োগের অনুমতি রয়েছে, যা প্রথাসিদ্ধ নয় এবং ব্যাংকের জন্য হুমকি। এ অবস্থায় ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(২) ধারা সংশোধন করে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজি বা ইক্যুইটির অনুপাতে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
আইপিও এবং কার্ব মার্কেট: তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিও অনুমতির আগেই মূলধন বাড়ানোর আবরণে ‘প্লেসমেন্ট’-বাণিজ্যের সূচনা দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে এসইসির কোনো নিয়মাচার নেই। কেন নিয়মাচার তৈরি করছে না, তাও বোধগম্য নয়। নিয়মাচারের অভাবে প্লেসমেন্টের কার্ব মার্কেট সৃষ্টি হয়েছে। ফেসভ্যালু বা অভিহিত মূল্যে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংস্থাকে প্লেসমেন্ট ইস্যু করে ইস্যুয়ার কোম্পানি। আবার বেশি দামে অল্প দিনের মধ্যেই প্লেসমেন্ট বিক্রি করে দেয় কোম্পানি। প্রভাবশালী ব্যক্তি মুফতে লাভ পেয়ে যান। ফলে, প্লেসমেন্ট এখন ঘুষের আধুনিক সংস্করণে পরিণত হয়েছে। সমাজ কলুষিত হচ্ছে। কমিটি বলেছে, এর ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। প্লেসমেন্ট বিক্রয়ের পর আইপিও অনুমতি না পাওয়ায় অনেকের টাকা আটকে গেছে। তাঁরা হা-হুতাশ করছেন। এ ধরনের অরাজকতা চলতে দিয়ে এসইসি সংকটের জন্ম দিয়েছে। অবিলম্বে নিয়মাচার প্রণয়ন করতে হবে।
অমনিবাস অ্যাকাউন্টের অন্তরালে অস্বচ্ছতা: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনত শেয়ার লেনদেন শুধু বেনিফিশিয়ারি ওনার্স বা বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করা যায়। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকার নিজেরা ইনভেস্টর অ্যাকাউন্ট খুলছে এবং প্রতি পাঁচ থেকে ১০ হাজার অ্যাকাউন্টের জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকারের নিজস্ব নামে একটি মাত্র বিও অ্যাকাউন্ট রাখছে। ফলে বিনিয়োগকারী থাকছে বিও অ্যাকাউন্টের অন্তরালে, লোকচক্ষুর আড়ালে। দুর্নীতি, অনিয়মের আখড়া হয়ে উঠেছে মার্চেন্ট ব্যাংকের ইনভেস্টর হিসাবগুলো। যাঁদের শেয়ার বেচাকেনা হচ্ছে, বিও অ্যাকাউন্টে তাঁদের নাম নেই। অতএব আইনানুগ স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে খোলা প্রতিটি বিনিয়োগকারীর হিসাবের জন্য বিও অ্যাকাউন্ট খোলা এবং অমনিবাস অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
নিয়ন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লেনদেন: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের শেয়ার ব্যবসা করা অনুচিত। অথচ এসইসির নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া স্ত্রীর নামে শেয়ার ব্যবসা করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইসিবির ডিজিএম কফিল উদ্দিন আহমদ চৌধুরী স্ত্রী ও শ্যালকের নামে ব্যবসা করেছেন। তদন্ত বিশদভাবে করলে আরও অনেক নাম বের হয়ে আসবে। অফিসের কাজকর্ম ফেলে কম্পিউটারে বসে শেয়ার ট্রেডিং একটি নৈমিত্তিক দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কাজকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কমিটি সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিজ বা পরিবারের সদস্যদের নামে শেয়ার ব্যবসা কঠোর হস্তে বন্ধ করার সুপারিশ করেছে।
যোগাযোগ করা হলে আনোয়ারুল কবীর ভূঁঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী তো আর্থিকভাবে আমার ওপর নির্ভরশীল না। তিনি এ দেশের একজন করদাতা। তা ছাড়া তাঁর স্বতন্ত্র ব্যক্তিসত্তা রয়েছে। সেই হিসেবে তিনি বিনিয়োগের অধিকার সংরক্ষণ করেন।’
কিন্তু এসইসির আইনে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্ভরশীল নিকটাত্মীয়দের (স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে) বিনিয়োগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ আইনটি যখন করা হয়, তার আগেই তিনি বিনিয়োগ করেছেন।
চেষ্টা করেও কফিল উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে গতকাল পাওয়া যায়নি।
কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ‘সার্ভেয়ার্স ইনস্টিটিউশন’ নেই, নিবন্ধিত সার্ভেয়ারও নেই। এই সুযোগে কোম্পানিগুলো সম্পদের অতিমূল্যায়ন করে বাজার প্রভাবিত করছে। কোম্পানিগুলো ‘ডেফারড ট্যাক্সের’ জন্য সংস্থানও রাখে না। এসইসি অতিমূল্যায়ন রোধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অতএব, দেশে চার্টার্ড সার্ভেয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভ্যালুয়ারের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে ভ্যালুয়ার ও অডিটর দুটি ভিন্ন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম হতে হবে।
প্রতিবেদনে সম্পদ কী পরিমাণে পুনর্মূল্যায়িত করা হয়েছে তার কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। যেমন, লিব্রা ইনফিউশনস পুনর্মূল্যায়ন করেছে ৩৪৭২ শতাংশ, সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ ৬২৬ শতাংশ, রহিম টেক্সটাইল ৫১৮ শতাংশ, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম ২৯৮ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশন ৪১৩ শতাংশ, ওশেন কনটেইনার্স ২৯৬ শতাংশ এবং শাইনপুকুর সিরামিক ১২০ শতাংশ।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওরিয়ন ইনফিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান করিম বলেন, গত আট-দশ বছরে ওরিয়ন ইনফিউশনের সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন হয়নি। সুতরাং ৪১৩ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধির তথ্য কীভাবে এল তিনি বুঝতে পারছেন না।
শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন: কমিটি মনে করে, ১০০ টাকার শেয়ার ১০ টাকায় পরিবর্তন বাজারে মূল্যবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। বিষয়টি মানসিক ভ্রমজনিত। কেননা, ১০০ টাকার শেয়ার ৮০০ টাকা হলে যতটা মূল্য বৃদ্ধি মনে হয়, ১০ টাকার শেয়ার ৮০ টাকা হলে তেমনটা হয় না। এ কারণে বাজার পুঁজীকরণ বৃদ্ধিতে ১০ টাকায় রূপান্তর করা কোম্পানিগুলোর অংশ সাড়ে ৮১ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি অবিশ্বাস্য হলেও ঘটেছে। অতএব, এখনো ১০০ টাকার শেয়ারের যেসব কোম্পানি বাকি রয়েছে, তাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে ১০ টাকায় রূপান্তর করে অভিহিত মূল্য একই রকম করা উচিত।

Quote   
04/07/2011 5:28 pm

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
কিছু ব্যক্তির নাম এসেছে। এগুলো বাদ দিয়ে প্রকাশ করব: অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সকালে তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ তাঁর কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে গেছেন। এটি পুরোপুরি দেখা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সংক্ষিপ্তভাবে তিনি দেখেছেন এবং বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে এতে।
বক্তব্যের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, তদন্ত প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করব। এখন সেটি করা হবে না। হয়তো কিছু ব্যক্তির নাম এসেছে। এগুলো ডিলিট (বাদ দিয়ে) করে প্রকাশ করব।’ প্রতিবেদনে সংস্থা হিসেবে এসইসির দুর্বলতার কথা এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থাটিকে শক্তিশালী ও পুনর্গঠনের সুপারিশ এসেছে দৃঢ়ভাবে। বলা হয়েছে, এসইসির আইনবিষয়ক একজন সদস্য থাকলেও হিসাববিষয়ক কোনো সদস্য বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নেই। সংস্থাটিতে এমনকি কোনো আর্থিক বিশ্লেষকও নেই। অথচ সম্পদ মূল্যায়নের জন্য তাঁদের খুবই দরকার। জনবল বাড়াতে সম্প্রতি এসইসিতে ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকের অমনিবাস হিসাব এমনভাবে পরিচালিত হয় যে অনেক ক্ষেত্রে কিছু উদ্ধার করা কঠিন হয়। প্রতিবেদনে অন্তত ৫০টি অমনিবাস হিসাব নিয়ে একটি হিসাব করার সুপারিশ এসেছে।
সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি বন্ধ আছে, বন্ধই থাকবে। তবে সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমেই বাজারে আসবে।
দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন তিনি সেটা বলতে পারবেন না। কিছু নাম মুছে দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন কেন? জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যক্তির নাম এসেছে। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান নিজেই বলে গেছেন সময়স্বল্পতার জন্য বিস্তৃত কিছু করা যায়নি। প্রতিবেদনটি তিনি পুরোপুরি সম্পন্ন করতেও পারেননি।
এ বিষয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা গেল, একটা নাম বললাম, আতিউর রহমান। পরে দেখা গেল আতিউর রহমান ঠিক না। আসলে প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য সময় খুব কম হয়ে গেছে।’
ক্ষমতাবানেরা এবারও পার পেয়ে যাবেন কি না, জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, সে সুযোগ নেই। অপরাধের সঙ্গে কেউ জড়িত রয়েছেন, তা যদি যথাযথভাবে প্রমাণ করা যায়, তাহলে অবশ্যই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ছিয়ানব্বইয়ে কোনো সাক্ষী ছিল না। সে জন্য তখনকার তদন্ত প্রতিবেদনে অনেককে দায়ী করা হলেও এখনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড) রয়েছে। অনেক কিছুই বের করা সম্ভব। শেয়ার পুনঃ ক্রয় (বাই-ব্যাক) নিয়ে প্রতিবেদনে কোনো সুপারিশ আসেনি বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদন বিষয়ে আলোচনার বাইরে দেশের অর্থনীতির অবস্থা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ এখন ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, কলমানির সুদের হার ৩ শতাংশ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, বিনিয়োগও বাড়ছে। অথচ আজই (বৃহস্পতিবার) একটি পত্রিকায় লেখা হয়েছে, দেশের অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারীও ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা: তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদও পুঁজিবাজারে কারসাজিমূলক ঘটনা ঘটার জন্য এসইসিকে দায়ী করেন। গতকাল সকালে অর্থমন্ত্রীর মিন্টো রোডের বাসায় গিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এসইসির গাফিলতির কারণে শেয়ারবাজারে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির দায়িত্বহীনতার কারণে ইস্যুয়ার কোম্পানি, ইস্যু ব্যবস্থাপক, ব্রোকার-ডিলার, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও মূল্যায়নকারী কোম্পানি বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। এসইসি আরও সক্রিয় থাকলে এমনটা হতো না।
এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্য তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুল বারী ও নিহাদ কবির উপস্থিত ছিলেন।
ইব্রাহিম খালেদ পরে কৃষি ব্যাংকে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সরকারি ও বিরোধী দলের যাঁরা শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে কারসাজির ঘটনা ঘটেছে। তাঁর মতে, বিষয়টি অনৈতিক হলেও আইনের মধ্যে থেকেই ঘটেছে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতির ব্যাপারে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এ পদ্ধতি খারাপ নয়। তবে বাংলাদেশে এর অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। এ জন্য পদ্ধতিটির সংস্কার প্রয়োজন। প্লেসমেন্টের ব্যাপারে বলেন, এটা একটি ভয়াবহ ব্যাপার। এর মাধ্যমে সমাজের একটি বড় অংশকে অসৎ করে ফেলা হয়েছে। এটা একটা দুর্নীতি। এসইসি, আইসিবিসহ বিভিন্ন সরকারি মহল এর সঙ্গে জড়িত। ওপর মহলকে খুশি করতে ঘুষ হিসেবে এটা দেওয়া হয়েছে, যা বেআইনি। অন্তত দুটি হিসাবে ১৯ কোটি টাকা প্লেসমেন্ট-বাণিজ্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
কমিটির প্রধান আরও বলেন, তদন্তের সময় কিছু সুবিধাভোগী লেনদেন বা ইনসাইডার ট্রেডিংয়েরও সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বেসরকারি খাতের যেসব কোম্পানি বাজারে এসেছে, তাদের শেয়ার বিক্রির টাকা ব্যক্তির পকেটে চলে গেছে।
এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে কি না, জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, এখানে কোনো রাজনীতি কাজ করেছে বলে মনে হয়নি। যাঁরা প্রভাব সৃষ্টি করেছেন, তাঁরা ব্যবসায়ী। তবে যখন যে ক্ষমতায় থাকে, তখন সে অনেকভাবেই ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে।
শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ৮৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে—বিএনপির এ দাবি প্রসঙ্গে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘এটা ফাও কথা। তবে কিছু টাকা বাজার থেকে বের হয়েছে। এর পরিমাণ চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, কারসাজির মাধ্যমে কিছু টাকা বিদেশে পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। জেম গ্লোবাল নামে একটি কোম্পানি বিডি থাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই টাকা বিদেশে পাঠায়।
কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, এসইসিকে ঠিক না করে ওদের শাস্তি দিলে আবার একই ধরনের ঘটনা ঘটবে।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এসইসি সম্পূর্ণরূপে পুনর্গঠন করা জরুরি। সেখানে লোকবল বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে যোগ্য ও নিরপেক্ষ লোক নিয়োগ দিতে হবে, যাঁদের সঙ্গে বাজারে প্রভাব বিস্তারকারীদের সম্পর্ক থাকবে না। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে ডিএসই ও সিএসইর ডিমিউচুয়ালাইজেশনেরও সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারও এটা চায়। সুতরাং ডিমিউচুয়ালাইজেশন করার এখনই উপযুক্ত সময়। এটা হলে ব্রোকার-ডিলাররা ব্যবস্থাপনার কাজে অংশ নিতে পারবে না।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন: দুই মাস ধরে তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য ডিএসইর ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইব্রাহিম খালেদ। ডিএসইর প্রধান নির্বাহীর কাছে লেখা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক খন্দকার আসাদ উল্লাহর নেতৃত্বে আট সদস্যের টাস্কফোর্স তদন্তকাজে আশাতীত সহযোগিতা করেছে। এ গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।
Quote   
04/07/2011 11:58 pm

Administrator
Cool Senior Forum Expert


Regist.: 12/19/2010
Topics: 309
Posts: 2083
OFFLINE
Thanks for sharing.
................
Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.

http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
Quote   
04/08/2011 12:42 am

Moderator
Forum Addict


Regist.: 01/27/2011
Topics: 13
Posts: 75
OFFLINE
The names mentioned in the probe report are :-
01. Khandoker Ziaul Huq (Chairman SEC),
02. Anwarul Karim Bhuiyan (E.D SEC)
03. Tarequzzaman (E.D SEC)
04. Mansurul Alam (Former E.D SEC ),
05. Salman F Rahman of Beximco Group,
06. Mosaddek Ali Falu (BNP politician),
07. Lutfor Rahman Badol (Vice Chairman IFIC Bank)
08. Soma Alam Rahman (Wife of Badal),
09. Faruq Khan (commerce minister),  
10. AHM Mostafa Kamal MP (BCB chairman),  
11. Kafir Uddin Ahmed Chowdhury (ICB D.M.D) and his wife
12. Farzana Akhter (Wife of ICB D.M.D)
13. Masur Billah (brother- in- law of ICB D.M.D),  
14. Rakibur Rahman (former president of DSE)
15. Arifur Rahman (Nephew of Rakibur Rah.),
16. Golam Mostafa (stock-market investors),
17. Abu Sadat Mohammad Sayem (stock-market investors) and
18. Yakub Ali Khandaker (stock-market investors)  
19. Race (Merchant Banks) and
20. LR Global (Merchant Banks).
Quote   
04/08/2011 3:57 am

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী ও
এসইসি দায়ী

Kaler Kontho





কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে শেয়ারবাজারের অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের সহযোগিতা করতে সংস্থাটি সব ধরনের দুর্নীতিকে অস্বাভাবিকভাবে বৈধতা দিয়েছে। এসইসিকে অক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করে এর পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি আরো প্রায় শতাধিক ব্যক্তির কারসাজির মাধ্যমে বিপুল মুনাফা অর্জনের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। তাতে এসইসির নির্বাহী পরিচালক (ওএসডি) আনোয়ারুল কবির ভঁূইয়ার স্ত্রীর নামে ও আইসিবির উপমহাব্যবস্থাপক কফিল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী ও শ্যালকের নামে শেয়ার ব্যবসা করার প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
দুই মাস ধরে পরিচালিত তদন্তে কমিটি এসইসিসহ বিভিন্ন ইস্যুয়ার কম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, সম্পদ মূল্যায়নকারী সংস্থা, অডিট ফার্ম, ডিলার ও ব্রোকারেজ হাউসকে সাম্প্রতিক কারসাজির জন্য দায়ী করেছে। আইপিও ইস্যু, প্রাক-আইপিও বা প্রাইভেট প্লেসমেন্টে অস্বচ্ছতা, ডাইরেক্ট লিস্টিং, কম্পাানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, কম্পানির শেয়ারের উচ্চ নির্দেশক মূল্য ধার্য ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো কারসাজি করেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা শেষে রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ সাংবাদিকদের বলেন, বাজার কারসাজির সঙ্গে সরকার ও বিরোধীদলীয় ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদরাও জড়িত। তবে তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ রকম করেছেন, সেটা বলা যাবে না।
পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করে তদন্ত কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে বলে ইব্রাহিম খালেদ জানান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে এসইসির পুনর্গঠন বিষয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনৈতিক ও পেশাগত ব্যর্থতার দায়ে এসইসির ভাবমূর্তি অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত। সংস্থাটি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে অযোগ্য ব্যক্তিদের এসইসি থেকে অপসারণ ও দক্ষ জনবল নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
ইব্রাহিম খালেদ বলেন, প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পুঁজিবাজারে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সামরিক অফিসার, সরকারি কর্মকর্তা, এসইসি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) সমাজের ওপর তলার মানুষকে ঘুষ হিসেবে প্লেসমেন্ট শেয়ার দেওয়া হয়েছে। প্লেসমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিকও জড়িত ছিল বলে তিনি জানান। দুটি ঠিকানায় ১৯ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট দেওয়ার কথা তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে। এভাবে সমাজের একটি বড় অংশকে অসৎ বানানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'প্লেসমেন্ট যেভাবে দেওয়া হয়েছে সেটা শুধু অনৈতিক নয়, একটি দুর্নীতিও। এটি বন্ধে আমরা জোর সুপারিশ করেছি।'
তদন্ত প্রতিবেদনে দেশের দুটি স্টক এঙ্চেঞ্জের ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের সুপারিশ করা হয়েছে। এটা করা হলে স্টক এঙ্চেঞ্জের পরিচালনা পরিষদ ব্যবস্থাপনায় অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বিশেষ করে ব্রোকার ডিলাররা কারসাজিতে সম্পৃক্ত হতে পারবে না। ভারতে এটা করা হয়েছে। পাকিস্তানে এ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সম্পর্কে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, 'বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক এ পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এটি অপপ্রয়োগ হয়েছে। এ জন্য এ পদ্ধতি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারাও জড়িত : তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও কারসাজির হোতাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া সরকারি অফিসে কাজকর্ম ফেলে কম্পিউটারে বসে শেয়ার ট্রেডিং নৈমিত্তিক দৃশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়। এ জন্য সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা বা পরিবারের শেয়ার ব্যবসা কঠোরভাবে বন্ধের সুপারিশ করা হয়।
কারসাজির প্রক্রিয়া : প্রাইমারি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ, আইপিও ইস্যু, প্রাক-আইপিও কার্যক্রম, সরাসরি তালিকাভুক্তি, কম্পানির সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন, উচ্চ নির্দেশক মূল্য নির্ধারণসহ বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় কারসাজি, প্লেসমেন্টে অস্বচ্ছতাকে পুঁজিবাজারে বিপর্যয় সৃষ্টির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই বাজারে নতুন কম্পানি তালিকাভুক্তির প্রতিটি প্রক্রিয়ায় অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। আর অতি মূল্যায়িত এসব শেয়ারের চাহিদা সৃষ্টির জন্য কৃত্রিমভাবে সেকেন্ডারি বাজারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা হয়েছে। মূলত প্রাথমিক শেয়ারে কারসাজির প্রভাবেই সেকেন্ডারি বাজারে কৃত্রিম চাঙ্গা ভাব সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি কারসাজি করে সংঘবদ্ধ লেনদেন (সার্কুলার ট্রেডিং), ব্লক ট্রেডিং ও অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে শেয়ারের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এসব প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিই বাজারের বিপর্যয় ত্বরান্বিত করেছে।
অমনিবাস হিসাব বন্ধের সুপারিশ : তদন্ত প্রতিবেদনে মার্চেন্ট ব্যাংকের অমনিবাস হিসাব বন্ধ করে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর জন্য পৃথক বিও হিসাব খোলার সুপারিশ করে বলা হয়েছে, আইনত শেয়ার লেনদেন শুধুমাত্র বিও হিসাবের মাধ্যমে করা যায়। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকার নিজেরা অমনিবাস হিসাব (ইনভেস্টর অ্যাকাউন্ট) খুলছে এবং প্রতি পাঁচ থেকে ১০ হাজার হিসাবের জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকারের নিজস্ব নামে একটি বিও হিসাব রাখছে। ফলে বিনিয়োগকারী থাকছে বিও হিসাবের অন্তরালে। দুর্নীতি, অনিয়মের আখড়া হয়ে উঠেছে মার্চেন্ট ব্যাংকের অমনিবাস হিসাবগুলো। যাদের শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে, বিও হিসাব তাদের নামে নেই। এ কারণে আইনগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকে খোলা প্রতিটি হিসাবের জন্য বিও হিসাব খোলা প্রয়োজন।
একই অভিহিত মূল্যের সুপারিশ : তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০০ টাকার শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত বাজারকে প্রভাবিত করেছে। বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মানসিক ভ্রমজনিত সমস্যা। ১০০ টাকার শেয়ার ৮০০ টাকা হলে যতটা মূল্যবৃদ্ধি মনে হয়, ১০ টাকার শেয়ার ৮০ টাকা হলে তেমনটা হয় না। এই সুযোগ গ্রহণ করে বাজারে তালিকাভুক্ত ৮১.৫ শতাংশ কম্পানি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় রূপান্তর করেছে। বাজারে ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য এখনো যেসব কম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা রয়ে গেছে, তাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে ১০ টাকায় রূপান্তর করে সব শেয়ারের একই (ইউনিফর্ম) অভিহিত মূল্য করা উচিত বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।
ব্যাংক কম্পানি আইন সংশোধনের সুপারিশ : পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজারকে পৃথক রাখা বিশ্বস্বীকৃত নীতি। ব্যাসেল নীতিগুলো এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছে। কারণ পুঁজিবাজারে নিজস্ব পুঁজি থাকবে। কিন্তু আমানত ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ নয়, গ্রাহকের টাকা। ব্যাংক ট্রাস্টির ভূমিকায় গ্রাহকের আমানত জমা রাখে। আমানতকারীর অনুমতি ছাড়া ব্যাংক এই অর্থ পুঁজিবাজারে খাটাতে পারে না। এ কারণে ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং আইনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলকে ব্যাংকের ইক্যুইটির অনুপাতে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংকিং আইনে আমানতের ১০ শতাংশ বিনিয়োগের অনুমতি রয়েছে, যা প্রথাসিদ্ধ নয় এবং ব্যাংকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ব্যাংক কম্পানি আইন সংশোধন করে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে মূল পুঁজির অনুপাতে হিসাবের ব্যবস্থা করা উচিত।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে একের পর এক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এর কারণ উদ্ঘাটন ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। গত ২৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসইসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং এর কার্যপরিধি ঘোষণা করা হয়। কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী এবং আইসিএবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল বারী এফসিএ। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটির কার্যক্রম এসইসির পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়া হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে কার্যপরিধি অপরিবর্তিত রাখা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনের আওতায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
Quote   
04/08/2011 4:02 am

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
শেয়ার কেলেঙ্কারির তদন্ত রিপোর্ট পেশ : যাদের নাম এসেছে তারা ক্ষমতাবান - অর্থমন্ত্রী :
বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি ২০ হাজার কোটি টাকা

AmarDesh

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকা। শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল সমর্থক ব্যবসায়ী ও বাইরের অনেকেই জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজার তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এ তদন্ত রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন কমিটির প্রধান ও কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত বলে যাদের নাম রিপোর্টে এসেছে, তারা বেশ ক্ষমতাবান। তাদের নাম ডিলিট বা মুছে দিয়ে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। তাদের নাম কেন মুছে দেয়া হবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করা হলে সরকার বেকায়দায় পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাদের নাম তদন্ত রিপোর্ট থেকে মুছে ফেলা হবে।
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সরকারি বাসভবনে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির তদন্ত রিপোর্ট হস্তান্তর করার সময় কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে একের পর এক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে এর কারণ উদ্ঘাটন এবং কারসাজিতে জড়িতদের চিহ্নিত করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। গত ২৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসইসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং এর কার্যপরিধি ঘোষণা করা হয়। কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী এবং আইসিএবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল বারী এফসিএ। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে কার্যপরিধি অপরিবর্তিত রাখা হলেও এর মাধ্যমে কমিটির কার্যক্রম এসইসির পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের আওতায় ন্যস্ত হয়।
গতকাল তদন্ত রিপোর্ট বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহিম খালেদ আমার হাতে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। এতে শেয়ারবাজারে অনিয়মের জন্য অনেকের নাম এসেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কমিটি যাদের নাম উল্লেখ করেছে, রিপোর্ট থেকে সেগুলো মুছে ফেলা হবে।’ অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, কমিটির রিপোর্টে এসইসিকেও দায়ী করা হয়েছে। কী কারণে তদন্ত রিপোর্ট থেকে জড়িত ব্যক্তিদের নাম মুছে ফেলা হবে জানতে চাইলে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘স্টক মার্কেটে যারা কাজ করেন তারা আমার দলের হোন আর অন্য দলের হোন, তারা সবাই ক্ষমতাবান।’ নাম প্রকাশ করা হলে বিভেদ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক নয়। তবে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি কম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি করেছে। তারা তাদের সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে। তাদের রিপোর্টটিও পূর্ণাঙ্গ নয়। ফলে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা জড়িত কিনা, সেটি আগে নিশ্চিত হতে হবে। এজন্য আমরা আরও অনুসন্ধান চালাব। ১০/১২ দিন পর রিপোর্ট প্রকাশ হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জড়িতদের শাস্তিও দেয়া হবে। এসইসি জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি নেয়া হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘এখনও সময় হয়নি।’ ’৯৬ সালের কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিচার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ওই সময় যে ঘটনা ঘটেছে তার কোনো সাক্ষী নেই। তবে এবার আমাদের কাছে রেকর্ড আছে। রেকর্ড খতিয়ে দেখলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে।
শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা উদ্ঘাটনে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গতকাল অর্থমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট দেয়ার পর কৃষি ব্যাংকে তার দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত কমিটি প্রধানত নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি’র অদক্ষতা এবং অবহেলাকেই দায়ী করেছে। দেশের বাইরে সরাসরি ১৫ কোটি টাকা চলে গেছে এমন একটি কেস আমরা তদন্তে পেয়েছি। তিনি বলেন, অনিয়ম দেখভাল করার দায়িত্ব ছিল এসইসি’র। এ সংস্থার অনুমতি নিয়েই বিভিন্ন কোম্পানি, স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার, চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট এবং ভেল্যুয়ার কোম্পানির অনেকেই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি’র দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে পুঁজিবাজারে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, দায়িত্ব পালনে এসইসি যথাযথ ভূমিকা না রাখায় অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি। এ কারণে সংস্থাটি পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এসইসি’র অনুমোদন নিয়ে কারসাজি করায় তাদের শাস্তির বিষয়ে কোনো সুপারিশ করা হয়নি। তদন্ত রিপোর্টে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন, দুটি ঠিকানায় ১৯ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট দেয়া হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে। প্লেসমেন্ট যেভাবে দেয়া হয়েছে সেটা শুধু অনৈতিক নয়, এটি একটি দুর্নীতি। এর মাধ্যমে সমাজের একটি বড় অংশকে অসত্ বানানো হয়েছে। সামরিক অফিসার, সরকারি কর্মকর্তা, এসইসি, আইসিবিসহ সমাজের ওপরতলার মানুষকে ঘুষ হিসেবে প্লেসমেন্ট শেয়ার দেয়া হয়েছে। প্লেসমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে সাংবাদিকরাও জড়িত ছিল বলে তিনি জানান। প্লেসমেন্ট পুঁজিবাজারে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে দাবি করে তিনি বলেন, এটি বন্ধে আমরা জোর সুপারিশ করেছি।
তিনি বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, আমাদের দেশে এ পদ্ধতির অপপ্রয়োগ হয়েছে। এজন্য এ পদ্ধতি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে, সেই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিচুয়ালাইজেশনেরও সুপারিশ করা হয়েছে। এটা করা হলে স্টক এক্সচেঞ্জের ম্যানেজমেন্টে পরিচালনা পর্ষদ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বিশেষ করে ব্রোকার ডিলাররা কারসাজিতে সম্পৃক্ত হতে পারবে না। ভারতে ডিমিচ্যুয়ালাইজেশন হয়েছে, পাকিস্তানে প্রক্রিয়াধীন। বাংলাদেশে ডিমিচুয়ালাইজেশনের এখনই উপযুক্ত সময় বলে তিনি জানান।
তিনি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে সংস্কারের সুপারিশ পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এসইসিতে এমন লোক দিতে হবে যারা মার্কেট প্লেয়ারদের দ্বারা প্রভাবিত না হন।
তিনি আরও বলেন, বাজার কারসাজির সঙ্গে সরকার ও বিরোধীদলীয় ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদরাও জড়িত। তবে এরা রাজনৈতিক উদ্দেশে এরকম করেছে সেটা বলা যাবে না। তিনি পুঁজিবাজারে প্রাইমারি শেয়ারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু অনিয়ম হয়েছে বলে জানান। কোনো কোনো কোম্পানির প্রাইমারি শেয়ার বরাদ্দে অযৌক্তিক দর নেয়া হয়েছে।
বিডি থাইয়ের সঙ্গে যোগসূত্র করে জেম গ্লোবাল নামের একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে অর্থ বিদেশে নিয়ে গেছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। এছাড়া ব্লক ট্রেডিং, ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমেও বাজারে কারসাজি করা হয়েছে, তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সেকেন্ডারি মার্কেটে কারসাজির অনেক তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। ইব্রাহিম খালেদ বলেন, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনিয়ম চিহ্নিত করে তদন্ত কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে এসইসির পুনর্গঠন বিষয়ে। শুধু এসইসি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপসারণ নয়, প্রয়োজনীয় জনবলও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নানা কারণে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। বিদ্যুত্, গ্যাস সঙ্কট, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে দেশের শিল্পখাতে বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। শিল্পখাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। এমনকি ব্যাংকগুলোও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমারেখা মানেনি। ব্যাংকগুলো আমানতের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারলেও অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক নির্ধারিত সীমার অনেক বেশি অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া কালো টাকা সাদা করার শর্তহীন সুযোগ থাকায় অনেকেই বিপুল পরিমাণ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ পুঁজিবাজারের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে পেনশনভোগী বিপুলসংখ্যক মানুষ সঞ্চয়পত্রের পরিবর্তে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বিপুলসংখ্যক বেকার যুবক বিভিন্ন উত্স থেকে টাকা ধার করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। ছাত্র, যুবক, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ বাড়তি আয়ের জন্য শেয়ারবাজারমুখী হয়েছেন। স্রোতের মতো মানুষ এসেছে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে। বিপুলসংখ্যক মানুষ শেয়ারবাজারে যুক্ত হলেও তাদের অনেকেরই শেয়ারবাজার সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।
৮ ডিসেম্বর থেকে ধস শুরু : নানা কারণে অতিমূল্যায়িত শেয়ারবাজারে ধস শুরু হয় ৮ ডিসেম্বর। ওইদিন লেনদেন শুরুর মাত্র ১ ঘণ্টার মাথায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচকের পতন ঘটে ৫৪৭ পয়েন্ট। দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন এবং এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। অবশ্য দিনশেষে ওইদিন সূচকের পতন ঘটে ১৩৪ পয়েন্ট। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের বিপরীতে বিধিবদ্ধ নগদ জমার হার (সিআরআর) এবং সংরক্ষিত নগদ জমার হার (এসএলআর) বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সময়সীমা বেঁধে দেয়ায় বাজারে শেয়ার বিক্রির বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি এসইসির পক্ষ থেকেও এসময় বিনিয়োগকারীদের জমা দেয়া চেক নগদায়ন হওয়ার আগে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উপরন্তু এসইসির আরেক নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো বিনিয়োগকারী হাতে থাকা শেয়ার আগে বিক্রি না করে সমপরিমাণ টাকা দিয়ে অন্য কোনো শেয়ার কিনতে পারবে না। এসব সিদ্ধান্তের কারণে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয় করতে পারেননি। শেয়ারের বিক্রি চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বড় ধরনের ধস নামে। আর এ ধরনের ঘটনায় পুঁজিবাজারে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন বিনিয়োগকারীরা। অবশ্য এসইসি ওইদিনই তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের নির্দেশনা দুটি প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হলেও বাজারে দীর্ঘ ক্ষত তৈরি হয়। এরপর প্রায় প্রতিদিনই শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। পরিস্থিতি এতটা নাজুক হয়ে পড়ে যে, শেষ পর্যন্ত লেনদেন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় এসইসি। ১০ ডিসেম্বর লেনদেন শুরুর ৫০ মিনিটের মাথায় ডিএসই সূচকের ৬৩৫ পয়েন্ট পতন হলে ওইদিনের মতো লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়।
এরপরও দরপতন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে ১৮ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের লেনদেন আবারও বন্ধ করে দেয়া হয়। আর এসব ঘটনায় প্রতিদিনই রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর, বিক্ষোভ, মিছিল সমাবেশ করা হয়। শেয়ারবাজারে ক্রমাগত পতনের কারণে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। বিনিয়োগকারীরা দরপতনের জন্য অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, এসইসি চেয়ারম্যান, ডিএসই প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করেন। দরপতনের জন্য সিন্ডিকেট চক্রকে দায়ী করে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবিও জানান সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাজারে একের পর এক দরপতন হলেও অর্থমন্ত্রী শেয়ারের দাম কমলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ সমাবেশের সামালোচনা করে বলেন, ‘দাম কমলে বিক্ষোভ করেন কিন্তু দাম বাড়লে তো মিস্টি খাওয়ান না।’ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এ নিয়ে ন্যক্কারজনক বক্তব্য দেন। তিনি বিক্ষোভে অংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, ওরা সমাজের শত্রু। ওদের জন্য মাথা ঘামানোর দরকার নেই। তাদের কষ্টে আমার মন কাঁদে না। ২০ জানুয়ারি খুলনা জেলার ভুতিয়ার বিল এবং বর্ণাল সলিমপুর কোলাবাসুখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ২২ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি অতিমূল্যায়িত শেয়ারবাজারে যারা বিনিয়োগ করেছে তাদের টাকাকে চুরির টাকার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার মতো মোটা ও লম্বা, সে যদি আট ফুট লম্বা স্যুট পরে তাহলে বুঝতে হবে স্যুটটি সে চুরি করে নিয়ে এসেছে। অর্থমন্ত্রী এবং উপদেষ্টার এ ধরনের বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের যারপরনাই বিস্মিত করেছে।
এদিকে শেয়ারবাজারে আবারও ধস নামায় ২০ জানুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য শেয়ারবাজার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওইদিন মাত্র ৬ মিনিট লেনদেনে সূচকের পতন ঘটে ৬০০ পয়েন্ট। তবে ২৫ জানুয়ারি থেকে ফের লেনদেন শুরু হয়।
উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির হিড়িক : চাহিদা অনুযায়ী শেয়ারের সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরই অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ে। একই সময়ে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে এবং একের পর এক মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ঘোষণা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ানো হয়। এতে প্রলুব্ধ হয়ে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির মৌলভিত্তি এবং মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত বিবেচনা না করেই শেয়ার ক্রয় করেন। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোক্তারা শেয়ার বিক্রি করতে থাকেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারই অতিমূল্যে কিনে নেন। এক হিসাবে দেখা গেছে, গত ২০০৯ থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালক ও উদ্যোক্তারা শেয়ার বিক্রি করে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন। এছাড়া নামে-বেনামে আরও বিপুল অর্থ বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন তারা।
আগ্রাসী অর্থায়ন : শেয়ারবাজারে লেনদেন বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ ছিল মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আগ্রাসী অর্থায়ন। মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে এসইসি বিভিন্ন সময়সীমা বেঁধে দিলেও মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো সীমার অতিরিক্ত ঋণ দিয়েছে। এছাড়া তারা নিজেরাও শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেছে। দুর্বল মৌলভিত্তির ‘জেড’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন লোন সুবিধা নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক ব্রোকারেজ হাউস সেসব কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ঋণ দিয়েছে। এ ধরনের ঋণ দেয়ার জন্য এরই মধ্যে ২৩টি ব্রোকারেজ হাউসকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এদের কয়েকটির বিরুদ্ধে জরিমানাও করেছে এসইসি।
বিশেষ সুবিধা পেয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রীর পারিবারিক দুটি প্রতিষ্ঠান : বেসরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তি নিষিদ্ধ করা হলেও বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের পারিবারিক দুটি প্রতিষ্ঠান খুলনা পাওয়ার কোম্পানি (কেপিসিএল) এবং ওশ্যান কনটেইনার লিমিটেডকে (ওসিএল)। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানি দুটির দাম যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়। আর সরাসরি তা
Quote   
04/09/2011 12:43 pm

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
Prothom Alo
শেয়ারবাজার ত দ ন্ত প্র তি বে দ ন
কারসাজিতে জড়িত ৬০ ব্যক্তি
বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ০৯-০৪-২০১১


শেয়ারবাজারে অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটি বাজার কারসাজির জন্য প্রায় ৬০ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। এঁদের মধ্যে, বিশেষ করে দুজনের ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এই দুজন হলেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার লেনদেন ও পরিচালনায় সালমান এফ রহমান ও রকিবুর রহমানের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। কেননা, মার্কেট প্লেয়াররা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হলে এসইসি অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং আবারও বাজারে বিপর্যয় ঘটবে।
তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গতকাল শুক্রবার সালমান এফ রহমান ও রকিবুর রহমান প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, শেয়ারবাজারে এ রকমের শীর্ষ মার্কেট প্লেয়ার যাঁরা আছেন, এঁদের সম্পর্কে সরকারকে একটু সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য যে, তাঁরা যাতে সরকারের নীতিনির্ধারণীতে বা এসইসির উচ্চপদের নিয়োগের ব্যাপারে কোনো রকমের সুপারিশ ও তদবির করে প্রভাবিত করতে না পারেন।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন, ‘আমরা বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫০০ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। এঁদের মধ্যে আছেন দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সব সদস্য, পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও গবেষক এবং সাংবাদিক। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে এই দুজনের সম্পর্কে আমরা এ রকম ধারণা পেয়েছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও আমরা তথ্য পেয়েছি যে অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান জেম গ্লোবালের জন্য সালমান এফ রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে তদবির করেছিলেন।’
এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনেও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ইমতিয়াজ হোসেন, খোরশেদ আলম, সালমান এফ রহমান, এনায়েতুর রহিম, রকিবুর রহমান, শাকিল রিজভী প্রমুখ। বর্তমান তদন্তে এঁদের মধ্যে সালমান রহমান ও রকিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক মতামত এসেছে এবং কিছু তথ্যও পরিবেশিত হয়েছে। এসইসিকে প্রভাবিত করতে দুজনেই সক্রিয় ছিলেন। এসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং সদস্য মনসুর আলমের পুনর্নিয়োগে সালমান রহমান ও রকিবুর রহমানের জোর তদবির এবং সমর্থন ছিল বলে অনেকের বিশ্বাস। বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের অস্বচ্ছ ঘটনাটির তদবিরে সালমান রহমান নিজেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ধরনা দিয়েছিলেন। আবার জিএমজি ও ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসংক্রান্ত ঘটনায় সালমান রহমান সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ ঘটনাগুলোও অস্বচ্ছ। এসইসি পরিচালনায় দুজনেরই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ছিল। এ কারণে সাধারণ্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে রকিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ডিএসইর সভাপতি থাকার সময়ে এবং পরে একজন সাবেক সভাপতি হিসেবেই তিনি শেয়ারবাজার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রভাবিত করার কোনো বিষয় ছিল না। তা ছাড়া তিনিই সবার আগে সরাসরি তালিকাভুক্তি বন্ধ করে দিলেও সরকার নির্দেশ দিয়ে দুটি কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, প্রতিবেদনে প্রায় ৬০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার বিস্তারিত তদন্ত করতে পারে। তবে প্রাথমিক অভিযুক্ত হিসেবেই সবার নাম প্রকাশ করা যায়। আর প্রচলিত আইনেই এঁদের শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
অর্থমন্ত্রীর কাছে গত বৃহস্পতিবার জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে প্লেসমেন্টের শেয়ার-বাণিজ্য নিয়ে জিএমজি এয়ারলাইনসের সম্পৃক্ততা নিয়েও বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এ কোম্পানিরও অন্যতম উদ্যোক্তা সালমান রহমান। জিএমজি এয়ারলাইনস অনুমোদন না পেয়েও প্লেসমেন্টের শেয়ার বিক্রি করেছে। অথচ অনুমোদন না পাওয়ায় এখনো কোনো শেয়ার বিতরণ করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংক আট কোটি টাকার শেয়ার কিনেও বরাদ্দ পায়নি।
শেয়ারবাজার পতনের জন্য আরও অনেকের দায়দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। তবে সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনৈতিকতাকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় মূল ঘটকের কাজটি করেছেন এসইসির সাবেক সদস্য মনসুর আলম। আর সংস্থাটির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের আনুকূল্য ও সম্মতি ছাড়া কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়। কমিটি এই দুজনকেই দায়ী করে বলেছে, শীর্ষ এই কর্মকর্তাকে সক্রিয় সহায়তা দিয়ে অন্যায় করেছেন দুই নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া ও তারিকুজ্জামান। তদন্ত প্রতিবেদনে এই চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং কর্মরত তিনজনকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে বলেছে, আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়ার স্ত্রী রোকসানা আখতারের নামে চারটি হিসাবে বিপুল অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আইসিবির সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে গৃণ ঋণদান সংস্থার মহাব্যবস্থাপক) কফিল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা আকতার ও শ্যালক মনসুর বিল্লাহর নামে শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্টের শেয়ার নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের মুনাফার অর্থ কফিল উদ্দিন চৌধুরীর নিজ নামে স্থায়ী আমানত হিসেবে রয়েছে। এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আর ওয়াই শমসের নিজেও প্রায় ১২ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছেন, যা স্বার্থ সংঘাতজনিত কাজ। কমিটি এঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র জানায়, কমিটি বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকে রক্ষিত অমনিবাস হিসাব নমুনা চয়ন করে পরীক্ষা করে দেখেছে। গোপনে রক্ষিত এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শেয়ার লেনদেন করে কারসাজি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে মোসাদ্দেক আলী ফালু, সালমান রহমান ও নুর আলীর ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ডা. এইচ বি এম ইকবাল, মুনিরুদ্দিন আহমদ, রোকসানা আমজাদ, গোলাম মোস্তফা, আহসান ইমাম, ইয়াকুব আলী খোন্দকার, নিউ ইংল্যান্ড ইক্যুইটি, লুৎফর রহমান বাদল, তাঁর স্ত্রী সোমা আলম রহমানের নাম।
তদন্ত কমিটি দুই ঠিকানায় ১৯ ব্যক্তিকে ১৯ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার তথ্যও পেয়েছে। এঁদের মধ্যে আছেন আহসান ইমাম, সোমা আলম রহমান, শামিমা শরীফ, লুৎফর রহমান বাদল, মনসুর বিল্লাহ প্রমুখ।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটি দেখেছে, বাজার চাঙা এবং মন্দার সময় নির্দিষ্ট কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে শেয়ার লেনদেন করেছে। এসব শীর্ষ প্লেয়ারদের সন্দেহজনক লেনদেনের বিবরণ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। তাঁরা হলেন—গোলাম মোস্তফা, আবু সাদাত মো. সায়েম, ইয়াকুব আলী খোন্দকার, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মো. খলিলুজ্জামান, মো. শহীদুল্লাহ, আরিফুর রহমান, সোমা আলম রহমান, ফ্রন্টিয়ার ফান্ড, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, এবি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। কমিটি এদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের সুপারিশ করেছে।
কমিটি এতগুলো নাম পেলেও অনেকেরই বিস্তারিত পরিচয় চিহ্নিত করতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কখনো নাম শুনিনি এ রকম অনেকে আছেন। যদিও তাঁরা বিপুল অঙ্কের শেয়ার লেনদেন করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সরকার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখতে পারে।’
এ ছাড়া কমিটি এসইসির কোনো সাবেক কর্মকর্তা যাতে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে না পারেন, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। কারণ, তাঁদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে এবং স্বার্থ সংঘাতের সুযোগ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে কমিটি এসইসির সাবেক সদস্য সাহাবুব আলমের নাম উল্লেখ করে বলেছে, তিনি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব অনুমোদন করানোর ব্যবস্থা করেন।
মোসাদ্দেক আলীর প্রতিবাদ: মোসাদ্দেক আলী ফালুর পক্ষে গতকাল একটি প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে বিনিয়োগ করেন এবং এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব তথ্য আয়কর নথিতে দেখানো আছে। তিনি বলেন, দেশের লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর মতো তিনিও অস্বাভাবিক দরপতনের কারণে মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
Quote   
04/10/2011 6:36 am

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
দোষীরা শাস্তি না পেলে আবার কারসাজি হবে
Prothom Alo

১৯৯৬-এর শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনায় কারও শাস্তি হয়নি। এবারও শাস্তি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাস্তি হয় না বলেই বারবার বাজার কারসাজির ঘটনা ঘটছে। তাঁরা মনে করেন, প্রচলিত আইনেই শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে এবারের তদন্ত কমিটিও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। কমিটি মত দিয়েছে, ঘটনা ঘটলে তদন্ত কমিটি গঠন না করে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য একটি স্থায়ী কমিটি বা টাস্কফোর্স থাকা উচিত।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, এভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে তেমন লাভ হবে না। বরং সার্বক্ষণিক তদন্তের ব্যবস্থা থাকলে কারসাজি ঘটলেই ধরা সম্ভব হতো। ঘটনা চিহ্নিত করার সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দিলে কারসাজির ঘটনা অনেক কমে যাবে।
শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিদ্যমান আইনেই শাস্তি দেওয়া যায় বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, অন্যায়ের ধরন অনুযায়ী এসইসির কর্মকর্তাদের সংস্থাটির নিজের আইনেই শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এটা হলো স্থায়ী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে। আর কেউ যদি চুক্তিতে নিযুক্ত থাকেন, সরকার সেই চুক্তি বাতিল করাসহ আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
মির্জ্জা আজিজুল আরও বলেন, অন্যদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও আইন-কানুন রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা করা যায় ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সীমাহীন অঙ্কের। জেল হওয়ারও বিধান রয়েছে। তবে তার আগে স্পষ্ট করতে হবে, কে কোন আইনের কোন ধারা লঙ্ঘন করেছে। নইলে আদালতে প্রমাণ করা যাবে না।
উদাহরণ দিয়ে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ফৌজদারি মামলার সঙ্গে তুলনা করা যায়। যেমন, এ ক্ষেত্রে প্রথমে অভিযোগ গঠন করে তারপর তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে কিছু প্রমাণ না পাওয়া গেলে ওখানেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন। আর পাওয়া গেলে মামলা ওঠে আদালতে। শুনানি হয়, তারপর রায়। এ ক্ষেত্রেও সে রকম হবে।
সূত্র জানায়, কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পরিদর্শন ও তদন্ত করার জন্য একটি আলাদা বিভাগ তৈরির সুপারিশ করেছে। এই বিভাগে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। তবে সবার আগে এসইসির পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব এবং সেটাই উচিত। এ জন্য আইনজীবী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞসহ বড় আকারের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করতে হবে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সেই কমিটি এমন সব তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করবে, যাতে আদালতে তা গ্রহণযোগ্য হয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ খান মনে করেন, তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে না। খেয়াল রাখতে হবে, অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড এক জিনিস নয়। বরং যে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে এসেছে, সেগুলো থেকে কয়েকটিকে বাছাই করে গভীর তদন্তে যাওয়া দরকার। তিনি বলেন, ‘যথাযথ তদন্ত না করার ভুলটা হলে ’৯৬-এর পরিণতি হবে এবং অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’
এদিকে তদন্ত কমিটি সবচেয়ে বেশি প্লেসমেন্ট পেয়েছে এমন ৩০ ব্যক্তির একটি তালিকা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করে দিয়েছে। কমিটি সরকারকে এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করার সুপারিশ করেছে। কমিটি বলেছে, এই ৩০ জন শীর্ষ প্লেসমেন্টধারীর অর্থসংস্থান ও আন্তসংযোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে এসইসি। পাশাপাশি কমিটি প্লেসমেন্টে শেয়ার দেওয়ার পদ্ধতি বন্ধ বা সীমিত করার সুপারিশ করে বলেছে, বর্তমানে প্রাথমিক শেয়ারের আবেদনের বিপরীতে বহু গুণ অর্থ জমা পড়ছে। এ অবস্থায় প্লেসমেন্ট নিষ্প্রয়োজন। কমিটি মনে করে, প্লেসমেন্ট এখন ঘুষের আধুনিক সংস্করণে পরিণত হয়েছে।
প্লেসমেন্টের নামে ঘুষ দেওয়ার অনেকগুলো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে বলে সূত্র জানায়। এদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যাই বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও রয়েছেন। কমিটি সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি একাধিকবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছে এবং বৈঠকে দেওয়া তথ্য বৈঠকের পরপরই বড় বড় ‘মার্কেট প্লেয়ারের’ কাছে পাচার করা হয়েছে।
কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছে, সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বেড়েছে। অফিসের কাজকর্ম ফেলে কম্পিউটারে বসে শেয়ার কেনাবেচায় ব্যস্ত থাকার দৃশ্য প্রতিটি অফিসেই দেখা যাচ্ছে। এতে অফিসের কাজকর্মে ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসিতেও এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। ব্যাংকগুলোতেও এই প্রবণতা প্রবল।
কমিটি আরও বলেছে, মিউচুয়াল ফান্ড ও আইপিওসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে প্লেসমেন্ট দেওয়া ঘুষ প্রদানের নতুন সংস্করণে পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী কর্মকর্তাসহ অন্যদের আনুকূল্য লাভের প্রত্যাশায় এটি ব্যবহূত হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বেনামি প্লেসমেন্ট নিয়ে থাকেন। বেনামি চিহ্নিত করাও কঠিন। সরকারি ও প্রভাবশালী মহল সুবিধা নেওয়ার ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার বিনষ্টকরণে এসইসির ভূমিকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হয়েও মার্কেট প্লেয়ারদের পরামর্শে পরিচালিত হওয়া এবং যোগসাজশে অনৈতিক কর্মে বৈধতা প্রদান, বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, শৈথিল্য প্রদর্শন প্রভৃতি কারণে এসইসির ভাবমূর্তি অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কমিশনের বৈধ নির্দেশ না মানারও সাহস জন্মেছে। কমিটি এ বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে বলেছে, গত ২১ মার্চ এসইসির অনুমতি নিয়ে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে তদন্ত কমিটি কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য কর্মকর্তা পাঠালেও কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মূর্তজা আহমেদ কার্যালয়ে ঢুকতে দেননি। পরদিন এসইসি আবারও ফোন করে লোক পাঠালে শেখ মূর্তজা আবার বাধা দেন। এ রকম আরও কিছু ঘটনা কমিটি প্রত্যক্ষ করেছে। এ ধরনের ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এসইসির বড় রকম পুনর্গঠন প্রয়োজন।
সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি তিন শীর্ষ কর্তকর্তাকে অপসারণ করে এসইসির পুনর্গঠনের সুপারিশ করলেও সরকারের একটি অংশ ধীরে চলার নীতি অনুসরণ করতে চায়। মূলত প্লেসমেন্ট-বাণিজ্যের সুবিধাভোগীরাই এসইসির বর্তমান নেতৃত্বকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন যাতে প্রকাশ না পায় এবং যাতে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, সে জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আবু আহমেদ স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে এসইসির প্রায়ই বৈঠক করাকে সমালোচনা করে বলেন, সারা বিশ্বেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখার জন্য এসইসির মতো সংস্থাগুলো কাজ করে। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টো। এসইসি বরং স্বার্থ দেখে বড়দের।
Quote   
04/10/2011 6:39 am

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
এরাই শেয়ার কেলেঙ্কারির নায়ক

Quote   
04/10/2011 6:46 am

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
তদন্ত প্রতিবেদনে উলি্লখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো :

* আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু (সাউথইস্ট ক্যাপিটাল)
মোট জমা : ১০ কোটি ১৪ লাখ টাকা
মোট উত্তোলন : নেই
মোট শেয়ার ক্রয় : ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার ১১৭ টাকা
মোট বিক্রয় : ছয় কোটি আট লাখ ২৯ হাজার ২৬৯ টাকা
মন্তব্য : বিক্রয় অপেক্ষা ক্রয় ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮৪৮ টাকা বেশি। অথচ হিসাব থেকে টাকা তোলা হয়নি। উপরন্তু ১০ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা হয়েছে। উল্লেখ্য, শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে, তা অনুসন্ধান করার দায়িত্ব ডিএসই/এসইসির।
* ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড (সাউথইস্ট ক্যাপিটাল)
মোট জমা : ৪৪ কোটি টাকা মোট উত্তোলন : ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয় : ১৬৭ কোটি ২৯ লাখ
২০ হাজার ৮০৮ টাকা
মোট বিক্রয়: ১৬৯ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার
৬৯৫ টাকা
মন্তব্য: ক্রয়ের চেয়ে বিক্রয় এক কোটি ৯১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮৭ টাকা বেশি। উত্তোলন হয়েছে জমার অতিরিক্ত সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছেন নূর আলী ও সালমান এফ রহমান।
* ডা. এইচবিএম ইকবাল (প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা
মোট উত্তোলন: ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ৬১ হাজার ৮৪৫ টাকা
মোট বিক্রয়: ২৯১ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার ৮৬৪ টাকা

মন্তব্য: ক্রয় থেকে বিক্রয় ছয় কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ১৯ টাকা বেশি। উত্তোলন থেকে জমা পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেশি।

* মুনিরউদ্দিন আহমেদ (সাউথইস্ট ক্যাপিটাল ও এবি ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: নেই
মোট উত্তোলন: নেই
মোট শেয়ার ক্রয়: ১১৮ কোটি ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৫ টাকা
মোট বিক্রয়: ১১৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৮ টাকা
মন্তব্য: বিরাট অঙ্কের ক্রয়-বিক্রয়ের কোনোটাই অ্যাকাউন্টে প্রতিফলিত হয়নি, যা আইনসিদ্ধ নয়। বিশদ তদন্ত প্রয়োজন।

* রোকসানা আমজাদ ও মো. আমজাদ হোসেন (এবি ইনভেস্টমেন্ট ও প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: নেই
মোট উত্তোলন: তিন কোটি ১৩ লাখ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৩ টাকা
মোট বিক্রয়: ২৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার ২৭৬ টাকা
মন্তব্য: জমার ঘর শূন্য থাকলেও ক্রয় থেকে বিক্রয় এক কোটি আট লাখ ৭০ হাজার ৩৭৩ টাকা বেশি।

* গোলাম মোস্তফা (প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: ১৪ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা
মোট উত্তোলন: ৭০ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ১৪২ কোটি ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৭২১ টাকা
মোট বিক্রয়: ২৭৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪১ হাজার ২৪৪ টাকা
মন্তব্য: ক্রয়ের চেয়ে বিক্রয় ১৩৭ কোটি এক লাখ ৮৭ হাজার ৫২৩ টাকা বেশি। একই সময়ে জমার চেয়ে উত্তোলন বেশি মাত্র ৫৬ কোটি ২৮ লাখ ১০ টাকা। অ্যাকাউন্ট ক্রয়-বিক্রয় প্রতিফলিত করে না।

* আহসান ইমাম ও মাহজাবিন মোস্তফা ইমাম (সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল ও এবি ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: সাত কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা
মোট উত্তোলন: ৩৮ কোটি ৫৯ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ৯৮ কোটি ৩৮ লাখ সাত হাজার ৯৩৯ টাকা
মোট বিক্রয়: ১৪১ কোটি সাত লাখ ৩৭ হাজার ৬১২ টাকা
মন্তব্য : ক্রয় থেকে বিক্রয় ৪২ কোটি ৬৯ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৩ টাকা বেশি। জমাতিরিক্ত উত্তোলন হলো ৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮ টাকা।

* ইয়াকুব আলী খন্দকার ও সারা খন্দকার (প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট)
মোট জমা: এক কোটি ৬০ লাখ টাকা
মোট উত্তোলন: ২৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ৮৪৮ কোটি ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ছয় টাকা
মোট বিক্রয়: ৮৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৬৫ টাকা
মন্তব্য : ক্রয় থেকে বিক্রয় ৩১ কোটি পাঁচ লাখ ১২ হাজার ৪৫৯ টাকা বেশি। জমা থেকে উত্তোলন বেশি ৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮ টাকা। অ্যাকাউন্টে তার প্রতিফলন নেই।

* নিউ ইংল্যান্ড ইক্যুয়িটি, লুৎফর রহমান বাদল ও সোমা আলম রহমান (সাউথইস্ট ক্যাপিটাল ও এবি ইনভেস্টমেন্ট)

মোট জমা: ৯০ কোটি ২৫ লাখ টাকা
মোট উত্তোলন: ৮৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
মোট শেয়ার ক্রয়: ২৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫২৩ টাকা
মোট বিক্রয়: ২৭৫ কোটি ৭১ লাখ ১৫ হাজার ৮৯৩ টাকা

মন্তব্য : বিক্রয়ের চেয়ে ক্রয় দুই কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ৭১০ টাকা বেশি। উত্তোলনের চেয়ে জমা তিন কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বেশি। অ্যাকাউন্টে ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো প্রতিফলন নেই।
Quote   
04/10/2011 11:55 am

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
  শেয়ারবাজার অনিয়মের রিপোর্ট প্রকাশ আগামী সপ্তাহে: অর্থমন্ত্রী
(শীর্ষ নিউজ ডটকম)
পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক দুর্নীতি অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। এ কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। আজ রোববার বিকেলে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্বৃত্ করে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারের প্রভাবশালীরা রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী এ ধরনের কোন বক্তব্য আমি দেইনি। বরং বলেছি, শেয়ারবাজারে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে দেয়া হয়। তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট হস্তান্তর করে। ওইদিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন অর্থমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে শেয়ারবাজারের অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন তিনি। ব্যাপক ধসের মুখে গত ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার।
Quote   
04/10/2011 12:11 pm

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
এবার খেলা আমিই জমাব-

এবার খেলা আমিই জমাব।’ শেয়ারবাজারের কারসাজির তদন্তের বিষয়ে ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান এভাবেই সমকালের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কীভাবে খেলা জমাবেন তিনি_ এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সময় হলেই দেখবেন।’ শেয়ারবাজারের কারসাজির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বা কখনও ছিল না_ এমন দাবি করে ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও মিডওয়ে সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদনে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে। তবে নিজের ব্রোকারেজ হাউস থাকা সত্ত্বেও শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউস থেকে শেয়ার কেনাবেচা করেছেন_ এমন অভিযোগ স্বীকার করলেও এর কারণ সম্পর্কে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সরকারের কাছে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের কমিটি সরকারের উচ্চ পর্যায়কে যে দুই ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে তাদের মধ্যে ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান একজন। তদন্ত কমিটির অভিযোগ, ডিএসইর এ সাবেক সভাপতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিকে প্রভাবিত করে অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। ‘৯৬-এর শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির বিষয়ে গঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর তদন্ত কমিটিও তাকে প্রধান অভিযুক্ত করেন।

রকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউস থেকে ১২০৪০৯০০২০৪৪৮৭৭৩ নম্বর বিও হিসাব থেকে শেয়ার কেনাবেচায় জড়িত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ব্রোকারেজ হাউস থেকে শেয়ার কেনাবেচা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা তার বিও হিসাবের গোপনীয়তা বজায় রাখতেন। তবে নিজের ব্রোকারেজ হাউসে (মিডওয়ে) দুটি এবং শাহ্জালাল ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউসে একটি বিও হিসাব রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন রকিবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ‘আমার বিও হিসাবগুলো থেকে কোনো অনৈতিক শেয়ার ব্যবসায় কখনোই জড়িত ছিলাম না। আর আমি যে ধরনের ব্যবসা করেছি তাতে আমার ওপর অন্তত পাঁচ লাখ লোক রয়েছে। আমাকে ধরলে তাদেরও ধরতে হবে।’
নিজের ব্রোকারেজ হাউস থাকা সত্ত্বেও শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউস থেকে কেন শেয়ার কেনাবেচা করেছেন_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আশ্চর্য! আমি তো ঋণ নেওয়ার জন্য ওখানে অ্যাকাউন্ট খুলেছি। আর কিচ্ছু না। আমার তো অত টাকা নেই। আমি ভালো শেয়ার ছাড়া খারাপ শেয়ার কিনিনি। আমার বিনিয়োগ বড়জোর তিন থেকে চার কোটি টাকা।’ এদিকে যমুনা অয়েলের শেয়ার কারসাজির সঙ্গে রকিবুর রহমান জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। ‘এ ধরনের প্রশ্ন করার যৌক্তিকতা নেই’_ এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি তো এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেনি। আপনি কেন বলছেন?’ তিনি জানান, তাকে ধরার জন্য তার বিও হিসাবের সব তথ্য তদন্ত কমিটি নিয়েছে। এ অবস্থায় তদন্ত কমিটি রকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়নি বা অনিয়মের বিষয়গুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছে, এমন অভিযোগ তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে আনা যায় কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আপনার প্রশ্নই বুঝতে পারছি না। এসব প্রশ্ন তদন্ত কমিটি তোলেনি। আপনি কেন তুলছেন?’
রকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গত বছর যমুনা অয়েলের শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি তার বিও হিসাবে কখনোই যমুনা অয়েলের শেয়ার ছিল না বলে দাবি করেন। সমকালের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর তার শাহ্জালাল ব্যাংকের বিও হিসাবে ৫ হাজার শেয়ার ছিল। একই সালের ২৩ জুলাই তার ওই বিও হিসাবে যমুনা অয়েল কোম্পানির শেয়ার ছিল ১০ হাজার। একই সময় তার ওই হিসাবে তিতাস গ্যাস কোম্পানির শেয়ার ছিল ৪০ হাজার।
ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি বলেছে, রকিবুর রহমান ইনফ্লুয়েন্স (এসইসিকে প্রভাবিত) করছে। কী ইনফ্লুয়েন্স করছি আমি? এর মাধ্যমে আমি কী বেনিফিট নিয়েছি? আমি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রেসিডেন্ট, একজন স্টেকহোল্ডার; পুঁজিবাজারের নেতৃত্বে এসেছিলাম। আমি পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অনেক কিছু করেছি। এসইসির সঙ্গে সারাক্ষণ মিটিং করতে হয়। এটা আমার কাজ। তাই করেছি। অনৈতিক কাজে তো প্রভাবিত করিনি।’ সরাসরি তালিকাভুক্তি (ডিরেক্ট লিস্টিং) পদ্ধতি বন্ধ করা তার কৃতিত্ব দাবি করে ডিএসইর সাবেক সভাপতি তদন্ত কমিটির সমালোচনা করে বলেন, ‘ইব্রাহিম খালেদ তো অনেক কথা লিখেছেন। এটা কেন লিখলেন না, রকিবুর রহমান আর কিছু পারুক বা না পারুক ডিরেক্ট লিস্টিং বন্ধ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে নতুন শেয়ার আনার জন্য অনেক কিছু করেছি। বাজারকে স্থিতিশীল রাখার জন্য এমন কিছু নেই, যা করিনি। বিনিয়োগকারীদের বলেছি, আপনারা শেয়ার কিনবেন না। সরকারকে বলেছি, বাজার ওভার হিটেড (অতিমূল্যায়িত) হয়ে যাচ্ছে, শেয়ার ছাড়ুন। বেসরকারি কোম্পানির শেয়ার আনার জন্য হোটেল শেরাটনে মিটিং করেছি। আমি জিয়াউল হক খন্দকার, মনসুর আলমকে কী প্রভাবিত করেছি।’
কেন তদন্ত কমিটি আপনার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করল_ এমন প্রশ্নের জবাবে রকিবুর রহমান বলেন, ‘আমি জানি না। তবে যারা শক্তিশালী পুঁজিবাজার চায় না, তারাই আমাকে টার্গেট করেছে। আমার পরিশ্রম, জনপ্রিয়তায় যারা ঈর্ষান্বিত, তারাই এ কাজ করিয়েছে।’ তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, “আমাকে আঘাত করার অর্থ পুঁজিবাজারকে আঘাত করা। যারা চায় না শেয়ারবাজার স্থিতিশীল থাকুক, তারাই হয়তো এমনটা করতে তদন্ত কমিটিকে আমার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করেছে।” কারা তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে সে বিষয়ে রকিবুর রহমান বলেন, ‘তাদেরই (তদন্ত কমিটি) জিজ্ঞেস করুন, কাদের দ্বারা তারা প্রভাবিত।’
Quote   
04/10/2011 12:17 pm

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
৩৪ লাখ বিও’র ২২ লাখ শেয়ার শূন্য, ১৩ লাখ কখনই ছিল না

পুঁজিবাজারে সক্রিয় ৩৪ লাখ বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের মধ্যে বর্তমানে ২২ লাখই শেয়ার শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে ১৩ লাখ বিও হিসাবে কখনই কোনও শেয়ার ছিল না। বাকি ৯ লাখ বিনিয়োগকারী গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের আগে সব শেয়ার বিক্রি করেছেন। শেয়ার শূন্য বিও হিসাবগুলো শুধুমাত্র প্রাথমিক শেয়ার পাওয়ার জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনের জন্য ব্যবহার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের আওতায় বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৩ লাখ। এরমধ্যে মাত্র ১১ লাখ বিও হিসাবের মাধ্যমে নিয়মিত শেয়ার লেনদেন করা হয়। ১৩ লাখ বিও হিসাবে কখনও কোন শেয়ার ছিল না। এসব বিও হিসাব শুধুমাত্র প্রাথমিক শেয়ারে আবেদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। আইপিও আবেদনের পর প্রতিবারই লটারিতে ব্যর্থ হওয়ায় হিসাবগুলোতে কখনও কোনও শেয়ার জমা হয়নি।

সূত্র জানায়, সিডিবিএলর তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে শেয়ার থাকলেও ৯ লাখ বিও হিসাব থেকে গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের আগেই সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ হিসাবেই হাতেগোনা কিছু শেয়ার ছিল। তবে কোন কোন বিও হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির তথ্যও রয়েছে।

এ বিষয়ে মনত্মব্য চাওয়া হলে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এইমস অব বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওয়ার সাঈদ জনকণ্ঠকে বলেন, শেয়ারবাজারে যে পরিমাণ বিও হিসাব খোলা হয়েছে তার অধিকাংশই শুধু আইপিও আবেদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। মূলত স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনের প্রবণতার কারণেই বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাথমিক শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। বিও হিসাব পরিচালনার জন্য বছরে ৫০০ টাকা ব্যয় হলেও তারা কোন সমস্যা মনে করেন না। কারণ লটারিতে নাম উঠলেই ১০ টাকার শেয়ার কয়েক গুণ দামে বিক্রি করা যায়।

জানুয়ারির আগে বিপুলসংখ্যক বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, শেয়ারের দর যে পর্যায়ে উঠেছিল তাতে মুনাফা তুলে নেয়া অস্বাভাবিক নয়। আবার ডিসেম্বরে বড় দরপতনের কারণে অনেকে আতঙ্কেও শেয়ার বিক্রি করেছেন। শেয়ার কেনার পর কেউই তা চিরস্থায়ীভাবে রাখবে না। ফলে যারা শেয়ার বিক্রি করেছেন, তারা যে খারাপ কিছু করেছেন তা নয়। তবে এৰেত্রে কেউ আইন ভঙ্গ করেছেন কিনা, তা দেখতে হবে। অবশ্যই আইনের বাইরে নীতি-নৈতিকতারও বিষয়ও রয়েছে। আইন ও নৈতিকতার মধ্যে শেয়ার বিক্রি করলে তা অস্বাভাবিক কোন ব্যাপার নয়।

সূত্র জানায়, সংশিস্নষ্ট বিধি অনুযায়ী একটি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে একক নামে একটি এবং যৌথ নামে একটিসহ মোট দু’টি বিও হিসাব খোলার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ হিসাবধারী তা অনুসরণ করছে না। একই ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অসংখ্য বিও হিসাব খোলা হয়েছে। এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে চালু করা বিও হিসাবের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ! এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১১ লাখ এবং ঢাকার বাইরে ৮ লাখ বিও হিসাবে ব্যাংক হিসাব সংক্রানত্ম নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া ১ লাখ বিনিয়োগকারী একই নামে একাধক বিও হিসাব পরিচালনা করছেন।

সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, আইপিওতে আবেদন করে প্রাথমিক শেয়ার পাওয়ার জন্য অনেক বিনিয়োগকারী একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে বিও হিসাব খোলেন। সাধারণভাবে একটি বিও হিসাব থেকে হিসাবধারীর নামে একটি একক এবং অন্য আরেকজনের সঙ্গে যৌথভাবে আরও একটি আইপিও আবেদন করা যায়। তবে মাত্র দুটি আবেদন করে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিক শেয়ার পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। এ কারণে প্রাথমিক শেয়ার পাওয়ার জন্য নামে-বেনামে শ’ শ’ বিও হিসাব খোলারও নজির রয়েছে। নতুন কোম্পানির আইপিওতে জমা পড়া আবেদনের ৭০ শতাংশই বেনামি বিও হিসাবের মাধ্যমে করা হয় বলে অনেকের ধারণা।

জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিলে আরএকে সিরামিকের আইপিওতে ব্যাংক হিসাব নম্বর সংক্রানত্ম নিয়ম অনুসরণ না করা প্রায় ১ লাখ আবেদন চিহ্নিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে এসইসি এসব আবেদনকারীর টাকা ফেরত (রিফান্ড) প্রক্রিয়া স্থগিত করে রাখে। পরে এসব টাকা ফেরত দেয়া হলেও একই ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে একাধিক আইপিও আবেদন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে আইপিও আবেদনে উলেস্নখিত ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে বিও হিসাবে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাবের মিল থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। তা সত্ত্বেও গত সেপ্টেম্বরে একটিভ ফাইন কেমিক্যালের আইপিওতে প্রায় ৪০ শতাংশ আবেদনেই এ নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। এরমধ্যে বড় ধরনের সমস্যা থাকায় ৪৪ হাজার আবেদনকে লটারির বাইরে রাখা হলেও বাকিদের ৰেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শন করে এসইসি।

জানা গেছে, নিয়মিত ব্যবসার চেয়ে প্রাথমিক শেয়ারে কয়েক গুণ বেশি মুনাফা হওয়ায় শেয়ারবাজারে অনেকগুলো ‘আইপিও শিকারি চক্র’ গড়ে উঠেছে। শেয়ারবাজারে একের পর এক আইপিও প্রক্রিয়া চলতে থাকায় এই চক্রগুলো এখন যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয়। এরমধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ের শেয়ার ব্যবসায়ী যেমন রয়েছেন, তেমনি বড় বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা তাদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাজার হাজার বিও হিসাব খুলে আইপিওতে আবেদন করছেন।

এসইসি সূত্রে জানা গেছে, বেনামি বিও এ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতা রোধের জন্য এসইসি বিও হিসাব প্রতি ৩০০ টাকা বার্ষিক ফি আরোপ করেছে। এছাড়া সরকারের রাজস্ব হিসাবে বর্তমানে আরও ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আইপিও আবেদনে জালিয়াতি রোধের জন্য বিও হিসাব খুলতে ব্যাংক সনদ জমা দেয়ার বিধান করা হয়েছে। এতে হিসাবধারীর নাম, পিতা-মাতার নাম ও হিসাব নম্বর উলেস্নখ থাকতে হয়। এছাড়া ব্রোকারেজ হাউসে জমা দেয়া ছবির পেছনে ব্যাংকের লেনদেনে ব্যবহৃত স্বাৰরের অনুরূপ স্বাৰর থাকতে হয়। তবে এসব ব্যবস্থা সত্ত্বেও যথাযথ মনিটরিং না থাকায় ভুয়া হিসাব খোলার প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে নতুন কোন আইপিও এলেই বিও হিসাব খোলার হিড়িক পড়ে যায়। শেয়ারবাজার সম্পর্কে সামান্য ধারণা না থাকলেও অনেকে বিও হিসাব খুলতে আসেন।
উলেস্নখ্য, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যনত্ম সিডিবিএলের আওতায় বিও হিসাবের সংখ্যা ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৪-এ দাঁড়িয়েছে। বিও হিসাবধারী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বর্তমানে ২৫ লাখ ৫ হাজার ৭০২ জন পুরম্নষ এবং ৮ লাখ ৭৯ হাজার ২১২ জন নারী। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বাকি ৮ হাজার ৬৩৩টি হিসাব পরিচালিত হচ্ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি দেশের দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের আওতায় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবধারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৭। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন না করায় গত জুলাই মাসে প্রায় ১ লাখ এবং অক্টোবরে প্রায় ৩০ হাজার বিও হিসাব বাতিল করা হয়। তা সত্ত্বেও ৩১ ডিসেম্বর বিও হিসাবধারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৩২ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৮ জনে দাঁড়ায়। সে হিসেবে এক বছরে পুঁজিবাজারে নতুন প্রায় ১৯ লাখ ৪২ হাজার বিনিয়োগকারী যুক্ত হয়েছেন।
Quote   
04/11/2011 6:17 am

Cool Senior Member


Regist.: 01/24/2011
Topics: 7
Posts: 70
OFFLINE
  
উত্থানে যারা পতনেও তারা

prothom-alo (তারিখ: ১১-০৪-২০১১)



দেশের পুঁজিবাজারের বিরাট উত্থান বা স্ফীতি পর্বে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শীর্ষ ক্রেতা ছিল, পতন বা ধস পর্বেও ঘুরেফিরে তাদের অধিকাংশকে আবার শীর্ষ বিক্রেতা হিসেবে দেখা গেছে।
পুঁজিবাজারের অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। কমিটি এ কাজে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সক্রিয়তাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে।
কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে গত ২৭ জানুয়ারি গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ বক্তব্য উঠে এসেছে। ৭ এপ্রিল সকালে কমিটির প্রধান প্রতিবেদনটি দাখিল করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে।
প্রতিবেদনে বাজারের উত্থান-পতন প্রক্রিয়ায় যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখেছে, তা ‘সেকেন্ডারি বাজারের শীর্ষ ঘটকেরা’ এবং ‘প্রাক-আইপিও আকাশচুম্বী মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তি ও সংস্থা’—এমন দুটি ভিন্ন পর্বে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটি বাজারের উত্থানের দুটি পর্ব চিহ্নিত করেছে।
কমিটি বলেছে, পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক (নভেম্বর-ডিসেম্বর) ধস বা পতন কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। আর এবারের ধস ১৯৯৬ সালের ধসের মতোও নয়। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এবং ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের মূল ঘটনা অনেকটা পর্দার অন্তরালে প্রাথমিক বাজারের কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত। এটি এসইসির সমর্থন-সহায়তায় ইস্যুয়ার, ইস্যু ব্যবস্থাপক, মূল্যায়নকারী (ভ্যালুয়ার), চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট এবং প্লেসমেন্টধারীদের একটি শক্তিশালী চক্রের অবৈধ যোগসাজশের (সিন্ডিকেশন) কুফল বলে মন্তব্য করেছে কমিটি।
প্রতিবেদন মতে, আইপিও ছাড়ার আগে প্রিমিয়াম, বুক বিল্ডিং এবং প্লেসমেন্টের অপপ্রয়োগে যে বিশাল দরস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছিল, সে চাপই সেকেন্ডারি বাজারে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে। আইপিওর আগে মূল্য কেলেঙ্কারি রোধ করতে এসইসি ব্যর্থ না হলে সম্ভবত এবার বাজারধস হতো না।
এতে বলা হয়েছে, দুই উত্থান পর্বে আইসিবি অমনিবাস হিসাবে শেয়ার কিনেছিল দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো। আর পতনের দুই মাসে আইসিবির মোট বিক্রি দুই হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। বলা হয়, উল্লম্ফন ও ধস—উভয় সময়েই সিন্ডিকেট আইসিবির অমনিবাস হিসাবের আড়ালে খেলা করেছিল, এটা প্রায় নিশ্চিত।
উত্থান পর্ব: প্রতিবেদনে বাজারে বুদ্বুদ সৃষ্টি বা স্ফীতির প্রথম সময়কাল বিবেচনা করা হয়েছে ২০০৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বরকে। এ সময় বাজারের সূচক দুই হাজার ৮০০ পয়েন্ট থেকে চার হাজার ৫০০ পয়েন্টে ওঠে। তারপর আবার ২০১০ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে সূচক ওঠে চার হাজার ৯৪১ থেকে পাঁচ হাজার ৬১২ পয়েন্টে। এ সময়কালকে দ্বিতীয় পর্ব বলছে কমিটি। এ সময় মূল্যবৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিতভাবে শেয়ার কেনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই দুই সময়কালে বাজারের প্রায় একই চক্র বা সিন্ডিকেট কাজ করেছে।
এ ক্ষেত্রে আইসিবির ভূমিকা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও ২০০৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বড় আকারে ট্রিগার ক্রয়ে যোগ দেয়। ১৩টি অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে আইসিবি দুই মাসে কিনে নেয় ৭৪০ কোটি টাকার শেয়ার। এ অঙ্ক এক হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুসারে আইসিবির এসব অমনিবাস হিসাবের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে পরিচয় গোপনকারী খেলোয়াড়েরা, যার দায়িত্ব আইসিবি অস্বীকার করতে পারে না। এসব ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াকুব আলী খোন্দকার, গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মো. খলিলুজ্জামান, মো. শহীদুল্লাহ, আরিফুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া আবু সাদাত মো. সায়েম নামের এক ব্যক্তি একাধিক হিসাবেও শেয়ার কিনেছেন।
আর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এবি ব্যাংক, উত্তরা ফিন্যান্স, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। এরা বুদ্বুদ সৃষ্টিকারী ক্রয়ে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্থান পর্বের প্রথম দফায় যারা শীর্ষ ক্রেতা ছিল, দ্বিতীয় দফায়ও (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি, ২০১০) তাদের অধিকাংশই শীর্ষ ক্রেতা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ সময় আটটি অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে আইসিবি কিনে নেয় এক হাজার ১৪৩ কোটি টাকার শেয়ার। এখানে নাম এসেছে গোলাম মোস্তফা, আরিফুর রহমান, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, ইয়াকুব আলী খোন্দকার, আবদুল মতিন, শাহাদাত হোসেন প্রমুখের। আর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আগেরগুলোসহ নতুন যোগ দেয় ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স ইত্যাদি।
পতন পর্ব: কমিটির মতে, উত্থান যেহেতু হয়েছে, পতনও অনিবার্য ছিল। আর এই পতনের মূলে আবার ছিল উল্লিখিত দুই সময়কালের উল্লম্ফন। প্রতিবেদন অনুসারে, এ সময়ের শীর্ষ খেলোয়াড়েরা বাজার অতিরিক্ত তেজীকরণে অবদান রেখেছে। তবে এদের আন্তসংযোগ (নেক্সাস) নির্ণয় করা না গেলে আইন ভঙ্গকারী বলা সংগত হবে না বলে কমিটি মনে করছে।
বাজারের ‘পতন পর্ব’ ধরা হয়েছে ২০১০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরকে, যাকে ‘ঝড়ের পূর্ব সময়’ বলেও অভিহিত করেছে কমিটি। ২০১০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাজারে কমবেশি আট হাজার ৩০০ পয়েন্টে লেনদেন চলছিল।
প্রতিবেদনে পতন পর্বের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বাজারে উত্থানের দুই পর্বে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শীর্ষ ক্রেতা ছিল, তাদের অধিকাংশই ২০১০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের পতন পর্বে ছিল শীর্ষ বিক্রেতা। নভেম্বরে নয়টি অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে এক হাজার ৩৭১ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বরে নয়টি অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে ৯৭৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে আইসিবি।
প্রতিবেদনে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসকে অস্থিরতার মাস বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ মাসের শীর্ষ বিক্রেতারাও ২০১০ সালের বুদ্বুদ বিস্ফোরণ প্রক্রিয়াকালে শীর্ষ বিক্রেতা ছিল। জানুয়ারিতেও এবি ব্যাংক, এ কে এম আরিফুর রহমান, আমিন রেজওয়ানী, এলিজা রহমান, মো. ভাই ও নুরজাহান হুদা, মো. খলিলুজ্জামান, রেহানা খান মজলিশ, নৃপেন চৌধুরী, রিচার্ড ডি রোজারিও, সারা খন্দকার, ইয়াকুব আলী খোন্দকার, ড্রিম হোল্ডিং, ড্রিমল্যান্ড হোল্ডিং, সৈয়দ আবু জাফর, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, রাশেদা আক্তার মায়া প্রমুখ সক্রিয় ছিলেন।
এঁদের ‘সম্ভাব্য সন্দেহজনক ম্যানিপুলেটর’ হিসেবে অভিহিত করে হিসাবের কেওয়াইসি (গ্রাহক তথ্যাদি) পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে কমিটি।
এই সময়কালে শীর্ষ বিক্রেতা হিসেবে ফ্রন্টিয়ার ফান্ড, আইসিবি অমনিবাস, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো লিমিটেড, এভারেস্ট ক্যাপিটাল, যারা নামরিন, সোমা আলম রহমান, আরিফুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, মো. খলিলুজ্জামান, কাজী ইউসুফ খালেদ প্রমুখ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবাদ: ৯ এপ্রিল প্রকাশিত ‘কারসাজিতে জড়িত ৬০ ব্যক্তি’ শীর্ষক সংবাদে ডা. এইচ বি এম ইকবালের নাম থাকায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী এম মোকছাদুল ইসলাম। লিখিত প্রতিবাদপত্রে তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক শেয়ারবাজার ধসের সঙ্গে তাঁর মক্কেল কোনোভাবেই জড়িত নন, বরং সব নিয়ম মেনেই তিনি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তাঁর আয়কর নথিতে যথাযথভাবে উল্লেখ করেছেন।
Quote   
04/11/2011 6:50 am

Moderator
Forum Expert


Regist.: 02/08/2011
Topics: 60
Posts: 781
OFFLINE
@Ekram Bhai....awesome job...keep it up.....
Quote   
Page 1 / 2 1 - 2 Next »
Login with Facebook to post
Preview