DSE SMALL INVESTORS PLATFORM (DSIP) > DISCUSSION > NEWS AND INFO
বুকবিল্ডিং জটিলতায় আটকে আছে ৬৪ কোটি শেয়ার
Page 1 / 1
বুকবিল্ডিং জটিলতায় আটকে আছে ৬৪ কোটি শেয়ার
03/20/2011 3:25 pm

Forum Addict


Regist.: 12/31/2010
Topics: 14
Posts: 92
OFFLINE
বুকবিল্ডিং জটিলতায় আটকে আছে ৬৪ কোটি শেয়ার
মার্চ ২১, ২০১১, Ittefaq

আহমেদ মিঠু

দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই সফলভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে এই পদ্ধতি চালু করার জন্য গত বছরের ৯ মার্চ বিধিমালা জারি করে এসইসি। প্রচলিত পদ্ধতির নির্ধারিত মূল্যের (ফিক্সড প্রাইস) পাশাপাশি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চালুর হলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় এটি প্রয়োগ করতে সময় লেগেছে এক বছর। ২০১০ সালের মার্চে এই পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়।

বিশেস্নষকদের মতে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া সবগুলো কোম্পানিই লেনদেন শুরুর আগে থেকেই অতি মূল্যায়িত হয়েছে। অতি মূল্যায়িত হিসেবে এসইসি বর্তমানে কোনও শেয়ারের বাজার মূল্য ও আয়ের অনুপাত ৪০-এর বেশি হলে মার্জিন ঋণ দেয়া নিষিদ্ধ করে রেখেছে। অথচ বুকবিল্ডিং পদ্ধেিত বাজারে আসা সবগুলো কোম্পানিই পিই অনুপাত ৪০-এর উপরে থেকে লেনদেন শুরু করে। সংশিস্নষ্ট বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত মূল্য (ফিক্সড প্রাইস) পদ্ধতির ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দর মৌলভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হলে এসইসি তা কাঁটছাট করতে পারে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্টভাবে সেই সুযোগ নেই। আইনের এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে সংশিস্নষ্ট কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগশাজস করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে গত ২২ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের অতি মূল্যায়নের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে বলা হয়, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার আগেই শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে। এর ফলে বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ স্থানান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। এই পদ্ধতি মূল্য নির্ধারণের পর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ জমা হওয়ায় শেয়ারবাজারে বর্তমান অর্থ সংকট বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার প্রস্তাব করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই প্রস্তাবে সম্মতি প্রকাশ করে বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা না ফেরা পর্যন্ত বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন। এর ভিত্তিতে এসইসি বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।

আর এই পদ্ধতি স্থগিত করায় ইতোমধ্যে রোড শো' সম্পন্ন করে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা ১৯টি কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়য়া বন্ধ হয়ে আছে। এসব কোম্পানি শেয়ারবাজারে মোট ৬৪ কোটি শেয়ার ছাড়ার ঘোষনা দিয়েছিল

এসইসি'র কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দের জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ করেছে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট (এমজেএল)। কোম্পানিটি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর পুঁজিবাজারে ৪ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৬০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। তবে শেয়ারের দর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ ইসু্যতে আটকে আছে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া। একই অবস্থা এম আই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের। ক্রাইন ব্র্যান্ডের সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমআই সিমেন্ট ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে সর্বমোট ৩৩৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করছে।

এদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের পর পুঁিজবাজারে শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেয়েছে ইউনিক হোটেলস এ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড (ওয়েস্টিন হোটেল)। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৫ টাকা। সেই হিসেবে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে কমপক্ষে ৫৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সঙ্গে এই কোম্পানির আইপিও স্থগিত করেছে এসইসি।

বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের পর শেয়ারবাজারে আসার জন্য বর্তমানে তিনটি কোম্পানির আবেদন এসইসি'র বিবেচনাধীন রয়েছে। এরমধ্যে এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেড (এ্যাপোলো হাসপাতাল) ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২৮৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এছাড়া কেয়া কটন মিলস লিমিটেড ৫ কোটি এবং নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছাড়বে।

বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য র্নিধারণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে রোড শো' সম্পন্ন করেছে ৮টি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। রোড শো' অনুষ্ঠানের পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নির্দেশনার ভিত্তিতে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করলেও এসব কোম্পানি এসইসিতে আবেদন জমা দেয়নি। বিমান পরিবহন খাতের দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে আসছে জিএমজি এয়ারলাইন্স। কোম্পানিটি মোট ৬ কোটি শেয়ার ছাড়বে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে জনতা ক্যাপিটাল এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। গোল্ডেন হারভেস্ট নামে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের একটি কোম্পানিও রোড শো' করেছে। গোল্ডেন হারভেস্ট ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে ব্যানকো ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাব মেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছাড়বে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। পুঁজিবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ফার ইস্ট নিটিং এ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড।

জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রথম কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে আসছে আনন্দ শিপইয়ার্ড এ্যান্ড সিস্নপওয়েজ লিমিটেড। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর কোম্পানিটি মোট ৩ কোটি শেয়ার ছাড়বে। আনন্দ শিপইয়ার্ডের ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। গত ১৭ জানুয়ারি এই কোম্পানির রোড শো' অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য রোড শো' করেছে অরিয়ন ফার্মা লিমিটেড এবং পিএইচপি ফ্লোট গস্নাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এরমধ্যে অরিয়ন ফার্মা ৪ কোটি শেয়ার ছাড়বে। এজন্য আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে ইসু্য ব্যবস্থাপক নিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে পিএইচপি ফ্লোট গস্নাস ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করবে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে এ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। পুঁজিবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সামিট শিপিং লিমিটেড। সামিট শিপিংয়ের ইসু্য ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে ব্যানকো ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

এদিকে প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির বিদ্যমান নিয়মের বড় ধরনের সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন হলে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ও প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) বিবেচনায় নিয়ে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে লেনদেন শুরুর আগে কোন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ও আয়ের (পি/ই) অনুপাত ১৫ এর বেশি হতে পারবে না। একইসঙ্গে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য কোম্পানির শেয়ার প্রতি এনএভির পাঁচ গুণের নিচে থাকতে হবে।

এসইসির প্রস্তাবে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের সর্বোচ্চ সীমার পাশাপাশি নূ্যনতম মূল্য নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান সংশিস্নষ্ট কোম্পানির এনএভির কম নির্দেশক মূল্য প্রস্তাব করতে পারবে না। আর মূল্য নির্ধারণে কোম্পানির তিন বছরের আয়ের গড়ের ভিত্তিতে পিই নির্ধারিত হবে। নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে রোড শো' আয়োজনের কমপক্ষে ৫ দিন আগে কোম্পানির বিবরণীর (প্রসপেক্টাস) খসড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছে পাঠাতে হবে। তবে এতে কোনভাবেই নির্দেশক মূল্যের কোন প্রস্তাব করা যাবে না। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার জন্য আইসিএবি, আইসিএমএবি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এতে কোম্পানির সঙ্গে সংশিস্নষ্ট কোন ব্যক্তি থাকতে পারবেন না।
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview