 Administrator Forum Addict

Regist.: 01/16/2011 Topics: 77 Posts: 29
 OFFLINE | দেশে মূল্যস্ফীতির হার আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। ভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে গত নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
আর বার্ষিক গড় হিসাবে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। অক্টোবরে এই হার ছিল ৮ দশমিক ১২ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে আরও দেখা গেছে, মূলত খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হারও বেড়ে গেছে।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও প্রতীয়মান হয়, সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার আট শতাংশের ওপর অবস্থান করছে। অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা আগস্টে হয় ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১২ শতাংশে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির বার্ষিক গড় হার সাড়ে ছয় শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলেছে। তবে এতে শেষ পর্যন্ত সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
যোগাযোগ করা হলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর একই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতির হার শেষ পর্যন্ত আট শতাংশের ওপরেই থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে।’
গত অর্থবছরের শেষ মাসে (জুন, ২০১০) মাসওয়ারি মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) নেমে আসে ৭ দশমিক ২৬ শতাংশে। পরের দুই মাসে তা আরও বেড়ে হয় ৭ দশমিক ৫২ (আগস্ট) ও ৭ দশমিক ৬১ শতাংশে (সেপ্টেম্বর)।
বিবিএসের উপাত্ত পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, নভেম্বর মাসে খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
আর পল্লি অঞ্চলে খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার আবার ১০ শতাংশের ওপর উঠে গেছে। সেপ্টেম্বরে এই হার সাড়ে ১০ শতাংশ হওয়ার পর অক্টোবরে তা নেমে এসেছিল ৯ দশমিক ১৪ শতাংশে। একইভাবে শহর এলাকায়ও খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার নভেম্বর মাসে ৮ দশমিক ১২ শতাংশে উঠে গেছে, যা অক্টোবরে ছিল ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
দেশের বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বেড়ে চলেছে, যার প্রতিফলন এই মূল্যস্ফীতির হারে পড়েছে বলে মনে করা যায়।
এ প্রসঙ্গে আহসান মনসুর বলেন, বড় চাপটা যে খাদ্যের দামের দিক থেকে আসছে, পরিসংখ্যান থেকে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। আগামী দিনে এই চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার খোলাবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল বিক্রি করে গরিব মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা তেমন একটা কাজে আসছে না বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী হওয়ায় ধারণা করা হয়েছিল সরকারের এই কার্যক্রম খানিকটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
বিবিএসের উপাত্ত থেকে আরও দেখা যায়, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। অক্টোবরে যেখানে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, সেখানে নভেম্বরে তা নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশে। শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই এই প্রবণতা দেখা গেছে।
সার্বিকভাবে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যাওয়া এবং তা নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারাকে মূল্যস্ফীতি বেড়ে চলার বড় কারণ বলে মনে করছেন আহসান মনসুর। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছে না। আর এই না পারার পেছনে পুঁজিবাজারের অস্থিরতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জড়িয়ে পড়াকেও দায়ী করেন তিনি।
আহসান মনসুর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মূল উদ্দেশ্য থেকে খানিকটা সরে যাওয়ায় সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আর এখন শেয়ারবাজারে পতন ঠেকাতে গিয়ে যেভাবে টাকা দিতে চাচ্ছে, তাতেও সুফল মিলবে না। বরং তা প্রকারান্তরে মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়ে মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে। অথচ মূল্যস্ফীতি প্রশমনে মুদ্রার জোগানে নিয়ন্ত্রণ টানা জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯ সালের অক্টোবরের তুলনায় ২০১০ সালের অক্টোবরে মুদ্রা সরবরাহ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২৩ শতাংশ। অথচ মুদ্রানীতি বিবৃতি অনুসারে চলতি অর্থবছর এই হার সাড়ে ১৫ শতাংশে বেঁধে রাখার কথা। |