বাংলাদেশ শেয়ার মার্কেট এবং এর খুঁটিনাটি > সংবাদ > সংবাদপত্র/ওয়েব সাইট
এমএলএম কোম্পানি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা
Page 1 / 1
এমএলএম কোম্পানি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা
01/17/2011 2:51 pm

Administrator
Forum Addict


Regist.: 01/16/2011
Topics: 77
Posts: 29
OFFLINE
বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

০০রেজাউল করীম

তিন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির দ্বিগুন/তিনগুণ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৬০০ কোটি টাকার আমানতের ভবিষ্যৎ ক্রমেই অনিশ্চতয়তার দিকে যাচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের উচ্চমহলও উদ্বিগ। সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে বিশেষভাবে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব ব্যবসায় আমানত না করতে একাধিকবার সতর্কবার্তা জারি করা হলেও আমানতকারীরা আমলে নিচ্ছে না। সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করেই আমানত রাখছে জনগণ। পাশাপাশি তারা এমএলএম কোম্পানির হয়ে বিনিয়োগ নিরাপত্তার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছে।

সূত্র জানায়, এমএলএম ব্যবসা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনানুষ্ঠিকভাবে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় অতি জরুরিভাবে এমএলএম-এর বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

সুত্র জানায়, ইউনিপে টুইউ বাংলাদেশ নামের প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছ থেকে স্বর্ণ বিক্রির নামে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রাহককে স্বর্ণ না দিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ বারের মালিকানা সম্বলিত সার্টিফিকেট দিয়েছে এবং বলা হয়েছে, ১০ মাস পরে স্বর্ণসহ আকর্ষণীয় অংকের মুনাফা ফেরত দেয়া হবে। তারা এখন অন্য নামে আমানত সংগ্রহ করছে। একইসাথে ইউনিগেট ওয়ে বাংলাদেশ নামের প্রতিষ্ঠান কিছুদিন ধরে জনগণের কাছ থেকে দশমাসে দিগুণ অংকের মুনাফা ফেরত দেয়া হবে বলে আমনাত সংগ্রহ করছে। এভাবে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণের কাছ থেকে ইতিমধ্যে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জানা গেছে, ইউনিপে টু ইউ ওয়ে বাংলাদেশ প্রায় ৪৩৩ কোটি টাকা, ইউনিগেটওয়ে প্রায় ৪৭ কোটি এবং বিলিয়ন ভল্ট প্রায় ১৯ কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে আমানত হিসাবে হাতিয়ে নিয়েছে। এমএলএম দুই একজন কর্ণধার ইতিমধ্যে আমানত নিয়ে উধাও হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, এমএলএম-এর বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তা না হলে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অবস্থা যুবক, নিউওয়ে, আইটিসিএল আমানতকারীদের মতো হবে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ থেকে এক চিঠির মাধ্যমে ইউনি গেটওয়ে ট্রেডিং প্রাইভেট ও বিলিয়ন ভল্ট যাবতীয় ব্যাংক হিসাব ৯ জানুয়ারি থেকে পরবতর্ী এক মাসের জন্য জব্দ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব হিসাব থেকে প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যাংক হিসাব থেকে তহবিল স্থানান্তর করা হয়েছে সে হিসাবে অর্থ উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত ১৩ মে সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে চিঠি দিয়ে ইউনিপের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সব হিসাব সাময়িকভাবে ৩০ দিনের জন্য লেনদেন নিষিদ্ধ করে।

সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্ক বার্তা

'মাল্টি লেভেল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান ইউনিপে-টু-ইউ মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে রবিবার সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, ওই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন নেতাদের নামে এসএমএস পাঠিয়ে মানুষকে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের বিজ্ঞাপনী প্রচারে বলা হচ্ছে- ইউনিপে-টু-ইউতে টাকা রাখুন। ১০ মাসে ১ লাখে দুই লাখ টাকা লাভ করুন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়-ন। তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইউনিপে-টু-ইউর চটকদার প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে ওই তথ্য বিবরণীতে। এর আগে ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জনসাধারণকে সতর্ক করে এমএলএম-এর সঙ্গে যে কোনো লেনদেনে সতর্ক থাকার জন্য জনসাধারণকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে জারি করা সতর্ক বার্তায় বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের কোন কোনটির লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০০৯-এর আওতায় স্থগিত করা হয়েছিল এবং কোন কোনটির বিরুদ্ধে দুনর্ীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক আদালতে মামলা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামে পরপর তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এদের কোন একটির হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংক বা দুদক কর্তৃক অবরুদ্ধ করা হলেই এরা অন্য নতুন নামে ভিন্ন এলাকায় একই ধরনের কার্যক্রম শুরু করে।

এমএলএম নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ

প্রথমবারের মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা পরিচালনা বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত কয়েকমাস ধরে নেয়া মতামতের উপর ভিত্তি করে এমএলএম নীতিমালার ওপর খসড়া তৈরির কাজ করা হচ্ছে। অধিক কার্যকর নীতিমালা করার জন্য খসড়া তৈরির পর আরো মতামত নেয়া হবে।

এমএলএম সংস্থার মালিকদের সংবাদ সম্মেলন

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম)-এর নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন এমএলএম কোম্পানির মালিকরা। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০টি এমএলএম কোম্পানির প্রতনিধিগণ এ দাবি জানান।

হট্টগোল আর অব্যবস্থাপনায় সংবাদ সম্মেলন চললেও প্রেসক্লাবের বাইরে কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা শেস্নাগান দিতে থাকে। এ সময় কোম্পানির প্রতিনিধিরা ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ ও নিজেদের প্রচারণা চালায় সমান তালে। লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ যে যার মতো বক্তব্য দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে হট্টোগোলের মধ্যে সাংবাদিকগণ সম্মেলন স্থল ত্যাগ করে।

এর পূর্বে লিখিত বক্তব্যে এমএলএম কোম্পানি মালিকগণের পক্ষে আপট্রেন্ড ডিস্ট্রিবিউশন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, নিজেদের অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও দেশের সম্পদ লুটের গোপন ফন্দিকে কৌশলে আড়াল করার জন্যই এমএলএমকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের ফোরামের বাইরে যে সকল প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন, ইউনি পে টু ইউ, ডেসটিনি, নিউওয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

বিনিয়োগ নিরাপত্তার দাবিতে চট্টগ্রামে আমানতকারীদের মানববন্ধন

বিনিয়োগ নিরাপত্তার দাবিতে চট্টগ্রামে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানী 'ইউনিপে টু ইউ'-এর বিনিয়োগকারীরা মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। সমাবেশে বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে শেস্নাগান দেন।
Quote   
Page 1 / 1
Login with Facebook to post
Preview