| 03/01/2011 9:25 pm |
 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | নির্দেশক মূল্যের সর্বোচ্চ পিই রেশিও হবে ১২
আনোয়ার ইব্রাহীম
সমকাল
০২-০৩-২০১১
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারদর নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত নির্দেশক মূল্য (ইনডিকেটিভ প্রাইস) কোনোক্রমেই ১২ মূল্য-আয় অনুপাতের (পিই রেশিও) বেশি হবে না। এমন একটি নতুন ধারা সংযোজনের মাধ্যমে বুক বিল্ডিং আইনে সংশোধন আনার পরিকল্পনা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংস্থার চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকারকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সংশোধন বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানি কর্তৃক শেয়ারের অযৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করার প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে গত ২০ জানুয়ারি এসইসি পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০০৬ এর বুক বিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত করে। এমনকি এ পদ্ধতিতে মবিল-যমুনা এবং এমআই সিমেন্ট কোম্পানির শেয়ার বিক্রির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া (আইপিও লটারি) সম্পন্ন করার পরও উভয় কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।
এসইসি সূত্রে জানা গেছে, এসইসির একজন সদস্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে নির্দেশক মূল্য সর্বোচ্চ ১২ রাখার প্রস্তাব করেছেন। তবে চেয়ারম্যান এখনও এ বিষয়ে সম্মতি দেননি বা নাকচও করেননি। শিগগিরই কমিশন সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এসইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও অনুমোদনের জন্য অন্তত ৩০টি কোম্পানির আবেদন জমা রয়েছে। বিপরীতে আগের নির্দিষ্ট মূল্যের পদ্ধতিতে (ফিক্সড প্রাইস মেথড) কোম্পানির শেয়ার বিক্রির আবেদন জমা রয়েছে মাত্র তিনটি। সূত্র আরও জানিয়েছে, মৌলভিত্তির তুলনায় অনেক বেশি মূল্যে শেয়ার বিক্রি করতে পারবে, এমন বিশ্বাস থেকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলো বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ার বিক্রির জন্য খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। খুলনা পাওয়ার ও ওশান কনটেইনারের শেয়ারের অযৌক্তিক দর নির্ধারণ প্রক্রিয়া তাদের এ ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বশেষ মবিল-যমুনার ১০ টাকার শেয়ারের বিক্রীত মূল্য ধরা হয় ১৫২ টাকা। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কোম্পানির মৌলভিত্তির তুলনায় এটা খুবই অযৌক্তিক একটা দর।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিকে ভুলভাবে ব্যবহার ও অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের কারসাজি করা হয়েছে। একটি কোম্পানির শেয়ারের যৌক্তিক মূল্যের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি মূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, আমাদের মূলত নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াটিকে ঠিক করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যারা নির্দেশক মূল্য ঠিক করবেন, তাদের নিজেদের প্রস্তাবিত শেয়ার ক্রয়ে বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি বিশেষ কোটায় শেয়া বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। তিনি আরও প্রস্তাব করে বলেন, নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একই জাতীয় অন্য কোম্পানির শেয়ারদর হিসাব করা হলে, সেক্ষেত্রে ওই কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মৌলভিত্তিও বিবেচনায় রাখতে হবে। এমন না হয়, বাজারে রয়েছে এমন কোম্পানির ইপিএস ১০ টাকা বাজারদর ২০০ টাকা, আর নতুন কোম্পানির ইপিএস ২ টাকা হওয়া সত্ত্বেও নির্দেশক মূল্য ধরা হলো ১০০ টাকা। এখানে কোম্পানির মৌলভিত্তি তুলনা করে নির্দেশক দর হিসাব করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান প্রস্তাব করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করতে হবে এসইসির প্যানেলভুক্ত অডিটরকে দিয়ে।
তিনি বলেন, কেবল বিনিয়োগকারীদের কম মূল্যে শেয়ার কেনার সুযোগ করে দেওয়ার কথা চিন্তা করলে হবে না, উভয়পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা রেখেই বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধন আনার পক্ষে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়ারও আহ্বান জানান ডিএসইর সাবেক এ সিইও। |
................ Reproduction of any of the articles in any means will be treated as as per law.
-----------------------
Help and be Helped.
http://apps.facebook.com/facebook_forums/?forum=209
|