| 01/19/2011 6:32 am |
 Administrator Forum Addict

Regist.: 01/16/2011 Topics: 77 Posts: 29
 OFFLINE | দরপতনের মুখে ছয় কার্যদিবসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো লেনদেন বন্ধ করা হলো দুই স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারের লেনদেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগেই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ২৩৭.৩৩ পয়েন্ট ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৯৮.৭০ পয়েন্ট পতন ঘটে। দুই এক্সচেঞ্জেই হাতে গোনা কিছু কম্পানি বাদে বেশির ভাগ কম্পানি দর হারায়।
বাজার স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষ গতকাল কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের সব শেয়ারকে ১০ টাকা করার ঘোষণা। এসইসির এক কর্মকর্তা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ডিএসইতে বিক্রেতার বিপরীতে ক্রেতা কম ছিল।
তাই আরো বড় দরপতনের আশঙ্কা থেকেই লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ যথাসময় লেনদেন শুরু হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজারের তারল্য না বাড়াতে পারলে সামনে আরো খারাপ অবস্থা হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া টানা তিন দিনের দরপতনে গতকাল পর্যন্ত ডিএসইতে সূচক কমেছে ৪৩৫.৬৪ পয়েন্ট। গতকালও লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পর মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তবে তাঁদের মাঝে আগের মতো মারমুখী আচরণ লক্ষ করা যায়নি। ডিএসইর সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। এর আগে বেলা ১টার দিকে কিছুসংখ্যক বিনিয়োগকারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশি বাধার কারণে ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিকেলের দিকে বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এসইসির কিছু সিদ্ধান্ত : লেনদেন বন্ধ ঘোষণার পর এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার সংস্থার সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। ডিএসইর সভাপতিসহ পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আজ বুধবার থেকে যথারীতি লেনদেন চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসে জামানতবিহীন লেনদেনের সীমা পাঁচ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর আগে জামানতবিহীন লেনদেনের সীমা পাঁচ কোটি টাকা ছিল।
একই সঙ্গে যেসব কম্পানির অভিহিত মূল্যে ১০০ টাকা রয়েছে সেগুলো ১০ টাকায় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে এসইসির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
অবশ্য তারল্যপ্রবাহ বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ার কেনার জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) গত দুদিনে মোট ৪০০ কোটি টাকা তহবিল জোগান দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়মনীতিতেও গতকাল অনেক শিথিলতা আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভালো কম্পানির শেয়ার কেনার জন্য পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত : পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, লেনদেন বন্ধ কোনো সমাধান নয়। এটা একটা বাজে রেকর্ড হচ্ছে। এই মুহূর্তের মূল সমস্যা তারল্য সংকট। এটা কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে এগিয়ে আসতে হবে। এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের ঊধ্বতন মহলকে একসঙ্গে বসে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এখনো বাজার পরিস্থিতি উত্তরণের সুযোগ আছে। নইলে দীর্ঘ সময়ের জন্য মন্দা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। এতে ’৯৬ সালের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আর এখন ৩৩ লাখ বিও অ্যাকাউন্টধারীর লাখ লাখ সদস্য পুঁজিবাজারের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন। এ কারণে পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দা শুরু হলে যে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে, তা সামলানো সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।
অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, তারল্য সংকটের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখানে বিক্রেতা আছে, ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তারল্য সংকট দূর করতে এ মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংককেই এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, বিনিযোগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় এবং তারল্য সংকটে এই বিপর্যয় হয়েছে। খুব শিগগির এসইসির সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান শাকিল রিজভী। তিনি বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে বাজার স্থিতিশীল করা হবে।
‘আমরা কোথায় যাব’: মতিঝিলের রাইজিং সিকিউরিটিজে লেনদেন করেন কাজী বোরহান উদ্দিন। ১৯৯৪ সাল থেকে পুঁজিবাজারের সঙ্গে আছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ’৯৬ সালের ভয়াবহ দরপতনে ১০ লাখ টাকা খুইয়েছি। এর পর ১০ বছর পুঁজিবাজারে আসিনি। তিন বছর আগে আবার এ বাজারে পা দিয়েছি। বর্তমানে বিনিয়োগ ৩৫ লাখ টাকা। কয়েক দিনের দরপতনে পোর্টফোলিও থেকে কমে গেছে ২৫ লাখ টাকা।’ তবে তিনি শেয়ার বিক্রি করেননি। বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করতে নিষেধ করেন তিনি। বোরহান উদ্দিন মনে করেন, এটা বাজার খেলোয়াড়দের কারসাজি। ১৯৯৬ সালের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কারসাজি চক্রের কারো কোনো বিচার বা শাস্তি না হওয়ায় তারাই আবার নতুন খেলায় মেতেছে। ব্যাংলাদেশ ব্যাংক মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর টুঁটি চেপে ধরার কারণে এ পতন ঘটছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এয়াকুব মজুমদার লেনদেন করেন বাঙ্ক সিকিউরিটিজ হাউসে। তাঁর বিনিয়োগ ১৬ লাখ টাকা। নিজের পোর্টফোলিও থেকে এ পর্যন্ত কমেছে সাত লাখ টাকা। তিনি বলেন, ‘যখন সাত হাজার পয়েন্ট সূচক, তখন বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন বাজারে আসো। যখন ৯ হাজার পয়েন্ট ছুঁই ছুঁই করছে, তখন বলছেন ওভার প্রাইস। এখন বলছেন ধৈর্য ধরো। আমরা কোথায় যাব?’
শেয়ারবাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত ১০ জানুয়ারি দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিন লেনদেন শুরুর মাত্র ৫০ মিনিটে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ৬৩৫ পয়েন্ট সূচক পতন হলে এসইসির নির্দেশে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেনদেন বন্ধের পরপরই রাজধানী মতিঝিলসহ সারা দেশের পুঁজি হারানো লাখ লাখ বিনিয়োগকারী রাস্তায় নেমে আসেন। |
|
|