 Administrator Cool Senior Forum Expert

Regist.: 12/19/2010 Topics: 309 Posts: 2083
 OFFLINE | পুঁজিবাজার কারসাজি
আদালতমুখি হচ্ছেন অভিযুক্তরা
banglanews24.com
পুঁজিবাজার কারসাজির তদন্ত রিপোর্টে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আদলতমুখি হচ্ছেন। অভিযোগের দায় থেকে মুক্তি পেতে আদালতে মামলা ঠোকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তাই আইনজীবীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় শলা-পরামর্শ সেরে নিচ্ছেন। এরই মধ্যে মামলা ঠোকাও শুরু হয়ে গেছে।
তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে রোববার দুপুরে প্রথম মামলাটি ঠুকেছে বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড। ঢাকার দ্বিতীয় সহকারী জজ আদালতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আইন কর্মকর্তা আব্দুছ সেলিম মিয়ার ঠোকা ওই মামলায় তদন্ত কমিটির প্রধান খন্দকার ইব্রাহীম খালেদসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে আরো চার থেকে পাঁচ জন্য অভিযুক্ত তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠোকার প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন। এছাড়া মামলার জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে আরো দুই প্রতিষ্ঠান।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পৃথকভাবে বেশ কিছু মামলা করতে যাচ্ছে। এছাড়া খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বিভিন্ন সময় মিডিয়াতে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম জড়িয়ে কথা বলেছেন তাদের পক্ষ থেকেও পৃথক পৃথক মামলার চিন্তা চলছে।
সূত্রমতে, বিনিয়োগকারী গোলাম মোস্তফা, আবু সাদাত মো. সায়েম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মো. খলিলুজ্জামান, মুনিরুদ্দিন আহমদ, লুৎফর রহমান বাদল মামলার পস্তুতি নিচ্ছেন।
এছাড়া এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর ওয়াই শমসের, এবি ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক মামলার জন্য রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ শেষে আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান।
এছাড়া আফম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), লুৎফর রহমান বাদল, ডিএসইর সাবেক চেয়ারম্যান রাকিবুর রহমান, ড. এইচএম ইকবাল, ইয়াকুব আলী ভূঁইয়াসহ আরো অনেকেই মামলার জন্য আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন।
এদিকে তদন্ত কমিটিতে যে সব কোম্পানির শেয়ারমূল্য কারসাজি করে বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে সেসব কোম্পানিও আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এদের মধ্যে রয়েছে- রহিম টেক্সটাইল, অরিয়ন ইনফিউশন, ওশান কন্টেইনার, শাইনপুকুর সিরামিক্স ও ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স।
এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী গোলাম মোস্তফা বাংলানিউজকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেনি। মিডিয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট তৈরি করেছে তারা।’
তিনি বলেন, ‘আমি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছি লাভের জন্য। তদন্ত কমিটি আমার নামে বেশ কিছু ভুল তথ্য দিয়েছে।’
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই মামলা করবো। তাই আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করছি। এরই মধ্যে আমার তিন মাসের পোর্ট ফোলিও সংগ্রহ করা হয়েছে।’
এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর ওয়াই শমসের বাংলানিউজকে জানান, মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই মামলা করা হতে পারে।
লুৎফর রহমান বাদলের ঘনিষ্ঠ সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, তদন্ত রিপোর্টে লুৎফর রহমানের নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
ওই সূত্রের দাবি, তদন্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহিম খালেদ একটি মহলকে বাদ দিয়ে তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছেন। পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের যে তদন্ত রিপোর্ট অর্থমন্ত্রীর কাছে গত ৭ এপ্রিল দেওয়া হয়েছে তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা সর্ম্পকে কোন ধারণা দেওয়া হয়নি। তাই এ রিপোর্টে জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে তদন্ত কমিটি’র রিপোর্ট ‘পক্ষপাতমূলক’ হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
শনিবার অর্থমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার আট পৃষ্ঠার একটি মন্তব্য প্রতিবেদন জমা দেন।
এসইসির এ ভূমিকাও মামলায় আগ্রহীদের উৎসাহ যোগাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। |