| 01/17/2011 6:52 am |
 Administrator Forum Addict

Regist.: 01/16/2011 Topics: 77 Posts: 29
 OFFLINE | বাংলাদেশের পূঁজিবাজারে আজকের দিনটি একটি কাল দিন। মাত্র ৫০ মিনিটে ৬৬০ পয়েন্ট পতন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নজিরবিহীন। আজকের এই নজিরবিহীন দরপতনের পর এসইসি নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেঃ ১ মার্জিন ঋন সুবিধা ১:২ এ উন্নীতকরন। ২। স্পট মার্কেটে থাকা কোম্পানী গুলোকে পাবলিক মার্কেটে আনা ৩। সকল শেয়ারের ক্ষেত্রে নেটিং সুবিধা চালু। ৪। মার্চেন্ট ব্যাংক পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ ঋন গ্রহনের সুবিধা। উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ২ ও ৩ নং সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে তারল্য সংকট না কাটলে ১ ও ৪ নং সিদ্ধান্ত তেমন ফল বয়ে আনবে বলে মনে হয়না। এটা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখন একটি পরিপূর্ন বিয়ার মার্কেট। পড়তি বাজারে শেয়ারের দাম যে গতিতে পড়ে সে গতিতে উঠে না। ২০১০ সালের ৩রা আগস্ট সুচক ছিল ৬৪৮৩, যা আজকের দিনশেষের সূচকের কাছাকাছি। বছর শেষে সূচক দাঁড়ায় ৮২৯০তে। যে সূচক ৫ মাসে ধীরে ধীরে বেড়ে ৮২৯০ তে পৌছায় তা মাত্র ৫ দিনে নেমে যায়। এই সূচক পুনরুদ্ধার হতে অন্তত ৫ মাস বা তারো বেশী সময় লাগতে পারে। যারা মার্কেটে নতুন তারা অন্তত ৪০ থেকে ৫০% পুঁজি হারিয়েছেন। যারা পুরনো বিনিয়োগকারী তাদের লাভ গিয়েও পুঁজিতে টান পড়েছে।এ মার্কেটে বিনিয়োগে কৌশলী না হলে আপনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নাও পেতে পারেন। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী গত ১৫ মাস ধরে বাজার শুধু উঠতেই দেখেছেন, তেমন পড়তে দেখেননি। এখন প্রায়শঃই আপনাকে এ পরিস্থিতির মুখমুখি হতে হবে।তাই বিয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের কিছু কৌশল উপস্থাপন করছি। একইসাথে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত সমুহের প্রেক্ষিতে আপনার বিনিয়োগ কৌশল কি হবে তাও আলোচনা করছি। ১।এ মুহুর্তে প্রায় সকলের নিকট নগদ টাকার ঘাটতি রয়েছে। মার্জিন লোন নিয়ে বিনিয়োগ ঝুকিপূর্ন হতে পারে যা আপনাকে আরো ঋনগ্রস্ত করে তুলতে পারে।এক্ষেত্রে আপনার পোর্টফোলিও এভারেজ করার জন্য যতটুকু ঋন প্রয়োজন, তার চেয়ে অতিরিক্ত ঋন গ্রহন না করাই ভাল। ২।স্পট মার্কেট থেকে ১৪ টি কোম্পানীকে পাবলিক মার্কেটে আনা ও নেটিং সুবিধা চালু মার্কেটের জন্য ইতিবাচক হবে বলে আমি মনে করি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীগন অন্তত এর মাধ্যমে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। বিয়ার মার্কেট থেকে মার্কেট উঠতে যেমন সময় লাগবে, তেমনি পুর্বের দামে ফিরে যেতেও অনেক সময় লাগবে। তাই নেটিং এর সুবিধা গ্রহন ছাড়া ট্রেডিং এ অবস্থায় তেমন অর্থবহ হবে না। ৩। নেটিং এর কারনে ট্রেড ভলিউম অনেক বাড়বে, তাই শেয়ারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার তেমন সম্ভাবনা নেই।এজন্য অল্প মার্জিনে শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করতে হবে। ৪।নেটিং এর ক্ষেত্রে অল্প পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানীর শেয়ারে বিনিয়োগ অধিক লাভজনক হতে পারে। ৫।সময় এসেছে ভাল মৌল ভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করার। মনে রাখতে হবে , বিয়ার মার্কেটে আপনি হঠাৎ সূচকের দ্রুত পতন দেখবেন এবং তা পুনঃ পুনঃ সংঘটিত হতে থাকবে। ভাল মৌলভিত্তির শেয়ার আপনার পূঁজি হারানোর ভয় কমিয়ে দেবে। ৬।নেটিং সুবিধা নিয়ে গ্যাম্বলাররা আপনাকে ফাঁদে ফেলতে চাইবে, এ মুহুর্তে ভুলেও সে পথে পা বাড়াবেন না। যাদের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) অথবা সম্পদমূল্য ঋনাত্বক সে সকল শেয়ার এড়িয়ে চলতে হবে। আপনার কাছে যদি এ ধরনের শেয়ার থেকে থাকে তবে অতিদ্রুত তা বিক্রি করে ভাল শেয়ারে বিনিয়োগ করুন। ৭। আপনার শেয়ারের কাংখিত ক্রয়মুল্য নিরূপন করুন। এবং আপনার ক্রয়কৃত শেয়ার অতি মূল্যায়িত কিনা তা যাচাই করুন। অতি মূল্যায়িত হলে তা বিক্রি করে ভাল মৌল ভিত্তির এবং অবমূল্যায়িত বা কাঙ্ক্ষিত মূল্যের কাছাকাছি শেয়ার ট্রেড করুন। ৮। একটা শেয়ারের কাঙ্ক্ষিত ক্রয় মূল্য নিরূপনে নিম্নের নিয়ম অনুসরণ করুনঃ কাংক্ষিত ক্রয়মূল্য=(সম্পদ মূল্যের দেড় গুন +শেয়ার প্রতি আয়ের ১৫ গুন) অথবা (সম্পদ মূল্যের আড়াইগুন +শেয়ার প্রতি আয়ের ৯ গুন) - এ দুটির মধ্যে যেটি কম। ৯। সর্বোচ্চ ২০% এর বেশি লাভ আশা করবেন না।নেটিং এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০% লাভে সন্তুষ্ট থাকুন। ১০।এ বাজারে অতি লোভ পরিহার করুন। পরিশেষে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত হোক, এই কামনা করছি। দ্রষ্টব্যঃ এই আর্টিকেল এ প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব এবং এই মতামতের ভিত্তিতে কেউ বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হলে লেখক তার দায় বহন করবে না। আপনার নিজের ঝুঁকিতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিন।
Ref: http://apps.facebook.com/facebook_forums/_____-2160.html (Taj U Ahmed)
|
|
|